তোমার ছোঁয়ায় আসক্ত আমি পর্ব ৪৭
নীল মণি
শহরের কোলাহলের মধ্যে পাখির ডাক এখন বিলাসিতার মতো। জানালার ফাঁক গলে সূর্যের আলো সোজা এসে পড়ছে বিছানায়।
ইউভি রাত জেগে বোনের জন্য পায়তারা করে বেরিয়েছে , এখন গভীর ঘুমে ডুবে। এ সীর ঠান্ডায় কম্বলের ভেতর ঢুকে পেঁচিয়ে আছে ঠিক যেন পৃথিবীর সব ঘুম তার চোখে জমা হয়েছে।হঠাৎ করে ফোন বেজে উঠলো।টানা চারবার বেজে ওঠার পরেও সে চোখ খুলল না, শুধু হাত বাড়িয়ে ফোনটা হাতে নিয়ে চোখ বন্ধ রেখেই রিসিভ করল।ঘুমঘুম স্বরে মুখে হাত চাপা দিয়ে বলল, — “কোন হার** বাচ্চা এত সকালে ফোন দিচ্ছিস…”
ওপাশ থেকে গম্ভীর, চিরচেনা অথচ রাগে টনটনে গলা ভেসে এলো,
“তোর জম রে মীরজাফরের বাচ্চা!”
শব্দটা শুনেই ইউভির চোখ হুঁশ ফিরে পেল। সে যেন লাফ দিয়ে উঠে বসল, এক হাত ফোনে, আরেক হাতে
মাথা চুলকাচ্ছে।
“ভাইয়া!”
“চুপ শা**”
ইউভি জিভ কামড়ে বলল,–
আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন
“শালা না ভাই, আমি তো সম্ভন্ধী লাগি এখন তোমার।”
ওপাশে কয়েক সেকেন্ড নীরবতা, তারপর যেন আগুনের ঝাঁঝে আওয়াজ এলো–
“তোর মত মীরজাফরের বংশধর কে সম্বন্ধী বললে সম্বন্ধ শব্দটাকেই কলঙ্কিত করা হয়,কাল যখন আমার বউকে তোরা আটকে রাখলি, তখন কি সম্বন্ধের সেন্টিমেন্ট জাগেনি রে ব্যাটা?”
ইউভি মুখ চুলকাতে চুলকাতে কি বলবে বুঝতে পারল না তবুও একটু হতাশ হয়েই নিজের কথা রাখল —
“ভাই, বনু তো রাতে গেছিল… এখনো আমারে কেন দোষারোপ করতাছো?আমি ই তো নিয়ে গেলাম আর এখন আমারেই শুনাইতেছো এর জন্য বলে কারো ভালো করতে নাই ।”
” তোমার ঐ বা** উপকারে আমার রাতের ঘুম হা*রাম
হয়েছে , আর এই সকাল সকাল তোর কথা শুনতে আমার বড্ড বিরক্তি লাগছে বুঝলি , আমার নির্দয়ী বউ
টাকে ফোন দে , একটু ওর গলার আওয়াজ শুনে বুকের জ্বালা মেটাই ।”
“ভাইয়া অনেক লেট করে ঘুমাইছি একটু পরে করি,আর বনু ও হয়তো ঘুমাচ্ছ ।”
আবারো সোনা গেল জায়ন এর ভয়ঙ্কর চিৎকার, সেই চিৎকার এ ইউভি নিজের কানের পাশ থেকে ফোন টাই সরিয়ে নিল —
” তোর বোন আমার ঘুম হারাম করে , নিশ্চিন্তে ঘুমাচ্ছে? এক্ষনি আমার বউ কে ফোন দিবি , আমার জান জীবন কয়লা হয়ে যাচ্ছে এদিকে , আর তোরা ঘুমাচ্ছিস।”
ইউভি নিরুপায়। কী করবে, কিছুই মাথায় আসছে না। ভাইয়া জায়নের তাণ্ডব ঠেকাতে না পারলে তার ঘুম তো দূরের কথা, জীবনটাই এখন বিপদের মুখে। শেষমেশ নীরব হাল ছেড়ে দিয়ে বিছানা ছাড়ল, একপা দু’পা করে করিডোরের দিকে এগিয়ে গেল।
তিয়াশার রুমের সামনে পৌঁছানোর আগেই রেলিং এর পাশে থমকে থমকে দাঁড়াল।
রুমে ঢোকার আর দরকার পড়ল না, কারণ করিডোরের রেলিং পার হয়ে তার চোখ গিয়ে পড়ল নিচতলার ডাইনিং হলের দিকে সেখানে বড় আম্মু, ছোট আম্মুর সঙ্গে তিয়াশা বসে আছে। শান্ত মুখে কিছু একটা শুনছে, মাঝে মাঝে হালকা মাথা নাড়ছে, যেন কিছুতেই সে জানে না, তার এক ফোন না ধরার জন্য উপরে বসে একজন পুরুষের শরীরের সমস্ত রক্ত গরম হয়ে আছে।ইউভির মুখ শুকিয়ে গেল।
এবার ও বুঝল, সে একেবারে মহা বিপদে পড়েছে। এক তো নিজের জীবনের প্রেম ভরাডুবির দিকে হাঁটছে,বুকের ভেতর জমে থাকা ভালোবাসায় তার হৃদয়পাখি তির মেরে যাচ্ছে , অন্যদিকে এই দুই দিক থেকে চেপে ধরা ভাই বোনের ভালোবাসার মাঝে সে দুমড়ে মুচড়ে যা চ্ছে। মাথা নিচু করে, দীর্ঘশ্বাস ফেলে, সাহস সঞ্চয় করে ফোনটা কানে তুলে বলল–
“ভাইয়া… বনু তো… বড় আম্মুর পাশে বসা। চোখের সামনে বসে আছে।”
ও জানে, এই কথাটা বলার পর আরও কী ঝড় নামতে পারে ওপাশ থেকে। তবু সত্যিটা তো চাপা দেয়া যায় না। আর ইউভি সে তো এই দুই ভালোবাসার মাঝে আটকে পড়া এক নীরব, বিপর্যস্ত দূতমাত্র।
“তুই নিয়ে যা, আমার জানার দরকার নেই ওর পাশে কে বসে আছে। আমার শুধু আমার বউ চাই, এই মুহূর্তে।”
জায়নের কণ্ঠে জেদ, অভিমান আর তীব্র আকাঙ্ক্ষা মিশে এক অদ্ভুত চাপা রাগ তৈরি করছিল। তার গলায় যে ক্ষুধা তা শুধু শরীরের নয়, ভালোবাসার, ছোঁয়ার, পাশে পাওয়ার, একটা অধিকার খুঁজে ফিরে পাওয়ার ক্ষুধা। আর সেই ক্ষুধা সহ্য করার শক্তি যেন আজ আর অবশিষ্ট নেই।
” আরে ভাই বোঝার চেষ্টা করো, বড় আম্মু কোন ফোন দিতে বারন করেছে।”
তারপর একটা গা কাঁপানো শান্ত গর্জন—
“ঠিক আছে, তাহলে আমি নিজেই আসছি আমার বউকে নিতে। কেউ থামাতে পারবে না আমাকে। আমি ওকে ছাড়া আর এক মুহূর্তও থাকতে পারছি না। তুই জানিস না, এই একটা রাত আমার কাছে কেমন কেটেছে। মনে হচ্ছে হাজার বছর হয়ে গেছে এই বুকের মধ্যে সব আগুন যেন ধুঁইয়ে যাচ্ছে ধীরে ধীরে।”
ইউভি আতঙ্কে সোজা হয়ে বসল, “ভাইয়া ওইটা আধা রাত হবে , আর ভাইয়া এসেও কোন লাভ নাই, বড় আম্মু দারোয়ান চাচারে বলে রেখেছে তোমায় যেন বাসার আসে পাশে না দেখে ।”
” সব সুধে আসলে তোর কাছ থেকে ফিরত নিব মিরজাফরের বংশধর। রাখ বা**”
ওপাশে এবার এক দীর্ঘ নীরবতা। নিঃশ্বাসের শব্দও যেন ভারী হয়ে উঠল। তারপর ঠিক যেন রাগ চেপে রাখা এক গর্জনের মতো ফোনটা কেটে গেল।
ইউভি চুপ করে বসে রইল মনের মধ্যে জায়নের চিৎকার, বড় আম্মুর নিষেধাজ্ঞা, তিয়াশার নির্বাক মুখ, আর তার নিজের সেই চিরচেনা, মাঝখানে পিষে যাওয়া অবস্থাটা সব মিলিয়ে তার সকালটা এক বিশৃঙ্খল ঝড়ের মধ্যেই শুরু হলো। নিজেই মনে মনে
বলল —
” হুদাই কপাল আমার , চারিদিক দিয়ে শুধু পিসিং পিসাই চলতাসে।”
“ভাইয়া, আপামনি কই গেছে? দেখবার পায়তাসি না,”
গৃহকর্মীর কৌতূহলী কথা যেন ঘরের নিস্তব্ধতাকে ভেঙে একধরনের কঠোর বাস্তবের কথা স্মরণ করিয়ে দিল জায়নকে। তার মুখটা মুহূর্তেই একটু আরও শুকিয়ে গেল, চোখের নিচে জমা ক্লান্তি আরও ঘন হয়ে নামল। কিছু একটা গলার কাছ থেকে চেপে বসছে, যেন বুকের ভিতর জমে থাকা অজস্র না বলা কথা আর একরাশ অভিযোগ।
সে কীভাবে বলবে যে তার হৃদয়ের সবচেয়ে প্রিয় মানুষ, এক বিন্দু মায়া না দেখিয়েই তাকে পিছনে ফেলে চলে গেছে? কে বুঝবে সেই নিঃশব্দ পরাজয়ের ভাষা? কে জানবে, একজন পুরুষের ভিতরের কান্না কতটা তীব্র হতে পারে?
জায়ন এক গলা চাপা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বলল, গলা ভার করে,
“বাবার বাসায় গেছে। আমি ওপরে যাচ্ছি। ব্রেকফাস্ট বানাতে হবে না আজ। বরং এই ক’দিন রান্না করতে হবে না , শুধু বাসাটা পরিষ্কার করে চলে যেও।”
গৃহকর্মী কিছুক্ষণ চুপ থেকে আবার প্রশ্ন করল, একটু দ্বিধায়,
“তাহলে আপনি কী খাইবেন ভাইয়া?”
সেই প্রশ্নটা যেন অকারণ একটা ধাক্কা দিল তার ধৈর্যের দেয়ালে। মাথার ভিতরটা ঝাঁ ঝাঁ করে উঠল। এমনিতেই মন খারাপ, মাথার মধ্যে হাহাকার, তার উপর আবার খাবার? কিন্তু সে জানে রাগ দেখিয়ে লাভ নেই। নিজের ভেতরের সেই ক্ষুব্ধ সত্তাকে কঠিনভাবে নিয়ন্ত্রণ করে শান্ত গলায় বলল–
“বাইরে থেকে খেয়ে নেবো।”
এরপর আর এক মুহূর্তও দাঁড়াল না। ধীরে ধাপে ধাপে সে ওপরে উঠে গেল।তিয়াশার রুমে প্রবেশ করতেই যেন একটা অদ্ভুত শূন্যতা ছড়িয়ে পড়ল তার মনে। দরজা বন্ধ করে একদৃষ্টে তাকিয়ে রইল সেই কাবার্ডটার দিকে, যেখান থেকে তিয়াশা প্রতিদিন নিজের পছন্দের শাড়ি বের করত, চুল আঁচড়াত, পারফিউম লাগাত। আজ সেখানে স্তব্ধতা।
জায়ন কাবার্ড খুলে, তিয়াশার একটি জামা বের করল ,জামাটা বুকের কাছে নিয়ে এল, শক্ত করে জড়িয়ে ধরল, যেন ওই পাতলা কাপড়ের গন্ধে একটু হলেও প্রশান্তি মিলবে।
বিছানায় গিয়ে এলিয়ে পড়ল সে।তিয়াশার গায়ের গন্ধ এখনো লেগে আছে জামাটায়, লেগে আছে এই ঘরের বাতাসে। কিন্তু মানুষটাই নেই।চোখ বন্ধ করতেই যেন মাথার মধ্যে ঘুরপাক খেতে লাগল সব পুরোনো স্মৃতি–
তিন বছরের ভুল বোঝাবুঝি, অবহেলা, রাগ, প্রতিশোধ।আজ যখন সব ঠিকঠাক হতে যাচ্ছিল, তখন নিয়তির এমন নিষ্ঠুর খেলা সে কিছুতেই মেনে নিতে পারছে না।
“সব ঠিক থাকলে… আজ এই ঘরে শুধু কাপড়ের গন্ধ থাকত না, থাকত আমার ব্লাড লাইনের কাঁদুনি, থাকত ওর গায়ের মিষ্টি গন্ধ… থাকত আমাদের দুইজনের একসাথে ঘুমিয়ে পড়ার নিঃশ্বাস। আজ সেই স্বপ্ন কেবল জামার ভাঁজে জমে থাকা ঘ্রাণ হয়ে আছে…”
সে জানে না আর কতটা কষ্ট বুকে চেপে রাখা যায়।
সে জানে না এই আট দিন কি করে পার হবে। সারা রাত চোখের পলক বুঝতে পারেনি সে ঘুমাতে চায়।চোখ বন্ধ করল।একটু পরেই সমস্ত ব্যথা, অভিমান, ক্লান্তি আর প্রেমের ভার নিয়ে অজান্তেই ঘুমের দেশে পাড়ি দিল আবরার জায়ন চৌধুরী।তিয়াশার গন্ধমাখা সেই জামাটার ভিতরেই সে খুঁজে নিল কিছুটা শান্তি।
“পাখি, একটা ছোট্ট বিষয় নিয়ে… আমার আর ভালো লাগছে না।তুই কেন আমার সঙ্গে এমন করছিস?”
ইউভির গলায় হালকা কম্পন,
“বলেছি তো তোকে, আর কক্ষনো মিথ্যে বলবো না। তাও বিশ্বাস করিস না?”
ছাদের কার্নিশ ঘেঁষে অনন্যা চুপচাপ দাঁড়িয়ে আছে, চোখ অন্য দিকে ফেরানো।
তার ঠিক সামনেই দাঁড়িয়ে ইউভি অস্থির, ব্যাকুল।
অনু আসলে কাপড় তুলতে ছাদে এসেছিল, আর সেই সুযোগটাই ইউভি লুফে নিয়েছে।
কেউ কিছু বুঝে ওঠার আগেই সবার চোখ কে ফাঁকি দিয়ে সে ছাদে উঠে পড়েছে–
এই একান্ত মুহূর্তে, অনুর সঙ্গে মুখোমুখি দাঁড়িয়ে কথা বলার প্রয়াসে।
সে ধীরে এগিয়ে এসে অনুর হাতটা ধরে নিজের কাছে টেনে নিলো, গলা নিচু করে বলল,
“পাখি, প্লীজ… আর এমন রাগ করিস না,
তোকে ছাড়া সবকিছু ফাঁকা ফাঁকা লাগে… আমি ভীষণ কষ্টে আছি, অনু।”
তবুও অনু মুখ ঘোরানো। কিন্তু তার চোখের কোণে জমে থাকা নরম জলরেখাগুলো,
বলে দিচ্ছে, কথা সে শুনছে… খুব ভালো করেই শুনছে।
তারপর, অনু ধীরে মুখ ঘুরিয়ে ইউভির চোখে চোখ রাখলো,চোখে ছিল অভিমান, ঠোঁটে হালকা কটাক্ষের ছায়া।মৃদু কণ্ঠে বলল–
“জায়ন ভাই কে দেখেছেন? কী পাগলামি না করছে আপুর জন্য…এক রাতও সহ্য করতে পারছে না, ফোন, চিৎকার, বাড়ি আসা সব কিছু করছে নির্দ্বিধায়।
আর আপনি?সবসময় ভীতুর ডিম হয়ে থাকেন।
ভালোবাসেন তো, কিন্তু লুকিয়ে রাখেন।ভয় পান, কে কি বলবে, কে দেখবে।ভালোবাসা যদি বুক চিতিয়ে বলা না যায়, তাহলে সেটা ভালোবাসা না সেটা একটা ছায়া।”
অনুর কথা শুনে ইউভি চোখ বড় বড় করে অনুর দিকে তাকাল, যেন হুট করে কেউ কানে এসে ফিসফিস করে বলে গেছে–“তোর প্রেমিকা এখন রোমান্টিক ফিল্মের স্ক্রিপ্ট রাইটার”
অবাক হয়ে মিনিট দুয়েক চুপ করে দাঁড়িয়ে থেকে শেষে ভ্রু কুঁচকে হালকা বিরক্ত স্বরে বলে উঠল–
“পাখি, তুই ছিলি তো ওই নাইট ক্লাব যাওয়া নিয়ে রেগে, সেটা নিয়ে ঝগড়া করে, নাটক করে আমাকে আধা ঘণ্টা বোবা বানিয়ে রাখলি, এখন হুট করে এই ‘জায়ন ভাইয়া কতটা পাগল’ থিওরি কোথা থেকে ঢুকালি? মানে… আমার মাথা ঘুরতেসে, এইটা প্রেমের রাগ না ‘রাতের খাবারে লবণ কম পড়েছে’ টাইপের রাগ, সেটাও এখন বুঝতে পারছি না,একদিকে তুই ডিজে গানের তালে নাচতে চাস, অন্যদিকে তুই চাইস আমি ছাদে উঠে গলা ছেড়ে চিৎকার করি, “পাখি আমার পাখি শুধু আমার!” মানে এটা কোন লেভেলের ডিমান্ড, বলত? আমি প্রেম করতেছি না, যেন ভাই একসাথে একসাথে চারটা সাবজেক্টে পরীক্ষা দিচ্ছি”
এই বলে ইউভি হাঁপাতে হাঁপাতে একদম ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে অনুর মুখের দিকে তাকিয়ে থাকে…
আর অনু শুধু ঠোঁট ফুলিয়ে ঘাড় ঘুরিয়ে বলে,
“হ্যাঁ, ঠিকই ধরেছেন। প্রেম এখন এম.সি.কিউ না, ফুল স্ক্যানিং ওয়ার্টি পরীক্ষা।”
এই বলে অনু মুখ বাঁকিয়ে চলে গেলো —
আর ইউভির মাথার ওপর তখন সত্যি সত্যিই এক imaginary পাখি উড়ে গেল—
ইউভি ভেতরে ভেতরে এমনভাবে দীর্ঘশ্বাস ফেলল, যেন মাথার উপর একটা অদৃশ্য প্লাস্টিকের টব এসে পড়েছে, আর সেই টবভর্তি অনুর না-বলা কথা।
মনে মনে গজগজ করতে লাগল–,
“মেয়ে দের মন বুঝবে এমন কোন হা**লার পুত এই দুনিয়ায় জন্মায় নাই। যদি কেউ বলে ‘আমি বুঝি’, ওরে NASA পাঠাইয়া মহাকাশে পাঠানো উচিত কারণ ও অলরেডি মানবজাতির বাইরে।”
এরপর আবার অনুর যাওয়ার দিকে তাকিয়ে নিজের মনে যোগ করল—
“এই মাইয়ারে একটা সময় বলছিলাম–‘তুইই আমার শান্তি’। এখন মনে হচ্ছে, শান্তির মা জগৎ ছেড়েছে।”
দেখতে দেখতে তিনটা দিন কেটে গেল।
তিনটা দীর্ঘদিন, তিয়াশার জন্য যেন বছরের মতো মনে হচ্ছিল।আর জায়নের কাছে প্রতিটা মুহূর্ত যেন বিষের ফোঁটা।কোনোভাবেই সে তিয়াশার সাথে যোগাযোগ করতে পারছে না। না কল, না মেসেজ যেন সমস্ত পৃথিবীর সঙ্গে তার স্ত্রীর সমস্ত সেতুবন্ধন ছিঁড়ে গেছে।
মেহজাবীন বেগম সরাসরি বলে দিয়েছেন এই কয়েকটা দিন তাদের একেবারে আলাদা থাকতে দিতে।তবে সেটা শাস্তির জন্য নয় বরং জায়ন যেন নিজের মনে একটু স্থির হতে পারে, তার অনুভূতি গুছিয়ে নিতে পারে, সেই উদ্দেশ্যে।
কিন্তু কেউ জানে না, আসলে এই আলাদা থাকা–
জায়নের হৃদয়ে আগুন লাগিয়ে দিচ্ছে,আর তিয়াশার বুকের ভেতর একটা কষ্টের পাহাড় গড়ে তুলছে।
তিনদিন ধরে স্বামীর মুখটা দেখেনি সে।না কোনো চোখের ভাষা, না গলার সুর সবটাই যেন শূন্য এখন।
রাতের বেলায় বিছানার কোণায় চুপ করে বসে থাকে নিজের বালিশটা বুকে চেপে ধরে।
কিন্তু না, এই তিনদিনে একটা বারও সেই অস্তিত্বটা ছুঁয়ে দেয়নি তাকে।
অথচ আগে তো এমনটা হতো না। ।সেই অদ্ভুত মায়া, সেই নরম অথচ প্রখর অধিকার,এই তিনদিনে হারিয়ে গেছে যেন। তিয়াশা নিজেও বুঝে উঠতে পারছে না এই অনুভবটা কেন এত টানছে তাকে?বিয়ের পর ভালোবাসা এমন করে শরীরের ভেতর গেঁথে যায় বুঝি?এই অনুভবটাই কি বিয়ের বাঁধন?এই অভাবই কি ভালোবাসার চূড়ান্ত ছোঁয়া?
একটা নিঃশব্দ প্রশ্ন সব সময় তার মনে বাজে
“আপনি রাগ করে আছেন, তাই না? কিন্তু আমি তো এখন খুব একা… আপনাকে ছাড়া।”
এইদিকে চৌধুরী পরিবারে বিয়ের তোরজোড় চলছে সমান তালে।
ঘরজুড়ে সাজ সাজ রব, শাড়ি গয়নার প্যাকেট, প্যান্ডেল, কোরিওগ্রাফি রিহার্সাল সব মিলিয়ে যেন উৎসব।কিন্তু এই উৎসবের মাঝেও কেউ বুঝতে পারে না যে, এই বাড়ির ছোট নববধূটা তার স্বামীর জন্যে কতটা ছটফট করছে ভিতরে ভিতরে।
অন্যদিকে, আকাশ আর আরোহীর দিন একেবারেই রঙিন।সেদিনের সেই প্রপোজ এর পর থেকেই আরোহী যেন একদম বদলে গেছে।যে মেয়ে আগে আকাশের সাথে ঝগড়া না করে থাকতে পারতো না, সব সময় ঝাড়ু দিয়ে কথা বলত, সে এখন এমনভাবে নরম হয়ে গেছে যে, আকাশ নিজের চোখকেই বিশ্বাস করতে পারে না।তাদের সম্পর্ক এখন যেন কোনো রূপকথার গল্প।হাত ধরে ঘোরা, ক্লাস ফাঁকি দিয়ে ঘুরতে যাওয়া, স্বপ্নের মতন।পড়াশোনা ডগায় উঠলেও, একে অপরের মাঝে হারিয়ে যাওয়া যেন তাদের সবচেয়ে প্রিয় বিষয়।
তবে এদিকে পরি একা।
হঠাৎ করে যেন পুরো গ্রুপ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।
ভার্সিটির করিডরে সে এই কদিন একাই হাঁটে, একাই ক্যান্টিনে বসে।ক্লাসের পর আর কারো জন্য অপেক্ষা করে না।তিয়াশা নেই,আরোহী নিজেদের জগতে, আর তিয়াশার তো ফোনও নেই।এই নিঃসঙ্গতা পরির মেজাজ খারাপ করে দিচ্ছে দিনকে দিন।
জায়ন এই কয়েকদিন ধরে একপ্রকার নির্বিকার হয়ে বসে আছে। বাইরের জগতে আলো ঝলমলে বিয়ের প্রস্তুতি, অথচ তার নিজের ভেতরের মনটা যেন নির্জন মন্দির শুধু স্তব্ধতা আর অনুপস্থিতির বিষাদ।
কেউ জানে না, এই মানুষটা আজ তিন দিন ধরে নিজের স্ত্রীর গলার আওয়াজ পর্যন্ত শোনেনি, তার চোখের একটুখানি চাহনি পায়নি। ফোন নেই, যোগাযোগ নেই এ যেন বিয়ে নয়, বরং এক অসমাপ্ত ভালোবাসার পাঠ।
মন খারাপের দোলাচলে বসে থাকা জায়ন বেছে নিলো তা অসভ্য সিনেমা কালেকশন থেকে একটা “365 Days”। নিজে যেমন ঠিক মুভী আর নভেলস কালেকশন ও ঠিক তেমনই।
“জীবনে যখন বাস্তবের রোম্যান্স নাই, তখন সিনেমার রোম্যান্সই ভরসা।”
মুভির চরম দৃশ্য চলাকালীন হঠাৎ করেই ডোরবেল বাজলো।জায়নের চোখে খুশির ঝিলিক, মনে পড়লোসেদিন তার ‘কিটি ক্যাট’ এসেছিল। আজও যদি সে এসে থাকে?এই আশায় সোনালী প্রত্যাশা নিয়ে দরজার দিকে ছুটে গেল।
কিন্তু দরজা খুলতেই মুখের হাসি হাওয়া সামনে দাঁড়িয়ে আছে ছয় বিরক্তিকর আত্মীয়-বন্ধু কম্বো আহান, সাগর, পলাশ, ইউভি, আকাশ এবং সাথে ছায়ার মতো লেপ্টে থাকা জেমস।
জেমস এখন প্রায় এদেরই একজন হয়ে গেছে। স্যারের কাজ নেই মানেই অ্যাসিস্ট্যান্টেরও অলস ঘুরে বেড়ানো।
জায়নের মুখে বিরক্তি জমে উঠলো। দাঁতে দাঁত চেপে বলে উঠলো,
“তোরা সবাই একসাথে এখানে? আমি কি দানাপানি দিচ্ছি নাকি?”
সবাই এমনভাবে পাশ কাটিয়ে রুমে ঢুকে পড়লো যেন এই বাড়ির মালিক জায়ন নয়, ওরাই।শুধু জেমস দাঁড়িয়ে, দ্বিধাগ্রস্ত।জায়ন ভ্রু কুঁচকে বললো
“ফর্মালিটি বাদ দিয়ে ঢুকে পড়ো, আমাকে উদ্ধার করো এই বেঁচে থাকার নাটক থেকে।”
জেমসও ঢুকে পড়ল। জায়ন কোমরে হাত দিয়ে সামনে গিয়ে দাঁড়িয়ে প্রশ্ন করলো—
“আচ্ছা তোরা কি আগে আমার থেকে পারমিশন নিয়েছিলি যে আসবি কিনা? এভাবে হঠাৎ চলে এলি কেন?”
কিন্তু কারো কানে যেন কথাগুলো ঢুকলো না।
তাদের দৃষ্টি টিভি স্ক্রিনে স্থির আর মুখে অদ্ভুত এক অভিব্যক্তি।
জায়ন দৃষ্টিপাত করতেই দেখলো, টিভির পর্দায় চলছে “365 Days”এর সেই বিখ্যাত সিন যা দেখে পাড়ার চাচি পর্যন্ত ঘোমটা টেনে বলবে নাউযুবিল্লাহ।
জায়ন দ্রুত গিয়ে টিভি বন্ধ করে দিলো সে।
সাগর ততক্ষণে চোখ ওইদিকেই রেখে বলে উঠলো
“আরে ভাই বন্ধ করলি কেন? চালা না, আমরাও একটু শেখা টেখা করি।”
পলাশ সঙ্গে সঙ্গে যোগ দিলো—
“আমরা তো এখন বাবা , আমাদের শেখার আর কিছু নাই। শিখুক তারা যারা এখনো সিঙ্গেল।”
আকাশ মুচকি হেসে বললো—
“জায়ন ভাই তো বিয়ে করেও একেবারে নিরামিষ জীবন কাটাচ্ছে। ওনার জন্যই তো শেখাটা দরকার। সবই আছে, শুধু কাজের কাজটা নাই।”
এই কথা শুনে সবাই হেসে উঠলো।
কিন্তু জায়নের চোখে রাগের আগুন, ঠোঁট শক্ত করে দাঁতে দাঁত চেপে বললো–
“তোদের কাজ শেষ হলে এবার বিদায় হ একটু শান্তি পেতে চাই।”
কিন্তু আহান জায়ানের দিকে না তাকিয়েই একরকম হালকা হেসে বলল–
“হ্যা রে জায়ন, তুই কি এইসব দেখে শান্তি পাশ, না কি তোর নতুন বাসরের জন্য আইডিয়া নিচ্ছিস নাকি রে?”
জায়ান একটু তাচ্ছিল্যের হাসি চেপে মনে মনে গম্ভীর স্বরে বলল —
“যার বাসরই জোটে না, তার আবার নতুন বা পুরোনো হাস্যকর…”
তবু মুখে কিছু লুকাল না, শান্ত স্বরে সে বলল—
“আমার বউ আমার জন্য ড্রাগ, … এইসব দেখে শেখার কিছু নেই। আমি যা জানি, তা ও নিতে পারলে হয়।”
এই কথা শুনে পাশে বসা ইউভি যেন একঝটকায় নিজের গলা পরিষ্কার করে কাশল ,নিজের আদরের বোনকে নিয়ে এইভাবে ঠোঁটকাটা মন্তব্য… মাথা নিচু করে বসে থাকাই ভালো ভাই রে ভাই, মানুষ কবে জিভ সামলানো শিখবে?
তারই মাঝে হুট করে পলাশ ইউভির দিকে তাকিয়ে বলে উঠল —
“ছোট ভাই, বিয়ে ক্যান্সেল কর, তোর বোন রে বাঁচাতে চাইলে, তাই তো ভাবি, ভাবি দিন দিন শুকায়ে কাঁটা হইয়া যাইতেছে, কিছু একটা তো কর।”
এই কথা শুনে জায়ানের চোখ যেন মুহূর্তেই লাল হয়ে উঠল, কপালের শিরা দপদপ করতে লাগল।তার চোখের ভাষা থেকে হঠাৎ এক তীব্র উত্তাপ ছড়িয়ে পড়ল চারদিকে ঘরে নিস্তব্ধতা, যেন কেউ শ্বাস নিতে ভুলে গেছে।
পলাশের মুখ শুকিয়ে গেল, মনে মনে বলল —
“আল্লাহরে… কি বললাম আমি? শুধু একটু মজা… এইবার মনে হয় জান যাবে।”
জায়ান ক্ষেপে আগুন হয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ল পলাশের দিকে, দু’হাত দিয়ে কলার চেপে ধরে ফিসফিস করে গর্জে উঠল,
“আমার বউকে কোথায় দেখেছিস তুই? দেখেছিস যখন, এত খুঁটিয়ে দেখেছিস যে শুকিয়ে গেছে বলছিস? তোর চোখ তুলে ফেলব আজ।”
চারপাশে সবাই ছুটে এসে টানাটানি শুরু করল, জায়ানের হাত ছাড়ানোর আপ্রাণ চেষ্টা।
পলাশ নিজের গলা ছাড়াতে ছাড়াতে কাঁপা গলায় ফিসফিস করল–
“ভাই… আমি তোর বউরে দেখি নাই ভাই… কসম… মজা করছি… ছাইড়া দে ভাই, আমি আর করব না।”
আহান তখন আর সহ্য করতে না পেরে চিৎকার করে উঠল—
“জায়ন তুই কি পুরো পাগল হইয়া গেছিস?”
সাগর পেছন থেকে ঠোঁট বাঁকিয়ে হেসে ঠাট্টা করল–
“আগে ছিল হাফ পাগল… এখন বউ গেছে বলে ফুল পাগল হইছে। মামা, এইসব পাগলের লগে চলা রিস্কি রে চোখের পলকে রাগে আগুন।”
জায়ান ধীরে ধীরে পলাশের কলার ছেড়ে দিলেও গলার স্বর যেন ধাতব হয়ে উঠল —
“আমার বউ নিয়ে কেউ মুখ খুলবিনা… মজা তো দূরের কথা। আমার বউ আমার গর্ব… আর যার জন্য রক্ত ছুটে আসে চোখে।”
ঘরে এক মুহূর্তের জন্য নীরবতা নেমে এল,
হাওয়া যেন থমকে গেল জায়ানের সেই তীব্র চোখের দৃষ্টিতে।
ইউভি মনে মনে বলল —
” আমাদের দুই ভাই বোনের কপালে পাগলের কারবার, বৃষ্টির কপাল ই ভালো । নইলে আমার কপালে এখন আল্লায় টোকা দেয় , কিন্তু আমার
তো হৃদয়পাখি রেই লাগবে সে যেমন ই হোক ।”
এই বলে আবার এক ম্লান হাঁসি দিল ।
“মা… আমার শরীরটা একদমই ভালো না, কেমন জানি কাঁপুনি দিচ্ছে। রোদকে একটু পাঠাও না, একটু সেবা করলে হয়তো ঠিক হয়ে যাব…”
জায়ন ফোনে নিজের মা মেহজাবীন বেগমকে কষ্টের কণ্ঠে আবদার করছে, যেন মরার দশা।
মেহজাবীন বেগম ছেলের এই অতিনাটকীয় ভঙ্গিতে হেসে ফেললেও, মুখে গম্ভীর স্বরেই বললেন,
“আচ্ছা ঠিক আছে, আমি আসছি। এমনিও কালকে যেতে হতো…”
ওপাশ থেকে সাথে সাথেই এক হতাশ কণ্ঠ ভেসে এল-
“থাক মা, তোমার আসার দরকার নেই… আমি নিজেই মেডিসিন খেয়ে নিই…”
“তাহলে রাখছি…”
মেহজাবীন বেগম ফোন রাখার জন্য হাত সরাতেই, ওপাশ থেকে আবার কণ্ঠটা ফুটে উঠল একেবারে বাচ্চাদের মতো আবদার নিয়ে,
“মা… বাসার রাঁধুনি ছুটি নিয়েছে… রোদ যদি একটু রান্না করে দিয়ে যেত, তোমরা তো কাজে ব্যস্ত ।”
মেহজাবীন বেগম এবার ফোনে থামলেন। মুখে একটা অদ্ভুত হাসি, চোখে একটুকরো রাগ আর মমতার মিশ্রণ।
“বাবা, আমার মতে মেজো আম্মু আজ পর্যন্ত গরম পানি নিজের হাতে গরম করে খায়নি… ”
এইবার আর ফোনের ওপাশ থেকে কোনো শব্দ এল না শুধু টুটটুটট করে লাইন কেটে গেল কল।
পাশেই বসে থাকা রুহেনা বেগম আর সুরাইয়া বেগম জায়নের এই কান্ড দেখে হাসতে হাসতে লুটোপুটি খাচ্ছেন।
মেহজাবীন বেগম যেন গর্ব আর অবাক একসঙ্গে নিয়ে বলে উঠলেন–
“বুঝলি মেজো, আমার এই ছেলেটাকে না দেখলে কেউ বুঝতেই পারত না যে ছেলে এতটা বউপাগল হতে পারে।”
” আমি তো আগেই জানতাম আপা আমাদের জায়ন এর মন কত ভালো, আমার মেয়ে সত্যিই অনেক ভাগ্যবতী।”
এই নিয়ে চলল কিছু কথাবার্তা তিন গিন্নির মধ্যে।
বাড়িতে অতিথির ভিড় শেষ, রাত প্রায় একটা ছুঁই ছুঁই। কাল থেকে বিয়ের অনুষ্ঠান শুরু মেহেন্দি, সংগীত, গায়ে হলুদ। সবাই ইতিমধ্যেই ঘুমিয়ে পড়েছে, কারণ ভোরেই উঠতে হবে।তবে একমাত্র জায়নের চোখে ঘুম নেই।কাঁপতে থাকা আবেগ আর অভিমান নিয়ে, সে মই এনে ব্যালকনি বেয়ে তিয়াশার ঘরের জানলার কাছে উঠেছে।মাথায় একটা ক্যাপ, মুখে একটা মাস্ক, যেন কোনো মিশনে নামা স্পাই।সতর্ক পায়ে ব্যালকনির দিকে এগিয়ে এসে ফিসফিস করে ডাক দিল–
“রোদ…”
“বউ, দরজা খোল…”
কিছুক্ষণ চুপচাপ।
এরপর একটু জোরে বলে উঠল–
“বউ দরজা খোল না বা** , মশার কামড়ে শেষ হয়ে যাচ্ছি , কোথায় তোর কামড়ানোর কথা আমায়। ”
ঠিক তখনই দরজাটা হাট করে খুলে গেল।
জায়ন একটুও না ভেবে হাত বাড়িয়ে জড়িয়ে ধরল ছায়ামূর্তি।
“উফফ… বউ , জান জীবন কয়লা হয়ে গেলো রে…”
কিন্তু জড়িয়ে ধরতেই মনে হলো, কিছু একটা ঠিক নেই।চেহারা দেখতে পাচ্ছে না ঠিকই, কিন্তু কেমন যেন… গড়ন… দীর্ঘ?
“হ্যাঁ রে বউ, তুই এত লম্বা হলি কবে?”
তার কথার পর মুহূর্তেই একটানা মোচড় দিয়ে কানটা চেপে ধরল একটা মজবুত হাত।
তোমার ছোঁয়ায় আসক্ত আমি পর্ব ৪৬
“আহহ।”
লাইট জ্বলে উঠল।
জায়নের চোখ সরাসরি মাটিতে পড়ে গেল।
চোখ তুলতেই দেখল সামনে তার মা… মেহজাবীন বেগম।
হাতে চটি, মুখে বজ্রচ্ছায়া।গম্ভীর গলায় বললেন–
“তোমার মা লম্বা, তাই হয়তো লম্বা লেগেছে”
