Home এমপির অবাধ্য বউ এমপির অবাধ্য বউ পর্ব ৪০

এমপির অবাধ্য বউ পর্ব ৪০

এমপির অবাধ্য বউ পর্ব ৪০
সুহাসিনী

কাম সারছে। রাহির কথা শুনে আয়েশার মাথায় হাত।এই মেয়ে এত বড় কান্ড ঘটিয়ে এদিকে সে দিব্যি ঘুরে বেড়াচ্ছে। প্রেমের কানে যদি খবরটা যায় কোন ভাবে আজকে আর রাহীর রক্ষা নেই।
সবাই ডাইনিং এ খেতে বসেছে। রাহি আর আয়েশাকে ড্রয়িং রুমে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে ফুসুর ফুসুর করতে দেখে প্রেম ভ্রু কুচকে শক্ত কণ্ঠে বললো,
“তোদের দুই বদের হাড্ডিকে কি এখন নাস্তার জন্য ইনভিটেশন কার্ড পাঠাতে হবে?”
রাহি আর আয়েশা কথা না বলে চুপচাপ খেতে চলে যায়। তারা খেতে বসে শুধু প্লেটে হাত ঘোরাচ্ছে।কি এক কাজ করে বসেছে,এখন এর জন্য এভাবে পস্তাতে হচ্ছে।এর জন্য কথায় আছে,মেয়ে মানুষের এতো রাগ ভালো না,বেশি রাগ করলে পরে হাঁটুর নিচের বুদ্ধি দিয়ে এমন কাজ করবে যে পরে নিজেরই কপাল চাপড়াতে হবে।
রাহি আর আয়েশাকে অন্যমনস্ক দেখে প্রেম বললো,

“খাচ্ছিস না কেনো তোরা?কি চিন্তা করছিস?”
ওরা চমকে উঠলো, ওরা উত্তর দেওয়ার আগেই আগ বাড়িয়ে শান্ত বলল,
“আমার রাজকুমারী তো শুধু আমার চিন্তাই করে। কিন্তু রাহি হয়তো এখন নিজের বিয়ে নিয়ে চিন্তায় আছে। কি বল রাহি ঠিক বললাম তো?”
প্রেম দাঁতে দাঁত চেপে তাকায় শান্তর দিকে। রাহি শান্তর কথায় শুকনো ঢোক গিললো। শান্ত আন্তাজিতে ঢিল ছুঁড়েছে ঠিকই কিন্তু ঢিল টা যে সঠিক জায়গায় গিয়ে লেগেছে সেটা তো শুধু টের পাচ্ছে রাহি আর আয়েশা।রাহির গলা দিয়ে খাবার নামছে না।এখন এখান থেকে কোনরকম কেটে পড়তে পারলেই বাঁচে। আজকে আর সে কারো সামনে আসবে না মনে মনে ঠিক করে নিয়েছে।
“আমার পেট ভরে গেছে। আর খাবো না।”
বলেই উঠতে নিলে পাশে বসা প্রেম এক টানে আবার জায়গায় বসিয়ে দেয়। আমজাদ খান বিরক্তিতে বললেন,
“কি হচ্ছে কি প্রেম,মেয়েটার তো লেগে যাবে।”
“আমার বউ,যেখানে খুশি সেখানে ব্যথা দিবো,তোমার তাতে কি আব্বু?”
“চুপ বেয়াদব, বাপের সামনে কীভাবে কথা বলতে হয় এখনোও শিখনী।বাচ্চা একটা মেয়েকে এভাবে ব্যথা দেওয়ার মানে কি?”

“জোর করে বিয়ে দেওয়ার সময় মনে ছিল না ও বাচ্চা।হাজার বার না করার পরেও তো তোমার আর তোমার বাচ্চা বউমার কান দিয়ে কথা ঢুকাতে পারিনি। একজন নাচতে নাচতে বিয়ে বসে গেছে আর একজন নাচতে নাচতে বিয়ে দিয়ে দিয়েছে।”
আমজাদ খান প্রতিউত্তরে কিছু বলেন না।এই একটা কথাতেই তার মুখ বন্ধ।প্রেম রাহির শুকনো মুখের দিকে তাকিয়ে বললো,
“প্লেটের সব খাবার পাঁচ মিনিটে শেষ করবে দেন রুমে যাবে।”
রাহি মিনমিনে গলায় বলল,
“আমার পেট ভরে গেছে এমপি সাহেব,আর খেতে পারব না।”
“নো ওয়ার্ড আমার একদমই পছন্দ না বউ, যদি নিজে হাতে তোমার খেতে কষ্ট লাগে আমি খাইয়ে দিচ্ছি।তবুও খেতেই হবে, অন্তত আমার জন্য খেতে হবে।”
রাহি ভ্রু কুচকে বলল,

“আপনার জন্য আমি খেতে যাবো কেনো?”
প্রেম রাহির কানের কাছে মুখ নিয়ে শান্ত কণ্ঠে বললো,
“রাতে যেনো তোমাকে ধরলে আমার আরও বেশি আরাম লাগে।যদিও এখনও ভালোই লাগে তবে শরীরে আর একটু মাংস হলে ধরতে আরও মজা লাগবে বেগমজান।”
রাহির কান গরম হয়ে গেলো।গাল দুটো মুহূর্তেই টমেটোর রং ধারণ করলো। তাঁদের কাণ্ড দেখে শান্ত আফসোসের স্বরে বলল,
“আহা মামা, আপনি কি আমার কষ্ট বুঝেন না?আমার আর কারো লাল নীল চোখ মুখ সহ্য হচ্ছে না।কবে যে আমিও আমার।বউ এর মুখ লাল নীল বানাবো।”
প্রেম আর ধৈর্য্য রাখতে পারলো না।চোখ গরম করে বলল,
“তোকে ধরে রেখেছে কে,বিয়ে করে ফেল, আর কতোদিন অন্যের বোনের দিকে নজর দিবি।”
“আমি অন্যের বোনের দিকে নজর দেয়নি,আমি আমার ভবিষ্যৎ বউ এর দিকে নজর দিয়েছি,যেটা আমার কর্তব্য।”
প্রেম কিছু বলতে নিবে কিন্তু ফোন কল চলে আসায় উঠে পড়ে। যাওয়ার আগে রাহিকে ওয়ার্ন করে যায় যেনো রাহি প্লেটের সব খাবার শেষ করে পরে উঠে। রাহি কোনমতে খাবার শেষ করলো। এমনিতেই এক কাণ্ড ঘটিয়েছে,কখন বোম ফাটে বলা যায় না,এখন যদি আবার অবাধ্য হয় তাহলে খবর আছে।

তিনটা ত্রিশ,
সবাই ড্রয়িং রুমে বসে টিভিতে লাইভ দেখছে,এই লাইভ অনুষ্ঠানে প্রেমকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ঘোষণা করা হবে।সবাই খুব এক্সাইটেড। প্রায় সকল টিভি চ্যানেল এখন শুধু এই লাইভ সম্প্রচারিত হচ্ছে।প্রেমের বাড়ির সবাই খুব খুশী।প্রেমের এতো বড় সাকসেস খুশি তো হওয়ারই কথা। রাহি ও খুব মনোযোগ সহকারে দেখছে অনুষ্ঠান।সে আনন্দে কাল রাতের করা ভুল ভুলে বসেছে।প্রেম সকালে খেয়ে বেরিয়ে যাওয়ার পর রাহি রুমে গিয়ে দেখে প্রেমের আলমারি জুড়ে নতুন কাপড়ে ভরপুর, সবগুলো কাপড় আগের কাপড়ের মতোই প্রায় সেম।রাহি কিছুটা অবাক হয়,কিন্তু খুব খুশিও হয়েছিল, এত বড় ভণ্ডামির পরও তার জামাই তাকে একটা বকা পর্যন্ত দেইনি দেখে।
এতক্ষণে প্রেমকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ঘোষণা করা শেষ, এখন প্রেম স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর হয়ে শপথ গ্রহণ করবে।সবার চোখ যখন টিভির পর্দায় তখন হঠাৎ করেই কলিংবেল বেজে উঠলো। আফরোজা খান উঠতে নিলে রাহি বাঁধা দিয়ে নিজেই যায় দরজা খুলতে।দরজা খুলে রাহির চোখ রসগোল্লার মতো বড়বড় হয়ে যায়।দরজার ওপাশে দাঁড়িয়ে আছে সাঈদ চৌধুরী আর সাথে তার মেজো বোন আঁখি।হাতে তাদের মিষ্টির প্যাকেট। তাঁদের পেছন থেকে এগিয়ে এলেন আজিজ চৌধুরী। রাহি কোনোরকমে সালাম দিয়ে দরজা ছেড়ে দাঁড়ালো।
চৌধুরী পরিবারকে দেখে আমজাদ খান কিছুটা ভরকে গেলেন।এই আপদ আবার কেনো এসেছে।মনে যায় ভাবুক মুখে হাসি এনে কুশল বিনিময় করে উনাদের এনে বসালেন।আফরোজা খান গেলেন নাস্তা রেডি করতে। আজিজ খান বলেন,

“রাহি মামনি তাহলে আমার ছেলেকে পছন্দ করেই ফেললো।”
আমজাদ খান ভ্রু কুঁচকে বলল,
“মানে?”
এর মধ্যেই রাহি মনে মনে আল্লাহর নাম জপতে জপতে নিজের রুমে চলে গেছে। আয়েশা এক কোণে বসে আছে।
“মানে কাল রাতেই রাহি মামনি আমার ছেলে সাঈদকে মেসেজ দিয়ে বলেছে সে আমার ছেলেকে বিয়ে করতে রাজি।”
আমজাদ খান শক খেয়ে আহাম্মকের মতো শুধু তাকিয়ে আছে।উনার গলা দিয়ে কথা বের হচ্ছে না।তিনি বিশ্বাসই করতে পারছেন না । আমজাদ খানকে কোনো কথা বলতে না দেখে আজিজ চৌধুরী ভাবলেন উনিও রাজি আছেন।তাই তিনি বলেন,
“আজকে আমাদের যেতে হবে,একটু পর সাঈদকে রাঙামাটির উদ্দেশ্যে রওনা হতে হবে একটা প্রজেক্টের কাজে,ফিরতে ফিরতে প্রায় সাত লাগবে।তারপর এনগেজমেন্ট হবে আজ থেকে ঠিক আটদিন পড়।”
আমজাদ খান হা করে শুধু তাকিয়ে আছে।

“আজকে আসি তাহলে।”
আমজাদ খান শুধু মাথা নাড়ালেন,কিছু বললেন না। উনারা চলে গেলেন। আফরোজা খান নাস্তা নিয়ে এসে উনাদের না দেখে ভ্রু কুঁচকে হা করে থাকা আমজাদ খানকে প্রশ্ন করলেন,
“উনারা চলে গেলেন কেনো? আর এসেছিলেন কেনো?”
“আমার মরণের ব্যবস্থা করতে।”
“কি আবল তাবল বকছ?”
তিনি করুণ সুরে বললেন,
“আবোল তাবোল না,আমার কাফনের কাপড়ের ব্যবস্থা করো,তোমার ছেলের হাতেই আমাকে মরতে হবে গো। টিভিতে হেডলাইন হবে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বউকে অন্য জায়গায় বিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর হাতে তার বাবা খুন। স্বয়ং প্রধানমন্ত্রীও আমাকে বাঁচাতে পারবে না।

পরবর্তী পর্বের অংশ,
“এই তুমি এখানে কি করছো বেবি গার্ল।”
“ওই মিয়া আপনি আমাকে এসব আজব নামে ডাকছেন কেনো?আমার গ্রামে আমি থাকবো না তো কি আপনার দাদী থাকবে?”
“আজকেই তো তোমার সাথে আমার এঙ্গেজমেন্ট ঠিক হলো রাহি,তাহলে এখন এমন ভাব করছো যেনো আমাকে চিনোই না।”
“কে রাহি? আমার নাম বৃষ্টি।”

এমপির অবাধ্য বউ পর্ব ৩৯

আজ তিনদিন যাবৎ অজ্ঞান হয়ে বিছানায় পড়ে আছে রাহি। তিনদিন ধরে জ্বরে ভুগছে মেয়েটা।রাহির জ্বরের কারণ মূলত প্রেম। রাহির গালে চরের দাগ স্পষ্ট। ঠোঁটের কাছেও কেমন কালচে হয়ে আছে।

এমপির অবাধ্য বউ বোনাস পর্ব