আমার তুমি সিজন ২ পর্ব ১৬

আমার তুমি সিজন ২ পর্ব ১৬
জান্নাত সুলতানা

সাদনান ফোনে কথা বলা শেষ করে বউ কে টেনে নিজের বক্ষদেশ নিলো।প্রিয়তা ঘুম ঘুম চোখ সাদনানের মুখের দিকে একবার তাকিয়ে মুচকি হেঁসে সাদনানের গালে হাত ছোঁয়া দিলো অতঃপর চোখ বন্ধ করে নিশ্চিন্তে নিরাপদ স্থানে ঘুমিয়ে গেলো।
সাদনান বউ কে এক হাতে নিজের বুকে আগলে রেখে আরেক হাতে ফোনে একটা ভিডিও ওপেন করে।যেটার শেষ অব্ধি সাদনান শুধু হাসলো।যেনো কোনো ছাড়পোকা ঘর থেকে বের করে দিয়েছে।
ভিডিও দেখা শেষ সাদনান হোয়াটসঅ্যাপ গিয়ে একটা ম্যাসেজ লিখল।
এরপর সাদনান ফোনে স্ক্রল করে আবার।

বাইরের দিকে নজর পড়তেই দেখা মিলে সাদনান এর সাথে আসা গাড়ি গুলো একটা বিশাল বড় বিল্ডিংয়ের গেইট দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করছে।সেখানে সব গুলো গাড়ি পার্কিং করা হলো।মোটামুটি মিডিয়ার লোকের জায়গায় ভীড় জমিয়েছে।প্রশ্ন একের পর এক করেই যাচ্ছে। এখানে আসার মূল উদ্দেশ্য কি?শুধু কি স্ত্রী কে সাথে নিয়ে আলাদা সময় কাটানো ঘুরাঘুরি করা নাকি এর পেছনে ভিন্ন কারণ রয়েছে?
এমন অনেক প্রশ্ন সাদনান উপেক্ষা করে বউ কে এক বাহুতে আগলে এগিয়ে গেলো।সামনে পেছনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী রয়েছে।প্রিয়তা শরীর কাঁপছে। এরকম পরিস্থিতিতে সে আর কখনো পড়ে নি।সাথে অস্বস্তি তো আছেই।

আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন 

তিন্নি অনুভূতিহীন।আসলে অনুভূতিহীন বললে ভুল হবে। মেয়ে টা ভাবতে পারে নি এতো টা সহজে নিজের ভালোবাসার মানুষ টা কে নিজের করে পেয়ে যাবে।তাই এই মূহুর্তে কি বলা উচিৎ বা কেমন রিয়্যাকশ দেওয়া দরকার বুঝতে পারছে না।বাড়ি ভর্তি মানুষ।এরমধ্যে বেশির ভাগ মির্জা বাড়ির লোকজন আর যা কয়েকজন তারা পাড়াপ্রতিবেশি। বিয়ে হয় নি একটু পর বিয়ের কাজ শুরু হবে। মাইশার বাবা তিন্নির বাবা হয়ে সাক্ষী হবে। তিন্নির এখানে সবচেয়ে বড় ধাক্কা টা খেয়েছে। মির্জা বাড়ির সবাই তিন্নি কে বুঝতেই দিচ্ছে না মেয়ে টার পরিবার নেই। সাদনান ফোন করে একবার তিন্নির সাথে কথা বলেছে।তিন্নি নিজের কেমন সব স্বপ্ন মনে হচ্ছে। বিয়ে টা তিন্নি একপ্রকার ঘোরের মধ্যে থেকেই কবুল বলেছে।মাইশা এসছে। পাশেই বসে আছে তিন্নির। হঠাৎ করে সব টা এতো তাড়াতাড়ি কি করে হলো। তিন্নির মনে বারবার প্রশ্ন আসছে।বিয়ে পড়ানো শেষ ঘর ফাঁকা হতেই তিন্নি মাইশার হাত চেপে ধরলো।ফিসফিস করে জিগ্যেস করলো,

-“তুই আগে থেকে জানতি সব?”
-“আরে না।
বাবা হঠাৎ ফোন করে জানাল।
হয়তো বড়’রা আগে থেকে সব প্ল্যান করে রেখেছিল।তাই এতো দ্রুত সব আয়োজন হলো।”
তিন্নি আর কিছু বলল না।চুপ করে বসে রইল। রাত হয়তো আটটার বেশি সময় বাজে।
আস্তে আস্তে বাড়ি ফাঁকা হচ্ছে। মাইশা কে নিয়ে আয়ান অনেক আগেই বাড়ি চলে গিয়েছে। এখন শুধু মির্জা বাড়ির সবাই রয়েছে। তারাও একটু পর চলে যাবে।

-“কবির কাল কিন্তু আমার মেয়ে কে নিয়ে চলে আসবে।”
কবির শুধু হাসলো।মফিজুর মির্জা তিন্নির দিকে তাকিয়ে বলল,
-“যখন এই বাবা কে মনে পড়বে তখন চলে যাবে।
কখনো দ্বিধা করবে না।মাইশা যেমন এখন থেকে তুমি মির্জা বাড়িতে তেমনি।
মনে থাকবে?”
তিন্নি সুফিয়া বেগম এর হাত মুঠোয় পুরো ধরে শক্ত হয়ে দাঁড়িয়ে রইলো।কি বলা উচিৎ এই মানুষ গুলো কে?কোনো ভাষা খোঁজে পাচ্ছে না তিন্নি। তবে হাসি মুখেই চোখে হতে জল গড়িয়ে পড়ল।খুব সাবধানে সেটা মুছে শুধু মাথা নাড়ল।

রাতে তিন্নি গেস্ট রুমে ফ্রেশ হয়ে বিয়ের শাড়ী চেঞ্জ করে একটা সুতি শাড়ী পড়ে নিলো।শাড়ী টা কবির দিয়েছে এটা কবিরের মায়ের শাড়ী। সাথে শাড়ী প্রয়োজনীয় সব।যার সব শরীরে একদম মাপ মতো হয়েছে।তিন্নি ভাবছে কোনো ভাবে কি এসব কবির স্যার দেখেছে?পরক্ষণেই ভাবে দেখলেই বা কি?স্বামী স্ত্রী এখন ওরা।কিন্তু তারপরেও নারী জাত লজ্জা তাদের ভূষণ। তিন্নি নিজে কে যথাসম্ভব ধাতস্থ করে রুম হতে বেরিয়ে এলো।কাজের লোক আজ রয়েছে। সব মানুষ বিদায় নিয়েছে। তিন্নি রান্না ঘরে গিয়ে দেখলো।একজন মহিলা খাবার গরম করছে। আরেকটা বাচ্চা আট দশ বছরের হবে প্লেট গুলো গুছিয়ে রাখছে।তিন্নি মহিলা টার দিকে তাকিয়ে জিগ্যেস করলো,

-“আপনার মেয়ে?”
-“হ গো বউ।
বাসায় একা থাকবার চায় না। এর লাইগা লগে লইয়া আই।”
-“আচ্ছা সমস্যা নেই।
কিন্তু কাজ করাবেন না ওকে দিয়ে।”
মহিলা টা পান খেয়ে লাল টকটকে করে রাখা ঠোঁট জোড়া এলিয়ে দিয়ে হাসল।

তিন্নি খাবার ডাইনিং নিতে নিতে কালাম খান আর কবির এসে উপস্থিত হলো।খাবার পর কাজের মহিলা সব গুছিয়ে রাখবেন জানাল।তিন্নি দ্বিধায় ভুগছে। কোন রুমে যাবে? গেস্ট রুম না-কি কবির স্যার এর রুমে?
তিন্নি ভাবতে ভাবতে লিভিং রুমের সোফায় বসে পড়লো।শাড়ীর আঁচল মাথা থেকে অনেক আগেই পড়ে গিয়েছে।চুল গুলো হাতে খোঁপা বাঁধা। বিয়ের সাজে চুল ছাড়া ছিল। তাড়াহুড়ো করে হয়তো আর আঁচড়ানো হয় নি।ফ্রেশ হয়ে এভাবেই চলে এসছে রান্না ঘরে।

কবির এগিয়ে গেলো।ক্লান্তি আর চিন্তায় মগ্ন থাকা তিন্নির একদম নিকটে গিয়ে দাঁড়াল।
তিন্নি হঠাৎ কবির কে নিজের সামনে দেখে একটু চমকাল।লাফিয়ে ওঠে বসা ছেড়ে। কবির তিন্নির দুই বাহুতে হাত রেখে মৃদু স্বরে বলল,
-“রিলাক্স।হাইপার হওয়ার কিচ্ছু নেই।
আমিই তো।তা তুমি এখানে বসো কি করছো?”
-“না ইয়ে মান,,,
-“হয়েছে।আর ইয়ে মানে করতে হবে না।

এখন থেকে আমার তুমি।আর আমার তুমি মানেই আমার সব তোমার।আই হোপ পরবর্তীতে তুমি আমার কোনো কিছু নিয়ে অস্বস্তি বোধ করবে না।”
-“অস্বস্তি না।
আমার তো লজ্জা লাগছিল।”
তিন্নি মাথা নিচু করে কথা টা বলেই সম্মতি ফিরতেই কি বলেছে বুঝতে পেরে চট করে মাথা টা উঁচু করে কবির এর দিকে তাকিয়ে লজ্জা পেলো।

কবির কেমন এক ঘোর লাগা দৃষ্টিতে তিন্নির দিকে তাকিয়ে আছে।
তিন্নি মাথায় আঁচল টানে।কবির লম্বা শ্বাস ছাড়ে। তিন্নির একটা হাত মুঠোয় পুরো নিয়ে নিজে আগে আগে হাঁটা ধরে। তিন্নি অজানা অনুভূতি কবিরের স্পর্শে শরীর শিরশির করে উঠল।কবির তিন্নি কে নিয়ে সোজা উপরে নিজের রুমে এলো।ফুলে সজ্জিত কক্ষে প্রবেশ করা মাত্র নানা রকম ফুলের গন্ধে তিন্নি শরীর শিহরণ হলো।কবির দরজা বন্ধ করে তিন্নি কে পেছন থেকে জড়িয়ে ধরলো। তিন্নি বরফের অনুরূপ জমে গেলো।শক্ত সটান হয়ে খিঁচে চোখ বন্ধ করে নিলো।শখের পুরুষ, ভালোবাসার মানুষ টার স্পর্শে দেহ মনজুড়ে ভালো লাগার অনুভূতি সর্বাঙ্গে ছড়িয়ে গেলো।কবির নিজের ঠোঁট তিন্নির ঘাড়ে ছুঁয়ে দিলো।

তিন্নি কেঁপে উঠল। শক্ত করে কবির এর হাতের উল্টো পিঠে নখ ডুবিয়ে দিলো।কবির ভ্রু কুঁচকে নিলো।তবে ভালোবাসার মানুষ টার এই ব্যথা আরো দিগুণ হলো করলো বউ নামক এই সুন্দর রমণী কে নিজের করে পাওয়ার। সর্বাঙ্গে নিজের বেহায় হাতের স্পর্শ দেওয়ার। তাই তো ব্যথা উপেক্ষা করে তিন্নি কে ঘুরিয়ে নিজের দিকে করে নিলো।তিন্নি অধরে কোনো লিপস্টিক দেওয়া নেই।বিয়ের সময় লাল লিপস্টিক দিয়ে ছিল।কিন্তু তিন্নি তা ধুয়ে মুছে ছাফ করে নিয়েছে।

ফ্যাকাসে রঙের ঠোঁট জোড়া বড্ড আকর্ষণীয় লাগছে দেখতে। কাঁপা কাঁপা দুই জোড়া অধর কিঞ্চিৎ পরিমাণ ফাঁকা রয়েছে তিন্নি চোখ বন্ধ করে জোরে জোরে শ্বাস ফেলছে। কবির এক পলক বউয়ের অধর পানের দিকে তাকিয়ে থেকে নিজের পুরো ঠোঁট জোড়া দিয়ে বউয়ের ঠোঁটে চেপে ধরে।
আস্তে আস্তে পাগলামি বাড়তে থাকে।এই টা কি হঠাৎ ভালোবাসা না-কি গভীর বহু সময় ধরে জমিয়ে রাখা ভালোবাসা প্রকাশ করছে। তিন্নি বুঝতে পারলো না।

-“জান, জান আমার কথা টা শ,,
সাদনানের পুরো কথা না শুনেই প্রিয়তা হেঁচকি তুলে কাঁদতে কাঁদতে এক নাগাড়ে বলতে লাগল,
-“প্লিজ না।স্পর্শ করবেন না আমায়।বাড়ি যাব আমি।বাবা-র কাছে যাব।”

আমার তুমি সিজন ২ পর্ব ১৫

সাদনান নিজের বাড়িয়ে রাখা হাত টা গুটিয়ে নিলো।প্রিয়তা বিছানার এক কোণায় গুটিশুটি মেরে বসে কান্না করছে। চোখে মুখে ভয়ের ছাপ বিদ্যমান। সাদনান নিজের উপর রাগ হলো।ইচ্ছে করছে সব ধ্বংস করে দিতে। কোন কুক্ষণে ফোন টা রুমে ফেলে গিয়ে ছিল? যদি না ফোন টা ফেলে যেতো আর না বউ এইসব এর কিচ্ছু দেখতো।আর না ভয় পেতো।সাদনান দুই হাতে শক্ত করে নিজের চুল খামচে ধরে।

আমার তুমি সিজন ২ পর্ব ১৭

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here