তোমার ছোঁয়ায় আসক্ত আমি পর্ব ৩৭
নীল মণি
বনানীর প্রাণকেন্দ্র থেকে কিছুটা দূরে, শান্তিপূর্ণ পরিবেশে দাঁড়িয়ে থাকা আবরার জায়ন চৌধুরীর নিজস্ব দোতলা বাড়ি। এক উচ্চতর সুরুচির প্রতিচ্ছবি এই বাড়ি, যেখানে আধুনিকতার ছোঁয়া আর প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের সংমিশ্রণ ঘটেছে। বাড়িটির বাইরের গঠন যথার্থই আধুনিক, সাদা এবং কালো রঙের সংমিশ্রণে তৈরি একটি অভিজাত ভবন। মেটালিক রিমোট কন্ট্রোলড গেটের দুই কোণে স্থাপন করা হয়েছে Pa*n-Tilt-Zo**om (PTZ) ক্যামেরা।বড় অটোমেটিক গেট, পাথরের সিঁড়ি দিয়ে বাড়ির দিকে যাওয়া, সাইডে সবুজ ঘাস আর ফুলের গাছের সারি। গেটের সামনেই বড় একটি কাঁচের প্যানেল দেয়াল, যা দিয়ে বাড়ির ভিতর থেকে বাইরের সৌন্দর্য সুন্দরভাবে দৃশ্যমান। বাড়ির প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আর ভেতরের বিলাসিতা একে অপরকে সম্পূরক করে।
বাড়ির ড্রইং রুমে প্রবেশ করলেই চোখে পড়ে উদ্ভাবনী আসবাবপত্রের জগৎ সাদা মার্বেল ফ্লোরিং, কোণে বড় এক চিত্রকলা ঝুলছে, যার রঙ আর স্টাইল পুরো রুমের গুরুত্বের এক অদ্ভুত মাত্রা দেয়। সেন্টার টেবিলের ওপর রাখা বিশাল সাদা গোলানো সেন্টড ক্যান্ডেল এবং মেঝে পর্যন্ত ছড়ানো ঝরঝরে ফুলের তোড়া, ঘরের মেজাজকে আরও উচ্চতর করে তোলে।
আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন
ড্রয়িং রুমের এক কোণে রাখা ইতালিয়ান লেদারের তৈরি এল সেইফ সোফা আর সেই সোফাতেই বসে আছে তিয়াশা ,দেয়ালে রাখা বড় আয়না তার পুরো চেহারা প্রতিফলিত করছে, সেখান থেকে দেখা যায় হোমলি টপ ও প্লাজো পরা ,চুল একটু এলোমেলো, কিন্তু তাতে যেন এক মিষ্টি সৌন্দর্য লুকানো। মনে হয় যেন সে এক দুঃখ ভরা মুহূর্তকে, একসময় তার জন্য ভারী হয়ে উঠা দিনগুলোকে ভুলতে চাইছে । তখন জায়ন এর বকা
খেয়েই শাড়ি ছেড়ে প্লাজো আর টপ পরে নিয়েছিল।
পরিবারের কথা মনে পড়ছে খুব । ভীষন কষ্ট ও হচ্ছো।একদিকে শখের পুরুষের পাশে থাকার সুখ অন্যদিকে
প্রিয় আপন জনদের হারানোর দূঃখ ।
এসব মন খারাপের মাঝে
পরিবারের স্মৃতি আজ তিয়াশার হৃদয়ের দরজায় কড়া নাড়ল। ভেতরটা ভার হয়ে উঠল একদিকে সখের পুরুষের সান্নিধ্যে পাওয়া অদম্য সুখ, অন্যদিকে আপনজনদের দূরত্বের তীব্র শোক। ঠিক তখনই সিঁড়ি বেয়ে নামলো জায়ন কোমরে নিখুঁতভাবে শার্ট ইন করে রাখা ফর্মাল ট্রাউজার, কনুই পর্যন্ত ভাঁজ করা হালকা রঙের শার্ট, কব্জিতে চকচকে দামি রিস্টওয়াচ, আর ব্লেজারটা যেন অলস ভঙ্গিতে একপাশে ঝুলে আছে তার ওই কব্জিতেই।চুল গুলো জেল দিয়ে সেট করা,
তার উপস্থিতির সঙ্গে সঙ্গেই ড্রইং রুমে ছড়িয়ে পড়ল বিদেশি মেনস পারফিউমের মোহিত ফ্রেজেন্স, তা যেন মুহূর্তেই তিয়াশার অনুভূতির অন্তঃপুরে ঝড় তোলে। এই
ফ্রেগেন্স যে কবে থেকে তিয়াশার দুর্বলতা হয়ে উঠেছে, তা সে নিজেই জানে না।
তিয়াশা জায়ন কে দেখে নিজে নিজেই বিরবির করলো —
” মাশাল্লাহ তিয়াশা তোর জামাই টা বয়সে একটু বড় কিন্তু জামাই তো একদম চু’মু খাওয়ার মত ।সে একটু ঘাড় ত্যাড়া ও সরি, ভুল বললাম একটু না পুরোটাই। কিন্তু এই ঘাড় ত্যাড়া ব্যাডা এত হ্যান্ডসাম সেজে যায় কোথায় ?”
এই চিন্তা করতে করতেই তিয়াশা ধীরে ধীরে উঠে দাঁড়ালো। সে জানতেই পারলো না, তার প্রতিটি ভাব, প্রতিটি দৃষ্টিভঙ্গি কারো তীক্ষ্ণ দৃষ্টির আওতায় বন্দী হয়ে
যাচ্ছে।
হঠাৎই তিয়াশা জায়ন এর সামনে এসে দাঁড়াল জায়নের দুই হাতে কোমর জড়িয়ে, কপাল কুঁচকে চেয়ে রইলো তার দিকে ,আর চোঁখে জ্বলছে একরাশ প্রশ্নের শিখা।জায়ন চোখ তুলেই একবার তাকালো, তারপর যেন কিছুই না বোঝার অভিনয় করে পাশ কাটিয়ে যেতে চাইলো, কিন্তু সে আবারো জায়ন এর
যাওয়ার পথ আটকে দিল —
জায়নের মুখে তখন স্পষ্ট বিরক্তি। গলা শক্ত করেই বলল,
— “কি চাই?”
তিয়াশা সেই একই ভঙ্গিতে, চোখে প্রশ্নের দাবানল নিয়ে বলল–
–“কোথায় যাচ্ছেন? কি করতে যাচ্ছেন ? কেন যাচ্ছেন?”
— “তোকে জানাতে হবে?”
বলেই তাচ্ছিল্যের এক হালকা হাসি ছুঁড়ে পাশ কাটাতে চাইল। কিন্তু তিয়াশার দৃষ্টিতে তখন দৃঢ়তা, অদম্য আকুতি।
— “জী।”
— “কেন?”
তিয়াশা এবার নিজের মাটি শক্ত করেই দাঁত চেপে বলল–
— “কারণ আমি আপনার তিন বার কবুল বলা বউ। তাই আপনি কোথায় যাচ্ছেন জানার অধিকার আমার আছে।”
জায়ন মুখে একটু মুচকি হাসি মাখিয়ে বলল–
— “বিয়ের একদিন পেরোলো না, এর মধ্যেই এত জেরা মিসেস আবরার?”
তিয়াশা দৃঢ়স্বরে জবাব দিল–
— “জী।”
জায়ন থামলো না , কেবল গম্ভির স্বরে বলল—
” কিন্তু সরি মিসেস আবরার আমি গত কাল রাতেই বলে দিয়েছি আপনি স্বামীর থেকে কোন অধিকার পাবেন না।”
এই বলে জায়ন আর এক মুহূর্তও সময় নষ্ট করল না। সত্যি সত্যিই তিয়াশার পাশ কাটিয়ে সদর দরজার দিকে পা বাড়াল। পেছন ফিরে একবারও তাকাল না সে।
কিন্তু তার কথাগুলো যেন তিয়াশার বুকের ভেতর দাবানল জ্বালিয়ে দিল। রাগে গনগনে হয়ে উঠলো সে। দুই হাত শক্ত মুঠো করে দাঁড়িয়ে রইল, দাঁতে দাঁত চেপে বলল—
“আমি কি এত বড় বাসায় একা থাকবো নাকি ? আপনার স্বামীর অধিকারের ক্যাথায় আগুন ।”
তার কণ্ঠে কাঁপুনি ছিল, কিন্তু সেই কাঁপুনিতেও ছিল আগুনের তেজ।
জায়ন থামেনি। কোনো উত্তর না দিয়ে, ঠোঁটে এক নিঃশব্দ বিদ্রুপের রেখা টেনে বাইরে পা বাড়াতে শুরু করল।
কিন্তু ঠিক তখনই —
“কাঁচ!”
এক তীব্র ভাঙার শব্দ কানে এসে বিঁধল।
জায়ন থমকে দাঁড়াল। ধীরে ধীরে পেছন ফিরে তাকালো।
তিয়াশা ঠিক পাশের টেবিলের উপরে থাকা কাঁচের ফুলদানি — সেই দামি ফ্লাওয়ার ভাসটা এক টানে তুলে মেঝেতে ছুড়ে ফেলে চুরমার করেছে।
জায়নের চোখে বিদ্যুৎ চমকালো। একবার তিয়াশার দিকেই তাকাল, যেন মাপ নিল তার বউ এর মেজাজের সীমা কতদূর গিয়েছে।
তারপর চোখ ফিরিয়ে সদর দরজার লক খুলে বাইরে বেরিয়ে যাওয়ার মুহূর্তে হালকা গলায় বলে গেল—
“বাসার সব বাস আপনি ভাঙতে পারেন ।”
এই বলে ঠোঁটে হালকা ম্লান হাসি ঝুলিয়ে জায়ন এগিয়ে গেল তার কালো মার্সিডিজ গাড়ির দিকে, যেটার ড্রাইভারে সিটে এতক্ষন বসে ছিল জেমস ।
গাড়ির দরজা খুলে বসতে বসতেই গলার স্বরটা হঠাৎ করেই বদলে গেল।
এক ঝাঁজালো ধমকের সুরে বলে উঠলো—
“নেক্সট টাইম যদি তোমার সেই ‘আমেরিকান ফরমালিটিস ’ আমার বউয়ের উপর খাটাতে দেখি, নিশ্চিত থাকো, নেক্সট টাইম তুমি আর আমেরিকা দেখতে পাবে না, জেমস।”
জেমস জানত আজকের দিন তার জন্য শুভ হবে না।
কাঁপা কাঁপা গলায় বলল—
“স-সরি স্যার… আর হবে না।”
জায়ন তখন নিজের হাতে ধরা আইপ্যাডটা খুলল।
পর্দায় সিসিটিভি ফিড জুম করে দেখতেই পেল—
“তিয়াশা এখনো সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে আছে, চোখে আগুন, ঠোঁট কামড়ে ধরে গুমরে যাচ্ছে রাগে।”
দাঁতে দাঁত কেটে আঙুলে কামড় দিয়ে মুচকি হেসে বলল—
“জ্বালাবো বলেছি তো, একটু জ্বালিয়ে নিই জান…
মনে ছিলো না তখন যখন অন্য পুরুষকে ভালোবাসার
প্রতিশ্রুতি দিচ্ছিলে। আবার এত দুঃসাহস বিয়েও করতে যাচ্ছিলে ।”
হঠাৎ দেখতে পেল তিয়াশা রাগে নিজের চুল টানছে। তারপর হঠাৎ হাত পা ছড়িয়ে সোফায় গা ছুঁড়ে ফেলল।
জায়নের মুখে তখন চওড়া হাসি মনে মনে ভাবল —
” আবরার জায়ন চৌধুরীর বউ তেজ না থাকলে হয় ।”
এর মধ্যেই জায়নের ফোনটা কাঁপতে কাঁপতে বেজে উঠল।
স্ক্রিনে ভেসে উঠলো—
Sagar Calling
জায়ন একটু নিঃশ্বাস ফেলল। রিসিভ করতেই ওপাশ থেকে সাগরের সেই চেনা ঠাট্টার সুরে গলা ভেসে এলো—
“কি মামা, তোর খাট-পালঙ্ক ঠিক ঠাক রাখছোস তো? নাকি বাসর রাতেই ভাইঙ্গা ফালাইছোস?”
জায়ন চোখ বন্ধ করে এক মুহূর্ত থেমে মনে মনে বলল,
“এই সাগরকে যতই ধমক দিই, একটু চুপ থেকে আবার শুরু হয়ে যায় ওর।”
কিন্তু জায়ন এর কিছু একটা সন্দেহ হলো । গলার ভঙ্গি বুঝে বলল,
“সম্বন্ধীদের নিয়ে কনফারেন্স কলে আমার বাসরনামা শুনতে চাচ্ছিস? এবার বল, তোর বিচার কী হওয়া উচিত?”
এই কথায় সাগর খানিক হকচকিয়ে গেল।
গলাটা কেশে নিয়ে বলল,
“এইটা তো কইলাম না ভাই…”
এর মাঝেই ফোনে আকাশের কণ্ঠ শোনা গেল–
“বড় ভাই, আপনি কি করে বুঝলেন আমরা বাকি সবাই আছি? আমরা তো মিউটে ছিলাম।”
“এই বেটার চোঁখে আর কানে কিছু ফাঁকি দিবা সেটা কি আর মানা যায়।বস, আপনি সিরিয়াসলি হিউম্যান তো?”
পলাশের কথা ভেসে আসতেই —
জায়ন বলল —-
“এসব কথা বাদ দিয়ে বল তোরা সব কটা একসঙ্গে কেন ফোন করেছিস?”
এর মধ্যেই আহান বলে উঠলো —
” ভাবছিলাম আমাদের বাচ্চা ভাবির হাতের রান্না যদি একবার খেতে পারতাম , তাই আর কি ।”
জায়ন এর এবার গম্ভির কন্ঠে সোজা সাপটা কথা —
” তুই নিজেই আমার বাসার জন্য রান্নার বুয়া ঠিক করে পাঠালি আর তুই আবার বলছিস আমার বউ এর হাতের রান্না খাবি? তোর কথা বিশ্বাসযোগ্য মনে হলো না । তাছাড়া
আমার বউ রান্না পারেনা, পারলেও তোদের মত হা*রা**ম জাদা দের খাওয়াতাম না ।”
সাগর বলে উঠলো —
” শা**লা তোর মত পসেসিভ বেডা একটাও দেখি নাই, তোর বাসায় আসতে দিবি না আমাগো তাইতো ?”
” না , আমার বেড এর অবস্তা দেখতে আসতে হবে না ভাই তোদের । আমি বলে দিচ্ছি শোন এখন আরেক টা বেড অর্ডার দিতে যাচ্ছি এবার বুঝে নে আমার
বেড এর অবস্থা কি হয়েছে আর আমার বাসর এ কি হয়েছে।”
জায়নের কণ্ঠ এবার ধীর কিন্তু ব্যঙ্গাত্মক নিজেও নিঃশব্দে হাসছে । জেমস ড্রাইভ করছে কিন্তু কান এদিকেই, তার স্যার এর কথায় সেও মুচকি হেসে যাচ্ছে।
এই কথায় হঠাৎ সবাই চুপ।
একটা অস্বস্তিকর নীরবতা ফোনের ওপাশে ছড়িয়ে পড়ে।
হঠাৎ ইউভি একটু কাপা গলায় বলে–
“ভাইয়া… আমার বনুটা ঠিক আছে তো? মানে… বেঁচে আছে তো এখনো?”
জায়নের উত্তর ছিল ধারালো ছুরি সম।
“এখনো তো ঠিক আছে। কিন্তু কতক্ষণ থাকবে, বলতে পারছি না সম্বন্ধী।”
“দেখ দেখ ছোট ভাই কোন হায়**নার হাতে তোর বনু রে তুলে দিয়েছিস।”
সাগরের কথায় জায়ন এবার সত্যি সত্যিই হাসল। ঠোঁট বেয়ে বিদ্রুপ ঝরল।কিন্তু বাকি সবাই নিশ্চুপ।
তারপর বলল–
“তোদের সব প্রশ্নের উত্তর পেয়ে গেছিস। আমি রাখছি এখন।”
এই বলে জায়ন ফোন রাখতেই যাবে ঠিক তখনই আকাশ একটু কাশির ভান দিয়ে বলল–
“ভাইয়া, একটা কথা ছিল…”
“হুম, বল।”
আ আসলে আমার জলপরী একটু
তিয়াশার সঙ্গে কথা বলতে চাইছিল।
আর দেখাও করতে চেয়েছে।”
আকাশ এর কথা তে ইউভি র ও মনে পড়ল অনন্যা ও তো বলেছিল —
” ভাইয়া অনু ও দেখা করতে চাইছে।”
জায়ন একটু ভেবে বলল —
” ওদের দুজন কে পাঠিয়ে দিস কাল কিন্তু তোরা পাঁচ জন নট অ্যালাউড।
আর হ্যাঁ আকাশ ,নেকস্ট টাইম ভাবি না বলতে পারলে ওর নাম নিবি না।”
জায়ন এই বলে ফোন টা রেখে দিলো , আর কোন কথা বাড়ালো না।
দুপুর গড়িয়ে বিকেল নামতেই চৌধুরী বাড়ির চাতালে নেমে এলো এক ধরনের নরম নিরবতা। রোদটা একটু কেমন যেন হলদেটে হয়ে এসেছে, যেন সোনার চায়ের মতো ঝিম ধরা আলোয় সবকিছু গাঢ় হয়ে উঠছে।
দূরে কোথাও থেকে একটা নামাজের আজান ভেসে এলো।
মন বিষণ্ণ থাকলেও জীবনের দৈনন্দিন কর্তব্য থেমে থাকে না। রোজগারের প্রয়োজনে কাজ তো করতেই হয়। গৃহিণীরা রান্নাঘরে বিকেলের নাশতার আয়োজনে ব্যস্ত, যেন এক নীরব যুদ্ধ–চুলা, হাঁড়ি, আর মসলার গন্ধে মাখামাখি।
আয়েশা বেগম ও তাঁর পরিবার দুপুরের খাবার সেরে, ভদ্রতাসূচক বিদায় জানিয়ে,নিজের বাসায় ফিরে গেছেন–তাদের উপস্থিতির হাসি-আলাপ যেন এক মুহূর্তে নিঃশব্দ শূন্যতায় পরিণত।
আর বাকি সব মেহমানরা সকালেই ফিরে গেছেন।
আজ দিনের ব্যতিক্রম চৌধুরী বাড়ির অধিকাংশ কর্তা ব্যক্তিই অফিসমুখো হননি। কেবল তাহসান সাহেব, একমুখ গম্ভীরতা নিয়ে, অফিসে গেছেন।
ইউভি বাইরে কোথাও থেকে ফিরছিল, চৌধুরী বাড়ির গা ঘেঁষে ছেয়ে থাকা ক্লান্ত দুপুরটা তাকে গিলে ফেলতে চাইলো। গাড়ির চাবি পকেটে রেখে সে সিঁড়ির দিকে এগোতেই, হঠাৎ তার কানে ভেসে এলো বড় আম্মুর গলা–
“ইউভি বাবা…”
স্বরে ছিল এক ধরনের চাপা কাঁপন, একরাশ আহ্বান।
ড্রইংরুম তখন নির্জন। কোনো কর্তা-ব্যক্তি সেখানে উপস্থিত না থাকায়, সাহস করে মেহজাবীন বেগমই তাকে ডেকে ফেলেছিলেন। পাশে বসা ছিলেন রুহেনা বেগম ও সুরাইয়া বেগম–তিন নারীর চোখে মুখে এক অদ্ভুত রকমের অস্থিরতা, এক নিঃশব্দ সংকেত।
ইউভি বুঝে গিয়েছিল, কেন ডেকেছেন বড় আম্মু।
সেই ডাকের মধ্যে ছিলো বহু অমীমাংসিত প্রশ্ন ।
“হ্যাঁ বড় আম্মু বলো।”
ইউভির কণ্ঠে শান্ত ভরসা।
মেহজাবীন বেগম এক নিঃশ্বাসে বলে ফেললেন, গলায় চাপা কান্না —
“বাবা তুই তো জানিস জায়ন কোথায় ? আমার ঐ মাথা খারাপ ছেলেটা মেজো আম্মু কে নিয়ে এইভাবে নিয়ে বেরিয়েছে যে চিন্তায় আমাদের মাথা খারাপ হয়ে যাচ্ছে, কোথায় যে উঠলো ছেলেটা মেয়ে টাকে নিয়ে।
ঠিক আছে কিনা আমাদের একটু বলবি বাবা ।”
আঁচল দিয়ে চোখ মুছতে মুছতে মেহজাবীন বেগম তার প্রশ্নগুলো ইউভির সামনে রাখলেন।
আঁচল দিয়ে চোখ মুছলেন মেহজাবীন বেগম, তার গলার কাঁপুনি যেন পুরো ঘরে ছড়িয়ে পড়ল।
“বড় আম্মু, আম্মু , ছোট আম্মু তোমরা চিন্তা করোনা বনুরা ভালো আছে । আর ভাইয়া দেশে আসার আগেই বনানী তে একটা ভালো বাসা নিয়েছে । চিন্তা করোনা তোমরা।”
ইউভির কথায় যেন চমকে উঠলেন
রুহেনা বেগম কৌতুহল নিয়ে বললেন —
” দেশে আসার আগে মানে? ও কি ..
এর মধ্যেই ইউভি বলে উঠলো —
” আম্মু আমায় আর কোন প্রশ্ন করো না । ভাইয়া যেদিন নিজে থেকে সব বলতে চাইবে সেদিন শুনে নিও ।
এই বলে ইউভি উপড়ে চলে গেলো আর তিন বেগমের
মনে রেখে গেল সহস্র প্রশ্ন।
তিয়াশার একাকিত্বের ক্লান্ত দুপুর গড়িয়ে বিকেল গড়াচ্ছে। বিশাল বাসার নির্জনতায় যেন সময়ও থেমে আছে। নিজের ফোনটাও আনেনি, কথাও বলার কেউ নেই। জামাইটা দুপুরের আগেই কোথায় যেন বেরিয়ে গেছে, এখনো ফেরেনি। রান্নাঘরে বুয়া ব্যস্ত, নাস্তা আর রাতের খাবার একসাথে প্রস্তুত করছে।
এদিকে তিয়াশা যেন কিছুতেই স্থির থাকতে পারছে না। হঠাৎ চোখ গেল টিভির দিকে—মনে পড়ে গেল বহুদিন হলো কোরিয়ান ড্রামা দেখা হয় না। আবার কী মনে করে রান্নাঘরের দিকে এগিয়ে গিয়ে বুয়াকে জিজ্ঞেস করল–,
“আপি, তুমি কি পপকর্ন বানাতে পারো?”
বুয়া মিষ্টি হেসে জবাব দিলো–
“হয় আপামনি, আমি তো সব পারি।”
তিয়াশা যেন ছোট্ট শিশুর মতো আনন্দে লাফ দিয়ে উঠল —
“কিচেনে পপকর্ন থাকলে একটু বানিয়ে দেবে?”
কিছুক্ষণ খুঁজে রান্নাঘর থেকে ফিরে এসে বুয়া একটু দুঃখের সুরে বলল–
“পপকর্ন তো নাই আপামনি।”
এই কথা শুনে তিয়াশার মুখ কালো হয়ে গেল, আরেকবার নিঃশব্দে নিজের মতো ঘরে চলে যেতে লাগল। তবে যাওয়ার সময়ে পেছন থেকে বুয়ার কণ্ঠ ভেসে এলো–
“আপামনি, সবাই বলে আমি নাকি পিঁয়াজু খুব ভালো বানাই। একবার খাইয়া দেখেন না?”
তিয়াশার মুখে ক্ষীণ একটা হাসির রেখা ফুটে উঠল।
কিছুক্ষন হলো বুয়াও রান্না করে চলে গেছে।
পিঁয়াজু হাতে টিভির সামনে বসে পড়ল সে, নেটফ্লিক্স খুলে শুরু করল বহু প্রতীক্ষিত কোরিয়ান ড্রামা “Lovely Runner”।
ঘরের নিস্তব্ধতায় কেবল স্ক্রিনের আলো আর শব্দ, কিন্তু তিয়াশা জানে না—তার প্রতিটি মুহূর্ত, প্রতিটি অভিব্যক্তি, কোনো এক আইপ্যাড স্ক্রিনে দৃশ্যমান হচ্ছে। কেউ দেখছে, নিরবে, গভীর মনোযোগে।
হঠাৎ দরজার প্যানেলে পি পি পি শব্দ — পাসওয়ার্ড দিয়ে দরজা খুলছে কেউ। সেই চেনা পুরুষালি বিদেশি পারফিউমের ফ্রেগেন্স, মুহূর্তে বুঝে গেল তিয়াশা–তার বা””ঘের বা””চ্চা ফিরে এসেছে।
কিন্তু তিয়াশা তো সহজে ছাড়বার পাত্রী নয়, নিজের অভিমান আর রাগ মেশানো জ্বালানোর জন্য টিভির দিকেই তাকিয়ে থেকে বলে উঠল–
“”ওয়াও রিউ সুন যাই । তুমি কি কিউট জনেমান না? তোমায় দেখলেই শুধু মনে হয়, চুমু দেই জান। হায় আল্লাহ, আমায় এরকম একটা কিউট বাচ্চা জামাই দিলে না কেন? একটা বুড়ো জ””ল্লাদ জুটিয়ে দিলে।”
তিয়াশার কণ্ঠে অভিনয়, চোখে বিদ্রুপ, আর হৃদয়ে এক অদ্ভুত তৃপ্তি–কারণ জানে, পেছনে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষটা ঠিক শুনেছে সবকিছু।
হঠাৎ তিয়াশার মাথার ওপর যেন পপকর্নের বৃষ্টি নামলো!
চমকে উঠে তাকাতে না তাকাতেই, চলন্ত টিভি স্ক্রিনে ছুটে এল একটা জুতো।
“এইটা আবার কী?” — মনে মনে ভয় আর বিস্ময়ে একাকার তিয়াশা।
তারপরই–
একটা কাঠের সোফিস হঠাৎ সোজা এসে আঘাত করল টিভির ওপর।
স্ক্রিনটা কাঁচের কড়মড় শব্দে ফেটে গেল, টিভিটা নিঃশব্দে বন্ধ হয়ে গেল।
তিয়াশার বুক কেঁপে উঠল।
এতক্ষণে ব্যাপারটা পরিষ্কার হলো —
ঝড় আসছে, আর সেই ঝড়ের নাম জায়ন।
সোফার পেছন থেকে ঝড়ের মতোই হঠাৎ লাফিয়ে সামনে এসে দাঁড়াল সে।
তিয়াশার চোখের সামনে এখন দাঁড়িয়ে আছে এক ভয়ঙ্কর রূপ–
চোখজোড়া লাল, রাগে কপালের শিরা স্পষ্ট, নিশ্বাসটা যেন গর্জনের মতো কানে বাজছে।
একটা চোখও না নাড়িয়ে তাকিয়ে আছে সোজা তিয়াশার চোখে।
তিয়াশা নিজের মনে নিজেকেই গালাগালি দিতে লাগল–
“ধুর ঘুমন্ত বাঘের গায়ে গুঁতো মারার কী দরকার ছিল রে তিয়া….
তোর জামাইটা তো আর মানুষ না লো এ তো একেবারে জল্লাদ।
এমন একটা মানুষকে কি কেউ ভালোবাসে? ভালোবাসিস কেমনে তুই? আল্লায় জানে।”
ভয়ে তার গা হাত পা ঠান্ডা হয়ে যাচ্ছে।
একটা টিভিই ছিল শান্তির, সেটাও গেল।
জয়েনকে একটু শান্ত করার জন্য তিয়াশা নাটকীয় হাসি মুখে এনে খুব শান্ত স্বরে বলল,
“হি হি… আপনি… আপনি চলে এসেছেন?
টিভিটা… ভাঙলে…….”
আর কিছু বলার আগেই,
এক ঝটকায় জায়ন তাকে ধরে সোফায় শুইয়ে দিল।
তিয়াশার বুক ধড়ফড় করে উঠল, যেন এই মুহূর্তেই হার্টটা ছিঁড়ে বাইরে চলে আসবে।
তারপর, কোনো আগাম বার্তা ছাড়াই, জায়ন ঝাঁপিয়ে পড়ল তার ওপর।
তিয়াশার দুই হাতের কব্জি জায়ন এক হাতে চেপে ধরল, শক্ত করে তিয়াশার মাথার উপরে ঠেসে ধরলো।
তিয়াশা হঠাৎ নিঃশ্বাস নিতে ভুলে গেল।
আলো-আঁধারিতে জায়নের চোখে যা দেখল, সেটা রাগের আগুন ।
এ মুহূর্তে সে শুধু অনুভব করতে পারল–
এই মানুষটা একবার জেগে উঠলে, ভালোবাসুক আর ঘৃণা করুক, কিছুই আর মাঝারি হয় না।
সব কিছুই চরম।
আর সেই চরমতায় সে আজ বন্দী।
“কি কি কি করছেন ?”
কাপা গলায় বলে উঠলো তিয়াশা —
এরকম ভাবে সুয়ে থাকায় তিয়াশার ট””প সরে গিয়ে উ””ম্মুক্ত উ””দরে চোঁখ গেল জায়ন এর । কেন্দ্রবিন্দুর নিচে কালো তিলটায় এক কা””মড় বসিয়ে দিল । ‘আ””হ’
তিয়াশা ব্য”””থায় চিৎ””কার করে উঠলো। হঠাৎ জায়ন মুখ ডুবিয়ে দিল ঘা**ড়ে। পড়ল আরেক কা””” মড় ,
ব্য””থায় আবারো চিৎ””কার করল , ব্যাথার মাঝেও তিয়াশা কেন যেন অন্য এক অনুভূতি অনুভব করছে সে জানেনা, চোখের কার্নিশ বেয়ে পানি গড়িয়ে পড়ছে ।
জায়ন হঠাৎ ঘাড় ছেড়ে ঝা””পিয়ে পড়ল তিয়াশার কোমল গোলাপী
অ””ধর জোড়ার উপর। জায়ন নিজের ঠোঁ”””টের আয়ত্তে করে নিল তিয়াশার কোমল অ””ধর জোড়া ।
ব্য**থায় চোখের পানি বেরিয়ে যাচ্ছে ।
কিন্তু জায়ন এর কোন প্রতিক্রিয়া নেই । তিয়াশার স্বাস আটকে আসছে । জায়ন এর হা””তের খেলা চলছে তিয়াশার পুরো শ””রী**রে।
প্রায় দশ পনেরো মিনিট পরে জায়ন এর ঠোঁট থেকে মুক্তি পেল তিয়াশার কোমল অধর ।
ঠোঁ”””টের কোণে লেগে আছে র””ক্ত।
নরম কোমল গোলাপী পাতলা অ””ধর জোড়া, ফুলে উঠেছে ।
বৃদ্ধাআঙ্গুল দিয়ে ঠোঁটের কোনা মুছতে মুছতে জায়ন তার হিং”””স্র কণ্ঠ নিয়ে বলে উঠল —
” খুব সখ না অন্য পুরুষ কে চু””মু খাওয়ার না ? ”
জায়ন একটু ঝুঁকে তিয়াশার চিবুক টেনে বলল —
তোমার ছোঁয়ায় আসক্ত আমি পর্ব ৩৬
” আর কি যেন জানেমান না , কু”””””””র বা””””চা মুখের ক্যালেন্ডার চেঞ্জ করে দেব তোর । আমি বুড় তাই না , জ”ল্লাদ তাই না। যেদিন এই বুড় জ”””ল্লাদ ধরবে না নিজেকে বাঁ””চিয়ে দেখস ।”
এই বলে উঠে গেল তিয়াশার উপর থেকে গট গট চলে গেল সিঁড়ি বেয়ে।
এদিকে তিয়াশা ফুপিয়ে ফুপিয়ে কান্না করতে করতে চি'”ৎ””কার করে উঠলো —
” বদ””মাইস, ইব””লিস , বা”” ঘের বাচ্চা , জ””ল্লাদ রাও আপনার থেকে ভালো ….
