উষ্ণ প্রেমের আলিঙ্গন পর্ব ৩৩
আফিয়া আফরোজ আহি
সময়টা বর্ষা কাল। চারদিকে নদী নালা পানিতে থৈ থৈ করছে। গাছে গাছে কদম ফুল ফুটেছে। বাতাসের সাথে ফুলের মিষ্টি ঘ্রান ভেসে আসছে। তার সাথে হুটহাট ঝুম বৃষ্টি । সব মিলিয়ে খুব সুন্দর একটা সময়। সময় কারো জন্য অপেক্ষা করে না। বয়ে চলে স্রোতের গতিতে। মাঝে কেটে গেছে অনেক গুলো দিন। সকাল সকাল চাদর মুড়ি দিয়ে ঘুমিয়ে আছি। আজকে সরকারি ছুটি তাই ক্লাস নেই । সেজন্য এখনো ঘুমিয়ে আছি। কিন্তু আমার সাধের ঘুম যেন কারো সহ্য হলো না। পাশে রাখা ফোনটা বিকট শব্দে বেজে উঠলো। ঘুমের ঘোরে কল কল কেটে দিয়ে ঘুমানোর চেষ্টা করলাম। কিন্তু সেটা হতে দিলো না বজ্জাত মার্কা ফোনটা। আবার বেজে উঠলো। মেজাজ খারাপ হয়ে গেল। এমনি দিন তো ঘুমাতে পারিনা। আজকে একটু ঘুমাবো সেটাও কারো সহ্য হচ্ছে না । ফোনটা হাতে নিয়ে স্ক্রিনে না তাকিয়ে ঘুম ঘুম চোখে রাগী কণ্ঠে বলে উঠলাম,
“কি সমস্যা? কে আপনি ভাই ? সকাল সকাল ফোন করে ডিসটার্ব করছেন?”
ওপর পাশ থেকে শান্ত কণ্ঠে ভেসে এলো,
“ঘুমের ঘোরে কি সব ভুলেছিস? সকাল সকাল বিয়ে করা জামাই কে জিজ্ঞেস করছিস কে আপনি ভাই? আমি তোর কোন জন্মের ভাই লাগি? সারাদিন ভাই ভাই ডেকে নিজের ভবিষ্যত বাচ্চার মামা বানাতে চাইছিস?”
শেষের কথা গুলো কিছুটা ঝাঁঝালো সুরে ছিলো। চোখ থেকে ঘুম নিমিষেই উধাও হয়ে গেছে। কান থেকে ফোন সরিয়ে চোখের সামনে ধরতেই দেখলাম স্ক্রিনে গোটা গোটা অক্ষরে লিখা ‘আদীব চৌধুরী আদ্র’। সাথে সাথে জিভ কাটলাম। বিয়ে করা জামাই কে ভাই ডাকলে খাপবে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু এখন তো নিজের ভুল সস্বীকার করা যাবে না। তাই কিছুটা তেজি সুরেই বলে উঠলাম,
আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন
“এতো সকাল বেলা মানুষ কোন আক্কেলে ফোন দেয় শুনি?”
“আমি দেই। আমার কবুল পড়া বউ যখন ইচ্ছে তখন ফোন দিবো এতে তোর কি?”
বিড়বিড় করে বলে উঠলাম,
“আমাকেই ফোন দিবে আবার আমাকেই বলবে তোর কি? কি সুন্দর কথা”
“কি বিড়বিড় করছিস?”
“কিছু না। তুমি বলো তুমি কেন ফোন দিয়েছো?”
“ঝটপট উঠে রেডি হয়ে নে। আমি আসছি”
“রেডি হবো কেন? কোথায় যাবো আমরা?”
“এখন এতো কথা বলার সময় নেই। তাড়াতাড়ি রেডি হো আমি আসছি। আর শোন আমার দেওয়া শাড়ি টা পড়বি”
ফট করে কল কেটে দিলো। এই মহাশয়ের আবার কি হলো? এই সকাল সকাল শাড়ি পড়ে রেডি হতে বলছে? কি জানি উনার মনে কি চলছে? উঠে ফ্রেশ হতে চলে গেলাম।
আলমারি খুলে আদ্র ভাইয়ের দেওয়া শাড়িটা বের করলাম। লাল পাড়ের সাদা শাড়ি। শাড়িতে হাত বুলিয়ে দিলাম। বিয়ের পড় ওনার দেওয়া প্রথম শাড়ি এটা। যদিও উনি এর আগে আমাকে শাড়ি কিনে দিয়েছে তবে সেটা বিয়ের আগে। মনে পড়ে গেল সেদিনের কথা। সেদিন দুজনের সেকি মারামারি। আমি আদ্র ভাইয়ের চুল ছেড়ে দিতেই উনি আমার পিছু নিলেন। পুরো ঘর জুড়ে দুজন দৌড়া দৌড়ি করছি।
আমি বিছানায় উঠছি তো আদ্র ভাই নিচে আর আমি নিচে নামলে উনি বিছানায়। এভাবেই কিছুক্ষণ ছুটোছুটি হলো আমাদের। হটাৎ বিছানায় রাখা বালিশ আদ্র ভাইয়ের দিকে ছুড়ে দিলাম। উনি সরে গেলেন। আমার রুমে রাখা সিঙ্গেল সোফার কুশন নিয়ে ছুড়ে দিলেন আমার দিকে। শুরু হয়ে গেল আমাদের মারামারি। আমি উনার গাঁয়ে বালিশ ছুড়ছি উনি কুশন ছুঁড়ছে। আমাদের দেখে নিঃঘাত কেউ বাচ্চা ভেবে বসবে। দেখে মনে হচ্ছে পাঁচ ছয় বছরের বাচ্চারা মারামারি করছে। কে বলবে আমার হাজবেন্ড এন্ড ওয়াইফ? কাজিন থাকা অবস্থায় আমরা এতটা দুস্টুমি মারামারি করিনি যা এখন বর বউ হওয়ার পর করছি। এক সময় হাপিয়ে গেলাম। ধুপ করে বিছানায় শুয়ে পড়লাম। হাপানো কণ্ঠে বলে উঠলাম,
“আদ্র ভাই আমি আর পারবো না, হাপিয়ে গেছি”
উনিও ধপাস করে আমার পাশে শুয়ে বলল,
“আমিও”
দুজন বিছানায় পাশাপাশি শুয়ে আছি। আচমকা আদ্র ভাই উঠে বসলেন।
“কি হলো? উঠলে কেন?”
উনি বিছানা থেকে নেমে রুমের বাহিরে যেতে যেতে বলল,
“আসছি, ওয়েট”
কিছুক্ষন পড় হাতে একটা শপিং ব্যাগ নিয়ে ফিরে এলেন। আমার হাতে ধরিয়ে দিয়ে বললেন,
“এটা তোর জন্য”
“কি আছে ভিতরে?”
“খুলে দেখেনে”
ব্যাগ খুলতেই বেরিয়ে এলো শাড়ি। শাড়ি দেখে মুহূর্তেই মুখে হাসি ফুটে উঠলো। খুলে দেখা শুরু করলাম। শাড়ির সাথে কিছু জুয়েলারিও ছিলো।
“পছন্দ হয়েছে?”
উৎফুল্ল কণ্ঠে বলে উঠলাম,
“ভীষন পছন্দ হয়েছে। বলতে হবে তোমার পছন্দ অনেক সুন্দর”
“তুই মানুষটাও তো আমারই পছন্দের”
উনার কথায় লজ্জা পেয়ে গেলাম। এই মানুষটা একেক সময় একেক রকম। এইযে একটু আগে মারামারি করছিলো, এখন রোমান্টিক মুডে আছে, আবার কেয়ারিং মুডে চলে যায়। আদ্র ভাইকে জিজ্ঞেস করলাম,
“হটাৎ শাড়ি দিলে যে? কোনো কারণ আছে?”
“হুট্ করে বিয়ে হয়ে গেল তোকে কিছু দিতে পারিনি। কালকে একটা কাজে বাহিরে গিয়েছিলাম শাড়িটা দেখতেই চোখে লাগলো। কল্পনায় ভেসে উঠলো তোর মুখটা। এই শাড়িটা আমার রৌদ্রময়ীর জন্যই তৈরি হয়েছে। তাকে এই শাড়িতে পুরো অপরূপা লাগবে। তাই নিয়ে এলাম”
ভাবনার শহরে বিচরণ করছি এমন সময় ফোনের ম্যাসেজ টোন ভবেজে উঠলো। শাড়ি আর জুয়েলারি বের করে রেখে ফোন হাতে নিলাম। মহাশয়ের ম্যাসেজ উনি চলে এসেছেন। তাড়াতাড়ি করে শাড়ি পড়তে শুরু করে দিলাম। শাড়ি পড়া শেষে আয়নার সামনে বসে অল্প বিস্তার সেজে নিলাম। শাড়ির সাথে সাজ ছাড়া মানাবে না। হাতে পড়লাম লাল রঙের রেশমি চুরি। কানে ম্যাচিং ঝুমকো। চোখে গাঢ় কাজল। সাজ শেষ করে আয়নায় নিজেকে একবার দেখে নিলাম। অতঃপর সাইড ব্যাগ নিয়ে নেমে এলাম। সিঁড়ি দিয়ে নামতে নামতে দেখলাম মহাশয় এক মনে ফোন চালাচ্ছে। নেমে ওনার সামনে দাঁড়িয়ে আছি। তার এদিকে খেয়াল থাকলে তো? হাত ঝাড়া দিলাম। সাথে সাথে চুরির রিনঝিন শব্দ হলো। আদ্র ভাই মুখ তুলে তাকালেন। মুহূর্তের ব্যবধানে যেন থমকে গেলেন। ওনার চোখ আটকে গেল আমার মুখশ্রীতে। কেটে গেল কিছু প্রহর। তবুও উনি একই ভঙ্গিতে তাকিয়ে আছে। উনাকে এভাবে তাকিয়ে থাকতে দেখে লজ্জা পেলাম।
“উহুম, উহুম”
আদ্র ভাই ধ্যান থেকে বেরিয়ে এলেন। বড় আম্মু রান্না ঘর থেকে বেরিয়ে এলেন। আমাদের তাড়া দিয়ে বললেন,
“দুজন টেবিলে বস, তাড়াতাড়ি খেয়ে নে”
“বড় মা এখন খেতে গেলে দেরি হয়ে যাবে। আমরা যাওয়ার পথে খেয়ে নিবো। আর তোমাকে তো বললাম আমাদের অনেক দূর যেতে হবে”
“ঠিক আছে সাবধানে যা”
বড় আম্মু এগিয়ে এসে আমার কপালে চুমু একে দিয়ে বলে উঠলো,
“মাশাআল্লাহ। আমার রোদ সোনাকে অনেক সুন্দর লাগছে। কারো নজর না লাগুক। আদ্র সাথে যাচ্ছিস সাবধানে থাকবি আর ওর ওপর আমার ভরসা আছে”
আদ্র ভাই তাড়া দিয়ে বলল,
“চল দেরি হয়ে যাচ্ছে। বড় মা এলাম”
আদ্র ভাই আমার হাত ধরে বাহিরে নিয়ে এলেন। গ্যারেজে এসে গাড়ির দরজা খুলে আমায় বসিয়ে নিজে পাশে ড্রাইভিং সিটে বসে পড়লেন। গাড়ি স্টার্ট দিতেই জিজ্ঞেস করে বসলাম,
“আমরা কোথায় যাচ্ছি?”
“গেলেই দেখতে পাবি”
আর কথা বললাম না। গাড়ি চলছে তার আপন গতিতে। বাহিরে তাকিয়ে বাহিরের দৃশ্য দেখছি। হটাৎ মাথায় প্রশ্ন এলো। ফট করে আদ্র ভাইকে জিজ্ঞেস করে বসলাম,
“তুমি বড় মাকে কি বলেছো?”
“বলেছি বন্ধুর বিয়ে সেখানে যেতে হবে। ওরা তোকেও নিয়ে যেতে বলেছে তাই নিয়ে যাচ্ছি”
“মিথ্যা বললে কেন?”
“এভরিথিং ইজ ফেয়ার ইন লাভ এন্ড ওয়ার”
মুখ ভেংচি কেটে বাহিরের দৃশ্য দেখতে শুরু করলাম। কখন যে ঘুমিয়ে পড়েছি সে খেয়াল নেই। রাতে পড়া কমপ্লিট করতে দেরি হয়ে গিয়েছিল। তাই ঘুমাতে দেরি হয়ে গিয়েছে। তারওপর সকাল সকাল ওঠায় ঘুমিয়ে গিয়েছি। আদ্র ভাই আমার মাথায় নিয়ে উনার কাঁধের রাখলেন। কারো আধো আধো কণ্ঠে কারো ডাক শুনে ঘুম ভেঙ্গে গেল।
“রোদ! এই রোদ! ওঠ। আমরা এসে পড়েছি”
পিটপিট করে চোখ খুলে সামনে আদ্র ভাইকে আবিষ্কার করলাম। আমায় তাকাতে দেখে বলে উঠলো,
“আমরা আমাদের গন্তব্যে এসে পড়েছি। এখন উঠ”
আশেপাশে তাকিয়ে দেখলাম গ্রাম্য এলাকা। দেখে মনে হচ্ছে শহর থেকে অনেকটা দূরে। আদ্র ভাই নিজে বের হয়ে আমার পাশের দরজাও খুলে দিলেন। দুজনে হেটে সামনে যাবো এমন সময় উনি বলে উঠলেন,
“সিট্! আমি তো মেইন জিনিস টাই ভুলে বসেছি”
“কি ভুলে গেছো? আর এটা কোথায়? দেখে তো কোনো বিয়ে বাড়ি মনে হচ্ছে না”
“একটু ধর্য্য ধরুন মিসেস সব দেখতে পাবেন”
উনি আমায় নিয়ে গাড়ির পিছনের সিটে বসিয়ে দিলেন। নিজে পাশে বসলেন। সামনে রাখা একটা ব্যাগ কাছে নিয়ে বসে বলেন,
“পা তুলে বস”
“কেন?”
“এতো কথা না বলে যেটা বলছি সেটা কর”
পা তুলে বসলাম। আদ্র ভাই শাড়ি একটু ওপরে তুলে দিয়ে বলল,
“শাড়ি ধরে রাখ”
আমি শাড়ি ধরে বসলাম। উনি ব্যাগ থেকে আলতা বের করলেন। খুব সাবধানতার সহিত পায়ে আলতা পড়িয়ে দিচ্ছেন। আলতা পড়ানো শেষে নুপুর খুলতে নিলেই বাঁধা দিয়ে উঠলাম।
“নুপুর খুলছো কেন? এগুলো আমার অনেক প্ৰিয়”
উনি কোনো উত্তর দিলেন না। আগের নুপুর খুলে ব্যাগ থেকে নতুন নুপুর বের করে পড়িয়ে দিলেন। আলতা পায়ে নুপুর বড্ড সুন্দর লাগছে।
“এবার হাত দে দেখি”
কোনো কথা না বলে হাত বাড়িয়ে দিলেন। হাতেও সুন্দর করে আলতা পড়িয়ে দিলেন। আমি মুগ্ধ চোখে ওনার দিকে তাকিয়ে আছি। প্রেমিক পুরুষ আসলেই বড্ড সুন্দর। আদ্র ভাই আলতা পড়ানো শেষে বলে উঠলো,
“ডান। এখন চল”
দুজন বেরিয়ে হাঁটা দিলাম। কিছুটা হেটে যেতেই সমনে এক ঘাট পড়লো। আদ্র ভাই মাঝিদের সাথে কথা বলে নৌকা নিলেন। উনি উঠে আমার দিকে হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। কিন্তু আমার ভয় করছে। আদ্র ভাই নেমে হুট্ করে কোলে তুলে নিলেন। এতো গুলো মানুষের সামনে এভাবে কোলে নেওয়ায় লজ্জা পেয়ে গেলাম। ফিসফিস কণ্ঠে বলে উঠলাম,
“সবার সামনে কোলে তুললে কেন? নামও, আমার লজ্জা লাগছে?”
“আমার বউ আমি কোলে তুলেছি এতে কার কি?”
এই লোককে বলে লাভ নেই। আদ্র ভাই আমায় নৌকায় নিয়ে নামিয়ে দিলেন। নৌকার একপাশে মাঝি ওপর পাশে আমি আর আদ্র ভাই। নৌকা চলা শুরু করলো। আমি এখনো জানি না কোথায় যাচ্ছি। নৌকা কিছুটা এগোতেই দেখলাম আশেপাশে লাল শাপলায় ভরপুর। শাপলা দেখতেই মনটা আনন্দে নেচে উঠলো। ইচ্ছে করছে ছুঁয়ে দিতে। কিন্ত শাপলা গুলো অনেকটা দূরে। আরেকটু ভিতরে যেতেই শাপলা গুলো হাতের নাগালে চলে এলো। আদ্র ভাই কয়েকটা শাপলা তুলে আমার হাতে দিলেন। শাপলা গুলো ছুঁয়ে দেখছি। আদ্র ভাইকে জিজ্ঞেস করলাম,
“হটাৎ শাপলা বিলে নিয়ে এলে যে?”
“কেউ একজন দুবছর আগে শাপলা বিলের একটা ভিডিওতে কমেন্ট করছিলো ‘আজকে একটা জামাই নাই বলে শাপলা বিলে যেতে পারিনা’। সেদিন ভেবে নিয়েছিলাম রৌদ্রময়ী আমার হলে তাকে নিয়ে পুরো শাপলা বিলের আনাচে কানাচে ঘুরবো। একে একে তার সকল ইচ্ছে পূরণ করবো”
আমি এক নজর সামনে বসা মানুষটার দিকে তাকালাম। এই মানুষটাকে জীবন সঙ্গী হিসেবে পেয়ে আমি ভাগ্যবতী। উনাকে জীবনে না পেলে হয়তো জীবনটাই অপূর্ণ থেকে যেত। শাপালে গুলো নেড়ে চেড়ে দেখছি। আরো কিছুদূর যেতেই নৌকা থামিয়ে দিলেন । আদ্র ভাই পায়জামা কিছুটা তুলে পানিতে পা ভিজিয়ে বসলেন। ওনার দেখাদেখি আমিও পা ভিজি বসলাম।
উষ্ণ প্রেমের আলিঙ্গন পর্ব ৩২
পানির মাঝে পা নাড়িয়ে দুস্টুমি করছি। পানিতে ছল ছল শব্দ হচ্ছে। হটাৎ মাথায় দুস্টু বুদ্ধি চেপে বসলো। কিছুটা পানি হাতে নিয়ে আদ্র ভাইয়ের দিকে ছুড়ে দিলাম। উনিও আমার দিকে ছুঁড়ে দিলো। পানি নিয়ে দুজন কিছুক্ষন দুস্টুমি করলাম। মাঝে নৌকার মাঝি ভাই শাপালে দিয়ে একটা মুকুট বানিয়ে দিলেন। আদ্র ভাই সেটা হাতে নিয়ে সুন্দর করে মাথায় পড়িয়ে দিলেন। আমার দিকে মুগ্ধ চোখে তাকিয়ে বললো,
“আমার শাপলার রানী”
