আমৃত্যু ভালোবাসি তোকে পর্ব ৪৯(২)

আমৃত্যু ভালোবাসি তোকে পর্ব ৪৯(২)
লেখনীতে সালমা চৌধুরী

মেঘের অধিবিদ্যের ন্যায় কথা শুনে তানভির আশ্চর্য নয়নে তাকিয়ে শুধালো,
“বনু, তুই এভাবে কথা বলছিস কেন? কে তোকে প্রাধান্য দেয় নি বল শুধু! ”
মোজাম্মেল খান ভারী কন্ঠে বললেন,
” কেনো তাকে কি করবা?”
তানভির ধীর কন্ঠে বলল,
” কিছু করব না। ”
মেঘ তানভিরের দিকে তাকিয়ে তটস্থ হয়ে বলল,
“এমনি, মীমকে বুঝাচ্ছি। ”

আবিরের আঁখি জোড়া মেঘের পানে গভীরভাবে অনুবন্ধী হয়ে আছে। মেঘ তানভিরের থেকে নজর সরিয়ে মাথা নিচু করে ফেলল। মিনহাজের পরিকল্পনায় মেঘ এমন টা করছে যাতে আবিরের মনের ভাব বুঝতে পারে৷ খাবার টেবিলে যে যার মতো খাবার খাচ্ছে অথচ আবিরের দৃষ্টি মেঘেতে স্থির। মেঘ যে ইন্ডাইরেক্টলি আবিরকে খোঁচা দিচ্ছে এটা আবিরের বুঝতে বাকি নেই। মেঘ খাবার খেয়ে চুপচাপ উঠে গেছে। আবির কিছুক্ষণ নিবিড় চিন্তায় মগ্ন থেকে খাওয়া শেষ করে অফিসে চলে গেছে।

আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন 

আবির আজ অফিসের কাজে কোনোভাবেই মনোযোগ দিতে পারছে না। আবিরের বুকের ভেতর অধৃষ্য হাওয়া বইছে, হৃদয়ের তোলপাড় চলছে৷ এসিতে বসেও শরীর ঘামছে, দুশ্চিন্তায় আবিরের শ্যামবর্ণের চেহারা কালচে বর্ণ ধারণ করেছে। ফাইল এলোমেলো অবস্থায় ফেলে টেবিলের উপর মাথা রেখে শুয়ে আছে। রাকিব একটা ফাইল নিয়ে রুমে ঢুকে আবিরকে দেখেই তাড়াতাড়ি এগিয়ে এসে বলল,

“কি হয়ছে আবির? অসুস্থ লাগছে?”
আবির টেবিল থেকে মাথা তুলতেই আবিরের অসহায় মুখ দেখে রাকিব ভ্রু কুঁচকে বলল,
” কোনো কিছু নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছিস?”
“মেঘ ইদানীং কেমন জানি ব্যবহার করছে। ”
“কেমন করতেছে?”
” ডিরেক্ট কিছু বলে না তবে কেমন জানি ঠ্যাস দিয়ে কথা বলে।”
রাকিব মৃদু হেসে বলল,

“তোকে পরীক্ষা করছে হয়তো।”
“তা বুঝার বয়স আমার হয়ছে।”
“তাহলে দুশ্চিন্তা কি নিয়ে করছিস?”
“খোঁচাখোঁচি টা যদি সিরিয়াল রূপ নেয় তার জন্য ভয় হচ্ছে। আমি সেদিন ওর আইডি থেকে মিনহাজ ছেলেটা কে ব্লক করছি। ও তেমন কোনো রিয়াকশন দেখায় নি, আনব্লক ও করে নি। ঠিকই ভার্সিটিতে ঘন্টার পর ঘন্টা ঐ ছেলেগুলোর সাথে আড্ডা দেয়।”
রাকিব গম্ভীর কণ্ঠে বলল,

“তুই যে এই বিষয় কোনো না কোনোদিন দুশ্চিন্তায় পরবি সেটা আমার অজানা নয়। তোকে কম করে হলেও হাজার বার বলছি। তুই একবার ওদের সাথে পার্সোনাললি দেখা করলে এত কাহিনীর কিছুই হতো না। ”
“আমি রাগ কন্ট্রোল করতে পারি না জানিস তো। এখন পর্যন্ত যে কয়জনকে নিজের হাতে মেরেছি সব কয়টা ত্যাড়ামির জন্য মা*র খেয়েছে। ভালোভাবে কথা বলতে গেলে তারা মানতে চাই না, গায়ের জোর, এলাকার দাপট দেখায়।

সহ্য করতে না পেরে আমার তাদের মা*রতে হয়। মিনহাজদের সাথে দেখা করতে গেলে তারা যে সেইম কাজটা করবে না তার কি গ্যারেন্টি আছে? তীব্র আক্রোশ থেকে দিব মাই-র। কোনো না কোনোভাবে সে কথা মেঘের কানে যাবে। আর মেঘ ভাববে আমি ইচ্ছেকৃত ওর বন্ধুদের মেরেছি আর তা নিয়ে তুলকালাম কান্ড ঘটাবে। এমনিতেই ওর সাথে রাগারাগির শেষ নেই এই ঘটনার জের ধরে দেখা যাবে কথা বলায় বন্ধ করে দিয়েছে৷ ”
“তানভির বা আমি তো বলতেই পারতাম৷ ”

“হ্যাঁ পারতি। কিন্তু মেঘ ঘুরেফিরে আমাকেই ভুল বুঝতো। কারণ প্রাইমারি স্কুলে থাকাকালীন জয় নামের ছেলেটার জন্য ও কে মে-রেছিলাম। এত বছর পর ভার্সিটিতে উঠে দুটা ছেলে বন্ধু হয়েছে এখন মেঘেকে না মেরে ওদেরকে মারা হয়েছে। মেঘ কি এতটায় বোকা যে কিছুই বুঝবে না! তোরা মারলে ছেলেগুলো মেঘকে ডিটেইলসে বলবে, আর কাউকে দিয়ে মারালে সেটাও বলবে। সবভাবেই দোষ গিয়ে আবির আর তানভিরের উপর ই পরবে। ”

“তোর এই সুদূর প্রসারি চিন্তা ভাবনার জন্যই নিজের মনোবল হারাচ্ছিস, দিনকে দিন বদমেজাজি হয়ে যাচ্ছিস, মেঘের সাথে কারণে অকারণে রাগ দেখাচ্ছিস আর এই সুযোগে ছেলেগুলোরও অতি বার বাড়তেছে।”
আবির কিছুক্ষণ নিশ্চুপ থেকে আড়চোখে রাকিবের দিকে তাকিয়ে শুধালো,
“কেনো আসছিলি?”

রাকিব সঙ্গে সঙ্গে ফাইল এগিয়ে দিল। বাড়তি কথা বাদ দিয়ে কাজে মনোযোগ দিল। অফিস শেষে আবির কিছু স্ট্রিট ফুড আর ২ টা আইসক্রিমের বক্স নিয়ে বাসায় আসছে৷ মেঘ সোফায় লম্বা হয়ে শুয়ে টিভি দেখছিল, আবিরকে ঢুকতে দেখে তাড়াতাড়ি উঠে বসতে বসতে কাকে কল দিল। অপর পাশে কল রিসিভ করা মাত্রই মেঘ হাসিমুখে রাজ্যের গল্প শুরু করেছে। আবির খাবার গুলো ডাইনিং এ রাখতেই মীম আর আদি ছুটে গেল। আবির তির্যকভাবে মেঘের দিকে তাকালো। আবির বাসায় আসছে বা খাবার নিয়ে আসছে সেদিকে মেঘের বিন্দুমাত্র খেয়াল নেই। সে তার কথা বলায় এতটায় মগ্ন যে আশেপাশে তাকানোর সময় ই নেই। আবির কপাল গুটিয়ে সিঁড়ি কাছে চলে গেছে। বাসায় যে যায় আনুক না কেন প্রথম ডাক টা মেঘকেই দেয় আর মেঘ খাবার পরিবেশন করে মীম আর আদিকে নিয়ে খায়। আজ মেঘ কথা বলছে দেখে মীম মেঘের জন্য খাবার নিয়ে আসছে। মেঘের দিকে এগিয়ে দিয়ে কিছুটা উঁচু স্বরে বলল,

“আপু নাও।”
মেঘ অন্যদিকে তাকিয়ে ধমকের স্বরে বলল,
“দেখছিস না কথা বলছি। এখন আমার এসব খাওয়ার সময় নেই”
আবির সিঁড়ি থেকে সে দৃশ্য দেখে রাগে ধপাধপ পা ফেলে রুমে চলে গেছে। মেঘ ধমকটা মীম কে দিলেও সেটা যেন আবিরের হৃদয়ে গিয়ে লাগছে৷ মেঘ আজ পর্যন্ত এমন কাজ কখনও করে নি৷ বন্যারা কারো সাথে কথা বললেও আবির, তানভির আসলে কথা শেষ করে কল কেটে দিত অথচ আজ তার ভিন্ন রূপ। আবির চলে যেতেই মেঘ গম্ভীর কণ্ঠে বলল,

“ফোন রাখ, এখন খাবো আমি।”
মীম ধমক খেয়ে মন খারাপ করে মেঘের জন্য আনা খাবার আবার নিয়ে গেছে। মেঘ তপ্ত স্বরে বলল,
“এই মীম, আমার ভাগ আমায় দিয়ে যা। ”
মীম মন খারাপ করে বলল,
“তুমি না বললে, তোমার এসব খাওয়ার সময় না”
“সময় ছিল না। এখন আমার অফুরন্ত সময়, সবগুলো আমার কাছে নিয়ে আয়।”
মীম খাবার গুলো মেঘের কাছে গিয়ে চলে যেতে নিলে মেঘ মীমের হাতে টান দিয়ে মেঘের পাশে বসিয়ে হেসে বলল,

“রাগ করছিস? সরি বাবু ”
মীম কিছু বলছে না দেখে মেঘ দুহাতে মীমকে কাতুকুতু দেয়া শুরু করল। সহসা মীমের ছোট্ট দেহ কম্পিত হলো। নড়তে নড়তে বলল,
“আপু ছাড়ো।”
মেঘ হাসতে হাসতে বলল,
“তুই যতক্ষণ না হাসবি ততক্ষণ ছাড়বো না। ”

কাতুকুতু সহ্য করতে না পেরে মীম হাসতে শুরু করলো। মেঘ সঙ্গে সঙ্গে কাতুকুতু দেয়া থামিয়ে দিয়েছে। দু-বোন গল্প করতে করতে আবিরের আনা খাবার গুলো খেয়েছে। আদি নিজের ভাগের খাবার নিয়ে আগেই রুমে চলে গিয়েছিলো। কিছুক্ষণ পর গল্প করতে করতে মেঘ মীমের উরুতে মাথা রেখে শুয়ে পরেছে। মীম মেঘের চুলে হাত বুলিয়ে মৃদুস্বরে বলল,
“কি হলো আপু?”

মেঘ লাজুক হাসলো আর বলল,
“জানিস, আমি একজনের প্রেমে পরেছি!”
মীম উত্তেজিত কন্ঠে চেঁচিয়ে উঠল,
“সত্যি? কার?”
মেঘ দুহাতে মুখ লুকিয়ে বলল,
“বলা যাবে না।”
“প্লিজ আপু বলো। কে সে?”
“আছে কেউ একজন। ”

“পছন্দ করো?”
“না। ভালোবাসি”
“আপু বলো না প্লিজ।”
“খুব শীঘ্রই বলবো। দোয়া কর যেন খুব তাড়াতাড়ি সফল হতে পারি।”
“ফি আমানিল্লাহ। ”

আবির রুমে ঢুকে ডিরেক্ট ওয়াশরুমে চলে গেছে। প্রায় ১ ঘন্টা যাবৎ ওয়াশরুমের ঝরনার নিচে দাঁড়িয়ে আছে। ক্রোধে দু চোখ রক্তাভ হয়ে আছে, মনে হচ্ছে শরীরের রক্ত টগবগ করে ফুটছে, কপালের দুপাশের রগ দুটা অবিরাম কাঁপছে, মস্তিষ্কে রক্ত সঞ্চালন বেড়ে গেছে। ঘন্টাখানেক পর ওয়াশরুম থেকে বেড়িয়ে ভেজা শরীরেই একটা টাওজার আর টিশার্ট পরে নিচে আসছে৷ মেঘ তখনও মীমের কোলে মাথা রেখে খুশগল্পে মেতে আছে। আবিরকে নামতে দেখে মেঘ তৎক্ষনাৎ উঠে বসলো।

আবির নিচে এসে ওদের পাশের সোফায় বসেছে, আবিরকে দেখে মীম নড়েচড়ে বসল। আবির দুহাত দুদিকে ছড়িয়ে সোফায় হেলান দিয়ে বসলো। হাতের লোমের গুঁড়ায় এখনও বিন্দু বিন্দু পানি জমে আছে। ভেজা চুল গুলো কপাল ঢেকে ভ্রু থেকেও নেমে পরেছে, চুলের আগা থেকে অবিরত মুক্তার মতো পানির বিন্দু আবিরের টিশার্টে পরছে। মেঘ একপলকের জন্য তাকাতেই সর্বাঙ্গে কারেন্টের ন্যায় শক লাগলো, সঙ্গে সঙ্গে বুকের ভেতর ধুকপুক শুরু হয়ে গেছে। মেঘ চোখ সরিয়ে নিয়েছে। আবির মীমকে উদ্দেশ্য করে বলল,
“রুম থেকে আমার ফোনটা নিয়ে আয় ”

কথাটা বলা মাত্র মীম উঠে গেছে৷ মেঘ সোফায় কর্ণারে গুটিসুটি মেরে বসে আছে। মীম যেতেই মেঘ তাড়াতাড়ি করে ফোন হাতে নিয়ে কি যেন করতে লাগলো। আবির নিরেট দৃষ্টিতে মেঘের পানে চেয়ে আছে। মেঘ ফোন চাপতে পারছে না, ভয়ে হাত কাঁপছে। আবির গম্ভীর কণ্ঠে বলল,
” তোর কি মনে হচ্ছে না, তুই প্রাপ্ত স্বাধীনতার অপব্যবহার করছিস?”
মেঘ চিবুক নামিয়ে চুপচাপ বসে আছে। মেঘের নিস্তব্ধতা আবিরের রাগ দ্বিগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। আবির রেগে বলল,
“কথা বলছিস না কেন?”

মেঘ কিছু না বলে উঠে যেতে নিলে আবির রাগান্বিত কন্ঠে হুংকার দিল,
“আমি তোকে কিছু জিজ্ঞেস করছি মেঘ! কথা কানে যায় না তোর?”
মেঘ কাঁপা কাঁপা কন্ঠে বলল,
“আমার একটা ইম্পর্ট্যান্ট কল আসছে। ”

বলেই মেঘ কল রিসিভ করে কানে ধরতে ধরতে সিঁড়ি দিয়ে উঠে গেছে৷ মেঘের কথাটা আবিরের মনে আগুনে ঘি ঢালার মতো কাজ করেছে। আবির ভ্রু যুগল নাকের গুঁড়ায় টেনে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে মেঘের গমনপথে তাকিয়ে রইলো। অকস্মাৎ পাশে রাখা একটা ফুলদানি দেয়ালে একপ্রকার ছুড়ে মারল। শব্দে মেঘের পা সেকেন্ডের জন্য থমকে গেছে, তবুও তা বুঝতে না দিয়ে রুমের দিকে চলে গেছে। মীম ফোন নিয়ে নিচে আসছে, ফোন আবিরকে দিতে গিয়ে আবিরের রক্তলাল আঁখি যুগল দেখে ভয়ে ঢোক গিলল।

কোনোরকমে ফোন দিয়ে দৌড়ে আম্মুর রুমে চলে গেছে। আবির সেই যে বেড়িয়েছে সারারাতেও বাসায় ফেরে নি । মেঘ অপেক্ষা করতে করতে বেলকনিতেই ঘুমিয়ে পরেছিল। ভোরবেলা হঠাৎ ঘুম ভাঙতে মেঘ থতমত খেয়ে উঠে। তাড়াতাড়ি রুম থেকে বেরিয়ে আবিরের রুমে গেল। আবির রুমে নেই দেখেই মেঘের বুক কেঁপে উঠেছে। ভোর বেলায় বাসার বাহিরের গিয়ে দেখে আসছে আবিরের বাইক আছে কি না! এত সকালে কি করবে কিছুই বুঝতে পারছে না।আবিরকে কল দেয়ার মতো সাহস ও পাচ্ছে না। সকাল ৭ টা থেকেই মেঘ খাবার টেবিলে বসে আছে, আবির ফিরলে যেন দেখতে পারে৷ কিন্তু আবিরের ফেরার নামগন্ধ নেই৷
সবাই খেতে বসছে, আবির নেই দেখে আলী আহমদ খান প্রশ্ন করলেন,

“আবির কোথায়? উঠে নি?”
তানভির গলা খাঁকারি দিয়ে ধীর কন্ঠে বলল,
“ভাইয়া রাকিব ভাইয়াদের বাসায়। ”
“কেন?”
“অফিসের কাজে গেছিলো, রাতে আর ফেরে নি।”
আলী আহমদ খান ভারী কন্ঠে বললেন,
“কাজ কাজের জায়গায় থাকবে তার সাথে বাসায় না ফেরার কি সম্পর্ক?”

তানভির আর কিছু বলল না। বড় আব্বুর সাথে যুক্তিতে সে কুলাতে পারবে না তার থেকে কথা না বলায় শ্রেয়। মেঘ নিস্তব্ধ আঁখিতে তানভিরের দিকে তাকিয়ে আছে৷ মেঘ স্পষ্ট বুঝতে পারছে আবির ভাই তারউপর রাগ করেই বাসা থেকে চলে গেছেন। বাসায় মানুষ যাতে চিন্তা না করে তারজন্য তানভির ভাইয়া কাজের কথা বলেছেন। মেঘ অল্প খেয়ে রেডি হয়ে ভার্সিটিতে চলে গেছে। রাতে ঠিকমতো ঘুম না হওয়ায় মেঘের চোখ ঘুমে টলছে। অর্ধ ঘুমে থেকেই ক্লাসগুলো শেষ করেছে। ক্লাস শেষ হতেই বন্যা শুধালো,

“কিরে তুই কি রাতে ঘুমাস নি? চোখ ফুলে আছে কেন?”
“ঘুমাইছি, অল্প।”
লিজা এসে উত্তেজিত কন্ঠে বলল,
“কিরে বান্ধবী কি অবস্থা? ”
“কি অবস্থা হবে?”
এরমধ্যে মিনহাজ, তামিম, সাদিয়া, মিষ্টিও আসছে। মেঘ নিরেট কন্ঠে জানালো,

“আমি তোদের কথা আর শুনতে পারবো না।”
সাদিয়া ভ্রু কুঁচকে বলল,
“কেন?”
মেঘ ধমকের স্বরে বলল,
“আজকে তোদের কথামতো কাজ করতে গিয়ে আমার আবির ভাই বাসা থেকে চলে গেছেন। সারা রাত বাসায় ফিরে নি, আমি বেলকনিতে বসে থাকতে থাকতে ওখানেই ঘুমিয়ে পরেছি। ”
বন্যা ধীর কন্ঠে বলল,

” মেঘ তোকে আগেই সাবধান করেছি। তুই আমার কথা কানেই তুলছিস না। আবির ভাইকে তুই চিনিস না? ওরা নাচতাছে আর তুই ও তাতে তাল দিচ্ছিস! এখনও সময় আছে এসব বাদ দে। ওনি মনের ভাব প্রকাশ করতে না চাইলে শুধু শুধু ওনাকে জোর করিস না, প্লিজ। পরে দেখবি ভালোর বদলে উল্টো খারাপ হবে। ”
মেঘ কিছু বলার আগে মিনহাজ গম্ভীর কণ্ঠে বলল,
“এই বন্যা, তুই থামবি। মেঘ তুই একদম ঠিকঠাক রাস্তায় যাচ্ছিস। বন্যার কথায় কান দিস না। ওনি যদি তোকে পছন্দ করে তাহলে ওনি প্রকাশ করবে আর পছন্দ না করলে ডিরেক্ট চাপ্টার ক্লোজ। এভাবে ঝুলে থাকার কোনো মানে হয় না বুঝলি! ”

সাদিয়াও সঙ্গে তাল দিল,
“হ্যাঁ সত্যিই তো। মেঘ ওনাকে এত পছন্দ করে ওনি কি এসব বুঝে না? নাকি বুঝেও না বুঝার ভাব নেয়। সবটা ক্লিয়ার করা প্রয়োজন। ওনার মনে কি চলে তা জানলে মেঘ সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারবে।”
বন্যা ভরা গলায় বলল,
” তোরা বুঝার চেষ্টা কর, মেঘ তোদের মতো এত বুঝদার আর স্ট্রং না। উল্টাপাল্টা আচরণ করলে আবির ভাই মেঘকে মে*রেই ফেলবে।”
মিনহাজ রাগী স্বরে বলল,
“কোন অধিকারে মারবে? কার এত সাহস যে মেঘের গায়ে হাত তুলবে ।মেঘ তোকে কিছু বললে তুই শুধু আমায় বলবি, বুঝলি।”
বন্যা উপহাসের স্বরে বলল,

” তোকে দাপট দেখাতে আগেই নিষেধ করেছিলাম। তুই আবির ভাইয়া সম্পর্কে জানিস না তাই দয়া করে চুপ থাক। মেঘ তুই তো ওনাকে চিনিস৷ প্লিজ আমার কথা মান, ওদের কথামতো এমন কাজ করিস না প্লিজ। ”
মেঘ নিরুপায় হয়ে সবার দিকে তাকালো। একদিকে বন্যা বারণ করছে। অন্যদিকে বাকি সবাই বলছে মেঘ যা করছে একদম ঠিক করছে। অন্যদিকে আবির ভাই রাগে বাসা থেকে চলে গেছেন৷ মেঘ এখন কি করবে!
মিনহাজ ফটাফট বলা শুরু করল,

“দেখ মেঘ, ওনি তোর আচরণে রেগে বাসা থেকে চলে গেছে মানে ওনার মনে কিছু একটা আছে। এখন সেটা আমাদের প্রকাশ করাতে হবে। মাঝপথে ছেড়ে দিলে তুই জীবনেও তোর কাঙ্ক্ষিত কথা জানতে পারবি না। এখন তুই ভাব, বন্যার কথা মেনে এভাবেই চলবি নাকি আমাদের কথা মেনে তোর আবির ভাইয়ের মনের কথা শুনবি৷ ”
মেঘ বোকার মতো তাকিয়ে আছে। লিজা পুনরায় বলল,

“তোর প্রেম রোগের বছর হয়ে যাচ্ছে। আর কতদিন ওনার পিছুপিছু ঘুরবি বলতো? ওনি ভালো না বাসলে ওনার চিন্তা মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলে অন্য কারো সাথে সম্পর্কে যাবি। প্রয়োজনে ছেলে আমরা ঠিক করে দিব তবুও ওনার মোহে এভাবে পরে থাকিস না।”

প্রায় ১ ঘন্টা সবাই মিলে মেঘকে জ্ঞান দিয়েছে৷ বন্যা শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ডিরেক্ট না। মেঘ যাতে এমন কাজ কোনোভাবেই না করে। অথচ মেঘ বাকিদের কথা শুনে রাজি হয়ে গেছে।
বন্যা যেতে যেতে আরও কিছুক্ষণ মেঘকে বুঝালো কিন্তু মেঘের মাথায় কিছুই ঢুকলো না। মেঘের মনে- মস্তিষ্কে শুধু একটায় চিন্তা, আবির ভাইয়ের মুখে “ভালোবাসি” শব্দটা শুনা সেটা যেকোনো মূল্যেই হোক।
মেঘরা চলে যেতেই তামিম মিনহাজকে প্রশ্ন করল,
“তোর মনে কি চলছে বল তো!”
মিনহাজ উল্টো প্রশ্ন করল,

“কেন?”
“তুই মেঘকে উস্কাচ্ছিস যাতে আবির ভাইয়ার মনের ভাব জানতে পারে। কাহিনী কি?”
মিনহাজ গলা খাঁকারি দিয়ে বলল,
“আমি মেঘকে পছন্দ করি, ওর প্রতি বেধক অনুভূতিও আছে কিন্তু ওর মনে আমার জন্য বিন্দুমাত্র কিছু নেই। ওর মস্তিষ্কে আবির ভাইয়া ছাড়া কিছুই নেই। এ অবস্থায় আমি যত চেষ্টায় করি ওর মনে আমার জায়গা করতে পারবো না। দেখলি তো আবির ভাইয়া আমায় ব্লক দিয়েছে এই খুশিতে সেদিন সবাইকে চকলেট দিল। এমতাবস্থায় আমি কোনোকিছু আশায় করতে পারি না।”

তামিম বিস্ময় সমেত তাকিয়ে বলল,
“তাহলে তুই তোর অনূভুতি কোরবান করে মেঘকে আবির ভাইয়ার সঙ্গে মিলিয়ে দিতে চাচ্ছিস?”
মিনহাজ রাশভারি কন্ঠে পুনরায় বলল,
“হতে পারে তাই আবার উল্টোটাও হতে পারে। ”
“যেমন?”
মিনহাজ লম্বা করে শ্বাস টেনে বলা শুরু করল,

“দেখ, মেঘ প্রায় ৯ মাস যাবৎ আবির ভাইয়াকে পছন্দ করে। আমাদের সাথে ওর বন্ধুত্ব প্রায় ৪-৫ মাসের। তারমানে আমাদের সাথে পরিচয়ের আরও ৪-৫ মাস আগে থেকে মেঘ ওনাকে পছন্দ করে। মেঘ যথেষ্ট কিউট আর লক্ষী একটা মেয়ে৷ যে কেউ এক দেখায় ওর প্রেমে পরবে। সেখানে ওনি তো এক বাড়িতে থাকেন। এই ৯ মাসেও কি ওনি মেঘকে খেয়াল করেন নি? অবশ্যই করেছেন এবং মেঘের অনুভূতিও বুঝেছেন। তবে প্রকাশ করছেন না! কেনো? হতে পারে ওনার জীবনে অন্য কেউ আছে। ওনি তার সাথে কমিটেড আবার মেঘের প্রতিও ওনার সফ্ট কর্নার আছে। এজন্য আমি মেঘের মাধ্যমে আবির ভাইয়াকে উস্কাচ্ছি। এই সুযোগে মেঘের সাথে আমার রেগুলার কথা হচ্ছে এবং সম্পর্ক গাঢ় হচ্ছে। বাই চান্স আবির ভাই রেগে মেঘের উপর রিয়েক্ট করলে মেঘ আমাকেই বলতে আসবে। তখন আমি ওকে বুঝিয়ে শুনিয়ে আমার দিকে আকৃষ্ট করবো।”

তামিম শুকনো ঢোক গিলে বলল,
“ভাবতে অবাক লাগছে তুই আমার বন্ধু! এত চিকন বুদ্ধি নিয়ে ঘুমাস কিভাবে? ”
মিনহাজ খিকখিক করে হেসে উঠলো, হাসতে হাসতে বলল,
“তুই ই বলছিলি ওনারা ইচ্ছেকৃত ওনাদের অবস্থান বুঝাতে আমাদের মেঘের বার্থডে তে ডেকেছিল। আবির ভাইয়া প্ল্যান করতে পারলে আমি কেন পারব না ”
“আর যদি আবির ভাই মেঘকে ভালোবাসি বলে দেন। তখন কি করবি?”
“তখন মেঘের চিন্তা মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলবো। তবুও বিষয়টার সমাধান হওয়া দরকার। ”

সপ্তাহ কেটে যাচ্ছে অথচ মেঘের ব্যবহার অপরিবর্তিত। আবিরকে এড়িয়ে চলা, আবির কে দেখিয়ে দেখিয়ে ফোনে কথা বলা, ইচ্ছেকৃত খোঁচানো সবই চালাচ্ছে। আবির দু একবার মেঘের সঙ্গে কথাও বলতে চেয়েছে কিন্তু মেঘের ব্যস্ততা আর পাত্তা না দেয়ায় আবির আর কিছু বলে নি। মেঘকে মেঘের মতোই ছেড়ে দিয়েছে।

তানভির আজ এমপির সাথে একটা পোগ্রামে ব্যস্ত। সকালে না খেয়ে বেড়িয়েছিল। আবির দুপুর পর্যন্ত আব্বুর অফিসের কাজ শেষ করে বিকেলে নিজের অফিসে আসছে। গুরুত্বপূর্ণ একটা মিটিং আছে, সকালে থাকতে পারবে না বলে মিটিং বিকেলে রেখেছিল। ইদানীং মেঘের উড়নচণ্ডী চলাচলে আবিরের মনের সাথে সাথে কাজেও তার প্রভাব পরছে। মিটিং গত সপ্তাহে হওয়ার কথা ছিল আবির সেটা পেছাতে পেছাতে আজ পর্যন্ত টেনে এনেছে। আব্বু চাচ্চুর সামনে স্ট্রং ভাবে কাজ করলেও নিজের অফিসে এসেই সম্পূর্ণ ভেঙে পরে। আজ নিজেকে শক্ত রাখতে ফোন বন্ধ করে ড্রয়ারে রেখে দিয়েছে।

নিজের রুম ছেড়ে ল্যাপটপ নিয়ে রাকিবের রুমে কাজ করছে৷ রাসেল দুপুর পর্যন্ত অফিস করেছে। আজ তার গার্লফ্রেন্ডের জন্মদিন তাই দুপুরের দিকে চলে গেছে। প্রায় ২ ঘন্টা আবিরদের মিটিং চলল। মিটিং শেষে রাকিব বের হতে হতে পকেটে থেকে ফোন বের করতেই দেখলো রাসেল ১০ বার কল দিয়েছে। রাকিব কল ব্যাক করতেই রাসেল আতঙ্কিত কন্ঠে বলল,

“ঐ আবির কই। আবির কে তাড়াতাড়ি নেটে আসতে বল। ”
“কেন কি হয়ছে। ”
“তুই আবিরকে বল”
বলেই রাসেল কল কেটে দিয়েছে। রাকিব আবিরকে বলা মাত্র আবির রুমে গিয়ে ফোন খুলে নেটে ঢুকতেই রাসেলের মেসেজ আসছে সাথে ছবিও । ছবিতে চাপ দিতেই দেখল, মিনহাজ বেশকয়েকটা লাল গোলাপ হাতে হাঁটু গেড়ে বসে মেঘের সামনে ফুল ধরে রেখেছে। মেঘ ফুলগুলোর দিকে তাকিয়ে আছে। বন্যা, মিষ্টি, সাদিয়া, লিজা, তামিম সবাই পাশে দাঁড়ানো। ছবি টা দেখা মাত্র আবির ধপ করে চেয়ারে বসে পরেছে। রাকিব ক্লাইন্ডদের সাথে কথা বলায় ব্যস্ত। আবির কয়েক মুহুর্তের মধ্যে বাইকের চাবি নিয়ে বেরিয়ে যাচ্ছে। রাকিব পেছন থেকে ডেকে বলল,

“কোথায় যাচ্ছিস?”
আবির উত্তর না দিয়ে বেড়িয়ে গেছে। রাসেলকে কল দিয়ে জায়গা টা জেনে দ্রুত পৌঁছালো সেখানে। মেঘদের কাছাকাছি গিয়ে বাইকের ব্রেক কষল। মেঘরা সবাই গোল মিটিং করে বসে চা খাচ্ছিলো। মিনহাজের হাতে এখনও একগুচ্ছ লাল গোলাপ। রাসেল আর তার গার্লফ্রেন্ড কিছুটা দূরেই বসে ছিল। আবির মেঘদের কাছে আসতেই সবাই মাথা উঁচু তাকালো। চায়ের কাপ সাইডে রেখে সবাই একসঙ্গে দাঁড়ালো। মেঘ আবিরের শ্যামবর্ণের চেহারার পানে চেয়ে আছে, সহসা হৃদপিণ্ডের ধুকপুকানি বেড়ে গেছে সাথে মনের ভেতরের খুঁচখুঁচ লেগেই আছে। আবির চোখ বুঁজে দীর্ঘ শ্বাস ছেড়ে দু কদম এগিয়ে মেঘের ঠিক সামনে গিয়ে দাঁড়ালো। মেঘ কিয়ৎক্ষণ আহাম্মকের মতো চেয়েই রইলো কিছুই বললো না। আবির প্রখর নেত্রে মেঘের চোখের দিকে তাকিয়ে বাজখাঁই কন্ঠে প্রশ্ন করল,

“এখানে কেন আসছিস?”
মেঘের অনিচ্ছা সত্বেও ঠোঁটে মিষ্টি হাসি রেখে স্বাভাবিক কন্ঠে বলল,
“আড্ডা দিতে।”
আবির পুনরায় প্রশ্ন করল,
“শুধুই আড্ডা দিতে?”
“জ্বি”
মেঘের কন্ঠস্বরে নিরুত্তাপ ভাব দেখে আবিরের মেজাজ চরম লেবেলের খারাপ হচ্ছে। বার বার চোখে সেই ছবিটা ভাসছে। আবির রাগান্বিত কন্ঠে বলল,
“সত্যি কথা বল মেঘ। ”
মেঘ নিরুত্তর। মিনহাজ স্বাভাবিক কন্ঠে বলল,
“ভাইয়া, মেঘ কিছু বলবেন না”

আবির ঘাড় ফিরিয়ে রক্তাভ চোখে তাকালো মিনহাজের দিকে। কন্ঠে অগ্নি ঢেলে হুঙ্কার দিয়ে উঠলো,
” Stop your mouth. আমি তোমার সঙ্গে কথা বলতে এখানে আসি নি। আজ আমার আর মেঘের মাঝে কেউ একটা টু শব্দ করলে তার লা*শ পরবে এখানে।”
আবিরের লাল চোঁখ জোড়া দেখে মিনহাজ দৃষ্টি নামিয়ে নিল। বন্যাসহ সবাই মাটির দিকে তাকিয়ে আছে। আবিরের হুঙ্কারে ভয়ে সবকটা কাঁপছে। ওদের অবস্থা দেখে আবির নিজেকে শান্ত করার ব্যর্থ চেষ্টা করল। কিন্তু ভেতরের ক্রোধের কাছে হার মানতো বাধ্য হলো। আবিরের এমন কান্ডে মেঘ অবাক চোখে তাকিয়ে আছে, তিরতির করে কাঁপছে ঠোঁট, বুকের ভেতর হৃদপিণ্ডটা দিগবিদিক ছুটছে, ভয়ে ঢোক গিলল। আবির মেঘের চোখে চোখ রেখে কন্ঠ চারগুণ ভারী করে শুধালো,

“তুই ঐ ছেলেকে পছন্দ করিস? হ্যাঁ কি না?”
মেঘ নিরেট দৃষ্টিতে আবিরের দিকে তাকিয়ে আছে। বার বার ঢোক গিলছে। কিছু বলতে পারছে না। মেঘ সহসা তাকালো ওদের দিকে। মিষ্টিরা চোখে ইশারা দিয়ে হ্যাঁ বলতে বলল। আবির ভাইয়ের মনের কথা জানার এর চেয়ে উত্তম উপায় আর নেই। মেঘের শ্বাস আঁটকে যাচ্ছে। শ্বাসনালীতে তুফান চলছে। কি করে বলবে এত বড় মিথ্যাটা৷
আবির মেঘের বাহুতে চেপে ধরে বাজখাঁই কন্ঠে চিৎকার করল,
“তাকা এদিকে।”

মেঘের দেহ আবারও কম্পিত হলো সঙ্গে সঙ্গে তাকালো আবিরের চোখের দিকে। রক্তাভ দু চোখ থেকে যেন আগুন বের হচ্ছে, সেই আগুনের মেঘের হৃদয় পুড়ে ছারখার হয়ে যাচ্ছে। মিনহাজদের শেখানো প্রতিটা কথা মেঘের মাথায় ঘুরছে। আবির ভাইয়ের মনের কথা জানতে হলে মিথ্যাটা বলতেই হবে। মেঘ ঢোক গিলে ফোঁস করে শ্বাস ছেড়ে গম্ভীর কণ্ঠে বলল,
“হ্যাঁ”

আবির সহসা মেঘের বাহু ছেড়ে দিয়েছে। কয়েক মুহুর্ত মেঘের চোখের দিকে তাকিয়ে রইলো। কপাল ঘামছে, আবির হাত দিয়ে কপালোর ঘাম মুছে ঘুরে গিয়ে বাইকে বসে বাইক স্টার্ট দিল। রাসেল আবিরকে থামানোর অনেক চেষ্টা করেছে কিন্তু আবির বাইক থামানোর অবস্থায় নেই। আবির চলে গেছে, মেঘ অকস্মাৎ মাথা ঘুরে পরতে নিলে বন্যা তাড়াতাড়ি মেঘ কে জড়িয়ে ধরে। আবিরের সামনে মেঘ যতই শক্ত কন্ঠে কথা বলুক না কেন ভেতরের কম্পনের কাছে সব হার মানতে বাধ্য। মেঘ অজ্ঞান হয়ে বন্যার কোলে শুয়ে আছে। মিষ্টিরা পানি এনে মেঘের চোখেমুখে পানি ছেটাচ্ছে। এরমধ্যে রাকিব আসছে, আবির কল না ধরায় রাকিব রাসেলকে কল দিয়েছিল রাসেল সবটা বলাতে রাকিব সঙ্গে সঙ্গে অফিস ছুটি দিয়ে রওনা দিয়েছে। তানভিরকেও সব জানিয়েছে। রাকিব বাইক থাকিয়ে আতঙ্কিত কন্ঠে শুধালো,

“আবির কোথায়?”
“আবির চলে গেছে।”
“কোথায়?”
“জানি না।”
রাকিব উদ্বিগ্ন কন্ঠে চেঁচিয়ে উঠল,
“তুই ওকে আটকাতে পারলি না।”
“ও কি আমার কথা শুনার মানুষ? চেষ্টা তো করেছি ”
ওদের কথোপকথনের মধ্যেই তানভির বাইক থেকে নেমে রাগান্বিত কন্ঠে বলল,
“ভাইয়া কোথায়?”
রাকিব মৃদু স্বরে বলল
“ও বাইক নিয়ে চলে গেছে। ”

তানভির আগপাছ না ভেবে মিনহাজকে এলোপাতাড়ি মাইর শুরু করলো। তামিম বাঁচাতে আসলে তামিমের গায়েও বেশ কিছু মাইর পরেছে। রাকিব, রাসেল তাড়াতাড়ি গিয়ে তানভিরকে টেনে হিঁচড়ে সরিয়ে আনলো। দুজনে মিলেও তানভির কে আঁটকে রাখতে পারছে না। মাইরের চুটে মিনহাজের হাতের ফুলগুলো মাটিতে পরে গেছে। মিনহাজের নাক দিয়ে রক্ত বের হচ্ছে। রাকিব আর রাসেল তানভিরকে শান্ত করে গম্ভীর কণ্ঠে বলল,
“তুই মেঘকে নিয়ে বাসায় যা।

তানভির মেঘকে ধমক দিতে গেলে রাকিব সঙ্গে সঙ্গে ভারী কন্ঠে বলল,
“তানভির, মেঘকে কিছু বলবি না।চুপচাপ বাসায় নিয়ে যা।”
তানভির দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বন্যার দিকে একপলক তাকালো। রাগ আর ক্রোধ যেন বেড়িয়ে আসতে চাইছে। ঘুরে যেতে নিলে ফুলগুলোর দিকে তানভিরের নজর পরে। সঙ্গে সঙ্গে পায়ের জুতা দিয়ে টকটকে গাল গোলাপ গুলো পিষে ফেলেছে। মিষ্টিরা চোখ নামিয়ে সেই দৃশ্য দেখলো। কেউ চোখ তুলে তানভিরের মুখের দিকে তাকাতে পারছে না কেউ। তানভির বাইকের কাছে যেতে যেতে মিনহাজদের দিকে তাকিয়ে রাগান্বিত কন্ঠে হুঙ্কার দিল,

” আমি এখন চলে যাচ্ছি ঠিকই কিন্তু আমার ভাইয়ের কিছু হলে তোদের খবর আছে বলে দিলাম।”
তানভির বাইকে স্টার্ট দিয়ে মেঘকে উদ্দেশ্য করে ভারী কন্ঠে বলল,
“উঠ।”
রাকিব আবারও বলল,

আমৃত্যু ভালোবাসি তোকে পর্ব ৪৯

“মেঘকে চুপচাপ বাসায় নামাইয়া দিবি। রাগ দেখাবি না বললাম।”
তানভির মিনহাজদের দিকে একবার তাকালো। গম্ভীর কন্ঠে রাকিববের উপর চেঁচিয়ে উঠল,
“আমার ভাইকে তাড়াতাড়ি খোঁজে বের করো। না হয় লা*শ ঘোম করার ব্যবস্থা করো। আমি আসছি।”

আমৃত্যু ভালোবাসি তোকে পর্ব ৫০

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here