Home প্রফেসর উজান চৌধুরী প্রফেসর উজান চৌধুরী পর্ব ৪৯

প্রফেসর উজান চৌধুরী পর্ব ৪৯

প্রফেসর উজান চৌধুরী পর্ব ৪৯
বন্যা সিকদার

​”আচ্ছা আপনাকে এখন থেকে প্রফেসর বলব নাকি অফিসার? তবে যাই বলুন না কেন‚ আমার কাছে আপনি অলওয়েজ আমার সেই খাটাস ‘প্রফেসর সাহেব’। তো প্রফেসর সাহেব…আপনি এত বড় মাপের একজন প্রফেসর এবং হাই-প্রোফাইল অফিসার হওয়া সত্ত্বেও ঠিক কী কারণে আমার মতো একটা সাধারণ মেয়েকে এত গভীরভাবে ভালোবাসলেন? আমার মাঝে তো এমন বিশেষ কিছুই নেই?
​মৌ’য়ের অত কৌতূহলী প্রশ্ন শুনে উজান খানিকটা দুষ্টু হাসল। রুমের মৃদু আলোয় তার চোখের গভীরতা এক লহমায় বদলে গেল। সে ঝুঁকে এসে একদম মৌ’য়ের কানের লতির কাছে শীতল‚ মাতাল কণ্ঠে ফিসফিসিয়ে বলে উঠল‚

​“আপনার মাঝে বিশেষ কিছু তো অবশ্যই আছে মিসেস চৌধুরী। না হলে এই উজান চৌধুরীকে দ্বিতীয় নারী এত সহজে ঘায়েল করে কিভাবে? তবে সেই বিশেষ কিছুর মাঝে সবচেয়ে বড় বিশেষত্ব হলো‚ আপনি আমার ফিউচার বেবিদের মিষ্টি মাম্মাহ্! আমার কাছে এর চেয়ে বিশেষ আর অন্য কিছুর প্রয়োজন আছে বলে মনে হয় না। নিন‚ এবার এসব প্রশ্ন রাখা বন্ধ করে শুধুই আমার ওপর ফোকাস করুন। আপনাকে এত কাছে দেখে নিজেকে আর ঠিক রাখতে পারছি না…কেমন মাতাল মাতাল লাগছে। নেশা টেশা আছে নাকি আপনার মাঝে?
​উজানে’র এমন খোলামেলা ও তীব্র প্রেমের প্রকাশে মৌ ভীষণ লজ্জা পেয়ে গেল। লাল হয়ে যাওয়া মুখটা লুকাতে সে তড়িঘড়ি করে নিজেকে উজানে’র চওড়া বুকের একদম গহীনে লুকিয়ে ফেলল। উজানে’র গায়ের সেই চেনা‚ পুরুষালী সুবাস তাকে এক নিমেষে শান্ত করে দিল। ​মৌ’য়ের এমন লজ্জা মাখা ও আদুরে মুখটা দেখে উজান মনে মনে মুচকি হাসল। ইদানীং এই পাগলী মেয়েটা তাকে ভীষণ বোঝে। উজান ঠিক কী চায়‚ কোনটা তার অপছন্দ‚ তার ছোট ছোট ভালোলাগা আর খারাপ লাগা সবই এখন মৌ’য়ের নখদর্পণে। উজান অত্যন্ত আদরে মৌ’কে ভালোবাসার উষ্ণ চাদরে মুড়িয়ে নিজের বুকের সাথে লেপটে ধরে রাখল সারাটি রাত।

​পরদিন একদম ভোরেই রুমে রুমে লাগেজ গুছিয়ে নেওয়ার তোড়জোড় শুরু হয়ে গেল। গ্রাম থেকে ঢাকায় ফিরতে বেশ খানিকটা সময় লেগে যাবে‚ তাই এত তাড়াহুড়ো। তালুকদার বাড়ির ডাইনিং টেবিলে সবাই একসাথে বসে সকালের নাশতা শেষ করছিল। কিন্তু বিশাল খাবার দাবার সাজানো থাকলেও রোহান একদম চুপচাপ‚ নিথর হয়ে প্লেটের দিকে তাকিয়ে বসে রইল। তার হাত এক ফোটা খাবার পর্যন্ত স্পর্শ করছে না। ​রোহানে’র এই অদ্ভুত ও নীরব আচরণ দেখে উজান কিছুটা খটকা খেয়ে বলে উঠল‚
“কী রে রোহান খাচ্ছিস না কেন?
​রোহান খাবার টেবিল থেকে ধীরে ধীরে তার বিষণ্ন দৃষ্টি উঁচিয়ে উজানে’র দিকে তাকাল। সে কীভাবে উজান’কে বোঝাবে যে‚ তার বুক চিরে রক্ত ক্ষরণ হচ্ছে। কারণ তার প্রাণভোমরা ‘ফুল’ আজ চিরতরে তাকে এই গ্রামে ফেলে রেখে অন্যের হাত ধরে চলে যাচ্ছে। এই চরম যন্ত্রণা সে আর সহ্য করতে পারছে না। তবুও সে কোনোমতে নিজের কাঁপতে থাকা মনকে সামলে নিয়ে এক অদ্ভুত স্বরে জিজ্ঞেস করলো‚
“আচ্ছা দোস্ত তোকে একটা প্রশ্ন করি?

​“হুম‚ কর। —উজান মৌ’য়ের মুখে পরের লোকমা তুলে দিয়ে খুব স্বাভাবিক ও শান্ত ভঙ্গিতে উত্তর দিল।
​“সাপোজ ভাব‚ মৌকে তুই অসম্ভব ভালোবাসিস আর তোর সেই মৌ’কে যদি তোরই খুব কাছের কেউ আচমকা তো থেকে কেড়ে নিতে…..
​কিন্তু রোহান’কে তার কথাটা শেষ করার বিন্দুমাত্র সুযোগ দিল না উজান। ‘কেড়ে নেওয়া’ শব্দটা কানে পৌঁছামাত্রই যেন উজান চৌধুরীর ধমনীতে থাকা শান্ত রক্ত এক লহমায় তপ্ত আগ্নেয়গিরির মতো ফুটে উঠল। মুহূর্তের মধ্যে তার ফর্সা মুখমণ্ডল রক্তবর্ণ ধারণ করল‚ চোখ দুটি এক হিংস্র ও পৈশাচিক লালচে রঙে আচ্ছন্ন হয়ে গেল। সে ততক্ষণে প্রলয়ংকরী গর্জন তুলে।
​“স্টপ ইট রোহান। তাসফিয়া মৌ চৌধুরী ইজ অনলি অ্যান্ড অনলি উজান চৌধুরীর। তাকে আমি ব্যাতিত অন্য কেউ স্পর্শ অব্দি করার সাহস পাবে না। সেখানে কেড়ে নেওয়া তো বহুত দূরের কথা। যে তাকে আমার থেকে আলাদা করার কথা ভাববে‚ তাকে আমি নিজের হাতে কবর দেবো। জাস্ট মাইন্ড ইট!
​উজানে’র এই হঠাৎ প্রলয় রূপ দেখে ডাইনিং টেবিলের বাকি সবাই স্তব্ধ হয়ে গেল। পরিবেশটা থমথমে হয়ে উঠল। ​রোহান অবশ্য নিজের আবেগ সামলে নিয়ে এক তপ্ত হাসি হাসল। সে হাত তুলে হালকা গলায় বলল‚
“কুল ব্রো‚ কুল। আরে ইয়ার আমি তো জাস্ট ‘সাপোজ’ হিসেবে একটা কথা বললাম! বাই দ্য ওয়ে‚ সাবধানে ঢাকায় ব্যাক করিস তোরা। দেখা হবে খুব তাড়াতাড়ি আমাদের…আর হ্যাঁ‚ নিজের বউয়ের একটু বেশিই খেয়াল রাখিস!

​কথাটা শেষ করেই রোহান এক ফোঁটা খাবার মুখে না তুলে মৌ’য়ের দিকে এক গভীর ও তপ্ত শ্বাস ফেলে টেবিল ছেড়ে নিজের গন্তব্যে হেঁটে চলে গেল। পেছন থেকে উজান‚ ইফাত আর তন্ময় তাকে বারবার ডেকেও থামাত পারল না। রোহান কারো ডাক কানেই তুলল না। ​অতঃপর থমথমে পরিবেশ কাটিয়ে সবাই খাওয়া-দাওয়ার পর্ব শেষ করে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দিল। দীর্ঘ কয়েক ঘণ্টার ক্লান্তি আর জার্নি শেষে সবাই যখন ঢাকায় নিজেদের বাসায় পৌঁছাল‚ তখন শরীর একবারে নিস্তেজ হয়ে গেছে। ক্লান্ত শরীর নিয়ে সবাই যার যার রুমে ঢুকে পড়ল। ​কিন্তু উজান রুমে ঢুকতে না ঢুকতেই শাওয়ার নিয়ে ফ্রেশ হয়ে আবার শার্ট গায়ে চাপিয়ে বাইরে বের হতে চাইল। তা দেখে মৌ তড়িঘড়ি করে দরজার সামনে দাঁড়িয়ে তার পথ আটকে ধরল। চড়া গলায় ধমকের সুর তুলে।
“কোথায় যাওয়া হচ্ছে শুনি? একটুও রেস্ট নেবেন না?
​উজান থমকে দাঁড়িয়ে গেল। বউয়ের মিষ্টি মুখের দিকে তাকিয়ে সে খানিকটা নিচু হয়ে মৌ’য়ের ফর্সা কপালে নিজের ঠোঁট ছুঁইয়ে দিল। মুচকি হেসে আওড়াল‚ ​

“তখন বললাম না পিচ্চি টিম মেম্বারদের সাথে ওই নিখোঁজের কেসের আপডেট নিয়ে একটু ডিসকাস করতে হবে? তাই আপাতত একটু হেডকোয়ার্টারে যাচ্ছি। খুব জলদি ফিরে আসব‚ প্রমিজ! তাছাড়া আজ কিন্তু তোমার এক্সামের রেজাল্টও পাবলিশ হবে‚ মনে আছে তো? একদম টেনশন নিও না‚ আমি আসার সময় তোমার রেজাল্ট শিট নিয়ে ফিরব। যদি ফেইল কর তাহলে একটা মাইর ও মাটিতে পরবে না হু।
কথা গুলো শোনামাত্রই মৌ শুকনো ঢোক গিলল। রেজাল্ট যে মহাবিপর্যয়কর হতে যাচ্ছে‚ তা সে আগেই হাড়ে হাড়ে জানে। যে পরীক্ষার সময় উজান পাশে ছিল না’ সেই ক’দিন পড়াশোনা একদম চাঙ্গে তুলে রেখে সে ঘুরে বেড়িয়েছে। সেই পরীক্ষায় যে ‘পাস’-এর ‘প’-ও আসবে না তা মৌ’য়ের খুব ভালো করেই জানা। কিন্তু এখন আসল চিন্তা হলো এই প্রফেসরের হাত থেকে নিজেকে কীভাবে বাঁচাবে? ​মৌ যখন নিজের ভবিষ্যৎ পরিণতি ভেবে মনে মনে হিসাব কষছিল‚ ঠিক তখনই উজান পিছন থেকে এসে এক টানে তার কোমরটা জড়িয়ে ধরে তাকে মেঝের ওপর থেকে খানিকটা উঁচুতে তুলে নিজের একদম মুখোমুখি করল। ​মৌ ভীতু চোখে উজানে’র দিকে তাকিয়ে রইল। কাঁপা কাঁপা গলায় শুধাল‚

“ক ক ক কিছু বলবেন?
​উজান ঠোঁটের কোণে এক বাঁকা হাসি ঝুলিয়ে শান্ত গলায় বলল‚ “যাব না ভাবছি হেডকোয়ার্টারে।
​”ক ক ক কেন? —মৌ’য়ের বুকটা এক লহমায় ধড়ফড় করে উঠল।
​“যাব না শুনে এত তোতলাচ্ছো কেন? ভাবলাম আজকের পুরো দিনটা আমার প্রিয় ওয়াইফিকেই উপহার দিই। এখন একটু বেশি বেশি করে ভালোবেসে নিই‚ যাতে একটু পর রেজাল্ট জানার পর ডান্ডা পেটাতে পারি। ভালোবাসা আর মাইর দুটো মিলে তবেই না শোধবোধ হবে নাকি?
​মৌ হা করে উজানে’র দিকে তাকিয়ে রইল। সে মনে মনে পরিকল্পনা করেছিল আজকে উজান হেডকোয়ার্টারে গেলে সারাদিন অন্য কোথাও লুকিয়ে থাকবে কিন্তু সেই গুড়েও বালি। তবে সে এত সহজে ছেড়ে দেওয়ার পাত্রী নয়। হঠাৎই সে উজানে’র গলায় দু-হাত জড়িয়ে ধরে অত্যন্ত আদুরে ও মিষ্টি গলায় ডেকে উঠল‚

“প্রফেসর সাহেব!
​“বলুন ওয়াইফি? —উজান এক ভ্রু ওপরে তুলল।
​মৌ এক সেকেন্ড দেরি না করে উজানে’র গালে‚ কপালে আর ঠোঁটে গুনে গুনে চার-চারটে চুমু বসিয়ে দিল। মূলত রেজাল্টের মাইর আর ধমকের হাত থেকে বাঁচার জন্যই এই নাটক। ​মৌ’য়ের এমন হঠাৎ কাণ্ডে উজান এক মুহূর্তের জন্য একদম স্তব্ধ হয়ে গেল। তার কেমন যেন খটকা লাগল যে মেয়ে সহজে কাছে আসতে চায় না‚ সে নিজে থেকে এত প্রেম দেখাচ্ছে? ডাল মে কুছ কালা হ্যায়। ​মৌ এবার আরও এক ধাপ এগিয়ে উজানে’র নাকে নিজের নাক ঘষে মিষ্টি হাসি উপহার দিল।
​”আই লাভ ইউ প্রফেসর সাহেব। আপনি অনেককককক ভালো। আমি আপনাকে আরও দুটো পাপ্পি দিচ্ছি তবুও আপনি প্লিজ এখন হেডকোয়ার্টারে যান। দেশের সিক্রেট সিআইডি অফিসার আপনি‚ সবার আগে নিজের দায়িত্ব পালন করা উচিত আপনার। আমাকে মাইর দেওয়ার তো সারাজীবন পাবেন। আপনি বরং এখন কাজে যান কেমন?

​এবার উজান চট করে ধরে ফেলল মৌ কেন এত ভালোবাসার পসরা সাজিয়ে বসেছে। সে মনে মনে এক দুষ্টু হাসি হাসল। অতঃপর মৌ’কে আলতো করে পাঁজাকোলে নিয়ে বিছানায় শুইয়ে দিল এবং নিজে তার ওপর খানিকটা ঝুঁকে পড়ল। কপালে লেপ্টে থাকা এলোমেলো চুলগুলো হাত দিয়ে সরিয়ে দিতে দিতে বলল‚
​“লাভ ইউ টু‚ মাই ওয়াইফি! বাট বাট বাট‚ আমি তো এখন আর কোনোভাবেই বাইরে যাচ্ছি না। আপনি তো আপনার এই ভালোবাসা দিয়ে আমাকে একদম ঘায়েল করে দিলেন। আর এমন মাতাল অবস্থায় গাড়ি চালিয়ে বাহিরে গেলে সর্বনাশ হয়ে যাবে।
​”ক ক ক কিছু হবে না‚ যান না প্লিজ! —মৌ তড়িঘড়ি করে উজান’কে ঠেলতে লাগল।
​“শয়তান ছেমড়ি একটা। মাইরের হাত থেকে বাঁচার জন্য কত বড় নাটকবাজ হয়েছে রে মেয়েটা। চুপচাপ এখানে বসে থাকো। রেজাল্ট একটু পর এমনিতেই আমার ল্যাপটপে চলে আসবে। প্রতিটি পরীক্ষা কত সুন্দরভাবে দিয়েছো‚ আজ তার সব কটা হিসেব নেব। অত পাম দিয়েও লাভ হবে না‚ উজান চৌধুরী আজ কোনো বাহানা শুনবে না। জাস্ট রেডি হও ম্যাডাম!
​মৌ’য়ের ফর্সা মুখটা মুহূর্তের মধ্যে একদম ফ্যাকাশে হয়ে গেল। সে কাঁচুমাচু হয়ে বিছানায় সোজা হয়ে বসল। আর ঠিক সেই সময়ই উজান তার গায়ের শার্ট আর প্যান্ট খুলে ফেলে একটা আরামদায়ক ট্রাউজার পরে উন্মুক্ত গায়ে ল্যাপটপটা নিয়ে বিছানায় এসে বসল। যেহেতু বাইরে যাচ্ছে না‚ তাই ভারী ফরমাল পোশাক পরে থাকার কোনো মানে হয় না।
​উজানে’র এমন খালি গায়ে ধপাস করে পাশে বসা দেখে মৌ চিৎকার করে উঠল‚ “এই আপনার কি কোনো লজ্জা-শরমে নেই নাকি? একটা মেয়ে মানুষের সামনে এভাবে খালি গায়ে বসে আছেন? চোখে একটু তো পর্দা রাখুন।

​মৌ’য়ের এই বোকা প্রশ্ন শুনে উজান ল্যাপটপ থেকে চোখ সরিয়ে উচ্চস্বরে হেসে উঠল। সে ল্যাপটপের স্ক্রিন থেকে নজর সরিয়ে স্থির ও মাতাল চোখে মৌ’য়ের দিকে তাকাল। ঠোঁটের কোণে বাঁকা হাসি ফুটিয়ে বলল‚ ​
“কেন ম্যাডাম? আমাকে এভাবে দেখে কি আপনার ভেতরে কিছু মিছু করতে ইচ্ছে হচ্ছে নাকি? তা ইচ্ছে করবেই না বা কেন বলুন? এত কিউট‚ ড্যাশিং‚ হ্যান্ডসাম আর সিক্স প্যাক ওয়ালা বর পাশে থাকলে কি কোনো মেয়ে স্বাভাবিক থাকতে পারে? চলুন‚ চলুন…রেজাল্ট আসার আগেই স্টার্ট করি।
​উজান যেই না দুষ্টুমি করে মৌ’য়ের দিকে একটু এগিয়ে যেতে চাইল‚ অমনি মৌ তাকে এক সজোরে ধাক্কা দিয়ে দূরে সরিয়ে দিল! কটমট চোখে তাকিয়ে ঝেঁঝে উঠল‚ ​”নির্লজ্জ পুরুষ বেহায়াপনা বন্ধ করুন।
​ঠিক তখনই উজানে’র ল্যাপটপে একটা ‘টুং’ করে ইমেইল আসার আওয়াজ হলো। উজান সাথে সাথে মৌ’য়ের ওপর থেকে নজর সরিয়ে ল্যাপটপের স্ক্রিনের দিকে অতি আগ্রহে মনোযোগ দিল। ​কিন্তু মেসেজটা ওপেন করতেই উজানে’র চোখজোড়া যেন ছানাবড়া হয়ে কপালে ওঠার উপক্রম হলো। সে একবার হতভম্ব হয়ে ল্যাপটপের স্ক্রিনের দিকে তাকাচ্ছে‚ তো পরক্ষণেই রক্তচক্ষু নিয়ে বিছানায় কাঁচুমাচু হয়ে বসে থাকা মৌ’য়ের দিকে তাকাচ্ছে। রুমে কয়েক সেকেন্ডের এক ভৌতিক নীরবতা নেমে এলো। ​হঠাৎ করেই পুরো রুম কাঁপিয়ে চিল চিৎকার দিয়ে উঠল উজান।

​ “হোয়াট দ্য হেল পিচ্চি! এক সাবজেক্টে ৯‚ আরেকটায় ১১‚ আর একটায় ৭ এসব কী পিচ্চি? তোমার এক্সাম মার্কসের চেয়ে আমার ইয়ের সাইজ বড়। নষ্ট মাথার কারখানা। আমি আমার ওয়াচ আর ব্রেসলেট সাইজের কথা বলেছি‚ এসব নোংরা কথা নয়।
​মৌ প্রথমে ভয়ের চোটে চোখ দুটো গোল গোল করে তাকালেও‚ হুট করে উজানে’র মুখের সেই আজব তুলনাটা শুনে তার চোখের জল নিমেষে হাওয়া হয়ে গেল। সে কপাল কুঁচকে যেই কিছু জিজ্ঞেস করতে যাবে‚ তার আগেই উজান নিজের তোঁতলাতে তোঁতলাতে চিল চিৎকার করে উঠল।
“নষ্ট মাথার কারখানা এখনো পঁচা কথা ভাবছো?

​মৌ আর হাসি থামিয়ে রাখতে পারল না। সে বিছানায় শুয়ে পড়ে দু-হাতে পেট চেপে ধরে খিলখিল করে অট্টহাসিতে ফেটে পড়ল। ​উজানে’র ফর্সা মুখে তখন রাগের তীব্র ঝিলিক মারছে. একদিকে তিন-তিনটে গুরুত্বপূর্ণ সাবজেক্টে ডাব্বা মেরে ফেল করেছে‚ তার ওপর আবার উজানে’র সামনে এমন নির্লজ্জের মতো হেসে গড়াচ্ছে. কী পরিমাণ বেহায়া আর ঢংগী হলে একটা মেয়ে এমন কাণ্ড করতে পারে? ​উজান এক ঝটকায় ল্যাপটপটা পাশে সরিয়ে রেখে বাঘের মতো গর্জে উঠল‚
​“স্টপ ইট পিচ্চি। তিন-তিনটে সাবজেক্টে ফেল করে এখন আবার নির্লজ্জের মতো হেসে গড়াচ্ছো? একটুও লজ্জা-শরম করে না?

​ মৌ হাসি থামিয়ে ঠোঁট উল্টে নির্দোষ মুখ বানিয়ে বলল‚ “আমার আবার কী দোষ? আপনি নিজেই তো পঁচা কথা বললেন। কী যেন বললেন জানি ওহ্ হ্যাঁ স….
​মৌ’য়ের মুখ থেকে কথাটা বের হওয়ার আগেই উজান এক ক্ষিপ্র ঝটকায় এগিয়ে এসে নিজের শক্ত হাতের তালু দিয়ে মৌ’য়ের মুখ চেপে ধরল। চোখে-মুখে অগ্নি রূপ ফুটিয়ে ধমকে উঠল। ​“বেয়াদব মেয়ে একদম চুপ কর। আমি যা-ই বলি না কেন‚ তোমাকেও ওসব রিপিট করতে হবে নাকি? মুখে একটুও লাগাম নেই তোমার?
​মৌ নিজের সমস্ত শক্তি দিয়ে উজানে’র হাতটা নিজের মুখ থেকে সরিয়ে দিল। তারপর এক লাফে বিছানায় সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে‚ দুই কোমড়ে দু-হাত চেপে ধরে কর্কশ কণ্ঠে টিপ্পনী কাটল।

প্রফেসর উজান চৌধুরী পর্ব ৪৮

​”ও আপনি নিজে মুখে আজেবাজে কথা বললে ধোয়া তুলসী পাতা আর আমি কেবল সেটা জাস্ট রিপিট করতে গেলেই মহা দোষ? আর তিনটা সাবজেক্টেই তো মাত্র ফেল করেছি‚ তার জন্য অত চিৎকার করে পাহাড় মাথায় তোলার কী আছে‚ শুনি?
​উজানে’র মাথার রগগুলো রাগে রিও রিও করে তপ্ত হয়ে উঠল। সে চোখ বড় বড় করে দাঁতে দাঁত চেপে আওড়াল‚ ​“ফেল করে আবার এত বড় বড় মুখ করে আমার সামনে দাঁড়িয়ে তর্ক করছো শয়তান ছেমড়ি?

প্রফেসর উজান চৌধুরী পর্ব ৫০

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here