Home তুই শুধু আমার উন্মাদনা তুই শুধু আমার উন্মাদনা পর্ব ১৯

তুই শুধু আমার উন্মাদনা পর্ব ১৯

তুই শুধু আমার উন্মাদনা পর্ব ১৯
তাবাস্সুম খাতুন

রাতের আঁধার কেটে ধরণীতে সূর্যের আগমন ঘটলো। আজ দুটো দিন হচ্ছে নিশান আর জিহান ইতালি গিয়েছে। সিমিরা এই দুই দিন নিয়ম করে ভার্সিটি গিয়েছে। যে যার নিয়মের ভিত্তিতেই কাজ করছে। কিন্তূ আজকে সবাই অনিয়ম করে কোথাও হারিয়ে যেতে চাচ্ছে। সময়টা সকাল সাত বেজে দুই মিনিট। দিন টা শুক্রবার।চৌধুরী ম্যানশন এর প্রতিটা মানুষ আজকে ঘুরতে যাবে। যাকে বলে কোন এক নিরিবিলি জায়গায় গিয়ে পিকনিক করা।তাই সেই জন্য ভোর রাত থেকে উঠে সবাই রেডি হচ্ছে।

সাতটা পঞ্চাশ বাজলেই বেড়িয়ে পড়বে। অনেক দূর যেতে হবে। সবাই রেডি হয়ে নিচে নামলো নাস্তা করছে এখন। সিমিরাও নামলো তারা চার বোন একই রকমের ড্রেস পরেছে। নেভি ব্লু রং এর গ্রাউন জামা। সাথে সাদা রং এর উড়না হিজাব করা। হাতের এক পাশে নেভি ব্লু ওড়না। মুখের সাজ ও সব এক। পন্ডস ক্রিম, গোলাপি লিপিস্টিক আর গাঢ় করে কাজল। চারজন কে দেখতে একদম একই রকম লাগছে। সবার খাওয়া দাওয়া শেষ বাইরে গাড়িতে গেলো। বড়ো রা এক গাড়িতে আর ছোট রা এক গাড়িতে উঠলো।

আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন 

তাজউদ্দিন, সালাউদ্দিন, জামালউদ্দিন, সেলিনা, রোজিনা, কিয়া, রুবেল আর মেহেরিমা আট জন বড়ো প্রাইভেট গাড়িতে উঠলো। আরেক টা গাড়িতে সিমি, সামিয়া, জারা, রাত্রি, মিষ্টি, পিহু, মিহু, তাজ আর তিহান উঠলো। দুটোই বড়ো প্রাইভেট গাড়ি। সবাই উঠতেই গাড়ি রওনা দিলো তাদের গন্তব্যর দিকে। তারা যাচ্ছে সিলেটের লালাখাল নদীর তীরে। যেইখানে আছে পাহাড়, নিরিবিলি জায়গা। স্বচ্ছ নদীর পানি। তাইতো সকাল সকাল রওনা দিলো ঢাকা থেকে সিলেট যেতে প্রায় পাঁচ থেকে ছয় ঘন্টা সময় লাগে। গাড়ি চলতে শুরু করলো নিজ গতিতে গাড়ির মধ্যে হৈচৈ গান লেগেই আছে। এইদিকে মিষ্টি দাঁতে দাঁত চেপে সবকিছু সয্য করছে। তার কাছে এইসব অসহ্য কাজকাম। ইচ্ছে না থাকার সত্ত্বেও সয্য করছে এইটাই অনেক।

“বাড়ির মানুষের দেখছি আমোদ লাগছে ভালোই?”
নিশানের কথা শুনে জিহান চোখ তুলে নিশানের দিকে তাকিয়ে বললো,,
“কেন আবার কি হলো?”
নিশান খেতে খেতে বললো,,,
“সাহস কতবড়ো সবার, আমার বউ কে নিয়ে যাচ্ছে তো একবারও আমার থেকে পারমিশন নেই নি। বিলিভ মি জিহান just বাড়িতে ফিরি তোর বোন কে এইবার এমন শাস্তি দেবো দশ দিন যেন বেডে পরে থাকে?”
জিহান ঢোক গিলে বললো,,
“কি হয়েছে ভাই?”

নিশান কিছু না বলেই নিজের ফোন নিয়ে সেই জায়গা ত্যাগ করলো। জিহান দ্রুত হাত ধুয়ে এসে কল লাগালো তিহানের ফোনে। তিহান কল ধরতেই জিহান বললো,,,
“কই তুই?”
তিহান — “বড়ো মামা ঠিক করেছে ঘুরতে যাব আজকে, তাই সবাই ঘুরতে যাচ্ছি।”
জিহান — “কোন জায়গায় যাচ্ছিস?”
তিহান — “সিলেটে। কেন কোন সমস্যা হয়েছে ভাইয়া?”
জিহান ফোঁস করে একটা নিশ্বাস নিয়ে বললো,,
“বেশি কিছু না ভাই আমার সিমির খেয়াল রাখিস, যদি ওর একটা আঁচড় ও লাগে তাহলে ওই সাইকো নিশান খুন করে দেবে পুরো পরিবার কে।”
তিহান আশ্বাস দিয়ে বললো,,
“তুমি চিন্তা কর না ভাইয়া আমরা সবাই আছি তো?”
জিহান আর কিছু না বলে কল কেটে দিয়ে নিশানের পিছু গেলো।

দেখতে দেখতে পাঁচ ঘন্টা হয়ে গেলো এখন বাজে দুপুর একটা আর কিছু ক্ষণ পরেই তারা লালাখাল এ পৌঁছে যাবে। সবাই এক্সাটেড হয়ে বসে আছে। তাজ সিমিকে ডাকলো,,
“সিমি আপি।”
সিমি উত্তর দিলো,,
“বল।”
তাজ — “আচ্ছা আপি এই নদীর নাম লালাখাল নদী কেন?”
সিমি কেবলা হেসে বললো,,
“আসলে ঐখানের নদীতে আগে মানুষদের খুন করে ফেলে দিতো মানুষের রক্ত লাল তাই সেই রক্তে পুরো নদী লাল হয়ে যেত। সেইজন্য ওই নদীর নাম লালাখাল রাখা হয়েছে।”
সিমির উত্তর শুনে সবাই ওর দিকে তাকালো সিমি সবার দিকে তাকিয়ে বললো,,
“ধন্যবাদ না বললেও হবে ছোট খাটো ব্যাপার তো।”
এর মধ্যে তাজ আবারো বললো,,

“বুজলাম আপু তাহলে আরেকটা নদী আছে না ঐযে পদ্মা নদী এই নদীর নাম পদ্মা রাখলো কেন?”
সিমি হেসে জবাব দিলো,,,
“এই নদীতে পদ্ম ফুলে ভরে যাই তাই একে পদ্মা নদী বলে।”
তাজ মাথা নাড়িয়ে বললো,,
“বুজলাম তাহলে যমুনা নদীকে। যমুনা বলে কেন?”
সিমি সোজা সাপ্টা জবাব দিলো,,,
“ওই নদীতে বহুকাল আগে যমুনা নামে এক মহিলা গলায় কলসি ঝুলিয়ে আত্মহত্যা করেছে। সেইজন্য ওই মহিলা কে স্মরণে রাখার জন্য সেই নদীকে যমুনা নদী বলা হয়েছে।”
সিমির এই উত্তর শুনে কেউ আর হাসি থামাতে পারলো না সামিয়া সিমি কে বললো,,
“এই বেডি এইসব কি শিখাচ্ছিস তুই?”
সিমি হাবলার মতো বললো,,,

“কেন ঠিকই তো বললাম।”
জারা হাসতে হাসতে বললো,,
“100%সঠিক।”
ছোট্ট মিহু বলে উঠলো,,,
“ওও সিমি আপুই।”
সিমি — “হুম বল।”
মিহু চিন্তিত কণ্ঠে বললো,,
“আপু আমি না অনেকদিন থেকে চিন্তিত একটা বিষয় নিয়ে তোমাকে বলবো? তুমি তো তাজ ভাইয়া কে সব বুজিয়ে দিলে সুন্দর করে।”
সিমি নিজেকে বাহবা দিলো মনে মনে মুখে বললো,,,
“হ্যা বলে ফেল পানির মতো বুজিয়ে দেবো।”

মিহু — “আচ্ছা ১ আর ১ কেন ২ হবে? ৩ কেন হবে না? ৪ কেন হবে না?”
মিহুর প্রশ্ন শুনে সিমি কিছু ক্ষণ তাকিয়ে রইলো মিহুর দিকে পরে বললো,,,
“ছোট্ট মিহু এই প্রশ্ন টা আমারো, তবে উত্তর আমার ভাবা আছে এইযে মিহু আর পিহু দুই বোন তেমনি ১ ও ১ দুই ভাই তাই এদের যোগ করলে হয় ২।”
সিমির উত্তর শুনে বাকি সবার অবস্থা ছেড়ে দে মা কেঁদে বাঁচি। সিরিয়াসলি এই মেয়ের উত্তর যে এত সুন্দর কিভাবে অর্নাস ফার্স্ট ইয়ার এ পরে? এর মধ্যে পিহু বললো,,
“আচ্ছা সিমি আপু শোন্ আমার একটা প্রশ্ন যেহেতু বিয়ে আমারো হবে। তাই জিজ্ঞাসা করলাম।”
সিমি — “হ্যা কর কর।”

পিহু — “আচ্ছা মানুষ বলে না যে বাসর রাতে বিড়াল মারতে হয়? আচ্ছা এই টা কিভাবে মারতে হয়? মানে একটা জ্যান্ত বিড়াল কে কিভাবে মারবো? এইসব করলে তো আরো গুনাহ হবে?”
পিহুর প্রশ্ন শুনে তিহান আর মিষ্টি দুইজনের কাশি উঠে গেছে এইদিকে সিমি, সামিয়া, জারা, রাত্রি ভাবছে তাইতো এই প্রশ্নের কি উত্তর। ভেবেও য্খন কিছু পেলো না তখন সিমি বললো,,
“অপেক্ষা কর আমি ইউটুব এ সার্চ দিচ্ছি।”
বলে ফোন হাতে নিয়ে সার্চ দিতে যাবে তখনি তিহান বললো,,
“এই stop যাও সবাই আমরা নামবো এইবার।”
সিমি থেমে গেলো কিন্তূ পিহু কে বললো,,
“আমি সার্চ দিয়ে জেনে তোকে পরে জানিয়ে দেবো।”

এর মধ্যে তারা তাঁদের গন্তব্য পৌঁছে গেলে। গাড়ি থেকে সবাই নামলো ঠান্ডা বাতাস তাঁদের গা ছুঁয়ে দিলো। কি সুন্দর জায়গা লালাখাল নদীটা দুই জঙ্গলের মাঝ খান দিয়ে বয়ে যাচ্ছে। দুই পাশেই ঘন জঙ্গল। সাথে আছে পাহাড়। কি সুন্দর জায়গা। সিমিরা গাড়ি থেকে একটু দূরে গিয়ে হাত মেলে সবুজ প্রকৃতি উপভোগ করতে লাগলো। তাজউদ্দিন বললো,,
“তোমরা যেন বেশি দূর যাবে না আমরা এইখানে আছি, রান্নার ব্যবস্থা করছি।”
জারা বললো,,,
“আচ্ছা আব্বু আমরা বেশিদূর যাবো না।”
পিহু, মিহু, তাজ, তিহান, মিষ্টি সবাই বড়োদের সাথে থাকলো আর এই চার বোন নিজেদের মতো ঘুরতে লাগলো। তারা অনেক টা দূরেই গেলো। রাত্রি বললো,,,
“যাই বলিস জায়গা টা কিন্তূ অসাধারণ।”
জারা হাত মেলে চোখ বন্ধ করে বললো,,,
“আজ যেন মনে হচ্ছে মুক্ত পাখি আমি।”
সামিয়া — “ঠিক যেন এতদিন বন্ধিত্ব জীবন যাপন করছিলাম উফফফ কি যে ভালো লাগছে।”
সিমি দুঃখ প্রকাশ করে বললো,,,

“এইসব উপভোগ করার জন্য জামাই লাগবে রে, সে এই নির্জন জঙ্গলের ভিতরে আমাকে কোলে নিয়ে হাঁটবে আর আমি তার গলা জড়িয়ে ধরে প্রকৃতি উপভোগ করবো। ইসসস আজ একটা জামাই নেই বলে।”
সিমির কথা শুনে সামিয়া, জারা, রাত্রি চিৎকার দিয়ে বললো,,,
“কিহহহ।”
সিমি চোখ মুখ কুঁচকিয়ে বললো,,,
“চিৎকার মারাস কেন?”
সামিয়া — “কি বললি তোর জামাই নেই?”
সিমি — “নেই তো।”
জারা চোখ বড়ো বড়ো করে বললো,,,
“আমার জ্যান্ত ভাই টাকে কি মেরে ফেলার প্ল্যান করছিস?”
সিমি ভ্রু কুঁচকে বললো,,,
“কোন ভাই?”
রাত্রি ফোন নিয়ে বললো,,
“দ্বারা আমি ফোন দিচ্ছি।”

রাত্রির বলতে দেরি সিমি গিয়ে দৌড়ে রাত্রির হাত ধরতে দেরি না। হাত ধরে সিমি কাঁদো কাঁদো কন্ঠে বললো,,,
“মজা করছিলাম মাফ করে দে।”
রাত্রি — “আচ্ছা ঠিকাছে মাফ করলাম তবে শর্ত আছে।”
সিমি — “কি শর্ত?”
রাত্রি — “এই নির্জন জায়গায় তোর এখন চিৎকার করে বলতে হবে নিশান ইচ্ছে love you…!”
রাত্রির কথা শুনে সিমি ওর দিকে কেমন করে যেন তাকালো তার পর মুহূর্তে সিমি চিৎকার দিয়ে বললো,,,
“i love বিদেশি কুত্তা…..!”
সামিয়া ভেবাচ্যাকা খেয়ে বললো,,,
“কি বললি?”
সিমি — “i love বিদেশি কুত্তা।”
জারা কপাল চাপড়িয়ে বললো,,,
“আমার ভাইকে কুত্তার সাথে তুলনা করিস বাহ্ বাহ্।”
সিমি নিজেকে বাহবা দিয়ে বললো,,
“কবুল বলার সময় ও বিদেশি কুত্তা কবুল বলেছি।”
সিমির কথা শুনে ওরা অবাক হয়ে বললো,,,

“সত্যি?”
সিমি — “হুম তিন সত্যি।”
সিমির কথা শুনে সবাই হাসলো। এইবার তারা আবারো সবার কাছে ফিরে গেলো গিয়ে দেখলো রান্না শেষ। খাবার খাবে সবাই বসে পড়লো খেতে লাগলো একসাথে। খাওয়া দাওয়া হয়ে গেলে একটু ঘুরাঘুরি করে বাড়ির দিকে রওনা দেবে।

“নিশান, এই নিশান বালের নিশান শোন্ না।”
নিশান বিরক্তি কণ্ঠে বললো,,
“সমস্যা কি তোর? আমার নাম কে তোর বালের নামের সাথে রাখছিস কেন? ইডিয়েট।”
জিহান হতাশ কণ্ঠে বললো,,
“মানুষ বাঁচে আশায় আর আমি বাঁচি এক হতাশা বস্তা নিরাশাই।”
নিশান ল্যাপটপ এর কিবোর্ড এ হাত চালাতে চালাতে বললো,,
“এত না ঘুরিয়ে সোজাসুজি বল কি হয়েছে?”
জিহান — “একটা গান গাইতে ইচ্ছে করছে গায়বো।”
নিশান উত্তর দিলো না জিহান বললো,,
“চুপ থাকা মানে সম্মতির লক্ষণ, আমি গাইছি হুম।”
বলে জিহান একটু গলা পরিষ্কার করে গেয়ে উঠলো,,
“আমি নষ্টা মনে নষ্টা চোখে,,,
দেখি তোমাকে মন আমার কি চাই,,,
বোঝাই কেমনে…….!”

জিহানের গান শুনে নিশান নাক মুখ কুঁচকিয়ে বললো,,
“ছিঃ জিহান সত্যিই তুই তৃতীয় লিঙ্গ, নষ্টা চোখে মনে আমাকে কি দেখস হ্যা?”
জিহান মুখ ভাঙিয়ে বললো,,
“শালা হারামি তুই তৃতীয় লিঙ্গ গান টা তো আমার বউ কে ক্রেডিট করে গেয়েছি। সামনে এখন তুই আছিস তো আমি কি করবো।”
নিশান — “প্রথমেই বলেছি আমি তৃতীয় লিঙ্গ কিনা চেক করে নে i don’t mind…..!”
জিহান — “দেখার ইচ্ছে নেই।”
নিশান — “এইসব গান তুই শিখলি কোথা থেকে রে? আগে তো তুই এমন ছিলিস না।”
জিহান কষ্টের সাথে বললো,,

“বাংলাদেশে কয়দিন থেকে তোর শালার কাছ থেকে শিখেছি শালা পেয়েছিস একটা ভালো এইসব গান শোনে ওর শোনা গান পছন্দ হয়েছে ফোনে সার্চ দেই আরো গান পাই শুনতে শুনতে মুখস্ত করে ফেলি।”
নিশান — “ছোট বাচ্চা থেকে শিখছিস, তাও ভালো কিছু শিখলে হয় তা না করে আবাল গান শিখছিস। শালা সব কয়টা ভাই বোন তোরা উগান্ডার বাসিন্দা।”
জিহান কেবলা হাসি দিয়ে বললো,,,
“সেই উগান্ডার মেয়েকেই তো বিয়ে করলি সুনা।”
নিশান জিহানের দিকে চোখ গরম করে তাকাতেই জিহান দ্রুত ল্যাপটপ অন করে কাজ করতে লাগলো।

“সিমি মামুনি একটু আয় তো আমার সাথে।”
সেলিনার ডাক শুনে সিমি উঠে আসলো বললো,,
“কি হয়েছে বড়ো আম্মু?”
সেলিনা সিমির হাত ধরে হাঁটতে হাঁটতে জঙ্গলের ভিতরে ঢুকতে ঢুকতে বললো,,,
“আয় এর ভিতরে একটু ঘুরে আসি।”
সিমিও কিছু বললো না চুপচাপ যেতে লাগলো। সেলিনা দুঃখ প্রকাশ করে বললো,,
“আমাকে ক্ষমা করে দিস মা, আমার ছেলে তোকে অনেক জ্বালায় অনেক শাস্তি দেই মারধর করে মাফ করিস না আমাকে।”

সিমি — “আরে বড়ো আম্মু তুমি মাফ চাইছো কেন? আর নিশান ভাই এর কাজ কাম প্রথম প্রথম খারাপ লাগলেও এখন সয্য হয়ে গেছে। তাই আমি কিছু মনে করি না আর তুমিও আমার কাছে মাফ চাইবে না ঠিকাছে।”
সেলিনা হাসি মুখে বললো,,
“তোর মতো এমন একটা লক্ষী মিষ্টি ছেলের বউ পেয়ে আমি ধন্য রে সিমি আমি সত্যিই ধন্য নিশ্চই কোন পূর্ণের কাজ করছিলাম তাই আল্লাহ আমাকে এত বড়ো উপহার দিয়েছে।”
সিমি শুধু আসলো। এইভাবে টুকটাক কথা বলতে বলতে সিমিরা অনেক দূরে চলে গেলো পাহাড়ের মাঝখানে তারা হাঁটছে বড়ো বড়ো খাদ ও আছে। ভয়ঙ্কর টাইপ জায়গা। সন্ধ্যা হয়ে এসেছে। সেলিনা দাঁড়ালো সিমি কে বললো,,,
“সিমি মামুনি ওই যে ওই ফুলগুলো আমাকে এনে দেবে।”
হাত দিয়ে খানিক দূরে রঙ্গনা ফুলের গাছ দেখালো। সিমি হেসে বললো,,
“অবশ্যই তুমি অপেক্ষা কর আমি এনে দিচ্ছি।”
বলে সিমি যেতে নিলেই সেলিনা বললো,,
“তোর ব্যাগ তা আমার কাছে দিয়ে যা।”

সিমি হাসি মুখে ব্যাগ দিয়ে ফুল আনতে গেলো। এইদিকে সিমি কে যেতে দেখে সেলিনা মনে মনে বাঁকা হাসি দিলো আস্তে আস্তে সেই জায়গা থেকে সরে গেলো। আবারো সবার কাছে ফিরে গিয়ে মিশে গেলো। সিমি কে য্খন সে আনছিল তখন সিমির ঐখানে কেউ ছিলো না ও একা ছিলো তাই কেউ সন্দেহ করতে পারবে না।
এইদিকে সিমি ফুল ছিঁড়লো অনেক গুলো ছিঁড়লো সন্ধ্যা নেমে গেছে সূর্য ডুবে যাচ্ছে। সিমি ফুল হাতে সেলিনা যেইখানে ছিলো ঐখানে আসতেই চমকে উঠে কারণ ঐখানে সেলিনা নেই। সিমি ভয়ে ভয়ে আশেপাশে সেলিনা কে খুঁজতে লাগলো না কোথাও পেলো সিমির ভয়ে গলা শুকিয়ে যাচ্ছে চোখে পানিরা ভীড় করে আছে। সিমি চিৎকার দিয়ে বললো,,,

“বড়ো আম্মু ও বড়ো আম্মু, কোথায় তুমি? বড়ো আম্মু ও বড়ো আম্মু আমার ভয় করছে। নিয়ে যাও আমাকে।”
সিমির আওয়াজ যেন আবারো সিমির কাছেই ফিরে আসছে কিন্তূ তার শব্দ শুনে অন্য কারোর আওয়াজ ভেসে আসছে না। এইদিকে সূর্য ডুবে গেছে চারিদিকে আঁধার নেমে আসছে সিমির ভয় লাগছে সে হাঁটতে লাগলো কিন্তূ রাস্তা সে চেনে না আরো গভীরে চলে গেলো। বড়ো বড়ো পাহাড় ঘন জঙ্গল খাদের মধ্যে ফেঁসে গেলো সে কান্না করছে তার কান্নার আওয়াজ কেউ শুনতে পারছে না। চিৎকার করছে তাও কেউ তার চিৎকারের উত্তর দিচ্ছে না।সিমি ফুফিয়ে ফুফিয়ে কান্না। করতে লাগলো। ভীষণ ভয় লাগছে তার চারিদিকে অন্ধকার হয়ে গেছে।

অন্ধকার হয়ে এসেছে সবাই গাড়িতে উঠে বসলো খবর হলো সিমি নেই। আবারো নামলো গাড়ি থেকে আশেপাশে সব জায়গায় খুঁজলো কিন্তূ কোথাও পেলো না সিমি কে। এইদিকে সেলিনা আর মিষ্টি মনে মনে হাসছে। কারণ এইসব ঘুরতে আসা সিমি কে এই জঙ্গলের মাঝে হারিয়ে দেওয়া এইসব তাদের প্ল্যান।সবাই হন্য হয়ে খুজছে কিন্তূ কোথাও পাচ্ছে না রোজিনা কান্না করছে সেলিনা গিয়ে শান্তনা দিচ্ছে। জারা তার ফোন বাহির করে কল মিলালো নিশানের নাম্বার এ। দুই তিন রিং হতেই নিশান কল তুললো জারা কান্না করতে করতে ডাকলো,,,
“ভাইয়াআআ।”
নিশানের কপাল কুঁচকে এলো বুকের ভিতরে কেউ যেন এলোপাতারি হাতুড়ি পিটাচ্ছে কিছু হয়েছে নাকি তার ইশুর। নিশান শান্ত কণ্ঠে বললো,,,

“কি হয়েছে?”
জারা কান্না করতে করতে বললো,,,
“ভাইয়া সিমি কে খুঁজে পাচ্ছিনা।”
সিমি কে খুঁজে পাচ্ছে না শব্দ তা কানে যেতেই নিশান চিৎকার দিয়ে বললো,,
“What?”
জারা সবকিছু খুলে বললো। যা শুনে নিশান রাগে তিরতির করে বললো,,
“কুত্তার বাচ্চারা আমার ইশু কে নিয়ে গিয়ে হারিয়ে ফেলছিস। আমার পারমিশন ব্যাতিত আমার ইশু কে নিয়েছিস মানলাম। এখন হারিয়েছিস খোদার কসম আমার ইশুর গায়ে যদি একটা আঁচড় লাগে। আমি খুন করে ফেলবো সবাই কে।”
বলে কল কেটে দিলো। পাশে জিহান দাঁড়িয়ে ছিলো সব কথা শুনেছে আর সাথে সাথেই বেশি রেট দিয়ে ইমার্জেন্সি দুটো টিকিট কেটেছে বাংলাদেশ যাওয়ার। নিশান যেইভাবে ছিলো সেইভাবেই বেড়িয়ে গেলো সাথে জিহান ও দৌড় দিলো। জিহান বললো,,,

তুই শুধু আমার উন্মাদনা পর্ব ১৮

“টিকিট কেটে ফেলছি আর দশ মিনিট পরে ফ্লাইট আমাদের দ্রুত যেতে হবে।”
এয়ারপোর্ট থেকে তাদের দূরত্ব দশ মিনিটের মিনিটের। আর হাতে সময় ও দশ মিনিট।নিশান দ্রুত বাইক নিয়ে উঠলো সাথে জিহান ও উঠে বসলো ফুল স্প্রিড এ চালিয়ে দশ মিনিটে রাস্তা তিন মিনিটে পৌঁছালো। তারা নেমে দ্রুত সব ঠিক থাক করে প্লেনে উঠে বসলো। নিশানের সারা শরীর রাগে তিরতির করে কাঁপছে। সবকিছু ভেঙে চুরমার করতে ইচ্ছে করচ্ছে। ভয় করছে তার কলিজার জন্য। ইশুর কিছু হলে সে যে কি করবে তার ঠিক নেই। কখন যে যাবে এই পযন্ত তার ইশু কিভাবে আছে আল্লাহ জানে। আল্লাহর কাছে দোয়া করছে যেনো সে যতক্ষণ না পৌঁছায় ততক্ষন যেন সিমি সেফ থাকে। প্লেন উড়াল দিলো গন্তব্য বাংলাদেশ।

তুই শুধু আমার উন্মাদনা পর্ব ২০