Home তুই শুধু আমার উন্মাদনা তুই শুধু আমার উন্মাদনা পর্ব ৫৭

তুই শুধু আমার উন্মাদনা পর্ব ৫৭

তুই শুধু আমার উন্মাদনা পর্ব ৫৭
তাবাস্সুম খাতুন

পুরো একটা ঘন্টা হয়ে গেলো। অপারেশন থিউটার থেকে কোন নার্স – ডাক্তার কেউ বেড়িয়ে আসলো না। হাসপাতালের ভিতরে অপারেশন থিউটার রুমের সামনে চৌধুরী পরিবার বসে আছে, কেউ হাঁটছে। সবাই নীরবে চোখের পানি ফেলছে আর আল্লাহর কাছে দোয়া করছে। এমতা অবস্থাতে সেখানে উপস্থিত হলো নিশান আর জিহান। সবার চোখে পানি দেখে নিশানের বুকটা কেমন মোচড় দিয়ে উঠলো। কোন খারাপ কিছু হই নি তো? জারা নিশান কে দেখে দৌড়ে তার কাছে এসে কান্না করতে করতে বললো,

“ভাইয়া তুমি এত দেরি করলে কেন? সিমি তোমাকে খুজছিলো।”
নিশান নিজেকে শান্ত করে বলে উঠলো,
“ইশুর কি হয়েছে? তুই কান্না করছিস কেন?”
জারার যেন কান্নার বেগ বাড়ছে। নাক টেনে বলে উঠলো,
“সিমি সিঁড়ি বেয়ে পরে গেছে। প্রচুর ব্লিডিং হয়েছে। অপারেশন থিউটার এ তার চিকিৎসা চলছে এখনো কেউ বাহির হই নি।”

আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন 

সিমি পরে গিয়েছে তার ব্লিডিং হয়েছে। এইসব কথা নিশানের কানে ঢুকতেই তার সারা শরীর কেঁপে উঠলো। কিছু সময়ের জন্য বাক-প্রতিবন্ধী হয়ে গেলো যেন সে। মাথা ঘুরে আসছে তার। ইশু তার ইশু ঠিক আছে? আর তার প্রিন্সেস সে কি আর বেঁচে নেই? নিশানের বুক ফেঁটে কান্না আসছে চোখ দুটো লাল টকটক করছে যেন বন্ধ করলেই পানি গড়িয়ে পড়বে। জিহান এসে নিশানের কাঁধে শক্ত করে হাত রাখলো। কে কাকে সামলাবে? পরিবারের কারোর অবস্থা তো ভালো না। হুট করে অপারেশন থিউটার থেকে বেড়িয়ে আসলো ডাক্তার। ডাক্তার বেড়িয়ে আসতেই নিশান দ্রুত তার কাছে গেলো। তাজউদ্দিন সহ সকলে গেলো। নিশান নিজেকে স্বাভাবিক করে বড়ো বড়ো শ্বাস নিয়ে ডাক্তার কে প্রশ্ন করলো,

“ইশু আমার ইশু কেমন আছে?”
ডাক্তার নিশানের দিকে তাকালো কিছু সময় তাকিয়ে থেকে বললো,
“রুগীর অবস্থা আউট অফ ডেঞ্জার। খুবই ভালো আছে তবে..
সিমি সুস্থ আছে এইটা শুনে সকলে খুশি হয়েও ডাক্তারের মুখে তবে শব্দ শুনে আবারো যেন সবার বুক কেঁপে উঠছে বারংবার। তাজউদ্দিন প্রশ্ন করলো,
“তবে কি?”
ডাক্তার সবার দিকে তাকিয়ে একটা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বললো,
“I am sorry.. আমরা বেবিটাকে বাঁচাতে পারিনি।”

এই বলে ডাক্তার চলে গেলো। নিশান নিজের ব্যালেন্স রাখতে না পেরে পরে যাচ্ছিলো তখনি জিহান ধরে ফেললো। নিশানের মাথা ফাঁকা হয়ে গেছে। কারোর কথা মস্তিষ্কে বহন করছে না। চারিদিকে অন্ধকার আর একটা শব্দ “তার প্রিন্সেস মারা গেছে”। পরিবারের সবার অবস্থা একই সিমিকে নিয়ে আরো বেশি চিন্তা করছে যখন শুনবে বাচ্চা টা আর নেই। তখন তার কি অবস্থা হবে? তাঁদের ভাবনার মাঝে একটা নার্স সাদা কাপড়ে মুড়িয়ে একটা বাচ্চা নিয়ে আসলো। সিমি আর নিশানের বেবি। বাচ্চাটা আনতেই ছো মেরে নিশান নিজের বাচ্চাকে কোলে নিলো।

সবাই তার দিকে তাকিয়ে আছে। বাচ্চাটার বয়স সাড়ে চার মাস। হাত – পা সবকিছু বড়ো হয়েছে মুখ ও হয়েছে তবে এখনো গঠন আসে নি মুখে। গায়ের রং লাল ফর্সা। নিশানের কথা মতো তার প্রিন্সেস হয়েছে। নিশান অপলক চাহুনি তে তাকিয়ে আছে তার প্রিন্সেস এর দিকে। মুখটা হা করে আছে জান টা বুঝি মুখ দিয়ে বেড়িয়ে গেছে। নিশান আর নিজেকে সয্য করতে পারলোনা। সবার সামনে বেবি কে কোলে নিয়ে বসে পরে হাও মাও করে কান্না করে দিলো বেবি কে বুকে জড়িয়ে নিলো। তার কান্নার আওয়াজ শুনে আশেপাশে থাকা হাসপাতালের মানুষ ডাক্তার এক জায়গায় হলো। জিহান ও বসলো কি বলে শান্তনা দেবে সে নিশানকে? পরিবারের কেউ কোন শান্তনা দিতে পারছেনা। তাদের চোখেও পানি টুইটুম্বর হয়ে আছে। নিশান বেবিকে বুকে জড়িয়ে ধরেই আর্তনাদ করে উঠলো,

“প্রিন্সেস, এই আমার প্রিন্সেস তাকাও দেখ তোমার পাপা তোমাকে ডাক দিচ্ছে।আমার কথা তুমি শুনতে পারছো না প্রিন্সেস। কেন চলে যাচ্ছ আম্মু তোমার পাপা কে এইভাবে রেখে। দেখো আম্মু তোমার পাপা কান্না করছে। তোমার পাপা আজকে ব্যার্থ পাপা। সে পারি নি তার ছোট্ট প্রিন্সেস কে আগলিয়ে রাখতে।তোমার মাম্মা কষ্ট পাবে তুমি আর নেই এইটা সে জানলে খুব কষ্ট পাবে। দেখো প্রিন্সেস চোখ খোলো।সত্যি আমি ব্যার্থ আম্মু। তোমাকে আমি দুনিয়ার আলো দেখাতে পারলাম না। নিজ হাতেই তোমাকে আমি মেরে ফেললাম। কখনো ক্ষমা করবে না আমাকে আম্মু। তবে একদম চিন্তা করবে না আম্মু তোমার পাপা সবাইকে উচিত শিক্ষা দেবে। তুমি শুনতে পারছো আম্মু। আমার আর্তনাদ কি তুমি শুনতে পারছো। আমার প্রিন্সেস তোমার মাম্মা ও তোমাকে হারিয়ে নিঃস হয়ে যাবে, যেমন আমি হচ্ছি। আমি তোমার আর তোমার মাম্মামের এই কষ্টের শাস্তি দেবো। কখনো ক্ষমা করবে না প্রিন্সেস তোমার পাপা কে।”

নিশানের আর্তনাদ গুলো হাসপাতালের ভিতরে বারবার ঝহংকার তুলছে। নিশান বেবিকে নিজের সামনে আনলো ভীষণ কষ্ট হচ্ছে তার। তার প্রিন্সেস তাকে ছেড়ে চলে গেলো। কেন কেন হলো এমন? কি দোষ ছিলো তাঁদের? যে নিষ্পাপ বাচ্চাটা চলে গেলো এইভাবে। নিশান বেবির কপালে নিজের শুষ্ক ঠোঁট চেপে ধরলো। আদর করে দিলো কানের কাছে মুখ নিয়ে গিয়ে বললো,
“ও আমার প্রিন্সেস আমি খুঁজে বাহির করবো কে এমন করেছে? আমি জানি আমার প্রিন্সেস কে কেউ সইচ্ছাই খুন করেছে। চিন্তা কর না তোমার পাপা আছে প্রিন্সেস। তুমি সুন্দর ভাবে ঘুমিয়ে থাকবে শুধু।”
বলে উঠে দাঁড়ালো। এর মধ্যে সিমিকে কেবিনে শিফ্ট করা হয়েছে। বাচ্চাটাকে কোলে নিতে তাজউদ্দিন এগিয়ে আসতেই নিশান কাটকাট গলায় বলে,

“উহুম যেইখানে দাঁড়িয়ে আছেন ঐখানেই থাকেন। আমার বেবি আমার কোলে সুরক্ষিত। আর আমার ইশুকে নিয়ে বাড়ি আসো। কোন হাসপাতালে রাখবো না তাকে। মেজো আম্মু আমার সাথে আসো আমার প্রিন্সেস কে গোসল করিয়ে কাফনের কাপড় পরিধান করে দেবে। আমি নিজ হাতে আমার বাচ্চাকে অন্ধকার কবরে রেখে আসবো।”
বলেই বেবিকে বুকে চেপে বেড়িয়ে গেলো। তার সাথে জিহান আর রোজিনা ও গেলো। বাড়ির মানুষ আর কেউ কিছু বলতে পারলোনা। হাসপাতালের বিল পরিষদ করে সিমিকে বাড়ির উদ্দেশ্য নিয়ে যাওয়া হলো। সিমির জ্ঞান ফিরতে রাত হবে। এইদিকে সেলিনা সেই থেকে সবকিছু দেখলো শার্লিন কে সে মেসেজে জানিয়ে দিয়েছিলো কাজ আলহামদুলিল্লাহ শেষ। তবে সে হয়তো আর নাও থাকতে পারে। শার্লিন রিপ্লাই দিলো থাকবি না কেন? অবশ্যই থাকবি আমার কাছে আসবি।সেলিনা আর রিপ্লাই দেই নি তাঁদের মাঝেও আর কোন কথা হই নি।

রোজিনা নিজ হাতে ছোট্ট বেবি কে গোসল করিয়ে দিলো। নিশানের কিনে আনা কাফনের কাপড় মুড়িয়ে দিলো। সবকিছু শেষ হতেই নিশান আসলো তার পরনে সাদা একটা পাঞ্জাবী মাথায় সাদা টুপি। সাথে জিহান ও আছে তারও সাদা পাঞ্জাবি টুপি। নিশান বেবিকে নিজের কোলে নিলো নিজের মন শক্ত করে বাড়ি থেকে বেড়িয়ে গেলো। বাড়ির পাশে বাগানের দিকে গেলো। চৌধুরী ম্যানশনের বাম সাইটে বড়ো আম গাছ এর পাশেই বড়ো খালি জায়গা ফেলানো আছে। সেখানে আগে থেকেই নিশান কবর খুঁড়ে রাখছে। নিশান সাদা কাফনের কাপড়ে মুড়ানো বেবিটাকে আর একবার দেখে শুয়য়ে দিলো অন্ধকার কবরের মাঝে। নিজের হাত দিয়ে কবরের মাটি দিয়ে দিলো। নিশানের চোখ থেকে পানি ঝরছে এর থেকে কষ্টের কি কিছু আছে? নিজের হাতেই নিজের সন্তান কে অন্ধকার কবরে রেখে মাটি দিয়ে যাওয়া। নেই হয়তো। এর থেকে নিশানের কাছে কাঁটা যুক্ত গাছ এনে খেতে বললেও মনে হই এত কষ্ট হতো না যা এখন হচ্ছে।নিশান মাটি সব দিয়ে দেওয়ার পরে মাটিতে মাথা রেখে বলে উঠলো,

“তুমি একদম ভয় পাবে না আমার প্রিন্সেস আমি আছি সবসময় তোমার সাথে। তুমি এইখানে থাকো আমি প্রতিদিন উহুম সবসময় এইখানে আসবো তোমাকে দেখতে কথা বলতে একদম ভয় পেও না আমার প্রিন্সেস তোমার পাপা সবসময় তোমার সাথে আছে।”
বলে উঠে দাঁড়ালো নিজের চোখের পানি মুছে বাড়ির দিকে হাঁটা ধরলো জিহান এক পলক কবরের দিকে তাকিয়ে বাড়ির উদ্দেশ্য ঢুকলো। সিমিকে মাত্র বাড়িতে আনা হলো। নিশানের রুমে আছে এখন। নিশান সোজা নিজের রুমে গেলো ওয়াশরুমে ঢুকে ফ্রেশ হয়ে ওযু করে এসে। ফ্লোরে জায়নামাজ বিছিয়ে দুই রাকাত নফল নামাজ পড়লো আল্লাহর কাছে দুই হাত তুলে দোয়া করলো তার ছোট্ট প্রিন্সেস এর জন্য। নামাজ শেষ হতে নিশান উঠে দাঁড়ালো। পাঞ্জাবি খুলে একটা টিশার্ট আর টাউজার পড়লো। সে সিমির কাছে আসলো তাকিয়ে রইলো সিমির নিষ্পাপ মুখের দিকে। কি সুন্দর নিষ্পাপ ভাবে ঘুমিয়ে আছে সে। কিন্তু যখন সজাগ হবে তখন কি এই নিষ্পাপ মুখটা আর থাকবে?

দুপুর পেড়িয়ে বিকাল। বিকাল পেড়িয়ে ঘড়ির কাঁটা গিয়ে ঠেকেছে রাত দশটা দুই এর কোটায়। আজকে চৌধুরী ম্যানশোনে হাঁড়ি চুলাই ওঠে নি। খাওয়ার ইচ্ছা নেই কারোর। যে যার রুমে শুয়ে আছে কারোর সাথে কেউ কথা বলছেনা নিজেদের মতো কি বলবে? কিছু বলার আছে? এই বাড়িতে একটার পরে একটা অঘটন ঘটেই যাচ্ছে।
নিশান বেলকুনিতে দাঁড়িয়ে কারোর সাথে কলে কথা বলছিলো। সিমির জ্ঞান ফিরলো মাত্র। সে চোখ খুললো সবকিছু ঝাঁপসা লাগছে আবারো চোখ বন্ধ করে খুললো। আস্তে আস্তে উঠে বসলো।চারিদিকে তাকিয়ে দেখলো এইটা তাঁদের রুম। সিমি বেড থেকে পা নামালো আশেপাশে তাকিয়ে দেখলো নিশান নেই।

সিমি উঠে দাঁড়িয়ে পেটে হাত দিতেই চমকে উঠলো কি ব্যাপার? তার পেট এত কমে গেলো কেন? সে তো সকালেও দেখলো উঁচু ছিলো তাহলে এখন এমন কেন? সিমি ভালো ভাবে দাঁড়িয়ে পেটে হাত বুলাতে লাগলো একদম সমান। সিমি বুঝতে পারচ্ছেনা কিছু বেডে বসে পড়লো। মাথা চেপে ধরে চাপ প্রয়োগ করতে লাগলো। মনে করতে লাগলো তার সাথে কিছু হয়েছে কি? কয়েক সেকেন্ড চাপ দিতেই সব মনে পড়লো সে সিঁড়ি বেয়ে পরে গেছিলো। তার ব্লিডিং হচ্ছিলো তার মানে। তার মানে তার বেবি কি নেই? সিমির কানে আসলো নিশানের কথা বলার আওয়াজ। সে উঠে দাঁড়ালো তার উত্তর একমাত্র নিশান জানে। সে দ্রুত পায়ে বেলকুনি গেলো নিশানের কাছে। নিশান মাত্র ফোন কেটে পিছে ঘুরতেই দেখে এলোমেলো চুল নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে সিমি তার দিকে করুন চোখে। সিমির করুন চোখ যেন নিশানের বুক টা দুই খন্ড হয়ে যাচ্ছে এ কেমন করুন চাহুনি তার? নিশান বললো,

“তুই এইখানে উঠে আসছিস কেন?”
নিশানের প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে সিমি পাল্টা প্রশ্ন করলো,
“আমার বেবি কোথায়? কি হয়েছে?”
সিমির প্রশ্নের উত্তর নিশানের জানা তবুও বলতে যেন শ্বাস কষ্ট হচ্ছে নিজেকে স্বাভাবিক করে সিমির বাহু ধরে তার চোখে চোখ রেখে বললো,
“রিলাক্স ইশু রিলাক্স। আমার কথা শুনে তুই ভেঙে পড়বি না। আমাকে শেষ করতে দিবি সম্পূর্ণ বিষয়টা।”
সিমি বুঝতে পারছেনা ভ্রু কুঁচকে তাকিয়ে আছে। নিশান একটা লম্বা শ্বাস নিয়ে বললো,
“আমাদের বেবি আর দুনিয়াতে নেই। সে এখন শান্তিময় সেই অন্ধকার কবরে শুয়ে আছে। মারা গেছে আমাদের প্রিন্সেস।আমার…

বাকি কথা শেষ করার আগেই সিমি নিশানের থেকে নিজেকে ছাড়িয়ে নিয়ে বললো,
“এ কেমন কথা আপনার? আমার বেবি বেঁচে আছে সে মরে নি। আমি জানি সে আছে আমার সাথে। ভালোই তো যত্ন করতেন এখন মরার কথা বলছেন কেন? বড্ড পচা আপনি।”
সিমির পাগলামি দেখে নিশান সিমির মাথা নিজের বুকে চেপে ধরে বললো,
“পাগলামি করিস না ইশু আমাদের বেবি বেঁচে নেই। মরে গেছে সে।”
আবারো মরার কথা শুনে সিমি নিশানকে ধাক্কা দিয়ে বললো,
“আমি কিন্তু এইবার আপনাকে খুন করে ফেলবো। বারবার আমার বাচ্চাকে কেন মরে গেছে মরে গেছে বলছেন? সে আমার শরীরে বেড়ে উঠছে কষ্ট আনন্দ সব আমার হচ্ছে আপনার তো কিছু না। তাহলে এমন কেন বলছেন। আমার বেবি বেঁচে আছে আমি জানি।”

বলে সিমি কান্না করে দিলো সে ফ্লোরে বসে পড়লো দেওয়াল এ হেলাম দিয়ে বললো,
“আমার বেবি বেঁচে আছে মিথ্যা বলবেন না। কোথায় সে? আমাকে নিয়ে যান তার কাছে প্লিজ আপনার পায়ে পরি আমি নিয়ে চলেন।”
বলে সিমি নিশানের পা ধরতে গেলেই নিশান বসে সিমিকে কোলে তুলে নিলো নিজেকে সামলিয়ে বললো,
“তুমি বেবি কে দেখতে চাচ্ছ? চলো তোমাকে নিয়ে যাচ্ছি।”
সিমি চুপ হলো। নিশান সিমিকে নিয়ে বাড়ি থেকে বেড়িয়ে গেলো। সোজা চলে গেলো তাঁদের বেবিকে যেই জায়গায় কবর দিয়েছিলো সেই জায়গায়। সেখানে গিয়ে সিমিকে নামিয়ে দিলো। সিমি আশেপাশে তাকিয়ে নিশানকে প্রশ্ন করলো,

“আমাকে এইখানে কেন আনলেন? আমার বেবির কাছে নিয়ে চলেন।”
নিশান সিমির দিকে তাকিয়ে হাত দিয়ে ইশারা করে বললো,
“ঐযে কবর টা দেখছিস? ঐখানে নিশ্চিন্তে ঘুমিয়ে আছে আমাদের বেবি।”
সিমি তাকালো। একটা ছোট্ট কবর। নিশান বারবার কি বলছে তার বেবি কি মারা গেছে? এইখানে কবর দেওয়া এইটা সত্যি তাহলে!নিশান সিমিকে নিজের দিকে ঘুরিয়ে তার কপালে কপাল ঠেকিয়ে বললো,
“নিজেকে শান্ত কর ইশু। ভেঙে পরিস না।”

সিমি কি শান্ত হতে পারবে? সে মা সে কিভাবে শান্ত হবে? সে যে তার বাচ্চাকে প্রতিনিয়ত নতুন ভাবে অনুভব করতো। কি সুখ লাগতো এইগুলো সে ভুলে যাবে এত সহজে। কিভাবে? কিভাবে শান্ত হবে সে? সিমিকে চুপ থাকতে দেখে নিশান সিমির কপাল থেকে কপাল সরিয়ে মুখে হাত দিয়ে বললো,
“রুমে চল। আমাদের বেবি এইখানে শুয়ে থাকুক চুপ করে আমরা আবার আসবো।”
বলে সিমির হাত ধরে যেতে নিলেই সিমি অস্পষ্ট কন্ঠে বলে উঠলো,
“খুনি। আপনি খুনি। আপনার খুনের জন্য আজ আমার বাচ্চা মরে গেলো। কেন খুন করেন আপনি? এই দায় আজ কে নেবে? আমার বাচ্চাকে কেন খুন করলেন নিজের হাতে? আপনি প্রথম দিনিই বলেছিলেন বাচ্চা যদি ভুল ক্রমে আসে টাকে নষ্ট করে মেরে ফেলবেন।সত্যিই মেরে ফেললেন আপনি. কি দোষ ছিলো ওই ছোট্ট বাচ্চাটার? বলেন কি দোষ ছিলো?”

সিমির কথা শুনে নিশান নিজেকে হাইপার না করে শান্ত রাখলো। কারন সে চাই না এখন রাগানিত্ব হয়ে তার ইশুকে কষ্ট দিতে। তাই সে বললো,
“হ্যা আমার দোষ সব। আমি জানি তুই নিজেকে শান্ত কর ইশু। ভেঙে পরিস না।”
বলে নিশান সিমিকে ধরতে গেলেই,সিমি কান্না করতে করতে নিশান কে ঠেলে দিয়ে বললো,,
“কাছে আসবেন না আপনি, আপনি থাকতে কেন আমার বাচ্চা মারা গেলো? কেন আমার ছোট্ট সোনা আমার কাছে আসলো না? সরে যান আমার থেকে।”
সিমির কথা শুনে নিশানের চোখ লাল হয়ে গেছে মুখের ভাব পরিবর্তন কান্না আসছে হয়তো। সিমির দুই বাহু চেপে ধরে অসহায় কণ্ঠে বললো,,

“ইশু আমার কি কষ্ট হচ্ছে না। আমার হৃদপিন্ড টা কি ঝলসে যাচ্ছে না। আমার সারা দেহ কেঁপে উঠছে। আমার কান্না আসছে ইশু কিছু ভালো লাগছে না আমার।জানবাচ্চা আমাকে জড়িয়ে ধর না শক্ত করে একটু সামান্য একটু। আমিও যে কষ্ট পাচ্ছি অনেক। আমার অস্তিত্ব যে নেই।আমার সন্তান নেই আমার সন্তান দুনিয়ার আলো দেখার আগেই বিদায় নিলো। আমার বুক টা ফেঁটে যাচ্ছে আমার এই দুই হাত দিয়ে আমার সন্তান আমার অস্তিত্ব কে কবর দিয়ে আসলাম। আমি সয্য করতে পারছি না। জানবাচ্চা আমাকে আগলিয়ে নে আমি মরে যাচ্ছি। আয় না জানবাচ্চা আগলিয়ে নে আমাকে।”

তুই শুধু আমার উন্মাদনা পর্ব ৫৬

নিশানের অসহায় কণ্ঠ যেন সিমির কানে গেলো না। সে নিজের বাচ্চার মৃত্যুর দায় দিচ্ছে নিশানের উপরে। সে মানুষ খুন করেছে বলে আজ তার সন্তান নেই। সে জোর গলায় বললো,
“আসবেন না আমার কাছে, খুনি আপনি আমার বাচ্চার খুনি। আমার বাচ্চার খু…
বাকি কথা শেষ করার আগেই। নিশানের শক্ত হাতের থাবা পড়লো সিমির বাম গালে। চিৎকার করে বললো,,,,,,,,

তুই শুধু আমার উন্মাদনা পর্ব ৫৮