Home প্রেমতৃষা প্রেমতৃষা পর্ব ৮

প্রেমতৃষা পর্ব ৮

প্রেমতৃষা পর্ব ৮
ইশরাত জাহান জেরিন

প্রেম হালকা বিরক্তি নিয়ে বলল, ‘আরে ট্যাবলেট জলদি বিছানায় আসো না। পা দু’টো যে তোমাদের লিফট ছাড়া বাড়ির পাঁচ তলায় উঠতে গিয়ে ব্যথা হয়ে গেল এখন টিপে দিবে না?’
হাসি মেশানো চটকদার কণ্ঠে বলল, ‘কেন আমি কী আপনার বউ নাকি? এত পা টেপানোর শখ তো একটা মেয়ে দেখে বিয়ে করে টেপান না।’
প্রেম বাঁকা হেসে বলল, ‘কী টিপাবো সোনা?’
তৃষা খেলোয়াড়ি কণ্ঠে বলল, ‘আমার ইয়ে।’
প্রেম তৃষার দিকে তাকিয়ে নরম গলায় বলল, ‘আসো টিপে দেই।’
‘এই লোক, আমি আমার গলার কথা বলেছি।’

‘তো আমিও তো সেটাই বললাম। আসো গলাটা টিপে দেই। দেশের জনসংখ্যা কমবে।’ প্রেম পুনরায় তৃষার দিকে তাকিয়ে বলল, ‘জামা বদলে এসো। ভেজা জামাতে আমাকে হ্যারেজ করছো? আমি নিয়ন্ত্রণ হারালে কী করব জানো তো?’
‘কী আর করবেন? শরীরটাও বলবেন টিপে দিতে। আপনি পারেন শুধু চেটেং চেটেং কথা বলতে। আর পারেন কোন বালডা? মুখটা খালি খারাপ করেন। এখন বিদায় হোন। আংকেল, আন্টি আসলে কী মনে করবে? রুমের মধ্যে আমি আর একটা ছেলে? একটা সুন্দরী মেয়ের ইজ্জত এভাবে নষ্ট করতে পারেন না প্রেম ভাইয়া,আপনি পারেন নাআআআআআ।’

আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন 

‘এই ওয়াশরুমটা কই ট্যাবলেট?’
‘কী করতে যাবেন সেখানে?’
‘আয় আমার সাথে ভেতরে। দেখাই কী করতে যাব।’
‘না আমার লজ্জা করে।’
‘তোর লজ্জা আমি মুতে ফ্লাশ করি।’
তৃষা প্রেমকে ওয়াশরুম দেখিয়ে দেয়। প্রেম ওয়াশরুমে ঢুকতেই তৃষা বাইরে থেকে দরজা লাগিয়ে দেয়। আজকে এটাকে ওয়াশরুমে আঁটকে পুরো মহল্লার মানুষ ঢেকে চোর বলে গনধোলাই খাওয়ালে কেমন হবে? সেই, সেই।
‘প্রেম ভাই এত সময় লাগে নাকি?’
‘কেন শরবত খাওয়ার অনেক তাড়া নাকি? বোতল ভরে নিয়ে আসছি। ওয়েট কর।
‘ছ্যাহ মুখ দিয়ে একটা ভালো কথা বের হয়না?’

প্রেম ওয়াশরুমের দরজা খুলতেই দেখল বাইরে দিয়ে দরজা লাগানো। প্রেমের তো তখন মেজাজ গরম হওয়ার পথে। সে ভেতর থেকে চেচিয়ে উঠল, ‘আরে ট্যাবলেট দরজা খুল।’
‘হিশু করার জন্য প্রেম নেওয়াজ আমার বাড়ি খুঁজে এখানে এসেছে। তাকে কী করে ছেড়ে দেই বলুন তো?প্রেম ভাই আপনি আর কোনোদিনও এই বাথরুম থেকে বের হতে পারবেন না। রাক্ষস বেডা।’
‘একবার বের হতে পারলে তৃষার বাচ্চা, প্রথম শিকারটা কিন্তু তুই হবি। শালী দরজা খুল।’
কী করবে না করবে ভাবতে ভাবতে দরজা খুলে দিতেই প্রেম এক ঝটকায় তৃষার গলা চেপে ধরল। তৃষার একেবারে দম বন্ধ হয়ে এলো। চোখ-মুখ উল্টে আসল। প্রেম কেবল এক ইঞ্চির দূরত্বে। তৃষার নিঃশ্বাসের শব্দ সে শুনতে পারছে। তবে তৃষার ফর্সা মুখটা লাল হয়ে আসতেই সে তৃষাকে ছেড়ে দিলো। তৃষা কাশতে কাশতে নিজেকে কোনোমতে সামলাতেই প্রেম তড়াক করে বলল, ‘জামা বদলে জলদি নিচে আসো।’

‘কে..ন?’
‘যাবো কোথাও একটা।’
‘যাব না আমি।’
‘শিমলা কিন্তু ভার্সিটিতে বন্দী। তুমি অন্তত চাও না তোমার বান্ধুবীর ইজ্জতটা নিলামে উঠুক? আচ্ছা যাওয়া লাগবে না। আমি কল দিয়ে অংকুরকে তার কাজটা সেরেই ফেলতে না হয় বলছি। কী বলো?’
‘এই না না,আমি আসছি। ওয়েট। তবে বলুন বাইরে নিয়ে গিয়ে কী করবেন?’
‘ফিজিওলজির চ্যাপ্টার পড়াবো। দু’দিন ভার্সিটি আসো নি। ক্লাস তো মিস হয়ে গেল? সিনিয়র হিসেবে তো আমার একটা দায়িত্ববোধ আছে তাই না বলো বাঁদরমুখি?’

যুবরাজের সামনে নির্বাচন। টানা চাপের এই সময়টায় তার যেন আর ভালো লাগছে না। একটু আগে সভা থেকে বের হয়ে রাফসানকে বলল, ‘এই গবেট তৃষার কোনো খোঁজ পেলে কী?’
রাফসান ধীর গলায় উত্তর দিল, ‘ভাই জাস্ট এতটুকু পেয়েছি যে তৃষা ম্যাডাম ঢাকায় গিয়েছেন।’
যুবরাজ বিরক্ত স্বরে বলল,’ঢাকা তো আর ফাঁকা নয় যে ঠিকানা না জেনেই ওকে পেয়ে যাব। জলদি খুঁজে বের করো। এভাবে আর ভালো লাগছে না। ইলেকশনের আগে একটা বিয়ে না করলেই নয়। বিয়ে-শাদি করে রিলাক্স হওয়ার একটা ব্যাপার আছে তো?’
রাফসান ঠোঁট বাঁকিয়ে বলল,’ভাই বিয়ের আশা ছেড়ে দেন।’

‘মানে কী?’
‘ভাই দেশে কী আর মেয়ে নেই? ওই তৃষাকেই করতে হবে?’
যুবরাজ দৃঢ় কণ্ঠে জানাল, ‘হ্যাঁ করতে ওকেই হবে।’
রাফসান হেসে ফেলল,’তাহলে আপনার বউ গিয়ে আপনি খুঁজেন।’
যুবরাজ চোখ কুঁচকে তাকাল, ‘তো তুমি কী করবে?’
‘বাসর।
যুবরাজ অবাক হয়ে বলল,’কী কত বড় সাহস। ‘
‘আরে আমি বিয়ে করে বাসর করব বলেছি।’
‘ওহ এই ছিলো তোমার মনে?’
‘আরে ভাই আপনার তৃষাকে করব বলছি? নিজের জন্য কাউকে খুঁজে তাকে করব।’
যুবরাজ একটু শান্ত হয়ে হেসে বলল, ‘ওহ সেটা বলো।’
‘তো এতক্ষণ কী জাপানিটা বলছিলাম।’ রাফসান মনে মনে গর্জে উঠতেই যুবরাজ পুনরায় জিজ্ঞেস করল, ‘বাসরটা তুমিই সাজাবে আমার।’
রাফসান দীর্ঘশ্বাস ফেলে বিড়বিড় করে বলল, ‘আগে তো খুঁজে বের করেন আপনার না হওয়া হারানো বউকে। মরার আগেই স্বর্গে যাওয়ার ধান্ধা। ছ্যাহ!’

সিদ্দিক নেওয়াজ বারান্দায় বসে আছেন। এই বারান্দায় বেশিরভাগ সময় কাটে তার। বারান্দা দিয়ে প্রেমের কাঠের বাড়ির চারপাশে অবস্থিত গাছপালা গুলো আবছা দেখা যায়। এই প্রেম ছাড়া তার যে আর কেউ নেই। প্রেম হারিয়ে গেলে এই বংশও হারিয়ে যাবে। সিদ্দিক নেওয়াজ তার বাবার ঘরে একাই ছেলে ছিল। বাকি চারজন ছিল মেয়ে। সেই সিদ্দিক নেওয়াজের ঘরেও এক ছেলে এক মেয়ে জন্ম নেয়। বড় ছেলে পরাগ নেওয়াজ, ছোট মেয়ে হেতিজা। পরাগের বিয়ে দেওয়া হয় তার পছন্দের মেয়ের সঙ্গেই। প্রেমের মায়ের নাম হিমিকা গুলজার। কত ভালোই না ছিল শুরু দিকে তাদের সম্পর্ক। তারপর একদিন সব ধ্বংস হলো। সেই ধ্বংস প্রেমের জীবনটা কে যে বরবাদ করল আজও ধ্বংসের অনলে জ্বলছে প্রেম। কী দোষ ছিল ছোট্ট ছেলেটার? বাবা-মায়ের ভালোবাসা তো তার তখন বড্ড দরকার ছিল। তবে দু’জনে স্বার্থপরতা শেষ করল তাকে। তারা আজ নেই। তবে প্রেমের ধ্বংস থামার নামই নেই। সিদ্দিক নেওয়াজের অনেক শখ নাতির সংসার দেখবেন, নাতবউ দেখবেন। এই বাড়িতে আবার বাচ্চাদের হইহট্টগোল শুনতে পাওয়া যাবে। প্রেম ব্যবসা সামলাবে। সব সুন্দর হবে। কী জানি কখনো এই শেষ ইচ্ছে গুলো পূরণ হবে কিনা? নাকি শেষ ইচ্ছে বুকে পুষে শেষ বিদায় নিতে হবে?

প্রত্যুষের শরীরটা কেমন যেন ম্যাচ ম্যাচ করছে। অফিসে এত্ত এত্ত কাজ। একজন কর্মী এসে তাকে চা দিয়ে গেল। এবার মনে হচ্ছে বিয়ে-শাদি করাটা কত গুরুত্বপূর্ণ। এইযে শরীর ব্যথা করছে। কাজ শেষে বাসায় ফিরলে তো নিশ্চয়ই রাতে বউ ব্যথার মলম লাগিয়ে মালিশ করে দিত। তারপর সেই মালিশ ধীরে ধীরে রূপ নিত হাজারটা চোখের নালিশে। ধ্যাৎ এই রোমান্টিকের ভূত ঘাড়ে কেন চাপছে হঠাৎ? কত কাজ বাকি? এখনো সেই খুনীর সম্পর্কে একটা ক্লু পাওয়া যায়নি। এভাবে চললে হবে? তাছাড়া কাল রাতে ক্লাবে প্রেম নেওয়াজ একটা খুন করেছে। ইচ্ছে তো করে ফাঁসির মঞ্চে দাঁড় করাতে। তবে ভাই হয় তো। নানুভাইয়ের মুখের দিকে চেয়ে চুপ করে যায় প্রত্যুষ। বার বার বাঁচিয়ে দেয় প্রেমকে। কথায় আছে না? কেউ পাপ করে আর কেউ সাফ করে?

প্রত্যুষ একটা ফাইল হাতে তুলতেই সেখানে একটা নাম লক্ষ করে থমকে যায়। পাপন কাজী। এই পাপন নামটা সহ্য হয়না প্রত্যুষের। ফেলে আসা অতীত সে ভুলতে পারেনি। ভুলতে পারেনি বাবার সেই বিভীষিকাময় ফেলা আসা অধ্যায়। বাবা এমন না হলেও পারত। নেশা তার জীবনটাও কেড়ে নিলো আর মাকে করল বিধবা, সন্তানগুলো বড় হলো বাবাহীন।

এই শিমলা মেয়েটা এতবেশি কিউট কেন? একে ধরে বেঁধে সংসার করে ফেলা উচিত। এমন ভাবে কাউকে মনে ধরে বুঝি? শিমলা ভয়ে এখনো কাঁপছে। না জানি বাসায় গিয়ে ওই প্রেম তার বান্ধবীর সাথে কী থেকে কী করে ফেলে। এদিকে এই অংকুর তো সামনে এমন গুন্ডার মতো বসে আছে। না পারছে সে ভয়ে উঠতে না পারছে কিছু বলতে। ভয়ে কাঁপতে থাকা শিমলাকে দেখে অংকুর শেষ পর্যন্ত বলল,’ভয়ের কিছু নেই। আমি তো মানুষ, বাঘ নই।’
শিমলা কণ্ঠ কেঁপে উঠল, ‘পুরুষ মানুষ তো?’
‘তাতে কী হয়েছে? মানুষ তো?’ অংকুর চুপ থেকে প্রশ্ন করল, ‘ভালোবাসো কাউকে?’
‘বাসি না তো।’
অংকুরের মুখে হুট করেই হাসি ফুটল। ভেবেছিল শিমলা অন্য কাউকে ভালোবাসলে সেই ছেলেকে মারধোর করে তুলে এনে শিমলাকে বিয়ে করতে হবে। এখন দেখছি রাস্তা ক্লিয়ার।’
‘চোখে চশমা ছাড়া কিছুই দেখো না?’

‘ঝাপসা লাগে।’
‘তাহলে তোমার দু’টো চোখ হয়ে যাই? আমার চোখ দিয়ে না হয় তুমি জগৎ দেখলে। ব্যাপারটা মন্দ হয়না বলো?’
‘কী বুঝাতে চাইছেন ভাইয়া?’
‘না বুঝলে একটা লাল বেনারসি কারো গায়ে জলদি জড়িয়ে যাবে।’
‘বুঝলাম না।’
‘বোঝানোর জন্য অংকুর তো আছে।’অংকুর বলল।
‘আছে? কতটা কাছে শুনি?’
‘যতটা কাছে থাকলে হৃদপিণ্ডের ধুকপুকানি শুনতে পাওয়া যায়।’
শিমলা মুচকি একটু হাসি দিয়ে চুপ করে যায়। অংকুর বাধ্য ছেলের মতো তাকিয়ে আছে তারই পানে। চোখের পলক পড়ছে না। তবে চোখ দুটো বলছে হাজারটা কথা। শিমলার কী সেই কথা শোনা উচিত হবে? তার অবাধ্য মনটা ভাবনায় ডুব দিলো।

সাদা রঙের একটা জর্জেটে কামিজ পড়ে রুম থেকে বের হয়েছিল তৃষা। প্রেম ভাই একবার তাকে দেখেই চোখ সরু করে বলল, ‘কেউ মরল টরল নাকি? নাকি আগেই ইঙ্গিত দিয়ে বোঝাতে চাইছ আমার সঙ্গে গেলে সাদা কাপড়টাই পার্মানেন্ট হয়ে যাবে তোমার জন্য? এখন কবরে গিয়ে তো আর ড্রেস বদলাতে পারবে না।’
তৃষা মুখ ভেংচি কেটে কালো রঙের একটা জামা পড়ে আসে। এটা প্রেম ভাইয়ের মনে হয় পছন্দই হয়েছে। তাকে তো বেশির ভাগ কালো জিনিস ব্যবহার করতে দেখা যায়। কী একটা অবস্থা। তাই তো তৃষা বলে, যে কিনা নিজেই অন্ধকার সে কেমন করে আলোকে সহ্য করতে পারবে?

নিচে বাইকের কাছে যেতেই তৃষা দেখল সেখানে দু’টো হেলমেট আছে। বাপরে প্রেম ভাইয়ের বাইকে উঠবে সে? তৃষার ভয় ভয় করছে? বাইক এক্সিডেন্ট করে তাকে মারার ধান্ধা করছে না তো? দুনিয়ায় প্রেম ভাই এমন এক মহৎ ব্যক্তি যাকে তৃষা এক সেকেন্ডের জন্যও বিশ্বাস করতে ভয় পায়।
‘আপনি তো দু’টো হেলমেট এনেছেন দেখছি। পরিকল্পিত খুন তাই না?’

‘তোমায় খুন করতে প্রেম নেওয়াজের পরিকল্পনার দরকার নেই। এখন জলদি বাইকে উঠে বসো। বাইকে উঠতে তো পারো? এক্সপেক্ট করো না প্রেম তোমায় কোলে করে বাইকে বসাবে। আর দু’টো হেলমেট এনেছি কারণ রাস্তায় পুলিশ ধরলে তোমার জন্য তো আমি জরিমানা দিতে পারব না। লস প্রোজেক্টে প্রেম নেওয়াজ ইনভেস্ট করেনা।’
তৃষা মনে মনে ইচ্ছে মতো গালাগাল করতে থাকল। মুখ ভেংচি কেটে ইচ্ছে মতো মনে মনে খাশ বাংলায় গালি দিলো। মুখের এমন দশা দেখে প্রেম বলল, ‘এত গালি দিস না আম্মা, মুখেরও তো একটা বিশ্রাম আছে। তোর ওইটা তো মুখ না, আমার নানির আমলের ভাঙ্গা রেডিও। একবার শুরু হলে বাজতেই থাকে।’
তৃষা চুপ হয়ে যায়। মুখটা ছোট করতেই প্রেম বলল, ‘আবার কী হয়েছে?’
তৃষা তড়াক করে মুখ বাঁকিয়ে বলল, ‘ রাগ করেছি কিন্তু আমি।’
প্রেম ভ্রু কুঁচকে বলল, ‘তো আমি কী করবো?’
‘রাগ ভাঙ্গান সিনিয়র ভাইয়া।’

‘ ওয়েট জলদি বাইকে উঠে বসো। আজকে ইট ভাঙ্গার মেশিন দিয়ে তোমার রাগকে আমি ভাঙবো দাঁড়াও।’
তৃষা আর কথা না বাড়িয়ে বাইকে উঠে বসে। কই ভেবেছিল প্রত্যুষের বাইকে উঠে বসবে। এখন তো এই খবিশের বাইকে উঠে বসতে হচ্ছে। কোনদিন জানি বাথরুমের দরজা ভেঙে তৃষাকে হুমকি দিয়ে বাইরে নিয়ে যায়। তৃষা হেলমেট পড়তে গিয়ে চুলের সঙ্গে প্যাচ লাগিয়ে ফেলে। সেটা দেখে প্রেম চোখ রাঙিয়ে তাকে হেলমেট পড়িয়ে দিতে দিতে বলল,

‘বলদি তোমার দাঁড়া এটাও হয় না। বালডা ছাড়া কিছুই পারো না দেখছি? ভাত রান্না করতে পারো? তোমার স্বামীর কপালে তো দেখছি অংকুরের দশ বছর আগের ফুটো জাঙ্গিয়ার থেকেও বেশি ছিদ্র আছে। মহাশয়ের দুঃখে আমাশয় হয়ে যাবে। ভাবলেই দুঃখ পাচ্ছে আমার। বেচারার বউ বাল ছাড়া কিছুই পারে না।’
‘হাঁস-মুরগি পারে ডিম কিন্তু বাল আবার কে পারে?’
‘কেন সোনা তুমি ওটা পারার জন্য তো আছোই।’

বাইকে উঠে বসতেই প্রেম বাইক চালু করার আগে হেলমেটটা মাথায় দিয়ে তৃষাকে বলল, ‘অনেক জোরে চালাবো। ভয় করলে শক্ত করে চেপে ধরবে বাঁদরমুখি। কারণ যদি উড়ে কোথাও চলে যাও তাহলে সেই আমাকেই বাইকের পেট্রোল খরচ করে তোমাকে খুঁজতে হবে।’
তৃষা মনে মনে সুধিয়ে উঠল, ‘শালা কোন লেভেলের কিপ্টে!’

প্রেমতৃষা পর্ব ৭

প্রেম বাইক স্টার্ট দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তৃষা চেঁচিয়ে উঠল, ‘আহ্ এত জোরে কেন? স্পিড কমান।’
‘প্রেম তো স্পিড কমাবে না সোনা। তোমার ভয় লাগছে তো তুমি শক্ত করে চেপে ধরো আমায়। তুমি কেন আমাকে স্পিড কমাতে বলছো? দিস ইজ নট ফেয়ার ময়নাপাখি।’

প্রেমতৃষা পর্ব ৯