Home তুই আমার বিশ্বাস ছিলি তুই আমার বিশ্বাস ছিলি পর্ব ১৩

তুই আমার বিশ্বাস ছিলি পর্ব ১৩

তুই আমার বিশ্বাস ছিলি পর্ব ১৩
জান্নাতি আক্তার জারা

” উফফ আজকে কী ধাক্কা ধাক্কির দিবস, যে যেভাবে পারছে শুধু ধাক্কা দিয়ে যা….
“আপনিনিনিনিনিহ!

আরাত মাঠে পড়ে থাকা আবস্থাতে চেচিয়ে উঠলো, আরাতের চেচিয়ে ওঠাতে অনেকেই নজর তাদের দিকে, সন্ধ্যা দু-পা দৌড়ে এসে, আরাত কে মাঠ থেকে উঠালো। আরাত মাঠে থেকে উঠে এদিক ওদিক তাকিয়ে দেখে সবার নজর তাদের উপর, সবাই তাদের দিকে তাকিয়ে হাসাহাসি করছে। আরাতের রাগ এবার চড়কগাছে ওঠে গেলো যেনো, কলেজে প্রথম দিন এসেই সবার সামনে হাসির খুরাক হয়ে নিজের রাগ কন্ট্রোল করতে না পেয়ে সামনে আগন্তুকের উপর চেতে উঠলো,

আরও গল্প পড়তে আমাদের গ্রুপে জয়েন করুন

ওই চাচা ওই, আপনি তো দেখছি আমার জন্য বড়ো এক কূফা, চোখ কোথায় রেখে ঘুরেন হুম।
এতক্ষণে মাহমুদ ইসলাম মাঠ থেকে উঠে পড়েছে। মিরা এসে ওঠালো তার বাবা’কে আজকে মিরার কলেজে প্রথম দিন হিসাবে মাহমুদ ইসলাম নিজে কলেজে রাখতে এসেছেন। মিরা কে প্রিন্সিপালের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিয়ে। মাহমুদ ইসলাম কলেজ থেকে বেরিয়ে কলেজ গেটের সামনে আসতে দুজন মেয়ে কে দাঁড়িয়ে কথা বলতে দেখে তাদের পাশ কাটিয়ে যাচ্ছিল। ঠিক সে সময় আরাত স্কুটি নিয়ে পিছন ঘুরতেই মাহমুদ ইসলামের সঙ্গে স্কুটি ধাক্কা লেগে যায়। আরাত স্কুটির ধাক্কায় তাল সামলাতে না পেয়ে স্কুটি সঙ্গেই মাঠে পড়ে যায়। আরাতের চিৎকারে সবার মতো মিরাও সেদিকে তাকায়, মাঠের দিকে তাকিয়ে নিজের আব্বু কে পড়ে থাকতে দেখে, মিরা দৌড়ে এসে মাহমুদ ইসলাম কে মাঠ থেকে হাত ধরে উঠায়,

মাহমুদ ইসলাম মাঠ থেকে উঠার পরপর,মাহমুদ ইসলাম কে দেখে সবার হাসি বন্ধ হয়ে গেলো এবং সবাই যে যার মতো নিজেদের গন্তব্য চলে গেলো। আরাত ব্যাপার টা লক্ষ না করলেও সন্ধ্যা ঠিকই লক্ষ করলো ব্যাপার টা,, মাহমুদ ইসলাম আরাত কে দেখে রাগী গলায় বললেন,
“তুমি সেই পাগল মেয়েটা না?
কথাটা যেন আরাতের রাগে ঘী ধালার মতো কাজ করলো, আরাত রাগী গলায়,
“ধাক্কা দিলেন আপনি, পড়ে গেলাম আমি এটার জন্য সরি না বলে আমাকে পাগল বলছেন, আমি পাগল? কোন দিক থেকে আমাকে পাগল মনে হচ্ছে আপনার?
তুমি যে আস্ত একটা বেয়াদব মেয়ে এটা আজকেও প্রমান পাইলাম, বাবা-র বয়সে একজন কে সরি বলতে বলছো, অভদ্র মেয়ে একটা।

” শুনেন চাচা আমি খুব শান্ত আর ভদ্র একটা মেয়ে, এই সন্ধ্যা বললা আমি কতটা ভদ্র মেয়ে , বল চাচা’কে!
সন্ধ্যা আরাতের কথায় কাচুমাচু করছে, এখন সে কী বলবে, সত্যিটা বলে আরাতের হাতে থাপ্পড় খাওয়ার চেয়ে চুপথাকায় মঙ্গল, তাইতো আরাতের কথায় সন্ধ্যা শুধু মুখে কেপলা মার্কা হাসি দিয়ে মাথা ঝাকালো,
সন্ধ্যা কে মাথা ঝাকালো দেখে আরাত মুখে হাসি টেনে পুনরায় বলল,
” এটা নরভরা সাক্ষী হয়ে গেলো তাই-না, আচ্ছা ঠিক আছে আমি তাহলে আজকে আপনাকে একটা সত্যি কথা বলেই দেই। চাচা শুনেন আমি যে শান্ত আর ভদ্র, এটা শুধু সাক্ষীর অভাবে প্রামান করতে পারছি না যানেন! যদি আমার কাছে সাক্ষী থাকত….

“হ্যাঁ হ্যাঁ বুঝতে পেরেছি তুমি কতটা ভদ্র মেয়ে,
মাহমুদ ইসলাম বিরক্তি নিয়ে কথাগুলো বলে আশেপাশে তাকিয়ে কাউকে খুজলেন,খুঁজে না পেয়ে এবার মাহমুদ ইসলাম যেনো কিছু টা নরম সুরে আরাত কে প্রশ্ন করলেন,
“আচ্ছা মেয়ে তোমার সঙ্গে যে মেয়েটা, আচ্ছা তোমার নাম কী?
আরাত কিছু বলবে তার আগেই সন্ধ্যা হাসি মুখে বলে দিলো,
“আঙ্কেল ওর নাম, আরিবা তালুকদার আরাত, আর আমার নাম সন্ধ্যা।
” আচ্ছা, তা আরাত তোমার সঙ্গে সেইদিনের ভদ্র মেয়েটা কই , তাকে তো দেখছি না?
“ওকে দিয়ে আপনার কাজ কী, ওর জন্য কী ছেলে খুজে রাখছেন?
” উফফ তুমি একটা আস্ত বেয়াদব, ওই মেয়েটা কতো সুন্দর করে কথা বলতো আর তুমি?
“দেখেন চাচা আমি অন্য কারো মতো মিষ্টি মিষ্টি কথা বলতে ইচ্ছুক না, দেখা যাবে আমার মিষ্টি কথায় আপনার ডায়াবেটিস হয়ে যাবে, পড়ে আমাকেই এটা নিয়ে দোষারোপ করবেন

“তোমার সঙ্গে কথা বলায় বেকার,
কথাটা বলে বিরক্তি হয়ে মাহমুদ ইসলাম নিজের গন্তব্য দিকে হাঁটা দিলেন, আর আরাত সঙ্গে সঙ্গে শব্দ করে হেঁসে উঠলো যেন মাহবুব ইসলাম কে জ্বালাতে পেয়ে অনেকটা মজা পেয়ে গেছে। এতক্ষণ ধরে মিরা, আরাত আর নিজের বাবার ঝগড়া গুলো দেখছিলো, মিরা’র যেনো বিশ্বাস হচ্ছে না তার বাবা এতটা ঝগড়া করতে পারে তাও আবার অচেনা এক মেয়ের সঙ্গে। মাহমুদ ইসলাম বেশ কিছুদিন আগে থেকে মাঝে মধ্যে বাড়িতে একটা মেয়ের কথা গল্পে গল্পে বলে আর মেয়েটাকে পাগল বলে নিজে নিজে হাসে। সেই গল্পের মেয়েটা যে এই আরাত নামের মেয়ে, এটা মিরা এতক্ষণ ধের বুঝে নিয়েছে। মিরা আরাতের দিকে অদ্ভুত চোখে চেয়ে আরাতের কথা গুলো শুনছে। এদিকে সন্ধ্যা আরাত কে জিজ্ঞেস করলো,

“এই আরাত মুরুব্বি সঙ্গে ঝগড়া করলি কেনো, তোরা কী পূর্বপরিচিত?
আরাত হাসতে হাসতে সন্ধ্যার কথায় উত্তর করলো,
“আর বলিস না, একদিন রাস্তা দেখা হয়ছিলো, রশ্মি স্কুটি চালাচ্ছিলো হটাৎ এই চাচা স্কুটির সামনে এসে যায়।
” সেজন্য তুই এমন ঝগড়া করবি আঙ্কলের সঙ্গে?
আরাতের মুখে হাসিটা যেনো গাড়ো দেখা গেলো , সন্ধ্যা’র কথায় হাসিমুখে আরাত পুনরায় বলল
“আরে চাচা কিন্তু মজার আছে, ওনাকে জ্বালাতে আমার ভালোই লাগে, কী কিউট না চাচা টা বল?
দোয়া কর আবার যেন দেখা হয়।
“হুম আর তুই আবারো যেনো মুরুব্বি সঙ্গে ঝগড়া শুরু করে দিতে পারিস তাই-না?
ওদের কথাকথনের মধ্যেই মিরা ওদের দিকে এগিয়ে এসে, নিজের এক হাত বাড়িয়ে দিয়ে হাসি মুখে বলল,
“হাই,মাই নেম ইজ মিরা!
আরাত সন্ধ্যা নিজেরদের কথার মধ্যে কারো কন্ঠেসর পেয়ে, সেদিকে তাকাতেই একটা কিউট মেয়েকে হাত বাড়িয়ে দিয়ে তাকিয়ে থাকতে দেখলো, সন্ধ্যা হাসি মুখে মিরা’র হাতে হাত মিলানো,

” ও হাইইই? মাই নেম..
সন্ধ্যার কথা শেষ হওয়ার আগেই মিরা বলে,
“সন্ধ্যা এন্ড আরাত, রাইট?
” সন্ধ্যা হাসি মুখে : হ্যাঁ,
মিরা হাতটা নামিয়ে নিয়ে, মুখে হাসি রেখেই বলল,
“ফাস্ট ইয়ার?
” হুম , তুমিও নিচ্ছই ?
“হ্যাঁ, চলো ক্লাসে যাওয়ার যাক!
“ওকে চলো।
আরাত স্কুটি পার্কিং-এ রেখে এসে তিনজন মিলে ক্লাসের দিকে যেতে লাগলো। ক্লাসে যেতে যেতে মিরা আরাতের দিকে তাকিয়ে পুনরায় বলে,

“তুমি কথা বলছো না কেনো?
আরাত এদের পরিচয় পর্ব শেষ হইতেই, তিনজন মিলে ক্লাসের দিকে যেতে যেতে মিরা’র কথায় উত্তর করলো,
“কী আর বলবো, মুড টা-ই নষ্ট হয়ে গেলো, কই ভাবলাম, কলেজে প্রথম দিন এসে কলেজের কেনো কিউট হ্যান্ডসাম হাজারো মেয়ের ক্রাশের সঙ্গে নায়িকাদের মতো সঙ্গে ধাক্কা খাবো। আর বাকি মেয়ারা আমাদের দুজন কে দেখবে আর জ্বলবে। আমারদের এক ধাক্কায় প্রেম হয়ে যাবে হায় হায় হায়, অথচ দেখো ধাক্কা খাইলাম তো খাইলাম কার সঙ্গে।
আরাত মুখ বাঁকা করে কথা গুলো বলতেই মিরা আর সন্ধ্যা এক সঙ্গে শব্দ করে হেঁসে উঠলো, সন্ধ্যা হাসতে হাসতে বলল,
“আচ্ছা কলেজে কেনো ডেসিং হ্যান্ডসাম গুড লুকিং বয় নেই, মানে পুরো ভার্সিটির মেয়েদের ক্রাশ এবং টপার?
মিরা : হ্যাঁ, আছে তো!
আরাত চুপচাপ করিডর দিয়ে হেটে যাচ্ছে, দুষ্টামি করে কথাটা গুলো বললেও বাস্তবে তার প্রেম ভালোবাসার প্রতি তেমন একটা আগ্রহ নেই। মিরা’র কথায় সন্ধ্যার চোখেমুখে উৎফুল্লতা দেখা গেলো সন্ধ্যা জানতে চেয়ে মিরা কে পুনরায় জিজ্ঞেস করলো,

” বলো বলো, কে সে?
সন্ধ্যার মুখের উৎফুল্লতার দিকে তাকিয়ে মিরা হাসি মুখে বলে,
“পুরো ভার্সিটি মেয়েদের ক্রাশ এবং ছেলেদের প্রানপ্রিয় বড়ো ভাই #মেহেরব_ইসলাম_মাহির।
” হায় কতো কিউট নাম টা, না জানি নামের মালিক টা দেখতে কতটা কিউট হবে !
মিরা কথা শেষ করার আগেই সন্ধ্যা মুখে উৎফুল্লতা নিয়ে গাদো গাদো হয়ে কথাগুলো বলল, মিরা সন্ধ্যা র কথা শুনে মুচকি হাসলো, তারপর আবার বলতে শুরু করলো,
” হুম কিউট তো আছেই, একটার নাম শুনেই এমন করছো দ্বিতীয় ক্রাশের নাম শুনবে না?
“হ্যাঁ হ্যাঁ বলো?
” রাফি মির্জা!

নামটা শুনা মাএ আরাত অবাক হয়ে বলে উঠলো, নামটা কেমন একটা চিনা চিনা লাগছে!
সন্ধ্যা আরাতের কথা মধ্যে কথা বলে উঠলো,
“শুনতেই পারিস, এক নামে এই পৃথিবীতে কতশত নাম রয়েছে?
” আরে মনে পড়ে গেছে, আরিশা আপু আছে না, আরিশা আপুর দেওরের নাম রাফি মির্জা!
সন্ধ্যা এবার আরাতের কথায় বলে,
“বাদ দে না, মিরা তুমি বলো তৃতীয় চতুর্থ নেই আর?
“তৃতীয় ক্রাশের লিস্টে আরশ খান। আরো অনেকেই রয়েছে তবে এদের তিনজনের বন্ধুত্ব দারুণ এদের একটা টিম রয়েছে আর পুরো ভার্সিটি তাদের এক নামে চেনে এবং মানে।
কথাগুলো বলতে বলতে নিজেদের ক্লাস রুমে আসলো তিনজন, ক্লাসে কিছুটা লেট করে আসার কারণে, সামনে ব্রেঞ্চ গুলো বুক হয়ে গিয়েছে। তিনজন মিলে একিবারে পিছনে বিন্স ফাঁকা পেয়ে,তিনজন একি ব্রেঞ্চে বসলো, আরাত বেন্সে ব্যাগটা রেখে বসতে বসতে মিরা কে বলল,
“তুমি এতো কিছু জানো কীভাবে ?
” সিক্রেট এটা!

“মাহির ভাই? আপনার আব্বু অর্থাৎ আঙ্কেল কে একটা মেয়ে অপমান করছে।
ক্যান্টিনে বসে সিগারেট টানছিলো আরশ, তার সঙ্গে আরো দুইটা ছেলে আর একটা মেয়ে বসা ছিলো, সেই সময় ব্ল্যাক লেদার জ্যাকেট পরিহিত এক যুবক বাইক নিয়ে ভার্সিটিতে ঢুকলো। মেয়েরা সেদিকে হা হয়ে তাকিয়ে আছে, গুঁতি কয়েক ছেলে মেয়ে মাঠে বসে ছিলো। ছেলেরা কেউ কেউ সেদিকে তাকিয়ে সালাম দিতে লাগলো, সালাম নিয়ে মেয়েদের তাকানো কে ইগনোর করে যুবক বাইক থেকে নেমে ক্যান্টিনে দিকে হাঁটা দিলো।
ক্যান্টিনে এসে আরশের পাশে বসতেই, ভার্সিটির ছোট্ট ভাইয়ের মুখে নিজের বাবার অপমানের কথা শুনে, চোখ মুখ লাল হয়ে উঠলো মাহিরের, চোখে ক্ষোভ নিয়ে ছেলেটার উদ্দেশ্য করে বলে,

“মেয়েটাকে পাঁচ মিটিতে আমার সামনে চাই….
” ওকে ভাইয়া।
ছেলেটা চলে গেলো, আরশ এবার মাহিরের দিকে অবাক চোখে জিজ্ঞেস করলো,
“তুই মেয়েটাকে ডেকে কি করবি?
” তোর যেটা করার দায়িত্ব ছিলো এইটাই করবো।
“রাগ করছিস কেনো, আমি সেসময় ছিলাম না, ওদের মুখে মেয়েটার ব্যাপারে যা শুনলাম, মেয়েটা ফাস্ট ইয়ার হবে,এতোকিছু জা…..

” ও রিয়েলি, প্রথম দিন এসেই এতো তেজ, মেহরাব ইসলাম মাহিরের বাবা কে অপমান, ইন্টারেস্টিং!
মাহিরের কথায় আরশ টেনশনে পড়ে গেলো, ওরা কখনো কেনো মেয়েকে রেগিং দেয় না উল্টো কোনো দল যদি জুনিয়ারদের রেগিং দেয়, তাহলে মাহির রা তাদের ইচ্ছা মতো ধুলায় করে, মূলত এই কারণে ভার্সিটির মেয়ে হইতে ছেলে, তাদের এই টিমটাকে অনেকটা শ্রদ্ধা এবং ভালোবাসে। মাহির যদি মেয়েটাকে এনে সবার সামনে অপমান করে তারপরও ভার্সিটির স্যার ম্যাম পর্যন্ত কেউ কিছু বলবে না। তাদের ভাবনায় আসবে মেয়েটার কিছু একটা দোষ করেছে হয়তো, এজন্য মাহির এতো রেগে গিয়েছে। মাহির এবার আরশ কে জিজ্ঞেস করলো,
“মেয়েটার নাম কী রে?

আরশ ঠোঁট উল্টে মাথা ঝাকিয়ে না বুঝালো, যার অর্থ সে জানে’না। বা এখন পর্যন্ত দেখে নাই।
পাশে বসা রুপা নামে মেয়েটা বলল,
মেয়েটার সঙ্গে আরেকটা মেয়ে ছিলো, সেই মেয়েটা তখন বলল,তার নাম সন্ধ্যা আর ওই মেয়েটার নাম আরিবা তালুকদার আরাত বলল ! মেবি আরাত বলে ডাকে হয়তো।
মাহির আরাত নাম টা মুখ বাঁকা করে দুইবার বিরবির করল।

ক্লাস চলাকালিং হটাৎ একটা ছেলে ক্লাস রুমের দরজায় এসে, ম্যামের উদ্দেশ্য বলল,
“মে আই কামিং ম্যাম?
” ইয়া, অফকোর্স, কোনো প্রয়োজন?
“ম্যাম, আরিবা তালুকদার আরাত নামে মেয়েকে মাহির ভাই ডাকছেন?
নামটা শুনা মাএ, পুরো রুম অবাক হয়ে আরাতের দিকে তাকালো, কিছুক্ষণ আগে ম্যাম সবার সঙ্গে পরিচয় করে দিয়েছেন, সেক্ষেত্রে ক্লাস রুমের সবার আরাত কে চিনতে অসুবিধা হইলো না । কিন্তু মাহির পুরো ভার্সিটির ক্রাশ,মেয়েরা তাকে দেখার জন্য কতশত অপেক্ষা করে। সেই মাহির আরাত কে কেনো ডাকবে। নিচ্চয় আরাত মাহিরের পরিচিত নাহয়তো স্পেশাল কেউ হবে।এটা নিয়ে সবার মধ্যে কানাঘুঁষা শুরু হয়ে গেলো। আবার কেউ কেউ তো বলাবলি করছে, মাহমুদ ইসলাম এর সঙ্গে ঝামেলার বিষয়টি নিয়ে মাহির মেয়েটাকে সাজা দেওয়ার জন্য ডাকছে। ক্লাস রুমে কিছুটা হইচই পড়ে গেলো, ম্যাম সবার উদ্দেশ্য ধমকের শহিদ চেচিয়ে উঠলো,

“সাইলেন্স…..
সঙ্গে সঙ্গে পুরো রুম নীরব হয়ে গেলো,ম্যাম আরাত কে ছেলেটার সঙ্গে বাহিরে যাওয়ার আদেশ দিলেন।
এদিকে আরাত সন্ধ্যা দুজন দুজনের মুখ চাওয়াচায়ি করে হকচকিয়ে গেলো। আরাত সবাই কে একবার দেখে নিয়ে দাঁড়িয়ে পরলো, আরাতের দাঁড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে, সন্ধ্যাও দাড়িয়ে গেলো
ম্যাম আরাতের সঙ্গে সন্ধ্যা কে দাড়াতে দেখে বললেন,
“তুমি দাঁড়ালো কেনো?
” ম্যাম আমিও আরাতের সঙ্গে যেতে চাই ! ওকে একা একটা ছেলের সামনে ছাড়তে চাইছি না।
ম্যাম কিছুক্ষণ ভেবে বললেন, ওকে যাও।
ছেলেটা তাড়া দিতে লাগলো, আরাতের সঙ্গে সন্ধ্যাও বের হইলো, ওদের যাওয়ার পরপর মিরা ম্যাম কে বলে ক্লাস রুম থেকে বের হইলো,

করিডর দিয়ে ছেলেটা আগে আগে যাচ্ছে, তার কয়েক পা পিছন পিছন, আরাত সন্ধ্যা দুজন যাচ্ছে, আরাত সন্ধিহান গলায় সন্ধ্যা কে পর্যবেক্ষণ করে ,
“তুই আসলি কেনো?
সন্ধ্যা মুখে লাজুক হেসে আরাতের কথায় উত্তর করলো,
“ছেলেটা বলল না, মাহির মানে আমার ক্রাশ তোকে ডাকছে, তাই ভাবলাম ক্রাশের মুখটা দর্শন করে আসা যাক।
” তুই আমার জন্য আছোস নাই,তুই ওই মাহির না টাহির কে দেখতে যাচ্ছিস, তুই হারামি আমার সঙ্গে কথা বলবি না। আমি ভাবলাম আমার টেনশনে তুই আমার সঙ্গে আমাকে সাপোর্ট দেওয়ার জন্য যাচ্ছিস,আর তুই…..
“আরে তোকেও সাপোর্ট দিবো আর আমার ক্রাশকেও দেখবো, একঢেলে দুই পাখি হিহিহিহি।
” সর তুই আমার লগে কথা কবি না,হারামি।

দুজনের কথা বলার মধ্যে দিয়ে ক্যান্টিনে এসে দাঁড়ালো দুজন, সামনে ছেলেটার কারণে সামনের বেক্তি কে দেখা গেলো না, হটাৎ সামনের ছেলেটা সাইট হতেই, আরাতের চোখ আটকে গেলো সামনের ব্ল্যাক লেদার জ্যাকেট পড়ে পায়ে পা তুলে ফোনে দিকে তাকিয়ে থাকা ব্যাক্তির উপর।
“ভাই এই যে মেয়েটা !
ছেলেটার কথা কানে আসতে মাহির ফোন থেকে চোখ উঠিয়ে কৌতুহলী চোখে তাকালো, তাকিয়ে ছেলেটার উদ্দেশ্য করে জানতে চাইলো,
” কোনটা?
ছেলেটা আরাত কে হাতের ইশারায় দেখিয়ে দিতে দিতে বলল,
“ভাই সাদা জামা পড়া মেয়েটা।

তুই আমার বিশ্বাস ছিলি পর্ব ১২

মাহির ছেলেটার হাতের ইশারায় সেদিকে তাকাতেই আরাতের সঙ্গে চোখ মিলে গেলো, আরাত কে নিজের দিকে এক ধ্যানে তাকিয়ে থাকতে দেখে। মাহির ভ্রু’কুচকে আরাত কে পা-থেকে মাথা অবধি পর্যবেক্ষণ করলো। হালকা কোকরানো লম্বা বেনি করা চুলের সঙ্গে সাদা রেডিমেড হোয়াইট এঞ্জেল থ্রিপিচ পরিহিত লালতি ফর্সা মুখটাই যেন আরাত কে সিন্ধপরী লাগছে। মাহির আরাতের মুখে দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকার পর কিছু একটা মনে পড়তেই মুখে এক চিলতে হাসি খেলে গেলো,
“অদ্ভুত মেয়ে।

তুই আমার বিশ্বাস ছিলি পর্ব ১৪