Home প্রিয় রাগিনী প্রিয় রাগিনী পর্ব ১৮

প্রিয় রাগিনী পর্ব ১৮

প্রিয় রাগিনী পর্ব ১৮
লামিয়া ইসলাম শাম্মী

– আমি একদম হান্ড্রেড পার্সেন্ট সিওর শুভ্রের ওই মেয়ের প্রতি কোনো না কোনো দূর্বলতা আছে।
সামনে থাকা মেয়েটির কথা শুনে, অন্ধকারে থাকা ওপর পাশের মানুষটির চোখ জ্বলে উঠলো।
হাতের ইশারায় সামনে থাকা মেয়েটিকে যেতে বললো। মেয়েটি দ্রুত স্থান ত্যাগ করতেই, অন্ধকারে থাকা মানুষটি পাগলের মতো রুমে এটা ওটা ছুড়তে শুরু করলো।

আর বিরবির করে কিছু বলতে লাগলো।
হাতের সামনে যা পাচ্ছে সব ছুঁড়ে মারছে।
একসময় পাগলামি করতে করতে ক্লান্ত হয়ে বসে পড়লো ফ্লোরে।
তারপর বিরবির করে বললো—
– যেই জিনিসের উপর আমার চোখ একবার লেগে যায়, সেই জিনিস আমি যেকোনো মূল্যে পেয়ে ছাড়ি। আর আমার রাস্তায় কেউ আসলে তাকে আমি জানে মারি।
যেটা আমার সেটা শুধু আমারই।
বলেই রুম কাঁপিয়ে হেঁসে উঠলো।

আরও গল্প পড়তে আমাদের গ্রুপে জয়েন করুন

কিছুদিন ধরে তায়েবকে মন মরা লাগছে। না ঠিক মতো খাওয়া দাওয়া করে আর না ঠিক মতো কারোর সাথে কথা বলে। এই নিয়ে বেশ চিন্তিত তাহমিনা বেগম। হাসি খুশি ছেলেটার হঠাৎ কী হলো ভেবে পাচ্ছে না। তাই তায়েবা আর মাহিরকে জিজ্ঞেস করেছিলো, তারা বলেছে
– আমাদের সাথে থাকলে তো ভালোই থাকে। কোনো সমস্যা হলে জানাবে আমাদের, তুমি শুধু শুধু চিন্তা করো না।
কিন্তু মায়ের মন তো আর মানে না। তাই সে চিন্তা করেছে আজকে তায়েবের সাথে সরাসরি কথা বলবে।
সকাল সকাল রাশেদা বেগম খান বাড়ির ছেলেমেয়েদের নাস্তা করার জন্য ডেকে পাঠিয়েছে। সবাই নাস্তার টেবিলে জড় হয়ে বসে আছে। শুধু নেই লামিয়া। লতিফা বেগম রেগে রাশেদকে বললো

– লামিয়া কখন আসবে? ওকে ফোন কর তাড়াতাড়ি।
রাশেদ লতিফা বেগমের দিকে তাকিয়ে বললো
– ওহো মেজমা, এখনই চলে আসবে। তুমি খাবার বারো।
লতিফা বেগম খাবার বারতে বারতে বললো
– আসুক আজকে বাসায়, ওর ঠ্যাং ভেঙে ঘরে আটকে রাখবো। দিন দিন পা বাড়ছে ওর।
এতোক্ষণ লাবিব মন দিয়ে রাশেদ আর লতিফা বেগমের কথা শুনলো। যা বুঝলো, লামিয়া বাসায় নেই। তা শুনে তার বিরক্ত লাগছে বেশ। তাই রাশেদের উদ্দেশ্যে বললো

– লামিয়া কোথায় গিয়েছে? ওও কী বাসায় নেই?
রাশেদ ফোনে মেসেজ করতে করতে বললো
– না, ওও ওর বান্ধবীর বাসায় গিয়েছে। কালকেই আসতে চেয়েছিলো, কিন্তু বৃষ্টির কারণে আর আসতে পারে নি।
লাবিব আর কিছু বললো না।
খাবার গেয়ে সবাই একে একে অফিসে রওনা হলো।
তায়েব খাবার শেষ করে সোজা তার রুমে চলে গেলো।
তাহমিনা বেগম আড়চোখে দেখলো। হামিদা, তায়েবা, শারমিনদের বললো
– চল রুমে যেয়ে আড্ডা দেই।
হামিদার কথায় সম্মতি জানিয়ে সবাই রুমে চলে গেলো। মাহিরও নিজের রুমে চলে গেলো।
কাজ শেষ করে তাহমিনা বেগম উপরে উঠে তায়েবের রুমের সামনে এসেই ভ্রু কুঁচকে ফেললেন।
গলা ছেড়ে কয়েকবার তায়েবকে ডাক দিলো কিন্তু কোনো সাড়াশব্দ পেলো না। ততক্ষণে হামিদা, মাহির, সবাই এসে তায়েবের রুমের সামনে জড়ো হলো।
তাহমিনা বেগম বেশ ক্ষেপে গিয়ে আরো একবার দরজা ধাক্কা দিয়ে গলা ফাটিয়ে বললো

– এই এই তায়েব, দরজা লাগিয়ে কী করছিস? দরজা খোল বলছি। দরজা খোল।
তখনই তায়েব বিরক্ত হয়ে দরজা খুলে বললো
– আরে দরজা খুলছি তো, কী হয়েছে?
তাহমিনা বেগম রেগে বললো
– দরজা লাগিয়ে কী করছিস তুই?
তায়েব বুক ফুলিয়ে বিরক্ত হয়ে বললো
– আমি বড় হয়েছি। আমার একটা প্রাইভেসি আছে না?
তাহমিনা বেগম রেগে রুম কাঁপিয়ে তায়েবের গালে থাপ্পড় বসিয়ে দিলো।

– ইহহ, বড় হয়েছে প্রাইভেসি! হাইগ্গা সুচেনা, তার আবার প্রাইভেসি! এই, আর কোনো সময় দরজা লাগাবি না। দরজা সবসময় খোলা রাখবি।
বলেই রাগে গজগজ করতে করতে চলে গেলো।
তায়েব গালে হাত দিয়ে হা করে মায়ের যাওয়ার দিকে তাকালো। পাশে তাকাতেই দেখলো, সবাই তার দিকে তাকিয়ে দাঁত বের করে হাসছে।
তায়েব থতমত খেয়ে গেলো। মানে এখানে খান বাড়ির মেয়েরাও আছে? নিজের বাড়ির সবার সামনে মার খাওয়া আলাদা কথা, কিন্তু খান বাড়ির মেয়েদের সামনে মার খেলাম? ভেবে আবার মায়ের যাওয়ার দিকে তাকিয়ে মিনমিন করে বললো

প্রিয় রাগিনী পর্ব ১৭ (২)

– খান বাড়ির মেয়েদের সামনে এমন ইজ্জত না দিলেও পারতা মা।
বলেই তাড়াতাড়ি লজ্জায় রুমে চলে গেলো।
তা দেখে সবাই হো হো করে হেসে উঠলো।

প্রিয় রাগিনী পর্ব ১৮ (২)