Home জাহানারা জাহানারা পর্ব ৬

জাহানারা পর্ব ৬

জাহানারা পর্ব ৬
জান্নাত মুন

ইফান তুমুল বিরক্তি নিয়ে আমার উপর থেকে সরে যায়। আমি তড়িঘড়ি করে নিজেকে কিছুটা ঠিকঠাক করে দরজা খুলে দেই। দরজার সামনে পলিকে দেখে ঠোঁট প্রসারিত করে শুধালাম,
–“আরে পলি তুমি?”
নব দম্পতির নিভৃত কক্ষের দ্বারে সন্তর্পণে করাঘাত করে মেয়েটি এক লহমায় আড়ষ্টতায় যেন পাথর হয়ে গেল। সংকোচ আর কুণ্ঠা মিলেমিশে তাকে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে ধরেছে। সেই অপ্রস্তুত অবস্থায় ঠোঁটের কোণে এক চিলতে ম্লান হাসি ফুটিয়ে, গলার স্বর একদম খাদে নামিয়ে অতি মৃদু স্বরে সে বলে উঠলো,

–“আসলে ভাবি দাদি তোমাকে বলেছে ফ্রেশ হয়ে একবার দেখা করতে।”
–“ঠিক আছে আমি ফ্রেশ হয়ে আসছি।”
পলি আর বাক্যব্যয় করল না, নিঃশব্দ পায়ে প্রস্থান করল সেখান থেকে। আমি পুনরায় দরজা ভেজিয়ে যেই না পিছন ঘুরতে যাব, অমনি ইফান আমায় তার বক্ষে মিশিয়ে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে। আমার এবার ওকে সত্যিই সবচেয়ে অসহ্য লাগছে।কতবড় নি’র্লজ্জ হলে কট খেয়ে বিয়ে করার পরও তার বাসরের মোড থাকে। আমি না হয় তাকে জ্বা’লানোর জন্য ঐ কথা গুলো বলেছিলাম।
আর ভাবতে পারলাম না। ইফান বারংবার আমার গ্রীবাদেশে ওষ্ঠের দংশন এঁকে দিচ্ছে, যেন এক আদিম ক্ষুধার্ত নে’শায় আমায় গ্রাস করতে চায় সে। দ’হনজ্বা’লায় গ্রীবা অবশ হয়ে আসছে। গতরাত্রির সেই গাঢ় নীল ক্ষ’তচিহ্ন আর সুতীব্র যন্ত্রণা এখনো উপশম হয়নি, অথচ আজ পুনরায় শুরু হয়েছে সেই একই মদমত্ততা।

–“কাম অন বেবি উই স্টার্ট প্লেয়িং ইন বেড।”
ইফান বাঁকা হেসে হাস্কি স্বরে হিসহিসিয়ে বললো। তৎক্ষনাৎ দাঁতে দাঁত পিষে আওড়ালাম,
–“আপনার মতো নি’র্লজ্জ পুরুষ আমি পৃথিবীতে আর একটাও দেখিনি।”
আমি ঝটকা মেরে ইফান কে দূরে সরিয়ে দিলাম।আমার গ্রীবাদেশ তখন তার লালায় ভিজে জবজবে। আমার এই আকস্মিকতায় বিরক্ত হয়ে ইফান এক কঠিন স্বরে শুধালো,
–“কি সমস্যা ঝাঁ’ঝওয়ালি, এমন তিরিং বিরিং করছো কেন?”
–“আমার কাছে আসার চেষ্টা করবেন না মি ইফান চৌধুরী।”
–“এ্যা শা’লি আমার সাথে নাটক পাইছ? তিনবেলা আমার টেকায় খায়বা পড়বা আর আমি একটু আদর করলেই দোষ। টা’ঙ্কি মারার আলাপ কর আমার সাথে।”

–“অ’সভ্য জা’নোয়ার পুরুষ।”
–“আমি আবার ভদ্রলোক কবে থেকে ছিলাম?”
ইফানের সাথে কথার সলতে আর উসকে দিলাম না। বুঝলাম, ওর সাথে শব্দ খরচ করাটাই যেন অরণ্যে রোদন। নিজের ক্লান্ত শরীরটাকে সিক্ত করে এখন ফ্রেশ হওয়া বড্ড প্রয়োজন। অথচ পরনের পোশাক ছাড়া সাথে আর কোনো জামা কাপড় নেই। অনন্যোপায় হয়ে ইফানের ওয়ার্ডরোব খুলে ওরই একটি গেঞ্জি আর টাউজার নিয়ে আমি ওয়াশরুমে গেলাম।
খানিক পর ওয়াশরুম থেকে বেরিয়ে দেখি শা’লা রুমে নেই। মনে এক চিলতে স্বস্তি জাগল— অন্তত শান্তিতে কিছুক্ষণ একা থাকা যাবে। টাউয়াল দিয়ে ভেজা চুলগুলো মুচতে মুচতে হঠাৎ দাদির কথা মনে আসল। মুহূর্তেই এক অস্থির ব্যাকুলতা আমায় গ্রাস করল। ঠোঁট কামড়ে আনমনে কিছু একটা ভেবে দ্রুতপায়ে তাড়াতাড়ি রুম থেকে বের হয়ে যাই।

–“দাদি ভেতরে আসতে পারি।”
রোকেয়া বেগম আমাকে দরজার সামনে দাড়িয়ে থাকতে দেখে ব্যাকুল হয়ে হেসে ভেতরে আসতে বললেন। আমি ভেতরে ঢুকে অবাক হলাম। এখানে বলতে গেলে মিনি সংসদ বসেছে। পলি,ইতি,আমার চাচি শাশুড়ী মনিরা আর একজন ছেলে ঠিক চিনলাম না। দাদি অমায়িক হেসে বলল,
–“মাশাআল্লাহ আমার নাতবউ দেখছি হুরপরীর মতো। বউ এনে বসো, আমার সাথে। নাতনি দরজাটা ভালো করে লাগিয়ে দে।”
আমার চাচি শাশুড়ি আমার আরেক পাশে বসে মাথায় হাত রাখলেন। আমি উনার আচরণে বেশ অবাক। সন্ধ্যা বেলা তো দিব্যি আমাকে কটো কথা শুনাতে ছাড়েনি। আর এখন ডলাডলি করছে। ভাবনার মাঝেই সহসা তিনি বলে উঠলো,

–“জাহানারা মা তখনকার ব্যবহারের জন্য ল’জ্জিত। আসলে আপাকে আমি অনেক ভয় পাই তো তাই উনার সাথে তাল মিলিয়েছিলাম।”
পাশ থেকে উপস্থিত ছেলেটা মুখে হাসি ঝুলিয়ে বলে উঠলো,
–“হাই বাঘিনী ভাবি, আমি আপনার একমাত্র ছোট দেবর।”
আমি অপ্রস্তুত হেসে প্রতিত্তোর করলাম,
–“হাই আমি জাহানারা।”
–“ভাবি জানেন কেন আপনাকে এখানে ডাকা হয়েছে?”
আমি ইমরানের কথায় মাথা নাড়ালাম, মানে আমি জানি না। দাদি আর কাউকে কিছু বলার ফুরসত না দিয়ে তিনিই বলতে শুরু করেন,

জাহানারা পর্ব ৫

–“শুন নাতবউ এই বাড়িতে থাকতে হলে তোমাকে শক্ত হতে হবে। তোমার শাশুড়ি কি জিনিস তা তুমি এখনো জান না। আমার পোলারে ফাঁ’সিয়ে এই বাড়িতে বউ হয়ে আসার পর থেকেই সবাই ওকে ডরায়া চলি।”
দাদির কথা শুনে আমি অবাক। তারমানে আমার শাশুড়ী নাবিলা চৌধুরী শ্বশুর মশাইকে কট দিয়ে বিয়ে করেছে। বা এটা তো আমার কাছে জম্পেশ খবর। এবার কথায় কথায় আমিও ধুয়ে দিতে পারবো।
–“ভাবি গো ভাবি তুমি তো জান না। ঐদিন মম আব্বুর পু’টকিতে বেলন দিয়ে বাড়ি মা’রছিলো।”

জাহানারা পর্ব ৭