Home আনহেলদি অবসেশন আনহেলদি অবসেশন পর্ব ২০

আনহেলদি অবসেশন পর্ব ২০

আনহেলদি অবসেশন পর্ব ২০
কায়নাত খান কবিতা

—Are You Lost Baby Girl?’’
এতো কাছ থেকে কিংশুকের কন্ঠস্বর ভেসে আসতেই বরফের ন্যায় জমে যায় অরিন। এই তো সেই কন্ঠস্বর যার থেকে গত তিন বছর যাবৎ পালিয়ে বেড়াচ্ছে সে। যার ছায়াকে ও ভয় পাই অরিন। কীভাবে চোখে চোখ রাখবে তার? একটা ঠান্ডা শীতল হাওয়া বয়ে চলে অরিনের সর্বাঙ্গ জুড়ে।
অরিন লক্ষ্য করে তার পিঠ থেকে আস্তে আস্তে চুল সরানো হচ্ছে, কেঁপে উঠে সে, পিছনে না তাকিয়েই সামনের দিকে অগ্রসর হওয়ার জন্য যেই না পা বাড়ায়, ওমনি সাথে সাথে কিংশুক তার বাহু ধরে নিজের দিকে ফিরিয়ে নেয়।
একহাতে সি’গার এবং আরেক হাত দিয়ে শক্ত করে ধরে অরিনের বাহু
সি’গার টান দিয়ে ধোঁয়া নিয়ে পুরোটাই অরিনের মুখের উপরে ফুঁ দেয় কিংশুক। চোখ বন্ধ করে কাশতে থাকে অরিন।
অরিনকে কাশতে দেখে এক পৌশাচিক হাসি ফুটে উঠে কিংশুকের মুখে।

— কুল ডাউন জান,, দিস ইস জাস্ট অ্যা বিগেনিন’’
কিংশুকের মুখ থেকে বিগেনিন শুনে ভয়ে চমকে উঠে অরিন। বিগেনিন মানে কি? কি করতে চাই সে?
কিংশুক ইশারা করে তার গার্ডদের গাড়ি নিয়ে আসতে বলে। জঙ্গল কাপিয়ে গার্ডরা গাড়ি নিয়ে হাজির হয়।
কিংশুক অরিনের পানে তাকায়,
—তিন বছর?
চোয়াল শক্ত করে তাকায় কিংশুক অরিনের দিকে। তিন বছর ধরে যেই আগু’নের লেলিহান শিকায় কিংশুক পু’ড়েছে, তার ছিটেফোঁটা তো অরিনের উপরে ও আসবে।
গাড়ি নিয়ে আসার সাথে সাথে, সি’গারটি ফেলে দিয়ে কিংশুক তাকায় অরিনের পানে।
কপালে থাকা চুল গুলো সরাতে সরাতে অরিনের চোয়াল শক্ত করে ধরে কিংশুক।

— লেট’স সি ইউর এর্নাজি জান’’
কিংশুক অরিনের হাত ধরে তাকে নিয়ে গাড়ির পিছনে চলে যায়, তারপর হ্যান্ডকাফ দিয়ে হাত লক করে নিজে ড্রাইভিং সিটে বসে পরে। লুকিং গ্লাস ঠিক করে অরিনের পানে ধরে। স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে অরিনের ভয়ার্ত মুখ খানা। সে কিছু একটা বলতে চাচ্ছে কিংশুক কে, কিন্তু কে শুনে কার কথা?
লো মিডিয়াম গিয়ারে গাড়ি স্টার্ট দেয় কিংশুক। ছুটতে থাকে অরিন। জঙ্গলের কাটা, ছোটো-ছোটো গাছ পালা ভেদ করে গাড়ির সাথে সমান তালে তাল মিলিয়ে দৌড়াতে থাকে অরিন। প্রাণ প্রায় যায় যায় অবস্থা।
—- কিং স্টপ দ্যা কার! কিংং। কিং প্লিজ স্টপ দ্যা কার’’

খুব জোড়ে জোড়ে কিংশুককে ডাকতে থাকে অরিন। কিন্তু কোনো লাভ হয় না। কিংশুক মেতে আছে আজ রিভেঞ্জ নেওয়ার নে’শাতে।
একজন মানুষের পক্ষে কখনোই গাড়ির সাথে পাল্লা দিয়ে দৌড়ানো সম্ভব নয়, যেখানে সামান্য ব্যা’থা পেলেই পুরো শরীর অ’বশ হয়ে যায়,সেখানে অরিনকে বেঁচে থাকতে ও মৃ’ত্যুর য’ন্ত্রণা নিতে হচ্ছে।
কিন্তু তার উপরে বিন্দু পরিমাণে ও দয়া হয় না কিংশুকের। পুরো শরীর যখন একদমই অচল হয়ে যায় অরিনের তখন কিংশুকের গাড়িটি থামে। অরিন তখন সেন্সলেস হয়ে গাড়ির সাথে লেগে থাকে। তার পা আর পা নেই। অবশ হয়ে গেছে। র’ক্ততে পুরো সাদা গাউন লাল হয়ে যায়।
অরিনের এমন করুন দশা দেখে গার্ডদের চোখে ও পানি চলে আসে। কিন্তু আসলো না শুধু কিংশুকের। কী জানি!? কোন প্রতি’শোধের নে’শায় মেতে আছে সে আজকে!
কিংশুক গাড়ি থেকে নেমে অরিনের হাতের হ্যা’ন্ডকাফ খুলে ফেলে,

— এই কলিজা নিয়ে পালিয়ে ছিলে জান?’’
জ্ঞানহীন অরিনকে কোলে নিয়ে কথা গুলো বলে কিংশুক।
অরিনকে কোলে করে নিয়ে গাড়ির ভিতরে বসে। আর তার পার্সোনাল ড্রাইভারকে বলে গাড়ি চালাতে। উদ্দেশ্য হসপিটাল।

আনহেলদি অবসেশন পর্ব ১৯

খুব বেশি ব্লি’ডিং হওয়ার ফলে অরিনের জ্ঞান ফিরতে দু-দিনের মতো সময় লাগে। এই দু- দিনে সব কিছু মোটামুটি স্বাভাবিক হলে ও কিংশুক কিছুতেই স্বাভাবিক হয়নি। সে মে’তে আছে তার বেইমান প্রেয়সীকে শা’স্তি দেওয়ার নে’শাতে।

আনহেলদি অবসেশন পর্ব ২১