Home ভয়েজের মায়াজাল ভয়েজের মায়াজাল পর্ব ১৪

ভয়েজের মায়াজাল পর্ব ১৪

ভয়েজের মায়াজাল পর্ব ১৪
ছায়া

রাত তখন সাড়ে দশটা পেরিয়ে গেছে তালুকদার বাড়ির ভেতর নিস্তব্ধতা নেমে এসেছে। বাইরে এখনো হালকা বৃষ্টি পড়ছে, জানালার কাঁচে টুপটাপ শব্দ পড়ছে একটানা। এই শব্দ যেন ইলার বুকের ভেতর জমে থাকা হাজার প্রশ্নের মতো থেমে থেমে আঘাত করছে। বিছানার পাশে বসে ইলা চুপচাপ জানালার দিকে তাকিয়ে আছে। পরি একটু আগে ঘুমিয়ে গেছে।পুরো বাড়িতে শুধু ঘড়ির টিকটিক শব্দ আর বৃষ্টির আওয়াজ। ঠিক তখন দরজায় টোকা পড়লো ঠক ঠক ঠক।
ইলা চমকে উঠলো মাথা তুলে বললো,
ইলাঃ- কে?
বাইর থেকে রাশেদ তালুকদারের শান্ত কণ্ঠ বলল
রাশেদঃ- আমি দরজা খোল মা।

ইলা ধীরে ধীরে দরজার কাছে গিয়ে খুলে দিলো। দরজা খুলতেই সামনে দাঁড়িয়ে আছেন ইলার বাবা রাশেদ তালুকদার আর মা সাবিহা। বাবার হাতে একটা ফাইল মায়ের মুখে ক্লান্ত কিন্তু শান্ত ভাব।সাবিহা ভেতরে ঢুকে দরজাটা আলতো করে বন্ধ করে দিলো।
রাশেদ ধীরে এগিয়ে এসে বিছানার পাশে চেয়ারে বসলেন, সাবিহা ইলার পাশে বিছানায় বসলেন। কিছুক্ষণ কেউ কিছু বললো না। শুধু ঘরের নরম আলোয় তিনজনের মুখে ছায়া খেলা করছে অবশেষে রাশেদ কণ্ঠ পরিষ্কার করে বললেন,

রাশেদঃ- ইলা আজ সারাদিন সবাই তোমার কথা ভাবছে। ছেলেটার পরিবার খুব ভালো, ভদ্র, শিক্ষিত। তোমার মা-ও রাজি কিন্তু শেষ সিদ্ধান্তটা তোমার। তুমি আমাদের মেয়ে তোমার মতামত না শুনে কিছুই হবে না।
ইলা নীরবে মাথা নিচু করে বসে রইলো তার চুল ভিজে গেছে জানালার বাতাসের বৃষ্টিতে চোখে ক্লান্তি ঠোঁটে নীরবতা। রাশেদ ফাইল খুলে ইলাকে বললেন,
রাশেদঃ- ছেলেটার নাম “শেখ আর্কিন রাফায়েল”ওর বাবা শেখ মাহফুজ রাহমান, মা লায়লা হোসেন। ছেলে ঢাকাতে থাকেন সেনানিবাস এলাকায়। আর্কিন বাংলাদেশ আর্মিতে ক্যাপ্টেন পদে আছে খুবই ভালো পজিশনে। কয়েকদিনের ছুটিতে এসেছে আজ তোমাকে দেখে ও নাকি নিশ্চিত হয়েছে তোমাকেই চায় ও আর কাউকে বিয়ে করবে না।
ইলা একটু অবাক হয়ে তাকালো কিছু বললো না রাশেদ নরম কণ্ঠে আবার বললেন,
রাশেদঃ- আমি ওর বাবা-মায়ের সঙ্গেও কথা বলেছি, তারা ভীষণ ভদ্র, আন্তরিক মানুষ। ওরা চাইছে যদি তুমি রাজি থাকো তাহলে দ্রুত বিয়েটা সেরে ফেলবে আর্কিনের ছুটি শেষ হওয়ার আগেই।
সাবিহাঃ- মা দেখ আমরা জোর করছি না শুধু জানতে চাই তোমার মন কি বলে?তুমি কি ওই ছেলেকে পছন্দ করেছো?

ইলা চোখ নামিয়ে ফেললো ঠোঁট শুকিয়ে গেছে। কিছুক্ষণ নিঃশব্দে বসে থেকে ফিসফিস করে বললো,
ইলাঃ- আমি জানি না আম্মু….. জানি না আমি আর কাউকে ভালোবাসার মতো অবস্থায় আছি কিনা।
রাশেদঃ- আমি বুঝি মা তোর এখন বিয়ে করার ইচ্ছা নেই কিন্তু আর্কিন ছেলেটা ভালো। ওর চোখে আমি শ্রদ্ধা দেখেছি লোভ না এই সুযোগটা তুই চাইলে নিতে পারিস না। আমি তোকে জোর করবো না।
ইলার চোখে পানি চলে এলো ইলা তার বাবার দিকে চেয়ে বলল
ইলাঃ- আব্বু যদি আমি রাজি না হই?
রাশেদঃ- তাহলে আমরা ‘না’ বলবো মা। তুই আমাদের একমাত্র সন্তান তোর সুখ ছাড়া আমাদের কিছু দরকার নেই।
সাবিহা তখন ইলার চুলে হাত বুলিয়ে দিলো ইলাকে বুঝাতে লাগলো
সাবিহাঃ- দেখ আজ কিছু বলিস না মন দিয়ে ভাব, আর্কিনকে যদি মনে হয় সে তোর প্রতি সৎ তাহলে আমাদের জানাস। না হলে কিছুই হবে না। আজ রাতটা সময় হিসেবে রাখ ভেবে দেখ কাকে তুই জীবনের জন্য চাইছিস।
ইলা চোখ নামিয়ে মাথা নাড়লো তার গলায় গুমোট গলা,

ইলাঃ- আচ্ছা ভাববো।
রাশেদঃ- ঠিক আছে তাহলে আমরা নিচে যাচ্ছি কাল সকালে কথা বলবো।মনে রাখিস যেটা তোর মন চায় সেটাই বলবি।
ইলার বাবা-মা রুম থেকে বেরিয়ে গেলে দরজা বন্ধ করে ইলা আবার জানালার পাশে এসে দাঁড়ালো বৃষ্টি তখনো পড়ছে। আকাশে মেঘ জমেছে ভারী বাইরে ঝলকানির আলোয় দূরের গাছগুলো দুলছে। ইলা ফিসফিস করে নিজেকে বলল,
ইলাঃ- শেখ আর্কিন রাফায়েল… আপনি জানেন না আমি কতটা মন ভাঙা মেয়ে।আপনি জানেন না আমি এখনো অন্য কারো নামেই বাঁচি।
চোখ বেয়ে নেমে এলো অশ্রু তবুও মুখে ম্লান হাসি এনে আয়নায় তাকালো নিজের প্রতিবিম্বের দিকে চেয়ে বলল,
ইলাঃ- হয়তো আমাকেও নতুন করে বাঁচতে হবে… হয়তো সময় এসে গেছে।
বৃষ্টি বাইরে পড়ছে ঘরের ভেতরে নিঃশব্দে ইলার বুকের ভেতর একটা সিদ্ধান্ত ধীরে ধীরে জন্ম নিচ্ছে। ইলা লাইট অফ করে ঘুমাতে আসলো বেডে।

রাত ১১ টা বাইরে তখন নীরবতা বৃষ্টির পরের ঠান্ডা হাওয়া জানালা দিয়ে ভেতরে ঢুকছে।ইলার রুমে লাইট নিভানো শুধু বিছানার পাশে ল্যাম্পটা জ্বলছে। টেবিলের ওপর খোলা ডায়েরি কলম আর একটা মোবাইল ফোন নিঃশব্দে পড়ে আছে। ইলা বিছানায় শুয়ে চুপচাপ ছাদের দিকে তাকিয়ে আছে। ঠিক তখনই ফোনের স্ক্রিনে হঠাৎ আলো জ্বলে উঠলো “Unknown Number” ইলা চোখ কুঁচকে ফোনটার দিকে তাকালো চিনে না নাম্বারটা ভাবলো “এই সময় আবার কে?”
ফোনটা বাজতেই থাকলো একটু থেমে গেল তারপর আবার বাজতে শুরু করলো ইলা রাগে করে মনে মনে করে বলল,
“কে যে পাগল এই সময় কল দেয়” ফোনটা বাজতে বাজতেই কেটে গেলো। এক মিনিট পরে স্ক্রিনে একটা টেক্সট মেসেজ আসলো।
টেক্সটঃ
“ওহে আমার রাগানি ফিউচার বাবুর আম্মু,আমি আপনার ফিউচার সন্তানের বাবা বলছি প্লিজ ফোনটা রিসিভ করুন।”

ইলার চোখ বড় হয়ে গেলো “এই আবার কে নতুন পাগল” সে চোখ ঘুরিয়ে ফোনটা রেখে দিলো। কিন্তু মাত্র কয়েক সেকেন্ড পরেই আবার ফোন রিং হলো। এইবার ইলা বিরক্তির স্বরে বললো “না ধরলে তো রাতভর বাজাবেই দেখি কে এই দুঃসাহসী” ফোনটা রিসিভ করলো।
ইলাঃ- “হ্যালো”
ওপাশ থেকে গলা ভেসে এলো একটা হালকা ব্যঙ্গ মেশানো হাসির গলা কিন্তু ভয়ংকর আত্মবিশ্বাসী সুরে।
আর্কিনঃ- আসালামু আলাইকুম আমার রাগানি রানী অবশেষে ফোন ধরলেন,জানেন কতক্ষণ ধরে মন খারাপ করে বসে আছি?
ইলাঃ- আপনি কে?
আর্কিনঃ- ওহ আমায় চিনতে পারলেন না আমি তো আপনার নতুন ভালোবাসা শেখ আর্কিন রাফায়েল আগামীতে আপনি যাকে বিয়ে করতে যাচ্ছেন,মানে আপনার ফিউচার এক্সিডেন্ট।
ইলাঃ- আপনি কি এইভাবে যে কারো সাথে কথা বলেন?
আর্কিনঃ- না না সবার সাথে না, শুধু যাদের হাসি দেখলে আমার বুকে বজ্রপাত হয় তাদের সাথে।
ইলা কানের কাছ থেকে ফোনটা দূরে সরিয়ে আস্তে করে বলল
“পাগল”
আর্কিনঃ- ধন্যবাদ প্রশংসা করার জন্য আপনি হয়তো জানেন না,পাগলদের সাথেই পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর গল্পগুলো মানুষ করে থাকে।
ইলাঃ- আপনি জানেন এখন রাত ১১ টা বাজে এই সময় ফোন দেয়ার মানে কী?
আর্কিনঃ- মানে আপনি ঘুমিয়ে গেলে আমি কাকে মিস করব, সেটা ভেবে ভয় পেয়েছিলাম তাই কল দিলাম।
ইলাঃ- আপনি আমার নাম্বার পেলেন কার কাছে??
আর্কিনঃ- আমার আম্মু আপনার আম্মুর থেকে চেয়ে নিয়েছে।তাই আপনার সাথে কথা বলার জন্য ফোন দিলাম।
ইলাঃ- আপনার মনে হয় আমি ফ্রি আছি সারারাত আপনার বাজে কথা শুনব?
আর্কিনঃ- বাজে কথা না মিস রাগিনী এই কথাগুলো একদিন আপনাকে ঘুমাতে না দিয়ে জাগিয়ে রাখবে দেখবেন।
ইলাঃ- আমি এখন ফোন রাখছি।
আর্কিনঃ- রাখেন কিন্তু মনে রাখবেন ফোন রাখলে আমিও এক্সারসাইজ শুরু করে দেব।
ইলাঃ- মানে?

আর্কিনঃ- মানে আপনি ফোন রাখবেন আমি আপনার কথা ভেবে পুশআপ দেব যাতে আমাদের সন্তান জন্য।
ইলা থেমে গেলো কয়েক সেকেন্ড মাথায় আগুন উঠে গেলো ইলার শাওনের মজার কথা ছাড়া বাকি সব ছেলেদের এই সব ফ্লাটিং বিষ এর সমান লাগে তবুও ইলা ঠান্ডা কণ্ঠে বলল,
ইলাঃ- আপনি নিশ্চিত তো আর্মিতে কাজ করেন না কি কোনো সার্কাসে কাজ করেন?
আর্কিনঃ- আমি আর্মিতে আছি কিন্তু আপনার সামনে দাঁড়ালে নিশ্চয়ই সার্কাস ক্লাউনের মতো আচরণ করব কারণ আপনার একটুখানি হাসি দেখাই ইচ্ছা হয়েছে আমার খুব।
ইলা একদম চুপ মনে মনে বলল “এই মানুষটা এমন সাইকো কেন?
ইলাঃ- আপনার এইসব কথা আমার ভালো লাগে না।
আর্কিনঃ- অন্যরকম মেয়ে আপনি বাকিরা আমার মুখে প্রশংসা শুনে গলে যায় আর আপনি রেগে যান। তাই তো আপনাকে পছন্দ করেছি।
ইলাঃ- আমি রেগে যাই না আমি বিরক্ত হই।
আর্কিনঃ- তাহলে দারুন মানে আপনি আমার ওপর ‘রিয়্যাকশন’ দিচ্ছেন তার মানে আপনি ‘ইন্টারেস্টেড’। প্রথম ধাপ পেরিয়ে গেলাম।

ইলাঃ- কি আজব মানুষ আপনি।
আর্কিনঃ- আজব আহ্‌ প্রথম কমপ্লিমেন্ট আমি তো ভেবেছিলাম আপনি বলবেন কি ‘কিউট’।
ইলা একটু চুপ করে রইল, রাগে ইলার মাথা ফেটে যাচ্ছে শুধু তার মাকে কথা দিয়েছে কোনো প্রকার ঝামেলা করবে না তাই চুপচাপ আছে এখনো এক দীর্ঘ শ্বাস ফেলে ইলা তারপর বলল,
ইলাঃ- আপনি কি সব মেয়েকেই এমনভাবে পটান?
আর্কিনঃ- না শুধু যাদের চোখে যুদ্ধ দেখি, কিন্তু মুখে শান্তির গল্প থাকে তাদেরকেই।
এই কথায় ইলা থেমে গেলো বুকের ভেতর কেমন জানি কেঁপে উঠলো সে কথাটা লুকাতে রাগী সুরে বলল,
ইলাঃ- শুনেন এত নাটকীয় ডায়লগ আমার সামনে বলবেন না।
আর্কিনঃ- আচ্ছা সিরিয়াস মানুষ তাহলে বলুন, আপনি কি চান আমি কাল ফেসবুকে স্টাটাস দিয়ে সবার সামনে ঘোষণা দেই “আমি ইলা তালুকদারের প্রেমে পড়েছি”

ইলাঃ- আপনি এমন পাগলামি করবেন না দয়া করে।
আর্কিনঃ- করবো না যদি আপনি বলেন আপনি আমাকে পছন্দ করেছেন।
ইলাঃ- আমি বলে দিয়েছি আপনাকে আমি আপনাকে পছন্দ করি না।
আর্কিনঃ- সেটা বলেছেন মুখে কিন্তু আপনার চোখ এখন মিথ্যা বলছে।
ইলা থমকে গেলো হঠাৎ বুঝতে পারলো তার গাল গরম হয়ে উঠেছে।
ইলাঃ- আপনি এখন ফোন রাখেন আমি ঘুমাতে চাই।
আর্কিনঃ- ঠিক আছে রাখছি কিন্তু একটা কথা মনে রাখবেন।”
ইলাঃ- কি কথা?
আর্কিনঃ- আপনি ঘুমানোর আগে চোখ বন্ধ করবেন, আমি তখন ও চোখ খুলে থাকব। কারণ আমি এখনো বিশ্বাস করি আপনি রাগ করে থাকলেও আমার নামটা একবার মনে করেবে।
ইলা কিছু না বলে ফোনটা কেটে দিলো কিন্তু ফোন রাখার পর বুকের ভেতর কেমন যেনো শব্দ হলো একটা মৃদু ধুপধুপানি, যা সে নিজেও বুঝতে পারলো না। বিছানায় শুয়ে জানালার বাইরে তাকালো বাতাসে পর্দা উড়ছে আকাশে আধো চাঁদ। মনে মনে বলল, “এই মানুষটা সত্যিই পাগল কিন্তু অদ্ভুতভাবে কথা বলে। ফোনটা তখনও লাইট জ্বলছে স্ক্রিনে একটা নতুন মেসেজ

“শুভরাত্রি আমার রাগানি কাল আমার সাথে একটু দেখা করবেন?
ইলা রিপ্লাই দিলো,
ইলাঃ- কোনো দিন ও না।
অন্য পাশ থেকে আর কোনো মেসেজ আসলো না রাতটা নিঃশব্দে কেটে গেলো কিন্তু ইলার মনে শুরু হলো এক অদ্ভুত নতুন অধ্যায়।
সূর্যের আলো জানালা দিয়ে ঘরে ঢুকছে ইলা উঠে ফ্রেশ হয়ে নাস্তা করতে চলে গেলো টেবিলে গরম খিচুড়ির গন্ধ ছড়িয়ে পড়েছে। ইলা মা বসে আছেন টেবিলের পাশে পাশে ইলার বাবা,বড় বাবা, ইলার বড় মা, ইলার মেঝোবাবা,পরি সবাই ইলা নীরবে নাস্তা খেতে বসেছে।চামচ দিয়ে ডিমের কুসুম নেড়ে চেড়ে খাচ্ছে চোখে কেমন এক ক্লান্ত ভাব।

সাবিহাঃ- ইলা আর্কিন ছেলেটা তো ভালোই মনে হলো, তুই কি ভেবে দেখেছিস?
ইলা হঠাৎ থেমে গেল হাতের চামচটা প্লেটের ওপর ঠক করে পড়লো চোখের দৃষ্টি নিচের দিকে নেমে গেল। রাশেদ সেটা বুঝতে পেরে ইলার মায়ের উপরে রেগে গেলো
রাশেদঃ- এখন এসব কথা বলার সময়?মেয়েটা কলেজ থেকে আসুক তারপর না হয় বলো। সকাল সকাল মাথা খারাপ করে দিও না তো।
সাবিহাঃ- আমি তো শুধু জিজ্ঞেস করলাম…
রাশেদঃ- চুপ থাকো ওর মুখের দিকে দেখো একবার, মেয়েটা কতটা অস্বস্তিতে আছে বোঝো না?
ইলা নিঃশব্দে চেয়ার ঠেলে উঠে দাঁড়ালো কিছু না বলে নাস্তার টেবিল থেকে উঠে চলে গেল। প্লেটে খাবার ঠান্ডা হয়ে রইল, আর ইলার চামচটা গড়িয়ে মেঝেতে পড়লো। ইলা রেডি হয়ে কলেজে চলে গেলো।
রোদটা তখন কিছুটা নরম হয়েছে ইলা ক্লাস শেষ করে কলেজ গেটের সামনে যেতে লাগলো মেয়েরা দল বেঁধে যাচ্ছে, কেউ বাস ধরছে, কেউ চায়ের দোকানে আড্ডা দিচ্ছে। ইলা হাটতে হাটতে ফোনে কিছু স্ক্রল করছে, তখনই একটা নীল রঙের বাইক গেটের সামনে এসে ব্রেক চাপলো। ইলা চমকে উঠলো বাইক থেকে নামল লম্বা, ফর্সা, হাস্যোজ্জ্বল মুখের একজন হেলমেট খুলতেই দেখা গেল আর্কিন। ফিট শার্ট, কালো গ্লাভস, চোখে দুষ্টুমি।
ইলাঃ- আপনি এখানে কেনো?

আর্কিনঃ- আপনি দেখা করতে চাইলেন না তাই ভাবলাম আপনাকে ফোর্সলি তুলে নিয়ে যাই। এবার উঠুন যাওয়া যাক।
ইলাঃ- আমি আপনার সাথে কোথাও যাবো না।
আর্কিনঃ- ধুর বাবা আমি কি জোর করে বিয়ে করে ফেলবো নাকি? শুধু এক কাপ চা খাওয়াবো তাতেই ভয় লাগে নাকি?
ইলাঃ- আপনার কিছু বলার থাকলে এখানে বলুন আমি ব্যস্ত।
আর্কিনঃ- আহা কে না জানে আপনি কত ব্যস্ত, কলেজের সবচেয়ে ব্যস্ত সুন্দরী আমার ফৌজদারি মামলা হয়ে গেল মনে হয়,এত কঠিন আচরণ করছেন কেনো বলুন তো?
ইলাঃ- আপনি অতিরিক্ত কথা বলছেন।
আর্কিনঃ- কথা না বললে আপনি তো আমায় দেখবেনই না। তাই ভাবলাম কিছু মিষ্টি কথা বলেই যদি মনে জায়গা পাই।
ইলা চোখ পাকিয়ে তাকালো তার ঠোঁটের কোণে রাগ আর লজ্জার মিশ্র ছায়া।

ইলাঃ- আপনি কি ভাবেন আমি আপনাকে পছন্দ করি নাকি?
আর্কিনঃ- আপনি না করলেও হবে আমি তো আপনাকে পছন্দ করি।
ইলাঃ- আপনি নিজেকে নিয়ে অতিরিক্ত ভাবেন।
আর্কিনঃ- না আপনি আমার কাছে অতিরিক্ত সুন্দর যাকে একবার দেখে চোখ ফেরাতে পারিনি আমি।
ইলা একদম চুপ তার বুকের ভিতরটা কেমন যেন ধকধক করছে কিন্তু মুখে বলল
ইলাঃ- আপনি খুব বিরক্তিকর মানুষ।
আর্কিনঃ- সেটা আমি জানি কিন্তু জানেন আমার এই বিরক্তিকর দিকটাই আপনার শান্ত জীবনে একটু রঙ এনে দেবে।
ইলা চোখ ঘুরিয়ে অন্যদিকে তাকালো তবুও ঠোঁটের কোণে সামান্য হাসি লুকিয়ে ফেলতে পারল না। আর্কিন হেলমেট পরে বাইকে উঠলো

ভয়েজের মায়াজাল পর্ব ১৩

আর্কিনঃ- ঠিক আছে এখন উঠুন বাকি কথা চা খেতে খেতে বলা যাবে।
ইলাঃ- কোথায় যাবেন??
আর্কিনঃ- সামনে লেকের ধারে।
ইলাঃ- আপনি যান আমি রিকশা তে করে যাচ্ছি।
ইলা একটা রিকশা ডেকে উঠে পড়লো রিকশাওয়ালা কে বলল লেকের ধরে যেতে আর্কিন হালকা হাসি দিয়ে বাইক স্টার্ট করলো। ইলার রিকশার পিছন পিছন যেতে লাগলো মনে মনে বলল
ইলাঃ- এই ছেলেটা যতটা পাগল দেখছি তার চেয়েও বেশি জেদি।

ভয়েজের মায়াজাল পর্ব ১৫