একজোড়া আগুন পাখি পর্ব ৪২ (৪)
রনীতা তুশ্মি
আনায়া কিচেনে রান্নার কাজে ব্যস্ত। এদিকে কেনীথ ড্রইং রুমের ফ্লোরে বসে বসে অরিনের সাথে খেলা করছে অরিন এখন হাটাহাটি করে অনেকটাই হাঁটতে শিখে গিয়েছে। মাথার লাল রাঙা চুলগুলো ঘাড় পর্যন্ত হয়েছে। টুকটাক কথা বলতেও পারে। তার শেখা প্রথম শব্দ ছিল ‘পাপা’ আনায়ার সুযোগ হয়নি, নিজের মেয়েকে প্রথমে ‘মা” ডাক শেখানোর। কেননা, কেনীথ শুরু থেকেই যেন যুদ্ধ ঘোষণা করেছিল—যেভাবেই হোক, মেয়ে আগে তার বাপকেই ডাকবে। আর সে এই যু’দ্ধে সফলও হয়।
কেনীথ দুহাত ছড়িয়ে,অরিনের উদ্দেশ্যে অনবরত ডেকে চলছে।
—-“পাপা!পাপা!পাপা! লেডিবাগ, এদিকে এসো!”
কেনীথের কথা শুনে অরিন খিলখিল করে হেসে ওঠে। অরিন হাঁটি হাঁটি করে কেনীথের দিকে এগিয়ে এলো। অস্ফুটস্বরে হেসে বলে,
“পা…পা!”
এই বলে না বলতেই— অরিন কেনীথ বুকে চলে আসতেই, কেনীথ জাপ্টে তাকে জড়িয়ে ধরে।এরপর দুজনে মিলে, আবারও চারপাশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা খেলনা দিয়ে—খেলতে শুরু করে
কেনীথ একপাশ হয়ে ফ্লোরে আধশোয়া হয়ে শুয়ে পড়ে,মাথার কাছে একহাত ঠেকায়। ওদিকে অরিন বসে বসে খেলনা দিয়ে খেলছে। কিন্তু কেনীথের ধ্যাহ জ্ঞান ভিন্ন দিকে। ভেতরে অদ্ভুত এক অস্বস্তি হচ্ছে। রান্নাঘরের দিকে কয়েকবার তাকিয়ে, আনায়ার কাজকর্ম দেখে। পরক্ষণেই বিরবির করে আওড়ায়,
“শা’লী ঠ্যাংওয়ালা চেংরীর—এখনও কাজকর্ম শেষ হয়না। এদিকে যে আমি, তার বিরহে সকাল থেকে শুঁকিয়ে শুঁকিয়ে আধমরা হচ্ছি—তা দেখবে কে শুনি? নিয়ম করে, বেলায় বেলায় দশ-বারোটা চুমু দিয়ে গেলেও তো—একটু-আধটু এনার্জি পাওয়া যায়।”
আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন
কেনীথ আর স্থির হয়ে থাকতে পারল না। ঠিকঠাক মতে উঠে বসে, অরিনের আশেপাশে বেশি করে কয়েকটা খেলনা সাজিয়ে দিয়ে — অরিনের উদ্দেশ্যে ফিসফিস করে বলল,
“হেই লেডিবাগ! আমি তোমার মাম্মামের কাছে যাচ্ছি।তোমার পাপার,এক্ষুনি কিছু এনার্জি ডোজের প্রয়োজন। তুমি সাবধানে থেকো।”
অরিন কি বুঝল তা সেই জানে। খিলখিল করে হেসে সে নিজের খেলায় ব্যস্ত হলো। এদিকে কেনীথ অরিনকে ওভাবে রেখেই, একপ্রকার ছুটে
রান্নাঘরে চলে যায়।
গিয়েই দেওয়ালেন সাথে হেলান দিয়ে, বুকে হাত গুজে—আনায়ার কাজকর্ম দেখতে লাগে। আনায়া মাংস কষাতে ব্যস্ত। কপালের আশেপাশে মৃদু ঘাম জমে গিয়েছে। এদিকে কেনীথ কিছুক্ষণ সময় তার দিকে তাকিয়ে থাকার পর বলল,
“এ্যাই বউ! ক্ষিদে পেয়েছে।”
আনায়া কেনীথের দিকে তাকায় না। মেজাজ তার এখন নিত্যন্তই কঢ়া। কাজ শেষে গোসলের পর হয়তো ঠান্ডা হবে। কিন্তু তার আগ পর্যন্ত সে পুরো অগ্নিকুণ্ডের ন্যায় জ্বলবে। আনায়া নিজেকে কোনোমতে সামলে নিয়ে,গাম্ভীর্যের সাথে জবাব দেয়,
“রান্না এখনো শেষ হয়নি।”
কেনীথ ওর গলার স্বরেই যা বোঝার বুঝে যায়।আলতোভাবে ঘাড় কাত করে, মিনমিনিয়ে বলে,”আচ্ছা।”
এরপর আর কোনো কথা নেই। সোজা আনায়ার পেছনে গিয়ে দাঁড়িয়ে, তার ঘর্মাক্ত গলার ভাঁজেই চোয়াল ঠেকিয়ে দেয়। রান্নার কড়াইয়ের দিকে তাকিয়ে থাকতে থাকতেই বলে,
“হেই ব্লাড! কি করিস?”
কেনীথের ধ্যান অন্য কোথাও। সে বলতে চেয়েছে একটা, অথচ বলেছে আরেক। কিন্তু কেনীথের কথা শুনে নিমিষেই আনায়ার কপাল কুঁচকে যায়। কেনীথ কি এই অবস্থায় তার সাথে মজা করতে এসেছে? নয়তো স্বচক্ষে সব দেখার পরও, এই প্রশ্ন কিভাবে করে? নিমিষেই মেজাজটা যেন হুহু করে বেড়ে যায়। কিন্তু কেনীথ তা মোটেও বুঝতে পারেনা। ওদিকে তার মেয়ে যে নির্দ্বিধায় খেলছে, এতেই সে খুশি।
তবে আনায়া কিছু বলছে না দেখে, কেনীথ পেছন থেকেই আনায়ার কপালের চুলগুলো, আঙুলের সাহায্যে কানের পাশে গুঁজে দিতে দিতেই বলে,
“তারা মাই ব্লা’ড!…আমার জানপাখি, কি হয়েছে? কথা বলিস না কেনো?”
আনায়া এবার তার কাজকর্ম থামিয়ে দেয়। চুলার আঁচটা কমিয়ে, কড়াইয়ে ঢাকনাটা দিয়ে ঢেকে দেয়।অতঃপর পেছনে ঘুরে কেনীথের মুখোমুখি হয়ে বলে,
“কি চাই?”
আনায়া থমথমে অভিব্যক্তিতে, কেনীথ বিন্দুমাত্র পাত্তা না দিয়ে — উল্টো বাচ্চাদের মতো নাটকীয় স্বরে, ঠোঁট উল্টিয়ে বলে,
“দেখ,এনার্জির অভাবে শুঁকিয়ে শুঁকিয়ে আমার কি হালটাই না হয়েছে।”
আনায়া শুরুতে কপাল কুঁচকে তাকালেও, পরবর্তীতে কেনীথের চেহেরার অবস্থা দেখে দীর্ঘ শ্বাস ফেলে বলে,
“শরবত বানিয়ে দেব?”
—-“নাহ,শরবতে কাজ হবে না। এনার্জি ডোজ লাগবে।”
নিমিষেই আনায়া কপাল কুঁচকে বলে,
“মানে?”
আনায়ার বলতে না বলতেই, কেনীথ তার মুখটা আনায়ার দিকে এগিয়ে দিয়ে বলে,
“চুমু লাগবে। কঢ়াহ্ চুমু। দশ-বারোটা দিয়ে দে। আধঘন্টার জন্য ফুল এনার্জি পেয়ে যাব।”
কেনীথের সাধাসিধা অভিব্যক্তিতে, আনায়া চোখমুখ সহ চোয়াল শক্ত হয়। দাঁতে দাঁত চেপে কিছুক্ষণ কেনীথের দিকে তাকিয়ে থাকার পর, পুনোরায় উল্টো ঘুরে নিজের কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। এতে কেনীথের কপাল কিছুটা কুঁচকে যায়। সে আবারও আনায়ার পিঠ ঘেঁষে দাঁড়িয়ে, যেইনা আনায়ার কোমড় হাত দিয়ে পেঁচিয়ে নিতে যাবে…ওমনি আনায়া হিসহিসিয়ে বলে ওঠে,
“খবরদার, ছোঁবেন না!”
আচমকা আনায়ার এহেন পরিবর্তনে, কেনীথ কিছুটা চমকে ওঠে। কয়েকবার চোখ পিটপিট করে, মনে মনে ভাবে হঠাৎ আবার কি হলো। এইতো সব ঠিক ছিল।
—-“কি হয়েছে ব্লা”ড? হঠাৎ কেনো…”
আনায়া পুনোরায় কেনীথের দিকে ফিরে তাকায়। চোখ রাঙিয়ে দাঁতে দাঁত চেপে বলে,
“মেয়েকে একা রেখে এসেছো কেনো?”
কেনীথ একবার রান্নাঘর থেকে সামনের দিকে উঁকি দিয়ে, অরিনকে দেখে নিয়ে বলে,
“মেয়ে তো ঠিকই আছে।”
—“কিসের ঠিক আছে?ও একটা বাচ্চা। ওকে এভাবে একা একা ফেলে আসার মানেটা কি?”
—“”আরেহ, হঠাৎ এমন করছিস কেনো?”
—-“তো কি করব? তামাশা করি আমি? দেখতেই পারছেন, কাজে ব্যস্ত। তবে কোন আক্কেলে এখানে তামশা করতে এসেছেন?”
—-“বউ আমার। শান্ত হো…”
কেনীথ কিছুটা ভারী শ্বাস ফেলে, আনায়াকে আঁকড়ে ধরতে নিলে…আনায়া দু’হাতে কেনীথকে সরিয়ে দিয়ে বলে,
“যাস্ট শা’টআপ। ছোঁবেন না আমায়। অসহ্য লাগে আপনার এসব কাজকর্ম। আমার তো আপনাকেই অসহ্য লাগে। যত্তসব বি’রক্তিকর। খবরদার আর আমার আশেপাশেও আসবেন না। আপনি আশেপাশে থাকলে, আমার গা জ্বলে। কাজ করি আমি, আপনার মতো শুয়ে-বসে থাকিনা। এক মেয়েকে একটু সামলাতে দিয়েছি তাও পারেনা৷”
—-“আনায়া…”
—-“চুপ থাকেন। আপনাদের না খাঁচা ভর্তি মেইল ইগো। তো এতো কথা শোনাই,তবুও কেনো কথা মাথায় ঢোকে না? মিনিমাম সেলফ্ ইগো থাকলে, আর একবারও যেন আমার আশেপাশে না দেখি। এখন যান এখান থেকে।”
আনায়া এই বলেই, পুনোরায় নিজের কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। এদিকে কেনীথ একমনে আনায়ার কথা শগনে, কিচেন থেকে আলগোছে বেড়িয়ে পড়ে। বাড়তি একটা শব্দও করেনা। একই সাথে কেনীথের অভিব্যক্তি ঠিক কি রইল,তাও বোঝা যায় না।
কেনীথ প্রচন্ড মনোযোগী হয়ে নিজের ল্যাপটপে কাজ করছে। এমনিতেই অরিনের হওয়ার পর থেকে, তার কাজকর্ম করার সময়ই হয়ে ওঠে না। বেশির ভাগই একপ্রকার পাভেলের উপর ছেড়ে দিয়েছে। তবে মাঝেমধ্যে টুকটাক দেখভাল না করলেও নয়। তাই রাতের সময়টুকু…অরিন ঘুমিয়ে পড়লেই শান্তিতে কাজের সুযোগটুকু মেলে। নয়তো অরিন জেগে রইলে সর্বক্ষণ তার চিন্তাই মাথায় ঘুরপাক খায় আর তার কাজেও কোনো প্রকার মন বসে না।
কেনীথের পরনে কালো রংএর হুডি আর টাউজার। বেডরুমে আপাতত সে ব্যতীত আর কেউই নেই। ঘরের এক পাশের কোণায়, জানালার পাশে স্টাডি টেবিলে বসে বসে নিজের কাজ করে যাচ্ছে।ইদানীং রাতের বেলায় ভালোই ঠান্ডা পড়ে। যার দরূন জানালাটা খোলা রাখায় হঠাৎই দমকা শীতল হাওয়া গায়ে উপর উপচে পড়ছে। তবে তা কেনীথের কাজে ব্যাঘাত ঘটাচ্ছে না।
এরইমাঝে রুমে হঠাৎ আনায়া এলো। কোলে তার ঘুমন্ত অরিন। এতোক্ষণ ড্রইং রুমে কোলে নিয়ে, ঘুরে ঘুরে ঘুম পাড়াতে হয়েছে। সারাদিন এতো কাজ আর পরিশ্রমের পর, এভাবে ঘন্টা খানেক সময় নিয়ে ঘুম পাড়াতে খানিকটা বেগ পেতে হলেও, অরিনের ঘুমিয়ে যাওয়ার পর সবকিছুই যেন শান্ত। এই নিয়ে খানিকটা প্রশান্তি কাজ করলেও, সারাদিন অরিনের সাথে হেসে খেলে সময় পার করাটাও একটু বেশিই উপভোগ্য। যা সে ঘুমিয়ে গেলে আর পাওয়া যায় না।
আনায়া অরিনকে বিছানায় ভালো মতো শুইয়ে দেয়। এতোক্ষণ সেভাবে আর কেনীথকে খেয়াল করার তার সুযোগ হয়নি। এমনিতে সবসময় কেনীথ তার আশেপাশে থাকলেও, আজ বিকেল থেকে কেনীথ অদ্ভুত ভাবে তার থেকে দূরে সরে রয়েছে। আনায়া বিষয়টা ভাবতেই খানিকটা ভ্রু কুঁচকে ফেলল।ভাবতে লাগল আজ হঠাৎ এমন কি হলো যে, সারাক্ষণ তার পেছন পেছন ঘুরঘুর করতে থাকা কেনীথ এখন তার থেকেই এতো সময় ধরে দূরে সরে রয়েছে। এমনিতে বিকেলের পর থেকে তার সাথে কেনীথের কোনো কথাও হয়নি।
এরইমাঝে আনায়ার আচমকা কিচেনের ঘটনার কথা মনে পড়ে। এরপর যা বোঝার, তা সে বুঝে নেয়। কিছুটা মুচকি হেসে কেনীথের দিকে এগিয়ে যায়।
—“এই যে শুনছেন?”
আনায়া খানিকটা আলতোস্বরেই তাকে ডাক দেয়। বহু কষ্টে অরিনকে ঘুম পাড়িয়েছে। এখন একটু জোর স্বরের কারণে যদি উঠে পড়ে, তবে তাতেই বিপত্তি। এদিকে আনায়ার কথায় কেনীথ কোনো সারা দেয় না। আনায়া আবারও ডাকে,
“এই যে ভিকে মশাই,শুনছেন?”
কেনীথ এবারও কোনো জবাব দেয় না। এদিকে আনায়া খানিকটা মুচকি হেসে দীর্ঘ শ্বাস ফেলে আওড়ায়,
“বুঝেছি, আজ আর এভাবে কাজ হবে না। তবে চিন্তা নেই, আমিও আবার কম কিসে। এখনই এই খারুছের রাগ গায়েব করার ব্যবস্তা করছি।”
এই বলেই আনায়া আলমারির দিকে এগিয়ে যায়। আলমারিতে কিছু একটা খুঁজতে খুঁজতে খানিকটা কপাল কুঁচকে ফেলে। পেছনে মুখ ফিরিয়ে কেনীথের উদ্দেশ্যে বলে,
“এই তোমার সাদা টিশার্ট নেই? সবই তো দেখছি কালো।”
কেনীথ কোনো উত্তর দেয় না।বরং চোয়াল আরো শক্ত করে, দৃঢ় চাহনিতে ম্যাকবুকের স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকে। এদিকে আনায়া খানিকটা বি”রক্ত হয়ে মুখ ফিরিয়ে নেয়। কিছুটা বিরবির করে আওড়ায়,
” উফফ,এই লোকটাকে নিয়ে আর পারা যায় না। এই জনমে আর হয়তো তাকে এই কালো ছাড়া অন্য কোনো রং-এ দেখতে পাব না। সবই আমার কপাল।”
এই বলতে না বলতেই আনায়ার অন্য কিছুর কথা মনে পড়ে। আবারও আলমারিতে কিছু খুঁজতে খুঁজতে বলে ওঠে,
“এ্যাই! তুমি যে মালদ্বীপে সাদা কালারের শার্টটা পড়েছিলে, সেটা কোথায়?”
যদিও এবারও কেনীথের কোনো প্রতিত্তোর মেলে না। তবে আনায়া খানিকটা আশান্বিত হয়ে বিড়বিড়িয়ে আওড়ায়,
“ওটা যথেষ্ট বড়সড় ছিল।তবে কিছুটা পাতলা,কিন্তু ব্যাপার না! ওটাই ঠিক কাজে লাগবে।”
এই বলতে না বলতেই আনায়া সেই সাদা রংএর টিশার্টটা খুঁজে বের করে। আদৌও এটা কি সেই শার্ট কিনা আনায়া বুঝতে পারছে না। সেইদিনের পর কখনো কেনীথকে এসব সাদা কিংবা কালো ব্যতীত অন্য কালারের কিছু পড়তেও দেখেনি। এই নিয়ে খানিকটা হতাশ হলেও, সাদা শার্ট যে খুঁজে পেয়েছে এতেই সে খুশি।
Darlin, can I be your favorite?
I’ll be your girl, let you taste it
I know what you want, yeah, just take it
Darlin’, can I be your favorite?
Want you to tell me you crave it
My name’s whatever you make it
আনায়া প্রচন্ড উচ্ছ্বসিত হয়ে, গুন গুন করে গান গাইতে গাইতেই বাথরুমে শাওয়ার নিতে চলে যায়।
যদিও এমনিতে এতো রাতে ঠান্ডার মাঝে গোসলের কোনো প্রয়োজন ছিল না, তবে আনায়ার কাছে এটাই বেস্ট অপশন বলে মনে হলো।
এদিকে আনায়া বাথরুমে ঢুকে যাওয়া মাত্রই কেনীথ শান্তিতে ভারী শ্বাস ফেলল। এবং পুনোরায় কঠোর গম্ভীরমুখে কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়ল।
প্রায় অনেকটা সময় পর, আনায়া লম্বা একটা শাওয়ার নিয়ে রুমে প্রবেশ করে। পরনে শুধু কেনীথের সেই সাদা শার্ট আর মাথায় জড়ানো সাদা তোয়ালে। এছাড়া পরনে আর কিছুই নেই। গায়ে এখনো পানির বিন্দু কণা লেগে আছে। ভেজা শরীরের সাথে সাদা শার্টটা পুরো লেপ্টে রয়েছে। একইসাথে দৃশ্যমান শরীরের প্রতিটি বাঁকের ,প্রতিটি ভাজ। শার্টের হাত দুটো কনুই পর্যন্ত এলোমেলো ভাবে গুটিয়ে রাখা। খুব বেশি হলে শার্টটা তার উরু অব্দি লম্বা। কিন্তু এতে আনায়ার কোনো হেলদোল নেই। যেন এসব সে নিজ প্রস্তুতিতেই করেছে। গলার দুটো বাটন খোলা রেখে, একপাশের বিস্তৃত কাঁধ উন্মুক্ত রেখেছে।
এতোক্ষণে রাতও হয়েছে অনেকটাই গভীর। সে রুমে প্রবেশ করে দেখে, কেনীথ এখনো বসে বসে নিজের কাজ করে যাচ্ছে। ওদিকে তার মেয়ে দিব্যি শান্তিতে ঘুমোচ্ছে।
আনায়া শুরুতে ড্রেসিং টেবিলের সামনে গিয়ে একপলক নিজেকে দেখে। নিমিষেই লজ্জায় তার গা কুঁকড়ে যায়।সে নিজেকে কোনো মতে সামলে, ভিকে স্পেশাল ব্লা’ড পারফিউমটা খুঁজে নিয়ে ইচ্ছেমতো গায়ে লাগিয়ে নেয়। এরপর সরাসরি কেনীথের কাছে এগিয়ে যায়। পেছন থেকে কেনীথের কাঁধে চোয়াল ঠেকিয়ে স্ক্রিনের দিকে নজর দেয়। শুরুতে কেনীথ কিছুই বলে না। এমনকি আশেপাশে ফিরে আনায়ার দিকে তাকানোরও প্রয়োজন মনে করে না। আনায়া খানিকটা সময় ওভাবেই অতিবাহিত করার পর, আচমকা একহাত এগিয়ে ম্যাকবুক লিড নামিয়ে বন্ধ করে দিতে নিলে… ওমনিই কেনীথ ক্ষিপ্ত চাহনিতে পাশে ফিরে আনায়ার দিকে তাকায়। আনায়া কেনীথের অভিব্যক্তিকে একটুও পাত্তা না দিয়ে মুচকি হাসে।
কেনীথ আবারও মুখ ফিরিয়ে, ম্যাকবুক অন করে নিজের কাজে মনোযোগী হবার চেষ্টা করে। কিন্তু আনায়া এতেও বাঁধা সাধে। সে আবারও ল্যাপটপ বন্ধ করে দিয়ে, পাশে এসে সোজাসুজি দাঁড়িয়ে যায়। এদিকে কেনীথও টুল থেকে দাঁড়িয়ে, ক্ষিপ্ত চাহনি নিয়ে আনায়ার দিকে ফিরে তাকিয়ে, হিসহিসিয়ে বলে,
“আনায়া!!!”
আনায়া আচমকা ঠোঁট চেপে হেসে, টুপ করে গিয়ে কেনীথের ঠোঁটে ঠোঁট ছুঁইয়ে পুনোরায় দূরে এসে দাঁড়ায়।
—“ইয়েহ্, কাজ হয়েছে তবে।”
আনায়া এহেন কান্ড ঘটিয়ে,প্রচন্ড খুশি হলেও কেনীথ মোটেও সন্তুষ্ট হয় না এসবে। বরং এতে আরো বেশি তার মেজাজ খারাপ হয়। কোনোমতে নিজেকে সামলে, পুনরায় মুখ ফিরিয়ে নিয়ে, টুলে বসে পড়ে। এদিকে আনায়া যে কোন পর্যায়ে দাঁড়িয়ে ছিল, তা একবারও তার নজরে পড়ে না।সে আবারও ম্যাকবুক অন করতে নিবে এমন মূহুর্তে… আচমকা আনায়া নিজের মাথা থেকে তোয়ালে খুলে, ফ্লোরে ছুঁড়ে মা”রে। অতঃপর গিয়ে কেনীথের উরুর উপর, তার মুখোমুখি হয়ে চড়ে বসে। কেনীথ এতে হতভম্ব হয়ে গেলেও,আনায়া সম্পূর্ণ নির্বিকারে তার দিকে তাকিয়ে। নিজের উন্মুক্ত দুটো ভেজা সিক্ত পা, কেনীথের উরুর দুপাশে ঝুলছে। আনায়া নিজেকে খানিকটা ঠেলে, কেনীথের বুকের সংলগ্নে নিজেকে মিশিয়ে নেয়। তার ভেজা চুল কেনীথের গায়ে গলার সাথে লেপ্টে রয়েছে। এছাড়া আনায়ার পরনের শার্টটাও ভেজা চুলের সংস্পর্শে ধীরে ধীরে সম্পূর্ণটাই ভিজে যাচ্ছে।
এদিকে আনায়া সেসবে পাত্তা না দিয়ে, কেনীথের হুডির গলার ফিতে দুটো, দু’হাতে টেনে ধরে বলে,
“এই যে খলিজা! এতো রাগ কেনো শুনি?”
কেনীথ কোনো কথা বলে না। সে চোয়াল শক্ত করে মুখ উঁচিয়ে, সামনের দেওয়ালের দিকে তাকিয়ে। এদিকে আনায়ার থামবার কোনো নাম নেই। সে কেনীথের গলার টানটান ত্বকে— ক্রমশই ওঠানামা করা অ্যাডম অ্যাপেলে আলতোভাবে আঙুল দিয়ে ছুঁয়ে দিতে থাকে।
I was nineteen in a white dress
When you told me I’m your princess
So I played right in to your fantasy
Was your good girl, so I’d sit tight
And if I don’t speak, then we can’t fight
Looked in the mirror, now I can’t believe
I forgot I was a bad bitch, tragic
Breaking all the rules ’cause they were only habits
Cinderella’s dead now, casket
You thought the shoe fit but I
(Da-da-da, da-da-da, da-da-da, da-da-da-da…
I আনায়া গুন গুন করে গাইতে গাইতেই অকস্মাৎ থেমে যায়।অতপর কি যেন ভেবে নিয়ে বলে,
“উফ,ভুল হয়েছে। আমি তো আবার এক বুড়োর সাথে থেকে থেকে বুড়ি হয়ে গিয়েছি। নাইন্টিন হতে যাব কোন দু্ক্কে?”
আনায়া নির্বিকারে নিজের কাজকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে। এদিকে কেনীথ যেন সব কিছু মিলিয়ে আরো খানিকটা অপ্রস্তুত হয়ে পড়ে। ইতস্ততভাবে আনায়ার দিকে না তাকিয়েই তাকে দূরে সরাতে নিলে, আনায়া বাঁধা সাধে। সে একদম মোহনীয় স্বরে আওড়ায়,
“এই যে আমার জলহস্তী। রাগ কমেনি?”
কেনীথ কিছু বলেনা। এদিকে আনায়া আবারও বলে,
“আমি এতো কথা বলছি, কিছু বলছো না কেনো?”
আনায়ার কন্ঠস্বরে যথেষ্ট দৃঢ়তা। কিন্তু তার এই তেজ-ই যেন কেনীথের সহ্য হচ্ছে না। সে মুখ ফিরিয়ে জোর করেই পুনোরায় ম্যাকবুক ছুঁতে নিলে…আনায়া এবার আচমকা বিস্ময়কর কান্ড ঘটিয়ে ফেলে। নিমিষেই মেজাজ ক্ষি”প্ত করে, কোনো মতে পাশে ফিরে, ম্যাকবুকটা হাতে তুলে নিয়ে— সোজা জানালা দিয়ে বাহিরে ছুঁড়ে ফেলে দেয়। মূহুর্তেই কেনীথের অভিব্যক্তি পরিবর্তন হয়ে অগ্নিকুণ্ডে পরিণত হয়। তিন তলা থেকে নিচে পড়ে এতোক্ষণে তা নিশ্চিত ভেঙ্গে গুড়ো গুড়ো। তার চেয়ে বড় কথা সেখানে থাকা সব কাজের ফাইল…।কেনীথের চোয়াল শক্ত, ক্ষি’প্ত চাহনিতে আনায়ার দিকে তাকিয়ে থাকতে থাকতেই, তাকে ধাক্কা দিয়ে নিজে দূরে সরে আসতে চাইলে…আনায়া উল্টো তাকে আরো নিজের কাছে টানে। দু’হাতে গলার কাপড়ের অংশটুকু শক্ত হাতে খিঁচে বলে ওঠে,
“তখন ওমন রুড ব্যবহার করার জন্য সরি।”
ম্যাকবুক জানালা দিয়ে ফেলে, এখন বলছে তখনকার রুড ব্যবহারের জন্য সরি? নিমিষেই যেন কেনীথের মেজাজ আরো বিগড়ে যায়। সে একপ্রকার ধাক্কা দিয়ে আনায়াকে দূরে সরাতে নিলে, আনায়া আবারও কেনীথকে শক্ত করে নিজের সাথে আঁকড়ে ধরে রাখে। এবার তার একহাত চলে যায় কেনীথ ঘাড়ের পেছনের চুলের মাঝে। চুল আর ঘাড় খামচে ধরে কেনীথের মাথা নিজের দিকে এগিয়ে আনে। অতঃপর কপালে কপাল ঠেকিয়ে কঢ়া স্বরে বলে,
“এই যে, এতো কিসের রাগ তোমার,হ্যাঁ? সরি বলেছি না আমি?”
—“তোর সরি, তুই-ই খা!”
দু’জনের মাঝে এখন নীরব যু’দ্ধ চলছে। কেউই জোরে কোনো কথাবার্তা বলছে না, কেননা বিছানায় অরিন এখনো ঘুমে রয়েছে। ও একবার উঠে গেলে তা কারোর জন্যই ভালো হবে না। কিন্তু কেনীথ কিংবা আনায়া—কেউই এতো সহজে হার মানার লোক নয়। দুজনেই দুজনের জেদেই আঁটকে রয়েছে। কেনীথ এবার আনায়ার দুবাহু শক্ত করে চেপে ধরে সরাতে চাইলে, আনায়া পাশে হাত সরিয়ে, টেবিল থেকে একটা ফাউন্টেন পেন শক্ত হাতে তুলে নেয়। অতঃপর তা সরাসরি কেনীথের বুকের বা পাশে চেপে ধরে, অনবরত হিসহিসিয়ে কঢ়া-চাপা স্বরে বলে উঠল,
“এ্যাই! একদম চুপচাপ থাকো নাহলে…একবার যদি মেয়ে উঠে যায়, তবে সোজা চিবিয়ে খাব।”
“এ্যাই! একদম চুপচাপ থাকো নাহলে…একবার যদি মেয়ে উঠে যায়, তবে সোজা চিবিয়ে খাব।”
দু’জনের দৃঢ় ক্ষি”প্ত দৃষ্টি একে অন্যের উপর নিক্ষি”প্ত। দুজনই জোরে জোরে শ্বাস ফেলছে। এরইমাঝে কেনীথ বলে ওঠে,
“কি চাই তোর?”
—“তোমাকে!”
—“কেনো চাই?”
—“জানি না, তবে আমার তোমাকেই চাই।”
—“পাগলামি না করে ঘুমিয়ে যা। আমার মেজাজ আর খারাপ ক’রিস না।”
—“হ্যাঁ,তুমিও চলো। তোমাকে ছাড়া কোথাও যাব না আমি।
—“হাহ্,মজা করিস না। যা গিয়ে ঘুমিয়ে পড়।”
—“না, আমি ঘুমাব না। তোমাকে ছাড়া ঘুৃম আসবে না আমার।”
আনায়ার চোখজোড়া খানিটা ছলছলে। কন্ঠস্বরও ধীরে ধীরে ভেঙে আসছে। এদিকে কেনীথ খানিকটা তাচ্ছিল্যের সাথে হেসে বলল,
“আমি না প্রচন্ড বিরক্তিকর! তোর না আমাকে সহ্য হয়না। এখন যে আমাকে নিয়ে ঘুমাতে চাইছিস, তা এতে তোর গা জ্ব”লে যাবে না?”
আনায়ার নাকের পাটা ফুলে যায়। ঠোঁট উল্টে শক্ত করে চেপে ধরে। কেনীথের দিকে ছলছলে চোখে তাকিয়ে থাকতে থাকতেই কেনীথ আবারও বলে।
“যা, সরে যা এখান থেকে।”
এই বলেই কেনীথ আনায়াকে দূরে সরাতে চাইলে, আনায়া আচমকা কেনীথের গলা-মাথা দুহাতে পেঁচিয়ে আঁকড়ে ধরে,তার ঠোঁটে দৃঢ় ভাবে নিজের ঠোঁট মিলিয়ে দেয়। এতোটাই দৃঢ় যে, আনায়া যেন উম্মাদ হয়ে উঠেছে। একইসাথে তার চোখ বেয়ে কয়েকফোটা জলও গড়িয়ে পড়ে। কিন্তু কেনীথ এতেও নির্বিকার। সে আনায়াকে না ধরে, উল্টো তার গা থেকে হাত সরিয়ে নামিয়ে নেয়। যা বোঝামাত্রই আনায়া কেনীথকে ছেড়ে দিয়ে। কেনীথের বুকের বা’পাশে সজোরে মুঠো হাতে আঘাত করে। একইসঙ্গে ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠে বলে,
“সরি বলেছি না! তাহলে কেনো এমন করছেন?”
কেনীথ ওর দিকে তাকিয়ে থাকতে থাকতেই,খানিকটা তাচ্ছিল্যের সাথে হেসে ফেলে।
—“তুই কাঁদছিস কেনো?”
—“আপনি এমন কেনো করছেন?”
—“কি করছি আমি?”
আনায়া আবারও কেনীথের বুকে আঘাত করে বলে,
“ঠিক হচ্ছে না কিন্তু!”
—“ওহ… আচ্ছা।”
—“আমি কিন্তু আপনাকে মে’রে ফেলব।”
—“ঠিক আছে। কিন্তু আমাকে ছাড়া বাঁচতে পারবি তো?”
আনায়া কেনীথের দিকে তাকিয়ে থাকতে থাকতেই কেনীথকে শক্তভাবে জড়িয়ে ধরে। কেনীথের বুকে মুখ গুঁজে ফুঁপিয়ে কাঁদতে শুরু করে। কেনীথ খানিকটা সময় কোনো প্রতিক্রিয়া করে না। পরবর্তীতে আনায়াকে দুহাতে আঁকড়ে ধরে, পেছন হতে মাথায়,পিঠে হাত বুলিয়ে দেয়।
—“হয়েছে আর কাঁদতে হবে না। এবার থাম।”
—“আগে বলুন, মাফ করেছেন কিনা!”
—“হুম।”
এটা শোনামাত্রই আনায়া মুখ তুলে তাকায়। নিমিষেই তার কান্না থেমে যায়।কেনীথ খানিকটা কপাল কুঁচকে বলে,
“কাহিনি কি? হঠাৎ এতো দ্রুত কান্না থেমে গেল যে?”
আনায়া খানিকটা মুচকি হেসে বলে,
“কাজ হয়ে গিয়েছে, তাই কান্নাও থেমে গিয়েছে।”
—“তার মানে এটা অভিনয় ছিলো?”
—“হুঁশ! আমার ইমোশন এতোটাও ফাও না যে, এমনি এমনি চোখের জল ফেলব।”
কেনীথ খানি হেসে ভ্রু উঁচিয়ে বলে,
“ওহ!… যাই হোক, রাত কিন্তু অনেক হয়েছে। তুই গিয়ে শুয়ে পড়। আমি কাজ শেষ করেই আসছি।”
এ কথা শোনা মাত্রই আনায়া আবারও খানিকটা ক্ষি’প্ত হয়। কপাল কুঁচকে কেনীথের উদ্দেশ্য বলে,
“এ্যাই! আমি এতো রাতে ঠান্ডার মধ্যে গোসল করে, এসব পড়ে এসেছি কি তোমার এইসব কাজের কথা শুনতে?”
কেনীথ পিটপিট করে তাকিয়ে বলে,
“কোন সব…”
এই বলতে না বলতেই কেনীথ নিচের দিকে তাকাতেই অনেকটা বেশম খেয়ে কেশে ওঠে। নিমিষেই গলা শুকিয়ে চৌচির হয়ে যায়।কেনীথ খানিকটা ঢোক গিলে, ঠোঁট ভিজিয়ে নিজেকে সামলানোর চেষ্টা করে। এতোক্ষণ তো সে খেয়ালই করেনি এসব। নিজেকে সমালাতে গিয়ে মাথা ঘুরছে তার। নিশ্বাস আঁটকে রয়েছে গলায়। এতোক্ষণ নিজের প্রিয় পারফিউমের স্মেল সেভাবে অনুভব করতে না পারলেও, এখন যেন তা কঢ়া রূপে তার সম্পূর্ণ অস্থিত্বকে নাড়িয়ে দিচ্ছে। তার চাহনি এখন ইতস্ততভাবে আশেপাশে ঘুরপাক খাচ্ছে। এই মেয়ে আজ এমন অবস্থায়…ইনারটাও পর্যন্ত পড়েনি। কেনীথ চোয়াল শক্ত করে হাত দুটো শক্ত ভাবে মুঠো করে নেয়।
এদিকে আনায়া কেনীথের অভিব্যক্তি স্পষ্ট বুঝতে পেরে, অকস্মাৎ ঠোঁট কামড়ে মুচকি মুচকি হাসতে শুরু করে। সে আরো কেনীথের বুকের সাথে ঘেঁষে লেপ্টে যায়।কেনীথের নিশ্বাস আঁটকে যায়। গলার ভাঁজের আদলে থাকা অ্যাডাম অ্যাপেল ক্রমশই ওঠানামা করছে। আনায়া ঠোঁট কামড়ে, সে জায়গায় ঠোঁট ছুঁইয়ে দিতে নিলে…কেনীথ বিক্ষি”প্ত স্বরে বলে ওঠে,
—“আর কি চাই তোর?”
আনায়া নিজেকে থামিয়ে, কেনীথের ঠোঁট বারবার আঙুল ছুঁইয়ে, নাকের সাথে নাক ঘেঁষে ফিসফিসে আওড়ায়,
“আদর চাই! আদর!”
—“কেমন আদর চাই?”
—“একদম কঢ়াহ্!”
এই বলেই আনায়া ঠোঁট কাম”ড়ে ধরে।আর কেনীথ কিঞ্চিৎ ঢোক গিলে, আনায়া হতে চোখ ফিরিয়ে পাশে ফিরে তাকায়। পরবর্তীতে আবারও নিজেকে স্বাভাবিক করে নিতে না নিতেই, আনায়া মুচকি হেসে বলে ওঠে,
“এই তোমার গরম লাগছে না? এই দেখো, শাওয়ার নেবার পরও আমার বড্ড গরম করছে। একটা কাজ করি, আমি আমারটা খুলছি, তুমি তোমারটা খুলে ফেলো।”
কেনীথ চোখ পিটপিট করে আনায়ার দিকে তাকায়। এদিকে আনায়ার গলার দুটো বাটন খোলা রেখেই কেনীথের অবস্থা নাজেহাল করেছে। এখন তিন নম্বরটা খুলতে নিতে না নিতেই,কেনীথের দম বন্ধ হয়ে এলো। সে শক্ত করে আনায়া হাত চেপে ধরে আঁটকে দেয়। আনায়ার তার দিকে তাকিয়ে ফিসফিসিয়ে বলে ওঠে,
“কি হলো, খুলব না?”
কেনীথ কিছু বলে না। বরং কয়েকবার জোরে শ্বাস ফেলে আচমকা আনায়ার কোমড় একহাতে পেচিয়ে নিজের সাথে শক্তভাবে মিশিয়ে নেয়। অতঃপর এক মূহুর্তের মাঝেই আনায়া মাথার পেছনে, শক্ত ভাবে হাত রেখে বলে,
“নাহ,আমি খুলব।”
অতঃপর সোজা ওষ্ঠে ওষ্ঠ মিলিয়ে দেয়। একটা দীর্ঘ সময় পর্যন্ত সে একবারও আনায়াকে ছাড়ে না। উল্টো অকস্মাৎ আনায়াকে নিয়ে বসা হতে দাঁড়িয়ে যায়। আনায়া পা দুটো এক করে,শক্ত ভাবে, জড়িয়ে ধরে রয়েছে কেনীথকে। তার দুহাত পেঁচানো রয়েছে কেনীথের ঘাড়-গলায়। এবং কেনীথও ঠিক একই ভাবে তাকে শক্ত ভাবে নিজের সাথে মিশিয়ে রেখেছে। এদিকে কেনীথ ধীরে ধীরে রুম থেকে বেড়িয়ে যাওয়ার উদ্দেশ্য পা বাড়ায়। এমন মূহুর্তে প্রায় অনেকটা সময় পর আনায়া স্বইচ্ছায় নিজেকে ছাড়িয়ে নিয়ে হাঁপাতে হাঁপাতে বলে,
“এ্যাই কোথায় যাচ্ছো? আমি তো যাস্ট মজা করেছি…”
আনায়ার কথা শেষ হবার পূর্বেই কেনীথ কিঞ্চিৎ ভ্রু উঁচিয়ে বলে,
“মজা? আমাকে ক”ন্ট্রোললেস করে, এখন বলছিস এতোক্ষণ মজা করেছিস? ওয়েট, মজা কি জিনিস—এবার আমি তোকে বুঝাচ্ছি।”
এই বলেই কেনীথ রুম থেকে বেড়িয়ে যেতে নিলে, আনায়া খানিকটা ঢোক গিলে মিনমিনয়ে বলে,
“এ্যাই হাব্বি! শুনো না!”
—“এখন আর বাহানা দিয়ে কোনো লাভ নেই ম্যাম। আপনার যা করার তা করে ফেলেছেন।”
এমন সময় আনায়া আবারও বলে,
“এই শুনো! রাতে তুমি কিছু খাওনি। এসব বাদ দেও প্লিজ। খেয়ে দেয়ে সোজা ঘুমিয়ে পড়।”
—“হুম তো! এখন তোকে খাব। তাতেই আমার সব ক্ষিদে মিটে যাবে।”
আনায়া চোখ পিটপিট করে কিছুক্ষণ কেনীথের দিকে তাকিয়ে থাকার পর,আমতাআমতা করে বলে,
“মেয়ে ঘুমাচ্ছে, ওকে একা একা রেখে যাওয়াটা কি ঠিক হবে? পাগলামি করছো তুমি।”
—“এই জন্য বলেছিলাম, বিরক্ত না করে ঘুমিয়ে পড়। এখন সিংহকে ঘুম থেকে জাগিয়ে বলছিস, ‘আমাকে খেও না!’
—“আরেহ আমি তো…”
—“তুই কি ভয় পাচ্ছিস?”
—“কি আজব, ভ…ভয় কেনো পাব। কিন্তু আমার তোমাকে ঠিকঠাক লাগছে না। প্লিজ এসব বাদ দেও। এমনিতেও অনেক রাত হয়ে গিয়েছে। আর অরিনকে রুমে একা রেখে যাওয়াটাও ঠিক হবে না।”
কেনীথ কিঞ্চিৎ কপাল কুঁচকে, প্রচন্ড আশ্বস্ত হয়ে বলল,
“আমার মেয়েকে নিয়ে তোর চিন্তা না করলেও চলবে। ও যথেষ্ট ম্যাচিউর৷ আর যাই হোক, ও ওর বাবার পারসোনাল টাইমে নিশ্চয় ডিস্টার্ব করবে না। বাই দ্য ওয়ে, এতো টেনশনের কিচ্ছু নেই। খুব বেশি সময় নেব না।অল্প সময়েই কাজ সেড়ে ফেলব।”
কেনীথ আনায়াকে বাম চোখ মা”রে। কিন্তু আনায়ার আর কিছু বলার সুযোগ হয়না। বরং তার পূর্বেই কেনীথ আবারও বলে,
একজোড়া আগুন পাখি পর্ব ৪২ (৩)
“আজ তবে এই হোয়াইট শার্ট আবারও সাক্ষী হবে—তোর উ”ন্মাদনা আর আমার পাগলামির সীমাহীন গল্পের।”
এই বলেই কেনীথ আনায়ার ঠোঁট শক্ত করে চেপে ধরে রুম থেকে বেড়িয়ে পড়ে, পাশের রুমের উদ্দেশ্যে।এদিকে একা ঘরে নির্বিকারে ঘুমিয়ে থাকে অরিন। আর ওদিকে জগতের কোনো এক ভিন্ন ভিন্ন প্রান্তে, নিঃসঙ্গতার দুই অদ্ভুত প্রেমিক প্রেমিকা রাত জাগে—নিজেদের একতরফা ও না পাওয়া ভালোবাসার বিরহে। আর ততক্ষণে পাশের রুম হতে ভেসে আসে স্তব্ধতাভাঙা এক তীব্র ধ্বনি, যা রাত্রির নিস্তব্ধতাকে বিদীর্ণ করে দেয়।
“আআআআআআআআআআআআআআআ…”
