আশার হাত বাড়ায় পর্ব ২৪

আশার হাত বাড়ায় পর্ব ২৪
ইশরাত জাহান

সকাল সকাল জিনিসপত্র নিয়ে নতুন বাসায় আসে শ্রেয়ারা।বিকালের দিকে অফিসে পার্টি আছে।সেখানে শ্রেয়ার দায়িত্ব অনেক।যত তাড়াতাড়ি সম্ভব সবকিছু গুছিয়ে দুপুরের খাবারের ব্যবস্থা করতে হবে।তারপর অফিসের চিন্তা।শ্রেয়াদের ভ্যান এসে থামতেই শ্রেয়া তাকিয়ে আছে বাড়িটির দিকে।খোলামেলা বাড়ি।রিমলি বলেছিলো এই ব্যাপারে।বাড়িটি সম্পর্কে রিমলি অনেক প্রশংসা করেছিলো।সবকিছু দেখে তো এখন শ্রেয়া নিজেও অবাক। রিমলির দিকে তাকিয়ে বলে,”এই বোন।এই বাড়িতে এত কম দামে ভাড়া কিভাবে সম্ভব?এনাদের মধ্যে কোনো ঝামেলা নেই তো?”

রিমলি জিনিষগুলো দেখছিলো।কোনোকিছু ধাক্কা লেগে নষ্ট হয়েছে কি না তাই।শ্রেয়ার কথা শুনে শ্রেয়ার দিকে ঘুরে বলে,”আরে না আপু।এই বাড়ির বাড়িওয়ালার ছেলে পুলিশ। আর আন্টি নিজেই মহিলা কমিটির সদস্য।আংকেল একজন উকিল।”

আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন 

“এনারা কি বুঝে আমাদের এত কমে ঘরভাড়া দিলো!”
বাইরে বেরিয়ে আসে শিহাবের মা জুঁই।শ্রেয়ার কথাগুলো তার কর্ণপাত হয়েছিলো।শ্রেয়ার সন্দেহ হওয়াটা স্বাভাবিক।অচেনা কেউ এতটা দয়া দেখালে তো সন্দেহ হবেই।মিসেস জুঁই বিড়বিড় করে বলেন,”একটা গাধা মানুষ করেছি আমি।জনদরদী হতে যেয়ে সন্দেহের লিস্টে চলে যায়।”
শ্রেয়ার কাছে এসে বলেন,”তোমরা নতুন ভাড়াটিয়া তাই না?”

“জী আন্টি।”
“কি করো তুমি?”
“আমি জব করি।”
“কি জব?”
“চৌধুরী ফ্যাশন হাউজের।অ্যাসিসট্যান্ট পদে।”
চোখদুটো বড় বড় হয়ে গেলো মিসেস জুঁইয়ের।শ্রেয়ার দিকে তাকিয়ে বলে,”তুমি ফারাজের কোম্পানিতে চাকরি করো?”
অবাক হয়ে শ্রেয়া আর রিমলি তাকিয়ে আছে।মিসেস জুঁই আলতো হেসে বলেন,”ফারাজ আমার বোনের ছেলে।এই তো সামনেই ওদের বাসা।”

“জী।”
“তোমাদের মা কোথায়?”
“আম্মু আসতে একটু দেরী হবে।আমরা সমস্ত জিনিসপত্র এনে তারপর আম্মুকে আনবো।এই গরমে আম্মুকে কষ্ট দিতে চাই না।”
“আচ্ছা।তাহলে সবকিছু গুছিয়ে নেও। পরে কথা হবে।”
“আচ্ছা আন্টি।”

মিসেস জুঁইয়ের সাথে কথা বলা শেষ করে শ্রেয়া ও রিমলি মিলে একেকটা জিনিস তাদের প্ল্যান মতো গোছাতে থাকে।শিহাব রেডি হয়েছে এখন অফিসে যাবে।নিজের ইউনিফর্ম পরে ড্রয়িং রুমে এসে বসেছে।মিসেস জুঁই খাবার দিতে দিতে বলেন,”নতুন ভাড়াটিয়া তো চলে এসেছে।জানিস ওই মেয়ের বড়বোন ফারাজের কোম্পানিতে চাকরি করে।তাহলে তো এরা বিশ্বস্ত।ফারাজ যেমন বিচক্ষণ একটা ছেলে।ও তো আর যাকে তাকে চাকরি দিবে না।”
ভ্রু কুঁচকে শিহাব বলে,”তোমার ছেলেকে কি চোখে পড়েনা?সেও বা কম কিসে!তফাৎ তোমার ছেলে একটু মিশুক আর ফারাজ ভাই গম্ভীর।রসকষহীন ব্যাটা একটা।”

শিহাবের পিঠে চাপড় মেরে মিসেস জুঁই বলেন,”হয়েছে আর হিংসা করতে হবে না।ঘর ভাড়া যে দামে দিয়েছিস তাতেই বোঝা যায় তুই কেমন বিচক্ষণ।”
“তুমি এই ভাড়া দিয়ে আমাকে আর কত খোচা দিবে মা?”
“আমি তো খোচা দিচ্ছি।ওরা তো সন্দেহ করছে আমাদের।”
খাবার চিবোতে চিবোতে শিহাব মনে মনে বলে,”এত কমে কি আর স্বাদে নিয়েছি।তোমাকে তো এখন বলা যাবে না মা।”

শিহাব খাবার শেষ করে বের হয়।ঘর থেকে বাইরে বের হবার সময় জুতা পড়তে থাকে।তারপর ঘুরে তাকালো সামনের ঘরটির দিকে।উদ্দেশ্য অফিসে যাওয়ার আগে রিমলিকে একবার দেখা।জিনিসপত্র লোকজন দিয়ে একেক জায়গায় রাখছে শ্রেয়া আর রিমলি।ভিতর থেকে অনেক আওয়াজ আসছে।রিমলি চিল্লিয়ে চিল্লিয়ে ইন্সট্রাকশন দিচ্ছে।শিহাব এবার এদিক ওদিক তাকিয়ে সাহসের সাথে গেলো ওদের ঘরের দিকে।দরজার সামনে এসে বলে,”আসতে পারি?”

ঘুরে তাকালো রিমলি আর শ্রেয়া।শ্রেয়াকে দেখে শিহাব বলে,”আপনি?”
শ্রেয়া চিনতে পেরেছে শিহাবকে।রনিকে যখন আদালতের দিকে নিয়ে যাওয়া হয় তখন শিহাবকে দেখেছিলো শ্রেয়া।শিহাব আবারও বলে,”আপনি মিস্টার রনির। আই মিন ওই কেসটাতে ছিলেন।”
শিহাবকে দেখে শ্রেয়া বলে,”আমরা এখানে ভাড়া এসেছি।আপনি?”
“এটা আমার বাড়ি।”
রিমলি ভ্রু কুঁচকে বলে,”তুমি কি ওনাকে চেনো আপু?”
মাথা নাড়িয়ে শ্রেয়া বলে,”হুম।”

রনির এমন পরিচিত শুনে মিসেস জুঁই পিছন থেকে বলেন,”কি হয়েছে বাবু?”
শ্রেয়া একটু লজ্জা পাচ্ছে।ঘুরেফিরে তাকে ফারাজের আশেপাশেই আসতে হচ্ছে।কেউ কিছু মনে না করলে হয়।মিসেস জুঁইয়ের দিকে তাকিয়ে শিহাব বলে,”উনি মিস শ্রেয়া।ফারাজ ভাইয়ের যে কেস ছিলো তার সাথে উনিও যুক্ত ছিলেন।তোমাকে বলেছিলাম না মিস্টার রনি।ওনার এক্স ওয়াইফ।”

মিসেস জুঁই বুঝলো ব্যাপারটা।শ্রেয়ার দিকে তাকিয়ে দেখলো শ্রেয়াকে।মায়া লাগছে এখন তার।কিছুক্ষণ পর মনে পড়ল শ্রেয়া তো ফারাজের কোম্পানিতে চাকরি করে।যার স্বামীর জন্য ফারাজের সংসার নষ্ট হলো তাকে চাকরি দিলো ফারাজ।আবার শ্রেয়া নিজেও ফারাজের কোম্পানিতে চাকরি করছে।ব্যাপারটা শুনতে একটু অন্যরকম লাগে।মিসেস জুঁই দেখছেন শ্রেয়াকে।শ্রেয়া মাথা নিচু করে আছে।ইতস্তত বোধ করছে।মিসেস জুঁই এবার কথা ঘোরাতে বলেন,”আজকে তো তোমাদের অফিসে অনেক কাজ।পার্টি আছে তো।তাড়াতাড়ি সবকিছু গুছিয়ে নেও।”

হাফ ছাড়লো শ্রেয়া।এরা নেগেটিভ কিছু ভাবেনি এটাই অনেক।মিসেস জুঁই চলে গেলেন।শিহাব তার কাজের জন্য বেরিয়ে গেলো।এতক্ষণ সবকিছু নিরবতা পালন করে শুনছিলো রিমলি।শ্রেয়ার কাছে এসে বলে,”ওনাকে তো আদালতে দেখিনি ওইদিন।”
“ছিলো অল্প সময়।পুলিশদের ডিউটি থাকে।ওরা কি এক জায়গায় বসে থাকে।কেনো ওনাকে দেখলে কি করতিস?
“এই বাসাটা ভাড়া নিতাম না।তুই যেখানে যাস সেখানে অতীত ঘুরেফিরে আসে।যার অস্তিত্ব এখন তোর মাঝে নেই তাকে নিয়ে কথা থাকবেই।”

“একটা জিনিষ জানিস কি বোন?”
রিমলি তাকিয়ে আছে।শ্রেয়া মলিন হেসে বলে,”আমরা যেখানেই যাই না কেনো অতীত আমাদেরকে ছাড়বে না।হয়তো অতীতের পাতাগুলো আমরা এড়িয়ে যাবো।কিন্তু ওরা আমাদের থেকে বিচ্ছেদ ঘটাবে না।জীবনে যতই এগিয়ে যাই অতীত আমাদের সাথে দেখা দিবেই।”
রিমলি দেখছে তার বোনকে।বোনটা এখন উৎফুল্ল হলেও আগের মত নেই।এখন অনেকটাই পরিবর্তন হয়েছে।হয়তো নতুন জীবন পেয়ে চিন্তা ধারা আরো উন্নত।

বিকালের দিকে রেডি হচ্ছে শ্রেয়া ও রিমলি।সাথে সৃষ্টি বেগমও আছেন।একটু পর অফিসে যাবে।আজকে সবার ফ্যামিলি মেম্বারদের ইনভাইট দেওয়া আছে।শ্রেয়া একটি লং গাউন পড়েছে।একেকটা জিনিস এলোমেলো করে কিছু খুঁজতে থাকে রিমলি।শ্রেয়া বলে,”কি খুঁজছিস তুই?”
“তোমাকে না আম্মু মেকআপ কিনে দিয়েছিলো।ওগুলো কোথায়?”
“তোর কি মনে হয়?যেখানে মায়ের দেওয়া দামী দামী জিনিষ ওরা নিয়ে নিতো।সেখানে সামান্য মেকআপ বক্স আমাকে দিবে।ওই পরিবারে শখ আহ্লাদ পূরণ করার জন্য আরো দুইটা মেয়ে ছিলো।যাদেরকে আমার সব জিনিসপত্র দিয়ে দেওয়া হতো।”

“আর তুমি কিছুই বলতে না। বাহ!এই চুপ করে কেনো সহ্য করো বলোতো?”
“বিয়ের পর মেয়েদের জীবন পাল্টে যায়।এই যেমন আমি।আমার যদি কোনো সুযোগ না থাকতো আজও আমি ওসব নির্যাতন সহ্য করেই থাকতাম।সুযোগ থাকলে কেউ কি আর হাত পা গুটে বসে থাকে?”
“বুঝলাম।এবার যা আছে ওই দিয়েই তৈরি হতে হবে।একটা পাউডার আর লিপস্টিক কাজল এনেছিলাম আমি।আমি কি জানতাম তুমি সব বিলিয়ে দেও।”
“এতেই তো হয়ে যাবে।”

“তোমার মত ফর্সা মেয়েদের জন্য এতেই এনাফ কিন্তু আমার মত কালো মেয়েদের জন্য এগুলোতে হয় না আপু।”
রিমলি দেখতে শ্যামলা।তাই সে এভাবে কথা বলছে।শ্রেয়া কিছু বলতে যাবে তার আগে পিছন থেকে শিহাব বলে,”কে বলেছে এগুলোতে তোমার হবে না।কখনও আয়নায় নিজেকে পরখ করে দেখেছো?নিজেকে একবার আয়নার প্রতিবিম্বের দিকে তাকিয়ে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখবে।কোনো কমতি নেই তোমার মাঝে।এই চোখেও কাজল দিলে মায়াবী লাগবে তোমাকে।”

মনের আবেগে আরো কিছু বলতে যাবে রিমলি থামিয়ে দেয় তাকে।বলে,”আপনি?”
“হুম।আমিও আজ পার্টিতে যাচ্ছি।ভাই ইনভাইট করেছে।তাই ভাবলাম তোমাদেরকে নিয়ে যাই।আন্টি বলল তুমি নাকি এখনও মেকআপ নিয়ে পড়ে আছো।তাই চলে আসলাম।”

শিহাব এখনও শ্রেয়াদের দরজার সামনে দাঁড়িয়ে আছে।ভিতরে আসেনি।তাই রিমলি বেশি কিছু বলল না।শ্রেয়া শুনছে রিমলি আর শিহাবের কথা।শিহাবের কথাগুলো শ্রেয়ার কাছে সন্দেহজনক লাগছে। রিমলির প্রতি কোনরকম ভালোলাগা কাজ করছে কি না বুঝতে পারছে না শ্রেয়া।শিহাব তাড়াহুড়া দিতেই বেরিয়ে যায় সবাই।
চারপাশে ভিন্ন রঙের লাইট দিয়ে সাজানো।একেক জায়গায় একেক ধরনের ব্যবস্থা।এক জায়গায় ড্যান্স ফ্লোর এক জায়গায় মকটেল কাউন্টার তো আরেক জায়গায় ডিজে সিস্টেম।সৃষ্টি বেগম অবাক হয়ে বলেন,”আমাদের এখানে আসার দরকার ছিল না।শুধু তুই আসলেই হতো।”

অর্পা এসে জড়িয়ে ধরে শ্রেয়াকে।সৃষ্টি বেগমের কথা শুনে বলে,”তুমি আমার কাকিয়ার সাথে বসো।আমরা অন্যদিকটাতে যাই।এখানে সব ধরনের লোকজন আসবে।চিন্তা করো না আন্টি।”
শ্রেয়া চলে গেলো ফারাজের কাছে।আজ গাউনের সাথে উচু হিল পরেছে শ্রেয়া। ফাইলগুলো নিয়ে দাড়িয়ে দাড়িয়ে কথা বলছে ফারাজ আর শ্রেয়া।হঠাৎ করেই মিমি এসে পিছন থেকে জড়িয়ে ধরে শ্রেয়াকে।ব্যালেন্স হারিয়ে শ্রেয়া পড়ে যেতে নেয়।কিন্তু পাশে ফারাজ থাকার কারণে ফারাজের এক হাত সাথে সাথে আঁকড়ে নেয় শ্রেয়াকে।শ্রেয়া চোখ বন্ধ করে নেয়।সে তো ভেবেই নিয়েছে সে এখন পড়ে যাবে।

ফারাজ শ্রেয়াকে ধরে ফেলে শ্রেয়া তার এক হাত ফারাজের গলার কাছে রাখে।অনেক জোরে খামচে ধরে শ্রেয়া।চোখ আপনা আপনি বন্ধ হয়ে আসে ফারাজের।এনি দূরে দাড়িয়েই এদের ছবি তুলে নেয়।মিমি ঘাবড়ে গেছে।মিমি এখনও শ্রেয়ার গাউন ধরে আছে।ভীত ভীত চাহনি নিয়ে তাকিয়ে আছে ফারাজ আর শ্রেয়ার দিকে।জিনিয়া আর অতসী রাগী দৃষ্টি দিয়ে দেখছে ওদের।অর্পা এসে দাড়ালো শ্রেয়ার পাশে।আর মিরাজ এসে দাড়ালো ফারাজের কাছে।শ্রেয়াকে ধরে অর্পা বলে,”ঠিক আছিস দোস্ত?”

শ্রেয়া এবার চোখ খোলে।দেখলো তার মাথাটা ফারাজের অতি নিকটে। আর ডান হাত দিয়ে খামচে ধরে আছে ফারাজকে।সাথে সাথে ডান হাত সরিয়ে হাত বাড়িয়ে দেয় অর্পার দিকে।অর্পা শ্রেয়াকে ধরে সোজা করে দাড় করিয়ে দেয়।অর্পার কানে কানে শ্রেয়া বলে,”ওনার গলার দিকে হয়তো অনেকটা ছিলে গেছে।আমি বুঝে উঠতে পারিনি।মিরাজ ভাইকে দেখতে বল।”

বলেই শ্রেয়া যেয়ে একটি চেয়ারে বসে পানি খেতে থাকে।অর্পার থেকে শুনে মিরাজ ফারাজকে নিয়ে কেবিনের ভিতরে আসে। ফারাজের গলায় কিছু কিছু জায়গায় ছিলে গেছে।নখগুলো ভালোমত গেঁথে গেছে। ফারাজের কেবিনে মেডিসিন বক্স থাকে।মিরাজ সেখান থেকে মলম নিয়ে ফারাজকে লাগিয়ে দেয়।সবশেষে মিরাজ হেসে দেয়।ফারাজ সেদিকে তাকিয়ে বলে,”কি হলো?হাসছিস কেনো?”

“তোমার গলার চিহ্ন দেখে ভাই।শেষমেষ তোমার মেয়ের জন্য আঘাত পেতে হলো।তাও আবার গলায়।”
“মিমিটাও না।ইদানিং মিস শ্রেয়ার সাথে বেশি মিশতে থাকে।কি জানি কি শুরু করেছে মেয়েটা আমার।”
“বাচ্চারা তাদের ভালোবাসার মানুষের কাছে বেশি যায় ভাই।এই যেমন মিমি তার দাদীর থেকে নানির সাথে বেশি সময় কাটায়।আবার নানার থেকে দাদার কাছে বেশি থাকে।এটা তো ভালোবাসার কারণে। যারা বাচ্চাদের বেশি বেশি আদর যত্ন করে বাচ্চারা তাদের কাছেই বেশি থাকে।”

ফারাজ আর কোনো কথা বলল না।মিমি এসে দাড়ালো শ্রেয়ার সামনে।ঠিক সেই সময় ফারাজ বাইরে এসে দাড়ালো।মিমি তার দুই কান ধরে শ্রেয়াকে বলে,”আই এম সরি আন্টি।আমি বুঝতে পারিনি তুমি পড়ে যাবে।প্লিজ আমাকে মারবে না।”
শ্রেয়া অবাক হয়ে বলে,”আমি মারবো কেনো?”
“মাম্মি আমাকে মারতো।আমি যদি মাম্মিকে ভুল করে ফেলে দিতাম তাহলে আমাকে বকা দিতো খুব।আমি সত্যি সরি।”

শ্রেয়া কি বলবে বুঝতে পারছে না।এভাবে কেউ বাচ্চাদের সাথে করে?তাও আপন সন্তান।মিমির কান হাত ছাড়িয়ে মিমিকে জড়িয়ে ধরে শ্রেয়া বলে,”আমি এমন না মিমি।আমি একদম রেগে নেই তোমার উপর।মানুষ তো ভুল করেই।”

আশার হাত বাড়ায় পর্ব ২৩

মিমি নিজেও শক্ত করে জড়িয়ে ধরে শ্রেয়াকে।ফারাজ দেখছে ওদেরকে।মনে মনে ভাবছে,”মিরাজ ভুল কিছু বলেনি।মিস শ্রেয়া মিমিকে আগলে রাখছেন।বাচ্চা মেয়েটা তো এভাবেই ভালোবেসে যাবে মিস শ্রেয়াকে।”

আশার হাত বাড়ায় পর্ব ২৫

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here