আমার নিষ্ঠুর ভালবাসা পর্ব ১৭
সালমা খাতুন
মায়ার হাত থেকে জিনিসটা কে ঝড়ের গতিতে এসে ছিনিয়ে নিলো সেটাও দেখার সুযোগ মায়া পেলো না। সাথে সাথে সামনের মানুষটা শক্ত করে জড়িয়ে ধরলো ওকে।
আর মায়া যেন পুরো থমকে গেলো। কি হচ্ছে ওর সাথে ও নিজেও বুঝতে পারছে না। আরমান মায়াকে নিজের বুকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে কন্ঠে উৎফুল্লতা নিয়ে বলল, “থ্যাঙ্কস মায়া! থ্যাঙ্ক ইউ সো মাচ। হাজার ধন্যবাদ দিলেও কম হয়ে যাবে তোমায়। তুমি নিজেও জানো না, যে তুমি আমায় কি পাইয়ে দিয়েছো। অনেক অনেক থ্যাংকস।”
মায়া অবাক হয়ে বোকার মতো বলল, “কিন্তু আমি করেছি টা কি? আর আপনি প্লিজ আমায় ছাড়ুন। কেউ দেখলে খারাপ ভাববে। আর এমনিতেই আপনি এতো শক্ত করে ধরেছেন যে আমার দম বন্ধ হয়ে আসছে।”
আরমান মায়াকে তাড়াতাড়ি ছেড়ে দিয়ে, কন্ঠে উৎফুল্লতা নিয়েই বলল, “ওহ সরি। আর তুমি যা করেছো তা হাজার ধন্যবাদ দিলেও কম হয়ে যাবে। আমার জান টাকেই ফিরিয়ে দিয়েছো তুমি।”
মায়া এবার বিরক্ত হয়ে বলল, “আরে ভাই কি করেছি সেটা তো বলেন?”
আরমান ওর হাতে থাকা নেম প্লেটটা দেখিয়ে বলল, “এই যে এটা। এটার মধ্যে আমার জানটা লুকিয়ে আছে। তুমি বুঝবে না।”
আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন
মায়া জিনিসটা কি সেটা হাতে নিয়ে দেখার জন্য হাত বাড়ালো। কিন্তু তার আগেই আরমান নিজের হাতের মুঠোয় ভরে নিয়ে হাত সরিয়ে দিলো।
মায়া বিরক্ত হয়ে বলল, “আরে জিনিসটা কি সেটা তো দেখতে দিন।”
আরমান মুখে হাসি নিয়ে বলল, “না একদম না। এটা কারোর হাতে দেওয়া যাবে না। বললাম না এটার মধ্যে আমার জান লুকিয়ে আছে। আর হারাতে চাই না আমি এটাকে। আচ্ছা আমি যাই। পরে কথা হবে। আর হ্যাঁ এটা খুঁজে দেওয়ার জন্য তুমি যা চাও তোমাকে তাই দেবো। এখন আসি। ওকে খুঁজে বের করতে হবে আমায়।”
বলেই আরমান ওই বাক্সটা মায়ার হাত থেকে নিয়ে নেম প্লেট টা নিয়ে বেরিয়ে গেলো রুম থেকে। আর এই পুরো বিষয়টা মায়ার মাথার উপর দিয়ে গেলো। কি থেকে কি হলো কিছুই বুঝলো না ও। হ্যাঁ ওই নেম প্লেটটি ভীষণ চেনা চেনা লাগলো ওর কাছে। তাই হাতে নিয়ে দেখতে চেয়েছিল। কিন্তু তার আগেই আরমান চলে গেলো। আরমানের এমন অদ্ভুত বিহেভ করাই ভীষণ অবাক হলো মায়া। কি আছে ওতে? যে বলছে ওর জানটাই নাকি আছে ওর মধ্যে? মিস্টার আরমান হয়তো পাগল হয়ে গেছে, আর ও বেশি বেশি ভাবলে নিজেও পাগল হয়ে যাবে। তাই মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলো দিল পুরো বিষয়টা। তারপর ও নিজের কাজে মন দিলো।
এদিকে আরমান নিজের রুমে এসে নেম প্লেটটি হাতে ধরে বসে আছে। মুখে তার লেগে আছে বিজয়ের হাসি। মনে হচ্ছে পুরো দুনিয়া জিতে নিয়েছে ও। যেই মানুষটির মুখ সব সময় রাগী গম্ভীর হয়ে থাকত আজ সেই মানুষটিকে দেখলে যে কেউ অবাক হবে। কারণ আজকের আরমান যে সবার অচেনা।
ও বাক্স থেকে সেই ভাঙ্গা ঘড়িটা বের করলো। এই ঘড়িটা ওরই ছিল। আজ থেকে দশ বছর আগে যখন ওর এক্সিডেন্ট টা হয় তখন ওর হাতে এই ঘড়িটাই পড়ে ছিল। তাই ঘড়িটা চিন্তে একটুও ভুল হলো না আরমানের। এই বাক্সটা মায়া দাদুর আলমারি থেকে বের করলো। তার মানে এই জিনিস দুটো ওর দাদুর কাছেই ছিল। কই কখনো বলেনি তো এই বিষয়ে। আর দাদুই বা কেন এটাকে এতো যত্ন করে রেখে দিয়েছিল? সেই অ্যাক্সিডেন্টে ওর জ্ঞান হারানোর আগে পর্যন্ত এই নেম প্লেটটি ওর হাতেই ছিল। কিন্তু জ্ঞান ফেরার পর এটার কথা ওর আর মনে ছিল না। এটা যেভাবেই হোক ওর হাত থেকে হয়তো ওর দাদু পেয়েছিল। আর রেখে দিয়েছিল। যাক গে সে সব। ও যে এই নেম প্লেটটি খুঁজে পেয়েছে এটাই অনেক। এবার ও ওর পিচ্চি মায়াবতীকে সহজেই খুঁজে বের করবে।
আরমান নেম প্লেটটি হাতে নিয়ে আবারও দেখতে শুরু করলো। প্রথমেই স্কুলের নাম গোল করে লেখা। তারপর নাম- মাইশা তালুকদার। ক্লাস- 6। রোল নাম্বার- 23।
মাইশা তালুকদার। আবারো সেই তালুকদার। মায়াও তো তালুকদার, তাহলে ওই কি ওর সেই পিচ্চি মায়াবতী? না না এটা কিভাবে সম্ভব? ওর নাম তো মায়া, আর ওর পিচ্চি মায়াবতীর নাম তো মাইশা। আর তালুকদার পদবি কি একজনেরই আছে। তালুকদার পদবি তো আরো অনেকের আছে। ও কি একবার মায়ার ব্যাপারে খোঁজ নিয়ে দেখবে? না না ওকে সবকিছু বাদ দিয়ে এই নেম প্লেট এর মালকিন কে খুঁজতে হবে। মাইশা। হ্যাঁ মাইশায় ওর পিচ্চি মায়াবতী। এই মায়ার কথা ওর মাথা থেকে বের করে এই নেম প্লেটের মানুষটিকে খুঁজতে হবে।
আরমান ফোন বের করে, নেম প্লেটটির একটি ছবি তুলে নিলো। তারপর ছবিটা একজনকে পাঠিয়ে দিয়ে কল লাগালো তাকে। উনি কল রিসিভ করতেই আরমান বলে উঠলো, “বিরাট! মাইশার কোনো খবর পেয়েছো?”
বিরাট একটা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বললো, “না স্যার। শুধু মাত্র একটা মেয়ের নাম দিয়ে কি তাকে খুঁজে বের করা যাই? তাও তো 20-22 বছরের মাইশা নামের অনেক মেয়েদের তারা যখন 10-12 বছরের ছিল সেই ছবি আপনাকে দেখিয়েছি। আপনি তো বলেছেন ওরা কেউ নয়। ছবিও আঁকিয়েছি আপনাকে দিয়ে, কিন্তু আপনি বর্ণনা ঠিক ঠাক না দিতে পারার জন্য সেই ছবি নাকি মাইশার মতো দেখতে হয়নি। এরপর আর কি করবো বলুন”
আরমান:- “আর চিন্তা নেই বিরাট। এবার হয়তো খুব তাড়াতাড়ি তুমি খুঁজে বের করতে পারবে। খুব বড়ো একটা ক্লু পাঠিয়েছে তোমায়। মোবাইল টা একবার চেক করো।”
বিরাট ওর ফোন চেক করে দেখলো আরমান একটা ছবি পাঠিয়েছে। ও ছবিটা ওপেন করে দেখলো। তারপর আরমানকে উদ্দেশ্য করে বলল, “স্যার এটা তো কোনো স্কুল ড্রেসের নেম প্লেট মনে হচ্ছে। নাম মাইশা তালুকদার। এক মিনিট… তার মানে আপনি যেই মাইশাকে খুঁজছেন এটা তারই স্কুল ড্রেসের? ওয়াও গ্রেট। এবার তো খুব সহজেই খুঁজে বের করা যাবে তাহলে।”
আরমান:- “হ্যাঁ ওটাই বলছি আমি। তুমি আগে এই স্কুল টিকে খুঁজে বের করো। তারপর ওই স্কুলে গিয়ে খোঁজ লাগাও মাইশার।”
বিরাট:- “একদম স্যার। আমি কালই বেরিয়ে পড়বো আপনার মাইশার খোঁজে। আপনি একদমই চিন্তা করবেন না। এবার আপনার মাইশাকে যেভাবেই হোক আপনার সামনে হাজির করবো।”
আরমান:- “না ওকে আমার সামনে হাজির করার দরকার নেই। তুমি শুধু ও কোথায় আছে সেটা খুঁজে বের করো। তারপর আমি নিজেই ওর সামনে হাজির হবো। আর কাল কেন? আজই বেরিয়ে পড়ো।”
বিরাট কিছুটা মিনতির সুরে বলল, “প্লিজ স্যার আমাকে আজকের দিনটা সময় দিন। আমি আসলে বাড়িতে এসেছি সকলের সাথে কিছুটা সময় কাটানোর জন্য। কাজের চক্করে বাড়িতে আসা হয় না অনেক দিন। তাই প্লিজ আমাকে আজকের দিনটা সময় দিন।”
আরমান বিরক্ত হতে গিয়েও নিজেকে সামলে নিলো, তারপর বলল, “আচ্ছা ঠিক আছে। যতো তাড়াতাড়ি সম্ভব ওকে খুঁজে বের করো। আর টাকা পয়সার দিক দিয়ে কোনো চিন্তা করবে না। যত টাকা দরকার হবে আমি দেবো। কিন্তু আমার মাইশাকে চাইই চাই। তাই যেভাবেই হোক তুমি ওকে খুঁজে বের করো। তাতে তোমাকে যেখানে যেতে হয় যাও।”
বিরাট:- “ঠিক আছে স্যার। থ্যাঙ্কস আমাকে আজকের দিনটা সময় দেওয়ার জন্য। খুব শীঘ্রই আমি আপনার মাইশাকে খুঁজে বের করবো ইনশাআল্লাহ।”
এই বলে বিরাট কল কেটে দিলো। বিরাট একজন গোয়েন্দা। একটা বিরাট বড়ো গোয়েন্দা সংস্থায় কাজ করে ও। ছেলেটা মধ্যবিত্ত ঘরের হলেও অনেক বড়ো বড়ো কেস সলভ করেছে ও। তাই অনেক আগে থেকেই আরমান মাইশার কেসটাও এই বিরাট কেই দিয়েছে ও।
তখনি আবির ওর ঘরে ঢুকতে ঢুকতে বলল, “কি ব্যাপার মাইশাকে খুঁজে পেয়ে গেলি নাকি। মাইশা মাইশা করছিস শুনলাম?”
তখনি আবিরের পিছু পিছু সামিরাও ঘরে ঢুকতে ঢুকতে বলল, “আবির ভাইয়া এই মাইশাটা সেই মেয়ে না, যে অনেক আগে দার্জিলিং এ বড়ো ভাইয়াকে বাঁচিয়ে ছিল?”
আবির:- “হ্যাঁ এটা সেই মাইশা যাকে তোর ভাইয়া পাগলের মতো খুঁজছে।”
সামিরা:- “হ্যাঁ সেটা জানি। আর এটাও জানি যে ভাইয়া সেই মেয়ের জান্যই মায়া ভাবীকে ডিভোর্স দিয়েছে। আচ্ছা ভাইয়া তাকে কি খুঁজে পেয়ে গেছো?”
আরমান ওদের দুজনের আগমনে ভীষণ বিরক্ত। আরমান ওর বোনকে খুব ভালোবাসলেও, ও যদি আবিরের সাথে থাকে তাহলে দুটোতে মিলে আজাইরা বকবক শুরু করে। এই দুটোকে একদম একসাথে দেখতে পারে না ও। আরমান বিরক্ত গলায় বলল, “না পাইনি। তবে খুব শীঘ্রই পাবো।”
এরই মধ্যে আবিরের চোখ গেলো খাটের উপরে থাকা দাদুর সেই কাঠের বাক্সে আর সেই ঘড়িটাতেও। আবির তাড়াতাড়ি এগিয়ে গিয়ে ঘড়িটা হাতে নিয়ে বলল, “আরে এই ভাঙ্গা ঘড়িটা এখানে কি করছে? আর এই বাক্সটা দাদুর না? দাদু বেঁচে থাকতে এই বাক্সটা আমি দাদুর কাছে দেখেছিলাম।”
আরমান:- “হ্যাঁ এটা দাদুরই বাক্স। আর এই ঘড়িটা আমার। দার্জিলিং এ যখন আমার অ্যাক্সিডেন্টে হয়েছিল তখন এই ঘড়িটা পড়ে ছিলাম আমি।”
আবির তৎক্ষনাৎ কিছু মনে পড়ার ভঙ্গিতে বলল, “হ্যাঁ মনে পড়েছে। তোকে হসপিটালে অ্যাডমিট করানোর পর, ডক্টর এই ঘড়িটা সাথে আরও একটা কি যেনো ছিল, আমার হাতে দিয়েছিল। বাড়ির সবাই ওখানে যাওয়ার পর আমি এগুলো দাদুকে দিয়ে দিয়েছিলাম। আর কি যেনো একটা ছিল ঠিক মনে পড়ছে না।”
আরমান আর নেম প্লেটটি পকেটে ভরে নিয়েছে ওদের দুজনকে দেখে। ওটা আর আবিরকে দেখানোর প্রয়োজন মনে করল না। কারণ ও খুব ভালো করে জানে আবির চাই না মাইশা ওর জীবনে ফিরে আসুক। ও জানে, আবির একদম মাইশাকে সহ্য করতে পারে না। তাই ওকে আর এই বিষয়ে কিছু জানানোর প্রয়োজন মনে করলো না।
আরমান:- “তোকে আর মনে করার দরকার নেই। কি বলতে এসেছিলি সেটা বল?”
আবির:- “ও হ্যাঁ। মিস্টার ড্যানিয়েল এর অ্যাসিস্ট্যান্ট মেইল করেছে, আর তিন দিন পর উনারা আসছেন। এই তিনদিনের মধ্যে যেনো মায়ার সব ডিজাইন রেডি থাকে। ডিজাইন পছন্দ হলে, উনি সেইদিনই ডিজাইন সিলেক্ট করে ডিল ফাইনাল করবে অ্যাডভান্স পেমেন্ট সহ। ওটাই জানাতে এসেছিলাম তোকে।”
আরমান:- “আচ্ছা ঠিক আছে। আর ছুটকি তুই কিছু বলবি?”
সামিরা মাথা নাড়িয়ে সম্মতি দিয়ে বলল, “হ্যাঁ ভাইয়া। রোজ রোজ ড্রাইভারের সাথে কলেজ যেতে ভালো লাগে না। তাই আমি ঠিক করেছি আজ সবাই এক সাথে মিলে যাবো। মানে তোমরা অফিস যাওয়ার পথে আগে আমাকে কলেজে নামিয়ে দিয়ে যাবে। আর তোমরা মানে, আবির ভাইয়া, মায়া আপু, আর তুমি। সবাই এক সাথে যাবো।”
আরমান:- “কিন্তু ছুটকি তুই তো জানিস আমি বেশি গেঞ্জাম একদম…
আরমানকে কথা শেষ করতে না দিয়েই সামিরা বলল, “হ্যাঁ হ্যাঁ জানি। তুমি বেশি গেঞ্জাম একদম পছন্দ করো না। কিন্তু একটা দিনেরই তো ব্যাপার, প্লিজ ভাইয়া রাজি হয়ে যাও। আমার ভীষণ বোর লাগে একা একা যেতে। প্লিজ ভাইয়া।”
সামিরার এতো রিকোয়েস্ট করাই আরমান একটা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বললো, “আচ্ছা ঠিক আছে। তোরা চল আমি আসছি।”
সামিরা ইয়াহু বলে চিৎকার করে উঠে চলে গেলো। ওর পিছু পিছু আবিরও চলে গেলো। এদিকে আরমান আবারও একটা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে পকেটে হাত দিয়ে নেম প্লেটটি বের করলো। তারপর সেটার দিকে তাকিয়ে আবেগী কন্ঠে বলল, “হাজার মানুষের ভীড়ে থেকেও আজ আমি একা—কারণ, এই হাজার মানুষের ভীড়ে তুমি নেই, আমার পিচ্চি মায়াবতী। (বুকে হাত দিয়ে) এই বুকে আছে এখন শুধুই শূন্যতা, আর এই শূন্যতা বুকের ভেতরটা কুঁড়ে কুঁড়ে খাচ্ছে। একবার দেখা দাও পিচ্চি মায়াবতী… তোমায় এই বুকে জড়িয়ে ধরে শান্ত করি বুকের ভেতরটা। একবার দেখা দাও প্লিজ…ভালোবাসি পিচ্চি মায়াবতী… ভীষণ ভীষণ ভালোবাসি তোমায়।”
এই বলে নেম প্লেটটিতে একটা কিস করে, সেটা দাদুর সেই বাক্সটিতছ ভরে খুব যত্ন করে তুলে রাখলো নিজের আলমারিতে। এরপর ওর ল্যাপটপ ব্যাগটা নিয়ে বেরিয়ে গেলো। অনেক আগ থেকেই অফিসের জন্য রেডি হয়েছিল ও।
আরমান সিঁড়ি দিয়ে নেমে ড্রয়িংরুম হয়ে এগিয়ে যাচ্ছিল দরজার দিকে। আবিররা অপেক্ষা করছে গাড়ির কাছে। ড্রয়িংরুমে এখন কেউ নেই, সবাই ব্রেকফাস্ট করে যে যার কাজে গেছে। আরমান দরজা দিয়ে বেরোতে যাবে এমন সময় কেউ একজন এসে ওকে দিলো এক ধাক্কা।
আমার নিষ্ঠুর ভালবাসা পর্ব ১৬
এদিকে মায়াকে অনেক্ষন আগে সামিরা ডেকে গেছে। আজকে নাকি ওরা একসাথে যাবে। ওরা বাইরে ওর জন্য অপেক্ষা করছে। তাই মায়া ওর ব্যাগ চেক করতে করতে তাড়াহুড়ো করে এগিয়ে যাচ্ছিল। কিন্তু হঠাৎ ওর সামনে কেউ চলে আসায় ধাক্কা খেলো ও। আর নিজেকে সামলাতে গিয়ে সামনের মানুষটার জামার কলার চেপে ধরলো।
বুঝতেই তো পারছেন ঘটনা কি। কিন্তু এইবার আর আরমান মায়াকে পড়ে যেতে দেয়নি। কোমর জড়িয়ে ধরে পড়ে যাওয়া থেকে আটকে নিলো। এদিকে মায়া তো ভয়ে চোখ বন্ধ করে নিয়েছে।
