আমি তার সন্ধ্যামালতী পর্ব ১৫
DRM Shohag
আকাশকে নির্বিকার বসে থাকতে দেখে সন্ধ্যার ভীষণ রাগ হয়। তার হাতের বাঁধন এখনো খুলছে না। সে তো মেনে নিল সব শর্ত, তবুও কেন এমন করছে? সন্ধ্যা মোচড়ামুচড়ি করতে করতে আকাশের দিকে চেয়ে দাঁত কিড়মিড় করে বলে, “খুলে দিন।”
আকাশ সন্ধ্যার মাথা থেকে পা পর্যন্ত দৃষ্টি বুলায়। ঠোঁট কা’ম’ড়ে হেসে বলে,
“শাড়ি খুলতে বলছ?”
সন্ধ্যা অসহ্য কণ্ঠে বলে,
“আপনি যে একটা আস্ত জা’নো’য়া’র, এটা জানেন?”
আকাশ চেয়ার থেকে উঠে দাঁড়ালো। এগিয়ে এসে সন্ধ্যার দিকে ঝুঁকে দু’হাত সন্ধ্যার চেয়ারের দু’পাশে ঠেকায়। বলে,
“নিউ কিছু ট্রাই কর। একটা ওয়ার্ড বারবার রিপিট করছ। শুনতে বোরিং লাগছে।”
এতো কাছে আকাশকে দেখে সন্ধ্যার দৃষ্টি এলোমেলো হয়। নাকে পরিচিত গন্ধ এসে ধাক্কা খায়। সন্ধ্যার গলা শুকিয়ে আসে। ঢোক গিলল মেয়েটা। দ্রুত চোখ বুজে ডানদিকে মুখ ফিরিয়ে নেয়। নিজের অস্থিরতা চেপে রে’গে বলে, “অ’সভ্য লোক আমার থেকে দূরে সরুন। আর হাতের বাঁধন খুলুন।”
আকাশ বাঁকা হেসে বলে,
“খোলাখুলি ওয়ার্ড শুনলে শাড়ি ছাড়া আর কিছু মাথায় আসছে না। স্টার্ট করব?”
সন্ধ্যা রে’গে তাকায় আকাশের দিকে। আকাশ সন্ধ্যার একদম মুখের সামনে মুখ রেখে ঠোঁট কামড়ে হাসছে। গভীর দৃষ্টি সন্ধ্যাতে। সন্ধ্যা হাসফাস করে। আকাশকে অদ্ভুদ লাগছে।
সন্ধ্যাকে চুপ দেখে আকাশ মৃদুস্বরে জিজ্ঞেস করে, “তোমার হাসবেন্ড কোথায়?”
সন্ধ্যা বিরক্তি কণ্ঠে বলে,
“আপনার তো অনেক ক্ষমতা। নিজে খুঁজে নিন।”
আকাশ হাসল। ঠোঁট গোল করে সন্ধ্যার মুখে একবার ফুউউ দেয়। সন্ধ্যা চোখ বুজে নেয়। আকাশ বন্ধ চোখের সন্ধ্যার পানে চেয়ে বলে,
“ওকেই৷ আমি নিজেই খুঁজে বের করে তোমার সাথে তোমার হাজবেন্ডের ডিভোর্স করিয়ে দিব। মাইন্ড ইট।”
আকাশ কথা শুনে সন্ধ্যার ভীষণ হাসি পায়। যদিও আকাশ বদলে গিয়েছে, যদিও তার আকাশ হারিয়ে গেছে। সন্ধ্যা এই আকাশকে আর তার স্বামী হিসেবে মানে না। আর না মানবে৷ এতোকিছুর পর তো নয়-ই। কিন্তু দিনশেষে এটাও সত্য, এই আকাশ এখনো তার স্বামী। হয়তো দুনিয়ার দলিলে তার প্রমাণ নেই। কিন্তু আল্লাহর দলিলে ঠিকই প্রমাণ আছে। সন্ধ্যা চোখ মেলে তাকায়। আকাশের দিকে চেয়ে উপহাসের স্বরে বলে,
“তাকে খুঁজে পাওয়ার পর আয়নায় নিজের মুখ দেখতে ইচ্ছে না করলে আমাকে বলবেন, আমি আপনার জন্য স্পেশাল আয়না বানিয়ে দিব।”
আকাশ থমথমে মুখে তাকায়। ভ্রু কুঁচকে বলে,
“তুমি কি ইনডিরেকলি বোঝাতে চাইছ, আমার চেয়ে তোমার হাসবেন্ড বেশি সুন্দর?”
সন্ধ্যা বিদ্রুপ হেসে বলে,
“বুদ্ধিমানদের জন্য ইশারাই যথেষ্ট।”
কথাটা শুনে আকাশের মুখ আগের চেশেও থমথমে হয়ে যায়। সন্ধ্যা আকাশের এক্সপ্রেশন দেখে হাসল। সন্ধ্যার হাসিটুকু আকাশের চোখ এড়ায় না। আকাশ হঠাৎ করেই শব্দ করে হেসে ওঠে। হাসতে হাসতে বাদিকে সামান্য হেলে যায়। শরীর নড়েচড়ে ওঠে। আকাশের হাসি থামে না। আকাশকে এভাবে পাগলের মতে হাসতে দেখে সন্ধ্যা ভ্রু কুঁচকে তাকায়। ঠিক বুঝল না, আকাশ হঠাৎ করে কেন এভাবে হাসছে? হঠাৎ করেই আকাশের হাসি একেবারে থেমে যায়। মুখাবয়ব হয়ে যায় গম্ভীর, যেন আকাশ হাসতেই জানে না। সন্ধ্যা ক্ষণে ক্ষণে অবাক হয় আকাশকে দেখে৷ আকাশ সন্ধ্যার মুখ ছুঁইছুঁই করে সন্ধ্যার চোখে চোখ রাখে। সন্ধ্যার দৃষ্টিতে কম্পন। আকাশের সেনালি চোখের তীক্ষ্ণ দৃষ্টি যার কারণ। আকাশ শীতল কণ্ঠে আওড়ায়,
“কে বেশি সুন্দর, এটা কোনো ফ্যাক্ট নয়। ফ্যাক্ট এটাই, তোমার হাসবেন্ড আর আমার মধ্যে বেশ মিল আছে। যার পরিধি ডিএনএ পর্যন্ত গড়াতে পারে। ইন্টারেস্টিং, না?”
কথাটা সন্ধ্যার কর্ণকুহরে পৌঁছাতেই বিস্ময়ে মেয়েটা হতবাক হয়ে যায়। আকাশ কথাটা দ্বারা কি বোঝালো? দু’জন মানুষের ডিএনএ কিভাবে এক হতে পারে? আকাশ তো জানে তার স্বামী অন্যকেউ। তবে আকাশ এ কথা কেন বলল? সন্ধ্যার মাথা ঘুরে ওঠে।
সন্ধ্যার দৃষ্টি আকাশের মাঝে তেমন কোনো প্রভাব ফেলল না। সে চেয়ারের সাথে বাঁধা সন্ধ্যার হাতের বাঁধন খুলে দেয় ধীরে ধীরে। এরপর সন্ধ্যার সামনে পাতা চেয়ারে বসে। প্যান্টের পকেট থেকে একটি মলম বের করে সন্ধ্যার দু’হাতে লাগিয়ে দেয়। সন্ধ্যার ত্বক অধিক ফর্সা না হলেও উজ্জ্বল শ্যামা। অনেকক্ষণ থেকে বেঁধে রাখার ফলে, দু’হাত লাল হয়ে গেছে। আকাশ আলতো হাতে সন্ধ্যার দু’হাতে মলম লাগিয়ে দেয়।
সন্ধ্যার কোনোদিকে ধ্যান নেই। আকাশ যে তার হাতের বাঁধন খুলে দিয়েছে, হাতে মলম দিয়ে দিচ্ছে, কোনেদিকে মন নেই সন্ধ্যার। সে কেবল আকাশকে দেখছে। যার মুখ থেকে সন্ধ্যা আনএক্সপেক্টেড কথা শুনতে পেয়েছে৷
আকাশ নিজের কাজ শেষ করে সন্ধ্যার দিকে তাকায়। কিছু একটা ভেবে ফোনে কিছু বের করে সন্ধ্যার সামনে ধরে৷ সন্ধ্যা তাকায় ফোনের দিকে। ফোনের স্ক্রিনে লেখা,
‘সাধারণ অবস্থায় দু’জন ভিন্ন মানুষের ডিএনএ এক হতে পারেনা।’
লেখাটি পড়ে সন্ধ্যা ঢোক গিলল। চোখ তুলে তাকালো আকাশের দিকে। আকাশ ভ্রু নাচিয়ে বলে,
“অসাধারণ অবস্থায় দু’জনের ডিএনএ এক হতে পারে। বাট তার জন্য প্রয়োজন অসাধারণ এক ভাই। বাট আমার তো কোনো সাধারণ ভাই-ই নেই। অসাধারণ ভাই তো দূরে থাক।
কথাগুলো বলে আকাশ তার ফোন পকেটে ঢুকিরে রেখে খুব দুঃখের সাথে আওড়ায়, সো স্যাড! বাট ভেরি ইন্টারেস্টিং!”
লাস্ট দু’টো শব্দ বলে সন্ধ্যার দিকে চেয়ে একটা চোখ টিপ দেয় আকাশ। ঠোঁটের কোণে সূক্ষ্ম হাসি। সন্ধ্যার পুরো শরীর শিরশির করে ওঠে। সে যেন বোবা বনে গিয়েছে৷ আকাশের কথা শুনে তার মস্তিষ্ক এলোমেলো লাগছে।
আকাশ চেয়ারটি একটু পিছিয়ে নিয়ে বসে। ডান পা বা পায়ের তুলে তুলে রাখে। পকেট থেকে সিগারেট আর লাইটার বের করে, সিগারেট ঠোঁটের ফাঁকে চেপে লাইটার দ্বারা সিগারেটটি জ্বালায়। সন্ধ্যার পানে দৃষ্টি রেখে সিগারেটে দু’বার টান দেয়। সন্ধ্যার চরম বিতৃষ্ণা নিয়ে চেয়ে রইল আকাশের দিকে। তার আকাশ সিগারেট খেলেও এতো অভদ্র ভাব ছিল না তার মাঝে। কিন্তু এই আকাশ? সন্ধ্যা বিরক্তি নিয়ে আকাশের থেকে চোখ সরিয়ে নেয়। আকাশ ডান হাতের দু’আঙুলের ফাঁকে সিগারেটটি রেখে হেসে বলে,
“ছেলের নাম সৃজন। সুন্দর! নামটা তোমার হাজবেন্ডের পছন্দ অনুযায়ী রেখেছ। ঠিক বললাম তো?”
কথাটা শুনতেই সন্ধ্যা ঝড়ের বেগে আকাশের দিকে তাকায়। চোখেমুখে অজস্র বিস্ময়। কয়েক সেকেন্ডেই চোখের কোণে জলকণা জমতে শুরু করল। চোখের পাতা কাঁপছে। মনে পড়ে যায় অনেক কিছু।
আকাশ নিয়াজের কাছে তার প্রেগনেন্সির খবর পাওয়া পর যখন সূদূর ইংল্যান্ড থেকে ফিরছিল। ফেরার পথে আকাশের একটি মেসেজ ছিল,
‘সন্ধ্যামালতী, আমাদের ছেলে হলে নাম রাখব সৃজন, আর মেয়ে হলে নাম রাখব সৃষ্টি। সুন্দর না নাম দু’টো? আমার ভীষণ পছন্দের। তোমার কেমন লেগেছে বউ? জানিয়ো কিন্তু।’
লেখাগুলো আজও সন্ধ্যার চোখের সামনে জ্বলজ্বল করে। নাম দু’টো সন্ধ্যার ভীষণ পছন্দ হয়েছিল, কিন্তু সে আকাশকে জানানোর আর সুযোগ পায়নি। ওই যে আকাশ হারিয়ে গেল। ফিরে এলো কত বাজেভাবে। সন্ধ্যার খুব রা’গ হয়েছিল। কিন্তু সে আকাশের পছন্দকে ছুড়ে ফেলতে পারেনি। সবাইকে সৃজন নাম রাখার অনেক মিথ্যে কারণ বলেছে। সবার আগে নিজেকে বলেছে। সে নিজেও মানতে নারাজ, সে এখনো তার মনে আকাশকে রেখেছে, আকাশের পছন্দকে স্থান দিয়েছে। অস্বীকার করলেও বা কি? দিনশেষে সন্ধ্যা আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে অস্বীকার করতে পারে না, আজও তার সবখানে আকাশের অস্তিত্ব মিশে আছে।
কথাগুলো ভেবে সন্ধ্যার দমবন্ধ হয়ে আসে। ঝাপসা চোখজোড়া এদিক-ওদিক করে ঘোরায় নিজেকে স্বাভাবিক করতে।
দরজার ওপাশে দাঁড়িয়ে সৃজন দরজা ধাক্কায় আর ডাকে, “মা মা, তুমি কুতায়? দজ্জা কুলো। মা?”
আসমানী নওয়ান দরজা ধাক্কায় আর আকাশকে ডাকে। সাইফ সৃজনকে দিয়ে গিয়েছে। আর বলেছে, সন্ধ্যাকে নাকি তার ছেলে এনেছে। সে পিছু পিছু এসে দেখেছে, আকাশ সন্ধ্যাকে তাদের বাড়িতেই এনেছে। তিনি আকাশকের ঘরের সামনে এসে বুঝতে পারে, আকাশ সত্যিই এই বাড়ি এসেছে। ছেলেকে কতগুলো দিন পর দেখবে ভেবে যেমন শান্তি লেগেছে, তেমনি দুঃখ লেগেছে আকাশের করা কর্মকান্ডের কথা শুনে।
এদিকে ছেলের কণ্ঠ পেয়ে সন্ধ্যা দ্রুত চেয়ার থেকে উঠে দাঁড়ায়। কোনোদিকে না তাকিয়ে বড় বড় পা ফেলে দরজার কাছে গিয়ে দরজার সিটকিনি খোলে। কিন্তু দরজা খুলছে না। সন্ধ্যা দু’হাতে দরজা ধরে টানে, কিন্তু খুলতে পারেনা। দরজার কাছে মুখ ঠেকিয়ে বলে,
“আব্বা আমি এখানেই আছি। এক্ষুনি বের হব আমি। একটু দাঁড়াও আব্বা।”
এতোক্ষণ পর মায়ের কণ্ঠ পেয়ে সৃজনের মুখে হাসি ফোটে। অসহায় কণ্ঠে বলে,
“তাত্তালি বেল য়ও মা। তাত্তালি আমাকি কুলে নাউ।”
সন্ধ্যা দরজা ধরে টানতে থাকে। খুলতে না পেরে রেগে উল্টো ঘুরতে নেয়, তখনই পিছন থেকে আকাশ হাত বাড়িয়ে দরজার লক খুলে দেয়। সন্ধ্যা দ্রুত দরজা খুলে সৃজনের সামনে হাঁটু মুড়ে বসে। মাকে দেখে সৃজন মায়ের উপর যেন ঝাঁপিয়ে পড়ল। ফোঁপানো কণ্ঠে বলে, “মা, তুমি আমাকে লেকে চলি আচলে কেনু? আমি কুব কস্ত পেয়িচি।”
সৃজনের মুখে এহেন কথা শুনে সন্ধ্যার বুকটা হু হু করে ওঠে। ছেলেকে ছেড়ে ছেলের সারামুখে হিসাব ছাড়া চুমু আঁকে। মায়ের আদর পেয়ে আদুরে সৃজনের ফোঁপানো বাড়ে। সন্ধ্যা দু’হাতের আঁজলায় সৃজনের মুখটা নিয়ে ধরা গলায় বলে,
“আমি স্যরি আব্বা! আর তোমাকে কষ্ট দিব না। মাকে মাফ করবে না আব্বা?”
সৃজন ঠোঁট উল্টে তাকায় মায়ের দিকে। সন্ধ্যার পিছনে আকাশকে দেখে সৃজন ভ’য় পেল একটু। ভীতি দৃষ্টি নামিয়ে সন্ধ্যার দিকে একটু চেপে গিয়ে বলে,
“মা মা, বাতাচ বাবু আমাকে ছুলে ফেলে দিচিলো। আমি একানে বয় পিয়েচি।
কথাটা বলতে বলতে সৃজন দু’হাতে তার বুক দেখালো। সন্ধ্যার বুকটা চিনচিনে ব্যথা করে ওঠে। ছেলে বাবার নামে মায়ের কাছে বিচার দিচ্ছে। বাবাকে দেখে ভয় পাচ্ছে। লুকোতে চাইছে। এই দৃশ্য যে সবার আগে সন্ধ্যার বুকে এসে হানে। শক্ত সন্ধ্যা দুর্বল হয়না। নিজেকে সামলে সে ছেলের মুখে অজস্র চুমু আঁকে। এরপর শার্টের উপরে বুকে দু’টো চুমু আঁকে।
আবারো মায়ের আদর পেয়ে সৃজন একটু খুশি হয়। কিন্তু সে পুরোপুরি গললো না। কিছু একটা ভেবে মন খারাপ করে বলে,
“তুমি আমাকে ধলোনি কেনু? আমি লাগ কলেচি।”
কথাটা বলে সৃজন দু’হাত বুকে গুঁজে মুখ ফুলায়। অন্যসময় হলে ছেলের রাগ দেখে সন্ধ্যা হেসে ফেলত। সৃজন একদম বড়দের মতো করে রাগ করার ভান করে। সন্ধ্যা না হেসে পারেনা। কিন্তু এখন হাসি আসছে না। বড্ড কষ্ট হচ্ছে। আবারো আকাশ বাংলাদেশের মাটিতে পা রেখে, তার সামনে এসে তাকে ভেঙে দিতে চাইছে। আকাশকে নিয়ে ভাবনা রেখে সন্ধ্যা অসহায় চোখে তাকায় সৃজনের পানে। দু’হাতের আঁজলায় সৃজনের মুখ নিয়ে অনুতপ্ত স্বরে বলে,
“স্যরি আব্বা! কি করলে তোমার রাগ ভাঙবে বলো আমাকে?”
সৃজন এবার ডান হাত মুষ্টি করে সন্ধ্যার সামনে বাড়ায়। প্রথমে একটি আঙুল এরপর আরেকটি আঙুল পর পর বের করে বলে,
“আমাকে চলকেত আর জেলি কিনি দিতে য়বে।”
সন্ধ্যা সৃজনের কপালে চুমু এঁকে মৃদু হেসে বলে, “দিব আব্বা। এবার রাগ ভেঙেছে?”
সৃজন খুশি হয়ে মাথা উপরনিচ করে। অর্থাৎ তার রাগ ভেঙেছে। দু’হাতে সন্ধ্যার গলা জড়িয়ে ধরে হেসে বলে,
“হু হু লাগ বাঙিচে। আমাল মা এত্তু বালো।”
সন্ধ্যা প্রশান্তির শ্বাস নেয়। শক্ত করে জড়িয়ে রাখে তার প্রাণটাকে। তার জীবন এটা। তার বেঁচে থাকার অবলম্বন। জড়িয়ে রেখেই ছেলেকে কতশত যে চুমু আঁকল। ভীষণ ভয় পেয়েছিল যখন আকাশ তার এই প্রাণটাকে নিয়ে খেলা করছিল। সেই মুহূর্তের কথা ভাবলেই সন্ধ্যার মনে হয়, তার দম আটকে আসছে।
পিছন থেকে আকাশ চুপচাপ মা ছেলের কথোপকথন শুনছিল। চোখেমুখে তেমন কোনে অনুভূতির লেশ নেই। রাগ, ক্ষোভ, ভালো লাগা কিছুই বোঝা যায় না।
আসমানী নওয়ান সেই তখন থেকে ছেলেকে দেখছে। চোখজোড়া ভেজা। সেই আগের ছেলেটাকে কোথায় যে হারিয়ে ফেলল তারা। আকাশ সন্ধ্যা আর সৌম্য’র সাথে যা যা করেছে, সব শুনেছে সন্ধ্যার বন্ধু সাইফের থেকে। সৃজনটাকেও ছেড়ে দেয়নি। নিজের বাবা হয়ে সন্তানের প্রতি এতোটা কঠোরতা! মানতে পারেন না তিনি। তার ছেলের এ কী হাল হলো? ভদ্রমহিলা নিজেকে সামলায়। আকাশকে শক্ত কথা শোনাতে গিয়েও শোনালো না। দু’বছরের বেশি হয়ে গিয়েছে, আকাশকে দেখেনা। এতোগুলো দিন পর ছেলেকে দেখে শক্ত কথা শোনাতে গিয়েও পারলো না। নিজেকে সামলে মৃদুস্বরে ডাকে,
“আকাশ?”
মায়ের কণ্ঠ পেয়ে আকাশ মাথা তুলে তাকায়। সন্ধ্যা আর সৃজনকে পাশ কাটিয়ে এগিয়ে এসে মাকে জড়িয়ে ধরে মৃদুস্বরে বলে, “কেমন আছো মা?”
আসমানী নওয়ান চোখ বুজে রইলেন। বিবেক বলছে, আকাশকে খুব বকা উচিৎ। দূরে সরিয়ে দেয়া উচিৎ। কিন্তু আবেগ তা হতে দিচ্ছে না। ভদ্রমহিলার বড্ড যন্ত্রণা হয় নিজের ছেলেমেয়েদের মাঝে এমন দ্বন্দ্ব দেখতে৷
আসমানী নওয়ান নিজেকে সামলে আকাশকে ঠেলে দূরে সরিয়ে দেয়। নরম স্বরেই জিজ্ঞেস করে,
“তুমি কি বাংলাদেশে এসেছ সন্ধ্যাদের সাথে আবারো ঝামেলা করতে?”
আকাশ থমথমে মুখে তাকায়। ঘাড় ফিরিয়ে একবার তাকায় সন্ধ্যা আর সৃজনের দিকে। সন্ধ্যা আকাশের দিকে চেয়ে ছিল, বিধায় তাদের চোখাচোখি হয়। সন্ধ্যা দৃষ্টি সরিয়ে নেয়। সৃজন ভীত চোখে চেয়ে আছে আকাশের দিকে। আকাশ সৃজনের দিকে ভ্রু কুঁচকে তাকালো। মাকে উদ্দেশ্য করে গলা ঝেড়ে বলে,
“মেবি। তুমি এসবে জড়িয়ো না মা। নিজের মতো থাকো।”
কথাটা বলে আকাশ আর এখানে দাঁড়ালো না। বড় বড় পা ফেলে ওয়াশরুমে চলে যায়।
এদিকে আকাশের কথাটা শুনে সন্ধ্যা রেগে তাকায় আকাশের দিকে। মেবি মানে কি? আবারো তাদের জীবনটা ঝামেলায় ভরিয়ে দিতে এসেছে? সন্ধ্যার যেমন খারাপ লাগলো, তেমনি রাগ। আবার আকাশের বলা তখনকার কথাগুলো ভাবলে, মাথা এলোমেলো লাগে। কিছু বুঝতে পারেনা। এসব ভাবনা রেখে সে সৃজনকে কোলে নিয়ে ঘর থেকে বেরিয়ে যায়। ভেজা চোখজোড়া আড়ালেই রাখল।
আসমানী নওয়ান মলিন মুখে ছেলেমেয়েদের শুধু দেখল। কিছু বলার মতো খুঁজে পায় না সে। ক্লান্ত লাগে তার। ভীষণ ক্লান্ত।
সন্ধ্যা তার ঘরে এসে জাবিবের নাম্বারে কল করেছিল। ভাইয়ের জন্য ভীষণ চিন্তা হচ্ছে। যদিও আকাশ তার সামনে কাকে যেন বলেছিল, তার ভাইকে ছেড়ে দিয়ে একেবারে বাড়ি পৌঁছে দিতে। জাবিরকে কল করলে জাবির শুধু বলেছে, সে যেন সৃজনকে নিয়ে বাড়িতেই থাকে। সে সৌম্য ভাইয়ার ওখানে আছে। সৌম্য ভাইয়াকে নিয়েই সে বাড়ি ফিরবে। সন্ধ্যা জাবিরের কথায় নিশ্চিন্ত হয়, সাথে তখনকার আকাশের বলা সৌম্য ছেড়ে কথাতেও একটু ভরসা পায়।
প্রায় এক ঘণ্টা পর আকাশ শাওয়ার নিয়ে নিচতলায় নেমে আসে। উদাম শরীর। পরনে একটি ট্রাউজার। নিচে নেমেছে মূলত মায়ের সাথে কথা বলতে৷ আসমানী নওয়ানের ঘরের দিকে এগিয়ে গেলে চোখে পড়ে তার মা নামাজ পড়ছে। আকাশ দেয়ালঘড়িতে চোখ বুলায়। ঘড়ির কাটা দুপুর দু’টোর ঘরে। মাকে নামাজ পড়তে দেখে আকাশ আর ঘরে গেল না। পিছিয়ে এসে আবারো দোতলায় যেতে নিলে মায়ের রুমের পাশের রুম থেকে খসখস শব্দ ভেসে আসে। আকাশের ভ্রু কুঁচকে যায়। এগিয়ে গিয়ে দাঁড়ায় রুমটির সামনে। দৃষ্টি আটকায় বিছানার মাঝ বরাবর বসে থাকা সৃজনের পানে।
সৃজনের পরনে শুধু একটি থ্রির কোয়ার্টার প্যান্ট। উদাম শরীর। চুল ভেজা। দেখে বোঝা যাচ্ছে সে মাত্র গোসল করে বেরিয়েছে। বিছানার মাঝে বসে বসে চকলেট খাচ্ছে। সামনে অনেকগুলো চকলেট। সব প্যাকেট ছিঁড়ে রাখা। সৃজন একটা একটা করে প্যাকেট নিয়ে ভেতর থেকে চকলেট বের করে কামড়ে কামড়ে খাচ্ছে। মুখের চারিপাশে চকলেট লেগে আছে। আকাশ বেশ কিছুক্ষণ চুপচাপ দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখল সৃজনকে। মুখাবয়ব গম্ভীর। ঘরে চোখ বুলিয়ে সন্ধ্যাকে না দেখে ধীরে ধীরে ঘরের ভেতর আসে। এগিয়ে এসে দাঁড়ায় সৃজনের পাশে।
সৃজন চকলেট খেতে খেতে মাথা তুলে তাকালে আকাশকে দেখে ভীত চোখে তাকায়। চকলেট মুখে নিয়েছিল, ভয়ের চোটে সেটা মুখ থেকে পড়ে যায়। সৃজন চেঁচাতে চায়, তার আগেই আকাশ দ্রুত তার ডান হাতে সৃজনের মুখ চেপে ধরে। সৃজন উউ করল৷ ছটফট করল৷ আকাশ সৃজনকে কোলে তুলে নেয় মুখ চেপে রাখা অবস্থায়ই। কোনোদিকে না তাকিয়ে সে বড় বড় পায়ে ঘর থেকে বেরিয়ে গেল। আসার সময় ওয়াশরুম থেকে পানির শব্দ পেয়ে বুঝেছে, সন্ধ্যা ওয়াশরুমে।
সৃজন আকাশের কোলে ছটফট করে৷ ছোট্ট ছোট্ট দু’হাতে আকাশের মুখে, হাতে সবখানে খামচে দেয়। ভয়ের চোটে বাচ্চাটি ফুঁপিয়ে ওঠে। শব্দ বের করতে না পেরে আরও ভয় পায়। সেই যে পুলিশ স্টেশনের ওখানে আকাশ তখন তাকে ছুড়ে ফেলেছিল। তখন থেকেই আকাশের প্রতি তার ভীষণ এক ভীতি তৈরী হয়ে গিয়েছে।
আকাশ বড় বড় পায়ে সিঁড়ি বেয়ে উপড়ে উঠে তার রুমে এসে বা হাতে দ্রুত দরজা আটকে দেয়। সৃজনের মুখ চেপে রাখা ডান হাতটি এখনো হাত ছাড়েনি। উম্মুক্ত ফর্সা বুকে, পিঠে, গালে অসংখ্য খামচি খেয়েছে। তবে তার মুখাবয়বে কোনো অভিব্যক্ত নেই।
সে সৃজনকে নিয়ে ডিভানের উপর বসে। ডান পায়ের উরুর উপর সৃজনকে বসিয়ে দেয়। টি-টিবেলের উপর রাখা ল্যাপটপটি বা হাতে ওপেন করে। ক’সেকেন্ডের মাথায় একটি ভিডিও বের করে একদম সৃজনের দিকে ঘুরিয়ে দেয়। আকাশের কোলে ছটফট করতে থাকা সৃজনের ঝাপসা দৃষ্টি পড়ে ল্যাপটপে। ধীরে ধীরে সে শান্ত হয়। বিষয়টি আকাশ লক্ষ্য করে সৃজনের মুখ থেকে হাত সরিয়ে নেয়। সৃজন চেঁচালো না। আগের জমা নোনাপানিগুলো গাল বেয়ে গড়িয়ে পড়ল শুধু। তার মনোযোগ ল্যাপটপে ওপেন করা ভিডিওটিতে।
ভিডিওটিতে কয়েকজন লোক গোল হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। সৃজনের সমান হবে, এমন এক বাচ্চাকে নিয়ে সবাই যেন খেলছে। বাচ্চাটি খিলখিলিয়ে হাসছে। সৃজন ল্যাপটপের দিকে ডান হাতের আঙুল তাক করে বলে,
“ইটা কি? ও বাবু কাঁদে না কেনু?”
আকাশ মৃদুস্বরে বলে,
“কারণ ও গুড বয়।”
সৃজন আকাশের দিকে চেয়ে কৌতুহলী গলায় বলে, “গুল বয় লা কাদে না?”
আকাশ ছোট করে বলে,
“নো।”
সৃজন মুখ ফুলিয়ে বলে,
“তায়লে আমি গুল বয় নই?”
আকাশ আবারো বলে, “নো।”
সৃজন ডান হাতের আঙুল আকাশের দিকে তাক করে বলে,
“তুমি গুল বয় নয়। মা বুলছে, আমি গুল বয়। তুমি ব্যাল বয়। আমাকে ছুলে পেলে দিচিলা তুমি৷ ব্যাল বয় কুতাকাল!”
আকাশ থমথমে মুখে তাকায়। কিছু বলল না সে। টি-টেবিলের উপর রাখা টিস্যুবক্স থেকে একটি টিস্যু নিয়ে সৃজনের ভেজা মুখ মুছে, চকলেট মাখা মুখ মুছে দেয় আলতো হাতে। সৃজন আদোআদো স্বরে বলে,
“তুমি ইটা কলচ কেনু? ইটা তো মা’ল কাচ।”
আকাশ সৃজনের কথার উত্তর করে না। সে তার কাজ শেষ করে সৃজনের দিকে তাকায়। একটু আগে ছেলেটির চোখেমুখে যে ভ’য় ছিল, সেটা এখন আর নেই। আকাশ মৃদুস্বরে জিজ্ঞেস করে,
“তুমি আমাকে দেখে ভয় পাচ্ছিলে কেন?”
কথাটা শুনতেই সৃজনের মুখে আবারও ভীতি জড়ো হয়। কাঁদোকাঁদো মুখ করে বলে, “আমি মা কাচে যাবো। তুমি পুচা চেলে। শুদু আমাকে ছুলে পেলে দাও।”
আকাশ গম্ভীর গলায় বলে,
“আমি তোমার সাথে একটি গেইম খেলছিলাম। ভেবেছিলাম, তুমি গুড বয়, তাই তুমি কাঁদবে না। কিন্তু তুমি তো কেঁদে দিয়েছো।
এরপর ল্যাপটপের দিকে সৃজনের মাথা ঘুরিয়ে দিয়ে বলে,
ওই যে দেখো, ওই বাচ্চাটি গুড বয়, এজন্য ও গেম খেলছে আর হাসছে।
সৃজন ল্যাপটপে দেখল তার মতোই একটি বাচ্চাকে ছুড়ে দিলে আরেকজন ধরে নেয়। এভাবেই চলছে। কিন্তু বাচ্চাটি হাসছে। ভিডিওতে বাচ্চাটিকে হাসতে দেখে সৃজনও হাসে। এখন সে মজা পাচ্ছে। আকাশ সৃজনকে মৃদুস্বরে বলে,
“তুমি কি এই গেইম খেলতে চাও?”
সৃজন ল্যাপটপে দৃষ্টি রেখেই মাথা উপরনিচ করে বলে,
“হু হু কেলতে চাই। কি মুজা গেম! ও শুদু হাচে।”
আকাশ ঠোঁট বাঁকায়। কাঙ্ক্ষিত কিছু পেয়ে ল্যাপটপটি বন্ধ করে দেয়।
এদিকে সৃজন আর দেখতে না পেয়ে বিরক্ত হয়। আকাশের দিকে রে’গে তাকায়।
তখনই দরজা জোরে জোরে করাঘাতের শব্দ হয়। আর নিয়াজের কণ্ঠ ভেসে আসে। আকাশ ভ্রু কুঁচকে তাকায়। সৃজনকে তার কোল থেকে ডিভানের উপর বসিয়ে রেখে এগিয়ে এসে দরজা খুলে দেয়।
নিয়াজ আকাশকে দেখা মাত্র দু’হাতে গায়ের জোরে একটা ধাক্কা দেয় আকাশকে। আকাশ বুঝতে পারেনি। হঠাৎ ধাক্কা খেয়ে সে দু’পা পিছিয়ে যায়। নিয়াজের করা কাজটি আকাশের বিন্দুমাত্র পছন্দ হলো না। রাগে ফেটে পড়ল। তেড়ে গিয়ে নিয়াজের কলার ধরে শক্ত গলায় বলে,
“তোমার সাহস কি করে হয়, আমাকে ধাক্কা দেয়ার? হু আর ইউ?”
নিয়াজের চোখেমুখে রাগ। তবে নিজেকে শান্ত করার চেষ্টা করে। মাথা ঠান্ডা করে কথা বলতে হবে। ফোঁস করে শ্বাস ফেলে আকাশের দিকে চেয়ে শান্ত গলায় বলে,
“আকাশ তুমি সৌম্য’র নামে একেবারে মামলা দিয়ে দিলে? পা’গ’ল তুমি?”
নিয়াজের কথা শুনে আকাশের ভ্রু কুঁচকে যায়। নিয়াজের কলারে রাখা হাত ঢিলে হয়। থমথমে কণ্ঠে বলে,
“মিথ্যা মামলা।”
আকাশের কথা শুনে নিয়াজ হাসল একটু। বলে, “সৌম্য তো তোমার শত্রু। তাহলে তোমার মুখে মিথ্যা মামলার কথা আসছে কেন?”
আকাশ দাঁতে দাঁত চেপে বলে,
“সেই কৈফিয়ত আমি তোমাকে কেন দিব?”
নিয়াজ ভ্রু কুঁচকে বলে,
“তাহলে আমাকে একাই কেন জানাচ্ছ, মামলা মিথ্যে ছিল?”
আকাশ ঠোঁট বাঁকিয়ে বলে,
“ধীরে ধীরে সব জানতে পারবে।”
নিয়াজের কপালে ভাঁজ পড়ে। আকাশ এভাবে কেন কথা বলছে? সে নিজেকে সামলে বলে,
“তুমি আমাকে মিথ্যা কেন বলছ আকাশ? সৌম্য’র নামে মামলাটি সত্য।”
আকাশ রেগে বলে,
“আমি মিথ্যা বলিনা।”
নিয়াজ পকেট থেকে ফোন বের করে আকাশের সামনে তার ফোন ধরে শব্দ করে বলে,
“তাহলে এটা কি? শুধু মামলা নয়, ওকে আদালতে উঠানোর কার্যক্রম চলছে। দুঃখের বিষয় কাজগুলো তোমার দ্বারা চালিত হচ্ছে। যদিও তোমার জন্য মেবি সুখেরই। কিন্তু আমাদের জন্য ভীষণ দুঃখের!”
আকাশ বিস্ময় চোখে চেয়ে আছে নিয়াজের ফেনের দিকে৷ কিছু ডকুমেন্ট, যেখানে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে সৌম্যর মামলা সত্য। আকাশের কপালে দীর্ঘ ভাঁজ পড়ে। হঠাৎ-ই নিয়াজ আকাশকে একটা ধাক্কা দিয়ে চেঁচিয়ে বলে,
“ইচ্ছে করছে তোমাকেই জে’লে বসিয়ে রাখতে।”
আকাশ রে’গে আবারো তেড়ে এসে নিয়াজের কলার চেপে ধরে দাঁতে দাঁত চেপে বলে,
“আমি যখন বলেছি, মামলা মিথ্যা ছিল, দ্যাট মিন’স এটা মিথ্যা-ই। যে এটাকে সত্য করেছে, সে মেবি জানেনা, সত্যকে উল্টানোর ক্ষমতা এভির আছে। বাই এ্যানি চান্স সে যদি তুমি হও, মিস্টার নিয়াজ!”
লাস্ট কথাটা বলতে বলতে ঠোঁটের কোণে বাঁকা হাসি ফুটে ওঠে আকাশের। নিয়াজ বিস্ময় দৃষ্টিতে তাকায়। বলে, “তুমি কি কোনোভাবে বলতে চাইছ, আমি সৌম্য’র নামে মামলা করেছি?”
কথাটা শুনে আকাশের হাসি দীর্ঘ হয়।
সে নিয়াজের ধরে রাখা কলার ছাড়লো। ডান হাতে নিয়াজের কাঁধের বা পাশ ঝাড়ার ভঙ্গি করে আর বলে,
“রিহান তোমার কাজিন, অ্যাম আই রাইট মিস্টার নিয়াজ?”
নিয়াজ ভূত দেখার মতো চমকে তাকায় আকাশের দিকে। অবাক হয়ে বলে,
আমি তার সন্ধ্যামালতী পর্ব ১৪ (২)
“তুমি কি করে……
আকাশ ডান হাত হাতে নিয়াজের কলার শক্তহাতে চেপে ধরে নিয়াজকে একদম তার মুখের সামনে এনে শ’ক্ত কণ্ঠে আওড়ায়,
“আমি আরও অনেক কিছু জানি। এক্ষুনি এতো অবাক হওয়ার প্রয়োজন নেই। তুমি বরং তোমার কাজিনকে আমার হাত থেকে সেইভ করার কাজে লেগে যাও। হাজার হোক, মিস্টার নিয়াজের কাজিন মিস্টার রিহানের নজর সৃজনের মায়ের দিকে।”
