তাজমহল দ্বিতীয় খন্ড পর্ব ২৭
প্রিমা ফারনাজ চৌধুরী
আনিস পাথরের মতো বিছানায় বসে রইল। বুকটা হাপরের মতো ওঠানামা করছে এখনো। কপালে বিন্দু বিন্দু নোনা ঘাম। রাতে শাওন আর তৌসিফের সাথে একটা মুভি দেখে শুয়েছিল। আর তারপর এইসব। সাদা কাপড়! তাসনুভা!
কপাল মুছলো সে। গরম লাগছে হঠাৎ। অথচ এখানকার আবহাওয়া আজকে যথেষ্ট ঠান্ডা।
অন্ধকারে চোখ সয়ে আসতেই সে দেখল ঘরের ভেতর তৌসিফ আর শাওন পাশাপাশি অঘোরে ঘুমাচ্ছে। ক্লান্তিতে দুজন একে অপরের গায়ের ওপর পা তুলে দিয়ে জড়িয়ে আছে।
শরীরটা পাথরের মতো ভারী লাগছে। সে ধীরপায়ে উঠে গিয়ে জানালা মেলে ধরল। রাতের হিমেল হাওয়া হু হু করে ঘরে ঢুকে পড়ল। বাইরে এখন ঘুটঘুটে অন্ধকার মনে হচ্ছে। চাঁদটি যেন ঢাকা পড়েছে। বৃষ্টি আসবে কি? ঘরের আবছা অন্ধকারে সে পাথরের মতো দাঁড়িয়ে রইল। চারপাশ নিস্তব্ধ, কিন্তু তার কানে তখনও আছড়ে পড়ছে সমুদ্রের সেই কালান্তক গর্জন। স্বপ্ন আর বাস্তবের সীমারেখাটা এতটাই ঝাপসা যে, সে এখনো বুঝতে পারছে না সে কি সত্যিই জেগে উঠেছে, নাকি দুঃস্বপ্নে ডুব দিচ্ছে?
আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন
কিছুক্ষণ পর ধাতস্থ হতেই বিছানার কাছে গিয়ে ফোনটা হাতে নিল সে।
হাতের তালু ঘেমে একাকার। কাঁপাকাঁপা আঙুলে ফোনের লক খুলতেই নীলচে আলোটা চোখে এসে বিঁধল। সময় দেখল, রাত তিনটে বেজে পনেরো মিনিট। ফোনের নেটওয়ার্ক বারগুলো লুকোচুরি খেলছে। সে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে ফোনটা আবার বিছানায় রেখে দিল।
খুব পরিচিত কোনো কণ্ঠস্বর শুনতে ইচ্ছে করছে। কিন্তু পাশে শুয়ে থাকা তৌসিফ আর শাওনের নিশ্চিন্ত ঘুম ভাঙানোর সাহস তার হলো না। তাজদারকে একবার ফোন করবে কিনা ভাবতে ভাবতে সে আবারও বিছানায় শুয়ে পড়লো।
তিতলির হঠাৎ ঘুম ভেঙে গিয়েছে। তার একটা পা তাসনুভার গায়ের উপর। সে টের পেতেই আলতোভাবে পা নামিয়ে নিয়ে জড়িয়ে ধরলো শক্ত করে। অনুশোচনাও হলো। সে রোজ এভাবে আপুর গায়ে পা তুলে ঘুমায়। আপুর বিয়ে হয়ে গেলে সে খুব খুশি হবে এমনটা সবাই জানে। কিন্তু সত্যি কথা হলো তার খুব মন খারাপ হবে। সে ঘরে একা থাকতেই পারবে না। শক্ত করে জড়িয়ে ধরে
সে ঘুম জড়ানো কণ্ঠে ডাকলো,
“আপু?”
সাড়া নেই। তিতলি আরও শক্ত করে জড়িয়ে ধরে বলল,”তোমার গায়ে কি জ্বর? খুব গরম দেখছি।”
তাসনুভা এবার সাড়া দিল,
“না, ঘুমাও। কথা বলো না।”
“তোমার সত্যিই জ্বর। নইলে তুমি ঘুমাচ্ছ না কেন?”
“বেশি প্রশ্ন করো তুমি। চুপচাপ ঘুমাও।”
তিতলি আবারও ঘুমিয়ে পড়ার চেষ্টা করলো। কিছুক্ষণের মধ্যে ঘুমিয়েও পড়লো। তাসনুভা আলতোভাবে শুধু চোখদুটো বন্ধ করে রাখলো। কালকে সে ঢাকায় চলে যাবে।
মেজো ভাইয়া রাজি হবে কিনা সে জানেনা এখনো। কিন্তু রাজি করাতে হবে। এই হাই টাইমে তার সময় নষ্ট করা উচিত হচ্ছে না। এইসব ভাবতে ভাবতে হঠাৎ হোয়াটসঅ্যাপে একটা মেসেজ এল।
টুং করে শব্দ হতেই তাসনুভা হাতড়ে ফোনটা খুঁজে নিল। তিতলি ইচ্ছে মতো রিলস দেখার বিশ পার্সেন্ট চার্য রেখেছে।
সে চ বর্গীয় শব্দ করে হোয়াটসঅ্যাপে ঢুকে দেখলো একটা আননোন নাম্বার থেকে মেসেজ। প্রোফাইলে সাদা শার্ট পরা একটা ছেলে। প্রোফাইলে পিকচারে ক্লিক না করেও দাঁড়ানোর ভঙ্গিমা দেখে তাসনুভা চিনে ফেললো এটা কার হোয়াটসঅ্যাপ নাম্বার।
সে ইনবক্সে ঢুকেই দেখলো সেখানে একটা ছবি এসেছে। আবছা অন্ধকারে সমুদ্রের পাড়ে উদাস হয়ে বসে থাকা তার একটা ছবি। চুলে চোখমুখ ঢেকে যাচ্ছে।
“তোমার একটা ছবি নিয়েছিলাম। দারুণ এসেছে। হঠাৎ গ্যালারিতে দেখলাম। তোমাকে পাঠিয়ে আমি ডিলিট করে দিলাম।”
তাসনুভা রিপ্লাই করলো ছোট্ট করে,
“শুধু একটা তুলেছেন?”
“হ্যাঁ।”
“ওহহ, থ্যাংকস।”
আনিস ফোনের পাওয়ার অফ করে রেখে দিল ফোনটা। ছবিটা তুলে লাভই হয়েছে। নইলে বাকি সময়টুকুতে তার চোখে ঘুম নামতো না। মাঝেমধ্যে কিছু ভুল ভালোর জন্যই ঘটে। সে এবার আরাম করে শুয়ে পড়লো।
পরক্ষণেই হুট করে মনে পড়লো তাজদারকে দেয়া মেসেজটা ডিলিট করতে ভুলে গিয়েছে। সে দ্রুত ফোন অন করে মেসেজটা ডিলিট করতে গেল। তার আগেই তাজদার মেসেজ সিন করে ফেলেছে।
“কীসের আওয়াজ পেয়েছিস তিতলিদের রুম থেকে?”
আনিস দ্রুত টাইপ করলো,”মনে হলো কেউ চিৎকার দিল। মনের ভুল হয়তো।”
“তোর মাথা গেছে।”
“সেটাই মনে হচ্ছে।”
“বিয়ের আগেই মাথা নষ্ট? তাহলে বিয়ের পর তোকে পাগলাগারদে যেতে হবে।”
“বিয়ে না করতে বলছিস?”
তাজদার হালকা হেসে বলল,
“তুই আপাতত ঘুমা।”
“আচ্ছা সকালে এই কথাটা কাউকে বলিস না। সবাই শুনলে আবার হাসাহাসি করবে।”
তাজদার শব্দ করে হেসে উঠলো। শাইনার ঘুম ছুটে গিয়েছে তার হাসির শব্দে। সে ঘুমজড়ানো চোখে তাকালো ফিরে।
বাবু তাদের পাশে থাকা বেবি কটে ঘুমিয়ে। কিছুক্ষণ আগেই তাকে সেখানে রেখেছে তাজদার। কারণ ঘুমের মধ্যে শাইনা বেশি হাত পা ছুঁড়ে। বেবির জন্য খুব রিস্কি। বেবি কট বাবুর জন্য বেশি সেইফ। ঘুম ভাঙলে আবারও বুকের উপর নিয়ে ঘুম পাড়াতে হয়।
শাইনা তাজদারের বাহুর উপর উঠে এসে ফোনের দিকে তাকিয়ে দেখার চেষ্টা করলো কার সাথে কথা বলতে বলতে হাসছে।
তাজদার তখুনি ফোন বন্ধ করে তার দিকে তাকিয়ে ভ্রু নাচালো। শাইনা ঘুমজড়ানো কণ্ঠে বলল,”কার সাথে কথা বলছিলেন?”
“আনিসের সাথে।”
“ভাইয়ার সাথে এতরাতে?”
“সন্দেহ করছো তুমি আমাকে?”
শাইনা দুপাশে মাথা নাড়লো।
“না কিন্তু ভাইয়া এতরাতে কি বলছিল?”
“বউ ছাড়া ঘুম আসছে না।”
শাইনা সাথে সাথে লজ্জা পেয়ে গেল। গায়ে কম্বল টেনে নিয়ে পাশ ফিরে গিয়ে বলল,”এটা কোনো কথা!”
তাজদার কম্বলের মধ্যে পা ঢুকিয়ে শাইনার পা চেপে ধরলো নিজের পা দিয়ে। হাত দিয়ে শাইনার উদরও। শাইনা কেঁপে উঠলো।
“কি শক্ত হাত পা!”
তাজদারের দিকে হালকা ফিরতেই তাজদার তার গালে নাক ঘষতে ঘষতে বলল,
“সত্যি! বউ ছাড়া ঘুমানো কষ্টের।”
বলেই চুল সরিয়ে গালে টুপ করে একটা চুমু খেল।
শাইনা খোঁচা মেরে বলল,”বউ তো পাশেই আছে। আপনি ঘুমালেন কখন? সারাক্ষণই দেখছি এপাশ ওপাশ।”
“বউ পাশে রেখে ঘুমানো অপরাধ।”
“নিরপরাধরা কি করে?”
“বউকে জ্বালায়। এই যেমন আমি তোমাকে জ্বালাচ্ছি।”
বলতে না বলতেই শাইনার কোমরে একটা চিমটি বসিয়ে দিয়ে সে সোজা হয়ে শুয়ে পড়লো চোখের উপর হাত দিয়ে।
“নো ডিস্টার্ব। আমি এখন ঘুমাবো। তুমিও ঘুমাও।”
শাইনা চিমটির ব্যাথা সইতে না পেরে তার বুকের উপর উঠে বালিশ দিয়ে মারতে মারতে ক্লান্ত হয়ে পড়লো। তারপরও তাজদারের বিন্দুমাত্র নড়াচড়া আর প্রতিরোধ না দেখে মুখের উপর বালিশ দিয়ে চেপে ধরলো। তাজদার নিঃশ্বাস ফেলতে না পেরে কিছুক্ষণ পর তাকে পাশে ফেলে দিয়ে দাঁত চিবিয়ে বলল,
“ষ্টুপিড!”
তারপর শক্ত করে চেপে ধরলো। তবে বালিশ দিয়ে নয়।
রিসোর্টের চারপাশে তখন ভোরের নরম আলো ছটা। সমুদ্রের নোনা বাতাসের সাথে ভোরের স্নিগ্ধতা মিশে আছে।সকাল সকাল ঘুম ভেঙে যাওয়ায় তাসনুভা আর ঘরে মন টেকাতে পারল না।
তিতলি তখনো অঘোরে ঘুমাচ্ছে। সে নিঃশব্দে ঘর থেকে বেরিয়ে বালুকাময় সৈকতের দিকে হাঁটা দিল। জোয়ারের পানি তখনো কিছুটা উত্তাল, পায়ের তলায় বালু সরে গিয়ে অদ্ভুত একটা শিরশিরানি অনুভূত হচ্ছে।
সে সমুদ্রের বিশালতার দিকে তাকিয়ে দাঁড়িয়ে রইল। তার সব ক্লান্তি এই বিশাল নীল জলরাশি শুষে নিচ্ছে। প্রকৃতির কাছাকাছি এলে নিজেকে কত ছোটো মনে হয়।
কিছুক্ষণ পর, বালুর ওপর দিয়ে কারো হেঁটে আসার শব্দ পাওয়া গেল। তাসনুভা ঘাড় ঘুরিয়ে দেখল আনিস ধীরপায়ে তার দিকে এগিয়ে আসছে। ভোরের আলোয় তাকে অনেকটা শান্ত মনে হচ্ছে।
আনিস বালুর ওপর তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে কিছু একটা খুঁজে যাচ্ছে। তাসনুভা আরও কিছুটা সামনে এগিয়ে গেল। সমুদ্রের ঢেউগুলো তার পায়ের পাতায় এসে আছড়ে পড়ছে।
আনিস দেখলো তাসনুভা সামনে এগিয়ে যাচ্ছে। তার পরনে হালকা নীল-সাদা কূর্তা। ভোরের মৃদু আলোয় ড্রেসটা তাকে বেশ মানিয়েছে। তার কপাল কুঁচকে গেল। ও কোথায় যাচ্ছে ওইদিকে?
তাসনুভা কিছুটা দূরে গিয়ে আড়চোখে একবার পেছন ফিরে দেখল আনিসকে। আনিস কুঁজো হয়ে একমনে বালু সরিয়ে কী যেন খুঁজে বেড়াচ্ছে এখনো। তাসনুভা কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে তার এই অস্থিরতা দেখল। তারপর ধীরপায়ে বালু মাড়িয়ে আনিসের দিকে মুখ করে দাঁড়াল।
আনিস তখনও নিচের দিকেই তাকিয়ে। একবার বালু সরাচ্ছে, পরক্ষণেই আবার ডানে-বামে দেখছে। তাসনুভা ভ্রু কুঁচকে ডাকল, “আনিস ভাই!”
আনিস যেন ঘোর থেকে ফিরল। সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে তাসনুভার দিকে তাকাল সে। কপালে চিন্তার রেখা। তাসনুভা কৌতূহলী কণ্ঠে জিজ্ঞেস করল।
“আপনি ওখানে কী খুঁজছেন?”
আনিস একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে হাতের তালু ঝেড়ে বলল, “আমার ঘড়িটা। কোথাও খুঁজে পাচ্ছি না। ওটা হাতেই ছিল। কাল এখানে অনেক দৌড়াদৌড়ি করলাম। তাই বালুর ওপর কোথাও পড়েছে কি না সেটাই দেখছি।”
“ওহহ,” তাসনুভা একটু অন্যমনস্ক ভাবে জবাব দিল।
আনিস আবারও নিচের দিকে নজর দিল। তাসনুভা দেখল আনিস ভাই শুধু ঘড়ি খুঁজছে না। তার মধ্যে একটা ছটফটানি কাজ করছে। সে কথা না বাড়িয়ে আবার উল্টো দিকে ঘুরে সমুদ্রের আরও কাছাকাছি এগিয়ে যেতে লাগল। পায়ের নিচে নরম ভেজা বালু দেবে যাচ্ছে।
আনিস ঘড়ি খোঁজা থামিয়ে কিছুক্ষণ সেই একা হেঁটে যাওয়া তাসনুভার দিকে স্থির দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল। সমুদ্রের নীল আর তাসনুভার নীল-সাদা ড্রেসটা মনে হলো এক বিন্দুতে মিশে যাচ্ছে।
সে ঘড়ি খোঁজা বাদ দিয়ে একদৃষ্টে সেদিকে তাকিয়ে রইল। কাল রাতের সেই বীভৎস স্বপ্নের স্মৃতিটা মাথার ভেতর ঝিলিক দিয়ে উঠল। ঠিক এভাবেই কি সে তাসনুভাকে দেখেনি? পার্থক্য শুধু এটুকুই, স্বপ্নে সে ছিল নিথর, আর এখন নীল-সাদা ড্রেসের ওড়নাটা বাতাসে পতপত করে উড়ছে।
আনিস পা বাড়াল তাসনুভার দিকে। বালিতে পা দেবে যাচ্ছে। কিছুটা দূরত্ব বজায় রেখে সে পাশে গিয়ে দাঁড়াল। বলল,
“নুভা চলো।”
তাসনুভা চট করে তার দিকে তাকালো।
“ব্রেকফাস্ট করোনি তাই। চলো। সবার সাথে পরে আসবে।”
তাসনুভা তার দিকে কপাল কুঁচকে চেয়ে রইলো। আনিস তার চাহনি দেখে বিব্রত হয়ে হাঁটা ধরলো।
” চলে এসো, দেরী করো না।”
সে চলে যাচ্ছিল কথাটা বলে। তাসনুভা তখুনি ডাকলো।
“আনিস ভাই শুনুন। একটা কথা।”
আনিস তার দিকে ফিরলো।
“কী?”
তাসনুভা বুকে হাত ভাঁজ করে দাঁড়ালো।
বলল,”আপনার বিয়ের শপিংটা আমার শোরুম থেকে করলে টোয়েন্টি পার্সেন্ট ডিসকাউন্ট পাবেন। আপনার বউকেও নিয়ে আসতে পারেন।”
আনিস মাথা দুলিয়ে বলল,”আচ্ছা দেখি।”
তারপর সে চলে যেতে লাগলো। কিছুদূর গিয়ে হঠাৎ থামলো। ঘাড় ফিরিয়ে তাকালো। তারপর লম্বা লম্বা পা ফেলে তাসনুভাকে পানি থেকে হেঁচকা টানে তুলে নিয়ে এল বালুর মধ্যে।
“আনিস ভাই আপনি কি পাগল? এভাবে কেউ টানে? আমার হাতটা গেল।”
আনিস গর্জে উঠে বলল,”তোমাকে যেতে বললাম না আমার সাথে? তুমি এত ঘাড়ত্যাড়া কেন? আমি তোমার ভাইয়ের সমবয়সী তাই আমার কথা শোনা জরুরি। আশ্চর্য এমন মেয়ে আমি জীবনে দেখিনি।”
“আপনি এভাবে টেনে আনবেন তাই বলে?”
তাজমহল দ্বিতীয় খন্ড পর্ব ২৬
“আরেহ আমি কাল রাতে তোমাকে নিয়ে একটা খারাপ স্বপ্ন দেখেছি।”
তাসনুভা কানের পেছনে চুল গুঁজতে গুঁজতে বলল,”যারা স্বপ্ন দেখতে পারেনা তারা দুঃস্বপ্নই দেখবে। আপনার হাতটা খুব শক্ত। ময়েশ্চারাইজার লাগাবেন।”
বলেই সে আগেভাগে হেঁটে চলে যেতে লাগলো।
