Home তুই শুধু আমার উন্মাদনা তুই শুধু আমার উন্মাদনা পর্ব ২০ (২)

তুই শুধু আমার উন্মাদনা পর্ব ২০ (২)

তুই শুধু আমার উন্মাদনা পর্ব ২০ (২)
তাবাস্সুম খাতুন

সকাল আট টা বেজে দুই মিনিট। চৌধুরী ম্যানশন এ প্রবেশ করলো পরপর দুইটা গাড়ি। চৌধুরী পরিবার সবাই নেমে বাড়ির ভিতরে ঢুকলো। কিন্তূ বাড়িতে ঢুকতেই তারা অবাক কি অবস্থা বাড়ির ভিতরে। সিঁড়ির পাশে থাকা ফ্লাওয়ার ভাস গুলোর কাঁচ সহ প্লাস্টিক ফুল ফ্লোরে ফেলানো। ড্রইং রুমে থাকা সোফা গুলো উলটানো। টি টেবিল আছাড় মারা। ডাইনিং টেবিল ও ভেঙে ফেলা সবগুলো চেয়ার উল্টানো কোন কোন চেয়ারের পায়া ভেঙে গেসে। মানে পুরো ড্রইং রুম সহ ডাইনিং রুমের কোন আসবা পত্র ঠিক নেই সব ভেঙে নিচে ফ্লোরে আছে প্লেট গ্লাস গুলোও। সবাই অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে আর ঠিক তখনি নিশান নেমে আসলো সিঁড়ি বেয়ে হাতে একটা আপেল সেইটাতে কামড় দিতে দিতে নেমে আসছে। শার্ট এর দুই তিনটা বোতাম খোলা উপর থেকে হাতা ফ্লোল্ট করা। বাম হাতে রক্তের ছোঁপ ছোঁপ দাগ। বাড়ির সবাই নিশান কে দেখে বুজে গেলো এইটা নিশান ছাড়া কেউ করে নি। তাজউদ্দিন ভিতরে ঢুকলো নিশানের উদ্দেশ্য বললো,,,

“এই ছেলে এই সমস্যা কি তোমার? এইভাবে জিনিষ পত্র ভাঙছো কেন? হ্যা কি সমস্যা তোমার?”
নিশান আপেল টা ফেলে দিলো, ঘাড় টা এইপাশে ঐপাশে করে নিয়ে শান্ত কণ্ঠে বললো,,
“আমার সমস্যা আপাতত পরে, আগে এইটা বলুন সিলেটে লালাখাল নদীতে যাওয়ার প্ল্যান কার ছিলো?”
তাজউদ্দিন রাগানিত্ব কন্ঠে বললো,,
“সেইটা কেন তোমাকে বলতে হবে? বাপের জিনিষ পেয়ে ভেঙেছো, নিজে কামাই করে ভাঙতে পারো নি? ইডিয়েট ছেলে একটা।”
নিশান তাজউদ্দিনের দিকে তাকিয়ে স্লো ভয়েসে বললো,,,

আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন 

“আব্বু তোমাকে আমি কিছু বলি নি, বলতে চাই ও না, তুমি চুপচাপ দাঁড়িয়ে থেকে ট্রেলার দেখো।”
তাজউদ্দিন কিছু বলতে গেলে নিশান হাত উঁচিয়ে থামিয়ে দিয়ে বললো,,
“লালাখাল যাওয়ায় প্ল্যান কে করেছিল?”
সেলিনা হাসি মুখে এগিয়ে এসে বললো,,
“আমি করেছিলাম বাড়িতে সবাই বোর হচ্ছিলো, তাই একটু ঘুরাঘুরি প্ল্যান করেছিলাম।”
নিশান তার মায়ের দিকে মাথা ঘুরিয়ে তাকিয়ে বললো,,
“বোর হচ্ছিলে, আমার ইশু কে কার পারমিশনে নিয়ে গেছিলে?”
সেলিনা মেকি হাসি দিয়ে বললো,,

“কেন আব্বু? সিমি তো আমার মেয়ের মতোই…!”
সেলিনা কে কথা শেষ করতে না দিয়ে নিশান গম্ভীর কণ্ঠে বললো,,
“মেয়ের মতো, মেয়ে তো না, কোনোদিন ভেবেছো মেয়ে? উহুম ভাবো নি!আর ভাববেও না।”
সেলিনা — “তুমি এমন ভাবে বলছো কেন?”
নিশান এইবার মুখের রং পাল্টিয়ে ফেললো। হিংস্রতার সাথে বলে উঠলো,,
“Stop your fuking Drama.. কে হোন আপনি আমার? কোন সাহসে আমার ইশু কে কেড়ে নিচ্ছিলেন? আনসার মি।”
সেলিনা অবাক কণ্ঠে বললো,,,

“নিশান কি ভাষা তোমার এইগুলো? আমি তোমার মা হয় ভুলে গেছো নাকি?”
নিশান রাগে তিরতির করতে করতে বললো,,,
“মা how funny মা হওয়ার যোগ্যতা আপনার মধ্যে নেই। জন্ম দিয়েছেন আমাকে? কর্ম করেছেন? জন্ম দিলেই মা হওয়া যাই না, কর্ম করতে হবে। আরে মা রা নাকি ছেলেদের বেশি ভালোবাসে। আরে আমার মা আমাকে গলা টিপে হত্যা করছে।”
তাজউদ্দিন উঁচু কন্ঠে বললো,,,
“নিশান কি ব্যবহার এইটা তোমার?”
নিশান হাত উঁচিয়ে বললো,,,
“Stop আমি বলবো আর উনি উত্তর দিবে এর বাইরে কেউ কথা বললে খুব বেশি খারাপ হয়ে যাবে।”
সেলিনার চোখ থেকে পানি গড়িয়ে পড়লো নিশানের চোখের দিকে তাকিয়ে বললো,,
“আমি কখনো নিজের হাতের তোকে খুন করবো না আব্বু, জানিনা আমার নামে তোর সম্পর্কে কি ধারণা। কিন্তূ আমি আর আমার আল্লাহ জানে ঠিক কতটা পরিমান ভালোবাসি আমি তোকে। প্রতিটা মুহূর্ত তোর মঙ্গল কামনা করি আল্লাহর কাছে।”

নিশান সদর দরজার কাছে গিয়ে সেই জায়গা থেকে একটা ফ্লাওয়ার বাস তুলে জোরে আছাড় মেরে বললো,,
“খুন তো অনেক আগেই করেছেন। কেন রেখে আসছিলেন আমার ইশু কে? কি ক্ষতি করছে আপনার? কি ভাবছেন আমি কিছু জানিনা? আমার ভালো চান আপনি? আমার ভালো চাইতে গিয়ে আমার কলিজা টেনে রান্না করে খাচ্ছেন তো আমি ভালো থেকে আপনার পছন্দ করা মেয়েকে বিয়ে করে বেঁচে যাবো?”
নিশানের কথা শুনে বাড়ির প্রতিটা মানুষ সেলিনার দিকে তাকালো। সেলিনা বললো,,
“কি সব বলছিস? আমি কিচ্ছু বুজতে পারছিনা। আমি কেন সিমি মামুনি কে নিয়ে যাবো কোথাও?”
নিশান এইবার সবার ভিড়ে দাঁড়িয়ে থাকা মিষ্টির হাত ধরে টেনে আনলো। সেলিনার দিকে তাকিয়ে মিষ্টির বাম গালে জোরে চড় মারলো। সবাই অবাক মিষ্টি গালে হাত দিয়ে নিশানের দিকে তাকাতেই নিশান আবারো মিষ্টির ডান গালে চড় মারলো। মিষ্টি দুই গালে হাত রেখে নিশানের দিকে অশ্রু ভর্তি নয়নে তাকিয়ে রইলো। সেলিনা উচ্চাশিত কন্ঠে বললো,,

“নিশান ওকে মারছো কেন? ও কি করেছে তোমাকে?”
নিশান আবারো চড় মারলো মিষ্টির গালে বাঁকা হাসি দিয়ে বললো,,
“কারণ মূল করপিট তো এই দোকান থেকে কিনে আনা মিষ্টি। এখন সত্যিটা শিকার করেন তবে ওকে রেহাই দেবো।”
সেলিনা চুপ হয়ে গেলো বাড়ির প্রতিটা সদস্য সেলিনার দিকে তাকিয়ে। নিশান পরপর মিষ্টির দুই গালে দশটা থাপ্পড় মারলো ও আর দাঁড়াতে পারছেনা শক্ত হাতের থাপ্পড় খেয়ে তার মাথা ঘুরাচ্ছে। মাথা ঘুরে পরে যেতে নিলে নিশান ওর এক বাহু ধরে আবারো একটা জোরে থাপ্পড় মেরে চেলে দিলো। মিষ্টি গিয়ে দূরে ফ্লোরে মাথা ঘুরে পরে গেলো। নিশান আবারো মিষ্টির কাছে যেতেই সেলিনা বলে উঠলো,,,

“নিশান বন্ধ কর, হ্যা আমি নিয়ে গিয়েছিলাম সিমি কে সেখানে, আমি সয্য করতে পারি না সিমি কে তোমার বউ হিসাবে আমি একদম পারি না। আমি ঘৃণা করি সিমি কে ঘৃণা। ও তোমার বউ হওয়ার যোগ্য রাখে না।”
সেলিনার কথা শুনে বাড়ির প্রতিটা মানুষের অবাকের চরম সীমানায়। নিশান চিৎকার দিয়ে বললো,,,
“আমার পাশে দাঁড়ানোর যোগ্যতা কার আছে কিনা নেই সেইটা আমি ডিসিশান করবো। কাউকে পীড়িত দেখাতে বলি নি।”
সেলিনা — “ওর জন্য তুমি মার খেয়ে এই দেশ ছেড়ে ছিলে নিশান।”
নিশান হিংস্রতার সাথে বললো,,,

“মার খেয়েছি দেশ ছেড়েছি, তাতে আপনার কি সমস্যা? আমি আমার ইশু কে চাই নিজের করে চাই আমি উন্মাদ সব সময় আমার ইশুর জন্য। আমি ওকে চাই তাই মার খেয়েছি। আপন করে পেতে এই দেশের মাটি ত্যাগ করেছি। আর এখন আমার ইশু কে কেড়ে নিতে আসছেন?”
সেলিনা — “তুমি ভুল ধারণা তে বাস করছো সিমি তোমার জন্য সঠিক নই।”

নিশান — “সে সঠিক হলেও এই নিশানের, বেঠিক হলেও এই নিশানের। তবে একটা কথা কান খুলে শুনে রাখেন জন্মদাতা মা হোন বলে এইবার ছেড়ে দিলাম, কিন্তূ দ্বিতীয়বার এমন ভুল করার মতো কোন অপশন রাখবো না। পুরো পরিবারের জন্য সতর্কতা আমার ইশু কে যদি কেউ হার্ট করার চেষ্টা করে তার কলিজা ছিঁড়ে এনে আমার ইশুর পায়ের নিচে রেখে দেবো। হোক সেইটা তার বাবা – মা কি আমার বাবা – মা so be carefull..”
বলে নিশান আর দাঁড়ালো না হনহন পায়ে সে বেড়িয়ে গেলো বাড়ি থেকে। সে এখন হাসপাতালে যাবে সিমির কাছে। নিশান চলে যেতেই সেলিনা মিষ্টির কাছে গেলো। তাকে নিজের কোলে নিলো। তাজউদ্দিন আশ্চর্য কণ্ঠে বললো,,,
“সেলিনা তুমি কি বললে এইটা? সিমি কে তুমি সয্য করতে পারো না। সেই কবেকার কথা ধরে রাখছো?”
সেলিনা চিৎকার দিয়ে বললো,,,

“হ্যা রাখছি পারিনা আমি সয্য করতে। ওই মেয়ের জন্য আমার নিশান কত মার খেলো দেশ ছাড়লো। এমনকি আমার মেয়ের থেকেও বেশি পিয়োরিটি সবাই ওই মেয়েকেই দেই। আমার সয্য হয় না। কেন আমার ছেলে মেয়েরা সবসময় ওই মেয়ের গোলামের মতো থাকবে কেন? আমি সয্য করতে পারি না। আর দ্বিতীয় প্রশ্ন আমাকে করবে না।”

বলে সেলিনা মিষ্টি কে দাঁড় করালো। আস্তে আস্তে ধীরে সিস্টে মিষ্টি কে নিয়ে মিষ্টির রুমে গেলো। রোজিনার চোখ থেকে পানি গড়িয়ে পড়লো সে এত বছর জেনে আসছে বড়ো আফা তার সিমি কে বড্ড ভালোবাসে একটু চঞ্চল প্রকৃতি। কিন্তূ এত বছর যে ঘৃণা করো জানতো না। সালাউদ্দিন নিজের স্ত্রী কে এক বাহু দিয়ে জড়িয়ে ধরলো তাজউদ্দিন আসলো সালাউদ্দিনের কাছে। ঘাড়ে হাত রেখে বললো,,
“মাফ করিস ভাই আমাকে, আসলে কি থেকে কি হলো কিছু বুজতে পারলাম না আমাকে মাফ করে দিস।”
সালাউদ্দিন বড়ো ভাই এর হাত ধরে বললো,,

“তুমি কেন মাফ চাচ্ছ ভাইজান? ভাবি ভাবির জায়গায় ঠিকই আছো। বাদ দাও।এইসব।”
বলে সালাউদ্দিন রোজিনা কে নিয়ে নিজের রুমে গেলো। কিয়া সব বাচ্চাদের নিয়ে রুমে গেলো। জামালউদ্দিন ও চলে গেলো। মেহেরিমা, রুবেল, তিহান এরাও নিজেদের রুমে গেলো আসলে কিছু বলার নেই। তাজউদ্দিন গম্ভীর মুখে নিজের রুমের দিকে গেলো। জারা সামিয়া কে বললো,,,
“এমন হওয়ার তো কথা ছিলো না সামু?”
সামিয়া জারা কে জড়িয়ে ধরে বললো,,,
“চুপ কর রুমে চল।”
বলে তিনজন রুমে চলে গেলো।

নিশানের গাড়ি হাসপাতালের সামনে থামলো সে দ্রুত পায়ে ভিতরে ঢুকলো। জিহান নিশান কে দেখে উঠে এসে বললো,,,
“সিমি কে অনেক আগেই কেবিনে শিফ্ট করা হয়েছে দেখা করতে পারবি, তবে এখনো জ্ঞান ফিরি নি। তুই থাক আমি আসছি একটু পরে।”
নিশান কোন উত্তর না দিয়ে সিমির কেবিনে ঢুকে পড়লো। জিহান লম্বা একটা শ্বাস নিয়ে বেড়িয়ে গেলো হাসপাতাল থেকে। নিশান কেবিনে ঢুকতেই দেখতে পেলো এক রমণী কে হাসপাতালের নীল পোশাক পরে আছে। হাতে ক্যানেলা লাগানো। চুলগুলো বিউনি করে এক পাশে রাখা। কম্বল টা পেট পযন্ত তোলা। নিষ্পাপ বাচ্চাদের মতো ঘুমিয়ে আছে। নিশান চেয়ারে গিয়ে বসলো। সিমির ডান হাত নিজের হাতের মধ্যে নিলো। ধুকপুক করতে থাকা হার্টবিট যেন একটু শান্ত হচ্ছে। নিশান চোখ বন্ধ করে বড়ো বড়ো নিশ্বাস নিলো দুই তিনবার। এর মধ্যে নার্স ঢুকতেই নিশান বললো,,,
“উহুম এখন না বেড়িয়ে যান আমার প্রাইভেসি লাগবে। ডিসটার্ব করবেন না।”
নার্স টা কিছু না বলে চলে গেলো। নিশান সিমির মুখের দিকে তাকালো মুখে হাত দিলো। হুট্ করে নিশান উঠে সিমির কপালের সাথে নিজের কপাল ঠেকালো। কিয়তক্ষন ঐভাবেই থাকলো নিশানের চোখ থেকে গড়িয়ে পড়লো নোনা পানি। নিশান কান্না করছে? নিশান একটা বড়ো নিঃশাস নিলো। উঠে আসলো সিমির হাত টা শক্ত করো জড়িয়ে ধরে ভাঙা কন্ঠে বললো,,,

“বিশ্বাস কর ইশু, আমার হৃদপিন্ড টা এখনো জোরে জোরে বিট করছে, আমার ভীষণ কষ্ট হচ্ছে। তোর হারিয়ে যাওয়ার খবর শুনে আমার সারা দেহ কেঁপে উঠেছিল নিজেকে ঠিক রাখতে পারছিলাম না ভীষণ কষ্ট হচ্ছিলো। তোকে য্খন খুজছিলাম ভোরের আলো ফুটার সময় হয়েছে কিন্তূ তোকে পাচ্ছিলাম না মনের ভিতরে ভয় জমছে তোকে হারানোর। আমি তোকে হারাতে পারবো না ইশু।কোন ভাবেই তোকে হারাতে আমি পারবোনা। ”
নিশান থামলো আবারো একটা শ্বাস নিয়ে বলা শুরু করলো,,

“বুদ্ধি হওয়ার পর থেকে আমি দুইবার কান্না করছি। প্রথম বার তোকে ছেড়ে সদুরে পাড়ি দেওয়ার সময়, আর তোর হারানো খবর আমাকে ভয় ধরিয়ে দিয়েছে। আমি ভীষণ কষ্টে আছি ইশু। আমি তোকে ছাড়া এক মুহূর্ত থাকতে পারবোনা। আমার প্রতিটা নিশ্বাস ও তোর নামেই হয়। আমি তোকে কষ্ট দেই আঘাত করি কিন্তূ তোর প্রতি আমার যেই উন্মাদনা তা এই আঘাতের কাছে তুচ্ছ। নিশান তার ইশুর জন্য দুনিয়ার সবকিছু করতে রাজি। এইগুলো ভালোবাসা বলা যাই না ইশু এইগুলো আমার উন্মাদনা আমার আসক্তি একমাত্র আমার আসক্তি যা এলকহলেও পাওয়া যাই না। বড্ড উন্মাদ আমি তোর জন্য। তোকে হারাতে চাই না আমি। ”
নিশানের কথা যেন আটকে আসছে চোখ থেকে পানি বাহির হচ্ছে অঝোরে। চোখ বন্ধ করলো সে চোখের পানি গুলো মুছলো সিমির মুখে হাত রেখে বললো,,,

“জানিনা আমার এই আসক্তি তুই কবে বুজবি? কবে বুজবি আমার এই উন্মাদনা শুধুই তোর জন্য? কবে বুজে আমাকে তোর করে নিবি কিচ্ছু জানিনা আমি। জানতে চাই না তুই শুধু মৃত্যুর আগপযন্ত আমারই থাকিস, তোকে হারিয়ে নিজে আর্তহত্যা করবো কিন্তূ বেঁচে থেকে তোকে হারিয়ে ফেলার সাদ্য আমার নেই। তুই আমার ভীষণ প্রিয়। যাকে হারালে এই নিশানের অস্তিত্ব দুনিয়া থেকেই বিলীন হয়ে যাবে।”
নিশানের কথা বলার মধ্যে ফোন বেজে উঠলো নিশান ফোন বাহির করে রিসিভ করতে ওইপাস থেকে কি শোনা গেলো জানা নেই তবে নিশান গম্ভীর কন্ঠে বললো,,,

“অপেক্ষা কর আমি আসছি।”
বলে কল কেটে দিয়ে সিমির কপালে গভীর একটা চুমু একে দিয়ে বললো,,,
“অপেক্ষা করিস আমার জন্য, আমি নিয়ে যাবো তোকে।”
বলে নিশান আর দাঁড়ালো না কেবিন থেকে বেড়িয়ে গেলো। নিশান চলে যাওয়ার দুই মিনিট পরে সিমি চোখ খুললো। তার চোখ লাল টুকটুক করছে। ঠোঁটের উপরে ঠোঁট দিয়ে কান্না আটকানোর চেষ্টা করছে। সিমি আস্তে আস্তে উঠে বসলো। নিশানের প্রতিটা কথা যেন তার হৃদয়ে বাজছে। কান্না আসছে তার। চোখ থেকে পানি গড়িয়ে পড়লো। আজকে যদি নিশানের কথা গুলো না শুনতো হয়তো সে কখনোই নিশান কে বুঝতো না। একটা মানুষ কতটা তাকে চাই। তাকে হারিয়ে ফেললে নিজের জীবন তাই বিলীন করে দেবে।

সবকিছু করতে পারবে? কতটা আসক্তি সে তার নিশানের কাছে সে এখন উপলব্ধি করতে পারছে। নিশান তো তাকে এমনি এমনি শাস্তি দেই না সে দোষ করে তাই শাস্তি দেই। নিশান তাকে চাই তাকে হারাতে না আগলিয়ে রাখতে। ছেলেদের চোখ থেকে নাকি সহজে পানি পরে না কিন্তূ নিশান ভাই তার ইশুর জন্য কান্না করছে। এইগুলো ভাবলেই সিমির বুকের বাম পাশে কেমন যেন চিনচিন ব্যাথা অনুভব হচ্ছে। নিশান ভাই তাকে কতটা চাই! সিমির জ্ঞান অনেক আগেই ফিরেছে। কেবিনে নিশান কে ঢুকতে দেখে সে দ্রুত চোখ বন্ধ করে জ্ঞান হারানোর নাটক করছিলো। তাইতো অপ্রত্যেশিত কথা গুলো সব শুনে ফেললো। সিমি বিড়বিড় করে বললো,,

“আপনি আমাকে কতটা চান,, আমি এতদিন জানতাম না নিশান ভাই, আপনি আমাকে মারতেন বলে আপনাকে ঘৃণা করতাম আমি। কিন্তূ দিন শেষে দেখা যাই আমার মারার পিছনে হাজার টা ভুলই আমার। আমি দোষী আমি আপনার কাঠগড়াই বন্ধী হয়ে গেলাম শাস্তি দেন। আপনাকে ঘৃণা করেছি পাপ করেছি শাস্তি দেন আমাকে। আপনাকে কেন বুজতে চাই নি আমি? এতটাই অবুজ আমি। আমাকে বুজতে কেন দেন নি? পচা নিশান ভাই। হুউউউ।”
বলে সিমি চোখে পানি নিয়ে হাসলো। কিছু মিনিট আগেও এই সিমি নিশান কে ঘৃণা করতো আর কিছু মিনিট পরে কিনা এই সিমি নিশানের জন্য চোখের পানি ফেলছে। সিমি আবারো শুয়ে পড়লো তাকে অপেক্ষা করতে হবে। নিশান ভাই বলেছে তাকে নিতে আসবে আমি যেন অপেক্ষা করি। সিমি চোখ বন্ধ করে শুয়ে রইলো। নিশানের অপেক্ষা করার জন্য।

রাত সাত টা বেজে চার মিনিট। সিমির কেবিনে ঢুকলো নিশান সিমি হেলাম দিয়ে বসে ছিলো নিশান কে দেখে মাথা নুয়ে রাখলো। নিশান এসে সিমির কাছে দাঁড়িয়ে গম্ভীর কণ্ঠে বললো,,
“কেমন আছিস এখন?”
সিমি মিনমিনে সরে বললো,,,
“ভালো।”
নিশান — “ওঠ বাড়িতে যাবো।”

সিমি কিছু না বলেই উঠে দাঁড়ালো। সে নিজের পোশাক পরে নিয়েছে অনেক আগেই নিশান পাঠিয়ে দিয়েছিলো বডিগার্ড দ্বারা। সিমির নজর নিশানের হাতে যেতেই আঁতকে উঠলো নিশানের ডান হাত নিজের হাতে নিয়ে বললো,,,
“কি হয়েছে আপনার হাতে? রক্ত কেন? ইসসস কেটে গেছে কতখানি।”
নিশান এক ঝাড়া মেরে হাত নিয়ে বললো,,,
“কাটে কাটুক তোর কি সমস্যা? বাড়ি চল।”
সিমি নিশানের হাত টেনে ধরে বেডে বসিয়ে বললো,,,
“এই হাত ডেসিং হবে তারপর বাড়ি যাবো এর আগে না।”
নিশান দাঁতে দাঁত চেপে বললো,,
“আমি কি তোর সাথে নাটক করছি ইশু?”
সিমি দাঁত কেলিয়ে হেসে বললো,,

“নাটক না ড্রামা করছেন।”
নিশান — “আমার মুখে মুখে কথা বলছিস বাহ্।”
সিমি মুখ ভাঙিয়ে বললো,,,
“আমার মুখ আছে তাই আপনার মুখে মুখে কথা বলছি।”
সিমির এইসব কথা যেন নিশান কে রাগিয়ে তুলছে। সে রাগে তিরতির করতে করতে বললো,,,
“এত আগলা পীড়িত আমার লাগবে না বাড়ি চল।”
সিমি জেদ ধরে বললো,,
“আগে হাত ডেসিং করবেন তারপর।”
নিশান এইবার সিমি কে পাঁজা কোলে তুলে নিয়ে বললো,,,,

“যেই রাস্তায় ছিলিস সেই রাস্তায় ফিরে যা আমার সাথে তিড়িং বিড়িং করলে এইবার জানে মেরে ফেলবো।”
সিমি মুখ ভাঙিয়ে অন্যদিকে ফিরে রইলো। আসলে সমস্যা হচ্ছে কুকুরের লেজ সারা বছর চেষ্টা করে সোজা করতে গিয়েও সোজা হয় না সেই ব্যাকাই থাকে। এই বিদেশি কুত্তা ও তাই ও তো আসলেই কুত্তা তো লেজ কেমনে সোজা। হবে হুউউউ। নিশান সিমি কে কোলে করে গাড়িতে নিয়ে বসলো। সিমি নিশানের কোল থেকে নেমে বসতে চাইলে নিশান শক্ত করে সিমির কোমর জড়িয়ে ধরলো। যেন নড়তে না পারে সিমি মনে মনে বললো,,,

“জাতে মাতাল কিন্তূ তালে ঠিক, শালা বিদেশি কুত্তা তোর লেজ বেকা থাক সুজা আমি করতাম না হুউউউ।”
নিশান গাড়ি চালাতে লাগলো আর সিমি ঐভাবেই নিশানের কোলে বসে বুকে মাথা রেখে চুপ করে শুয়ে রইলো। কিন্তূ সিমি সে তো চুপ না। নিশানের হার্টবিট জোরে জোরে বিট করছে যা সিমি কান পেতে শুনতে পারছে। সিমি বলে উঠলো,,,
“আপনার হার্টবিট এত জোরে জোরে বিট করে কেন?”
নিশান বাঁকা হেসে বললো,,,
“বউ কাছে থাকার সত্বেও ফরজ কাজ করতে না পারার দরুন হার্টবিট জোরে জোরে বিট করছে।”
সিমি প্রশ্ন করলো,,,
“বউ কাছে থাকলে কেমন ফরজ কাজ করতে হয়?”
নিশান ধমক দিয়ে বললো,,
“চুপ করে বসে থাক ইডিয়েট।”
সিমি মুখ গোমড়া করে বললো,,,
“আপনার হার্টবিট আমাকে চুপ থাকতে দিচ্ছে না, আপনি চুপ করিয়ে দেন হার্টবিট কে।”
নিশান — “আর একটা সাউন্ড তোর মুখ থেকে বাহির হলে তোর হৃদস্পন্দন টাই একদম বন্ধ করে দেবো।”
নিশানের হুমকি স্বরূপ বাণী শুনে সিমি মুখে হাত দিয়ে চুপচাপ শুয়ে রইলো। বলা যাই না এতটা চাই ঠিকই উন্মাদ ঠিকই তবে মেন কথা একজন সাইকো ও খুন করতে হাত কাঁপবে না। চুপ থাকাই শ্রেয়।

সময়টা রাত নয়টা বাজে নিশানের গাড়ি এসে থামলো চৌধুরী ভিলা তে। নিশান সিমি কে ঐভাবে কোলে নিয়েই বাড়ির ভিতরে প্রবেশ করলো। ড্রইং রুমে সবাই বসে ছিলো নিশান দের দেখে তাজউদ্দিন প্রশ্ন করলো,,,
“সিমি এখন কেমন আছে?”
নিশান গম্ভীর কণ্ঠে জবাব দিলো,,
“ভালো।”
বলে নিশান সিমি কে নিয়ে উপরে উঠে গেলো। সিমির কেন জানি আজকে লজ্জা লাগছে এইভাবে সবার সামনে তাকে কোলে করে আনলো। ইসসস কি লজ্জা কি লজ্জা। নিশান সিমি কে নিজের রুমে নিয়ে গিয়ে বেডে বসিয়ে দিলো। সিমির লজ্জা বরন মুখ দেখে নিশান ভ্রু কুঁচকে প্রশ্ন করলো,,,
“তোর আবার কি হলো?”
সিমি মাথা নিচু করে বললো,,,

“সবার সামনে আমাকে কেন এইভাবে কোলে করে আনলেন?”
নিশান — “তো?”
সিমি — “তো মানে? আমার লজ্জা লাগে না নাকি? এইভাবে সবার সামনে দিয়ে আমাকে কোলে করে আনলেন?”
নিশান একই সুরে বললো,,,
“তোর লজ্জা তে আমার কি আসে যাই। চুপ করে বস বিনা বাক্য ব্যায় করে।”
বলে নিশান ওয়াশরুমে ঢুকে গেলো। সিমি নিশানের যাওয়ার পানে তাকিয়ে মুখ ভাঙিয়ে বললো,,
“শালা বিদেশি কুত্তা তোর জীবনেও ভালো হবে না হুউউউ, আসছিলেন মানবতা দেখতে আর শালা বিদেশি কুত্তা তুই ফিজিক্স ক্যামেস্ট্রি বুজিয়ে দিলি হুউউউ।”

সিমি বেডে হেলাম দিয়ে শুয়ে শুয়ে রুমের চারপাশে দেখতে লাগলো। পুরো দশ মিনিট পরে নিশান সাওয়ার নিয়ে বেড়িয়ে আসলো। তার পরনে সাদা টি শার্ট কালো টাওজার। সিমি আরচোখে নিশানের দিকে তাকালো। নিশান কিছু না বলে রুম থেকে বেড়িয়ে গেলো। সে নিচে নেমে কিচেন এ গেলো। সেখানে কেউ ছিলো না। নিশান একটা প্লেটে বেশ খানিক ভাত। পাশে সবজি মাছ আর মাংস নিয়ে নিজের রুমে আসলো। নিশান কে আসতে যেতে সবাই দেখলো কিন্তূ কেউ কোন প্রশ্ন বা কোন কথা বললো না। নিশান রুমে ঢুকে বেডে সিমির পাশে বসে প্লেটের ভাত লোকমা মাখিয়ে সিমি কে খাইয়ে দিতে লাগলো। সাথে নিজেও খেলো। খাওয়া শেষ হতে নিশান হাত ধুয়ে প্লেট রেখে সিমি কে মেডিসিন দিলো। সিমির মেডিসিন খাওয়া শেষ হতে নিশান বেডে শুয়ে পড়লো লাইট অফ করে। নিশান বেডের আরেক পাশে মুখ করে শুয়ে রইলো। সিমি নিশানের দিকে তাকিয়ে মনে মনে বললো,,,,

“বিদেশি কুত্তা, ইগনোর আমিও পারি দেখিস কাল থেকে হুউউউ।”
বলে সিমি চোখ বন্ধ করলো। একটা একটা ওষুধের ডোজ অনেক বেশি। সাথে সাথে ঘুমের রাজ্যে হারিয়ে গেলো। সিমি ঘুমাতে নিশান তার দিকে ফিরলো সিমি কে নিজের কাছে টেনে আনলো। সিমির গলায় মুখ গুঁজে ঘুমের দেশে হারিয়ে যেতে লাগলো।

রাত এগারোটা বেজে পঞ্চাশ এমন সময় বাড়ি ফিরলো জিহান। বাড়ির কেউ জেগে নেই। বলতে গেলে বাইরে নেই সবাই নিজেদের রুমে। জিহান ডুপ্লিকেট চাবি দিয়ে সদর দরজা খুলে ভিতরে প্রবেশ করলো নিজের রুমে চলে গেলো। রুমে ঢুকে সোজা ওয়াশরুম এ ঢুকে গেলো। বড্ড ক্লান্ত সে লম্বা সাওয়ার লাগবে। পুরো ত্রিশ মিনিট ধরে জিহান সাওয়ার নিয়ে বেড়িয়ে আসলো। কোমরে একটা টাওয়াল পেঁচিয়ে কাভার্ড থেকে একটা শর্ট প্যান্ট বাহির করে পরে নিলো। চুলগুলো টাওয়াল দিয়ে ভালো ভাবে মুছে নিয়ে ডেসিং টেবিলের সামনে দাঁড়িয়ে হেয়ার ডায়ার দিয়ে শুকিয়ে নিলো। চুলগুলো সেট আপ করে বেডের কাছে গেলো। বালিশ ঠিক করে বেডে রাখতেই দেখা মিললো লাল রঙের রঙিন একটা ভাজ করা কাগজ। জিহান ভ্রু কুঁচকিয়ে কাগজ টা তুললো উল্টিয়ে পাল্টিয়ে দেখলো। তারপর খুললো লেখা দেখলো চিরকুট টাইপ। এইখানে যা লেখা আছে জিহান পড়লো,,,
“ও আমার প্রাণ প্ৰিয় জিহান বেবি..তোমাকে ছাড়া আমি পারছিনা থাকতে একমুহূর্ত , কবে নেবে তুমি আমাকে তোমার ঘরের বউ বানিয়ে বলো?”

তুই শুধু আমার উন্মাদনা পর্ব ২০

চিরকুট টা পরে জিহানের কুঁচকে যাওয়া ভ্রু আরো কুঁচকে গেলো। এই বাড়িতে এমন চিরকুট কে দিতে পারে? সিমি দেবে না। জারা? মিস ক্যারক্যারানি? উহুম কে দিবে? জিহানের কুঁচকানো ভ্রু যেন আরো কুঁচকাতে লাগলো। কিছু ক্ষণ ভেবেও য্খন কিছু হলো না চিরকুট টা কাভার্ড এ রেখে দিলো। এইটা সকালে নিশান কে দেখাবে। Then হাতের লেখা চেক করলে পাওয়া যাবে কে এমন কাজ করছে। অসহ্য কারবার সব ছি। জিহান লাইট অফ করে নিজের বেডে গিয়ে শুয়ে পড়লো। প্রচুর ক্লান্ত সে তাই বেডে শুয়ে পড়তেই ঘুমের দেশে হারিয়ে গেলো।

তুই শুধু আমার উন্মাদনা পর্ব ২০ (৩)