তুই শুধু আমার উন্মাদনা পর্ব ৫৪
তাবাস্সুম খাতুন
রাতের আঁধার কেটে ধরণীতে সূর্যের আগমন ঘটলো। শহর জুড়ে আছে কুয়াশা। হাড় কাঁপানো ঠান্ডা বাতাস বয়ে বেড়াচ্ছে শহরের অলিগলিতে। সময়টা ভোর ছয়টা বেজে দুই মিনিট…
গায়ে একটা লাল রঙের শাল জড়িয়ে চৌধুরী বাড়ির ছাদের কার্নিশে দাঁড়িয়ে আছে সিমরান। দৃষ্টি তার কুয়াশায় ঘেরা শহরের রাস্তা, অলিগলির দিকে। মাঝে মাঝে কেঁপে কেঁপে উঠছে। তবুও নেমে যাচ্ছে না ছাদ থেকে!হয়তো কারোর অপেক্ষায় আছে সে। তার ঐভাবে থাকার মধ্যেই কোন পুরুষনালীর কণ্ঠ তার কানে গেলো,
“সিমরান, তুমি এইখানে কি করছো?”
সিমরান পিছে ফিরে তাকালো। থমকে গেলো তার দৃষ্টি কতদিন দেখিনি সে এই পুরুষের মুখখানা। পরনে কালো টাউজার আর সবুজ টিশার্ট একটা কালো রঙের শাল জড়িয়ে আছে। মুখে কোন দাঁড়ির ছাপ নেই। সবে মাত্র ঘুম থেকে উঠে আসছে, এখনো চোখে ঘুম ঘুম ভাব কণ্ঠেও যেন মাদকতা ছড়িয়ে গেছে।সিমরান কে চুপ থাকতে দেখে পুরুষটি আবারো বললো,
আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন
“কিভাবে আসলে চৌধুরী বাড়িতে?”
সিমরান নিজের দৃষ্টি নত করলো, বলে উঠলো,
“আল্লাহ চোখ দিয়েছে দেখার জন্য, কথা বলার শক্তি দিয়েছে কাউকে কিছু বলা বা জিজ্ঞাসা করার জন্য, হাঁটার জন্য পা দিয়েছে, যাতে এই মূলক থেকে অন্য মূলক যেতে পারি। আর আপনাকে খুঁজে বাহির করার জন্য আমার আল্লাহ সহায় হয়েছে।”
সিমরানের কথা যেন পুরুষটির পছন্দ হলো না তাই গম্ভীরতা কণ্ঠে বললো,
“ফাজলামো বাদ দাও। কেন খুঁজে বাহির করেছো আমাকে?”
সিমরান চোখ উঁচিয়ে বললো,
“ভালোবাসি তাই।”
“কেন বাসো ভালো? আমি রিজেক্ট করেছি তোমাকে আমার কথা কানে যাই নি?”
পুরুষটির কথা শুনে সিমরান হাসলো। বলে উঠলো,
“হাসলেন আমাকে, ভালোবাসি কেন বাসি? এইসবের উত্তর একটাই আমি জানিনা। কারন কারোর প্রতি মায়া, ভালোবাসা, ভালোলাগা সবকিছু মনের কারসাজি এতে আমাদের কোন হাত নেই। সেই মন আপনাকে ভালোবাসে,আল্লাহ যদি আমাকে অঔলোকিক কোন ক্ষমতা দিতো। তবে আমি আমার বুক ছিঁড়ে আপনাকে দেখতাম কতটা ভালোবাসি আমি আপনাকে!আর রিজেক্ট করেছেন বলে কি আমি হাল ছেড়ে দেবো? মিস্টার তিহান শেখ..”
তিহান স্বাভাবিক ভাবে বললো,
“দেখ মেয়ে আমি সবসময় তোমাকে নিজের বোনের মতোই দেখেছি। এইসব আবেগ বাদ দাও এখন। এসেছো থাকো রাত্রির বিয়ে খেয়ে চলে যাবে।”
বলে তিহান চলে যেতে নিলেই সিমরান বলে উঠলো,
“একটা সত্যি কথা বলেন তো? আপনি কি কাউকে ভালোবাসেন?”
তিহান ঐখানে দাঁড়িয়েই বললো,
“যদি বেসে থাকি তবে সেইটা অন্য কেউ হবে, আশা রাখি তুমি না। এখন নিচে যাও।”
বলে তিহান চলে যেতে নিলেই সিমরান দীর্ঘশ্বাস ফেলে একটা বাক্য বলে উঠলো,
“যেইদিন আমি মরে যাবো। সেইদিন আপনি আমার কদর বুঝবেন। কারন মানুষ মরলেই তার কদর কতটুকু সেইটা বোঝা যাই।”
সিমরানের কথাতে তিহানের পা জোড়া থেমে গেলো। সিমরান এগিয়ে আসলো তিহানের সামনে দাঁড়িয়ে বললো,
“আপনি আমার উপরে বেশি বিরক্ত হয়ে পড়েছেন। যার জন্য আমাকে সয্য করতে পারেন না। ঠিকাছে আমি সিমরান আহমেদ আমার মৃত বাবা- মায়ের কসম কেটে বলছি কখনো এই আমিটা আপনার সামনে আসবে না। যদিও ভুল ক্রমে এসে পরে পালিয়ে যাবে। আপনার চোখাচুখী কখনো হবো না। তবে একটা কথা আমার মনকে আমি থামতে পারবোনা আপনাকে ভালোবাসাতে। আমার মন আমার কথা শোনে na সে নিজের মতো চলবো। ভালো থাকবেন।”
বলে সিমরান চলে গেলো নিচে তার বরাদ্ধ কৃত রুমে। তিহানের কানে এখনো যেন বাজছে সিমরানের বলা এই কথাটা মরে গেলে কদর বুঝবেন? তিহান কিছু সময় ঐভাবে দাঁড়িয়ে থেকে নিচে নিজের রুমে চলে গেলো। ভালো লাগছে না তার কিছু। সবকিছু যেন এলোমেলো। মনে হচ্ছে পুরো দুনিয়াটা সোজা থেকে উল্টিয়ে গেছে। কিন্তু কেন?
সময় বহমান নদীর মতো। চোখের পলকে চলে যাই। দেখতে দেখতে দুইটা মাস কেটে গেলো। এই দুই মাসে সবার মধ্যে কম বেশি কিছু কিছু পরিবর্তন আসছে। সিমির প্রেগনেন্সির এখন চার মাস চলছে। নিশান অফিসের কাজ সব বাড়িতে করে। বেশি দরকার পড়লে ভিডিও কল এ মিটিং করে। সবসময় সিমিকে চোখে চোখে রাখে। সিঁড়ি দিয়ে নামার সময় কোলে নিয়ে নামে। প্রতিদিন বিকালে বাড়ির আশেপাশে ঘুরতে নিয়ে যাই যেন সিমির মন ভালো থাকে। সিমির পেট একটু উঁচু হয়েছে যার জন্য নিশান অনেকগুলো ঢিলা সুতির গ্রাউন কিনে দিয়েছে সেগুলো বাড়িতে পরে। সিমির মাঝেও অনেক কিছু পরিবর্তন আসছে। বমি হয় না এখন, মাথাও ঘোরে না। তবে নানান তাল বাহানা জুড়ে দেবে সবসময় এর জন্য। যেইগুলো নিশান বিনা বাক্য ব্যায় করে মেনে নেই।
সামিয়া আর জিহানের সম্পর্ক আস্তে আস্তে গভীর হয়ে উঠেছে। ধরতে গেলে তাঁদের মধ্যে এক আত্মা দুই প্রাণ এমন এক অবস্থা। রাত্রির ও বিয়ের ডেট চলে আসছে আর দুই তিনদিনের মধ্যেই চৌধুরী বাড়ি বিয়ের সাজে সেজে উঠবে। আর জারা সে সবার দেখে আর আফসোস করতে থাকে। তবে মাঝে মধ্যে আয়ানের সাথে কথা হয় এই এমন যে, “কেমন আছেন ভাইয়া?” “আলহামদুলিল্লা ভালো তুমি?” “তোমার ভাইয়াকে আমার নামে কিছু বলো নি তো?” এইসব টুকটাক কথা হয় তাঁদের মাঝে। আর সিমরান সে এখনো আছে রাত্রির বিয়ের পরে চলে যাবে। চৌধুরী পরিবারের সাথে খুব সুন্দর ভাবে মিশে গিয়েছে সবাই তাকে আপন করে আগলিয়ে নিয়েছে কিন্তু তিহান সে নেই নি। সিমরান ও নিজের কথা রাখছে সেইদিনের পর থেকে তিহানের সামনে যাই না ভুল ভাবে চলে গেলেও দৃষ্টি নত করে রাখে। কথা বলার চেষ্টা করে না। তবে দূর থেকে দেখে ঠিকই তিলে তিলে শেষ হয়। মনে মনে একটা কথাই বাজে, এই অপেক্ষার প্রহর কি আর শেষ হবে না?
মধ্যে রাত এমন সময় সিমি ঘুম থেকে আচমকা উঠে পড়লো। সিমিকে এইভাবে উঠতে দেখে নিশান ও উঠে বসলো গালে হাত দিয়ে বললো,
“কি হয়েছে কোন সমস্যা হচ্ছে?”
সিমি নিশানের দিকে তাকিয়ে বললো,
“ক্ষুদা লাগছে আমার।”
নিশান উঠে দাঁড়ালো লাইট অন করে বললো,
“কি খাবি?”
সিমি ঠোঁট ফুলিয়ে বললো,
“ফুচকা।”
ফুচকার কথা শুনে নিশানের ভ্রু জোড়া কুঁচকিয়ে গেলো বলে উঠলো,
“এত রাতে ফুচকা কোথায় পাবো?”
“কেন আপনি বানিয়ে দেন তাই খাবো।”
“আমি ফুচকা বানাতে পারি না।”
সিমি এইবার পেটে হাত দিয়ে ন্যাকা কান্নার সুর নিয়ে বললো,
“বেবি কান্না কর না, তোমার পাপা ভীষণ পচা। আমাদের খাবার খেতে দেই না।”
নিশান ধমক দিয়ে বললো,
“ইডিয়েট কি বলছিস এইসব?”
সিমি জেদ ধরেই বললো,
“ফুচকা বানিয়ে দেন তাহলে আর কিছু বলব না।”
নিশান ফোঁস করে একটা নিশ্বাস ছেড়ে বললো,
“আচ্ছা বস আমি বানিয়ে আনছি।”
সিমি আবারো জেদ ধরলো,
“আমি যাবো।”
“কোথায়?”
“কিচেন এ আপনার সাথে।”
“অসম্ভব তুই এইখানে বসে থাক। আমি ফুচকা বানিয়ে আনছি।”
“গরম গরম না খেলে মজা লাগে না।”
সিমির পরপর কথাতে নিশান না চাইতেও রাজি হয়ে যাই। তাই সিমিকে কোলে তুলে নিজের ফোনটা হাতে নিয়ে। রুম থেকে বেড়িয়ে সিঁড়ি বেয়ে নেমে কিচেন এ গেলো। কিচেন এর কাছে নামিয়ে সিমির জন্য একটা চেয়ার আনলো। সিমিকে বসতে দিলো। সিমি চুপচাপ বসলো। নিশান কিচেন রুমে থাকা থাক গুলো থেকে খুঁজে বাহির করলো ফুচকার বোয়াম। সাথে আলু, পেঁয়াজ, ধনিপাতা, শুকনো লঙ্কা।নিজের ফোন বাহির করে ইউটুব অন করলো সেই জায়গা থেকে সার্চ অপশন এ গিয়ে ফুচকা বানানোর রেসিপি খুঁজলো একটা বাহির করে সামনে রাখলো। সিমি চোখ ছোট ছোট করে বললো,
“ইউটুব এর সাহায্য নিতে হচ্ছে আপনাকেও বাহ্ বাহ্..!”
নিশান রেসিপি দেখতে দেখতে বললো,
“শুধু নাম শুনেছি। আর ফুচকা কেমন দেখতে এইটা দেখেছি। তবে বানাতে দেখি নি আর না কোনোদিন খেয়ে তাই সাহায্য নিচ্ছি।”
“আমি বানাতে পারি। সাহায্য করি।”
নিশান ধমক দিয়ে বললো,
“একদম না চুপচাপ ঐখানে বসে থাক।”
সিমি মুখটা পাংসুটে করে বললো,
“একটা চকলেট দিবেন?”
নিশান ফ্রিজ থেকে একটা চকলেট বাহির করে সিমির হাতে দিলো। সিমি সেইটা খুলে খেতে শুরু করলো। নিশান আলু গুলো সিদ্ধ করতে দিলো। ছোট্ট স্টিলের করাই তেল গরম করে পাঁচ ছয়টা ফুচকা ছেড়ে দিলো। সিমি শুধু দেখে যাচ্ছে আর নিশান একবার ফোন তো আরেকবার করার দিকে তাকাচ্ছে। এইভাবে প্রায় পনেরোটা ফুচকা ভাজলো। এরপর শুকনো ঝাল ভাজলো। ধনিপাতা, পেঁয়াজ এগুলো ছুড়ি দিয়ে সুন্দর করে কেটে নিলো। আলু সিদ্ধ হতেই, আলু গুলো পেঁয়াজ, শুকনো লঙ্কা আর কিছু ধনিপাতা দিয়ে মাখিয়ে নিলো। এর মধ্যে সিমি বলে উঠলো,
“বাহ্ খুব সুন্দর খুব এইবার টক পানি বানিয়ে দেন তাহলে ফুচকা তৈরী হয়ে যাবে।”
নিশান তেঁতুল বাহির করলো সাথে একটা মগ সেখানে পানি দিয়ে তেঁতুল দিলো। আর অর্ধেক ধনিপাতা কুচি দিয়ে গুলতে লাগলো। সবকিছু শেষ হয়ে নিশান বেসিং এ হাত ধুতে গেলো। সিমি এখনো চকলেট খাচ্ছে নিশান আসতেই সিমি মিনমিনে সুরে চকলেট টা নিশানের দিকে এগিয়ে দিয়ে বললো,
“একটু খেয়ে দেখুন কি সুন্দর খেতে।”
নিশান সিমির দিকে তাকালো সিমির ঠোঁটে সব চকলেট লেগে আছে যা দেখে নিশান বাঁকা হাসি দিয়ে বললো,
“আমি এই চকলেট খাবো না।”
“তাহলে কোন চকলেট খাবেন?”
নিশান সিমির কাছে আসলো। সিমির কোমরের খাঁজে হাত দিয়ে টেনে তুললো সিমির একদম মুখের কাছাকাছি এসে বললো,
“এইটা আমার ব্যাক্তিগত ব্যাপার। তবে এত সময় ধরে কাজ করার পারিশ্রমিক নিয়ে নিলাম।”
বলেই নিজের শুষ্ক অধর জোড়া ডুবিয়ে দিলো সিমির চকলেট মাখা অধরে। সিমির চোখ জোড়া বড়ো বড়ো হয়ে গেলো। নিশান এক মিনিট পরে সিমিকে ছেড়ে দিয়ে সিমির জামাই নিজের ঠোঁট মুছে বললো,
“এইটা আমার ব্যাক্তিগত জিনিষ তাই কোন সাউন্ড চাচ্ছি না। চুপচাপ খেয়ে নে।”
সিমির লজ্জা লাগছে সে আবারো চেয়ার এ বসলো। মুখ বুজে খেতে লাগলো ভালো লাগছে। সিমিকে কিছু বলতে না দেখে নিশান ভ্রু কুঁচকে বললো,
“কথা বলছিস না কেন? খাওয়া যাচ্ছে না।”
সিমি মাথা তুলে বললো,
“আপনিই বললেন তো কোন সাউন্ড করা যাবে না।”
“এত বাধ্য কবে থেকে হলি তুই?”
“আমি সবসময় বাধ্য মেয়েই ছিলাম, শুধু আপনি খেয়াল করেন নি।”
নিশান আর কিছু বললোনা সিমি চুপচাপ খেতে লাগলো। একটা ফুচকা নিশানের দিকে এগিয়ে দিয়ে বললো,
“আপনি এইটা খেয়ে দেখেন।”
নিশানের সরল জবাব,
“আমি ফুচকা খাই না।”
সিমিও আর কিছু বললো না সম্পূর্ণ শেষ করলো। নিশান পানি দিলো সিমি সেইটা খেলো। খাওয়া শেষ হতেই নিশান সিমিকে কোলে তুলে নিলো।আবারো সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠতে লাগলো। সিমি নিশানের গলা জড়িয়ে ধরে বলে উঠলো,
“সত্যি কথা বলতে জীবনে প্রথম ফুচকা বানিয়েচ্ছেন অসাধারণ হয়েছে খুব ভালো লাগলো খেতে।”
নিশান কিছু বললো না সিমিকে বেডে শুয়ে দিয়ে লাইট অফ করে এসে বললো,
“কালকে থেকে বাড়ি ডেকোরেশন এর কাজ চলবে।পশুদিন বিয়ে তবে আমি যেন তোকে বাইরে বেরোতে না দেখি।”
সিমি অবাক হয়ে বললো,
“তাহলে কি আমি বিয়ে দেখবো না?”
নিশান বেডে এসে বললো,
“আমার সাথে দেখবি।”
“দেখাবেন তো? নাকি আগের বারের মতো নিয়ে চলে যাবেন?”
নিশান শুয়ে পড়লো। সিমিকে নিজের বুকে টেনে জড়িয়ে ধরে শুয়ে বললো,
“এত কথা না বলে চুপচাপ ঘুমা।”
সিমি আর কিছু বললোনা ঘুমের দেশে হারিয়ে যেতে লাগলো। এইভাবে মধ্যেরাতে সিমির বাহানা শুরু হয় এইটা সেইটা খাওয়ার। নিশান যার জন্য সবকিছু এনে রেখে দিয়েছে। নয়তো রাতে কোথায় যাবে সে? দেখতে দেখতে দুইজনেই ঘুমের রাজ্যে হারিয়ে গেলো।
রাতের আঁধার কেটে সূর্যের আগমন ঘটলো। চৌধুরী বাড়ি আবারো সেজে উঠলো বিয়ের সাজে। সকাল হতেই সবকিছু ডেকোরেশনের কাজ চলতে লাগলো। ভাইয়েরা মিলে আত্মীয় স্বজন দের দাওয়াত দিতে গিয়েছে। রুবেল রান্নার জন্য লোক ঠিক করছে। বাড়ির গিন্নিরা সবাই মিলে ছোট খাটো বাড়ির কাজ করছে।বিকালে সবাই শপিং করতে যাবে। রাতে মেহেদী অনুষ্ঠান। কালকে সকালে হলুদ রাত সন্ধ্যায় বিয়ে। সবাই কাজে ব্যাস্ত। সিমরান ছাদে স্টেজের কাছে ছিলো সেইসময় তিহান আসলো বলে উঠলো,
“পশুদিন বাড়ি যাবে নিশ্চই।”
সিমরান তিহানের দিকে না ফিরেই বললো,
“ইনশাআল্লাহ আল্লাহ যদি আমাকে সুস্থ রাখে, আমি বাড়ি ফিরে যাবো।”
তিহান একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললো,
“ভুলে গেছো তো আমাকে?”
“ভুলার মতো কি কিছু ছিলো? যে ভুলে যাবো? কথা রেখেছি। আল্লাহ বাঁচিয়ে রাখলে এই দুইদিন সেই অনুযায়ী চলে বিদায় নেবো। ”
তুই শুধু আমার উন্মাদনা পর্ব ৫৩
বলে সিমরান চলে গেলো। তিহান তাকালো সিমরানের যাওয়ার পানে। কেন জানি তার ভালো লাগে না সিমরান তার কাছে এসেও তার দিকে চোখ তুলে টাকায় না কথা বলে না। এইসব যেন তাকে পীড়া দেই। তবে কেন দেই পীড়া? বুঝতে পারে না কিছু। আর দাঁড়ালো না কাজে মনোযোগ দিলো।
