Home ক্যাপ্টেন সাহেব ক্যাপ্টেন সাহেব পর্ব ৩৩

ক্যাপ্টেন সাহেব পর্ব ৩৩

ক্যাপ্টেন সাহেব পর্ব ৩৩
মারিয়াম ফুল

আদালত পাড়ার চেনা শোরগোল, কালো কোট পরিহিত আইনজীবীদের ব্যস্ত আনাগোনা আর ফাইলের খসখস শব্দে আজ আড়াই মাস পর ঢাকা জজ কোর্ট প্রাঙ্গণ যেন আবার নতুন করে প্রাণ ফিরে পেয়েছে। কিন্তু চৌধুরী নিবাসের মানুষদের মনে আজ বিন্দুমাত্র কোনো স্বস্তি নেই। দীর্ঘ অবরুদ্ধতা আর লকডাউনের পর মেহেরকে সশরীরে আদালতের কাঠগড়ায় গিয়ে দাঁড়াতে হবে আরও ৩ দিন পর।।

এখন পর্যন্ত মামলার সমস্ত প্রত্যক্ষ ও পারিপার্শ্বিক তথ্য-প্রমাণ মেহেরের বিরুদ্ধেই কথা বলছে। হামজা চৌধুরী নিজের সর্বশক্তি দিয়ে শহরের নামী, বাঘা বাঘা আইনজীবীদের সাহায্য নেওয়ার আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়েছিলেন। কিন্তু পর্দার আড়ালে আইনের অনেক রথী-মহারথী এই কেসে এগিয়ে আসতে চেয়েও শেষ মুহূর্তে পিছিয়ে গেছেন। কারণ, যার খুন নিয়ে এত তোলপাড়, সেই রিনি শেখ কোনো সাধারণ ব্যক্তি ছিলেন না, তিনি ছিলেন দেশের একজন অত্যন্ত গণ্যমান্য, সুপরিচিত ফ্যাশন ডিজাইনার এবং একই সাথে মিডিয়া আইকন।
দীর্ঘ লকডাউনের কারণে এতদিন মিডিয়ার তুমুল হাইপটা হয়তো কিছুটা ঝিমিয়ে এসেছে, কিন্তু তার মানে এই নয় যে মানুষ বা সমাজ এই হাই-প্রোফাইল খুনের মামলাটি পুরোপুরি ভুলে গেছে। আদালত প্রাঙ্গণের চায়ের দোকান থেকে শুরু করে করিডোরের আনাচে-কানাচে দর্শকেরা নিজেদের মতো করে যুক্তি-তর্কের জাল বুনছিল।
এক প্রবীণ আইনজীবী চায়ের কাপে চুমুক দিয়ে বলছিলেন,

“আরে ভাই, চৌধুরী বাড়ির পুত্রবধূ যদি সত্যিই খুনটা করতে যেত, তবে তো পিঠের পেছনে তিন-তিনটে গুলিই যথেষ্ট ছিল। একটা নামী ফ্যাশন ডিজাইনারকে মারার জন্য ওই জাতের সস্তা কাটার কেউ ব্যবহার করে? পুরো ব্যাপারটা কেমন যেন সাজানো মনে হয়!”
পাশ থেকে আরেকজন চশমাটা নাকের ডগায় নামিয়ে বাঁকা হেসে ফোড়ন কাটল, “আরে ধুর মশাই! আইনের মারপ্যাঁচ এত সহজ ভাববেন না। দেখবেন, শেষ পর্যন্ত টাকার যুক্তি আর ক্ষমতার জোরে সব অকাট্য যুক্তিও ঠুনকো হয়ে যায়। যদি হামজা চৌধুরীর পুত্রবধূ আসলেও দোষী হয়ে থাকে, তাও হয়তো টাকা দিয়ে সব কিনে নেবে। চৌধুরী বংশের মান-সম্মানের প্রশ্ন বলে কথা ”

কিন্তু বাস্তবতার সমীকরণটা বাইরে থেকে যতটা সহজ মনে হচ্ছিল, ভেতর থেকে ততটাই জটিল ও নির্মম ছিল। এমন নয় যে সায়েদ ইমরান কিংবা হামজা চৌধুরী টাকা-পয়সা ঢেলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে চাননি। বিশেষ করে হামজা চৌধুরী…..যাঁকে পুরো শহর চেনে এক অনমনীয়, নীতিবান মানুষ হিসেবে। তাঁর সুদীর্ঘ ক্যারিয়ারে কোনোদিন তিনি কোনো অবৈধ বা অসাধু পথ অবলম্বন করার কথা কল্পনাও করেননি। নিজের সততা আর সুনামের ওপর দাঁড়িয়েই তিনি আজ এই প্রতিপত্তি গড়ে তুলেছেন। আইনের প্রতি সর্বদা অন্ধ শ্রদ্ধা রাখা এই মানুষটি আজ প্রথমবারের মতো নিজের নীতির কাছে নয়, বরং নিজের পরিবারের মায়ার কাছে সম্পূর্ণ অসহায়ভাবে বাধা পড়ে গেছেন।
নিজের ছেলের বউ আর তাঁর নিজের অনাগত বংশের প্রদীপকে বাঁচাতে তিনি আজ যেকোনো নরকে নামতে প্রস্তুত, যেকোনো পাপের ভাগীদার হতেও তাঁর দ্বিধা নেই।

কারণ আজ থেকে ঠিক নয় বছর আগে এক মর্মান্তিক,সড়ক দুর্ঘটনায় তিনি তাঁর বড় ছেলে আর বড় ছেলের পুরো পরিবারকে হারিয়েছেন। এক নিমিষেই ফাঁকা হয়ে গিয়েছিল তাঁর সাজানো সংসার। আজও সেই পুরনো ক্ষত একটুখানি ছোঁয়া পেলেই তাজা হয়ে রক্তক্ষরণ শুরু হয় মাঝরাতে উথাল-পাথাল করে তোলে তাঁর বুক। আজ আবার সেই একই ধ্বংসস্তূপের কিনারায় এসে দাঁড়িয়েছেন তিনি। মেহের আর রুদ্রর অনাগত সন্তানকে তিনি কোনোভাবেই এই অন্ধকারের অতল গহ্বরে হারিয়ে যেতে দিতে পারেন না।
এই অনাগত সন্তানকে বাঁচানোর লড়াইয়ে যদি তাঁর জীবনের সমস্ত সঞ্চয়, দীর্ঘদিনের কামানো ধন-সম্পদ, আর সমাজের তথাকথিত প্রতিপত্তি পুড়ে ছাই হয়ে কয়লা হয়ে যায়, তবুও ওঁর মনে কোনো আক্ষেপ থাকবে না। কারণ, চৌধুরী বাড়ির এই বিলাসবহুল দেওয়ালগুলো হামজা চৌধুরীকে সান্ত্বনা দিতে পারবে না। কোল খালি হয়ে যাওয়ার, সন্তান হারানোর সেই তীব্র, দমবন্ধ করা যন্ত্রণা এই পৃথিবীতে হামজা চৌধুরীর চেয়ে ভালো আর কে বোঝে?তাই আজ তিনি আইনের রক্ষক নন, তিনি আজ এক মরিয়া অভিভাবক, যিনি নিজের শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে হলেও তাঁর বংশের প্রদীপকে আগলে চান।

আজকের এই শুনানির দিনটি আসার পেছনের আড়াই মাসের গল্পটা বেশ অন্যরকম ছিল। এই আড়াই মাসের লকডাউনের ফাঁকে রেহানা চৌধুরী কয়েকবার সিলেটে গিয়েছিলেন তাঁর অসুস্থ শাশুড়িকে দেখতে। তিনি যখন সিলেটে থাকতেন, হামজা চৌধুরী মেহেরের দেখভালের জন্য ঢাকায় অ্যাপার্টমেন্টে থাকতেন। আবার রেহানা চৌধুরী ঢাকায় ফিরে আসলে হামজা চৌধুরী সিলেটে যেতেন। এভাবেই জীবনের এই কঠিন দুর্যোগপূর্ণ সময়ে দুই প্রবীণ মানুষ সর্বদা একজন আর একজনের ঢাল হয়ে সংসার আর মেহেরের সবকিছু সামলে রেখেছিলেন।
তবে মেহেরকে পুরোপুরি ছেলের ভরসায় একা রেখে যেতে রেহানা চৌধুরীর মন কখনোই সায় দেয়নি। মুখে কিছু না বললেও, গত আড়াই মাসে তিনি রুদ্রর প্রতিটা আচরণ খুব খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে লক্ষ্য করেছেন। মায়ের চোখকে তো আর ফাঁকি দেওয়া যায় না! তিনি স্পষ্ট দেখেছেন মেহেরের প্রতি রুদ্রর এক অদ্ভুত উদাসীনতা, একটা অদৃশ্য দেয়াল তুলে যেন নিজেকে গুটিয়ে রাখার আপ্রাণ চেষ্টা। এই কঠিন সময়ে যেখানে রুদ্রর মেহেরের পাশে পাহাড়ের মতো দাঁড়িয়ে থাকার কথা, সেখানে রুদ্র সব সময় গা-ছাড়া ভাব নিয়ে থাকত।
কতবার যে মেহেরের সামনেই রুদ্রকে কড়া করে দুটো কথা বলতে গিয়েও নিজেকে সামলে নিয়েছেন, তার ইয়ত্তা নেই। চক্ষুলজ্জা আর সংকোচ এসে প্রতিবার তাঁর মুখটা চেপে ধরেছে। তাছাড়া মা হিসেবে তিনি একটা জিনিস সবসময় মেনে চলেন—ছেলের নিজস্ব সংসারে নাক গলানোটা তিনি মোটেও পছন্দ করেন না।
মেহেরের শরীরে আগের চেয়ে পরিবর্তন বলতে যতটুকু এসেছে, তা না আসার মতোই। ক্যালেন্ডারের পাতায় মেহেরের গর্ভকাল এখন আট মাস ছুঁয়েছে, অথচ তার শীর্ণ ও রোগা গড়ন দেখে বাইরে থেকে তা অনুমান করার বিন্দুমাত্র সুযোগ নেই। সবাই তাকে ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা বলেই জানে, আর মেহেরের শারীরিক গঠনও এমন যে সে যে আসলে আট মাসের গর্ভবতী তা বোঝার কোনো জো-ই নেই। তবে ভেতরের পরিবর্তনটা মেহের নিজে টের পায়। ইদানীং প্রায়ই তার পা দুটো ফ্যাকাশে হয়ে ফুলে উঠছে…..

মেজাজটাও কেমন যেন খিটখিটে হয়ে ওঠে। সারাদিন এই চার দেয়ালের মাঝে বন্দি থাকতে থাকতে দম আটকে আসে ওর। মনে হয় যদি একটুখানি বাইরের খোলা বাতাস গায়ে মাখতে পারত, তবে হয়তো মনটা ভালো লাগত। কিন্তু যখনই তীব্র মোড সুইংস হয়, তখনই ও বুঝতে পারে নিজের ওপর ওর কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। কারণ, আদালতের নির্দেশ এই অ্যাপার্টমেন্টের বাইরে এক কদম পা বাড়ানোও ওঁর জন্য সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
বিছানায় দুটো বালিশের ওপর পা দুটো উঁচু করে রেখে আধশোয়া হয়ে বসে ছিল মেহের। পায়ের গোড়ালির দিকটা হালকা ফুলে গেছে, মৃদু একটা ব্যথা অনবরত জানান দিচ্ছে ওঁর শারীরিক কষ্ট। রেহানা চৌধুরী প্রায়ই এসে ওঁর পায়ে গরম পানির সেঁক নিতে বলেন, কখনো কখনো পরম মমতায় নিজেই করে দেন। কিন্তু আজকে মেহেরের কোনো কিছুতেই মন সায় দিচ্ছিল না।

মনের ভেতর এক অদ্ভুত, অজানা ভয় অনবরত ডালপালা মেলছে। পর পর তিনটি শুনানির পর আজ শেষ পর্যন্ত কী হবে? ওর ভবিষ্যৎ কী? ওর গর্ভে থাকা এই নিষ্পাপ সন্তানটার ভবিষ্যৎ কী? কান্না করাটা সে অনেক আগেই ভুলে গেছে। নিজের নিয়তিকে সে ওপরওয়ালার হাতে সঁপে দিয়েছে ঠিকই, তবুও নিজের বাচ্চার কথা ভেবে বুকের গহীন কোণ থেকে একটা তীব্র হাহাকার উথলে ওঠে। যদি আইনি বেড়াজালে সে সত্যিই ফেঁসে যায়, তবে তার এই নিষ্পাপ বাচ্চার কী হবে?
মেহের আর নিতে পারল না। মাথায় চিন্তার ঝড়টা থামাতে কোনো রকমে বিছানা থেকে উঠে দাঁড়াল। ধীর পায়ে রুমের বাইরে লিভিং রুমে আসতেই ও দেখল চারপাশটা কেমন নিস্তব্ধ। রেহানা চৌধুরী রান্নাঘরে মেহেরের জন্যই খুব যত্ন করে ফ্রুট কাস্টার্ড বানিয়েছেন। মেহের যখন ড্রয়িংরুমের মেঝে দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিল, তখন মেঝের এক কোণায় একটা কলার খোসা পড়ে ছিল, যা ওঁর ক্লান্ত চোখের নজরে আসেনি। মেহের নিজের খেয়ালেই এগিয়ে যাচ্ছিল।
হঠাৎ করেই কলার খোসায় পা লাগতেই ওঁর পা পিছলে গেল! আকস্মিক পতনের ভয়ে আর তীব্র আতঙ্কে মেহের চোখ বুজে চিৎকার করে উঠল,

“ মা…!”
কিন্তু শক্ত মেঝেতে আছড়ে পড়ার আগেই, অত্যন্ত দ্রুত এবং সুনির্দিষ্ট এক জোড়া শক্ত হাত মেহেরের কোমর আর বাহু আঁকড়ে ধরে ওকে শূন্যে সামলে নিল। বাতাসে মেহেরের ওড়নাটা উড়ে গিয়ে রুদ্রর শার্টের বোতামে আটকে গেল। মেহের ভয়ে কাঁপতে কাঁপতে চোখ মেলল। চোখের ঠিক ইঞ্চি খানেক দূরত্বে এক জোড়া তীক্ষ্ণ, ক্ষুব্ধ চোখের মণি জ্বলজ্বল করছে।
রুদ্র!
মেহেরকে সোজা করে দাঁড় করিয়ে দিয়েই রুদ্রর গলার স্বর রাগে সপ্তমে চড়ল, “হোয়াট দ্য হেল মেহের! তুমি এখানে কী করছ?
মেহের নিজের কাঁপানো ভাবটা সামলে নিয়ে আমতা আমতা করে বলল, “এ্যাঁ… মানে, রুমে দম বন্ধ লাগছিল। একটু খোলা বাতাস প্রয়োজন ছিল…”

“তাই বলে পায়ের নিচে তাকাবে না?” রুদ্র তীব্র চোখে মেঝের কলার খোসাটার দিকে ইশারা করে বলল, “এখন যদি আমি ঠিক এই সময়ে এখানে না আসতাম, তবে কী হতো তোমার, আইডিয়া আছে?”
মেহের নিজেকে সোজা করে দাঁড়িয়ে রুদ্রর এই আকস্মিক ধমকে উল্টো রেগে গিয়ে বলল, “হয়নি তো কিছু…আপনি অহেতুক আমাকে ওভাবে বকছেন কেন?”
“ওহ রিয়েলি? বকছি?” রুদ্র একটা তাচ্ছিল্যের তপ্ত শ্বাস ফেলে বলল, “না, তোমাকে এখন কলার খোসা দিয়ে ফেলে দেওয়ার জন্য ফুলের মালা দিয়ে বরণ করা উচিত ছিল আমার! তুমি কি দুই মিনিটও শান্তিতে এক জায়গায় থাকতে পারো না? যদি সত্যি সত্যি পড়ে যেতে, তবে আমার বাচ্চ….
রুদ্রর মুখ থেকে আচমকাই শব্দটা বেরিয়ে আসতেই সে নিজে থেকেই থমকে গেল। এক সেকেন্ডের জন্য ওর চোয়াল শক্ত হয়ে উঠল, চোখের ভেতরের রাগটা যেন এক অদ্ভুত মায়ায় রূপ নিল। মেহেরের দিকে তাকিয়ে বুক থেকে একটা দীর্ঘশ্বাস চেপে নিয়ে সে দ্রুত নিজের কথাটা ঘুরিয়ে নিল, “আই মিন…তোমার বাচ্চার কী হতো? এই মুহূর্তে তোমার আর তোমার বাচ্চার খেয়াল রাখাটা আমার রেসপন্সিবিলিটি। আর তুমি এভাবে নিজের ক্ষতি করতে যাচ্ছো ?”

মেহের রুদ্রর দিকে তাকাল। রুদ্রর এই তীব্র ধমকের মাঝে বাচ্চার প্রতি, রুদ্রের এক অদ্ভুত অধিকারবোধ দেখে মেহেরের মনের ভেতর কেমন যেন লাগল। রুদ্রর এই হঠাৎ করে বাচ্চার জন্য এতটা পজেসিভ হয়ে ওঠাটা মেহেরের মোটেও পছন্দ হলো না।
মেহের নিজের ওড়নাটা রুদ্রর শার্টের বোতাম থেকে এক ঝটকায় টেনে ছাড়িয়ে নিয়ে বলল, “পড়ি তো নি ! পড়লে তখন বলতেন। আপনি ওমন করছেন যে ন—”
“আমি না ধরলে এতক্ষণে পড়তে মেহের ” রুদ্র ওর কথা মাঝপথেই থামিয়ে দিয়ে রাগে চোয়াল শক্ত করে বলল, “ভাগ্য ভালো আমি প্রতিবার সামলে নিই! কিন্তু কতবার? কতবার আমি তোমাকে এভাবে আড়াল করে সামলাবো? সবসময় তো আমি থাকব না তোমাকে আগলে রাখার জন্য! আর বড়জোর কয়েকটা দিন… তারপর…”

কথাটা শেষ না করেই রুদ্রর নিজের কাছেই কেমন যেন অদ্ভুত লাগল। সে মেহেরের চোখের দিকে আর তাকাতে পারল না। নিজের ভেতরের এই আকস্মিক দুর্বলতা আর অস্থিরতা লুকাতে সে আর এক সেকেন্ডও সেখানে না দাঁড়িয়ে দ্রুত পায়ে নিজের ঘরের দিকে চলে গেল।
ঠিক তখনই রান্নাঘর থেকে বাটি হাতে বেরিয়ে এলেন রেহানা চৌধুরী। মেঝের কলার খোসা আর মেহেরের ফ্যাকাশে মুখ দেখে তিনি মাথায় হাত দিয়ে উঠলেন। কাস্টার্ডের বাটিটা টেবিলে রেখে অত্যন্ত অপরাধী গলায় বলে উঠলেন,

“ আই অ্যাম সো সরি মেহের! আমি কলার খোসাটা ছিলে ডাস্টবিনে না ফেলে হয়তো ভুলেই মেঝেতে ফেলে দিয়েছিলাম। তুমি পড়ে যাওনি তো মা? এসো, এখানে বসো।”
মেহের সোফায় বসল। ঠিক তখনই হামজা চৌধুরী নিজের ঘর থেকে তৈরি হয়ে বেরিয়ে এলেন। তবে মেহেরের সামনে তিনি নিজের মুখের সমস্ত ক্লান্তি আর উদাসীনতার ভাব লুকিয়ে রাখলেন। পরিবেশটা হালকা করার জন্য তিনি মেহেরের পাশে বসে কাস্টার্ড খেতে খেতে আলগা, ঘরোয়া গল্প শুরু করলেন।
কিছুক্ষণ পর রুদ্র নিজের ঘর থেকে বেরিয়ে এলো। ওঁর পরনে তখন বাইক রাইডিংয়ের জ্যাকেট আর গ্লাভস, আঙুলে অনবরত একটা চাবি ঘুরছে। হামজা চৌধুরী আর রুদ্রর মধ্যকার সম্পর্কটা এখন অনেকটাই আগের থেকে স্বাভাবিক।
বাবা-ছেলের মাঝে এমন খুনসুটি আর ঝগড়া প্রায়ই হয়। কিন্তু দিনের শেষে তারা দুজনেই জানে, একজন আরেকজনকে ছাড়া তাদের চলে না। যতই ঝগড়া হোক না কেন, একে অপরের অনুপস্থিতি তারা কখনোই সহ্য করতে পারে না।
ড্রয়িংরুম পার হওয়ার সময় ও হামজা চৌধুরীর দিকে আড়চোখে তাকাল, কিন্তু কোনো কথা বলল না।
হামজা চৌধুরী কাস্টার্ডের বাটিটা টেবিল রেখে চশমাটা ঠিক করতে করতে গম্ভীর গলায় বললেন, “আবার এই অসময়ে বাইক নিয়ে বের হওয়া হচ্ছে? ঘরের প্রতি কি কোনো দায়িত্ববোধ থাকবে না তোমার?”
রুদ্র দরজার কাছে গিয়েও থমকে দাঁড়াল। পেছনে না ফিরেই কিছুটা তপ্ত স্বরে বলল,

“আমার দায়িত্ব নিয়ে তোমাকে ভাবতে হবে না, বাবা। আমি আমার কাজ ভালো করেই বুঝি।”
“বুঝলে তো ভালোই হতো” হামজা চৌধুরী দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললেন, “সারাক্ষণ শুধু বাইরে টোটো করা। একটা দিনও যদি তোমাকে শান্ত হয়ে ঘরে বসতে দেখতাম”
“আমি ঘরে থাকলে তো আবার আপনারই সমস্যা হয়, তাই একটু দূরে থাকাই ভালো।” রুদ্রর গলায় স্পষ্ট অভিমানী রাগ।
রেহানা চৌধুরী রান্নাঘর থেকে উঁকি দিয়ে মৃদু ধমকের সুরে বললেন,
“আহা, তোমরা দুজন কি দেখলেই একটু ঝগড়া না করে পারো না? সারাদিন তো একজন আরেকজনের খোঁজ ঠিকই নাও তখন কি ঝগড়ার কথা মনে থাকে না? ”

মায়ের কথায় রুদ্র আর কথা বাড়াল না, কিন্তু ওর চলে যাওয়ার গতিটা একটু ঝিমিয়ে এলো। সে জানে, বাবা মুখে যতই রাগ দেখাক, ও রাতে বাড়ি না ফেরা পর্যন্ত বাবা ড্রয়িংরুমের সোফায় বসে পত্রিকা পড়ার বাহানায় জেগে অপেক্ষা করবে। আর হামজা চৌধুরীও ভালো করেই জানেন, রুদ্র যতই মুখে মুখে তর্ক করুক না কেন, বাবার শরীর একটু খারাপ হলেই পুরো বাড়ি মাথায় তুলে ফেলা প্রথম মানুষটা এই রুদ্রই।
মুখের এই অনীহা আর একগুঁয়েমির আড়ালে যে বাবা-ছেলের এক অদ্ভুত, না-বলা নির্ভরতা লুকিয়ে আছে, তা মেহের সোফায় বসে বেশ টের পেল।
রুদ্র আবার দরজার কাছ থেকে দুই কদম পিছিয়ে আবার বাবার দিকে এগিয়ে এলো। এই ছেলের আসলেই কোনো ভরসা নেই, কখন কী করে বসে বলা মুশকিল। কিন্তু এবার রুদ্র অত্যন্ত সাবলীল গলায় বলল,

“বাবা, অফিসের কিছু জরুরি কাজ আছে। আগামী দুই দিনের মধ্যে আমাকে ফ্লাইটে ফিরতে হবে, ইন্টারন্যাশনাল রুটগুলো মোটামুটি স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। আর আমাদের এয়ারলাইন্সের এমপ্লয়িদের সাথে আজ আমার একটা জরুরি মিটিং ডাকা হয়েছে, সেখানেই যাচ্ছি এখন।”
হামজা চৌধুরী কিছুটা অবাক হয়ে বললেন, “কিন্তু আর মাত্র তিন দিন পরেই তো মেহেরের চূড়ান্ত শুনানি আছে…”
রুদ্র মেহেরের দিকে ঠান্ডা চোখে একবার তাকাল, তারপর ওঁর স্বভাবসুলভ নিস্পৃহ গলায় বলল, “আই নো বাবা। ওটা তো আর নতুন কিছু নয়।”
ছেলের এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন ও নিরাসক্ত কথায় হামজা চৌধুরী একপ্রকার আহাম্মক বনে গেলেন। যে ছেলে নিজের সংসারের প্রতি বিন্দুমাত্র মনোযোগ দেয় না, তাকে আর নতুন করে কী-ই বা বলবেন….রুদ্র আর কোনো কথা না বাড়িয়ে অ্যাপার্টমেন্টের দরজা টেনে বেরিয়ে গেল।

রুদ্র চলে যেতেই লিভিং রুমে একটা থমথমে নীরবতা নেমে এলো। হামজা চৌধুরী দরজার দিকে তাকিয়ে একটা তপ্ত দীর্ঘশ্বাস ফেললেন। মুখে যতই রাগ দেখান না কেন, বাবার মন তো….. তিনি ঠিকই বুঝলেন ছেলে রাগ করে চলে যাচ্ছে বলেই যাওয়ার আগে এভাবে শুনিয়ে দিয়ে গেল যে সে আর মাত্র দুদিন পর দেশ ছেড়েই চলে যাবে। মুখোমুখি দাঁড়িয়ে সরাসরি বলতে পারে না, তাই ঝগড়ার অজুহাতে নিজের আড়ালটুকু বজায় রেখে বিদায়ের বার্তাটা দিয়ে গেল।
ছেলের প্রতি অভিমান এখন আর তার মধ্যে আগের মতো নেই বললেই চলে। কিন্তু ছেলেটার ভেতরের অভিমানটা পুরোপুরি কমেনি, কোথাও যেন এখনো জমে আছে নীরবে। সে মুখে কিছু বলে না, কিন্তু আচরণে সেই দূরত্বটা টের পাওয়া যায়।

তবে তিনি ভালো করেই জানেন, এই অভিমান চিরকাল থাকবে না। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সব গলেই যাবে, আবার আগের মতোই দুজনের মাঝে সেই স্বাভাবিক টান ফিরে আসবে।
এদিকে সায়েদ ভিলার একটি অন্ধকার ঘরে মেঘলার ছোট বোন মিনহা বিছানায় উপুড় হয়ে শুয়ে পা দুটো বাতাসে দোলাচ্ছিল। নিজের ফোনের স্ক্রিনে কোনো এক সেলিব্রেটির ছবি বারবার জুম করে গভীর মনোযোগ দিয়ে দেখছিল সে, মুখে তার চওড়া হাসি।
মেঘলা আচমকা রুমে ঢুকে মিনহাকে ওভাবে পড়া ফেলে ফোন ঘাঁটতে দেখে প্রচণ্ড রেগে গেল। কোমরে হাত দিয়ে গলার স্বর চড়িয়ে বলল,

“মিনহা…তুই আবার বই-খাতার আড়ালে ফোন লুকিয়ে চালাচ্ছিস? সামনেই পরীক্ষা, পড়তে বোস এক্ষুণি ”
মিনহা ধড়ফড় করে উঠে বসে ফোনটা বুকের সাথে চেপে ধরল। তারপর মুখ কুঁচকে বলল, “আরে ধুর আপু! সবসময় শুধু পড়া আর পড়া! একটু রিল্যাক্সও করতে দেবে না?”
“হ্যাঁ, দেখছি কেমন রিল্যাক্স করছিস তুই….দেখি, কী এত গিলছিস ফোনে?” এই বলে মেঘলা এক প্রকার জোর করেই মিনহার হাত থেকে ফোনটা ছিনিয়ে নিল। ফোনের স্ক্রিনের দিকে তাকাতেই ও দেখল, সেখানে এ দএক সেলিব্রেটির ক্লোজ-আপ ছবি ছিল।
মেঘলা কিছু একটা বলে ধমকাতে যাবে, কিন্তু ওঁর আগেই মিনহা বিছানায় একটু এগিয়ে এসে দুই হাত গালে ঠেকিয়ে ফিক করে হেসে উঠল, “দেখেছিস আপু, কী মারাত্মক হট! কিন্তু জাস্ট ভাব, এই লোকের বয়স কত জানিস? বত্রিশ চলছে!”

মেঘলা ফোনটা মিনহার দিকে ছুড়ে দেওয়ার ভঙ্গিতে দিয়ে বলল, “তাতে আমার কী? এই বুড়ো ব্যাটা তোর কী লাগে শুনি যে পড়ালেখা বাদ দিয়ে করে ওঁর ছবি জুম করে দেখছিস?”
মিনহা ফোনটা লুফে নিয়ে আবার স্ক্রিনের দিকে তাকাল। ছবির মানুষটার চোখের দিকে তাকিয়ে একগাল হেসে বলল, “ধ্যাত আপু, তুমি না একদম ব্যাকডেটেড….ওনাকে বুড়ো বলছ কোন সাহসে? দেখতে কী ড্যাশিং লাগে দেখেছিস?”
তারপর মেঘলার দিকে তাকিয়ে চোখ টিপে বলল, “তা তোমার হঠাৎ এত জ্বলছে কেন বলো তো? তুমি কি জেলাস হচ্ছো, আপু?”
মেঘলা চোখ বড় বড় করে কপালে হাত তুলল, “আমি? আমি জেলাস হব ওই বুড়োর ওপর? তোর মাথা পুরো গেছে, মিনহা”
মিনহা এবার বিছানা থেকে নেমে মেঘলার কাঁধে হাত রেখে বেশ দার্শনিক ভঙ্গিতে বলল, “বুঝলি রে আপু, বয়স বাড়ার সাথে সাথে মানুষের টেস্ট বদলায়! আগে আমারও তিরিশ পার হওয়া সব পুরুষ মানুষকে ‘আঙ্কেল’ বা ‘বুড়ো’ লাগত। কিন্তু এখন ওনাদের দেখলেই কেমন যেন নিজের ‘জামাই জামাই’ ফিল আসে!”

মিনহার মুখে এমন পাকা পাকা আর বিষ্ফোরক কথা শুনে মেঘলা নিজের হাসি আর চেপে রাখতে পারল না। ওঁর মাথায় একটা হালকা গাট্টা মেরে হেসে উঠে বলল, “পাকনা মেয়ে কোথাকার! জামাই বানানোর শখ কত! যা, এবার ড্রামাবাজি বন্ধ করে পড়তে বোস, নইলে আম্মুকে ডেকে আনব কিন্তু”

দেখতে দেখতে তিন দিন কেটে গেল। আজ মেহেরের চূড়ান্ত শুনানির দিন। মেহেরকে আবারও কড়া পুলিশি পাহারায় ঢাকা জজ কোর্টের অন্ধকার আদালত প্রাঙ্গণে নিয়ে আসা হয়েছে।
কিন্তু আজকের সকালটা চৌধুরী পরিবারের জন্য আরও একটা বড় ধাক্কা নিয়ে এলো। রেহানা চৌধুরী হঠাৎ করেই প্রচণ্ড অসুস্থ হয়ে পড়েছেন, ওঁর রক্তচাপ অস্বাভাবিক কমে যাওয়ায় তিনি আজ আদালতে আসতে পারেননি। অন্যদিকে, মেহেরের এই কঠিন সময়ে পাশে দাঁড়াতে সিলেট থেকে সশরীরে ছুটে এসেছেন ইমরান সাহেব। এজলাসের পেছনের বেঞ্চে হামজা চৌধুরী আর ইমরান সাহেব অত্যন্ত গম্ভীর মুখে বসে আছেন।
যথাসময়ে মেহেরকে আদালতের লোহার কাঠগড়ায় এনে দাঁড় করানো হলো। বিচারক মহোদয় গম্ভীর মুখে ওঁর আসনে এসে বসতেই আদালতের কার্যক্রম শুরু হলো।
রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান আইনজীবী ব্যারিস্টার আসাদুল হক অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসী ভঙ্গিতে কিছু নতুন ফাইলের নথিপত্র পেশকারের কাছে জমা দিলেন। তিনি লড়াকু গলায় বলতে শুরু করলেন, “মাই লর্ড! দীর্ঘ আড়াই মাসের তদন্তের পর পুলিশ রিনি শেখের অ্যাপার্টমেন্টের মূল সিসিটিভি ফুটেজ এবং কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে। এবং আজ এই আদালতে রিনি শেখের স্বামী, জনাব তুষার শেখ স্বয়ং উপস্থিত আছেন।”

পুরো আদালত কক্ষে এক মূহুর্তের জন্য পিনপতন নীরবতা নেমে এলো।
পেশকার বিচারকের নির্দেশে সেই সিসিটিভি ফুটেজের বিবরণ এবং ল্যাবের ব্যালিস্টিক রিপোর্ট আদালতে উপস্থাপন করলেন। রিপোর্টে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে—হত্যাকাণ্ডের দিন রিনি শেখের ঘরের আলমারির গোপন ড্রয়ার থেকে লাইসেন্সবিহীন একটি বিদেশি পিস্তল উদ্ধার করা হয়েছে। এবং ফরেনসিক টেস্টের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, রিনি শেখের পিঠের পেছনে যে গুলিটি লেগেছিল, তা এই নির্দিষ্ট পিস্তল থেকেই ছোঁড়া হয়েছিল!

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মেহেরের দিকে আঙুল তুলে বলতে লাগলেন, “মাই লর্ড, সিসিটিভি ফুটেজে স্পষ্টভাবে দেখা গেছে, ঘটনার দিন সকালে আসামি মেহের চৌধুরী রিনি শেখের অ্যাপার্টমেন্টে গিয়েছিলেন। এর আগে বা পরে অন্য কোনো বহিরাগতকে সেখানে প্রবেশ করতে দেখা যায়নি। পুলিশ রিপোর্টের এই অকাট্য প্রমাণাদি প্রমাণ করে যে মেহের চৌধুরীই সেই অবৈধ অস্ত্র ব্যবহার করে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন।”
মেহেরের পক্ষে থাকা অ্যাডভোকেট শাকিল হোসেন তৎক্ষণাৎ উঠে দাঁড়িয়ে জোরালো গলায় বললেন, “অবজেকশন, মাই লর্ড! স্রেফ একটি সিসিটিভি ফুটেজে আমার মক্কেলকে ওই বিল্ডিংয়ে ঢুকতে দেখা গেছে বলেই আমরা ওনাকে খুনি বলতে পারি না। আর এই পিস্তলটি যে মেহের চৌধুরী নিজে চালিয়েছেন, তার কোনো ফিঙ্গারপ্রিন্ট বা অকাট্য প্রমাণ রাষ্ট্রপক্ষ এখনও পেশ করতে পারেনি। আমি মহামান্য আদালতের কাছে এই রিপোর্টের চুলচেরা বিশ্লেষণের জন্য কিছুটা সময় প্রার্থনা করছি।”

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী উপহাসের হাসি হেসে বললেন, “মাই লর্ড, যেখানে সমস্ত পারিপার্শ্বিক ও ফরেনসিক তথ্য-প্রমাণ সরাসরি মিস চৌধুরীর বিপক্ষে যাচ্ছে, সেখানে ডিফেন্স লইয়ার কেবল সময় নষ্ট করে মামলাটিকে দীর্ঘায়িত করার চেষ্টা করছেন। আমি অনুরোধ করব আজই এই মামলার চূড়ান্ত রায় দেওয়া হোক।”
ঠিক তখনই আদালত কক্ষের দেয়ালে থাকা বড় ঘড়িটায় ঢং ঢং করে দুপুর ১২টা বেজে উঠল।
বিচারক মহোদয় তাঁর হাতের কলমটি টেবিলের ওপর রাখলেন। গম্ভীর ও নির্দেশনাসূচক গলায় বললেন, “উভয় পক্ষের বক্তব্য এবং নতুন পেশকৃত প্রমাণাদি আদালত আমলে নিল। যেহেতু আজ আদালতের নির্ধারিত সময় এখানেই সমাপ্ত, তাই আজ আর কোনো যুক্তিতর্ক গ্রহণ করা হবে না। আগামীকাল এই মামলার শেষ ও চূড়ান্ত শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। আসামি পক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে, আগামীকাল ওনাদের আত্মপক্ষ সমর্থনের সমস্ত শেষ প্রমাণাদি আদালতে পেশ করার।”
হাতুড়ির শব্দ হলো—

ক্যাপ্টেন সাহেব পর্ব ৩২

“আজকের মতো আদালত মুলতবি করা হলো।”
কাঠগড়ার রেলিংটা শক্ত করে ধরে মেহের একটা তপ্ত দীর্ঘশ্বাস ফেলল। আগামীকালই তবে ওঁর ভাগ্যের চূড়ান্ত ফয়সালা হতে যাচ্ছে!

ক্যাপ্টেন সাহেব পর্ব ৩৪