Home ক্যাপ্টেন সাহেব ক্যাপ্টেন সাহেব পর্ব ৩২

ক্যাপ্টেন সাহেব পর্ব ৩২

ক্যাপ্টেন সাহেব পর্ব ৩২
মারিয়াম ফুল

মেহের রুদ্রের দিকে আর একবারও ফিরে তাকানোর প্রয়োজন বোধ করল না। তার সমস্ত সত্ত্বা তখন এক তীব্র, দাহনকারী অভিমানে জ্বলছে। ঘরের ভেতর জমে থাকা ভারী বাতাসটা তার ফুসফুসে বিষের মতো বিঁধছিল। এই পুরুষটির ছায়াও সে আর মাড়াবে না,মনে মনে এই প্রতিজ্ঞাই যেন তার অবাধ্য চোখ দুটোকে রুদ্রের দিক থেকে জোর করে ফিরিয়ে নিল। মেহেরের কি নিজের বলতে কোনো আত্মসম্মান নেই?
কেন সে এই দাম্ভিক, অহংকারী মানুষের অ্যাপার্টমেন্টে দিনের পর দিন অপমান সহ্য করে পড়ে থাকবে? মনের ভেতর তীব্র দ্বিধাদ্বন্দ্ব, ক্ষোভ আর অপমানের এক প্রলয়ঙ্করী ঝড় বইলেও, সে নিজের মেরুদণ্ড সোজা রাখল। অত্যন্ত শক্ত পায়ে, মেঝের ওপর জুতো জোড়ার প্রতিটি সুনির্দিষ্ট শব্দ তুলে সে রুদ্রের সামনে থেকে বেরিয়ে গেল। এক চুল পরিমাণ দুর্বলতা বা চোখের কোণের আর্দ্রতাও সে প্রকাশ পেতে দিল না নিজের অবয়বে।

রুদ্র সোফায় আরও কিছুটা হেলান দিয়ে নিজের শরীরটা ছেড়ে দিল। তার সমস্ত শরীর যেন এক অদ্ভুত ক্লান্তিতে অবশ হয়ে আসছিল। মেহেরের ধীর কিন্তু অত্যন্ত দৃঢ় পায়ে হেঁটে চলে যাওয়াটা সে পেছন থেকে একদৃষ্টিতে দেখল। ওর চোখের মণি দুটো স্থির হয়ে রইল সেই অন্ধকার হয়ে আসা করিডোরের গমনপথের দিকে। অথচ এক অদ্ভুত, নিরেট অসাড়তা তাকে আষ্টেপৃষ্ঠে বেঁধে ফেলল, মনের কোনো এক গহীন কোণ থেকে একটা তীব্র তাগিদ এলেও, সে মেহেরকে থামানোর কোনো চেষ্টাই করল না। তার পুরুষালি অহংকার তার হাত-পা যেন অদৃশ্য শিকলে বেঁধে রেখেছিল।

মেহেরের অবয়বটা চোখের আড়াল হতেই রুদ্র বুকের গভীরে জমে থাকা তপ্ত বাতাস কয়েক দফায় ভারী দীর্ঘশ্বাসের মতো বের করে দিল। ঘরের ভেতরে এসি সচল থাকা সত্ত্বেও আবহাওয়াটা যেন তার দম আটকে ধরছিল। এক চরম অস্বস্তিতে সে তার শার্টের ওপরের দুটো বোতাম খুলে ফেলল। তারপর দুই হাত সোফার দুপাশে ছড়িয়ে দিয়ে অবচেতন মনে তাকিয়ে রইল মাথার ওপরে অবিরাম ঘূর্ণায়মান সিলিং ফ্যানটার দিকে। ফ্যানের ব্লেডগুলোর একটানা, যান্ত্রিক ঘূর্ণন আর তার থেকে তৈরি হওয়া হালকা বাতাসের শব্দ যেন তার নিজের মাথার ভেতরের এলোমেলো, বিক্ষুব্ধ চিন্তারই এক অবিকল প্রতিরূপ।
কয়েক দীর্ঘ মুহূর্ত পার হওয়ার পর রুদ্রের ঘোর কাটল। একটা তীব্র আত্মদহন আর চরম অসহায়ত্ব গ্রাস করল তাকে। সে নিজের অজান্তেই দুই হাতের আঙুল দিয়ে কপাল চেপে ধরে বিড়বিড় করে বলে উঠল,
“কে এই মেয়ে? কেন বারবার আমার এই সাজানো, স্বাধীনচেতা মগজটায় এভাবে অবিরাম আঘাত করে যাচ্ছে? রাইহাম চৌধুরী রুদ্র কি এতটাই ঠুনকো যে একটা মেয়ের সামান্য চোখের জল আর অভিমানে এভাবে তছনছ হয়ে যাবে? কেন আমি নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারছি না?”
সে সোফা থেকে আচমকা উঠে দাঁড়িয়ে ঘরের ফাঁকা, ধূসর দেয়ালগুলোর দিকে চেয়ে হাত মুঠো করল। তার চোয়াল শক্ত হয়ে উঠল,

“তোমাকে আমি চাই না, মেহের! একদম চাই না! অথচ অদ্ভুত এক বৈপরীত্য দেখো.. তোমার কথা মাথায় আসলেই আমার ভেতরের অহংকার ভেঙে গুঁড়ো হয়ে যায়, তীব্র এক মানসিক রক্তক্ষরণ শুরু হয়। মনে হয় মগজের প্রতিটা শিরা ছিঁড়ে টুকরো টুকরো হয়ে যাবে। আমি খুব ভালো করেই জানি তুমি স্রেফ একটা ফ্যান্টাসি… একটা সাময়িক মোহ, যা পুরুষ মানুষকে অন্ধ করে,তোমার ওই মায়াবী চোখ, ট্রমার নাটক দিয়ে তুমি আমাকে অবশ করে রেখেছ, আর আমি নির্বোধের মতো সেই মায়ায় তলিয়ে যাচ্ছি…”
রুদ্র ঘরের কার্পেটের ওপর অস্থির পায়ে অনবরত পায়চারি করতে লাগল। নিজের ভেতরের ঘুমিয়ে থাকা পুরুষালি ইগোকে জাগিয়ে তোলার শেষ চেষ্টা করল সে,
“রুদ্র কোনোদিন কারও মায়ায় জড়ায়নি, জড়াবেও না। নিজেকে এটা বোঝাতে আমার এক সেকেন্ডও লাগবে না যে তুমি আর দশটা সাধারণ মেয়ের মতোই সস্তা একটা মোহ মাত্র। এই ক্যাপ্টেনের জীবনে কত রূপবতী এসেছে, চলেও গেছে… তুমিও চলে যাবে, হ্যাঁ, তুমিও চলে যাবে।”
কিন্তু পরক্ষণেই তার চোখের সামনে ভেসে উঠল মেহেরের সেই ফ্যাকাশে অথচ অসম্ভব অভিমানী মুখটা। তার চোখের সেই জলভরা চাউনিটা যেন রুদ্রের বুকের ভেতর তীরের মতো বিঁধল। রুদ্র হঠাৎ নিজের চুলে হাত চালিয়ে ক্ষিপ্ত গলায় বলে উঠল,

“ওহ শিট! হাউ ক্যান আই ডু দিস টু হার? হাউ ক্যান আই! সে তো একজন নারী, তার ওপর সে অন্তঃসত্ত্বা। আমি আর যাই করি না কেন, একজন নারীর অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে তার সাথে এমন ব্যবহার তো করতে পারি না।” তার ভেতরের সুপ্ত নৈতিকতা আর অপরাধবোধ এবার তাকে চাবুকের মতো তাড়া করে ফিরল।
ওদিকে মেহের নিজের ঘরে গিয়ে আলমারি খুলল, তীব্র রাগে আর অপমানে তার পুরো শরীর কাঁপছিল, চোখের পাতা ভিজে আসছিল কান্নায়। সে আলমারি থেকে একের পর এক কাপড়চোপড় টেনে বের করে একটা ট্রাভেল ল্যাগেজে এলোমেলোভাবে ঢোকাতে লাগল। তার হাত কাঁপছিল, কাপড়ের ভাঁজ খোলার বা গোছানোর কোনো হুঁশ ছিল না তার। কিন্তু গোছানো শেষ করে যখন সে চেইনটা টেনে লাগেজটার হ্যান্ডেল শক্ত করে ধরে দরজার পাশে এসে দাঁড়াল, তখনই এক নির্মম, বাস্তব সত্য এসে তার মাথায় হাতুড়ির মতো আঘাত করল।

মেহেরের হাতটা হ্যান্ডেলের ওপর অবশ হয়ে এলো।আমি তো আসলে এখান থেকে কোথাও যেতে পারব না,আইনি মারপ্যাঁচের কারণে আমি এই চার দেয়ালের ভিতর বন্দি। আর যদি চলেও যাই, যাবোই বা কোথায়? এই বিশাল, নিষ্ঠুর শহরে আমার মাথা গোঁজার মতো নিজস্ব কোনো আশ্রয় তো নেই। চেনা মানুষগুলোও তো আজ অচেনা। মেহের লাগেজটার হ্যান্ডেল ধরে দরজার পাশে একপ্রকার কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে, পাথরের মূর্তির মতো নিস্পন্দ দাঁড়িয়ে রইল। তার চোখ দিয়ে দুই ফোঁটা তপ্ত অশ্রু গাল বেয়ে গড়িয়ে পড়ল ল্যাগেজের ওপর।
ঠিক তখনই রুদ্র দ্রুতপায়ে ঘরের ভেতর ঢুকল। মেহেরকে দরজার পাশে ল্যাগেজ হাতে ওভাবে জড়সড় হয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে ওর ভেতরের অস্থিরতা আর অপরাধবোধ যেন দ্বিগুণ বেড়ে গেল। সে মেহেরের কোনো সম্মতির তোয়াক্কা না করে তার হাতের ল্যাগেজটায় একটা হ্যাচকা টান দিয়ে নিজের দিকে সরিয়ে নিল কিছুটা। রুদ্রের খুব ইচ্ছে করছিল মেহেরের একদম মুখোমুখি দাঁড়িয়ে, তার চোখের দিকে তাকিয়ে সমস্ত পুরুষালি অহংকার বিসর্জন দিয়ে বলতে—

‘মিস অ্যারোফোবিয়া, আই অ্যাম সরি। আই অ্যাম রিয়েলি সরি, আমি ওভাবে বলতে চাইনি। রাগ সামলাতে পারিনি হঠাৎ করে।’
কিন্তু তার পুরুষালি অহংকার আর মুখের পেশির কঠিন অভিব্যক্তি তাকে সেই সত্যটা উচ্চারণ করতে দিল না। নিজের দুর্বলতা ঢাকতে উল্টো সে গলার স্বর চড়িয়ে রেগে যাওয়ার ভান করে বলে উঠল,
“আমি তোমাকে বলতে বলেছিলাম মনে করো, যে আমি তোমাকে ডিভোর্স দেব না ? আমি কি একবারও বলেছি তোমাকে সত্যি সত্যি ডিভোর্স দিবনা ? তোমাকে আমি কেন আটকে রাখব? যাও, চুপচাপ রুমে যাও। তিলকে তাল বানানোর স্বভাবটা কবে যাবে তোমার?”
মেহের একটা তীব্র ঝটকা মেরে নিজের হাতটা রুদ্রের শক্ত কবল থেকে ছাড়িয়ে নিল। তার চোখ দুটো রাগে, অপমানে ও অভিমানে টলমল করে উঠল,

“ আপনি এখন কথা ঘুরাচ্ছেন তাই না? আর আমি কখন তিল থেকে তাল বানালাম? আপনি যেমন আমার কথায় বাধ্য নন, আমিও আপনার কোনো কথায় বাধ্য নই। আমি তখন ওভাবে বলতে চাইনি আপনাকে। একা এই রুমে দম বন্ধ লাগছিল… আমি কী বলতে কী বলে ফেলেছি! তাই বলে আপনি সুযোগ পেয়ে আমাকে এভাবে ছোট করতে পারেন না।আপনার দয়া নিয়ে বেঁচে থাকার চেয়ে আমার মরে যাওয়াও ভালো।”
রুদ্র ল্যাগেজের অন্য পাশটা এবার আরও শক্ত করে চেপে ধরল, যেন মেহের কোনোভাবেই এটা নিয়ে বের হতে না পারে। মেহেরের এই অসহায়ত্বটা তাকে ভেতর থেকে চূর্ণবিচূর্ণ করে দিচ্ছিল। সে গলার স্বর কিছুটা নামিয়ে, চোখের তীব্র চাউনিতে বাস্তবতার ভয়টা দেখাল,

“মনে করো আমি তোমাকে যেতে দিলাম, তারপর? বাইরে লকডাউন চলছে। তার- উপর পুলিশ তোমাকে এভাবে যেতে দেখে যদি পালিয়ে যাচ্ছ ভেবে আবার ধরে নিয়ে সেই শ্বশুরবাড়িতে দিয়ে আসে? তখন কী করবে?তুমি কি ভুলে গেছো তুমি হাউস অ্যারেস্ট?
তুমি যেতে চাইলে… ওকে, যাও…” রুদ্র লাগেজটা ছেড়ে দেওয়ার একটা আলগা ভাব দেখাল, যেন মেহের নিজেই নিজের জেদের অসারতা বুঝতে পারে।
ঠিক এমন সময় দরজার ওপাশ থেকে আকস্মিকভাবে রেহানা চৌধুরী ঘরে প্রবেশ করলেন। ছেলে আর ছেলের বউয়ের এই হুলুস্থুল কাণ্ড, মেহেরের চোখ ভরা জল এবং হাতের ল্যাগেজ দেখে তিনি দরজার গোড়াতেই থমকে দাঁড়ালেন। কপালে গভীর চিন্তার ভাঁজ ফেলে তিনি জিজ্ঞেস করলেন, “তাতিন, মেহের? তোমাদের হাতে লাগেজ কেন? কী হচ্ছেটা কী এই ঘরে?”

রুদ্র তড়িৎ মেহেরের দিকে তাকাল। তার চোখের মণি দুটো বড় বড় হয়ে গেল, চোখে দিয়ে ইশারা করল—যেন মেহের পরিস্থিতি সামলে নেয়।
মেহের হঠাৎ রেহানা চৌধুরী এভাবে ঘরের ভেতর সামনে দেখে পুরোপুরি তোতোমতো খেয়ে গেল। সে কী উত্তর দেবে এখন? রুদ্রের সাথে ঝগড়া করে সে এপার্টমেন্ট ছেড়ে চলে যাচ্ছিল—এই সত্য বললে তো রেহানা চৌধুরী রুদ্রকে ছাড়বেন না, আবার আইনি জটিলতাও বাড়বে।
মেহের পরক্ষণেই নিজেকে সামলে নিল। চোখের জলটা ওড়নার খুঁটে চট করে মুছে সে দ্রুত ল্যাগেজ ছেড়ে রেহানা চৌধুরীর দিকে এগিয়ে গেল এবং ওনাকে দুই বাহু দিয়ে শক্ত করে জড়িয়ে ধরল। গলার স্বরে একরাশ কৃত্রিম অভিমান, আদুরেপনা আর কান্নার রেশ টেনে বলল, “মা… যদি বলি, আপনি আপনার ছেলেকে বকবেন তো?”

রেহানা চৌধুরী ছেলের বউয়ের এমন আকুল আচরণে মুহূর্তেই নরম হয়ে গেলেন। তিনি মেহেরের পিঠে আর মাথায় হাত বুলিয়ে শান্ত করার ভঙ্গিতে বললেন, “আগে মাকে বলো কি হয়েছে?কী হয়েছে তোমাদের মাঝে? এই ছেলেটা আবার তোমাকে কষ্ট দিয়েছে মা? আবার ঝগড়া হয়েছে তোমাদের?”
মেহের রুদ্রের দিকে একটা আড়চোখে তাকাল। রুদ্র তখন কপালে হাত দিয়ে আছে আর ভাবছে
এই সর্বনাশা মেয়ে না জানি এখন মায়ের সামনে কী পারমাণবিক বোমা ফাটায়। মেহের শাশুড়ির বুকে মাথা রেখে বেশ গুছিয়ে, গম্ভীর মুখে নালিশ ঠুকল, “আসলে মা, আপনার ছেলে একটু আগে আমাকে বলল, ইসলামে নাকি চারটা বিয়ে করা যায়, তাই উনি খুব শীঘ্রই আরেকটা বিয়ে করবেন এবং নতুন বউ নিয়ে আসবেন…”

রুদ্র ‘হা’ হয়ে মেহেরের দিকে তাকিয়ে রইল, তার মুখের চোয়াল ঝুলে পড়ল। সে নিজের কানকেই বিশ্বাস করতে পারছে না।মনে মনে ভাবতে লাগল
—এই আবার কখন ঘটল? একজনকেই তো সামলানো যাচ্ছে না, আমি কখন এরকম উদ্ভট কথা বললাম?কী অবলীলায় মিথ্যা কথা বলে দিল।
মেহের এখানেই থামল না, রেহানা চৌধুরীর পূর্ণ সহানুভূতি আর রুদ্রকে টাইট দেওয়ার জন্য আরও একটু বাড়িয়ে বলল,
“দেখুন মা, আমার এই শারীরিক অবস্থায়, যখন আমার এত যত্ন দরকার, তখন আপনার ছেলে ঘরে এসে আমাকে এসব বলে মানসিক নির্যাতন করছে,তাই আমি রাগে ওকে নিজের ঘর থেকে বের করে দিচ্ছিলাম। ঠিক করিনি মা? ”

মেহেরের এমন অভাবনীয়, কথায় রুদ্রের গলায় যেন নিজের থুতু আটকে গেল। সে বিষম খেয়ে প্রচণ্ড জোরে কেশে উঠলো। রুদ্র মেহেরের কথা শুনে মুখ কুঁচকালো। মনে হচ্ছিল, পারলে এখনই চিবিয়ে খাবে। অথচ কিছুই করতে পারছে না। মনের মধ্যে সুপ্ত ভয় হচ্ছিল— যদি মেহের চলে যায়।
রেহানা চৌধুরী প্রথমে রুদ্রের দিকে এমন এক অগ্নিদৃষ্টিতে তাকালেন, যেন কাঁচা চিবিয়ে খেয়ে ফেলবেন তাকে। তার চোখ দিয়ে তখন যেন আগুন ঝরছে। তারপর তিনি মেহেরের দিকে তাকিয়ে একগাল হেসে পরম মমতায় বললেন,

“আরে হাড়ে বজ্জাত তো! যা করেছ একদম ঠিক করেছ। আর যদি কখনো ও এই চার বিয়ের কথা মুখে আনে, সোজা এসে আমাকে বলবে। তুমি তো তাও ভদ্রভাবে ঘর থেকে বের করে দিচ্ছিলে… তোমার শ্বশুর একবার বিয়ের প্রথম দিকে আমার সাথে মজা করে এই চার বিয়ের কথা বলেছিল। আমি তাকে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছিলাম।দুই দিন বাড়ির বাইরে ঘুরঘুর করেছিল, তারপর থেকে আর কোনোদিন ওমন কথা মুখে আনার সাহস পায়নি।বাপের রক্ত তো, একটু তেজ দেখাবেই। তুমি একদম চিন্তা করো না মা।”
মেহের একপলক রুদ্রের দিকে তাকাল। রুদ্রকে দু’কথা শুনিয়ে দিতে পেরে তার ভেতরে অদ্ভুত এক তৃপ্তি কাজ করছে।সে রেহানা চৌধুরীর দিকে ফিরে মৃদু স্বরে বলল,

— চলুন মা, ওর যা ইচ্ছে করুক। আমার ভীষণ ক্ষুধা পেয়েছে।কথাটা বলেই রুমের দরজা ঠেলে বেরিয়ে গেল সে।রুদ্র শুধু হা হয়ে মেহের আর নিজের মায়ের চলে যাওয়া দেখল।
অন্য দিকে, সায়েদ ভিলার লিভিং রুমে সায়েদ কামিনী সোফায় দুই হাত উঁচিয়ে অনবরত হায়-হুতাশ করছিলেন, তার মুখে এক উদ্বেগের ছাপ। ড্রয়িংরুমের দেয়ালে ঝুলানো বিশাল টেলিভিশন স্ক্রিনে তখন খবরের চ্যানেলের একটানা ‘শোঁ শোঁ’ শব্দ এবং গম্ভীর ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক ভেসে আসছিল। স্ক্রিনের নিচে চওড়া লাল রঙের ‘ব্রেকিং নিউজ’-এর লাইনগুলো বারবার ফ্ল্যাশ করে জানান দিচ্ছিল—
বিশ্বজুড়ে এবং দেশে করোনা পরিস্থিতি মারাত্মক, অনিয়ন্ত্রিত ও ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। আমেরিকার সংক্রমণ ও মৃত্যুর সংখ্যা তখন প্রতিদিন আকাশচুম্বী হচ্ছে, লাশের সারি দীর্ঘ হচ্ছে। টেলিভিশন রিপোর্টার অত্যন্ত গম্ভীর ও বিষণ্ণ গলায় বলছিল, “আজকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বুলেটিন অনুযায়ী, বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলা থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুসারে সারা দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় মোট মৃতের সংখ্যা ২৩৪ জন, এবং সনাক্তের হার ১২০৮৯”

মৃত্যুর এই ভয়াবহ, হাড়হিম করা পরিসংখ্যান শুনে সায়েদ কামিনী সোফায় দুই হাত কপালে ঠেকিয়ে শরীর দুলিয়ে বিলাপে মাতলেন,
“ইয়া আল্লাহ ! দেশের একি হাল হলো। খোদা কি দুনিয়াটা তুলে নেবে? এত মানুষ এভাবে অক্সিজেন না পেয়ে মরে শেষ হয়ে যাচ্ছে! আমাদের কী হবে।”
ঠিক তখনই লিভিং রুমের প্রবেশদ্বারে এক জোড়া হালকা কিন্তু অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসী পায়ের শব্দ পাওয়া গেল। মেঘলা তার পরনের শাড়ির আঁচলটা হাত দিয়ে চেপে, ঠোঁটের কোণে এক চিলতে বাঁকা, তাচ্ছিল্যের হাসি ঝুলিয়ে ড্রয়িংরুমে এসে দাঁড়াল। সে অত্যন্ত শীতল, থমথমে অথচ তীব্র ব্যঙ্গাত্মক গলায় বলে উঠল,
“বড় মা? আপনি? আপনে দেশের মানুষের মৃত্যুর জন্য এভাবে সোফায় বসে বিলাপ করতেছেন? একজন খুনি যখন অন্যের মৃত্যুর জন্য কাঁদে, ব্যাপারটা একটু বেশি হাস্যকর দেখায় না?”
সায়েদ কামিনী সোফা উঠে দাঁড়ালেন। মেঘলার এই চরম ঔদ্ধত্য, এই প্রকাশ্য আক্রমণ তিনি নিজের ড্রয়িংরুমে দাঁড়িয়ে মেনে নিতে পারলেন না। তার ভেতরের অহংকার আর ক্রোধ মুহূর্তে মাথায় চড়ে গেল। তিনি মেঘলার দিকে তর্জনী উঁচিয়ে প্রায় তেড়ে গেলেন,

“এই মেয়ে! তোমার সাহস তো দিন দিন আকাশ ছুঁয়েছে। আমার সামনে দাঁড়িয়ে, আমারই নুন খেয়ে আমাকে কথা শোনাও তুমি? তোমার স্বামী দিয়েছে তোমাকে এত সাহস? এত সাহস কোত্থেকে পাও তুমি? তুমি ভুলে যাচ্ছো যে ও আমারই গর্ভের সন্তান, আমারই রক্ত! ও আমার অবাধ্য হবে না।”
মেঘলার ঠোঁটের সেই উপহাসের হাসি আরও প্রসারিত হলো। সে ভয় পেয়ে পিছিয়ে যাওয়ার বদলে কামিনীর চোখের দিকে সরাসরি তাকাল, যেন এই দ্বন্দ্বে সে এক অদ্ভুত, পৈশাচিক তৃপ্তি পাচ্ছে। সে অত্যন্ত শান্ত অথচ বিষাক্ত গলায় বলল,
“সাহস আপনার ছেলে দেবার কে, বড় মা? সত্যি বলতে, আপনাদের সরি আমাদের এই খুনি পরিবারকে দেখে ভয়ে কাঁপাকাঁপি করতাম, কিন্তু আর কতদিন? আপনিই তো বললেন না—মাশফি আপনার ছেলে। তবে ভাগ্য ভালো আপনার আর আপনার বড় ছেলের মতো ও অতটা নিষ্ঠুর হয় নি। ওর রক্তে এখনো কিছুটা হলেও মানুষের জাত আছে।”

কামিনী এবার মেঘলার দিকে আরও হিংস্র চোখে তাকালেন। তার চোয়ালের হাড় শক্ত হয়ে উঠল, দাঁত কিড়মিড় করে উঠল। তিনি চারপাশটা একবার দেখে নিলেন যে কেউ কোথাও আছে কি না। লিভিং রুমে তখন কেউ ছিল না, কেবল টিভির রিপোর্টারের আওয়াজ ছাড়া। তিনি মেঘলার একদম কাছে এসে, তার নিঃশ্বাস মেঘলার মুখে ফেলে ফিসফিস করে বিষাক্ত গলায় বললেন,
“তোমাকে একটা কথা বলতে তো আমি ভুলেই গেছি… তোমার খুব দেমাগ হয়েছে না? জানো, মেহেরের যে প্রথম বাচ্চাটা নষ্ট হইছে, ওটা কিন্তু এমনি এমনি হয় নাই। ওটার পেছনে কার হাত ছিল জানো?” আমার”….
— তুমি কী যেন বলেছিলে? যদি এটা রুদ্রের সন্তান না হয়ে অন্তুর সন্তান হয়…?
এটা রুদ্রেরই সন্তান। সেদিন আদালতে উকিল নিজেই বলেছিল, মেহের আড়াই মাসের অন্তঃসত্ত্বা।আর বাকিটা… আমার নিশ্চয়ই তোমাকে বুঝিয়ে বলতে হবে না।।

কামিনীর চোখের মণি দুটো তখন এক পৈশাচিক আনন্দে চকচক করছিল। তিনি মেঘলার কাঁধে হাত দিয়ে নখ ফুটিয়ে তীব্র চাপ দিলেন, যাতে মেঘলা ব্যথায় কুঁকড়ে যায়। কামিনী ফিসফিসিয়ে বললেন , “যাও, যাকে ইচ্ছা গিয়ে বলো। প্রমাণ আছে কোনো তোমার কাছে? মাশফিকে বলবে? গিয়ে বলো দেখি, ও নিজের জন্মদাত্রী মায়ের কথা বিশ্বাস করবে নাকি তোমার মতো একটা উড়ে এসে জুড়ে বসা মেয়ের কথা শুনবে?
আমিও দেখব কার জোর কতটুকু,এই বলে কামিনী এক মুহূর্তও না দাঁড়ালেন না সেখান থেকে চলে গেলেন ।
মেঘলা যেন স্তব্ধ, পাথর হয়ে সোফাটায় ধপ করে বসে পড়ল। তার পুরো শরীর তখন তীব্র আতঙ্কে কাঁপছে। কামিনী এত বড় একটা সত্য, দুটো খুনের কথা এত সহজে, এত অবলীলায় বলে গেলেন।মেঘলার মাথা ঝিমঝিম করতে লাগল, চারপাশের সবকিছু যেন ঘুরছে—আসলেই তো, কামিনী যদি মাশফিকে এভাবে ওপেন চ্যালেঞ্জ করে আর মাশফি যদি কোনো প্রমাণ ছাড়া নিজের মাকে সন্দেহ না করে, তবে মেঘলা কী করবে? কোনো অকাট্য প্রমাণ ছাড়া অন্তুর মৃত্যুর আর মেহেরের সন্তান হারানোর শাস্তি কি এই সায়েদ কামিনী আর তার বড় ছেলে কোনোদিন পাবে না? আইনের হাত কি এদের অব্দি পৌঁছাবে না? মেঘলার চোখের কোণ দিয়ে এক ফোঁটা তপ্ত অশ্রু গড়িয়ে পড়ল।মেহেরের জন্য কি কেউ এই দুনিয়াতে নেই? অন্তু কি তার বিচার পাবে না?আর ওই নিষ্পাপ বাচ্চাটারই বা কী দোষ ছিল?

সেদিন রুদ্র আর মেহেরের ঝগড়ার পর তাদের মধ্যে এক অদৃশ্য, দুর্ভেদ্য দেয়াল তৈরি হলো। একই অ্যাপার্টমেন্টের ভেতরে থাকতে গিয়ে দিনে বা রাতের বেলা বেশ কয়েকবার তাদের আকস্মিক মুখোমুখি হতে হলো। কখনো ডাইনিং টেবিলে পানির গ্লাস নিতে গিয়ে, কখনো করিডোরে। টুকটাক খুনসুটি, লড়াই আর চোখের শীতল ইশারা চলল ঠিকই, কিন্তু কেউ কারো সঙ্গে স্বাভাবিকভাবে একটা কথাও বলল না।
গভীর রাতে মেহেরের চোখে ঘুম আসছিল না। সে নিজের ঘরের বারান্দায় গিয়ে দাঁড়াল। বাইরের ঘুটঘুটে অন্ধকারের মাঝে রাস্তার ধারের নিয়ন লাইটের টিমটিমে হলুদ আলোটা এসে পড়ছিল তার ক্লান্ত চোখের পাতায়।
চারিদিকের লকডাউনের নিস্তব্ধতা যেন এক শ্মশানের নীরবতা এনে দিয়েছিল এই শহরে। সে রাতের শীতল, আর্দ্র হাওয়া গায়ে মেখে নিজের ভেতরের অস্থিরতা আর পেটের ভেতরের হালকা নড়াচড়াকে শান্ত করার চেষ্টা করছিল। হঠাৎ ঘরের ভেতর কোনো ফাইলের খসখস শব্দ পেয়ে সে বারান্দার স্লাইডিং ডোর ঠেলে ভেতরের রুমে এলো। দেখে, রুদ্র টেবিলের ল্যাম্পটা জ্বালিয়ে ড্রয়ার থেকে কিছু প্রয়োজনীয় ফাইল আর কাগজ বের করছে।
মেহের ভ্রু কুঁচকে, গলার স্বর যতটা সম্ভব শক্ত করে জিজ্ঞেস করল, “আপনি এত রাতে এখানে কী করছেন?”

রুদ্র ফাইলগুলো নিখুঁতভাবে গোছানোর ভঙ্গি বজায় রেখেই, মেহেরের দিকে না তাকিয়ে অত্যন্ত নিস্পৃহ ও শীতল গলায় বলে উঠল, “আর মাত্র ২৭ দিন… তারপর আমাদের এই আইনি বিয়ের ছয় মাস পূর্ণ হবে।”
রুদ্রের মুখে এই প্রথম ‘আমাদের বিয়ে’ শব্দজোড়া শুনে মেহেরের বুকের ভেতর কেমন যেন একটা অদ্ভুত, নামহীন অনুভূতির মোচড় দিল। এক মুহূর্তের জন্য তার হৃদস্পন্দন থমকে গেল। সে কিছু বলার আগেই রুদ্র ফাইলটা হাতে নিয়ে তার দিকে একপলক চেয়ে শান্ত গলায় বলল “চিন্তা করো না। ছয় মাস পূর্ণ হলেই আইনি বাধা কেটে যাবে। তুমি যখনই চাইবে, আমি তোমাকে ডিভোর্স দিয়ে দেব।”
মেহের রুদ্রের মুখের দিকে একদৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল। তার চোখের গভীরে তখন এক অদ্ভুত শূন্যতা আর হাহাকার। কিন্তু পরক্ষণেই তার মনে একটা বাস্তবসম্মত সংশয় আর তীব্র ভয় উঁকি দিল—দেশের এই ভয়াবহ কোভিড পরিস্থিতির কারণে আদালতের কাজ বন্ধ থাকে? আইনি সমস্যার সমাধান যদি না হয়? আর যদি কেসটাও আরও বছরের পর বছর ঝুলে থাকে?
রুদ্র মেহেরের মুখের সেই হঠাৎ বদলে যাওয়া দ্বিধাগ্রস্ত ও চিন্তিত ভাবটা লক্ষ্য করল। সে ফাইলের পাতা ওল্টাতে ওল্টাতে আবার নিজের কাজে মনোযোগ দেওয়ার ভান করে বলল,

“কেন? একটু আগে তো ডিভোর্সের জন্য, এই বাড়ি থেকে চলে যাওয়ার জন্য মরছিলে? এখন যখন আমি নিজে থেকেই মুক্তির কথা বললাম, তখন এমন কথা আসছে কেন ?”
মেহের এবার নিজের গর্ভাবস্থার ভারী শরীরটাকে সামলে নিয়ে আরও কয়েক পা সামনে এগিয়ে এসে রুদ্রের একদম পাশে, বিছানার কোনায় বসল। তার গলার স্বর এবার আর কোনো রাগ ছিল না, বেশ গম্ভীর শোনাল,
“অ্যাকচুয়ালি… এখন বাইরে কোভিড পরিস্থিতির যে ভয়াবহ অবস্থা, প্রতিদিন যেভাবে মানুষ মরছে আর লকডাউন বাড়ছে, মনে হয় না এই আইনি ঝামেলা এত তাড়াতাড়ি মিটবে। তার ওপর আমি নিয়মিত অনলাইনের মাধ্যমে আদালতের হাজিরা দিচ্ছি, তাও জানি না বিচারক শেষ পর্যন্ত কী রায় দেবেন। ধরুন, এই আইনি লড়াইয়ে যদি অনেক সময় চলে যায়… আমি তখন কোথায় যাবো? আমার তো এই বিশাল দুনিয়ায় মাথা গোঁজার মতো নিজের কেউ নেই…” মেহেরের কণ্ঠের শেষভাগটা এক বুক হাহাকার আর কান্নায় বুজে এলো।

রুদ্রের হাত দুটো ফাইলের কাগজের ওপর হঠাৎ থমকে গেল। ‘আমার কেউ নেই’….মেহেরের কথাটা রুদ্রকে ভেতর থেকে তীব্রভাবে নাড়া দিল। সে ফাইল থেকে মুখ তুলে পুরোপুরি মেহেরের দিকে ঘুরে তাকাল। মেহেরের টেবিল ল্যাম্পের আলোয় আলোকিত আনত, ফ্যাকাশে মুখের দিকে চেয়ে রুদ্রের মন যেন এক মুহূর্তের জন্য গলিত মোমের মতো নরম হলো। সে একটা দীর্ঘ, গভীর শ্বাস নিয়ে গম্ভীর অথচ নরম গলায় বলল,
“ঠিক আছে, যতদিন না এই আইনি সমস্যার সম্পূর্ণ সমাধান হচ্ছে এবং বাইরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হচ্ছে, তুমি নির্দ্বিধায় এখানে থাকতে পারো। কেউ তোমাকে জোর করবে না কোন কিছুতেই ।”
কথাটা বলেই রুদ্র আর এক মুহূর্তও সেখানে দাঁড়াল না, নিজের ভেতরের দুর্বলতা লুকাতে দ্রুত পায়ে ঘর থেকে বেরিয়ে গেল।
এরপরের দিনগুলো এক অদ্ভুত, নিঃশব্দ নিস্তব্ধতায় কাটতে লাগল। একই ছাদের নিচে থেকেও রুদ্র আর মেহেরের দূরত্ব যেন মাইলের পর মাইল।

বাইরে তখন শুধু মৃত্যুর হাহাকার আর অ্যাম্বুলেন্সের সাইরেন। এই অবরুদ্ধ বন্দিদশায় মেহেরের একমাত্র মানসিক ভরসা হয়ে উঠলেন হামজা চৌধুরী আর রেহানা চৌধুরী।
তাদের অকৃত্রিম যত্ন, পুষ্টিকর খাদ্য আর নিয়মিত চিকিৎসায় মেহেরের ভেঙে পড়া শারীরিক স্বাস্থ্য আগের থেকে বেশ উন্নত ও স্থিতিশীল হতে শুরু করল। তার চেহারার ফ্যাকাশে ভাবটা কেটে একটু লাবণ্য ফিরে এলো। ক্যালেন্ডারের পাতা ওল্টাতে ওল্টাতে মেহেরের গর্ভকাল এখন আট মাসে পদার্পণ করেছে। তার পেটের অবয়ব এখন বেশ স্পষ্ট। এই বিগত দুই মাসে মেহেরকে বেশ কয়েকবার মহামারীর তীব্রতার কারণে অনলাইনের মাধ্যমে ভার্চুয়াল আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হয়েছে, দিতে হয়েছে দূরনিয়ন্ত্রিত হাজিরা। প্রতিটা শুনানির সময় তার বুক দুরুদুরু কাঁপত, কিন্তু সে নিজেকে শক্ত রেখেছিল।

ক্যাপ্টেন সাহেব পর্ব ৩১

ধীরে ধীরে বৈশ্বিক কোভিডের সেই প্রলয়ঙ্করী প্রকোপ কিছুটা কমে আসতে শুরু করল। দীর্ঘ লকডাউনের পর সরকারের তরফ থেকে বিধিনিষেধ কিছুটা শিথিল করা হলো। অবশেষে স্থবির হয়ে থাকা দেশের আদালত পাড়া সশরীরে খুলেছে, আইনজীবীদের আনাগোনায় আবার মুখরিত হয়েছে কালো কোটের চত্বর।

ক্যাপ্টেন সাহেব পর্ব ৩৩