তুই শুধু আমার উন্মাদনা পর্ব ৫১
তাবাস্সুম খাতুন
হুট করে তার চোখে কেউ আটকা পড়লো ডাক দিলো,,
“নিশান ভাইয়া, জিহান ভাইয়া দাঁড়ান..
সিমরানের চিৎকার চলন্ত বাইকের উপরে বসে থাকা নিশান আর জিহানের কানে গেলোনা। সিমরান দ্রুত রিক্সাওয়ালা কে বললো,,,
“মামা ওই ছেলে দুটোকে দেখছেন? ওদের পিছু নেন একটু।”
সিমরানের কথা মতো রিক্সা তাঁদের পিছু নিলো। তবে ধরতে পারলোনা দূর থেকে দেখা মিললো তারা চৌধুরী মঞ্জিলে ঢুকলো। রিক্সাওয়ালা সিমরান কে নিয়ে চৌধুরী মঞ্জিলের সামনে আসলো সিমরান নামলো সামনে তাকিয়ে দুই তলা বিশিষ্ট অনেক খানি জায়গা নিয়ে তৈরী করা চৌধুরী ম্যানশন দেখলো। সাথে ডেকোরেশন গুলো।গেটে দাঁড়িয়ে থাকা দারোয়ানের কাছে গিয়ে জিজ্ঞাসা করলো,,
“আঙ্কেল বাড়িতে কোন অনুষ্ঠান হচ্ছে নাকি?”
দারোয়ান টা সরল সোজা ভাবে উত্তর দিলো,,
“হ্যা আমাদের বড়ো সাহেব এর ভাগ্নির এঞ্জেজমেন্ট কালকে।”
“ও আচ্ছা ধন্যবাদ আঙ্কেল।”
বলে সিমরান আবারো চৌধুরী ম্যানশনের দিকে তাকালো, এরপর রিক্সাতে উঠে বসলো রিক্সাওয়ালা মামাকে তার গন্তব্যেr দিকে যেতে বললো। মুখে তার হাসি লেগে থাকলেও কিছু কিছু দুঃখ যেন ছুঁয়ে দিচ্ছে সে মনে মনে বলে উঠলো,,
“ফাইনালি আমি পেয়ে গেলাম তোমার হদিস। অপেক্ষা কর আমি কালকে আসবো তোমাকে সারপ্রাইস দিতে।”
আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন
ধীরে ধীরে ধরণীতে সূর্যের তেজ কমে এলো, অন্ধকারে ছেয়ে গেলো গোটা শহর। সময়টা এখন রাত নয়টা বেজে দুই মিনিট। বাড়ির সকলে ডাইনিং টেবিলে বসে রান্না করছে। শুধু চারজন বাদে নিশান, সিমি আর জিহান, সামিয়া। তাঁদের খোঁজ করা হয়েছিল তবে দরজা অফ চারজনের রুমের, তাই সবাই খেতে বসলো ক্ষুদা লাগলে নিজেরাই খেয়ে নেবে। খাওয়ার মধ্যে জারা রাত্রিকে খোঁচা মেরে বললো,,
“কালকে এঞ্জেজমেন্ট দুইদিন পরে বিয়ে অনুভূতিটা কেমন বেবি?”
রাত্রি ফিসফিস করে উত্তর দিলো,,
“অনেক অনেক ভালো অনুভূতি, আমারো জামাই হবে আহা কি শান্তি।”
রাত্রির কথা শুনে জারা দুঃখী ভাব নিয়ে বললো,,
“আমারো কবে হবে একটা জামাই? ইসসস কি কষ্ট।”
“চান্স নিতে পারিস! আমার দেবর কিন্তু সিঙ্গেল আছে।”
জারা মুখ ভাঙিয়ে বললো,,
“তোর ওই ভীতু দেবর আমার লাগবে না।”
রাত্রি ভ্রু কুঁচকে বললো,,
“মানে?”
“ঢেঁড়সের মাথা, চুপচাপ খা।”
তারপর আর তাঁদের মধ্যে কোন কথা হলো না চুপচাপ খেতে লাগলো।
“সিমি আমি বলে ফেলেছি।”
সামিয়ার কথা শুনে সিমি ল্যাপটপ থেকে চোখ উঠিয়ে সামিয়ার দিকে ভ্রু কুঁচকে তাকিয়ে বললো,,
“কি বলেছিস? কাকে বলেছিস?”
সামিয়া লজ্জা লজ্জা ভাব নিয়ে বললো,,
“আমার ভালোবাসার কথা সবকিছু বলে দিয়েছি তোর ভাইকে।”
সানিয়ার কথা শেষ হতে সিমি লাফ দিয়ে উঠলো সামিয়াকে জড়িয়ে ধরে বললো,,
“সিরিয়াসলি সামু, তুই বলেছিস আল্লাহ আমি যে,কত খুশি হয়েছি কি বলবো তোকে?”
সামিয়া সিমিকে ধরে বললো,,
“বেয়াদব মেয়ে লাফাচ্ছিস কেন? ব্যাথা পাবি তো?”
সামিয়ার কথা পাত্তা না দিয়ে সিমি বলে উঠলো,,
“আগে বল কি কি হলো? ফার্স্ট নাইট কি হয়ে গেছে?”
সামিয়া মাথা দুপাশে নাড়ালো মানে না। সিমি ভ্রু কুঁচকে বললো,,
“তাহলে কি হয়েছে?”
সামিয়া সবকিছু বললো জিহানকে সে কিভাবে কিভাবে প্রশ্ন করছিলো। শেষে গিয়ে চুমু খেয়ে দৌড় দিসিলো। সবকিছু বলা শেষে সিমি মাথায় হাত দিয়ে বললো,,
“হায় আল্লাহ, তুই দৌড় দিলি কেন? তোর দ্বারা কিচ্ছু হবে না ধ্যাৎ।”
সামিয়া মুখ গোমড়া করে বললো,,
“আমার জায়গায় তুই থাকলে বুঝতে পারতিস।”
“যাইহোক এখন কি করবি? আজ রাতে যাবি নাকি পালাবি?”
“আমি জানিনা কিছু।”
“কি জানোস তাহলে?”
“কিছু না।”
সিমি বিরক্তি কণ্ঠে বললো,,
“বেয়াদব মাইয়া এত লজ্জা লাগে কেন তোর? অপেক্ষা কর আমি ব্যবস্থা করছি।”
বলে রুম থেকে বেরোতে গেলেই সামিয়া সিমির হাত চেপে ধরে অসহায় কণ্ঠে বললো,,
“আমি তোর বোন হয়, এমন করিস না বইন প্লিজ।”
সিমি নিজের হাত ছাড়িয়ে নিয়ে মিষ্টি একটা হাসি দিয়ে বললো,,
“বইন হস বলে তোর সব না কিছু দায়িত্ব আমার উপরে সেগুলো করা উচিত আমার।”
বলে দ্রুত রুম থেকে বেড়িয়ে গেলো। সিমি নিশানের রুমে ঢুকলো সেখানে সোফায় নিশান আর জিহান একসাথে বসে কাজ করছিলো। দরজা খোলার আওয়াজ পেতে সামনে তাকিয়ে দেখে সিমি। সিমি জিহানের উদ্দেশ্য বললো,,
“ভাইয়া আমার বোনের সাথে এমন বেঈমানি কাজটা করতে পারলে?”
নিশান জিহান দুইজনেই ভ্রু কুঁচকে সিমির দিকে তাকালো জিহান বলে উঠলো,,
“কি সেইটা?”
সিমি অসহায় ভাবে বললো,,
“আমার বোনটা এত সুন্দর ভাবে ভালোবাসা প্রকাশ করলো আর তুমি তাকে উত্তর ও দিলে না।”
সিমির কথাই জিহানের রীতিমতো কাশি উঠে গেলো। সে উঠে দাঁড়িয়ে নিশানকে বললো,,
“ভাই তুই থাক আমি যাচ্ছি, কালকে করবো কাজ।”
বলে যেতে নিলেই সিমি বলে উঠলো,,
“সামু কিন্তু আমার রুমে আছে ভাইয়া।”
জিহান আর দাঁড়ালো না রুম ত্যাগ করলো। সামিয়ার উপরে রাগ হচ্ছে স্বামী – স্ত্রীর ভিতরে পার্সোনাল কথা কি কেউ লিক করে? আর মেয়ে লিক করে বেড়াচ্ছে ছিঃ।
জিহান চলে যেতেই সিমি মুচকি হাসলো যা দেখে নিশান গম্ভীর কণ্ঠে বললো,,
“হাসছিস কেন?”
সিমি হেঁটে নিশানের পাশে এসে বসলো বললো,,,
“ভালো কাজ করলাম তাই একটু হাসি লাগছে।”
নিশান কিছু বললোনা নিজের মতো কাজ করতে লাগলো। সিমি এইবার নিশানের আরো পাশ ঘেঁষে আসলো আদুরে কন্ঠে বলে উঠলো,,
“আপনার ফোনটা একটু দিবেন?”
“ঐখানে আছে নিয়ে নে।”
নিশান দিতে রাজি হতে দেখে সিমি অবাক হলো সে ভাবছিলো দেবে না একটু জোর করবে কিন্তু না বিনা প্রশ্নহীনা দিয়ে দিলো। সিমি টি টেবিল থেকে ফোনটা হাতে নিয়ে খুললো দেখলো লক সিস্টেম সিমি বলে উঠলো,,
“লক কি?”
নিশান কাজ করতে করতেই বললো,,
“2006”
সিমি ভ্রু কুঁচকে বললো,,
“2006 সাল?”
নিশান মাথা নাড়ালো। সিমি আবারো প্রশ্ন করলো,,
“এইটা কেন?”
“এত জেনে তোর কি হবে?”
সিমি আর কোন উত্তর করলো না। সে ফোনের লক খুললো না ওয়ালপেপার এও কারোর ছবি দেওয়া না যেমন প্রতিটা ফোন নতুন কিনলে যেমন ছবি থাকে ঠিক সেইরকম। সিমি এপ্স দেখতে লাগলো সবকিছুই আছে নিশানের ফোনে। সিমি আড়চোখে নিশানের দিকে তাকালো দেখলো এখনো কাজ করছে। সিমি ধীরে ধীরে মেসেঞ্জার অপশন এ চাপ দিলো। দুঃখের বিষয় পুরো মেসেঞ্জার জুড়ে ফাঁকা মাত্র একটা আইডি সেইটা সিমির। এইটা দেখে সিমি নিশানকে আবারো প্রশ্ন করলো,,
“আপনার মেসেঞ্জার এ কেউ নেই কেন?”
নিশান জবাবে বললো,,
“মেসেজ অপশন বন্ধ করা আছে।”
“ও আচ্ছা।”
বলে সিমি ফোনটা রেখে দিলো। শখ করে ফোনটা নিয়েছিল একটু মেসেন্জার এ ঢুকে দেখবে নিশান কার কার সাথে চ্যাট করেছে? কিন্তু না কোন আইডি নেই এইটা দেখে দুঃখ লাগছে। সাথে ভালোও লাগছে এইযে কোন নারী তার নিশানকে বিরক্ত করতে পারে না সুন্দর সুন্দর কথা বলতে পারে না। খুশিও লাগছে। সিমি সোফায় মাথা এলিয়ে দিলো মুখে লেগে আছে মিষ্টি হাসি, চোখ দুটো বন্ধ করা। তার এমন রিএকশন এর মধ্যে মনে হলো কারোর গরম নিশ্বাস সম্পূর্ণ তার মুখের উপরে উপচে পড়ছে। সিমি দ্রুত চোখ খুললো দৃষ্টি ভীড়লো নিশানের গভীর চোখের দিকে। নিশান সোফার দুই পাশে হাত রেখে সিমির মুখের কাছে ঝুঁকে ভ্রু কুঁচকে তার দিকে তাকিয়ে আছে। সিমি চোখ খুলতেই বলে উঠলো,,
“এত হাসছিস কেন?”
সিমি তুতলানো কণ্ঠে বলে উঠলো,,
“ক.. কো.. কই.. হাস.. ল.. লাম..?”
“তুতলাচ্ছিস কেন?”
“এ.. মন.. এমনি..!”
“এমনি এমনি কেউ তুতলাই?”
সিমি আর তাকাতে পারলোনা নিশানের চোখের দিকে দৃষ্টি নত করে বললো,,
“আপনি একটু সরে যান।”
“কেন?”
“আমার অস্বস্তি হচ্ছে।”
নিশান শান্ত কণ্ঠে বললো,,
“তাকা এইদিকে।”
“কেন?”
“প্রশ্ন করতে বলি নি তাকা আমার দিকে।”
সিমি তাকালো। দুই সেকেন্ড তাকাতেই নিশান আচমকা সিমির নরম ঠোঁট জোড়া নিজের দখলে করে নিলো। সিমির চক্ষু জোড়া বড়ো বড়ো হয়ে গেলো। নিশান সিমির রেসপন্স না পেয়ে কামড় দিতে লাগলো, সিমির হুস ফিরলো। নিশান আবারো কামড় দিলো সিমি রেসপন্স করলো। দুই মিনিট পরে দুইজন দুইজনকে ছেড়ে দিলো। কপালে কপাল ঠেকিয়ে জোরে জোরে শ্বাস নিতে থাকলো। নিশান স্লো ভয়েসে বললো,,
“খেয়েছিস?”
সিমি মাথা দুইপাশে নাড়লো। নিশান উঠলো সিমির উড়না দিয়ে ঠোঁট মুছে বললো,,
“চুপচাপ বস আমি খাবার আনছি।”
বলে নিশান চলে গেলো। নিশান যেতেই সিমি তার পেটে হাত বুলাতে বুলাতে বললো,,
“দেখেছো বেবি তোমার পাপা তোমার মাম্মাকে কত ভালোবাসে? তোমাকেও ভালোবাসে অনেক।”
জিহান সিমির রুমের সামনে এসে দরজা নক করলো ভিতর থেকে কোন আওয়াজ আসলো না। জিহান দরজা ধাক্কাতেই খুলে গেলো সাথে। জিহান ভিতরে ঢুকে দেখে সামিয়া বেডে শুয়ে আছে ব্লাঙ্কেট মুড়িয়ে। জিহান সামিয়ার কাছে গেলো কিছু না বলে ওকে কোলে তুলে সোজা নিজের রুমের দিকে হাঁটা ধরলো। সামিয়া কেঁপে উঠলো সে ঘুমানোর নাটক করছে। লজ্জা লাগছে জিহানের মুখোমুখী হতে। জিহান নিজের রুমে ঢুকে সামিয়াকে বেডে শুয়ে দরজা অফ করে দিলো সাথে লাইট ও অফ করে দিলো। পুরো রুম জুড়ে অন্ধকার সামিয়ার ভয় লাগছে। জিহান নিজের গায়ে থাকা শার্ট খুলে ফেলে দিলো বেডে গিয়ে সামিয়াকে টেনে নিজের বুকের মাঝে আনলো শক্ত করে জড়িয়ে ধরলো। জিহানের পশমহীন বুক এইভাবে জড়িয়ে ধরাতে সামিয়া কেঁপে উঠলো। জিহান শান্ত বাণী ছুড়লো,,
“ডিসটার্ব করলে বাড়াবাড়ি হবে।”
সামিয়া যেন এইবার নিশ্বাস নিতেও ভুলে গেসে। জিহানের গরম নিশ্বাস তার মুখে পড়ছে হাল্কা কাঁপন দিয়ে উঠছে সারা দেহ। জিহান হুট করে সামিয়ার গলায় মুখ গুজলো। সামিয়ার বন্ধ হয়ে আসছে জিহান বলে উঠলো,,
“তো ম্যাডাম আমাদের পার্সোনাল কথা আর কাকে কাকে বলেছেন?”
সামিয়া বুঝলো না তাই বলে উঠলো,,
“মা… মানে?”
জিহান মাথা উচালো সামিয়ার মুখের কাছে নিজের মুখ আনলো স্লো ভয়েসে বললো,,
“আমি আমার বউ এর সাথে বেইমানি করতে চাই না ম্যাডাম তৈরী হন আমার অসহ্যকর ভালোবাসা সইতে।”
বলেই জিহান সামিয়ার ঠোঁট দুটো নিজের দখলে করে নিলো। সামিয়া স্তব্ধ হয়ে গেলো বুঝতে পারলোনা। পরোক্ষনে জিহানের উন্মাদ দেখে সে নিজেও রেসপন্স করলো। জিহান সামিয়ার গলায় মুখ ডুবালো। ছোট ছোট চুমু আর কামড়ে ভরিয়ে দিলো কানের লতিতে চুমু খেলো সামিয়া কেঁপে উঠলো। জিহান সামিয়ার কানের কাছে মুখ নিয়ে গিয়ে নেশাক্তময় কণ্ঠে বলে উঠলো,,
তুই শুধু আমার উন্মাদনা পর্ব ৫০
“ভালোবাসি ম্যাডাম আপনাকে অনেক ভালোবাসি। আপনি আমার সর্বসুখ। আপনাকে পেয়ে আমি সুখী পুরুষ।আগলিয়ে নিলাম আপনাকে আমার ভালোবাসার সাগরে।”
সামিয়ার চোখের কোন থেকে পানি গড়িয়ে পড়লো। এইটা কোন দুঃখের কান্না নয় সুখের কান্না। এইদিকে রাত আরো গভীর হতে লাগলো অন্ধকার রুমের ভিতরে দুই কপোত কপোতীর মধ্যে সম্পর্ক আরো ঘনিষ্ট হতে লাগলো।
