Home প্রেমঘোর প্রেমঘোর পর্ব ১০০+১০১

প্রেমঘোর পর্ব ১০০+১০১

প্রেমঘোর পর্ব ১০০+১০১
নার্গিস সুলতানা রিপা

পরশের বুকে শুয়ে আছে রিদি।দুজনে পরম শান্তিতে দুজনকে আগলে রেখেছে।
“পরশ……”
“হুম……”
“ক্ষুদা পায় নি আপনার??”
“তোমাকে খেয়ে মিটে গেছে…..”
“ধ্যাত……”
“হা হা হা হা…..”
“এবার তো উঠি??আবার সাওয়ার নিতে হবে তো….”
“উঠে কি হবে??থাকো না….”
“প্লিজ…..আমার ক্ষুদা পেয়েছে খুব……সাওয়ার দরকার……”
“ক্ষুদা পেয়েছে তো খাবে তাহলে সাওয়ারের কি দরকার আবার??”

“ওফফফ পরশ!!!”
“নাগিনী……”
“হ্যাঁ….আমি নাগিনী আমি জানি…..যতসব…..”
“হ্যায়….গার্ল…..”
“পরশ,শোনোন না….”
“বলো…..”
“বলছিলাম যে…..”
“কি??”
“আসলে…..”
“সোজাশাপ্টা করে বলো…..”
“না মানে,মা…..”
“মা কি??”
“আমাকে কি মা কোনো দিন মনে নিবে না??”
“হয়তো মেনে নিবে…..”
“পরশ!!!আমাকে আপনি মানতে পেরেছেন তো??”

আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন 

“কোনো সন্দেহ নেই…কারণ আমি তোমাকে নিজের মতো করে ভালোবাসতে জানি সো মানতে না পারার কোনো প্রশ্ন উঠে না এখানে…”
“মা কেনো ঐ বাড়িতে চলে গেলো??মা তো এই বাড়িতেই ছিলো….আমাকে না হয় ওনি কষ্ট দিতো তাই বলে……”
“এতে যেনো তুমি আরও কষ্ট পাও তাই…..”
“পরশ!!মায়ের পা ধরে আমি যদি ক্ষমা চাই,মা আমাকে ক্ষমা করবেন না??”
“মা কে যতটা চিনি,ক্ষমা চেয়ে কোনো লাভ হবে না।তার চেয়ে তুমি পারলে ওনাকে বুঝানোর চেষ্ঠা করো যে তুমি আমাকে আর এই সংসার নিয়ে থাকতে চাও তাহলে কিছু একটা হতে পারে”
রিদি দীর্ঘশ্বাস নিয়ে ওঠে গেলো।আটকালো না পরশ।
পরশও চাইছে রিদি নিজে কিছু একটা করুক।

এদিকে নৌশিনকে সাদাদ জোর করছে খেতে যাওয়ার জন্য কিন্তু নৌশিন তো কিছুতেই যাচ্ছে না।
এবার রেগে মেগে সাদাদ ধমক ই দিয়ে ফেললো,
“নৌশিন!!!!কি সমস্যা কি তোমার হ্যাঁ???নয়টার উপরে বাজে……..”
চমকে উঠলো নৌশিন।সাদাদকে এমনিতে ভয় পায় বেচারী।তার উপর সাদাদ যখন জোরে কথা বলে,তখন তো আত্মা লাঁফায় ভয়ে।
“কি হলো??যাবে না খাওয়ার জন্য??কতবার আসলো ভাবী??”
মাথা নিঁচু করে নৌশিন জবাব দিলো,
“ভাইয়া খেয়ে নিক না আগে…..”
“কি??”
“পরে যাই একটু…..”
“থাপ্পর চিনো??আমি কিন্তু শশুড় বাড়ি মানবো না….থাপ্পর লাগাবো একদম…..আর কত পরে খাবে তুমি??মেডিসিন নিতে হবে তো??”
“সাদাদ,চলো না আমরা চলে যাই……”
“মানে??”
“না আসলে,ঐ বাড়িতে চলো না……”

“নৌশিন আমার মেজাজ টা গরম করতেছো কিন্তু তুমি…..আগে খাবে চলো….”
“কাল রাতে ভাইয়া কি না কি বলে ফেলছি…….ঐসব বলে এখন সবার সামনে যাবো কি করে???তাই……”
“তো আমি তো এটাও বলছি যে এখানে খাবার আনি…..তাতেও তোমার আপত্তি…….”
“………”
“কি হলো??আনবো??”
“পরে খাই না একটু…..আসলে খেতে ইচ্ছা করছে না এখন……”
“হ্যাথথ…….”
সাদাদ হাতের ঘড়িটা বিছানায় ছুঁড়ে দিয়ে রোম থেকে বেরিয়ে যায়।
শুধু রোম থেকেই না সবার সামনে দিয়ে বেরিয়ে যাচ্ছে।
“আরে,সাদাদ কোথায় যাচ্ছো বাবা??”
“মামা,একটু বাইরে দরকার আছে……”
“ও মা সে কি…..বসো আগে খেয়ে নাও…… ”
“না মা,পরে খাচ্ছি……”
“আল্লাহ্….কি সব বলো বাবা,খেয়ে যাও একেবারে…..”
“মা একটা জরুরি কাজ আছে……এখন না গেলে প্রব হবে তাই…..আমি বাইরে খেয়ে নিবো…..”
“সাদাদ…..একটু কিছু তো…”
“বাবা,আসলে কাজ টা খুব জরুরী…..এখন না বের হলে….”
“আচ্ছা!!ঠিক আছে….কি আর বলবো তবে বিকালে কিন্তু আসতেই হবে…..আমি ওয়েট করবো তোমার জন্য……”
“জ্বি বাবা…….চেষ্ঠা করবো…..”
বেরিয়ো এলো সাদাদ।
কোনো দরকারী কাজ নেই ওর।নৌশিনকে শিক্ষা দেওয়ার জন্য রাগে চলে এসেছে।
আধা ঘন্ঠা ধরে বলছে খাওয়ার জন্য,ঔষধের জন্য কিন্তু বেচারীর যত বাহানা খাওয়ার সময়।বুঝুক এবার কেমন লাগে!!!!

নৌশিন অনেকক্ষণ যাবত বসে আছে।কিন্তু সাদাদ কোথায়???
অনেকক্ষণ দেখা যাচ্ছে না তাঁকে।এরমধ্যে নৌশিনের ভাবী নৌশিনের রোমে আসে,
“কি রে,নৌশিন তুইও গেলি না খাওয়ার জন্য….আর সাদাদও বেরিয়ে গেলো।নে খাবার নিয়ে এসেছি।।খেয়ে নে…..”
ভাবীর কথা শোনে নৌশিনের তো যায় যায় অবস্থা।সাদাদ বাইরে মানে!!!!!!
“কি সাদাদ???ও বাইরে গেলো কখন??”
“কেনো তোকে বলে যায় নি।সে তো বললো,কি নাকি একটা দরকারী কাজ আছে….”
“ও ভাবী…..কি বলো তুমি???সাদাদ খেয়ে যায় নি??”
“না…….বললো বাইরে খেয়ে নিবে….জরুরী কাজ পড়েছে…..”
নৌশিন বুঝে গেছে,কি হয়েছে।

ভাবীর সামনে এমন একটা ভাব নিলো এখন…..ভাবী যেনো বুজতে না পারে সে রাগ করেছে……….
“কি বদমাইশ দেখেছো???আমি যেনো মন খারাপ না করি সে জন্যই তাড়াতাড়ি বেরিয়ে গেলো,আর আমাকে বলে গেছে সে নাকি একটা কাজ করবে আর আমাকে সেটা মানতে হবে…..আর কত কি বলে আমাকে খাওয়ার জন্য বলে গেলো।আসুক না,দেখাবো আমি…..কি বাজে…..ভাবী তুমি যাও….আমি খেয়ে নিবো…..কেমন!!”
নৌশিন এমনভাবে ইনিয়ে বিনিয়ে কথা বললো,ওর ভাবী আন্দাজ করতে পারে নি যে সাদাদ রাগ করে বেড়িয়ে গেছে।
ভাবী চলে যাওয়া মাত্রই নৌশিন সাদাদকে ফোন লাগায়।
একবার রিং হয়ে কেঁটে গেলো ফোনটা।কিন্তু সাদাদ ধরলো না।সাদাদ দেখেও ফোনটা ধরলো না।ইচ্ছা করেই নৌশিনকে প্যারা দিচ্ছে।
আরও দুবার রিং হওয়ার পর সাদাদ নৌশিনের ফোন রিসিভ করে।
কাঁদো কাঁদো গলায় নৌশিন বলল,

“সাদাদ কোথায় তুমি???”
“……….”
“সাদাদ!!!!আসো……প্লিজ….”
কেঁদে দিয়েছে নৌশিন।
সাদাদের এবার একটু খারাপ লাগলো।এমন শারীরিক অবস্থা নৌশিনের জন্য কান্না কাঁটি করাটা ঠিক না।
“সাদাদ…..আম সরি…..আমার না খুব ক্ষুদা লেগেছে…..আসো……”
“চুপ….কেঁদে কেঁদে কেনো কথা বলছো??”
সাদাদের গলা শোনা মাত্রই নৌশিন আরও জোরে কেঁদে উঠে।
“ঐ ঐ ঐ……কি সমস্যা???হ্যাঁ????থামো…….”
“আসো…….”
“একটা থাপ্পর দিয়ে না……চোখ মুছো……”
“আসবে না??”
“কোথায় গেছি আমি যে আসতে হবে আমার……”
“ভাবী যে বললো……”
“কান্না থামাবে তুমি??”
“……….”
“নৌশিন চোখ মুছো……আমি আসছি……”

রিদি ফ্রেস হয়ে এসেছে।
পরশও সাওয়ার নিয়ে বের হলো।রিদিকে চুপচাপ বসে থাকতে দেখে পরশ এগিয়ে যায়,
“কি ব্যাপার???মোড অফ??”
“নাহ্…..”
“তাহলে??”
“কিছু না এমনি…..আচ্ছা,আপনি আসুন….খাবো খিদে পেয়েছে আমার…..”
মুঁচকি হাঁসলো পরশ।রিদির যাওয়ার পথে চেয়ে থাকলো কিছুক্ষণ।কারণ পরশ খুব ভালোভাবেই বুঝতে পারছে,রিদির মনে কি চলছে!
“ম্যাডাম,আপনাগর লাইগারই ওয়াট করতাছিলাম……”
“কিহ??”
“হ ম্যাডাম…….”
সিড়ি দিয়ে নামতে নামতে পরশ জানায়,
“আরে রিদি ও অপেক্ষা করার কথা বলছিলো…..”
“ওওওও…….আমি আবার কি না কি ভাবলাম…..”
“না না ম্যাডাম….বেশি পাই না তো….একটা উচ্চারণ করবার চাই হইয়া যায় আরএডা…..”
“আচ্ছা!!ব্যাপার না হয়ে যাবে……”
“ওকে ওকে…..পুষ্প তুই কথা না বাড়িয়ে খাবার সার্ভ কর।তোর ম্যাডামের খিদে পেয়েছে খুব……”

“বিফ খাও তুমি??”
“কেনো??না খাওয়ার কি আছে??আমিই সব খাই….”
“ফিগার দেখে তা মনে হয় না…..”
“আপনার তো কতকিছুই মনে হয় না……”
“এভাবে মোড অফ করে কথা বার্তা বললে কোনো কিছুর সমাধান হবে না…….”
“কিসের সমাধানের কথা বলছেন আপনি??”
“তুমি যে সমস্যার কারণে বিষাদময় সময় পাড় করছো…..”
“তরকারি টা কিন্তু পুষ্প ভালোই রান্না করতে পারে।আপনি একদিন বলেছিলেন,”মা গরু টা খুব ভালো পাড়ে,পুষ্পও মায়ের কাছ থেকে শিখেছে…”…..”
“কথা পাল্টানোর চেষ্ঠা করছো??”
“না তা কেনো করবো…..আপনি তো….”
“আচ্ছা বাদ দাও….”
“পুষ্প যে চলে গেলো,খেয়ে গেলো না??”

“রান্না করার সাথে সাথে খেয়ে নেয় সে…..মায়ের নিয়ম…..”
রিদির চোখ দুটো আবারও কোনো কিছু না পাওয়ার আশায় ভিজে উঠলো।
শশুড় বাড়িতে এসে,এমন পরিবারহীন একলা জীবন সে আশা করে নি।যদিও পরশ আছে,তারপরও পরিবারের বাকীরা ওর জন্য অন্য বাড়িতে-ভাবতেই খুব খারাপ লাগছে রিদির।
নিজেকে অনেক কষ্টে সামলে নিচ্ছে কিন্তু শেষমেষ আর সহ্য করতে পারলো না…….পরশের সামনেই খাবারে পানি দিয়ে দৌঁড়ে উপরে চলে গেলো।
ঘাবড়ে গেলো পরশ,রিদি যে কাঁদছে তাই!!!!
পরশও বাকী খাবার টা শেষ করলো না।হাত ধুয়ে রোমে চলে আসে।
রোমে ডুকে দেখলো রিদি বিছনায় শুয়ে ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদছে।
রিদির কাঁধে হাত রাখে পরশ।
রিদি উঠে বসে,পরশের বুকে মুখ গুজে আরও আবেগী হয়ে উঠে।পরশ কিছু বললো না,রিদির মাথাটা নিজের বুকে চেঁপে ধরে রইলো শুধু।

কিছু সময় পর,রিদির চোখ দুটো পরম আদরে মুছিয়ে দিলো পরশ,
“কান্না তো অনেক হলো….এবার তো থামো…..”
“পরশ,আমায় প্লিজ….ঐ বাড়িতে নিয়ে চলুন…..আমি সবাইকে এখানে নিয়ে আসবো…….দরকার পড়লে আমি মায়ের পায়ে পড়বো….আমি আর পারছি না পরশ….আর না……কেনো এমন হচ্ছে???”
“ওকে ওকে রিলেক্স!!!কুল ডাউন……..”
রিদি নিজের চোখ দুটো মুছে নিয়ে খুব স্বাভাবিক ভাবে পরশের হাত দুটো ধরে বলল,
“পরশ,আমি আর জব করবো না…….আপনি আমাকে আজকেই বাবা-মায়ের কাছে নিয়ে যাবেন……আমি সবাইকে এখানে নিয়ে আসবো…..সবটা দিয়ে ওদের মন জয় করতে চাই আমি……অনেক জব করেছি,অনেক টাকা হয়েছে আর লাগবে না আমার,এখন শুধু পরিপূর্ণভাবে আপনাকে চাই…….”
“আচ্ছা!!!সব তোমার ব্যাপার…..আমি তোমার উপর কোনো জোর করছি না এ ব্যাপারে।তবে,নিয়ে যেতে পারি……..”
জড়িয়ে ধরলো রিদি পরশকে।
“ব্যাস,পরশ আর কিচ্ছু করতে হবে না আপনার।আমি করে নিবো বাকীটা আপনি শুধু আমায় নিয়ে চলুন……”
“ওকে,তাই হোক………….”

নৌশিন ড্রয়িং রোমে উৎসুক মনে অপেক্ষা করছে।কখন আসবে সাদাদ!!এই তার পথ চাওয়া!!!!💜💜💜💜💜💜
কলিং বেল বেজে উঠতেই,ছোটে গিয়ে দরজা খুলে নৌশিন।
বাইরে সাদাদকে দাঁড়ানো দেখে ঝাঁপিয়ে পড়ে সাদাদের উপর।
“আরে,পাগলী….কেউ দেখবে…..কান্নাও কামাও শব্দ হবে,তাহলে লোক জড়ো হতে পারে আবার…….”
“হয়েছে,আর বলতে হবে না তোমার…..এতো রাগ!!!!”
“আগে চলো রোমে তারপর বাকী কথা হবে……না হলে সবার কাছে ধরা খাওয়ার ভয় আছে….

রোমে ডুকে দরজা লাগিয়ে দিলো নৌশিন।
সাদাদকে কোনো কিছু বলার সুযোগ না দিয়ে জড়িয়ে ধরে,কান্না শুরু করলো।মেয়েটা এমনিতেই সফ্ট মাইন্ডেড আর এখন প্রেগন্যান্ট অবস্থায় যেনো আরও সফ্ট মাইন্ডেড হয়ে গেছে।
“আমি কি বলেছি আমি খাবো না??কাল রাতের কাহিনীর জন্য সবার সামনে যাওয়ার জন্য একটু লজ্জা করছিলো।আর আমি তো একটু পরেই……..”
কাঁদতে কাঁদতে বেচারীর হেঁচকি উঠে গেছে।
“হেঁচকি উঠে গেছে কিন্তু….
দেখি মুখ উঠাও….শার্ট টাই তো ভিজিজে ফেলেছো……
চুপ একদম কান্না কাটি না আর……..”

সাদাদ নৌশিনের মুখ টা জোর করে তুলে চোখের পানি মুছে দিলো।
“আর না…..বাবুর আম্মু যদি এভাবে কাঁদে তাহলে বাবুর কষ্ট হবে তো……”
কান্না স্বরে নৌশিন জবাব দিলো,
“বাবুর আব্বু রাগ করলেই তো বাবুর আম্মু কাঁদে…..তা না হলে তো আর কাঁদে না…..”
“আচ্ছা!!!!”
“হুম…….এত রাগ!!সব সময়….আমি তো খাবো এখন……খাইয়ে দাও…..”
“মনে থাকে যেনো,এরপর থেকে যদি আমি বলার সাথে সাথে না খেয়েছো তাহলে তো……..”
“বাবুর ক্ষুদা লেগেছে খুব……তাড়াতড়ি খাইয়ে দাও…….”
সাদাদ মুঁচকি হেঁসে নৌশিনকে টেনে নিয়ে সোফায় বসে।নিজের হাতে নৌশিনকে খাইয়ে দিচ্ছে আর মাঝে মাঝে সেও দু এক লোকমা মুখে তুলছে।
খাওয়া শেষ করে নৌশিনকে ঔষধ টাও নিজের হাতে খাইয়ে দিলো সাদাদ।
নৌশিনের প্রতিটা মুহুর্তের যত্ন-আত্নি সমস্তটা সাদাদ নিজের ভালোবাসা থেকে গুরুত্ব দিয়ে করে যায় আজ-কাল।করবেই না বা কেনো???এখন যে সাদাদের প্রিয়তমার ভেতরে আরেকটা ভালোবাসা বেড়ে উঠছে।।।।💜💜💜💜💜

“পরশ……”
“হুম…..”
“দেখুন এটা…..কেমন লাগবে??”
“হুম…..”
“এইই পরশ!!!……”
“হ্যায়….আস্তে…..কি হয়েছে??”
“আজিব তো আপনি….কখন থেকে ডাকছি…..”
“তো??”
“তো??মানে কি???টি.ভির দিকে হা করে তাঁকিয়ে না থেকে আমায় দেখুন…….”
“তোমাকে আমার কি দেখবো??”
“ওওওও…..আচ্ছা!!তাই নাকি???বদ লোক…..বিয়ের দু দিন না যেতেই বউকে দেখার শখ মিটে গেছে তাই না???”
“নাগিনী রে…..সব সময় এতো ফুসফুস করো কেনো???”
“হয়েছে??ছাড়ুন,এখন আর জড়িয়ে ধরতে হবে না……দেখার তো কিছু না আমি……”
“হুম….তাই তো….”
“কিহ???”

“আরে,রাগিস না……দেখবো কি বল ভালোবেসেই তো শেষ করতে পারি না……”
“হয়েছে???শেষ আপনার কথা???শেষ হলে ছাড়ুন আমায়….আমি রেডি হবো…..”
“রেডি??কেনো??”
“কেনো আবার??আপনাকে সকালেই তো বললাম আমাকে এ বাড়িতে মানে বাবা-মা,জেঠি,দাদু যেখানে এ জায়গায় নিয়ে যাওয়ার জন্য…..”
“এখন যাবে নাকি??”
“হ্যাঁ…পরশ,আমার না ভালো লাগছে না…..চলুন নিয়ে নিয়ে…..তা ছাড়া……”
“তাছাড়া??”
রিদি নিঁচের দিকে তাঁকিয়ে আছে।কিছু বলতে চাইছে পরশকে কিন্তু ভয় আর জড়তার কারণে পারছে না।
“কি হলো??বলো…তাছাড়া??”
“আ…স…..লে…..”
“হ্যাঁ….বলো!!এতো জড়তা নিয়ে কেনো বলছো??”

রিদি নিশ্চুপ……কিছু বলার সাহস পাচ্ছে না।যদিও পরশের ভালোবাসায় মেয়েটা নিজেকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে চাইছে তবুও অতীতের করা ভুলগুলো কেমন জানি ওকে আকড়ে ধরেছে,আর যার ফল স্বরূপ রিদি পরশের এতো কাছে থাকলেও পরশের চেয়ে নিজেকে হেয় মনে করছে।
নিজের জড়তা টা কাঁটিয়ে পরশের সাথে মন খোলে সাহসের সাথে কোনো কথা বলতে পারছে না।
“কি হলো রিদি????কথা লেনো বলছো না??”
পরশ জোড়ে কথা বলাতে রিদি যেনো আরও ভয় পেয়ে যায়।হঠাৎ করে জোড়ে কথা বলছে পরশ,তাই রীতিমতো কেঁপে উঠে রিদি।
“আসলে বলতে চেয়েছিলাম,ডেড তো ইল…..আমি তো এখন জানিও না আমার ডেড কেমন আছে…..”
একটানে বলে ফেললো রিদি।আর বলেই নিজের প্রাণপ্রিয় বাবার জন্য চোখের পানি ফেলতে লাগলো।
বুঝতে পেরেছে পরশ।রিদির মনে কি চলছে সেটাও উপলদ্ধি করছে সে।
ভালোবাসে যে তাঁকে,ভালোবাসার মানুষের মনের অনুভুতিগুলে তো একটু হলেও ধরতে পারার ক্ষমতা রাখে।।।

পরশ রিদির দু কাঁধে হাত রেখে বলল,
“এই কথাটা বলতে এত জড়তা??রিদি,ইউ নো আই লাভ ইউ…..হ্যাঁ এটা ঠিক আমি একটু বদমেজাজী,হয়তো অনেকটাই…..বাট তোমার জন্য আমার মনে যে কমলতার বসবাস তা কি তুমি আজও বুঝতে পারো নি????ভালোবাসো তো আমায়….তাহলে এতো ভয় কেনো পাও???সবার সাথে তো চোখ রাঙিয়ে কথা বলার ক্ষমতা রাখো,তাহলে কেনো নিজের স্বামীর দিকে চোখ রাঙাতে পারো না???হয়তো এখন বলবে,স্বামীর দিকে সে ভাবে তাঁকানো উচিত না…..বাট ভুল রিদি…..তুমি তাঁকাতেই পারো আমার দিকে,আমিও তাঁকাই তোমার দিকে।কিন্তু পরষ্পরের তাঁকানোতে যেনো কোনো অসম্মান বা হেয় ভাব না থাকে,সে চাহনী তো ভালোবাসার অধিকারবোধ থেকে।তুমি এখনো নিজেকে অতীতের করা ভুলগুলোর মাঝে আটকে রেখেছো,যার কারণে অতীত থেকে সরে আসলেও অনুসূচনার বেড়া জাল এখনো পেরুতে পারছো না।আর দরকার নেই রিদি,আর না…..তুমি তো তোমার ভুল টা বুঝতে পেরেছো,সবার কাছে ক্ষমা চেয়েছো…..সব চেয়ে বড় কথা নৌশিনের সাথে তোমার একটা ভালো রিলেশন তৈরী করে নিয়েছো তুমি।তাহলে????কেনো নিজেকে এখনো বন্ধি করে রেখেছো???কেনো????

আমি যেমন তোমাকে,ঠিক তুমিও তো আমাকেই ভালোবাসো…….আমরা দুজন দুজনার বর্তমান…….পরশ চৌধুরীর স্ত্রী কখনোই নিজেকে তাঁর স্বামীর চেয়ে ছোট নজরে দেখবে-এটা কখনোই পরশ চৌধুরী মেনে নিবে না…..পরশ চৌধুরী চায় তাঁর বউ রিদি চৌধুরী যেনো সব সময় তাঁকে নিজের স্বামীর সমান মনে করে……কেন না তাঁরা তো দুজন দুজনকে সমানভাবেই ভালোবাসে……তাই জড়তা ভুলে আমাকে আপন করে নাও,শুধু ভালোবাসায় ভালোবাসা বাড়াতে চাই না আমি,আমি তোমার ভয়-জড়তা সব কিছু থেকে আলাদা করে অন্যরকম রিদিকে দেখতে চাই….যে কি না আমাকে নির্ধায় নিজের সব আবদার বলতে পারবে,আমি কোনো ভুল করলে আমাকে শাসাতে পারবে,আমি রেগে গেলে হয়তো আমার মাথা ঠিক থাকে না,সে সময় টা না হয় একটু চুপ করে থাকলে,তারপর আমি যখন ঠান্ডা হবো তখন তুমি তোমার রাগ টা আমার উপর দিয়ে চালিয়ে নিয়ো………কি পারবে না???বলো??চোখে চোখ রেখে বায়না করো না বউ…..জড়তা কেনো??ভয় কেনো??ভালোবেসে বুকে মাথা রেখে আবদার করে দেখো না সব পূরণ করবো……..কি পারবে না??”
রিদি পরশের প্রতিটি কথায় মোহিত।যে কোনো স্ত্রীকে তাঁর স্বামী এমন সাবলীশ ভাষায় বললে সে তো নিজেকে পরম সৌভাগ্যবান মনে করবে।
রিদিও ঠিক তাই ভাবছে।

চোখের পানি টা মুছে নিয়ে ঝাপটে ধরলো পরশকে।
পরশের বুকে মাথা রেখে চোখটা আবারও ভিজে আসছে,ভীষণ ভাবে ভিজে আসছে।।।।।।।।
“ঐ,,,নাগিন বউ…..আর কাঁদিস না…………বউ…..”
রিদি পরশের বুক থেকে মাথা তুলে,পরশের চোখে চোখ রেখে বলছে,
“এতো ভালোবাসেন কেনো আমায়???”
“নাগিন যে তাই……”
চোখে পানি নিয়েও রিদি ফিক করে হেঁসে ফেললো।
“হা হা হা হা হা…….বেশ লাগে হাঁসি কান্না মিশ্রিত মুখটা……”
চোখের পানি পরশের শার্টে মুছে ফেলে রিদি আবারও হাঁসতে থাকে।
“ব্যাস,এই হাঁসি মুখটাই তো দেখতে চাই সারা জীবন……”
রিদি আবারও পরশ সুখে পরশের বুকে ঠাঁই করে নিলো।
“ও ম্যাডাম…..এভাবে জড়িয়ে থাকবেন???নাকি রেডি হবেন??”
পরশের এমন প্রশ্নে লজ্জা পেলো রিদি।পরশকে ছেড়ে দিয়ে বিছানায় রাখা শাড়িগুলোতে হাত লাগাতে শুরু করলো,লজ্জা কাঁটতে বলে উঠলো,

“আপনি তো বললেন ই না কোনটা পড়বো???”
“আচ্ছা!!!”
“হ্যাঁ…..বাবা-মায়ের সামনে তো আর যে কোনো শাড়ি পড়ে যাওয়া যাবে না……..”
“বেশ জানো দেখছি……”
“তা তো জানতেই হবে পরশ চৌধুরীর একমাত্র বউ বলে কথা……”
রিদির কথায় হাঁসলো পরশ,শুধু হাঁসলো বললে ভুল হবে।এমন হাঁসি হাঁসছে লোকটা,বিছানায় রিদির শাড়িগুলোর উপর গড়াগড়ি দিয়েছে কয়েকটা।
“পরশ!!!কি করছেন??আমার শাড়িগুলোর উপর শুয়েছেন আপনি???ভাজ পড়ে যাচ্ছে তো……উঠুন…….”
রিদির রাগী লোক টা দেখে পরশ আবারও হাঁসতে শুরু করলো।
“পরশ!!!আপনি না হেঁসে উঠুন আগে……শাড়িগুলো নষ্ট হচ্ছে আমার…….উঠুন বলছি….উঠুন…..”
টেনেও উঠাতে পারছে না পরশকে রিদি।রিদির বারণ শোনে ইচ্ছা করেই শাড়িগুলোর উপর ঝেঁকে শুয়ে আছে সে।
“পরশ!!!!কি হচ্ছে কি????বেশি করবেন না……আমার ড্রেসের উপর নিযার্তন করলে আমি কিন্তু আপনার ড্রেসগুলোও নষ্ঠ করে দিবো……”

“তাই নাকি???এতটা??”
রিদি দু কমড়ে হাত রেখে বলল,
“দেখবেন আপনি কতটা???”
“দেখলে তো দেখতেই হয়…..”
রিদি পরশকে মুখ ভেঙচি দিয়ে এগিয়ে যায় কার্বাডের দিকে।
কার্বাডের ডালা মেলতেই রীতিমতো শকড!!!!!!!!!!!!!!!!!!
অবাক হয়ে পেছনে তাঁকায় রিদি।এতক্ষণে পরশ বিছানা থেকে উঠে রিদির পেছনে এসে দাঁড়িয়েছে।
অবাক হয়ে তাঁকিয়ে আছে রিদি।সব কিছু মাথার উপর দিয়ে যাচ্ছে।
অবাক হওয়ার কথা থাকলে কেনো হবে না বলুন তো???
কার্বাডা টা খোলা মাত্রই এক গাদি শাড়ি হুরমুড়িয়ে রিদির পায়ের উপর পড়লো।আর কার্বাডে তো আছেই অগনিত।
“কি ম্যাডাম??করুন নষ্ট……”

“আ আ আ মা র???”
খুশিতে রিদির কথাও আটকে আসছে।
“তুমিই তল বললে,পরশ চৌধুরীর একমাত্র বউ তুমি….তাহলপ আর কারজন্য হতে পারে???”
“আপনি!!!!তাই বলে এত্ত???আর কখন আনলেন???আমি তো দেখলাম না??”
“তুমি যখন ওয়াশরোমে ছিলে…..”
“মানে???এতটুকু সময়ে??”
“আরে মিসেস.-একটা ফোন করে বলেছি শুধু,আমার বউ বাইরে যাবে সো শাড়ি লাগবে….তাতেই হয়ে গেছে….”
“তাই বলে এত্ত??”
“হুমমম….আমার বউয়ের কোনটা পচ্ছন্দ হবে তা তো বলা যায় না………..”
“আপনি…..আ…..”

প্রেমঘোর পর্ব ৯৭+৯৮+৯৯

“চুপপপপপ………”
রিদিকে কার্বাডের দিকে ঘুড়িয়ে দিয়ে,
“কোনো কথা না বলে,শাড়ি চুস করো তাড়াতাড়ি…..আমাকে চুস করতে বলো না,কজ আমি জানি তোমার পচ্ছন্দই সেরা পচ্ছন্দ……….সো অনলি থার্টি মিনিটস দিলাম রেডি হয়ে নাও……..”
রোম থেকে বেড়িয়ে আসে পরশ।আকর্ষিত হয়ে তাঁকিয়ে থাকে রিদি।
কিন্তু পরক্ষণেই কার্বাডের দিকে তাঁকিয়ে পড়ে মহাবিপদে।এত এত শাড়ি,কোনটা পড়বে সে?????
!
আপনারাও দেখুন কোন শাড়িটাতে রিদিকে বেশি মানাবে…………

প্রেমঘোর পর্ব ১০৩+১০৪