Home তুই শুধু আমার উন্মাদনা তুই শুধু আমার উন্মাদনা পর্ব ৫০

তুই শুধু আমার উন্মাদনা পর্ব ৫০

তুই শুধু আমার উন্মাদনা পর্ব ৫০
তাবাস্সুম খাতুন

রাত নয়টা বেজে চল্লিশ মিনিট। চৌধুরী বাড়ির সবাই ডাইনিং টেবিলে বসে আছে রাতের খাবারের জন্য। মিহু, পিহু, তাজ, তিহান, জারা আর রাত্রি একটু আগে খেয়ে রুমে গেলো। ডাইনিং টেবিলে বসে আছে তাজউদ্দিন, সালাউদ্দিনউদ্দিন, জামালউদ্দিন, রুবেল, মেহেরিমা, কিয়া। রোজিনা আর সেলিনা খাবার পরিবেশন করছে। সামিয়া ড্রইং রুমের সোফায় এখনো বসে আছে। যেইটা দেখে সালাউদ্দিন বলে উঠলো,,,

“সামিয়া মামুনি, তুমি কি খাবে না? দ্রুত আসো। ”
সামিয়া দৃষ্টি তাঁদের দিকে ঘুরিয়ে বললো,,,
“একটু পরে খাবো। তোমরা সবাই খাও।”
সালাউদ্দিন আর দ্বিতীয় কথা বললো না। রোজিনা বলে উঠলো,,
“সিমি, নিশান, জিহান ওরা তিনজন কোথায়? খাবে না নাকি?”
রোজিনার প্রশ্নের উত্তর কারোর কাছে নেই মুখ বুজে খেতে লাগলো। অপরদিকে সিঁড়ি বেয়ে নেমে আসলো জিহান, সে সামিয়াকে ড্রইং রুমে দেখে ডাইনিং টেবিলে না গিয়ে ড্রইং রুমে সামিয়ার পাশে বসে পড়লো। হুট্ করে কাউকে এইভাবে বসতে দেখে সামিয়া চমকে উঠলো যা দেখে জিহান বললো,,

আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন 

“ভয় পেয়েছো?”
সামিয়া জিহানের দিকে তাকালো কয়েকপল তাকিয়ে দৃষ্টি নত করলো,,
“ভয় পাওয়ার কি আছে? আপনি বাঘ নাকি ভাল্লুক?”
“তুমি চাইলে তোমার জন্য আমি বাঘ হতেও রাজি আছি।”
জিহানের কথা শুনে সামিয়া মাথা আরো একটু নুইয়ে নিলো অতঃপর বললো,,,
“সবসময় আমার জন্য কিছু করতে হবে এমনটা নয় মিস্টার শেখ। নিজের ইচ্ছেতেও কিছু করা উচিত।”
বলে সামিয়া উঠে দাঁড়ালো যেতে নিলেই জিহান বলে উঠলো,,,
“করেছি তো নিজের ইচ্ছাই।”
সামিয়ার পা জোড়া থেমে গেলো। জিহানের দিকে ভ্রু কুঁচকে তাকিয়ে বললো,,,
“কি করেছেন?”
জিহান স্বাভাবিক ভাবে বললো,,,
“তোমাকে বিয়ে।”
সামিয়া আর দাঁড়ালো না রাতের খাবারের জন্য ডাইনিং টেবিলে চলে গেলো। জিহান সামিয়ার পানে তাকিয়ে মুচকি হাসলো সেও উঠে গেলো ডাইনিং টেবিলে বসে পড়লো।

সিমি গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন। নিশানের কাজ মাত্র শেষ হলো, ল্যাপটপ অফ করে সিমির কাছে আসলো। দেখলো গভীর ঘুমে ঘুমিয়ে আছে। নিশান সিমির কপালে শব্দ করে চুমু খেলো। সিমির গা থেকে ব্লাঙ্কেট সরিয়ে দিলো। উড়না টা খুলে ফেললো গ্রাউন জামাটা পেটের উপর থেকে তুললো। উন্মুক্ত করলো সিমির সম্পূর্ণ উদর। নিশান হাত উচালো তার হাত কেন জানি কাঁপছে খুব ধীরে ধীরে সিমির পেটে হাত রাখলো। হাত বুলিয়ে দিতে লাগলো তার হাত কাঁপা যেন আরো দ্বিগুন হচ্ছে চোখের কোটায় পানি গুলোও ভীর করছে। নিশান মুখটা উদরের কাছে এগিয়ে আনলো ফিসফিস করে বললো,,,

“প্রিন্সেস তুমি কি তোমার মাম্মা কে কষ্ট দিচ্ছ? একদম দিবে না, তুমি জানো প্রিন্সেস তোমার মাম্মা আমার কাছে মূল্যবান রত্নের চেয়েও দামি। আমি ব্যাতিত তোমার মাম্মা কে কেউ ফুলের পাঁপড়ি দিলেও আমি তাকে জানে মেরে ফেলি। তুমি তোমার মাম্মা কে একদম কষ্ট দেবে না সে তাহলে কান্না করবে বুঝেছো?”
নিশান থামলো “প্রিন্সেস ” শব্দটা উচ্চারণ করার কারন সে চাই তার একটা ফুটফুটে রাজকন্যা হোক। সেইজন্য সে প্রিন্সেস সম্মোধন করছে। নিশান হুট্ করে তার শুস্ক ঠোঁট জোড়া উদরে দিয়ে শব্দ করে চুমু খেলো আবারো মুখ এগিয়ে ফিসফিস করে বললো,,,

“এত ক্ষণ তোমার মাম্মা কে নিয়ে কথা বলছিলাম। রাগ করেছে নাকি আমার প্রিন্সেস? রাগ কর না প্রিন্সেস তোমার মাম্মা যদি হয় আমার বাম পাঁজরের হাড়ের অংশ। তবে তুমি আমার অংশ, আমার রক্ত। আমি চাই প্রিন্সেস তুমি সুন্দর ভাবে দুনিয়াতে আসো। দুনিয়ার আলো দেখো। তোমার পাপা আছে সে তোমাকে আর তোমার মাম্মাকে দেখে রাখবে যেন তোমাদের কিছু হয় না।”
নিশান আবারো থামলো মনটা যেন এক মুহূর্তের জন্য ভালো হয়ে গেলো। সে তার অংশ, তার রক্তের সাথে কথা বলছিলো। নিশান সিমির জামা ঠিক করে দিলো ব্লাঙ্কেট টেনে দিলো উঠে দাঁড়িয়ে নিচে যাওয়ার উদ্দেশ্য নামলো। রাতের খাবার উপরে আনার জন্য। নিশান নিচে নামলো তখন সবার খাওয়া প্রায় শেষ। নিশানকে দেখে সেলিনা প্রশ্ন করলো,,

“তুমি একা কেন আব্বু? সিমি কোথায়?”
“ঘুমিয়ে আছে আমাকে প্লেটে খাবার দেন।”
সেলিনা এক মুহূর্ত দেরি না করে খাবার বেড়ে নিশানের হাতে দিয়ে বললো,,
“আর কিছু যদি লাগে, তবে আমাকে ডাক দিও হুম।”
নিশান কোন উত্তর করলোনা সিঁড়ি বেয়ে আবারো উপরে উঠলো। রুমে ঢুকে দরজা লক করে প্লেট নিয়ে বেডে গেলো। টি টেবিলের কাছে প্লেট রেখে সিমি কে ডাক দিলো,,
“ইশু, এই ইশু ওঠ।”
সিমির কোন হুস নেই ঘুমিয়েই আছে গভীর ঘুম। নিশান আবারো ডাকলো কোন সারা শব্দ নেই। নিশান এইবার জগ থেকে গ্লাসে পানি ঢাললো গ্লাসের পানি হাতে নিয়ে সিমির মুখে ফেললো, আচমকা পানি পড়াই সিমি লাফ দিয়ে উঠলো।নিশান গম্ভীর কণ্ঠে বললো,,

“শান্ত হো। উঠে বস।”
সিমি নিশানের দিকে তাকালো বেডে হেলাম দিয়ে বসে হাঁপাতে হাঁপাতে বললো,,,
“সমস্যা কি আপনার? এইভাবে গায়ে পানি ঢাললেন কেন?”
“কৈফিয়ত দিতে ইচ্ছুক নয় আমি।”
“দেবেন কেন? ঠান্ডা লাগতো ভালো হতো।”
নিশান আর কিছু বললো না ভাত মাখিয়ে লোকমা করে সিমির মুখের কাছে নিয়ে গেলো সিমি মুখ ঘুরিয়ে নিয়ে বললো,,
“খাবো না আমি।”
নিশান গম্ভীর ভাবে প্রশ্ন করলো,,
“রিজন?”
“কোন রিজন টিজন নেই, আমি খেতে চাই না।”
নিশান এইবার ধমক দিয়ে বললো,,,
“কানের নিচে দেবো দুইটা থাপ্পড় বেয়াদব মেয়ে। মুখ খোল বলছি।”

নিশানের ধমকে সিমি কেঁপে উঠলো। চুপচাপ মুখ খুললো, নিশান লোকমা দিলো সিমির মুখে। পরের লোকমা নিজে খেলো। এইভাবে সিমিকে খাইয়ে দিলো আর নিজেও খেয়ে সম্পূর্ণ খাবার শেষ করলো। সিমি পানি খেয়ে শুয়ে পড়লো। নিশান প্লেট রেখে লাইট অফ করে বেডে আসলো সিমিকে নিজের কাছে টেনে আনতেই সিমি নিজের শক্তি খাটিয়ে নিশানের থেকে নিজেকে ছাড়িয়ে বললো,,
“টানবেন না। ঘুম আসছে আমার।”
সিমির ইগনোর যেন নিশানের রাগ বাড়িয়ে দেওয়ার জন্য সক্ষম। নিশান সিমির বাহু জোরে চেপে ধরে এক টানে নিজের বুকে ওর মাথা চেপে ধরলো দাঁতে দাঁত চেপে বললো,,

“ওই সমস্যা কি তোর? হ্যা সমস্যা কি তোর? ইগনোর মারাস? আমার সাথে ইগনোর? কিসের এত দেমাগ তোর? প্রেগনেন্ট হয়েছিস বলে মাথা কিনে খাইছিস? তোরে বলছি না আমার সাথে বেশি বাড়াবাড়ি করবি না? আর ইগনোর এই ইগনোর আমি একদম পছন্দ করিনা। প্রতিবার তোকে বোঝানো লাগে কেন? বুঝোস না তুই? ভালো করে কান পেতে আমার হার্টবিট এর আওয়াজ শোন। দেখ প্রতিবার আমার হার্টবিট তোর নাম ঝোপছে। তুই আমাকে কোনদিনের জন্য বুঝিস না? বুঝবি কেমনে? তুই তো বুঝোস ওই নীল কে!”
নিশান থামলো নীলের কথা শুনে সিমি বলে উঠলো,,,
“তাকে আমি বড়ো ভাই মানি। এইখানে তাকে টানার কি দরকার?”
নিশান উঠে বসলো সিমিও উঠলো নিশান সিমির চোখের দিকে তাকিয়ে প্রশ্ন করলো,,,
“তাকে ভাই মানিস, আর আমাকে কি মানিস?”
সিমি মাথা নুইয়ে বললো,,

“তিন কবুল বলেছি যেহেতু স্বামী মানতেই হবে।”
সিমির কথা যেন নিশানের রাগে আরো ঘি ঢালার মতো। সামান্য কথা টাকে কিভাবে বড়ো করতে চাচ্ছে সে? নিশান নিজেকে শান্ত রেখে বললো,,,
“তার মানে তুই বলতে চাস? তিন কবুলের জন্য আমাকে তোর স্বামী মানতে হচ্ছে।”
নিশানের এমন কথা শুনে সিমি দ্রুত বললো,,,
“না এমনটা নয়। আগে এইটা ছিলো কিন্তু বিষয়টা এখন আলাদা।”
নিশান চিৎকার করে বললো,,
“কোন বিষয়? কিসের আলাদা মারাস তুই? আমাকে দেখে তোর পাগল মনে হয়? প্রতিদিন নাটক করিস? শাস্তি কি কম হয়েছে? কি মনে করেছিস প্রেগনেন্ট বলে ছাড় পাবি?”
সিমি কেঁপে উঠলো রিনরিনে সুরে বললো,,

“আমি আপনাকে ভালোবাসি। বিষয়টা এমন আগে বাসতাম না তিন কবুলের জন্য স্বামী মানতাম। আর এখন আমি আপনাকে ভালোবাসি আমার ভালোবাসার জোরে আমি আপনাকে স্বামী মানি। আপনি কেন আমার ভালোবাসা বোঝেন না? আমি চিৎকার করেই বলি আমি আপনাকে ভালোবাসি। কিন্তু আপনি টাও বোঝেন না। অথচ আপনি একটা দিনের জন্যও বলেন নি আপনি আমাকে ভালোবাসেন। তাও বুঝে নিয়েছি আপনি আমাকে ভালোবাসেন। তাহলে কেন আপনি এইটা বুঝতে চান না যে আমি আপনাকে কতটা ভালোবাসি।”
সিমির কথাই নিশানের রাগ নিভে গেলো। সিমি আচমকা নিশানকে জড়িয়ে ধরলো নিশানের বুকে মাথা রেখে কান্না ভেজা কণ্ঠে বললো,,

“আমি শুনতে পাই এই হার্টবিট শুধু আমার নাম ঝোপে। বিশ্বাস করুন আমি আপনাকে অনেক অনেক ভালোবাসি। আপনাকে ইগনোর করার সেই যোগ্যতা টুকু আমার নেই। তবে একটু অভিমান তো আমি করতে পারি তাই না?প্রমিস করছি আর কোন সময় অভিমান করবো না। তাও প্লিজ এইভাবে রেগে যাবেন না।”
নিশান চোখ বন্ধ করলো বার দুয়েক বড়ো বড়ো শ্বাস নিয়ে সিমিকে বললো,,
“অনেক রাত হয়েছে ঘুমা।”
সিমি কিছু বললোনা চুপচাপ শুয়ে পড়লো। নিশান ও শুলো। সিমি নিশানের হাতে মাথা রেখে বিড়াল ছানার মতো গুটিয়ে শুয়ে রইলো। নিশান ও সিমিকে আগলিয়ে ঘুমের দেশে হারিয়ে গেলো।

“ভালোবাসেন আমাকে? হ্যা অথবা না দুটোর মধ্যে একটা শব্দ উচ্চারণ করবেন। অন্য কোন টপিক না।”
সামিয়ার হটাৎ এমন প্রশ্ন শুনে জিহানের ভ্রু যুগল কুঁচকে এলো কয়েক সেকেন্ড সামিয়ার চোখের দিকে তাকিয়ে বলে উঠলো,,
“হটাৎ এই প…
জিহানের বাকি কথা শেষ করার আগেই সামিয়া বলে উঠলো,,
“আমি বলেছি কোন টপিক না তুলতে। সোজা বলেন হ্যা অথবা না।”
জিহান তাকালো আবারো সামিয়ার পানে। সামিয়া প্রশ্নবোধক চাহুনিতে জিহানের দিকে তাকিয়ে আছে। জিহান একটা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বলে উঠলো,,

“হ্যা..
সামিয়া ফিরি প্রশ্ন করলো,,
“আমি ধর্ষিতা।এইটা জেনেও ভালোবাসবেন?”
“জেনে বুঝেই ভালোবেসেছি।”
“আমার কোন বাবা মা নেই। আমার কথার অর্থ আমার রক্তের কেউ নেই। আমি অনাথ। তবুও আমাকে ভালোবাসবেন?”
“তোমার রক্তের কাউকে নিয়ে আমি কি করবো? শুধু তুমি থাকলেই চলবে। পরিবার আমিই দেবো।”
“আমার মাঝে যদি খুঁত পান, তখনো ভালোবাসবেন?”
“খুঁত প্রতিটা মানুষের মধ্যে আছে। যেইগুলো কোন একসময় বেড়িয়ে আসেই। আমি তোমার খুঁত দেখে তো ভালোবাসিনি। যদিও খুঁত ধরা দেই আমি ঢাল হয়ে সেই খুঁত ঢেকে ফেলবো। তবুও ভালোবাসা কমাবো না।”
“আমি রাগ করে দুটো বড়ো কথা বললে ছেড়ে চলে যাবেন?”
“ভালো যেহেতু বেসেছি। তাহলে মৃত্যু ছাড়া আর কোন সময় ছেড়ে যাবো না কথা দিলাম।”
“আমি যদি এখন বলি, আমি আপনাকে ভালোবাসি তাহলে আপনি কি করবেন?”
“যদি এইটা সত্যি হয় তবে আমার চেয়ে খুশি এই দুনিয়াতে কেউ হবে না।”

“কেন খুশি হবেন?”
“ভালোবাসি তাই।”
“কেন ভালোবাসেন?”
“দেখো ভালোবাসাটা কখন কিভাবে কার উপরে হয়ে যাই এইটা আমাদের নিজেদের কন্ট্রোল এ থাকে না। এইগুলো আমাদের মনের কাজ কাকে ভালো লাগলো আর কাকে ভালোবাসলো। আমি জানিনা কখন কিভাবে তোমাকে আমি ভালোবাসছি। তবে ভালোবেসে হয়তো জীবনের সবথেকে মধুর সম্পর্কে জড়াতে পেরেছি। তাই আমার কাছে এমন উত্তর নেই কেন ভালোবাসলাম। বরং এইটা জিজ্ঞাসা কর ভালোবাসা তে কি আছে? আমাকে ভালোবেসে কি পেলে? আমি উত্তর দিতে প্রস্তুত।”

জিহানের কথা শুনে সামিয়া প্রশ্ন করলো,,,
“কি আছে এই ভালোবাসাতে? আমাকে ভালোবেসে কি পেলেন?”
“ভালোবাসা জিনিষটা হলো মিষ্টির মতো। খেলে ডায়বেটিস হয় আর না খেলে পস্তাতে হয়। আমি খেয়েছি এই মিষ্টি। ভালোবাসা সত্যিই অসাধারণ তবে সেইটা যদি হয় সঠিক মানুষের সাথে। তোমাকে ভালোবেসে আমি সর্ব সুখী হয়েছি। আমি জানি তুমি আমাকে ভালোবাসো না তাতে কি? আমি তো বাসি। এইটাই আমার সবথেকে বড়ো পাওনা।”

সামিয়ার চোখের কোনে পানি ভীড়লো লম্বা একটা শ্বাস নিয়ে আবারো বললো,,,
“আমি যদি কোনদিন ডিভোর্স দেই। তাহলে কি করবেন?”
“অপেক্ষা করবো। যতদিন না তুমি ফিরে আসো।”
“কেন করবেন অপেক্ষা? আমার মতো অনেক জনকেই পেয়ে যাবেন।”
“তোমার মতো একশোটা পাবো, কিন্তু তোমাকে তো না।”
জিহানের কথা শেষ হতেই সামিয়া ঝাঁপিয়ে পড়লো জিহানের বুকে। একটু উঁচু হয়ে জিহানের গলায় মুখ গুঁজে কান্না করতে লাগলো। জিহান কিছুই বুঝতে পারচ্ছেনা। একটু আগেই প্রশ্ন করছিলো আর এখন কান্না করছে। জিহান সামিয়ার মাথায় হাত বুলিয়ে বললো,,,

“কি হয়েছে তোমার? তোমাকে কেউ কিছু বলেছে?”
সামিয়া কথা বললোনা কান্না করেই যাচ্ছে। জিহান মাথায় হাত বুলিয়ে বললো,,,
“আচ্ছা আচ্ছা তুমি রিলাক্স হও, আমাকে কিছু বলতে হবে না।”
সামিয়া শুনলো তাও কোন কথা বললোনা। পুরো পাঁচ মিনিট পরে সে ফুঁফাতে ফুঁফাতে বলে উঠলো,,,
“আমি ভালোবাসার কাঙাল। আমাকে ভালোবেসে আগলিয়ে নেন। আমিও ভালোবাসতে চাই আপনাকে। আমার একান্ত ব্যাক্তিগত হিসাবে।”

সামিয়ার মুখে এমন কথা শুনে জিহান কি রিএকশন দেবে বুঝতে পারছেনা, শকড হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। সামিয়া জিহানের গলা ছেড়ে দিলো চোখের পানি মুছলো জিহানের শার্ট টেনে ধরে তার মাথা একটু নিচে নামিয়ে গালে ছোট্ট একটা চুমু দিয়ে দৌড়ে রুম থেকে পালিয়ে গেলো। জিহান শকড এর উপরে শকড। সে হুসে নেই ভাবছে হয়তো স্বপ্ন।পুরো দুই মিনিট পরে se হুসে ফিরলো গালে হাত দিলো এখনো অবাক লাগছে। সামিয়া তাকে ভালোবাসার কথা বলেছে? তাকে চুমু দিলো গালে? মাথা হ্যাং হয়ে যাচ্ছে। দ্রুত ওয়াশরুমে ঢুকলো সাওয়ার অন করে নিচে দাঁড়িয়ে ভাবতে লাগলো। সামিয়া তাকে কি সত্যি ভালোবাসি কথা বললো? সত্যিই কি চুমু খেলো? তার মাথা সত্যি সত্যি এইবার হ্যাং হয়ে গেছে কাজ করছে না। ভুলভাল বকছে। মূলত একটা জিনিষ আমরা দেখার জন্য কত অপেক্ষা করি। হুট্ করে না জানিয়ে অপেক্ষার শেষ প্রহর হয়ে এসে আমাদের যখন দেখা দেই আমরাও ঠিক পাগল হয়ে যাই অনুভূতি প্রকাশ করতে পারি না। তেমনটা হয়েছে জিহানের সাথে সামিয়ার মুখে এইসব শুনে সে এখনো শকড থেকে বেরোতে পারছেনা।

সামিয়া দৌড়ে রাত্রিদের রুমে ঢুকলো। সামিয়াকে এইভাবে আসতে দেখে জারা ভ্রু কুঁচকে বললো,,,
“তোর বরের রুম ঐদিকে এইদিকে না যা বেরো।”
সামিয়া বেডে এসে বসলো বললো,,,
“তোর ভাই রুমে কাজ করবে লাইট অন করে রাখবে। এইজন্য আমি আজকে তোদের সাথে শুয়ে থাকবো।”
জারা বলে উঠলো,,
“অসম্ভব ভাবি আপনি উঠে আপনার জামাইয়ের কাছে যান।”
সামিয়া পাত্তা না দিয়ে শুয়ে পড়লো জারা কে জড়িয়ে ধরে বললো,,
“জাউড়া পাখি জাউড়া গিরি কম কর। নয়তো কোন এক জাউড়া কে ধরে বিয়ে দিয়ে দেবো।”
সামিয়ার কথা শুনে রাত্রি হেসে বললো,,,

“বাহ্ সামু বাহ্ কিয়া খেল দেখাইলি তু?”
“ঘুমা ঘুমা। তোর তো আবার পশুদিন এঞ্জেজমেন্ট।”
রাত্রি কিছু না বলে শুয়ে পড়লো জারা লাইট অফ করে বললো,,,
“নিজের জায়গায় যা। আমার দম বন্ধ হয়ে আসছে।”
“আমি কি তোর দম বন্ধ হওয়ার জন্য কিস করছি নাকি? চুপচাপ ঘুমা।”
“শালী নিজের ভাতারের গিয়ে কিস কর আমার প্রথম কিস তোকে দেবো কেন?”
“আমারো বয়ে গেছে তোকে কিস করার। সর ছেমরি চুপচাপ ঘুমা।”
“হো দেখতেই পারছি ঘুমা।”
সামিয়া আর উত্তর করলো না। দেখতে দেখতে তিনজনেও ঘুমের রাজ্যে হারিয়ে গেলো।

তিমিরে ঢাকা আঁধার কেটে ধরণীতে সূর্যের আগমন ঘটলো। পাখিরা কিচিরমিচির করে শব্দ তুলে এই গাছের ডাল থেকে ওই গাছের ডালে যেতে লাগলো। শহর জুড়ে হাল্কা ঠান্ডার আবাস বয়ে বেড়াচ্ছে। চৌধুরী ম্যানশনের ভোর থেকেই প্রতিটা সদস্য কাজে লেগে পড়েছে। তাজউদ্দিন আর সালাউদ্দিন আত্মীয়দের ফোন দিয়ে নেমন্তন্ন করতে ব্যাস্ত। জামালউদ্দিন আর রুবেল থেকে ডেকোরেশন এর কাজ করছে। সার্ভেন্ট গুলো পুরো চৌধুরী বাড়ি সহ গার্ডেন পরিষ্কার করতে ব্যাস্ত। সেলিনা আর রোজিনা মিলে সবার নাস্তার আয়োজন করছে। মেহেরিমা আর কিয়া রেডি হয়ে আছে নাস্তা করে মার্কেট করতে যাবে। সামিয়ারাও সবাই ঘুম থেকে উঠে ছোট খাটো কাজে হাত লাগাচ্ছে। রাত্রিকে নিচে নামতে দেই নি সে নিজের রুমে বসে আছে। জিহান নিচে আছে ডেকোরেশনের কাজে সাহায্য করছে সামিয়ার সাথে দেখা হলে সে কিছু জিজ্ঞাসা করার আগেই সামিয়া দৌড়ে চলে গেছে। অপরদিকে নিশান সিমিকে নিজের বুকের মাঝে মিশিয়ে জড়িয়ে ঘুমিয়ে আছে। এখন শীতকাল সে চাই না। এখন উঠে বাচ্চা সহ বাচ্চার মায়ের ঠান্ডা লাগে। সিমিও এখনো ঘুমিয়ে আছে তবে নিশান শুধু চোখ বন্ধ করে আছে। সকাল আটটা পাঁচ বাজতেই নাস্তা শেষ হলো সবাইকে খেতে দেওয়া হলো। খাওয়া শেষ করে আবারো নিজের কাজে লেগে পড়লো। কিয়া, মেহেরিমা সাথে তিহান তিনজনে শপিং করতে বেরোলো। সিমির ঘুম ভাঙলো এর মধ্যে নিশান উঠে সোফায় বসে অফিসের কাজ করতে লাগলো। সিমি উঠে বসলো দেওয়াল ঘড়ির তাকিয়ে দেখে আটটা দশ বাজে।নিশানের দিকে তাকিয়ে বললো,,

“এত বেলা হয়ে গেছে আপনি আমাকে ডাকেন নি কেন?”
নিশান কাজ করতে করতে বললো,,
“তোর কথা মতো আমাকে চলতে হবে নাকি?”
সিমি আর দ্বিতীয় বাক্য বললো না। বেড থেকে নেমে ওয়াশরুমে ঢুকলো। ফ্রেশ হয়ে বাইরে এসে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে চুলগুলো আছড়িয়ে উড়না মাথায় দিয়ে দরজা খুলতে গেলেই নিশান বলে উঠলো,,,
“চুপচাপ রুমে বস আমি খাবার আনছি।”
“না থাক আমি নিয়ে আসছি।”
নিশান ধমক দিয়ে বললো,,,
“আমি বলছি তো কথা কানে যাই না? চুপচাপ ব্লাঙ্কেট জড়িয়ে বসে থাক বেডে। আমি আনছি।”
বলে নিশান চলে গেলো। সিমি কিছু না বলেই বেডে বসলো ব্লাঙ্কেট টা গায়ে টেনে নিলো।নিশান নিচে থেকে খাবার বেড়ে আনলো। রুমে ঢুকে সিমির কাছে দিয়ে বললো,,

“মুখ বুজে সবগুলো শেষ করবি।”
সিমি আস্তে আস্তে বললো,,
“মুখ বন্ধ করে রাখলে কিভাবে খাবো?”
নিশান সোফায় বসে নিজের কাজ করতে করতে বললো,,
“ভণ্ডামি না করে চুপচাপ খা।”
সিমি এক টুকরো মুখে দিয়ে বললো,,
“আপনি খেয়েছেন?”
“তোকে প্রশ্ন হীনা খেতে বলেছি।”
সিমি উঠে আসলো নিশানের পাশে সোফায় বসে একটু রুটি আর তরকারি নিশানের মুখের কাছে ধরে বললো,,,

“বেবি বললো তার পাপার নাকি অনেক ক্ষুদা লাগছে। তাই আমি দিলাম দ্রুত খেয়ে নেন নয়তো বেবি রাগ করবে।”
” তোর লজিক তোর কাছে রেখে চুপচাপ খা এইখান থেকে যা আমি কাজ করছি।”
“আগে আপনি নেন তারপর আমি যাবো।”
“খাবো না আমি।”
“কেন?”
নিশান এইবার ধমক দিয়ে বললো,,
“আমার ইচ্ছা সর এই জায়গা থেকে।”
সিমি মুখ ভাঙিয়ে উঠে দাঁড়ালো। বেডে গিয়ে বসে নিজের মতো খেতে লাগলো আর বিড়বিড় করলো,,
“শালা বিদেশি কুত্তা, জীবনে আমার ফিলিংস বুঝলি না। ডিসগাস্টিং বিদেশি কুত্তা।”

“দেখেন ভালো ভাবে বলছি আমাকে যেতে দেন। নয়তো আমি কিন্তু পুলিশ ডাকবো।”
মেয়েটির আতঙ্কিত কণ্ঠ শুনে একটা লোক বিচ্ছিরি হেসে বললো,,,
“তুমি তো যেতে পারবেনা। আমার ভোগের বিলাস তুই। তোকে পাঁচ কোটি টাকা দিয়ে আমি কিনেছি।”
মেয়েটা ভরকালো না বরং সাহস সঞ্চয় করে বললো,,,
“আমার বাবা মা তো দূর তিন কুলের কেউ নেই। তো তোর কাছে আমাকে বেঁচলো কে?”
লোকটা বাঁকা হাসি দিয়ে বললো,,,
“অত কিছু তোর জানা লাগবে না। তুই আজ আমার ভোগ। তোর মতো মাল আজকে হাত ছাড়া করলে সারাজীবন পস্তাতে হবে।”
“বুড়ো শকুন। নড়তে পারিস না আবার আমাকে ভোগ করবি। ছুঁয়ে দেখ না আমাকে তোর চোদ্দটা বউ এর চেহারা দেখিয়ে দেবো।”

বুড়ো লোকটা মেয়েটার দিকে এগিয়ে আসলো এই অন্ধকার রুমের ভিতরে তারা দুইজন ছাড়া কেউ নেই। মেয়েটা মূলত এইখানে কাজের জন্য আসছিলো। কিন্তু হুট্ করে এমন একটা রুমের মধ্যে এই বুড়ো শুধু তাকে ঠেলে ফেলে দিলো। মেয়েটা বুড়োটাকে সাহায্য করলো উঠালো। আর তখনি বুড়োটা তার উড়না টেনে ফেলে দিলো। আর তারপর এইসব ঘটনা। বুড়োটা মেয়েটার গায়ে হাত দিতেই হিল ওয়ালা জুতো দিয়ে জোরে লাথি মারলো বুড়োটার মেইন পয়েন্ট এ। বুড়ো লোকটা মেইন পয়েন্ট ধরে চিৎকার দিয়ে উঠলো। মেয়েটা নিজের ব্যাগের মধ্যে রাখা লাল মরিচের বোতল বাহির করে বুড়ো লোকটার মুখে স্প্রে করে দিলো। বুড়ো লোকটা চিৎকার দিয়ে উঠলো। মেয়েটা বলে উঠলো,,,

“এই বুড়ো তুই আমাকে কি ভাবছিস? আমি সাধারণ মেয়ে নাকি? যে তুই ভোগ করবি আর আমি সেই ভোগের পাত্রী হবো। আমার নাম সিমরান আহমেদ। কান খুলে শুনে রাখ আমার নাম। সিমরান আহমেদ এতিম হতে পারি তবে নিজেকে রক্ষা করার শক্তি রাখি।”
এইদিকে বুড়ো লোকটা ছটফট করতে লাগলো। সিমরান পুলিশের কাছে কল লাগালো ঠিকানা বলে দিলো। পনেরো মিনিটের মাথায় পুলিশ এসে দরজা ভেঙে ফেললো। বুড়ো লোকটাকে তুলে থানায় নিয়ে গেলো সাথে সিমরান কেউ। কারন সবকিছু সিমরান নিজের ফোনে রেকর্ড করে রাখছিলো সেগুলো জবাব বন্ধী দেবে।

তুই শুধু আমার উন্মাদনা পর্ব ৪৯

থানায় সবকিছু কাজ মিটিয়ে সিমরানের বেড়িয়ে আসতে আসতে সন্ধ্যা নেমে আসলো। সিমরানের মুড অফ হয়ে গেলো। সে এইখানে যে কাজে আসছে যার খুঁজতে আসছে তার দেখা এখনো মিললো না। মন খারাপ করেই ভাড়া নেওয়া বাড়ির উদ্দেশ্য রওনা দিলো। রিক্সা উঠে নিজের ফোন চেক করলো না কোন মেসেজ কল কেউ দেয়নি। সিমরান ফোন রেখে দৃষ্টি ফেরালো রাস্তার দিকে। হুট্ করে তার চোখে কেউ আটকা পড়লো ডাক দিলো,,,,,

তুই শুধু আমার উন্মাদনা পর্ব ৫১