Home প্রিয় রাগিনী প্রিয় রাগিনী পর্ব ৩৫

প্রিয় রাগিনী পর্ব ৩৫

প্রিয় রাগিনী পর্ব ৩৫
লামিয়া ইসলাম শাম্মী

শুভ্র বুকের বা পাশে হাত চেপে মাটিতে বসে কাঁদছে। পুরো বাড়ি খোঁজা হয়ে গিয়েছে কিন্তু লামিয়ার কোনো দেখা মেলিনি এখনো।
কারেন্ট ও এখনো আসে নি তা দেখতে লাবিব গিয়েছে সেখানে। চারপাশ অন্ধকার সবাই নিজেদের ফোনের ফ্ল্যাশ অন করে রেখেছে।

শুভ্রর নিজেকে পাগল পাগল লাগছে। বুকের মধ্যে তীব্র যন্ত্রণা শুরু হয়েছে। আশেপাশে খুঁজে লামিয়া আর কায়সার কে যখন দেখতে পাইনি এখনো মনের মধ্যে হারানোর ভয় হচ্ছে তাঁর। এই মেয়ের যদি কিছু হয়ে যায় তাহলে সে তো বাঁচতে পারবে না। তাঁর বেঁচে থাকার একমাত্র অবলম্বন লামিয়া। শুভ্র আর কিছু ভাবতে পারছে না তার বুকে অসহ্য ব্যথা হচ্ছে। চোখ বেঁয়ে পানি পড়ছে। চোখ মুছে শুভ্র উঠে দাঁড়িয়ে দ্রুত বাড়ির দিকে দৌড়াতেই হঠাৎ চারপাশে লাইট জ্বলে উঠতেই সামনে কায়সার কে দেখতে পেয়ে শুভ্র দাঁড়িয়ে গেলো। কায়সার দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে নিহিড়ের সাথে কথা বলছে কথা বলতে বলতে সামনে তাকাতেই চোখ পড়লো শুভ্রর দিকে। তা দেখে কায়সার শুভ্রর দিকে তাকিয়ে বাঁকা হেঁসে কিছু বলতে যাবে তার আগে আবার লাইট অফ হয়ে গেলো সবাই আবার হৈচৈ শুরু করতেই স্টেজের উপর ফোকাস লাইট জ্বলে উঠলো।

আরও গল্প পড়তে আমাদের গ্রুপে জয়েন করুন

সবাই হৈচৈ বাদ দিয়ে স্টেজের উপর চোখ রাখলো।
শুভ্র কায়সার কে রেখে দ্রুত বাগানে এসে দাঁড়ালো । তখনই স্পিকার বক্সে গান বেজে উঠতেই স্টেজের মাঝে উল্টো দিকে ঘুরে সবুজ রঙের শাড়ি পড়ে মাজা দুলাচ্ছে কেউ অন্ধকারে থাকায় তাঁকে দেখা যাচ্ছে না । তাঁর মধ্যেই এক সাইড থেকে মাহির আর ইমন গলায় উড়না ঝুলিয়ে স্টেজে উঠে গলার উড়না মাথার উপর ঘুরাতে ঘুরাতে গাইতে গাইতে বললো

~ Arey o baakhri , Dilon ki saakhri
Sun Teri le zin
Varna tu jhim jhim
বলেই তাঁরা দাঁড়িয়ে যেতেই আরেক সাইড থেকে তায়েব আর ইভান হাত নাড়িয়ে নাচতে নাচতে স্টেজে উঠে শাড়ি পড়া মেয়েটির চারদিকে ঘুরতে ঘুরতে গেয়ে উঠলো
~ palat – ti chalti jaaye
Dill kare haaye haaye
Jawaan kar dill chali kyun
Kar ke Tu bye bye

বলেই মেয়েটির আরেক পাশে দাঁড়িয়ে তালে তালে নাচতে লাগলো।
তখনই মেয়েটির পিছন থেকে অন্ধকার থেকে সবুজ পাঞ্জাবি ফতুয়া পড়া একটি লোক বেরিয়ে আসতেই সবাই হা করে তাকিয়ে আছে সেদিকে। কারণ লোকটি আর কেউ না শফিকুল খান। শফিকুল খান অন্ধকার থেকে বেরিয়ে এসে উল্টো দিকে ঘুরে থাকা মেয়েটির দিকে তাকিয়ে ভাব নিয়ে গেয়ে উঠলো
~ Naram Garam Tu jali jali
Meri pataakha kahan chali
Naram Garam Tu jali jali
Meri pataakha kahan chali

বলেই মেয়েটির হাত ঘুরিয়ে সামনে ঘোরাতেই ফোকাস লাইট অফ করে চারপাশে লাইট জ্বলে উঠতেই সবাই মেয়েটিকে দেখে ৪০০ ভোল্টের ঝাটক্কা খেলো মনে হয় সবাই। আনিসুল সাহেব জুস খেতে খেতে নাচ দেখছিলো কিন্তু শাড়ি পড়া মেয়েটি কে দেখে খেক খেক করে কেশে উঠলো। কারণ তাঁর আম্মা মানে আজমেরী বেগম এতোক্ষণ কোমড় দুলাচ্ছিলো। আনিসুল সাহেব হতবাক হয়ে তাকিয়ে আছে তাঁর মায়ের দিকে।
আজমেরী বেগম কোমড় দুলিয়ে শফিকুল খান এর হাত ধরে ঘুরে নাচতে নাচতে গেয়ে উঠলো

~ pal pal na maane Tinku jiya
Haan Tinku jiya
Isk ka Manjan Ghisey hai piya
বলেই নাচতে লাগলো তাঁর সাথে শফিকুল খান, ইভান, ইমন, মাহির, তায়েব ও ।
তখনই তায়েবা স্টেজে উঠে শাড়ির আঁচল উড়িয়ে তাদের সাথে তালে তাল মিলিয়ে নাচতে নাচতে গেয়ে
~ pal pal na maane Tinku jiya
Haan Tinku jiya
Isk ka Manjan Ghisey hai piya
তখনই পাশ থেকে মাহির,তায়েব, এক সাইডে আর ইভান, ইমন, শফিকুল খান এক সাইডে যেয়ে তায়েবা আর আজমেরী বেগম কে মাঝে রেখে গেয়ে উঠলো

~ sar pe masti chadhi
Main Deewaana Ho Gaya
Jawaani ka Mehnga Khazaana Ho Gaya
পাশ থেকে মাহির , তায়েব গেয়ে উঠলো
~ Kaali Aankhon Se Kitna
Hungama Ho Gaya
তাদের বলা শেষে শফিকুল খান আজমেরী বেগম এর হাত ধরে টেনে গেয়ে উঠলো
~ Jab Jab Dekhe Tujhe Tinku Jiya
Tinku Jiya, Isak ka Engine Jalaaye Jiya

বলেই সবাই এক সাথে নাচতে লাগলো।
এইদিকে সবাই হা করে তাকিয়ে আছে স্টেজের দিকে। শফিকুল খান আর আজমেরী বেগম যে তাদের এতো বড় সারপ্রাইজ দিবে তা কেউ ভাবতে পারে নি। তাদের এমন নাচ দেখে মনে হচ্ছে তাঁরা এখনো যুবক যুবতী।
ওইদিকে শুভ্র তাদের দেখে আশেপাশে লামিয়া কে খুঁজে যাচ্ছে কিন্তু তাঁর দেখা নেই। তাঁর দলের সবাই আছে এখানে এমন কি নাসির কায়সার ও কিন্তু লামিয়া কোথায় লামিয়া কে দেখতে না পেয়ে শুভ্র অস্তির হয়ে উঠলো। পাশেই নাসির কায়সার মনের সুখে জুস খাচ্ছে আর এনজয় করছে নাচ।

হঠাৎ আবার লাইট অফ হয়ে একটা টেবিলে ফোকাস লাইট গিয়ে পড়তেই সবার দৃষ্টি সেদিকে রাখলো। শুভ্র চোখ ঘুরিয়ে টেবিলে চোখ রাখতেই মুখ আপনা আপনি হা হয়ে গেলো। ওইদিকে নাসির কায়সার হাসতে হাসতে জুস মুখ দিয়ে সেদিকে তাকাতেই চমকে উঠলো তাঁর হাত থেকে আপনা আপনি জুস পড়ে গেলো। দ্রুত চোখ ঘুরিয়ে বাগানের মেয়েদের সারিতে তাকাতেই ভুত দেখার মতো চমকে উঠলো। সেখানে লাবিব এর পাশে সবুজ রঙের শাড়ি পড়ে দাঁড়িয়ে আছে তাঁর বুলবুলি তাহলে এই বুলবুলি কে?? ভেবেই আবার টেবিলের দিকে তাকালো।
টেবিলের উপর দাঁড়িয়ে আছে লামিয়া। পরনে সবুজের মধ্যে সোনালী রঙের কাতানের আনাড় কলি, বেণি করা চুল, চোখে লাগানো গোল আকৃতির সানগ্লাস।
তখনই গান বাজতেই লামিয়া টেবিলের উপর দাঁড়িয়ে নাচতে নাচতে গেয়ে উঠলো

~ Tinku Hamara Cinema ka Deewana
Zor Zor Se Gayee Gaana
Zor Zor Se Gayee Gaana
Ho Tinku Hamara Cinema ka Deewana
Zor Zor Se Gayee Gaana
Zor Zor Se Gayee Gaana

বলেই পাশে হাত বাড়িয়ে দিতেই ফারুক খন্দকার এসে লামিয়ার হাত ধরে হাতের উপর পিঠে চুমু দিয়ে লামিয়া কে টেবিল থেকে নামিয়ে লামিয়া কে ঘুরিয়ে গেয়ে উঠলো
~ Aisi Villain Jaisi Baatein Na Kar
Ban Jaa Heroine Dhadka De Jiya
বলেই লামিয়ার কোমড় ধরে নাচাতে নাচাতে স্টেজে উঠে গিয়ে তালে তালে নাচতে লাগলো ফারুক খন্দকার, শফিকুল খান, আজমেরী বেগম, তায়েব, তায়েবা, মাহির, লামিয়া,ইমন, ইভান ।

লামিয়া কে দেখে শুভ্রর মুখে হাসি ফুটলো। স্বস্তি শ্বাস ফেলে পাশে তাকাতেই দেখলো কায়সার স্ট্যাচু হয়ে বসে আছে। মুখ দেখে মনে হচ্ছে ঝাটক্কাটা জোরেই খেয়েছে। কায়সারের মুখ দেখে শুভ্রর ভীষণ হাঁসি পাচ্ছে।
নাসির কায়সার বেশ কনফিউজড কে এই মেয়ে? কোথা থেকে ডাবল বুলবুলি আসলো তার? আর এই দুজন মেয়ের মধ্যে কে তার আসল বুলবুলি, তাঁর ঘুম হারাম করা আসল বুলবুলি কে?? ভেবেই কায়সারের মাথা ফেটে যাচ্ছে। নিহিড় ও তাকিয়ে আছে তাদের দিকে। কায়সার নিহিড় কে ডেকে বললো ” এই দুজনের মধ্যে আমার বুলবুলি কে তার খোঁজ নেও। আর এই মেয়ে কোথা থেকে আসলো? কে এই মেয়ে এইটার ও খোঁজ নেও তাড়াতাড়ি। ”
কায়সারের কথা শুনে নিহিড় ও মাথা নাড়িয়ে চলে গেলো।

লামিয়া দের নাচ শেষ হতেই সবাই তালি দিয়ে উঠলো।
এতো বড় সারপ্রাইজ দেওয়ার জন্য আনিসুল সাহেব বেশি বেশি করে তালি দিচ্ছে। সবার তালি শেষ হয়ে গেলেও আনিসুল সাহেব এর তালি শেষ হচ্ছে না দেখে সবাই তাঁর দিকে তাকালো। আনিসুল সাহেব তা দেখে বলে উঠলো ” আমি আজ অনেক খুশি সব চেয়ে বেশি খুশি হয়েছি কারণ আজ আমার আম্মা মঞ্জলিকা সেজে কাউকে ভয় দেখায় নি। ” বলেই নাটক করে নাক মুছলো তা দেখে আজমেরী বেগম ভ্রু কুঁচকে তাকালো তাঁর দিকে। আনিসুল সাহেব এর কথা শুনে সবাই হেঁসে উঠলো।

লামিয়া সবাই কে থামিয়ে স্পিকার মাইক হাতে নিয়ে বললো ” আমার প্রিয় আব্বা, আম্মা, চাচা, চাচী, ভাই বোন রা আর আমার প্রিয় কিছু কাল নাগ নাগিনী আত্মীয় স্বজন আশা করি সবাই ভালো আছেন। আমি ওও বহুত ভালো আছি। আমাদের আপাদের মেহেদী সাংগীত অনুষ্ঠানে আসার জন্য সবাই কে ধন্যবাদ। আশা করি সবাই বেশ এনজয় করছেন এবং সামনে আরো এনজয় করবেন। আজ আমরা এই অনুষ্ঠানে আসুন গানের আসর বসাই। তবে টিম আলাদা হবে। যেমন ছেলেরা সব একদলে এবং যে কয়জন মেয়েরা আছে তাঁরা একদলে। ১৫ পয়েন্টে খেলা হবে। যদি ছেলে বা মেয়ে দলের একজন গান না পারে তাহলে সেখান থেকে তাদের এক পয়েন্ট করে কেটে নেওয়া হবে এবং সেই জন খেলা থেকে আউট হয়ে যাবে, তাদের দল থেকে একজন বাদ হয়ে যাবে। আর যে দল জিতবে তাদের জন্য অবশ্য গিফট আছে। আপনারা কি এই খেলায় রাজি আছেন??
হ্যাঁ বলেই চিৎকার করে উঠলো সবাই। তা দেখে লামিয়া হেঁসে বললো তাহলে চলুন খেলা শুরু করা যাক। বলেই স্টেজ থেকে নেমে গেলো।
বড়রা যে যারা আছে তারা সবাই অন্য সাইডে চলে গেলো। কায়সারের জরুরি কাজ পড়াতে চলে গিয়েছে সে সবার থেকছ বিদায় নিয়ে।

আর সব ছোট্ট রা গোল করে বসলো বাগানের মাঝে। তায়েব, মাহির, লামিয়া তায়েবা চলে গেলো হারমনি, গিটার, উকুলেলে, ঢোল আনতে আর সবাই বসে আছে বাগানে। আয়না, হামিদা, আর লামহার মেহেদী দেওয়া ও শেষ। তাঁরা তাঁদের হাত মেলে বসে আছে। তাদের সামনে বসে আছে ছেলেরা।
মাহির রা সব কিছু এনে মাঝখানে রাখলো। শুধু লামিয়ার উকুলেলে বাদে। সেটা লামিয়া তাঁর কোলে নিয়ে বসলো সাইডে। লামিয়া কে সাইডে বসতে দেখে শারমিন বললো ” আমরা তো তেমন গান পারি না লামিয়া যেহেতু পারে তাহলে লামিয়া কে সামনে বসাও।” শারমিনের কথায় সবাই একমত দিতেই লামিয়া কে মাঝে বসালো।
তাঁর সামনে বসে আছে শুভ্র, রাশেদ, সাফওয়ান, আরিফ, আবির, জাহিদ, তায়েব, মাহির, লাবিব, ইভান, ইমন, ফাহিম, সামির এবং শফিকুল খান।
এবং মেয়েদের মধ্যে আছে, লামিয়া, শারমিন, হামিদা,আয়না, লামহা, তায়েবা, ফারিয়া, হাফসা,ছবি, মনিকা, মিলি, তিহা আর আজমেরী বেগম।
খেলা শুরু হতেই আজমেরী বেগম গলা খাঁকারিয়ে গান ধরলো

~ মনের ও বাগানে ফুটিলো ফুল রে
ভ্রমর আজ ফুলোবনে নাই।।।
ভ্রমর আজ ফুলোবনে নাই রে বন্ধু রেএ
ভ্রমর আজ ফুলোবনে নাই।।
আজমেরী বেগম এর গান শুনে ছেলেরা সবাই ভ্রু কুঁচকে তাকিয়ে আছে তাঁর দিকে। তাদের দেখে মনে হচ্ছে এমন গান তাঁরা আজ প্রথম শুনলো। হঠাৎ সামনে থেকে শফিকুল গেয়ে উঠলো
~ বুকের ও ভিতরে রেখেছি গো আদরে
তোমাকে যে দেখাতে চাই।।
তোমাকেএএ যে দেখাতে চাই গো বন্ধু
তোমাকে যে দেখাতে চাই।।

শফিকুল খান আজ আজমেরী বেগম এর গান শুনে সবাই তব্দা লেগে বসে আছে। এইগুলো কোথা থেকে গাইছে তারা বুঝতে পারছে না। ওইদিকে আজমেরী বেগম শফিকুল খান কে মুখ ভেংচি কেটে সব মেয়েদের দিকে তাকিয়ে বললো ” তোরা এতো চিন্তা করছ কেন আমি আছি না দেখবি আমরাই জিতুম।”
তা শুনে শফিকুল খান ছেলেদের বললো ” তোরা যদি মেয়ের কাছে হেরে যাস তাহলে তোরা পুরুষ নামে কলঙ্ক। ”
শফিকুল খান এর কথা শুনে ছেলেরা ক্ষেপে গেলো। পাশ থেকে মাহির নাক ফুলিয়ে বলে উঠলো ” দাদা প্রসংঙ্গ যখন পুরুষত্বের নিয়ে উঠেছে তাহলে যেভাবে হোক জিততে হবেই আমাদের।”
সামনে থেকে হাফসা মুখ বাঁকিয়ে বললো ” হুহহ পাগলের সুখ মনে মনে।”
মাহির হাফসার দিকে শান্ত চোখে তাকাতেই মুগ্ধ হলো। অবশ্য হাফসা কে সে কখনো তেমন চোখে দেখেনি আজ পর্যন্ত। তবে যখন ই এই মেয়ের সামনে আসে তখনই কেমন ভালো লাগা কাজ করে তার ভিতরে।
পাশ থেকে তায়েব বলে উঠলো ” এখন সব বাদ খেলা শুরু করো। ”
তখনই সাফওয়ান হামিদার দিকে তাকিয়ে গেয়ে উঠলো

~ তুই আমার রানী, আমি তোর রাজা রে
পাবি না আমার মতো বাংলা বাজারে।।
পরে নে বেনারসী পালকি সাজা রে
পাবি না আমার মতো বাংলা বাজারে
আমি তোর হিরো, আমি তোর হিরো
আমি তোর হিরো, বাকি সব জিরো।।

সাফওয়ান থামতেই হামিদা লজ্জায় মাথা নিচু করে রেখেছে। তাঁর গাল দুটো লাল টুকটুকে হয়ে আছে। এমনেই এই মেয়েটা বেশ শান্ত আর লাজুক স্বভাবের। হামিদা কে এমন লজ্জা পেতে দেখে সবাই ওহোওও বলে চেঁচিয়ে উঠলো। হামিদা লজ্জায় আরো নুয়ে গেলো। হামিদা গান গাইছে না দেখে ছেলেরা সবাই এক দুই গুনছে দশের মধ্যে গান না গাইলে হামিদা আউট হয়ে যাবে আর তাদের পয়েন্ট কমে যাবে। তা দেখে লামিয়া বেশ বিরক্ত হচ্ছে এতো লজ্জা পাওয়ার কি আছে ভাই। লামিয়া কিছু বলার আগেই হামিদা সাফওয়ান এর দিকে তাকিয়ে গেয়ে উঠলো

~ ওহে শ্যাম তোমারে আমি
নয়নে নয়নে রাখিবো
অন্য কেউরে না আমি চাইতে দিবো ।।
বলেই মাথা নিচু করে ফেললো। সাফওয়ান তাঁর লজ্জাবতী কে দেখে হাসছে। এই মেয়ের এতো লজ্জা কোথা থেকে আসে সে বোঝে না। তবে যখন লজ্জায় তার প্রেয়সীর ফর্সা গাল দুটো লাল টুকটুকে হয়ে উঠে তখন বেশ ভালো লাগে তাঁর কাছে। ভেবেই সাফওয়ান হাসলো।
শুভ্র তখন থেকে দেখছে লামিয়া তাঁর দিকে আড়চোখে তাকাচ্ছে একটু পরপর তা দেখে শুভ্রর বেশ ভালো লাগছে। চোরের মতো তাকাচ্ছে তাঁর দিকে। লামিয়ার দিকে তাকিয়ে মনে মনে হাসলো।
এইবার মেয়েদের থেকে হাফসা মাহিরের দিকে তাকিয়ে গেয়ে উঠলো

~ আসি আসি প্রেম, তবু আসে না
যারে আমি ভালো বাসি সেতো বাসে না
আসি আসি প্রেম তবু আসে না
যারে আমি ভালো বাসি সেতো বাসে না
মন মনটা তুইয়া তুইয়া মন চাইরে ঘুড়ি হইয়া
মন মন তার মনে উইরা যা যা যা।।
উও আ আ
উও আ আ
উও আ আ
উও উও আই ই য়েএএ।।।

বলে থামলো হাফসার। সামনে তাকাতেই দেখলো মাহির হতভম্ব হয়ে তাকিয়ে আছে তাঁর দিকে। তা দেখে পাশ ফিরে তাকাতেই দেখলো সবাই হা করে তাকিয়ে আছে। তা দেখে হাফসা ক্যাবলা হাঁসি দিয়ে বললো
” ওই আর কি এই টাই মনে আসছিলো তাই গেয়ে দিলাম।”
” উওও আ আ এইটা কি ছিলো রে হাফসা?” চোখের পলক দ্রুত ফালিয়ে বললো তায়েব।
হাফসা বিরক্ত হয়ে পাশ থেকে বালিশ ছুঁড়ে মারলো তায়েব এর মুখে। মাহির দাঁতের পাটি বের করে তাকিয়ে আছে হাফসার দিকে। হাফসা সেদিকে তাকিয়ে অন্য দিকে মুখ ঘুরিয়ে তাকালো। তা দেখে মাহির মুচকি হেসে হাফসার দিকে তাকিয়ে গেয়ে উঠলো

~ বিয়াইন আমার দেখতে সুন্দর
ডাগর ডাগর চোখ
বিয়াইন সাব এর জন্য পাগল
হাজার হাজার লোক হায়রে
হাজার হাজার লোক।।
মাহিরের গান শুনে হাফসা তাকালো মাহিরের দিকে। দুজনের চোখাচোখি হতেই হাফসা চোখ নামিয়ে নিলো।
তখনই পাশ থেকে তায়েব বেশ ভাব নিয়ে ফারিয়ার দিকে তাকিয়ে গেয়ে উঠলো

~ Hey You, listen to me
You are my love জানো তুমি
তুমি তুমি তুমি করে জেগে থাকি রাত ভোরে
লাল নীল স্বপ্নের ভীড়
দুজনেই কাছাকাছি বালুচর জুরে আছি
হতে চাই একলা নিবিড়
ও মধু ও মধু আই লাউ ইউ, আই লাভ ইউ।।
বলে থামতেই দেখলো ফারিয়া ভ্রু কুঁচকে তাকিয়ে আছে তাঁর দিকে। এদিকে গানে গানে যে তায়েব ফারিয়া কে প্রপোজ করে দিয়েছে তা বুঝতে কারোর বাকি নেই।
তায়েব এর গান শুনে ফারিয়া ও মুখ বাঁকিয়ে গেয়ে উঠলো

~ কালো মানিক হাত পেতেছে
চাঁদ ধরিতে চায়
ব্রাহ্মণ কী আর হাত বাড়ালে
চাঁদের দেখা পায় ।।
বলেই তাকালো তায়েব এর দিকে। ফারিয়ার গান শুনে তায়েব এর মুখ চুপসে গেছে তা দেখে সবাই মুখ চেপে হাসছে।
এইবার জাহিদ তায়েবার দিকে তাকিয়ে গেয়ে উঠলো

~ আসসালামুয়ালাইকুম বিয়াইন সাব।।
তায়েব তা দেখে হাত সামনে নিয়ে সালাম দেখিয়ে সেও গেয়ে উঠলো
~ ওয়ালাইকুম আসসালাম বিয়াই সাব।
জাহিদ ~ কেমন আছেন বিয়াইন সাব
তায়েবা ~ বুকে বড় জ্বালা
জাহিদ ~ কিসের জ্বালা বিয়াইন সাব
তায়েবা ~ নয়া প্রেমের জ্বালা
জাহিদ ~ এই জ্বালাতে জ্বলে নাই কোন শালি – শালা
তাদের দুজনের গান থামতেই লাবিব ছবির দিকে তাকিয়ে গেয়ে উঠলো

~ বুক চিন চিন করছে হায়
মন তোমায় কাছে চায়
আমরা দুজন দুজনারই
প্রেমের দুনিয়ায়
তুমি ছুঁয়ে দিলে হায় আমার কি যে হয়ে যায়।।
ছবি বেশ বিরক্ত হয়ে তাকিয়ে আছে লাবিব এর দিকে। ওই মনিকার সাথে সারাদিন রং ঢং করে এখন নাকি তার বুক চিন চিন করছে আমার জন্য। ভেবেই মুখ বাঁকিয়ে লাবিব এর দিকে তাকিয়ে গেয়ে উঠলো

~ Balam mere cheater ho gaye
Baaj se teetar ho gaye
Padosan ki nazron ke
Attention seeker ho gaye
বলেই অন্য দিকে মুখ ঘুরিয়ে নিলো। লাবিব অসহায় চোখে তাকালো ছবির দিকে।
আরিফ আয়নার দিকে তাকিয়ে মুচকি হেসে গেয়ে উঠলো

~ তুমি চাঁদের জোছনা নও
তুমি ফুলের উপমা নও
নও কোনো পাহারি ঝর্না
আয়না।।।।
তুমি আরিফের হৃদয়ের আয়না।।।
আরিফের গান শুনে সবাই হেঁসে উঠলো। আয়না হেঁসে গান ধরলো

~ তুমি সাগর নীলিমা নও
তুমি মেঘের বরষা নও
তুমি শুধু আমারই গয়না
আয়না।।।।।
আমি শুধু আরিফের আয়না।।।
বলেই হেসে উঠলো তাঁর সাথে সবাই হাতে তালি দিলো।
আরিফের গান শেষ হতেই রাশেদ আড়চোখে শারমিনের দিকে তাকিয়ে গান ধরলো

~ চাইনা মেয়ে তুমি অন্য কারোর হও
পাবো না কেউ তোমাকে তুমি কারোর নও
তুমি তো আমারি জানো না
এই হৃদয় তোমারি ওওও
তোমাকে ছাড়া আমি বুঝি না কোনো কিছু
যে আজ পৃথিবী জেনে যাক তুমি শুধু আমার।।
রাশেদ থামতেই শারমিন গেয়ে উঠলো
~ তুমি দেখিয়া ও দেখলা না
তুমি শুনিয়া ও শুনলা না
তুমি জ্বালাইয়া গেলা মনের আগুন
নিভাইয়া গেলা না না। ।
বলেই রাশেদ এর দিকে তাকাতেই দেখলো রাশেদ তাঁর দিকে তাকিয়ে আছে।
আবির লামহার দিকে তাকিয়ে গেয়ে উঠলো

~ জানি না কোন পাড়ায়
সারা দে ইশারায়
প্রেমের আজ ABCD পড়ে শোনাবো
করবো entry আমি guarantee
তোকে commentary করে শোনাবো
Daddy কে তোর আমি শশুর বানাবো।।
আবিরের গান শুনে লামহা ছোট্ট ছোট্ট চোখ করে তাকালো। লামহাকে কোনো গান গাইতে না দেখে লামিয়া ভ্রু কুঁচকে তাকালো। তা দেখে লামহা বলে উঠলো ” জানিসই তো আমি গান পারি না। ” বলেই অসহায় চোখে তাকালো। লামিয়া কিছু বলতে যাবে তাঁর আগেই শুভ্র বলে উঠলো ” আপনাদের এক পয়েন্ট কেটে গিয়েছে। আর লামহা আউট।” বলেই হাসলো। লামিয়া লামহার দিকে তাকিয়ে চোখ পাকিয়ে বললো ” তোকে পড়ে দেখে নিবো।
বলেই সামনে ঘুরলো। তারপর আড়চোখে শুভ্রর দিকে তাকিয়ে গেয়ে উঠলো

~ আমি নষ্ট মনে নষ্ট
চোখে দেখি তোমাকে
মন আমার কী চায় বোঝায় কেমনে।।
গান গেয়ে অন্যদিকে ঘুরে তাকালো। সবাই ছোট্ট ছোট্ট চোখ করে তাকিয়ে আছে লামিয়ার দিকে। লামিয়ার গান শুনে শুভ্র হেঁসে লামিয়ার দিকে তাকিয়ে গান ধরলো
~ Mujhe tum chupke
Chupke jab aise
Dekhti ho achchi
Lagti ho..

প্রিয় রাগিনী পর্ব ৩৪

এই প্রথম শুভ্রর গান শুনে লামিয়া চমকে উঠলো। দ্রুত শুভ্রর দিকে তাকালো দুজন দুজনের দিকে তাকিয়ে আছে। শুভ্র যে তাকে উদ্দেশ্য করে গান গাচ্ছে তা লামিয়া বেশ ভালো বুঝতে পারছে। কিন্তু শুভ্রর গানের গলা টা শুনে লামিয়া কোনো মনে হচ্ছে এই গান সে শুনেছে আগেও। লামিয়া অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে শুভ্রর দিকে শুভ্র হেঁসে গান গাইছে লামিয়ার দিকে তাকিয়ে। লামিয়ার মনের মধ্যে হাজারো প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে যার উত্তর সে জানে না। তবে তার কোনো না কোনোভাবে জানতে হবে।

প্রিয় রাগিনী পর্ব ৩৬