প্রিয় ইরাবতী পর্ব ৩৭
রাজিয়া রহমান
রাহাত উপমার ব্যবহারের সাথে উপমার ব্যাপারে শোনা কথাগুলো কিছুতেই মেলাতে পারছে না।
উপমার দুলাভাই রাহাতের কাছে কোনো কিছুই গোপন করেন নি।সব শুনে ও রাহাত রাজি হয়েছে কারণ সে উপমাকে একদিন দূর থেকে দেখেছে।
কে জানে কেনো সেদিন উপমার ভীত,অসহায় মুখের দিকে তাকিয়ে রাহাতের মায়া লেগেছিলো।
রাহাতের নিজের ও বয়স কম হয় নি।কিন্তু বিয়ে করার জন্য মেয়ে পাচ্ছে না।
এরকম অসুস্থ শাশুড়ীর কথা শুনলেই সবাই নাকচ করে দেয়।
বিরক্ত হয়ে রাহাত বিয়ে না করারই সিদ্ধান্ত নেয়। সেই সিদ্ধান্ত বদলায় তার উপমাকে দেখে।
এমন শ্যামবর্ণ মায়াবী মুখের একটা মেয়েকে কীভাবে রাহাত আগ্রাহ্য করবে?
উপমা সবকিছু সেরে রুমে এসে রাহাতের সামনে দাঁড়াতেই রাহাত বললো, “বোসো।”
উপমা বসলো।
রাহাত নিজের ভেতর এই কৌতূহল চেপে রাখতে না পেরে উপমাকে জিজ্ঞেস করলো, “দুলাভাই আমাকে তোমার সম্পর্কে সবকিছু বলেছে উপমা।কিন্তু এই বাড়িতে আসা মাত্রই তুমি আমার মায়ের প্রতি যে ভালোবাসাটুকু দেখিয়েছো,এটা দেখার পর আমার মনে হচ্ছে তোমার সম্পর্কে যা বলেছে ওরা সব ভুল।
তুমি ভীষণ ইনোসেন্ট একজন মানুষ। ”
লজ্জায় উপমা কুঁকড়ে যায় এই কথা শুনে।ইনোসেন্ট!
মনে মনে ভাবে উপমা।
সে কতো বড় শয়তান ছিলো তা তার চাইতে ভালো কে জানে?
নিজের পেটের সন্তানকে সে নিজের স্বার্থের জন্য শেষ করে ফেলেছে। কীভাবে রাহাত তাকে ইনোসেন্ট ভাবে?
উপমার ভেতরটা অনুশোচনায়,যন্ত্রণায় দগ্ধ হয়ে যায় মুহূর্তেই।
কেনো সে এতো জুলুম করেছে সবার উপর? সবার উপর জুলুম করতে গিয়ে সবচেয়ে বড় জুলুম নিজের উপরই করে ফেলেছে তা আজকেই কী ভীষণভাবে টের পেলো উপমা।
আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন
ভরা নদীর মতো উপমার দুই চোখ ভিজে উঠলো। কান্নাভেজা গলায় বললো, “আমাকে এতো ভালো ভাববেন না।আমাকে ভালোবাসা দিয়ে আগলাতে যাবেন না।আমাকে কষ্ট দিবেন।আমি কারো ভালোবাসার যোগ্য না।আমি অতীতে আমি অনেক অন্যায় করেছি আমার আশেপাশের সবার উপর।
অথচ সবাই আমাকে ভালোবেসেছে।কী ভীষণ নিঃস্বার্থ ভালোবাসা দিয়েছে সবাই। আমি কাউকে ভালোবাসতে পারি নি।”
রাহাত এগিয়ে এসে উপমার চোখের পানি মুছে দিয়ে বললো, “কেঁদো না।ভুল সবাই করে। কিন্তু নিজের ভুল কয়জনে বুঝতে পারে? নিজের ভুল বুঝতে পারাটাই সবচেয়ে বড় ব্যপার।অতীতকে দুঃস্বপ্ন ভেবে ভুলে যাও।আমাওরা আমাদের ভবিষ্যৎ আর বর্তমান নিয়ে ভাববো।দেখবে আমরা খুব ভালো থাকবো।”
উপমার রাহাতের দিকে তাকিয়ে রইলো।
মন বললো, সন্ধ্যায় যাকে দেখে এসেছে তার ছবি এই মন থেকে কীভাবে মুছবে?
তাকে মনে নিয়ে কীভাবে রাহাতের সাথে সুখী হবে সে!
কেনো দেখা হলো আজ!
শায়লা মারা যাওয়ার পর সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছে লিনা।তার জীবনটা যেনো কোনো গোলকধাঁধায় আটকে গেছে। লিনা এই জগৎ সংসারের কিছুই জানে না,কিছুই বুঝে না।
সে জানতো তার মা আছে।তার ডেইলি রুটিন তার মা।
মা মারা যাওয়ার ব্যাপারটা লিনার জন্য যতটা কষ্টের ছিলো তার চাইতে বেশি ক্ষতি করেছে লিনার শরীরে।
আকস্মিক এই ঘটনা লিনার উপর এতো কঠিন প্রভাব ফেলবে লিনা ভাবে নি।
লিনার শরীর খারাপ হওয়ার কোনো নির্দিষ্ট সময় নেই।
এটা ধীরে ধীরে হয়েছে, যেন কেউ চুপচাপ ভেতর থেকে সব স্ক্রু ঢিলা করে দিয়েছে।
তিন মাস পার হয়ে গেছে। ক্যালেন্ডার বলছে সময় গেছে, কিন্তু লিনার শরীর তা মানে না। সকালে ঘুম ভাঙলেই প্রথম যে জিনিসটা সে খেয়াল করে, সেটা শোক না,ওর পা। বিছানা থেকে নামার সময় মেঝে যেন ঠিক জায়গায় থাকে না। পা রাখতেই হাঁটু কেঁপে ওঠে, শরীর এক পাশে হেলে পড়ে। দেয়ালে হাত না রাখলে সে পড়ে যাবেএই ভয়টা এখন আর ভয় না,বাস্তবতা।
সে জানে কোন কোন দিন খারাপ হবে।
যেদিন বুকটা অকারণে ভারী লাগে, যেদিন নিশ্বাসটা ঠিকমতো ঢুকে বের হয় না, সেদিন পা আরও অবাধ্য হয়। হাত কাঁপে। আঙুল শক্ত হয়ে আসে। নিজের নামটা লিখতেও সময় লাগে।
তারপর সে হাঁটতে গিয়ে হঠাৎ থেমে যায়।শরীর আর এক কদমও এগোতে চায় না।
রাতে ঘুম ভাঙে অদ্ভুত একটা অনুভূতিতে যেন কেউ তাকে দম আটকে ধরে রেখেছিল, হঠাৎ ছেড়ে দিয়েছে। সে উঠে বসে, বুকের ওপর হাত রাখে, আল্লাহর নাম নেয়। নাম নিতে নিতে মনে পড়ে যায় ইরার কথা।
ইরা!
এই নামটা এলেই তার শরীরের ভেতর অন্যরকম একটা ব্যথা ওঠে। শোকের ব্যথা না। লজ্জার।
ভয় আর অপরাধবোধ মিশে থাকা একধরনের জ্বালা।
ইরার সাথে সে যা করেছে, সেটা ভাবলে লিনার সারা শরীর আরো জমে যায় যেনো।
বন্ধুত্বের মুখোশ পরে সে কী জঘন্যভাবে ওর ক্ষতি করার চেষ্টা করেছে সব মনে পড়লে লিনার হাত ঘেমে যায়। বুকের ভেতর ধক করে ওঠে।
সে তখনই ভাবে এই অসুস্থতা কি আসলে রোগ?
নাকি শাস্তি?
ডাক্তারের কথা তার মনে পড়ে। নার্ভ, ট্রমা, ভয়-সব শব্দ। কিন্তু লিনার কাছে সেগুলো ফাঁকা লাগে।
মনে হয় সব তার পাপের শাস্তি।যাদের কথামতো লিনা এসব করেছে তাদেরকেও আল্লাহ শান্তি দেন নি।নিয়ে গেছেন।কী ভয়াবহ ছিলো সেই মুহূর্ত!
লিনার দম বন্ধ হয়ে আসে।চোখের উপর স্পষ্ট ভেসে উঠে ইকবালের শায়লাকে গু লি করা।
লিনার জন্য আর কেউ রইলো না এই দুনিয়াতে।
লিনা টলমল পায়ে হাসিব শেখের রুমে আসে।লিনা জানে এই মানুষটা তার কেউ না।
সে ও এই মানুষটার কেউ হয় না।
তবুও এই অনাত্মীয় মানুষটা ছাড়া লিনার আর আপন বলে কেউ নেই।
হাসিব শেখের মুখের দিকে তাকিয়ে লিনার মনে হলো হাসিব শেখের বয়স যেনো ১০ বছর বেড়ে গেছে।
প্রতিদিনই হাসিব শেখকে আগের দিনের চাইতে বেশি বৃদ্ধ লাগে।
মন ভেঙে গেলে মানুষের শরীর কী আর শক্ত থাকে?
হাসিব শেখ লিনার দিকে একবার তাকিয়ে চোখ নামিয়ে নিলেন।
লিনা খানিকক্ষণ চুপচাপ বসে রইলো। ভেতরে দমবন্ধ হওয়া অনুভূতি লিনাকে নিশ্বাস নিতে দিচ্ছে না।
হাসিব শেখ কিছুক্ষণ ভেবে বললেন,”আমি আমার সব জায়গা সম্পত্তি একটা বৃদ্ধাশ্রমে ডোনেট করে দিতে চাচ্ছি। অবশ্য তোমাকে একটা মোটা অ্যামাউন্টের টাকা দিয়ে যাবো।এই বাড়িটাও ভেঙে ফেলা হবে।”
“আমি কোথায় থাকবো?”
“তোমার জন্মদাতা পিতাকে তুমি চেনো।এরপর আমার বলে দেওয়ার কিছু নেই।”
লিনার ইচ্ছে করলো হাসিব শেখের পা ধরে চিৎকার করে কিছু সময় কান্না করতে।
সব জানে লিনা।অথচ এমন গোলকধাঁধায় তার জীবন আটকে গেছে সে কাউকে কিছু বলতে পারবে না।
এই জীবনে মা ছাড়া কারো আদরই লিনা পায় নি।মা তাকে এতোগুলো বছর ধরে বুকের ভেতর আগলে রেখে বড় করেছে। শায়লা ও জানতো সে ছাড়া তার লিনার কেউ নেই।
আজ শায়লা নেই।
সেই সাথে লিনার জীবন ও শেষ হয়ে গেলো।
ডাক্তারের কাছে যেতে হবে আজ।লিনা সিদ্ধান্ত নিলো একবার তার জন্মদাতার মুখোমুখি হবে।সম্ভব হলে আজকেই।
সেই ভেবেই লিনা বের হলো। লিনা সেই মানুষটাকে চেনে,তার বাড়িও চেনে।
কামরুল হাসানের গাড়ি গেইটের সামনে আসতেই লিনা সামনে গিয়ে দাঁড়ায়। কামরুল হাসান লিনাকে দেখে চমকে উঠেন।এই মেয়েটা এখানে!
ড্রাইভার তার দিকে তাকাতেই তিনি গাড়ির দরজা খোলার ইঙ্গিত দেন।
বের হয়ে লিনাকে উদ্দেশ্য করে জিজ্ঞেস করলেন, “কি ব্যাপার? তুমি এখানে কেনো?”
লিনা কামরুল হাসানের দিকে তাকায়। ছোট খাটো একজন মানুষ কামরুল হাসান। লিনা ও তার মতোই হয়েছে। ইকবাল,ইশতিয়াকের মতো অতো লম্বা হয় নি।
লিনার ঠোঁট কাঁপে অভিমামে,গলা বুঁজে আসে কান্নায়।
কামরুল হাসান বিরক্ত হয়ে তাকান লিনার দিকে।এই মেয়্র কিসের জন্য এলো!
লিনা ধরা গলায় বললো, “আমি আপনার কাছে এসেছি।আমি বুঝতে পারছি না আমার কী করা উচিত বা কার কাছে যাওয়া উচিত। আমার তো কেউই নেই এই দুনিয়ায়?”
“সো?আমি কী করবো?আমার কাছে কেনো এসেছো?আমি তোমার কেউ না এটা মাথায় রেখো।”
লিনা বিস্মিত হয়ে তাকিয়ে বললো, “আপনি আমার কেউ না?”
কামরুল হাসান এদিক ওদিক তাকিয়ে গলা নামিয়ে বললো, “লিসেন,তোমার মা শায়লা একজন প্রফেশনাল প্রস্টিটিউট ছিলেন।সে আমার সাথে বেডে গিয়েছে নিজের বিজনেস ডিল ফাইনাল করতে।সেখানে কোনো কমিটমেন্ট ছিলো না।
আমি তার সঙ্গ উপভোগ করতাম। কিন্তু আমার কোনো সন্তান চাই নি তার গর্ভে। আমার ওয়াইফ আছে।আমার দুই মেয়ে আছে। তাদের বাহিরে আমার কোনো সন্তান নেই।তুমি একান্তই শায়লার।
নেক্সট টাইম আর কোনো কারণে আমার সামনে আসবে না। আমার ব্যাকগ্রাউন্ড জানো নিশ্চয়!
মাটির সাথে মিশিয়ে দিতে ও দ্বিতীয় বার ভাববো না আমি।নাউ গেট আউট।”
লিনা অপলক তাকিয়ে থাকে।অভিযোগ জানানোর জায়গা লিনার নেই।
কি অদ্ভুত ভাগ্য তার!
কামরুল হাসান ভেতরে চলে গেলেন।এই মেয়েটা দ্বিতীয় বার আসলে এর একটা ব্যবস্থা করতে হবে তার।
আগামী নির্বাচনে তিনি ও দাঁড়াবেন।সুতরাং কোনো কেচ্ছা কাহিনি বের করার সুযোগ কাউকে দিবেন না।
লিনা পা ফেলতে পারছে না।
লিনার রোগটা অদ্ভুত। ফাংশনাল নিউরোলজিকাল ডিজর্ডার।এমন রোগের নাম লিনা জীবনে শোনে নি।অথচ সেই রোগ বয়ে বেড়াতে হচ্ছে তাকে।
লিনা পা টেনে গাড়ি পর্যন্ত যেতে পারলো না।ডান পাশ যেনো অসাড় হয়ে গেছে এক মুহূর্তেই।
লিনার চোখের সামনে সবকিছু ঝাপসা হয়ে আসে।যেনো কোনো ঘন অন্ধকার ধেয়ে আসছে তার দিকে।লিনা দিশেহারা হয়ে যায়। খুব শক্ত করে আঁকড়ে ধরার মতো একটা মানুষ নেই লিনার জীবনে।
ড্রাইভার ছুটে এসে লিনাকে ধরে।
আপন মানুষ হারিয়ে গেলে পর মানুষই এভাবে আপন হয়ে উঠে মনে হয়। লিনার বুকের ভেতর হাহাকার করে।
কেউ নেই তার।
এই বিশ্বব্রহ্মাণ্ড জুড়ে কোটি কোটি মানুষ থাকলে তার কেউ নেই।
আর তার জন্য সে নিজেই দায়ী এটা লিনা জানে।
সীটে হেলান দিয়ে লিনা ড্রাইভারকে জিজ্ঞেস করলো, “কাকা,তুমি কী ছোট ভাইয়ার বউ কোথায় থাকে সেটা জানো?”
ড্রাইভার চমকে উঠে।
লিনা নিজেও চমকায় নিজের প্রশ্ন শুনে।ছোট ভাইয়ার বউ!
ইরাকে কী লিনা কখনো ভাইয়ের বউ হিসেবে মেনে নিয়েছে?
না তো!
তাহলে আজ যখন এই ধরায় তার আপন কেউ নেই তখন মন কেনো ইরাকে ভাইয়ের বউ বলে ভাবছে!
তবে কী সে আশ্রয় খুঁজছে?
লিনা চোখ বন্ধ করে। তারপর অস্ফুটস্বরে বলে, “থাক কাকা,আমাকে বলো না।কখনো বলো না।”
শারমিনের কোমড় ভেঙেছে সাগরের বিয়ের প্রায় ২৫ দিন পর।সিড়ি দিয়ে নামতে গিয়ে এই অঘটন ঘটিয়েছে।
হাসপাতালে ১৫ দিন থেকে যেদিন রিলিজ দেওয়া হবে ইরা অ্যাম্বুলেন্স নিলো।
গাড়ি থামার পর শারমিন অবাক হয়ে বললো, “তোরা আমাকে এখানে নিয়ে এলি কেনো?”
সাগর নিজেও বুঝতে পারছে না ইরার কান্ডকারখানা। ইরা ইশারায় ভাইকে চুপ থাকতে বলে।
মা’কে বললো, “তোমাকে তোমার বাড়িতে আনবো না?কোথায় নিবো?”
“এখানে আমার সেবাযত্ন করবে কে?”
“তোমার ভাড়াটিয়ারা আছে মা।তারা করবে।”
শারমিন বিরক্ত হয়ে যায় ইরার কথা শুনে। বিয়ের পর কী এই মেয়ের মাথা খারাপ হয়ে গেছে না-কি!
“কী আবোলতাবোল বকছিস!ওরা আমার কেউ হয়?”
“ওরাই তোমার আপন মা।ওরা তোমার বাসায় ভাড়া থাকে।তোমাকে টাকা দেয়।তোমার কাছে তো যে টাকা দিতে পারে সে আপন হয়।তাহলে ওরাই তো তোমার সবচেয়ে বেশি আপন মা।আমি আর ভাইয়া তোমার কেউ না।”
শারমিন বুঝতে পারলো ইরার কথার মানে।বুঝতে পেরে লজ্জা পেলেও জোর গলায় বললো, “অনেক বড় বড় কথা বলতেছিস তুই। কী হবে তোরা না দেখলে আমাকে?”
“আমি ও তো এটাই বলছি মা।আমরা না দেখলেও তোমার কিছুই হবে না।আমাদের যেটুকু করার ছিলো আমরা করেছি।ভাইয়া,চলো এবার।”
শারমিন ভেবেছিলো জোর গলায় কথা বলে সবাইকে চুপ করিয়ে রাখবে কিন্তু ইরার কথায় বুঝতে পারলো সে ভুল ভেবেছে।
ইরাকে শারমিনের বিশ্বাস হয় না।ইরা চলে যাবে তিনি বুঝে গেছেন।
উপায় না পেয়ে কাঁদো কাঁদো গলায় সাগরকে ডেকে বললেন, “বাবা,তুই ও আমাকে এভাবে ফেলে রেখে যাবি?আমি জানি আমি অন্যায় করেছি।আমি তো তোদের মা।আমার থেকে দূরে চলে গেলে আমার কী হবে?”
সাগর ইরার দিকে তাকায়।
ইরার হাসি পায়।
দুনিয়ার সবাই শেষ পর্যন্ত সবটা বুঝতে পারে কিন্তু সময় শেষ হলে কেনো বোঝে?
এই ভাবনা যদি শারমিনের আগে হতো কী ক্ষতি হতো!
ইরা শারমিনের দিকে তাকিয়ে সাগরকে বলে, “মা’কে তুমি তোমার কাছে রাখতেই পারো ভাইয়া।কিন্তু দেখো,ওনার কোনো কিছু নিয়ে কোনো বাড়াবাড়ির জন্য ভাবীকে যাতে সাফার করতে না হয়।”
মা’য়ের দিকে তাকিয়ে বললো, “ভাবীকে অন্তত শান্তি দিও।নিজের সন্তানের সাথে যা করেছ,পরের মেয়েটার সাথে তেমন করতে যেও না।তার কোনো ঠেকা নেই তোমার সেবা করার।সে যেটুকু করবে সেটুকু তোমার অতিরিক্ত পাওয়া। তাই সেটাকে বাধ্যতামূলক ভেবে তাকে ক্ষত-বিক্ষত করো না মা।সবাই সবকিছু সবসময় সহ্য করতে পারে না।এবার অন্তত নিজেকে বদলাও।ছেলে,ছেলের বউকে নিয়ে ভালো থাকো।”
শারমিন চুপ থেকে কিছুক্ষণ পর জিজ্ঞেস করে, “তুই থাকবি না আমাদের সাথে?তোর জামাই তো দেশে নাই এখন।”
ইরার মুখ শুকিয়ে যায়।সন্তানের কোনো খুশির মুহূর্ত, কষ্টের মুহূর্ত সে সবার আগে নিজের মায়ের সাথে শেয়ার করে। অথচ তার এমন মা যার কাছে কখনো কিছু বলতে পারে নি। যে নিজের লোভের জন্য সন্তানের বিপদের সময়েও তাকে কাছে জায়গা দেয় নি।
সাগর বললো, “আর তিন দিন পরেই ইরা চলে যাবে মা।ইউকে চলে যাবে ওর হাজব্যান্ডের কাছে।”
শারমিন মেয়ের দিকে তাকায়। ইরার চোখ ভিজে উঠছে।ইরা অন্যদিকে তাকিয়ে বললো।
প্রিয় ইরাবতী পর্ব ৩৬
শারমিন আর কিছু বললো না।
অসুস্থ না হলে হয়তো এখনো সে ছেলে মেয়েদের কাছে ফিরতো না।কিন্তু আজকে শারমিনের মনে হচ্ছে কিছুটা বাড়াবাড়ি করে ফেলেছেন তিনি।
মনে হলেও কাউকে কিছু বলতে পারলেন না।
