আনহেলদি অবসেশন পর্ব ৫৭
কায়নাত খান কবিতা
__Kitna Bechen Ho Key Tmse Mila..Tumko kya thi khabar..Tha mey kitns akela…!”
অরিনের উন্মুক্ত পিঠে অতি আদরে বডি ওয়াশ দিয়ে ঘোষতে থাকে কিংশুক। আজ যেন এখানে কেবল দুটো শরীর এবং একটি আত্মা উপস্থিত রয়েছে। কিংশুক এবং অরিনের আত্মা একে অপরের সাথে মিশে একাকার হয়ে রয়েছে। অতি শিহরণে কিংশুকের উন্মুক্ত পিঠ খামচে ধরে অরিন।
পানির প্রতিটি বিন্দু স্বাক্ষী হতে থাকে কিংশুক এবং অরিনের ভালোবাসার। কিন্তু মুহুর্তেই কিংশুক অরিনের মুখ নিজের মুখের কাছে নিয়ে বলে, __তোমার শরীরে লেগে থাকা প্রতিটি বিন্দু কোনার উপরে ও আমার হিংসা হচ্ছে রোজ।”
অরিন কিংশুকের চিবুকে হাত রেখে আওড়ালো,
__কেন কিং?”
__ওরা তোমাকে ছুঁয়ে যাচ্ছে তাই। আমি ছাড়া আর কেউ তোমাকে ছুঁয়ে যাক এটা সহ্য হয়না আমার।”
__এতোটা উন্মাদ কেন আপনি কিং?”
__ভালোবাসি যে তাই।”
__এতোটা ভালো কে কাকে বাসে কিং?”
__আমি বাসি! তোমাকে বাসি! ভিষণ রকমের ভালোবাসি।”
অরিন আর কোনো কথা না বাড়িয়ে চুপচাপ কিংশুকের ওষ্ঠে নিজের ওষ্ঠ চেপে ধরে। ভিষণ খুশি হয়ে যায় কিং। তার রোজ অবশেষে তাকে চাইছে। খুব করে তার কাছে থাকতে চাচ্ছে। এটাঔ তো এতোকাল ধরে চেয়ে এসেছিলো সে। অরিন তাকে ভালোবাসুক। নিজের কাছে আগলে রাখুন।
__রোজ!”
__হুম?”
__আমি কন্ট্রোললেস হয়ে যাচ্ছি।”
__কিন্তু কিং আমরা ওয়াশরুমে।”
কিংশুক কোনো কথা না বলে চুপচাপ অরিনকে কোলে তুলে নেয়। কক্ষে গিয়ে অরিনকে ছুঁড়ে মা’রে বিছানায়। অরিন ভয় মিশ্রিত কন্ঠে বলে,
__আমরা পুরো ভিজে গেছি কিং।”
__আমি মুছে দিচ্ছি তোমাকে।”
কিংশুক একটু একটু করে নিজের আধিপত্য ফলাতে থাকে অরিনের উপরে। যেন অরিন পুরোটাই তার।এক চুল পরিমাণের তাকে কারো সাথে শেয়ার করতে রাজি নয় কিং। অরিনের পুরো অস্তিত্বটাই কিংশুকের চায়। আর অন্য কোনো দখলদার থাকবে না এখানে।
পুরো নয়টি দিন কেটে যায় কিংশুক নিজের রুম থেকে বের হয়নি। না নিজে বের হয়েছে আর না অরিনকে বের হতে দিয়েছে। ধরতে গেলে অরিনের সাথে একদম আঠার মতো চিপকে থাকে কিংশুক। এক মুহুর্তের জন্য ও তাকে নিজের থেকে আলাদা করেনি সে। বরং খাওয়া থেকে শুরু করে ব্রাশ করে ঘুমাতে যাওয়া অব্দি সব সময় তারা একসাথেই থেকেছে। অরিনের বিন্দু মাত্র প্রাইভেসি নেই বললেই চলে।
ঠিক ভর দুপুর বেলায় কিংশুক অরিনকে নিয়ে চুপচাপ বিছানায় শুয়ে থাকে।কিছু ক্ষণ আগে কিংশুক অরিনের সাথে ঘনিষ্ঠ হয়েছিলো। তাই এখন মোটামুটি দু-জনেই রেস্ট নিতে থাকে। অরিন চুপচাপ কিংশুকের বুকে মাথা রেখে শুয়ে থাকে। তার জন্য যেন নিঃশ্বাস নেওয়াটি ও অপরাধ। কিংশুক একপর্যায়ে ঘুমিয়ে পরে। অরিন ও বেশ অনেক ক্ষণ ঘুমানোর চেষ্টা চালিয়ে যায়। তবে তার চোখ জুড়ে নিদ্রা আসার নাম গন্ধ ও নেই। তাই চুপচাপ ওভাবেই শুয়ে থাকে।
বেশ কিছু ক্ষণ পর অরিনের কী মনে হলো, সে বাইরে যাওয়ার জন্য ছটফট করতে থাকে। ঘুমন্ত কিংশুককে একা রেখে উঠে ফ্রেশ হয়ে ঘরের বাইরে বেরিয়ে পরে সে।
আজ প্রায় দশম দিন হতে চললো, সে তার মনির মুখ অব্দি দেখেনি। মনটা ছটফট করতে থাকে তার। অরিন নিচে নেমে সোজা মনির কাছে চলে যায় । যেখানে আতিয়া বেগম এবং ক্যাটরিনা বসে গল্প করছিলেন।
অরিন এসে সোজা আতিয়া বেগমের কোলে মাথা দিয়ে শুয়ে পরে তার মুখের দিকে তাকায়,
__ আই মিস ইউ মনি।”
অরিনের কথা শুনে হাসতে থাকে আতিয়া বেগম। ক্যাটরিনা অরিনকে পিঞ্চ মেরে বলে,__যাক অবশেষে আমার ভাই ছাড়লো তোকে।”
অরিন ছোটো গলায় বলে, __কোথায় আর ছাড়লো আমি পালিয়ে এসেছি। তোমার ভাইকে রেখে।”
__তোর কপালে দুক্ষ আছে।”
__কচু!”
ক্যাটরিনা এবং অরিনের কথার মাঝেই ছায়া মূর্তির মতো অরিনের সামনে এসে দাড়ায় অরিন। তাকে দেখা মাত্র শুকনো ঢোক গিলতে থাকে অরিন। কিংশুক তো গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন ছিলো, তাহলে জাগনা পেলো কী করে? হাজারটি প্রশ্ন বাসা বাঁধতে থাকে অরিনের মনে। কিন্তু কিংশুকের লাল চোখ জোড়া দেখে কোনো কিছু বলার মতো সাহস জুগিয়ে উঠতে পারে না অরিন।
কিংশুক কোনো কথা না বলে, মনির কোলে শুয়ে থাকা অরিনকে কোলে তুলে হাঁটতে থাকে। ভয়ে জড়সড় হয়ে যায় অরিন। কিংশুকের প্রতিটি কদম যেন মনে ঝড় তুলে দিচ্ছিল তার।
কক্ষে গিয়েই অরিনকে বিছানায় ছুড়ে মারে কিংশুক। প্রেস বাটনে ক্লিক করে ডোর লক করে অরিনের ছোটো শরীরটা নিজের আয়ত্তে নিয়ে ফেলে সে।
__কিং!”
__আই হেট ইট হয়েন ইউ ইগনর মি।”
__অ্যাম নট ইগনরিং ইউ কিং।”
__তাহলে বাইরে গেলে কেন? আমার সাথে থাকতে ভালো লাগছে না?”
কিংশুকের কড়া কড়া কথা গুলো শুনে অরিনের চোখ ভর্তি পানি চলে আসে। একদম চুপসে যায় অরিন। অরিনের চোখের পানি দেখে কিছুটা নরম হয়ে পরে কিং।
__আমার দিকে তাকাও জান।”
কিংশুক বলার সাথে সাথে অরিন তাকায় তার দিকে। চোখ দিয়ে অজস্র পানি গড়িয়ে পড়তে থাকে তার। পরক্ষণেই কিংশুক নিজের ঠোঁট দিয়ে সেই পানির দানা গুলোতে কি’স করতে থাকে।
__আই লাভ ইউ রোজ! তোমার ইগনরেস আমি নিতে পারবো না।কষ্ট হয় আমার!”
কিংশুকের কথা গুলো শুনে আরো চোখ ভেঙে অশ্রু ধাপিত হতে থাকে অরিনের। খানিকটা শব্দ করে কেঁদে ওঠে সে।
__অ্যাম সরি কিং। আর যাবো না প্রমিজ।”
__তোমার যেখানে ইচ্ছে যাও। শুধু সাথে আমাকে নাও। বড্ড একা আমি তুমি হীনা।!”
অরিন আলতো করে কিংশুকের গালে হাত রেখে বলে,__আমি সব সময় আপনার সাথেই থাকবো কিং। কোথায় ও যাবো না আপনাকে ছাড়া।”
__প্রমিস?”
__পিংকি প্রমিস!”
বিছানার সাথে একদম চেপে ধরে অরিনকে কিং। যেন মুহুর্তেই তাকে দাবিয়ে ফেলবে সে।
__কিং!”
__হুম?”
__আমি ঘুরতে যাবো!”
__কোথায়?”
__কোনো এক বিচে।”
__ওকে।”
__বিকিনি ও পড়বো।”
__ওকে!”
__মন মতো ঘুরে বেড়াবো।”
__ওকে!”
অরিন কিছুটা কপাল কুঁচকে তাকায় কিংশুকের পানে। একে তো কিং তাকে বাইরে অব্দি যেতে দেয় না। তার উপরে তাকে বিকিনি পড়ার জন্য ও পারমিশন দিলো। কিছুটা খটকা লাগে অরিনের। কড়া চোখে সে তাকায় কিংশুকের দিকে।
কিংশুক অরিনের এমন সন্দেহ বাতিক আচরণ দেখে খুব জোড়েই হেঁসে ওঠে। কারণ সে কতটা পজেসিভ এটা অরিনের জানা।
কিংশুক অরিনের নাকে নিজের নাক ঘষতে ঘষতে বলে,
__আমি কালকেই আপনাকে নিয়ে বের হবো বেবিগার্ল। আপনি যা যা চান! তাই তাই হবে।!”
__সত্যি!”
__তিন সত্যি।”
খুশির চোটে অরিন জাপ্টে ধরে কিংশুককে। এতোটাই জোড়ে জাপ্টে ধরে যে তাকে একদম নিজের সাথে মিশিয়ে ফেলে।
__কিং আমার একটি ইচ্ছে রয়েছে।”
__ইয়েস বেবিগার্ল।”
__আপনি ওয়াল্ডের ফাস্ট রিচ পার্সন হবেন। তারপর আমি আপনার টাকা উড়াবো।”
__সেটা তো তুমি এখনো ও পারবে জান। সারাজীবন উড়ালে ও শেষ হবে না।”
__তবু ও।”
__এয়াজ ইউ্যর ইউস বেবিগার্ল।”
কথা বলতে বলতে অরিনের গলা থেকে ওড়না ছুড়ে মাটিতে ফেলে দেয় কিংশুক। তারপর তার উন্মুক্ত গলাতে নিজের মুখ গুঁজে দেয়।
__কিং! আর না!”
__কী না বেবি গার্ল? আমি তো শুধু একটু আকটু।”
__নো কিং।”
__ড্যাডি নিডস ইউ্য বেবিগার্ল।”
__সারাজীবন সিঙ্গেল থাকার আক্রোশ কী আমার উপরে মিটাবেন কিং?”
__তুমি আরো আগে জন্ম নিলে। আরো আগে তোমাকে বিয়ে করে ফেলতাম। কিন্তু আফসোস। লেট করে ফেলেছো।”
__আর যদি জন্মই না নিতাম?”
__অপেক্ষা করতাম।”
__ঢং। ঠিকই তো আরেক জনকে বিয়ে করতেন।”
___ আমার আশি বছর হওয়ার পর ও যদি তুমি জন্ম নিতে তাহলে ও আমি তোমাকেই বিয়ে করতাম।”
অরিন আর কিছু না বলে চুপচাপ কিংশুকের মুখ পানে চেয়ে থাকে। কিংশুক বুড়ো বয়স অব্দি তার জন্য অপেক্ষা করতো এটাই ভেবেই আবেগে আপ্লূত হয়ে পরে অরিন। অপরদিকে কিংশুক খুব কষ্টে নিজের হাসি আঁটকে রাখে। তার বউ লেদা এটা গল্পের প্রতি পার্টে পার্টে লেখিকা প্রমাণিত করেছে। কিন্তু এতোটাই লেদা যে তার সব কথা শুনে এভাবে আবেগি হয়ে যাবে এটা কিংশুক কল্পনা ও করতে পারেনি । কিংশুক অরিনের মাথায় হাত বুলাতে বুলাতে বলে,
আনহেলদি অবসেশন পর্ব ৫৬
__তোমার মতো বউ আল্লাহ সবাইকে দান করুক।”
__আমি কী খুব ভালো? ”
__প্রচুর!!”
__আলাবু কিং।”
__আলাবু টু অরিন।”
