এমপির অবাধ্য বউ বোনাস পর্ব
সুহাসিনী
(বি: দ্র :- এটাকে ধারাবাহিক পর্বের সাথে মিলাবেন না। এটা জাস্ট একটা অংশ)
অনেক কাঠখড় পুড়িয়ে প্রেমকে আজকে রাহি রাজি করিয়েছে তাকে নিয়ে ঘুরতে যেতে।রাহির আবদার প্রেম যেনো সাধারণ একজন স্বামীর মতো তার সাথে আজ ঘুরতে বের হয়।আজকে সে আর প্রেম রিকশা করে ঘুরবে।এটা তার অনেক দিনের স্বপ্ন।আজকে প্রেম রাজী হয়েছে।
প্রেম আর রাহি একটা জায়গায় এসে গাড়ি থেকে নামলো। এখান থেকে রিকশা নিয়ে ঘুরবে দুজন।এই পড়ন্ত বিকেলে প্রিয় মানুষের সাথে রিক্সায় ঘোরা বা হাতে হাত রেখে পাশাপাশি হাঁটা অনেক মেয়ের স্বপ্ন।আজকে রাহির সেই স্বপ্ন প্রেম পূরণ করবে।
প্রেম খুব সাবধানে নিজেকে আড়াল করে নেমেছে গাড়ি থেকে। বউ এর আবদার পূরণ করতে তাকে যে এই জীবনে আর কত অ্যাডভেঞ্চারের সাক্ষী হতে হবে আল্লাহ্ ভালো জানে।প্রেম একটা রিক্সা ডাকলো। রিকশাওয়ালা তাঁদের পাশে এসে দাঁড়াতেই রাহির ভ্রু কুঁচকে গেলো।মুহূর্তেই কিছুদিন আগের ঘটনা মনে পড়লো।কোমড়ে হাত দিয়ে সন্দিহান গলায় বলল,
“আপনি ওইদিনের রিকশাওয়ালা মামাটা না।”
রিকশাওয়ালাও হয়তো রাহিকে চিনতে পারলো।বেচারা আর দাঁড়ালো না। রিক্সায় দিল এক টান।আগে নিজেকে বাঁচাক এই খচ্চর মেয়ের হাত থেকে পড়ে না হয় ভাড়া মারা যাবে।
“ওই ব্যাটা দাড়া, দাড়া বলছি,আজকে তোকে পেয়েছি,আমার জামাইও আমার সাথে আছে,আজ তোর পাছায় যদি আমি আগুন না দিয়েছি আমার নামও রাহি না।”
“ও বউ, আমার মতো সুন্দর জামাই রেখে তুমি বুইড়া রিকশাওয়ালার পিছনে দৌড়াচ্ছ কেনো? আমাকে রেখে তুমি অন্যের পাছায় আগুন দিবে কেনো ?তোমার জন্য আমার পাছা সহ সকল কিছু উন্মুক্ত। দয়া করে নিজের জিনিস রেখে অন্যের হকের দিকে নজর দিও না।”
রিকশাওয়ালা রিক্সা নিয়ে হাওয়া। রিক্সাটা রাহির চোখের আড়াল হতেই রাহি রাস্তার পাশে কোমড়ে হাত দিয়ে ঝুঁকে জোরে জোরে দম নিতে থাকলো। প্রেমের ও একই অবস্থা। আশে পাশের লোকজন কীভাবে যেনো তাকাচ্ছে তাঁদের দুজনের দিকে।প্রেমের মুখে মাস্ক আর মাথায় কেপ পড়ার কারণে তাকে কেউ চিনতে পারছে না।
প্রেম আশেপাশে লক্ষ্য করে রাহিকে করুণ সুরে বললো ,
“আমার বউ না ভালো,এভাবে রাস্তা ঘাটে কেনো আমাকে কিডন্যাপার বানাচ্ছ? তুমি কি আমাকে গণধোলাই খাওয়াতে চাচ্ছো?”
“আমি আপনাকে কোন দুঃখে গণধোলাই খাওয়াতে যাব আর আপনি কিডন্যাপার হবেন কেন?”
“আমার যে গেট আপ আর তোমার পিছনে যেভাবে দৌড়াচ্ছিলাম যে কেউ দেখলে ভাববে তোমাকে আমি কিডন্যাপ করার জন্য ধাওয়া করছি,তখন গণধোলাই আমার জন্য ফরজ হয়ে যাবে। ভাগ্য ভালো কেউ এগিয়ে আসেনি।”
“রাখেন আপনি আপনার গণধোলাই।আজকে যদি ওই শালা রিকশাওয়ালা কে পেতাম, ধোলায় কাকে বলে, কতো প্রকার ও কী কী দেখিয়ে দিতাম।”
“বুঝেছি, তুমি যে দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে এভাবে রাস্তায় কুত্তার মতো দৌড় করাচ্ছ এটা যদি জনগণ বা সরকার জানতে পারে তাহলে আমাকে সংসদ থেকে নির্ঘাত লাথি মেরে বের করে দিবে।এখন প্লীজ চলো কোথাও বসে কথা বলি। আমি আমার সারা জীবনের জগিংয়েও কোনো দিন এতো দৌড়ায়নি,আজকে আমাকে তুমি যে দৌড় করালে।”
রাহি আর কথা বাড়ালো না। সে নিজেও ক্লান্ত।তাই সামনের একটা পার্কের বেঞ্চে গিয়ে দুজনে আরাম করে বসলো।প্রেম পাশ থেকে একটা বাদামওয়ালা কে ডেকে এক প্যাকেট বাদাম কিনল। এর পর একটা একটা বাদামের খোসা ছাড়িয়ে রাহির মুখে দিতে লাগলো। রাহিও আপন মনে খেতে থাকলো।
“ওই রিকশাওয়ালা কি করেছিলো?”
“ওই শালা একদিন আমাকে আর নিপাকে মাঝরাস্তায় নামিয়ে দিয়েছিল। শালা বাই*চোদ।”
“নামিয়ে দেওয়ার রিজন?”
রাহি প্রেমের দিকে মুখ করে চোখ ছোটো ছোটো করে বললো,
“আমরা রিকশায় বসে বসে ঝালমুড়ি খাচ্ছিলাম আর খুব হাসাহাসি করছিলাম।”
“তাহলে ঠিকই করেছে। তুমি যেই মেয়ে, কেমন হাসাহাসির কারণে নামিয়ে দিয়েছে সেটা বুঝতে পেরেছি।বেচারার রিক্সাওয়ালার কোন দোষ নেই তাহলে।”
প্রেমের কথা শুনে রাহি গরম চোখে তাকাতেই প্রেম বুঝলো সে ভুল কথা বলে ফেলেছে তার বউ এর সামনে।এখন এই পাবলিক প্লেসে না তার বউ তাকে পেটানো শুরু করে।
“স্লিপ অফ টাং বেগমজান। মূখ ফস্কে সত্যি কথা বেরিয়ে গিয়েছে।”
এবার আর রাহিকে থামায় কে। এক ধাক্কায় বেঞ্চ থেকে প্রেমকে ফেলে দিলো পার্কের সবুজ ঘাসের উপর। প্রেম নিজেকে সামলাতে পারলো না,চিৎ হয়ে পড়ে গেলো।রাহি প্রেমের পাশে বসে বুকে কিল ঘুসি দিচ্ছে।এতে প্রেমের কিছুই হচ্ছে না। বরং মালিশ এর মতো লাগছে।প্রেম হেসে রাহিকে নিজের পাশে সবুজ ঘাসের উপর তার হাতে শুইয়ে দিলো। রাহিও শান্ত হয়ে গেলো।
এই খোলা মাঠে দুজনে পাশাপাশি শুয়ে তাকিয়ে আছে বিস্তৃত নীল আকাশের দিকে।রাহির আজকে নিজেকে পৃথিবীর সবচেয়ে সুখী মানুষ মনে হচ্ছে।এই এক ফালি সুখের আশায় তো সে এই ছোট্ট জীবনে করেছিলে।দুজনেই নিশ্চুপ।শুধু শোনা যাচ্ছে তাদের নিঃশ্বাসের শব্দ।পার্কটা একটা খোলা মাঠের মতো হওয়ায় তেমন কেউ নেই আসে পাশে।
প্রেম নীরবতা ভেঙে বললো,
“জীবন এবং সময় দুটোই বড় অদ্ভুত তাই না বেগমজান,তোমাকে বিয়ে করার কোনো কথা ছিল না আমার।কিন্তু দেখো জীবন এবং সময় আমাকে এমন পরিস্থিতিতে এনে দার করিয়েছে যে এখন তোমাকে এক মুহূর্ত দূরে রাখতে আমার ভয় হয়।হারিয়ে ফেলার ভয়। আর মানুষ হারিয়ে ফেলার ভয় কখন পায় জানো?”
“কখন?”
“ভালোবাসার সবচেয়ে খারাপ দিক হলো হারিয়ে ফেলার ভয়। আমরা যখন কাউকে গভীরভাবে ভালোবেসে ফেলি, তখন তাকে হারানোর ভয়টা আমাদের প্রতিনিয়ত তারা করে বেড়ায়। ঠিক তেমনি যত দিন যাচ্ছে তোমাকে হারিয়ে ফেলার ভয় আমাকে খুঁড়ে খুঁড়ে খাচ্ছে। এটাই বুঝা ভালোবাসা। এখন আমি নির্দ্ধিধায় দুনিয়ার সামনে চিৎকার করে বলতে পারি, ভালোবাসি বেগমজান,ভালোবাসি তোমায়,নিজের চেয়েও হাজার কোটি বেশি ভালোবাসি।”
রাহির চোখ জোড়া ছলছল করে উঠলো।এই জীবনে সবচেয়ে বড় পাওয়া সে পেয়ে গেছে এখন মরে গেলেও তার কোনো আফসোস থাকবে না।নিজের ভালোবাসার মানুষটা যে আজকে তাকে নিজে থেকেই আপন করে নিয়েছে।এই খুশি সে কাকে দেখাবে।রাহি আকাশপানে তাকিয়ে মিষ্টি কণ্ঠে সুর তুললো,
“দুর আকাশে চাঁন্দের পাশে
ঝলমল করে তারা..
আমার কেউ আর নাইরে বন্ধু
কেবল তুমি ছাড়া….”
এমপির অবাধ্য বউ পর্ব ৪০
(এটা ছিল #এমপির_অবাধ্য_বউ গল্পের একটা বোনাস পর্ব। ঈদ উপলক্ষে আপনাদের জন্য এই সামান্য উপহার। কেমন হয়েছে জানাবেন সবাই। আর ধারাবাহিক পর্বের সাথে এটাকে মিলাতে যাবেন না। এটা এক্সট্রা একটা পার্ট শুধু।)
