এমপির অবাধ্য বউ পর্ব ২১
সুহাসিনী
রাহি প্রেমের গলা শুনে চমকে গেলো,আবার কিছুটা অবাকও হলো।প্রেমের এতো আবেগ মিশ্রিত কণ্ঠ এর আগে কখনো শুনেনি সে।প্রেম রাহিকে তার দিকে ঘুরিয়ে কাঁধে হাত রেখে একি সুরে বলল,
“সামান্য কয়েকটা জিনিস এর জন্য এমপির অবাধ্য বউ অসুস্থ হয়ে যাবে এটা তো ঠিক না।আমার বেগমজানকে হতে হবে আমার মতো স্ট্রং।”
রাহির চোখ ছলছল করে উঠলো।প্রেম রাহিকে কোলে তুলে নিলো।রুমে এসে রাহিকে নামাতেই রাহির চোখ বড় বড় হয়ে গেছে। পুরো বিছানা কাচের চুড়ি আর ব্র্যান্ডের মেকআপ দিয়ে ভর্তি। রং বেরঙের নানা ডিজাইনের চুড়ি।এবার রাহি আর আবেগ সামলাতে না পেরে কান্না করে দেয়।প্রেমকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে।
প্রেম মুচকি হাসে।কিন্তু তা রাহির চোখে পড়ার আগেই মিলিয়ে যায়।প্রেম শান্ত বললো,
“কান্না করলে কিন্তু এগুলো আবার ভেঙে ফেলবো আমি।বাচ্চাদের মতো ফেচ ফেঁচ কান্না আমার পছন্দ না।”
রাহি মুখ ফুলালো।প্রেমকে ছেড়ে বিছানার এক কোণে বসলো।এক এক করে উল্টিয়ে চুড়ি দেখছে সে। প্রায় একশো জোড়া চুড়ি তো হবেই।রাহি চুড়ি গুলো উল্টে পাল্টে দেখে শক্ত কণ্ঠে বললো,
“আপনাকে এতো গুলো চুড়ি কে আনতে বলেছে?আমি কি এগুলো নিয়ে এখন রাস্তার পাশে দোকান দিবো?”
প্রেম ভাবলেশহীন ভাবে বললো,
“তোমার যেহেতু দরকার নেই তাহলে দাও আমার কিউট একটা গার্ল ফ্রেন্ড আছে তাকে দিয়ে আসি।”
রাহি টাশকি খেয়ে গেলো।গাল ফুলিয়ে বললো,
“আপনার সত্যি গার্লফ্রেন্ড আছে?”
“হুম,একটা না অনেক গুলো।প্রত্যেক জেলায় জেলায় একটা করে, মোট ৬৪ টি।”
রাহি এবার প্রেমের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে।খামচে ধরে প্রেমের পাঞ্জাবী।রাগে হিতাহিত জ্ঞান শূন্য হয়ে বলে,
“ওই লুচ্চা, আপনার কয়টা লাগে?বউ থাকতে বাইরে মেয়ে নিয়ে ফুর্তি করেন।দাঁড়ান আমিও আপনাকে ডিভোর্স দিয়ে আমার এক্স বয়ফ্রেন্ড এর কাছে চলে যাবো।”
প্রেম ভ্রু কুঁচকে তাকায় রাহির পানে। গম্ভীর গলায় বলে,
“তোমার এক্স বয়ফ্রেন্ড মানে?”
“আমার এক্স মানে এক্স।যার সাথে আমার বিয়ের আগে প্রেমের সম্পর্ক ছিল।”
প্রেম এবার রেগে যায়।রাগে রাহির গাল চেপে ধরে বলল,
“কে ওই শুয়োরের বাচ্চা।নাম বল আমাকে।”
রাহি অভাবেই বললো,
“আপনার বিয়ের পরও প্রতি জেলায় একটা করে গার্লফ্রেন্ড থাকতে পারে আর আমার একটা এক্স থাকতে পারে না?নিজের বেলায় ষোলো আনা আর আমার বেলায় এক আনাও না,তাই না?”
প্রেম বুঝতে পারে রাহি তার সাথে মজা নিচ্ছে।রাহিকে ছেড়ে খাটের উপর থেকে এক জোড়া চুড়ি নিয়ে রাহির হাতে পড়িয়ে দিতে দিতে বলল,
“আজকে থেকে হাতে যেনো আমি প্রতিদিন এক জোড়া করে চুড়ি পরতে দেখতে পায়।”
রাহি ঘোর লাগা দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে প্রেমের দিকে।
প্রেম বেরিয়ে যেতে নিলে রাহি পেছন থেকে বললো,
“সব বুঝলাম কিন্তু রুম এভাবে সাজানোর মানে?”
“সকালের শাস্তিটা তো তোলা আছে।গভীর রাতে করাই গন্ডায় হিসাব নিবো তার। অসুস্থ বলে যে ছাড় দিবো এটা ভেবো না।”
প্রেম বেরিয়ে গেলো।রাহি প্রেমের কথা গুলো বুঝার চেষ্টা করতে লাগলো বসে বসে।তার ছোট্ট মাথায় ঢুকলো না এতো সব।সে এসব চিন্তা বাদ দিয়ে খুশি মনে চুড়ি গুলো গুছিয়ে সাজিয়ে রাখতে বেস্ত হলো।
আশাকে কেউ একজন অন্ধকার রুমে আটকে রেখেছে। হাত পা চেয়ারে সাথে বাঁধা। মুখ ও আটকানো।
হঠাৎ কারো পায়ের শব্দ শুনতে পায় আশা।তার দেহ শিউরে উঠে।
“আমার দিকে নজর দিয়েছিলি কিচ্ছু বলি না কারণ তার জন্য আমার বউ আছে।তোকে আগেই সাবধান করেছিলাম আমার বউ এর থেকে দূরে থাকবি।কিন্তু তোর শরীরে এতোই চুলকানি যে চুলকাতে এই প্রেমের নিষিদ্ধ জিনিসের কাছেই আসিস। আজকে তোর যত চুলকানি আছে আমি নিজে মিটাবো।”
রাগে কথা গুলো বলে প্রেম এগিয়ে গেলো আশার কাছে। আশা ভয়ে ঘেমে একাকার অবস্থা।এই অন্ধকার রুমে সে কীভাবে আসলো তাই ভাবছে আর প্রেমই বা কী করে জানল রাহির সাথে সে এমন করেছে।সে রাতে খাওয়ার পর ছাদে দাঁড়িয়ে ছিল। হঠাৎ কেউ এসে পেছন থেকে তার মুখে রোমাল ধরলো।তার পর আর তার কিছু মনে নেই। যখন জ্ঞান ফিরলো তখন নিজেকে বাধা অবস্থায় আবিষ্কার করলো।
প্রেম আশার কাছে এসে একটা চেয়ার টেনে সামনা সামনি বসলো।এর মধ্যে লিয়ন ঢুকলো এই অন্ধকার রুমে।তার হাতে একটা ব্যাগ।
ব্যাগ থেকে একটা প্লাস বের করে প্রেমের হাতে দিলো।প্রেম ফিচেল হেঁসে আশার হাতের একটা আঙুলের নখ এক টানে তুলে ফেললো।
“খুব ব্যাথা লাগছে? আমারও এমন ব্যথা করেছিল বুকের বা পাশটায় যখন শুনেছি আমার বউ হাসপাতালে।তোর জন্য আমার বেগমজান কষ্ট পেয়েছে,তার চোখের পানি ঝরেছে। তুই কি ভেবেছিস তোকে আমি জানে ছেড়ে দিবো?আজকে তোকে স্পেশাল পি খাতির যত্ন করে রাতে বউ এর কাছে আদর সোহাগ খেতে যাবো।”
আশা ব্যথায় শুধু চোখের পানি ফেলছে, আর গোঙাচ্ছে।মুখ বাঁধা থাকায় চিৎকার করতে পারছে না।সে ভাবতেও পারেনি এই সামান্য কারণে প্রেম তার সাথে এমন করবে। আর রাহি যে এতো অসুস্থ হয়ে যাবে সেটা ধারণা করতে পারলে এমনটা কখনোই করতো না।
প্রেম এক এক করে আশার দু হাতের আঙুলের নখ তুলে ফেললো।ব্যথায় এবার আশার অজ্ঞান হওয়ার জোগাড়।প্রেম শক্ত কণ্ঠে বললো,
“আজকে খাতির যত্ন এই পর্যন্তই থাক তাহলে,একদিনে এতো বেশি খাতির যত্ন সহ্য করতে পারবি না,পড়ে পাতলা পায়খানা হয়ে যাবে।বাকিটুকু তোলা রইলো কালকের জন্য।এখন এভাবেই ব্যথায় কাতরা তুই।”
প্রেম বেরিয়ে গেলো, সাথে লিয়নও।
শান্ত এসেছে আয়েশার সাথে দেখা করতে আর রাহিকে দেখতে।সন্ধ্যার দিকেই এসেছে সে।রাহি ঘুমাচ্ছিল বিধায় আর ডিস্টার্ব করেনি।কিন্তু এখন সে তার না হওয়া হবু বউকে খুঁজছে।
আয়েশার এক বান্ধবী এসেছে। আয়েশা তার সাথেই আড্ডা দিচ্ছে। শান্ত এসে আয়েশার বান্ধবীর পাশ ঘেঁষে বসলো। আয়েশা কেমন যেনো কটমট চোখে একবার তাঁকালো শান্তর দিকে।কিন্তু কিছু বলল না।
শান্ত আয়েশাকে দেখিয়ে দেখিয়ে ওর বান্ধবীর সাথে হেসে হেসে কথা বলছে , আয়েশা এবার আর সহ্য করতে না পেরে তার বান্ধবীকে বলে ওঠে,
“অনেক তো রাত হলো এবার তুই বাড়ি যা,আমাদের গাড়ি তোকে ছেড়ে আসবে।”
ওর বান্ধবী অবাক হয়ে বলল,
“একটু আগেই না তুই আমাকে থাকতে বললি। বললি যে আজকে অনেক গল্প করবো দুজনে।”
“আসলে আমার শরীর টা না অনেক খারাপ লাগছে।ঘুমিয়ে পড়বো এখনই।অন্য একদিন না হয় তোর সাথে আড্ডা দিবো।”
ওর বান্ধবী হেঁসে উত্তর দিলো,
“সমস্যা নেই তুই ঘুমিয়ে পড়,আমি না হয় শান্ত ভাইয়ার সাথে গল্প করি।উনি তো থাকবেনই আজকে এই বাসায়।”
” না না উনি থাকবে না,উনার অনেক কাজ আছে।তুই আজকে যা।”
“আচ্ছা ঠিক আছে।”
মেয়েটা চলে যেতেই শান্ত মিটিমিটি হেসে বলল,
“আমার রাজকুমারী আমাকে নিয়ে জেলাস।”
রাগে গজগজ করতে করতে বলল আয়েশা,
“তোর বাল জেলাস শালা। বের হ আমার রুম থেকে। আর এক সেকেন্ডও যদি তুই আমার রুমে থাকিস আজকে তোর ঠ্যাং গুঁড়ো করবো আমি।”
এমপির অবাধ্য বউ পর্ব ২০
বলেই হাতের কাছে থাকা একটা বই ছুঁড়ে দিল শান্তর
দিকে । শান্ত তা কেঁচ করে ফেললো। একের পর এক জিনিস ছুড়তে লাগলো। শান্ত না পেরে বেরিয়ে গেলো।
সে নিচে মেনে দেখলো প্রেম ঘামার্ত শরীর নিয়ে বাড়িতে ঢুকছে। প্রেম এসেই মেড এর কাছে পানি চাইলো। শান্ত মেডকে বলল তুমি যাও আমি প্রেমকে পানি দিচ্ছি। শান্ত গ্লাসে পানি ঢেলে পকেট থেকে কি যেনো একটা বের করে মিশিয়ে দিলো পানিতে।এর পর মেড কে দিয়ে পানি পাঠিয়ে দিলো।
প্রেম পানি খাচ্ছে আর শান্ত টা দেখে কেমন যেনো মিটিমিটি হাসছে।মনে মনে বললো,
“খা খা মন ভরে খা।আজকে আরও অনেক কিছু মনে ভরে খাবি তুই।”(কুটিল হাসলো শান্ত)
