তিন তরঙ্গের আলোকছটা পর্ব ১২
রাফিয়া জান্নাত রিফা
ইতি খামের ভিতর থেকে কাগজ বের করে পড়তে লাগলো,,
__ পুলিশকে অনেক বুঝিয়ে সুজিয়ে একটা কলম ও এই কাগজ খানা পেলাম, শুনলাম একটু পর আমাকে নাকি রিমান্ডে নেওয়া হবে।তা নেক গে,তা নিয়ে আমার বিন্দুমাত্র অনুশোচনা রইল না। শুধু আফসোস রইল তোদের না দেখে মরতে হবে বলে,মরবো এটা নিশ্চিত। শুনলাম তোদের খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না এ নিয়ে নাকি তোলপাড় অবস্থা চলছে।কেন চলছে? তোদের বন্দি করে রাখবে ? হা হা হাঁসি পেলো। আলো কখনো কি বন্দি হয়?আলো কখনো কি চুরি হয়? উঁহু একদম হয় না। জীবনে অনেক ভোগান্তিতে ভুগেছি।চারটা খুনও করলাম, কিন্তুু তোরা ছাড়া কেউ বুঝলো সে খুনের কারণ? বুঝলো কি ?
না বুঝলো না? বোঝার কথাও না। ভেবেছিলাম মরবো কিন্তু এভাবে মরতে হবে তা ভাবি নি। হাস্যকর ব্যাপার হলো এই যে তোদের নিখোঁজ হবার পিছনে নাকি আমার হাত আছে,বেশ তো? তোদের যদি লুকিয়ে রাখতে পারতাম তবে সে কবেই লুকিয়ে রাখতাম আমার কাছে পরম যত্নে, তোদের মতো ঝলমলে আলোদের কে না চায়।তালুকদার বাড়ি আজ উজ্জ্বল শুধু এবং শুধুমাত্র তিন আলোকছটাদের জন্য।
ভালো লাগছে না কিছু,খুব অস্থির লাগছে,ভয় হচ্ছে, সত্যি যদি তোদের যদি খুঁজে পাওয়া না যায়।কি সব উদ্ভট চিন্তা আমার তাইনা?
আমি চাই না মৃত্যু পর আমার নিথর দেহখানা তোদের কাছে যাক,তোরা নিথর দেহখানাকে দেখে সইতে পাবি না, অনেক কাদবি জানি। তাই পুলিশ কে বলে রেখেছি মৃত্যু পর যেনো। শালিহাট কবর স্থানে (উম্মে কুলসুম দিলারা) আমার সহধর্মিণীর কবর স্থানের পাশে যে জায়গা খানা পরিষ্কার করে রেখেছি সেখানে আমার কবর হয়।
পরিশেষে, একটা কথাই বলবো মস্তিষ্কে গেঁথে রাখ,,,
পুকুরের সব পানি ঘোলাটে হয়, শুধু আমরাই তা ঘোলাটে করি না কারণ আমরা সচ্ছ পানি দেখে অভ্যস্ত, কিন্তু সেই পানিকে নেড়ে নেড়ে অসচ্ছ করে দেখি না।আমরা এটা বুঝি না যে ওই পানি অসচ্ছ হওয়া পেছনের কারণ হলো কাঁদা মাটি।
কথাটার মানে বুঝতে পারলে তবেই বুঝবি আসলেই তোরা বড় হয়েছিস। তিনজনের তিন শক্তির উৎস হয়ে সামনের পথ চল।
ইতিকে অতীতের মুখোমুখি হতে হবে, বিথী কে সব সত্য উদঘাটন করতে হবেও অনৈতিক কাজ দুর করতে হবে,নিধিকে পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে হবে।
আমাকে মনে রাখার মতো পৃথিবীতে কেউ রইল না,এ কথাটা অবঞ্চনীয় এই কথা অনস্বীকার্য কারণ তোরা আছিস, একদম আমার জন্য কাদবি না বলে দিলাম, তোদের হাঁসি খুশি মুখ খানা সবসময় দেখতে চাই,মরে যাবো বলে আবার ভাবিস না যে তোদের খোঁজ রাখবো না।আমি মরে গেছি এ কথাও অনস্বীকার্য “ওই বট গাছেই আমাকে পাবি, সেখানেই থাকবো আমি, তোদের ভালো খারাপ সব পরিস্থিতে পাবি আমায়, তোদের দুর থেকে দেখে যাবো,তোরা আমার জীবনের আলোর দিশারা, তোদের ভোলা আমার সাধ্য নেই”।
থাক তবে,কাগজের আর লেখার মতো জায়গা নেই।তোরা ভালো থাক, আমার দোয়া রইল তোদের জন্য।আল্লাহর কাছে দোয়া করবি এই বৃদ্ধ দাদুর জন্য। বিদায় তিন আলোকছটা, বিদায় পৃথিবী।
……. সমাপ্ত…….
তিন বোনেই অঝোরে কান্নায় ভেঙে পড়লো, শব্দ করেই কাঁদতে লাগলো। মুহূর্তেই বাঁধভাঙা কান্না শুরু হলো। আলোকছটাদের কি কান্না মানায়? তাহলে কেন কাঁদছে? কাঁদবেই তো?দাদু যে তাদের কাছে এক মাএ উচ্ছাস প্রণোদনা।যার থেকে জীবনের মানে বুঝতে শিখলো।সেই আজ নেই? এমন নিষ্ঠুর ভাবে কেন বিদায় নিলো? কেন দেখা দিলো না তিন আলোকছটাদের। এতেই কষ্টে বুক ফেটে যাচ্ছে তিন বোনেরই।
তালুকদার বাড়ির তিন কর্তাদের ও খুবই অনুশোচনা হচ্ছে। ভিতরে এক অবাৎ বিতারক যন্ত্রণা কুরে কুরে খাচ্ছে।বার বার মনে হচ্ছে তাদের কারণেই আজ এমন হলো, তাদের কারনেই তাদের প্রাণপ্রিয় ভাতিজিরা অঝোরে আহাজারি করে কাঁদছে, ক্ষমা শব্দটা তাদের সাথে যায় কি?
ড্রয়িং রুমে উপস্থিত থাকা সকলেই মধ্যে এই বিষয়টি নিজেদের প্রতিই তীব্র নিন্দাজনক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করছে। ড্রয়িং রুম জুড়ে থমথমে পরিবেশ।কারো মুখে কোনো কথা নেই,কি বা বলবে তারা?কি বা বলার আছে?
আলবান নিজেকে তীব্র অনুশোচনায় দগ্ধ করছে বারংবার। একাধিক বার মনে হলো তার জন্যই এসব, প্রশ্নের পাহাড় জমে উঠলো, কিন্তু কে দেবে এই প্রশ্নের উত্তর? কিভাবে দিবে?ইতির চোখ দুটো তাকে ভয়ঙ্কর ভাবে ভস্মীভূত করে দিচ্ছে।সেই চোখে তাকানোর সাহস নেই আলবানের।
আর্দ্র সোফার এক কোণায় দাঁড়িয়ে নিধির গতিবিধি দেখছে,মেয়েটা কাঁদছে কিন্তু তা প্রকাশ পাচ্ছে না।বারবার আর্দ্রের মনে হচ্ছে এই বুঝি মেয়েটা জ্ঞান হাড়িয়ে পড়ে যায়। এতে আর্দ্রের ভীষণ রাগ হচ্ছে।মনে মনে এক অদৃশ্য আবেগের খোরাক কাজ করছে,মনে মনে বলে,,
__ কাঁদলে কি সমস্যা, কাদুক, একটু কাঁদলে কি এমন হবে? বরং না কেঁদেই তো এই মেয়ে নিজের সর্বনাশ করবে।উফ নিঃশব্দে কেঁদে কেঁদে সুন্দর মুখ খানার কি বিশ্রী অবস্থা করছে,মুখ পানে তাকানো যাচ্ছে না।নিধি কাঁদো? কাঁদো, নিশ্চিত জ্ঞান হারানোর পরিকল্পনা হচ্ছে তাই না?না না একদম না?ভুলেও না?আমি অস্হির হয়ে যাচ্ছি, আমার নিজের এ কাপাকাপি শুরু হলো বাট হুয়াই? ধ্যাত।কি হচ্ছে এসব?
দির্শক এক ধেয়ে তাকিয়ে আছে বিথীর দিকে, বিথীর চোখে মুখে উপছে পড়ছে রাগ, চোখ আগুনের শিখার ন্যায় জ্বলছে,যে চোখে দির্শক বারবার ভস্মীভূত হয়ে যাচ্ছে। নিজের ধ্বংস লিখে রাখলো সেই চোখে। নিমেষেই ঠোঁটে বাঁকা হাসির রেখা টানলো।মনে মনে আওরালো,,
_ time and tide wait for none.
কেটে গেল সাতদিন।
সকাল আটটা বাজে প্রত্যেক সকালেই হয় এক স্নিগ্ধ ভরা সকাল।হালকা হালকা শীতের আনাগোনা ও চলছে। বাগানের শীতল বাতাসে জানালা দিয়ে এসে তিন বোনেরই শরীরের সুন্দর শিহরণে জাগিয়ে তুলছে।
দির্শক প্রধান একটু আগেই তাদের পড়িয়ে চলে গেল। তিনজনই নিজেদের বইখাতা গুছিয়ে রাখছে এখন।
ইতি নিজের ফোন খানা হাতে নিয়ে ফেইসবুকে ঢুকতেই দেখলো ‘আরিয়ান খান’ এই আইডির থেকে আবার মেসেজ এসেছে ।ছেলেটা এর আগেও মেসেজ দিয়েছিল ‘ম্যাম কেমন আছেন’ ইতি মেসেজ খানা সিন করে কিন্তু রিপ্লাই করে নি।এখন আবার মেসেজ দিয়েছে ‘ম্যাডাম মনে হয় মূর্খ তাই মেসেজ সিন করেও রিপ্লাই দেয় না’ ব্যাস এতেই ইতির মেজাজ তুঙ্গে উঠে গেল। বিথী নিধিকে সবটা জানালো ইতি। বিথীর তো মাথায় দফদফ করে আগুন জ্বলে উঠলো ইতির হাত থেকে তড়িৎ বেগে ফোন খানা নিয়ে টাইপিং বোর্ডে আঙ্গুলের দ্বারা ঝড় তুলে লিখতে থাকলো,,
_হনুমান, ডট, হাতি, ঘোড়া, কুকুর গন্ডমূর্খ,কি সমস্যা কি তোর?
কিছুক্ষণ পর রিপ্লাই আসলো,,
__ এমন সুন্দর উপাধি দেওয়ার জন্যে ধন্যবাদ ম্যাম?
ইতি মেসেজটা দেখে বিথী হাত থেকে ফোন নিয়ে লিখলো,,
__ এর থেকেও খারাপ উপাধি না পেলে ঝটপট বলেন আপনার ডাউনলোড কোথায়,আর কেন ম্যাসেজ দিসেন।
__ পৃথিবীতেই আমার ডাউনলোড?
__ বুঝলাম, ম্যাসেজ কেন দিসেন?
__ এক ছেলে তো একটা মেয়েকেই ম্যাসেজ দিবে নাকি?
__ আর বাল ডিরেক্ট প্রশ্ন করছি,তাই ডিরেক্ট উওর দে কেন ম্যাসেজ দিসোছ?
__ রাগ করছেন?
ইতির এবার বেশ রাগ উঠলো মাথায়। বিথী ইতিকে বলে,,,
__ হালার চুলকানি উঠছে? দে আমারে ফোনটা দে?
ইতি বিথীকে ফোনটা দিয়ে বিছানায় উপুড় হয়ে শুয়ে জোরে জোরে নিঃশ্বাস নিয়ে চোখ জোড়া বন্ধ করতেই আলবানের মুখ খানা ভেসে উঠছে, তড়িৎ বেগে চোখ খুলে নিজেকে ইচ্ছা মতো গালিগালাজ করতে থাকলো।
__ সি ওই বুইড়া বেডাটারে কেন দেখলাম?সি।
ইতির এবার বেশ আগ্রহ জাগলো ‘আলবানের বয়স কত হবে?এ নিয়ে। পরক্ষণেই নিজের গালে ঠাস করে একটা চড় মেরে বলে,,
__ ইতি বেশিই ভেবে ফেলছিস ওই দাবানল ভাইরে নিয়ে?এটা ঠিক না।
পায়ের উপর পা তুলে কাউচে বসলো বিথী।ওই আইডিতে মেসেজ দিলো,,
__ এবার বলেন কি চাই আমার থেকে?
কিছুক্ষণ পর রিপ্লাই আসলো,,
__ আপনার এক খানা ছবি দেখতে চাই?
বিথী কিছুক্ষণ চিন্তা ভাবনা করে নির্বিকার ভঙ্গিতে মেসেজ উওর দিলো,,,
__ শালা বাল** কে বে তুই?কই থাইকা আইছোচ? আমার মা আমার মুখ দেখার জন্য দশ মাস অপেক্ষা করছে। আর তুই কোন বাল? যে দশ মিনিট কথা বলে ছবি চাস,আমি জিনিসটা এত সস্তা? কি মনে হয়? রাসকেল?এক যুগ অপেক্ষা করেন, তারপর আবার এক যুগ ভেবে দেখবো নে ছবি দেওয়া যায় কি না।
আর কোন রিপ্লাই আসে না।আসবে কিভাবে? কথার মুখ্যম নিরেট জবাব পেয়েছে।কথার বলার জো আছে নাকি? ফেইসবুক, মেসেঞ্জারে মানে এই এক অপ্রীতিকর এক সমস্যা।ফোনটা বিছানায় রেখে এদিক ওদিক চোখ দিয়ে নিধিকে খুঁজতে লাগলো বিথী,,
__ নিধি কই গেলো রে।
ইতি গা চাড়া দিয়ে নির্বিকার ভঙ্গিতে উওর দিলো,,
__ গেছে বোধহয় পাদরো ভাইয়ের কাছে?
___
আর্দ্রের দরজার সামনে এসে দরজায় টোকা মেরে নিধি বলল,,
__ পাদরো ভাই আছেন?
ওপাশ থেকে উওর এলো না আবার বলল,,
__ পাদরো ভাই?
আবারো কোনো উত্তর এলো না। এবার আর কিছু না ভেবে ঘরে প্রবেশ করলো বিথী। বিছানায় সুন্দর করে বসে মনোযোগ দিয়ে ল্যাপটপে কাজ করছে। নিধি মুখ কুঁচকে নিলো গম্ভীর কন্ঠে শুধালো,,
__ কানে কম শুনেন নাকি?সে কখন থেকে ডাকছি।
ল্যাপটপে নিজের কাজ অব্যাহত রেখেই আর্দ্র জবাব দেয়,,
__ মাএ দুবার ডেকেছো।
__ শুনলেন না যে।
__ আমার নাম বলো নি?
__ পাদরো ভাই বলছি তো?
ল্যাপটপের স্যাটারটা বন্ধ করে নিধির চোখে চোখ রেখে লম্বা শ্বাস ফেলে বললো,,
__ মাই নেইম ইজ আর্দ্র নট পাদরো।কেন যে বোঝো না?
__ ইটস আ গুড নেম ওফ পাদরো,ভেরি নাইস নেইম?
আর্দ্র চোখ বড়বড় করে বলে,,,
__ ইংরেজি পারো দেখছি?
__ তা একটু?
__ তবে বলো না কেন?
__ আপনাদের সামনে ইতি বলতে মানা করে তাই?
ইতির কথা বলতেই আর্দ্র মাথায় অনেক কথা ঘুরপাক খেতে লাগলো, যদিও এসব নিয়ে বেশি ভাবতে চায় না আর্দ্র। কারণ বিশেষ কিছুই না বরং এসব ভাবলে নিজের মস্তিষ্কেই ফাটল তৈরি হয়।আটোমেটিক মাথা কাজ করা বন্ধ হয়। নিধি কে বলে,,,
__ এখানে এসে বসো?
নিধি ঝটপট আর্দ্র বিছানায় বসে। আর্দ্র বলে,,
__ চার বছর আগে যে আলবান বাংলাদেশে এসেছিল তা তুমি জানো?
__ হ্যাঁ।
__ কে বলেছে তোমায়?
__ ইতি বলেছে এবং অন্য কাউকে বলতেও মানা করেছিল?
__ সেদিন কি এমন হয়েছিল, ইতি কিছু বলেছে?
মুখ কুঁচকে নিরেট জবাব দিলো নিধি,,
__ সেদিন অনেক কেঁদেছিল ইতি,এর থেকে বেশি কিছু আর মনে নেই বা জানি ও না?
__ বাড়ির লোকেরা জানতো যে ইতি নিখোঁজ ছিলো?
বিথী মনে করার চেষ্টা করে বললো,,
__ আট ঘন্টাই পাওয়া য়ায় নি, সেদিন ইতি কাউকে কিছু বলতেও মানা করছে।তাই বাড়ির লোকেরা জানতো আমাদের সাথেই আছে হয়তো। কিন্তু দাঁবালন ভাই যে চার বছর আগে ও দেশে এসেছিল তা জানতো না বাড়ির লোক।
__ ইতির অতীতে কি হয়েছিল তা জানো?
__ না।
__ ওই চারবছর আগে আলবানের সাথে কি হয়েছিল তা জানো?
__ না।
__ সেদিন কিছু তো একটা হয়েছিল? হুটহাট করে করে আলবানের দেশে আসা, আট ঘন্টা ইতিকে খুঁজে না পাওয়া?
নিধি একটু রাগ দেখিয়েই বলে,,
__ এসব ঘাটতে যাবেন না? যেভাবে চলছে ওভাবেই চলতে দিন?
আর্দ্র ইতির দিকে সন্দেহের চোখে তাকিয়ে বলে,,
__ তুমি সব জানো নিধি?
__ আপনি যে কিছু জানেন না এটাও না?
__ বেশি কিছু জানি না শুধু জানি যে আলবান ও ইতি বি….
পরের বাক্য খানা শেষ করতে পারলো না আর্দ্র, তাতেই তড়িৎ বেগে বিছানা থেকে নামে নিধি ।চোখ বড় বড় করে আর্দ্রের দিকে তাকিয়ে বলে,,
__ ব্যাস? ওই বিষয়ে আর একটা কথাও না।আবার বলছি এসব ঘাটতে যাবেন না।ইতি ওর ওই অতীতকে মানে না?
কথা গুলো বলেই গট গট পায়ে রুম ত্যাগ করলো। আর্দ্র হা করে নিধির যাওয়ার পানে তাকিয়ে রইল।
__ বলা হলো না নিধি?হবেও না বোধ হয়? তুমি ও কি বুঝো না? নাকি বুঝো?আর কত এভাবে নিজের সাথে নিজের লড়াই করবো?তোমাকে হারিয়ে ফেলার ভয় যে বড্ড?এটা কাকে বোঝাবো।কাকে বললো আমার বিরহের কথা?প্রমিক হিসাবে আমি বড্ড ভীতু।তবে কি করা উচিত আমার।
নিজের অজান্তেই চোখের কর্নিশে পানি জমে এলো, বড্ড অসহায় লাগলো আর্দ্রের সেই মুখ খানাকে। ভালোবাসা সহজ কিন্তু প্রকাশ করা খুবই কঠিন।
আজ বুধবার তালুকদার বাড়ির সবাই গ্রামে যাবে। তালুকদার বাড়ির তিন কর্তাদের জন্মস্থান গ্রামেই। প্রতি বছরই গ্রামে যায় এবারো যাবে।
আসিয়া বেগম তো মহা খুশি। ইচ্ছা তো করছে খুশিতে ধৈই ধৈই করে নাচতে, হাড্ডিহুড্ডি ভেঙ্গে যাবে বলে দমে যাচ্ছেন। ওই গ্রামে আছিয়া বেগমের কতশত স্মৃতি আছে। তাই খুশি আটখানা।তিনি বিছানা থেকে নেমে দরজা দিকে এগিয়ে গিয়ে উঁকিঝুঁকি মেরে দেখলেন।তিন আলোকছটা আছে কিনা,’নাহ নেই’ দরজা বন্ধ করে দিলেন।তাও সন্দেহের বশে ঘরের চারদিকে চোখ বুলিয়ে দেখে নিলেন।”বলা তো আর যায় না থাকতে ও পারে কোথাও লুকিয়ে চুরিয়ে”
এদিকে আসিয়া বেগমের ঘরের খাটের নিচে লুকিয়ে আছে ইতি, বিথী, নীধি।তা কুনঅক্ষরেও টের পেলেন না আছিয়া বেগম।তিন বোনেই খাটের নিচে উপুড় হয়ে শুয়ে আছে, ওড়না দিয়ে মুখ চেপে ধরেছে।
আছিয়া বেগম তার ঘরের আলমারি থেকে তার প্রিয় প্রণোনাথ স্বামীর ছবি খান বের করে হাতে নিলেন। ছোট টেবিলের ড্রয়ার থেকে ছোট সুন্দর ডিজাইন করা আয়না, সাথে কাজল, লিপস্টিক ও নানান রঙের টিপ গুলো নিলেন। কোমড়ে হাত দিয়ে এঁকে বেঁকে বিছানায় এসে আরাম করে বসলেন। ছবি খানা চোখের সামনে একহাত দিয়ে ধরলেন, অন্য হাত দিয়ে আয়না খানা মুখে সামনে ধরলেন।অসহায় কান্নারত কন্ঠে বলেন,,,
__ ও গো.. আই মিস ইউউ,
বলে আয়নায় ভালো করে নিজের মুখ খানা দেখছেন আবার ছবির খানার দিকে তাকিয়ে বলেন,,
__ কি গো বুড়ি হয়ে গেছি নাকি?দেখো তো?
খাটের তলে ফিসফিস করে বিথী বলে,,,
__ বুড়ি চেংরি জানুর ভিমরতি স্টাট।
তিন বোনেই আস্তে করে গা ছেড়রা দিয়ে খাটের কর্ণারে এসে বসলো।মাথা উঁচিয়ে দেখতে লাগলো দাদির কর্মকাণ্ড।
আছিয়া বেগম সমানে গালের চামড়া গুলো টানছেন আর আয়নায় দেখছেন।ছবি দিকে তাকিয়ে বললেন,,,
__ শুনো না, লিপস্টিক টা একটু লাগাই। লিপস্টিক না লাগানোর কারণেই বুড়ি হয়ে যাচ্ছি।তোমার নাতনিদের জ্বালায় ঠোঁটে লিপস্টিক লাগাতেই পারি না।যখন তখন হুটহাট করে এসে দরজায় জোরে জোরে শব্দ করে দৌড়ে চলে যায়।জানো, আমার কোনো প্রাইভেসি নেই।
আবার বলে,,
__ শুনবে না এই লিপস্টিক কাজল কই পেলাম।
নিজেই কন্ঠটাকে একটু গম্ভীর করে নিজেই উওর দিল,,
__ হ্যাঁ শুনছি বলো?
নরম কন্ঠে আবার নিজেই বললেন,,
__ তোমার তিন নাতনিদের ঘর থেকে চুরি করে আনি।ওরা বুঝতে পেরে আবার আমার ঘর থেকে চুরি করে নিয়ে পালায়। আমি ও কম নাকি আমিও আবার চুরি করে আনি।হা হা আমার অনেক বুদ্ধি তাই না?
ইতি বিরবির করে বলে,,
__ ওরে বুড়ি জানু,তুমি তো দেখি দ্রুত শিয়াল।
নিধি ফিসফিস করে বিথীকে বলে,,,
__ দাদিমা আর ভালো হলো না? উফ বাবা কেন যে দাদুটা কড়লা কিনতে গেলো।
বিথী বলে,,
__ বলদিরা আস্তে করি বল,দাদি শুনতে পেলে কেলেঙ্কারি হয়ে যাবে।
আছিয়া বেগম ঠোঁটে লিপস্টিক দিলেন, চোখে কাজল দিলেন কিছু লিপস্টিক আঙ্গুলে নিয়ে গালের মধ্যংশে মেথে গাল দুটো টমেটো মতো লাল লাল করলেন। সবশেষে আয়না মুখ দেখে লজ্জায় রাঙা হলেন। হুদাই আয়নার দিকে তাকিয়ে বললেন,,
__ ওমন করে দেখো না গো, আমার লজ্জা করে।
ওহ হো দাদি তো আবার আয়নাটাকে নিজের বুড়ো স্বামীর মুখ মনে করে। আয়নার দিকে অপলক চোখ রেখে আছিয়া বেগম বলেন,,
🎶🎶কাজল কালো.. ওই দুটো চোখে
ও চোখে জাদু আছে..🎶🎶
আমি জ্ঞান হারাবো ..
মরেই যাবো..
বাঁচাতে পাড়বে না কো..🎶🎶
আছিয়া আবার নিজেই লাজে রাঙা মুখ করে বলেন,,
__ ওমন করে বলো না, আমার খুব লজ্জা করে।যাহহ তুমি খুব দুষ্টু।
এই গান শোনার পর নিজেদের হাঁসি আর কন্ট্রোল করতে পারলো না ইতি, বিথী, নীধি। খাটের কর্ণার থেকে বেড়িয়ে এসে শব্দ করেই হাসতে শুরু যে দিলো।দাঁড় হয়ে হাসতে হাসতে একে অপরের গায়ে ঢলাঢলি করতে লাগলো।আছিয়া বেগম এমন হাঁসির শব্দ শুনে হকচকিয়ে উঠলেন। নিমিষেই মুখটি অন্ধকারচ্ছন্ন হয়ে গেল। এদিকে তিন বোনের কারো হাঁসিই থামছেই না।ইতি হাসতে হাসতে বলে,,
__ উফফ দাদি তুমি পারোও বটে। কেন যে দাদু মরলো?
বিথী বলে,,,
__ তোমার এই কষ্ট আমার আর সহ্য হয় না গো?
নিধি ও হাসতে হাসতে বলে,,,
__ আই লাভ ইউ দাদু।
আছিয়া বেগম নিধি কথা শুনে রেগে মেগে আগুন হয়ে বলেন,,,
__ ওই চেংরি, তোর দাদু এক পিস, সেটাও আবার আমার। কোন সাহসে তুই আমার সোমিরে আই লাবু কস।
মূহুর্তেই তিন জনের হাঁসি থেমে যায়। বিথী দাদির দিকে এগিয়ে এসে তার পাশে বসে সিরিয়াস ভঙ্গিতে বলে,,,
__ জান তুমি এসব কই থেকে শিখছো?
ইতি ও দাদির অন্য পাশে বসে বলে,,,
__ নিশ্চিত তুমি সিরিয়াল দেখছো তাই না।
নিধি বলে,,
__ ওই জন্যই তো বলি, আমার দাদি জান এতো রোমান্টিক কেন হলো?
আছিয়া বেগম কাঁদো কাঁদো স্বরে অভিমান করে বলেন,,,
__ সর বলছি সর,আমার কাছে ঘেঁষবি না। তোদের জন্য আমার কোন প্রাইভেসি নেই। স্বামী সাথে একটু পিরিতি করতে পারি না তোদের জন্য।
এই বলেই জোরে জোরে আহাজারি কান্না শুরু করে দিলেন আছিয়া বেগম। মূহুর্তেই তিন বোনেই ভড়কে গেলো,তিন জনেই দাদির কান্না থামানোর জন্য ব্যস্ত হয়ে পড়লো ইতি বলে,,
__ দাদি চুপ চুপ,আরে চুপো এত জোরে কেঁদো না প্লিজ।
বিথী দাদির মোলায়েম ভাবে গাঁ নেড়ে নেড়ে বলে,,
__ কাঁদে না জান,মা শুনলে আমরা শেষ?
আছিয়া বেগম তো এটাই চায় যাতে এদের মা সিদ্দিকা বেগম এসে এদের একটা ব্যবস্থা করে। এবার আরো জোরে কান্না করতে শুরু করলেন। এবার নিধি বলে,,
__ ইতি, বিথী চল পালাই,নইলে এই মা আসলো বলে।
ব্যাস যেই বলা সেই কাজ, হাতে বেল্লা নিয়ে হনহনিয়ে আসলেন তিন আলোকছটাদের মা সিদ্দিকী বেগম। দরজায় জোরে জোরে টোকা মেরে সিদ্দিকী বেগম বলেন,,
__ তোরা আবার মা কে জ্বালাছিস,খোল, দরজা খোল বলছি।
তিন জনেরই চোখ বড়বড় হয়ে গেল। এদিকে আছিয়া বেগম আরো জোরে জোরে কান্না করতে শুরু করলেন। চোখ পানির ছিটেফোঁটাও নেই।মিছোক ব্যঙ্গ কান্না করে ছবি খানার পানে তাকিয়ে বলে,,
__ দেখছো গো দেখছো, আমাকে কেমন জ্বালিয়ে মারছে তোমার নাতনিরা।
সিদ্দিকী বেগম দিগুন গর্জে বলে,,,
__ কি রে,কথা কানে যাচ্ছে না, দরজা খোল বলছি?
তিন বোনেই ভয়ে কাঁপাকাপি বেহাল দশা। ইতি বিথীকে বলে,,
__ সোনা বোন যাহ দরজা খুলে দে?
__ কিহহহ আমি পাবো না, তুই যাহহ।
ইতি এবার নিধিকে বলে,,,
__ বোন তুই যা?
নিধি একটা শুকনো ঢোঁক গিলে বলে,,
__ আচ্ছা থাম।
বিথী আছিয়া বেগমের দিকে কটমট চোখে তাকিয়ে বলে,,,
__ বুড়ি জান,খালি বিয়েটা হতে দাও, তোমাকে দানিবুড়ি করে নিয়েই যাবো না। আমার বরের মুখ তো তোমাকে দেখাবোই না।আমি আর আমার বর তোমাকে দেখিয়ে প্রেম পিরিতি করে বেরাবো। তখন বুঝবে কত ধানে কত চাল।হু
ইতি বলে,,
__ এতো ভালোবাসার পরিনাম এই দিলে দাদি,সি দিদি। দাদুর সাথে কেমন রোমান্স করো তাই দেখে শিখতে আসছিলাম তোমার কাছে,যাতে পরবর্তীতে তা জামাইয়ের উপর এপ্লাই করতে পারি,আর তুমি কিনা এভাবে সি সি।
নিধি বলে,,,
__ দাদি হয়ে তুমি আমাদের প্রেম ভালোবাসা শেখাবে তা না করে এভাবে মায়ের কাছে ধরা খাওয়ালে,আরে তুমি কি করে বুঝবে মায়ের মাইর কেমন হয়,আমরা মাইর খাই আমরা বুঝি।যাও আড়ি তোমার সাথে।
এই বলে নিধি নিজের বৃদ্ধাঙ্গুলি দিয়ে দাদির বৃদ্ধাঙ্গুলি স্পর্শ করে বলে,,,
__ আড়ি,আড়ি,আড়ি।
একই কাজ ইতি, বিথী ও করে বলে,,,
__ আড়ি আড়ি, আড়ি কথা বলবো না আর।
আছিয়া বেগম আরো জোরে কান্না করতে করতে বলে,,,
__ ওগো কেউ ভালোবাসে না গো, তুমি কোথায় গো..আমি আর পারছিনা গো। তোমাকে খুব দরকার গো। স্বামী গো..জান গো..কই গো তুমি গো।
বিথী এবার রাগ দেখিয়ে বলে,,,
__ এই চল তো দরজা খুলে ভো দৌড় দিবো।এই স্বামী পাগলা বউ এর ঘরে আর এ জন্মে আসবোই না। কোনোদিন খালি বলে দেখুক যে “ইতি, বিথী, নীধি আয় তো আমাকে একটু সুন্দর করে সাজিয়ে গুছিয়ে দে তো”।তখন খুব করে দিবো হু।
নিধি সাহস করে দরজাটা খুললো।খুলার সাথেই তিন জনেই তিনদিকে ভো দৌড় দিলো।
আছিয়া বেগম নিধি, বিথী কে ধরতে পারলো না কিন্তু ইতির পিছনে তিনি হাতে থাকা বেল্লাটাকে উঁচিয়ে দৌড় লাগালো।
ইতি প্রাণপণ ছুটে চললো। সিদ্দিকী বেগম ভয় দেখানো জন্য কিছু দুর দৌড় দিয়েই থেমে গেলেন, কিন্তু ইতি এখনো দোড়েই যাচ্ছে করিডরের উপর দিয়ে।ভয়ে কি করবে বুঝতে না পেরে আলবানের রুমে ঢুকে দরজা লাগিয়ে দিয়ে জোরে জোরে হাঁফাতে লাগলো।ইতির এখন বোধ নেই যে সে কার রুমে এসেছে ভয়ের চোটে ওসব কিছু মাথায় আসেনি।
হাঁটু তে ভর দিয়ে হাঁপিয়েই যাচ্ছে। সেভাবেই পিছাতে লাগলো। চোখ ঘুরিয়ে ফিরিয়ে দেখল না যে, সে কার রুমে এসেছে,ইতি ভাবলো হয়তো এটা তারই রুম।
আলবান পুরো শরীরে চাদর মুড়িয়ে ঘুমিয়ে আছে বিছানায় মধ্য খানে।বোধহয় ঠান্ডা লাগছে আলবানকে।
ইতি বিছানার এক পাশে বসলো, এখনো জোরে জোরে শ্বাস ফেলছে।আগ পাঁচ কিছু না ভেবে নিজের শরীর এলিয়ে দিলো বিছানার মাঝামাঝি, লম্বা শ্বাস নিতে নিতে তড়িৎ বেগে সুয়ে পড়লো।
এদিকে আলবান হঠাৎ শরীরের উপরে ভারী কিছুর বোধ পেলো। মুহূর্তেই প্রচুর ভয় পেয়ে গগন কাঁপানো চিৎকার করতে লাগলো। এমন চিৎকার ইতি শুনে সে ও ভয় পেয়ে গগন কাঁপানো চিৎকার করতে লাগলো।
মুহূর্তেই দুজনের চিৎকারে রুমটা যেনো কেঁপে উঠল, চিৎকারের ভুমিকম্প শুরু হয়ে গেলো।
আলবান কিছুক্ষণ বিছানায় উপরে বসেই লাফিয়ে লাফিয়ে চিৎকার করলো।
কিন্তু ইতি সেখানেই ঠাঁয় বসে চোখ বন্ধ করে চিৎকার করেই যাচ্ছে, ইতি কিসে যে ভয় পেয়েছে, তা সে নিজেও জানে না। কিন্তু আলবানে চিৎকার প্রচুর ভয় পেয়েছে।
আলবান চিৎকার করা বন্ধ করে দিলো,পিট পিট করে চোখ খুলে দেখলো সিংহের মতো বড় একটা হা করা মুখে চিৎকার করছে ইতি। প্রথমে দিকে ইতির এমন হা করা মুখ খানা দেখেএকটু ভয় পেলেও আলবান।পড়ে মুখ খানা ভালো করে দেখে বুঝতে পারলো যে এটা ইতি।
আলবানের এবার রাগ হতে শুরু করলো, সাথে চরম বিরক্তি।এক হাত দিয়ে ইতি মুখ চেপে ধরে টেনে নিজের কোলে এনে বসালো।ইতির চিৎকার ও থেমে গেলো, মুহূর্তেই থমকে গেলো ইতি। আলবান জোরে জোরে নিঃশ্বাস ফেলতে লাগলো সাথে বিথী ও।আলবানের নিঃশ্বাস ইতির কাঁধে পড়ছে,ইতি সর্বাঙ্গে যেনো কেঁপে উঠলো। অদ্ভুত শিহরণে শিহরিত হলো।
__ তুই এখানে কি করছিস?
ইতি পিছন ঘুরে তাকালো দেখতে পেলো ফোলা ফোলা দুই লাল চোখ রাতে যে আলবান ঘুমায় নি তা স্পষ্ট বুঝতে পারলো ইতি।আলবানকে দেখেই চোখ বড় বড় করে নিলো ইতি,ওড়নাটাকে ভালো করে শরীরের পেঁচিয়ে নিলো। আলবানের থেকে একটু দূরে সরে বসলো।
__ আপনি এখানে কেন?
আলবান চোখ কুঁচকে বলে,,
__ মানে।
ইতি এবার চোখ এদিক ওদিক ঘুরিয়ে ফিরিয়ে দেখতে লাগলো, দেখে বুঝলো যে এটা আলবানের ঘর।আলবানের দিকে তাকিয়ে নিরেট স্বরে উওর দিলো,,,
__ দরজা লাগিয়ে ঘুমোতে পারেন না।
আলবান গা থেকে চাদরটা উড়িয়ে দিয়ে বলে,,,
__ আমার রুম তাই আমি দরজা লাগিয়ে ঘুমাবো নাকি খোলা রেখে ঘুমাবো সেটা আমার ব্যাপার।
গাঁ থেকে চাদর টা উড়িয়ে দিতেই আলবানের উন্মুক্ত বক্ষ,পিঠ দেখা গেলো।ইতি চোখে কেমন যেন একটা নেশাময় লাগলো সেগুলোকে।এর আগেও অনেক বার দেখেছে তবে এতো ভালো লাগেনি, নির্লজ্জের মতো দেখতে ইচ্ছে দেখে যেতেই ইচ্ছে করছে,মুহূর্তেই কিছু একটা ভেবে টেনে হিচড়ে দৃষ্টি কে সরিয়ে নিলো আলবানের উন্মুক্ত উদর থেকে।অন্য দিকে দৃষ্টি নিবদ্ধ করে বলে,,,
__ ছিইই এমন খালি গায়ে ঘুমোতে লজ্জা করে না?
কপালে ভাঁজ পড়লো আলবানের,,
__ আজব তো, আমার রুম,তাই যা ইচ্ছা তাই করে ঘুমোবো।
__ ওহ নো আপনি জানেন না?
__ কি?
__ আরে জানেন না?
__ আরে কি জানবো সেটা তো বল?
__ পুরুষরা খালি গায়ে ঘুমোলে রাতে পরি এসে সব ভিডিও করে নিয়ে যায়?
আলবানের কপালে দশ ভাঁজ পড়লো,,,
__ হোয়াট রাবিশ?
__ বিশ্বাস হলো না?
আলবান বিছানা থেকে উঠে দাঁড়িয়ে ইতির সামনে গিয়ে দাঁড়িয়ে বললো,,
__ তুই আমার রুমে কি করিস?
__ মা তাড়া করছিল তাই ভুলবশত এ রুমে এসে গেছি?
__ এখন আমার ঘর থেকে যাবি নাকি ওই পরির মতো ভিডিও করবি?
__ আপনি বললে আমি রাজি।
__ যায়য় ভাগ , এমন কথা বলতে লজ্জা করে না তোর,তোর কত বড় সেটা ভুলে গেলি?
ইতি আবার প্রশ্ন করে,,
__ আচ্ছা,দাবালন ভাই আপনার বয়স কত?
__ কেনো?
__ বলুন না?
__ ২৯ হবে?
মুহূর্তেই ইতির মাথা ঘুরতে লাগলো , মাথা হাত দিয়ে বললো,,,
__ কিইইই।আপনি তো বুড়ো?
__ কিভাবে বুড়ো?
__ যাই হোক, তবে দেখে বুড়ো মনে হয় না।
ইতি আবার বলে,,,
__ আচ্ছা আপনি ওভাবে চিৎকার করলেন কেন?
আলবান মুখের রং বদলে গেল, কপালে বৃদ্ধ আঙ্গুল স্লাইস করতে করতে বললো,,
__ ওই স্বপ্নে দেখছিলাম যে,কোন এক পেত্নী হঠাৎ কোলে উঠে বসলো, বাস্তবে ওটা তুই?
তীক্ষ্ণ দৃষ্টি দিয়ে বলে,,,
__ আমি পেত্ন?
__ তো?
__আপনার মতো বুড়ো কে কোন পেত্ন ধরবে শুনি? আপনার মতো বুড়োর কপালে কোন পেত্নি তো দুরের কথা শাকচুন্নী ও জুটবে না?
আলবান নির্বিকার ভঙ্গিতে উওর দিলো,,
__ তাহলে তোর কপালেই দুঃখ আছে?
__ কখনোই না?
__ ইয়েস।
আলসে ভাব নিয়ে ইতি বললো,,,
__ আপনার জন্য মেয়ে দেখা স্টাট করি তবে।
আলবান দুই হাত বুকে গুজে নিলো,,
__ অফকোর্স,হুয়াই নট।
ইতি চোখ মুখ কুঁচকে বিরবির করে বলে,,,
__ সি,এই লোকের লজ্জা সরম ও নাই।আরে একটু তো লজ্জা করা উচিত নাকি।খালি গায়ে আবার বুক ফুলিয়ে ফুলিয়ে কথা বলছে।
চোখ মেঝেতে নিবব্ধ করে উওর দিলো,,,
__ আমাদের ওই পাড়ায় একটা পাগলি আছে, খুবই সুন্দর দেখতে,শুধু মুখ দিয়ে সবসময় লালা পড়ে,।আর সারাক্ষণ খিলখিল করে হাসে।বড় মাকে একদিন বলেছি যে “বড় মা এই মেয়েটা কিন্তু আমাদের দাবানল ভাইয়ের জন্য একদম পারফেক্ট।বড় মা বলছে “হুম ঠিক বলেছিস “।
আলবান চোখ মুখ আরো কুঁচকে নিয়ে গম্ভীর কন্ঠে বললো,,,
__ বের হ আমার রুম থেকে?
মুহূর্তেই ইতি মাথাটাকে ঝাঁকিয়ে তুলে বলে,,
__ থাকতে এসেছি নাকি?
__ তো বের হ?তোর বকবক শোনার জন্য আমার কোনো ইচ্ছা নেই।যদি ভাগ?
ইতি আর কিছু না বলে রুম থেকে গট গট পায়ে চলে যেতে যেতে বললো,,,
__ আজ গ্রামে চলুন শুধু। তারপর দেখুন কি অবস্থা করি আপনার? আমাকে অপমান করার শাস্তি স্বরূপ কি দেই?। ফালতু লোক।
আলবান ইতির কথা গুলো শুনলো, ইতির যাওয়ার পানে তাকিয়ে রইল কিছুক্ষণ, অতঃপর কিছু একটা ভেবে মুচকি হাসলো,মন মস্তিষ্ক এখন আর আলবানকে সাপট দেয় না।ওয়াসরুমে যেতে যেতে বলে।
তিন তরঙ্গের আলোকছটা পর্ব ১১
__ তুই ও শেষ হবি, আমাকেও শেষ করবি? শুধু আমাকে বুঝতেই চাইবি না। শুধু ঘটে যাওয়া কিছু অপার্থিব জিনিসকেই ধরে রাখবি,আর আমাকে ভুল বুঝবি। অবশ্য ওতটাও বড় হোস নি যতটা না বড় বড় ভাব দেখাস। আমাকে নিয়ে ডেম্পারেট হতেই হবে তোকে, তুই বাধ্য?নো আমি বাধ্য করাবো না তুই নিজেই স্বীকার করবি আমাকে।
