আনহেলদি অবসেশন পর্ব ৫৬
কায়নাত খান কবিতা
__ইট’স জাস্ট অ্যা বিগেনিং বেবিগার্ল।”
__কিং।”
ভালোবাসার মানুষকে কাছে পেলে একটা মানুষ ঠিক কতটা উন্মাদ হতে পারে সেটা কিংশুককে না দেখলে বোধ হয় আন্দাজ করা যেত না। কিংশুক যেন আজ আর নিজের আবেগ, অনুভূতি, ভালোবাসা, পরম আদর, কোনো কিছুই দাবিয়ে রাখতে পারে না। তার সমস্ত ভালোবাসা ঢেলে দেয় অরিনের উপরে। তার শখের বউকে ভালোবাসায় কানায় কানায় সিক্ত করে তোলে কিংশুক। তবে কিংশুকের মতো বলিষ্ঠ বান পুরুষের সাথে অরিন নিজের অস্তিত্ব বেশিক্ষণ টিকিয়ে রাখতে পারে না। কিছু ক্ষণ পরেই নেতিয়ে পরে সে। চোখ জোড়া ও বন্ধ হয়ে যায় তার। চোখের কুর্নিশ বেয়ে দু-ফোটা পরম সুখের অশ্রু বেরিয়ে পরে অরিনের।
অবশেষে কিংশুক এবং অরিন এক হলো। এতো ঝড়-ঝঞ্ঝা পরিয়ে আজ কিংশুক এবং অরিন একে-অপরের সাথে মিলেমিশে একাকার।
পূর্ব দিকে উদয়মান সূর্যটি আজ এক নতুন সকালের স্বাক্ষী হয়ে এসেছে।এক মিষ্টি ভালোবাসার সকাল।
বরাবরের মতোই কিংশুক টাইমে বড্ড পাক্কা। ঠিক সময়ে উঠা থেকে শুরু করে আবার নিদ্রায় যাওয়া, পুরোটাই চলে টাইম মাফিক। কোনো নড়চড় নেই এতে। সারাদিন এবং রাতের ক্লান্তি ভেদ করে আড়মোড়া দিয়ে ঘুম থেকে জাগ্রত হয় কিংশুক। তবে পুরোপুরি শরীর নড়াচড়া করার আগেই টের পায়, সরীসৃপের ন্যায় কিছু একটা তার সমস্ত পা কোমর পেঁচিয়ে রয়েছে। কম্ফোর্টার সরিয়ে নিচে তাকাতেই চোখ পরে তার অলস রানি বউয়ের দিকে। বর্তমানে তার বউয়ের মাথা খাটে নেই। কিংশুকের কোমর পেঁচিয়ে ধরে তার পায়ের মাঝে পা ঢুকিয়ে গুটিসুটি মেরে কুম্ভকর্ণের মতো গভীর ঘুমে তলিয়ে রয়েছে। অরিনের এমন অদ্ভুত ধরনের ঘুমন্ত স্টাইল দেখে শব্দ বিহীন হেসে ওঠে কিংশুক। যেখানে অন্যদের বউরা ঘুমালে ঘুমন্ত পরীর মতো লাগে। সেখানে তার বউকে লাগে ঠিক উল্টো। একদম পেঁচার মতো।
কিংশুক আস্তে আস্তে করে ধীর গতিতে নিজের শরীর ছাড়িয়ে আনার চেষ্টা করতে থাকে। কিন্তু প্রতিবারই অরিন তাকে আরো বেশি জাপ্টে ধরে। যেন ঘুমের মাঝে ও সে জানান দিচ্ছে কিংশুকের পুরো অস্তিত্বটাই তার দখলে। সে ছাড়া আর কেউ নেই কিংশুকের।
এভাবেই বেশ কিছু ক্ষণ বসে থাকে কিংশুক। তারপর অরিনের বাহু ধরে আলতো করে তাকে বালিশে এনে শুইয়ে দেয় সে।
__অন্যের বউরা সকালে উঠে স্বামীর সেব করে।আর আমার বউ। নাক ডেকে ঘুমায়।”
__আরো করেন শখের নারীকে বিয়ে!”
কিংশুক ভ্রু কুঁচকে তাকায় অরিনের দিকে। দেখে অরিন চোখ তুলে মিটমিট করে হাসছে তাকে দেখে। কম্ফোর্টার সরিয়ে কিংশুক অরিনের উপরে বসে একদম।
_কিং সরুন। আপনি অনেক ভারি।”
__এতোদিন না পালালে অভ্যাস হয়ে যেতো।”
খুব জোড়ে কিংশুকের হাতে বারি মা’রে অরিন।
_আপনি যেই সাইকো। না পালিয়ে উপায় ছিলো?’
__আমি সাইকো কে বললো?’
__বউকে জীবন্ত করব কে দেই ভাই যত্তসব লজিকলেস?”
অরিনের কথাটিতে বেশ খোঁচা লাগে কিংশুকের গায়ে।সে অরিনের হাত শক্ত করে চেপে ধরে তার সাথে ঝগড়ায় নেমে পরে।
__দেখো কে দিচ্ছে লজিকের দোহায়! কথায় কথায় বাড়ি থেকে কে পালায়?’’
__ বউকে সোনার খাঁচায় কে বন্দীকে করে?’’
__স্বামীকে ধোঁকা দিয়ে বিয়ের দিন কে পালিয়ে যায়?”
__২৩ তলায় ঝুলিয়ে বিয়ে কে করে?”
__ বিয়ের পর ও আরেকটা বিয়ে করে করে?”
কিংশুকের একটার পর একটা কথার উত্তর দিতে গিয়ে হিমশিম খেতে থাকে অরিন। বেটা সাই’কো সে এটা ভালো মতোই জানতো। তবে সাইকোর সাথে সাথে আস্ত একটা হেরে বদজ্জাত ও সে। নিজের হার বুঝতে পেরে অরিন আর কোনো তর্কে জড়ায় না। কিংশুককে ধাক্কা দিয়ে উঠে দাড়ায়।
__আপনার সাথে আর থাকবো না। গেলাম।”
__কাপড় তো পড়ে যা।”
কিংশুকের কথা শুনে তড়িৎ গতিতে নিজের দিকে তাকায় অরিন। কাল রাতে সে তো শুধু তয়লা পড়ে ছিলো।এখন তো সেটা ও নেই। তড়িঘড়ি করে কম্ফোর্টেরর ভিতরে ঢুকে পরে অরিন।
__অসভ্য।”
__একটু সভ্য বানাও না জান।”
__আমি আপনার জান নই।’
__হ্যাঁ! তুমি তো আমার বউ।”
__বা*ল!”
__ছিঃ বউ গালি দিতে হয় না।”
ঘাড় বাঁকা করে কিংশুকের পানে তাকায় অরিন।
__আপনি মানুষ খু’ন করেন তার বেলা কিছু হয় না। আর আমি গালি দিলেই দোষ?”
কিংশুক এক হাত দিয়ে অরিনের কোমর চেপে ধরে নিজের কোমরের উপরে বসায় তাকে।অরিনের সর্বাঙ্গে নজর বুলিয়ে বলতে থাকে,
__আজ আমি নিজে খু’ন হতে চাই রোজ।”
__মানে?”
__একটু বিলীন হতে দেবে তোমার মাঝে?”
কিংশুকের মাদ’কাময় কথার অর্থ বুঝতে পেরে খুব শক্ত করে নিজের ঠোঁট কিংশুকের ঠোঁটে ডুবিয়ে দেয় অরিন। কিংশুক নিজে ও খুব করে চাইতো অরিন তার হোক। নিজ থেকে ধরা দিক। অবশেষে সে আজ সফল। অরিন তার। একান্তই তার। এবং নিজ থেকে ধরা ও দিতে চায় সে কিংশুককে।
__আই লাভ ইউ কিং।”
__আই লাভ টু বেবিগার্ল।”
সারাটি সকাল একে-অপরের মাঝে বিলীন হতে হতে চলে যায় অরিন কিংশুকের।যেন আজকে তাদের ত্রীসিমানার মাঝে ও অন্য কারো প্রবেশ নিষিদ্ধ। হলো ও তাই। আজ আর কেউ ডিস্টার্ব করেনি কিংশুক এবং অরিনকে।
দুপুর সাড়ে ১২টা—তবুও ঘুম ভাঙেনি অরিন আর কিংশুকের। অরিনকে শক্ত করে জড়িয়ে রেখেছে কিংশুক, আর অরিন নিশ্চিন্তে ঘুমাচ্ছে তার বুকে। ফোনের শব্দে কিংশুকের ঘুম ভাঙলেও অরিনকে ছাড়াতে পারে না—বরং আরও জড়িয়ে নেয়।
সূ্র্যটি যখন মাঝ আকাশে নিজের সমস্ত রোশনায় দিয়ে পৃথিবী উত্তপ্ত করতে ব্যস্ত।ঠিক তখনই ঘুম আলগা হয়ে আসে অরিনের। কাল রাত থেকে সকাল দুপুর অব্দি, কোনো দানা পানি জুটেনি তার কপালে। তার উপরে তার বর এতোটাই রোমান্টিক যে, শুধু তাকে খেয়েই তার বাকিটা জীবন চলে যাবে। কিন্তু অরিনের তো তা হবে না। তার তো খেতেই হবে। শুধু ভালোবাসায় কী পেট ভরে?
অরিন উঠে ফ্রেশ হতে চলে যায় ওয়াশরুমে। পানি ছেড়ে দিয়ে পরম সুখে যখন সে নিজের ক্লান্তি মেটাতে ব্যস্ত। ঠিক তখনই লক্ষ্য করে কেউ একজন তার শরীর ঘেঁসে দাড়িয়ে রয়েছে। তার সর্বাঙ্গ স্পর্শ করছে। চোখ খুলে তাকাতেই অরিন দেখতে পায় কিংশুককে। ভূত দেখার মতো চমকে উঠে সে।
__আপনি না ঘুমিয়ে ছিলেন?”
__ছিলাম তো।”
__তাহলে উঠলেন কীভাবে?”
__আপনি তো পাশে নাই। ঘুমাবো কীভাবে?”
আনহেলদি অবসেশন পর্ব ৫৫
লজ্জায় রক্তিম বর্ন ধারণ করে অরিন। কিংশুক এমনিতেই অনেক সুদর্শন। তার উপরে তার এমন রোমান্টিক মুড দেখলে লজ্জায় নিজেকে স্বাভাবিক রাখতে পারে না অরিন।
কিংশুক অরিনকে পুরোপুরি নিজের দিকে ঘুরিয়ে নিয়ে লোফাতে বডি ওয়াশ ভরিয়ে অরিনের পিঠ মানজ করতে থাকে।খামচে ধরে অরিন কিংশুকের পিঠ।অরিনের কানের কাছে মুখ নিয়ে কিংশুক বলে,
Kitna Bechane Hokey Tumse Mila..Tumko kay Thi Khabar, Tha Mey kitna Akela..!”
