Home ভয়েজের মায়াজাল ভয়েজের মায়াজাল পর্ব ৫৫

ভয়েজের মায়াজাল পর্ব ৫৫

ভয়েজের মায়াজাল পর্ব ৫৫
ছায়া

মালদ্বীপে আজ উৎসবের আমেজ আরিয়ান আগে থেকেই প্ল্যান করে রেখেছিল যে ভালোবাসা দিবস এর রাতটা সে স্মরণীয় করে রাখবে।কিন্তু তার আগে সে দেখতে চেয়েছিল রায়েদ আর আদিব তাদের সঙ্গিনীদের জন্য কী করে।
আদিব ও পরির মুহূর্ত
সমুদ্রের পাড়ে বালুর ওপর ছোট ছোট এলইডি লাইট দিয়ে একটি হৃদপিণ্ড আঁকা হয়েছে।আদিব পরিকে সেখানে নিয়ে গেল।পরির হাতে তখন একগুচ্ছ সাদা গোলাপ।
আদিবঃ- পরি, আমরা তো অনেক আগেই বিয়ে হয়ে গেছে কিন্তু প্রথাগতভাবে তোমাকে কখনো প্রপোজ করা হয়নি।তাই আজ এই আকাশের নিচে দাঁড়িয়ে আমি বলতে চাই, আমার জীবনের প্রতিটি সূর্যাস্ত আমি তোমার পাশে বসেই দেখতে চাই। উইল ইউ বি মাই ভ্যালেন্টাইন ফরএভার?
পরি আবেগে আপ্লুত হয়ে আদিবকে জড়িয়ে ধরল। আদিব পকেট থেকে একটি ডায়মন্ড রিং বের করে পরির আঙুলে পরিয়ে দিল। দূর থেকে হালিমা আর রায়েদ হাততালি দিয়ে উঠল।

রায়েদ ও হালিমার কমেডি প্রপোজাল:
রায়েদ এবার হালিমার সামনে গিয়ে খুব সিরিয়াস হওয়ার ভান করল।সে একটা প্লাস্টিকের লাল গোলাপ (যা সে রিসোর্টের ডেকোরেশন থেকে চুরি করেছে বলে মনে হচ্ছে) হালিমার দিকে বাড়িয়ে দিল।
রায়েদঃ- হালিমা বেগম তোমার ভয়েজ শুনতে শুনতে আমার কানের পর্দা অভ্যস্ত হয়ে গেছে। এখন তুমি যদি একদিন কথা না বলো তবে আমার মনে হয় বাসার রেডিও নষ্ট হয়ে গেছে। তাই বলছি আমাদের এই টম অ্যান্ড জেরি মার্কা সম্পর্কটা আজ আজীবনের জন্য মনে তালাবন্ধ করে দাও।
হালিমা হেসে ফেলল
হালিমাঃ- আপনি কি ভালো কিছু বলতে পারেন না?
রায়েদঃ- আরে এর চেয়ে ভালো আর কী হবে? আমি তোমাকে কথা দিচ্ছি আমার ল্যাপটপের পাসওয়ার্ড আর আমার ফেসবুকের পাসওয়ার্ড সব তোমার কাছে থাকবে। এর চেয়ে বড় প্রপোজাল আর কী হতে পারে?
হালিমা মাথা নেড়ে গোলাপটা নিল রায়েদ খুশিতে হালিমাকে জরিয়ে ধরলো উপরে তাকিয়ে বলল ফাইনালি ভন্ডামি বাদ দিলাম আজ থেকে।

সবশেষে এল আরিয়ান আর ইলার পালা। আরিয়ান ইলাকে নিয়ে গেল রিসোর্টের ওপরের একটি প্রাইভেট রুফ-টপে,যেখান থেকে পুরো সমুদ্রটা এক অদ্ভুত মায়াবী লাগছে।সেখানে কোনো টেবিল নেই নেই কোনো ঝাড়বাতি শুধু একটি গিটার রাখা। আরিয়ান গিটারটা হাতে নিল ইলা মুগ্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। আরিয়ান সুর তুলল তার সেই মায়াবী কণ্ঠে
~ Jab se mera dil tera hua,
~ pucho na mujhko mujhe kya hua
~Ab teri baahon mein jeena mujhe,
~warna hai marr jaana,…
গান শেষ করে আরিয়ান গিটারটা পাশে রেখে ইলার খুব কাছে এল।ওর দুই হাত নিজের হাতের মুঠোয় নিয়ে বলল,
আরিয়ানঃ- ইলাফুল মানুষ প্রপোজ করে সাথে থাকার জন্য। কিন্তু আমি তোমাকে প্রপোজ করছি আমার সত্তার অংশ হওয়ার জন্য।তুমিহীন আরিয়ান মানে এক নীরব নিস্তব্ধ শহর। আমি চাই আমাদের জীবনের প্রতিটি অধ্যায় তোমার হাসিতে পূর্ণ হোক।
আরিয়ান এবার পকেট থেকে নীল মখমলের বক্স নয় বরং একটি পুরনো ধাঁচের ডায়েরি বের করল সাথে একটা দলিল
আরিয়ানঃ- এই ডায়েরিতে আমার সব ইচ্ছে লিখা আছে আর শেষ পাতায় একটি প্রশ্ন আছে যা আমি আজ তোমাকে করতে চাই।
ইলা কাঁপাকাঁপা হাতে ডায়েরির শেষ পাতাটা খুলল সেখানে বড় বড় অক্ষরে লেখা “Can I be the Voice of your Heart forever?”

ইলার চোখের কোণে আনন্দের জল চিকচিক করে উঠল। সে আরিয়ানের বুকে মাথা রেখে ফিসফিস করে বলল,
ইলাঃ- আপনি তো আমার হৃদয়ের শব্দ অনেক আগেই হয়ে গেছেন আমি শুধু চাই এই মায়াজাল যেন কোনোদিন শেষ না হয়।
আরিয়ান দলিল টা খুলে দেখতে বলল ইলাকে।ইলা সেটা খুলে দেখে বলল
ইলাঃ- এটা কি
আরিয়ান নরম হাসি দিয়ে ইলার চোখের দিকে তাকিয়ে বলল,
আরিয়ানঃ- এটা আমাদের স্বপ্নের একটা প্রথম ধাপ ইলাফুল এটা একটা দলিল এখানে সিলেটের পাহাড়ি অঞ্চলে, ঠিক যেখানে সবুজের কোলে মেঘ আর কুয়াশা খেলা করে, সেখানে ১০ বিঘার একটা জায়গা আমি তোমার জন্য কিনেছি। ভালোবাসা দিবসের এই বিশেষ দিনে এটা আমার তোমাকে দেওয়া সবচেয়ে বড় উপহার।
এখানে আমরা আমাদের ছোট্ট স্বপ্নের বাড়িটা বানাবো একটা সাধারণ কিন্তু হৃদয় ছোঁয়া বাড়ি।সকালে জানালা খুললেই পাহাড়ের ঢাল বেয়ে আসা সূর্যের প্রথম আলো, বিকেলে চা-পান করতে করতে দূরের ঝর্ণার শব্দ,বাড়ি চারপাশ ঘিরে ফুলের সুবাস আর রাতে তারার নিচে তোমার হাত বাগানের মাঝ ধরে হাঁটবো। কোনো বড় ম্যানশন নয় শুধু আমাদের দুজনের জন্য একটা নিরিবিলি আশ্রয়, যেখানে তোমার হাসি প্রতিদিন প্রতিধ্বনিত হবে আর আমার প্রতিটি শ্বাসে তোমার নাম মিশে থাকবে।ইলাফুল এই জায়গাটা শুধু জমি নয় এটা আমাদের ভবিষ্যতের প্রতিশ্রুতি।
ইলা দলিলটা হাতে নিয়ে কয়েক মুহূর্ত চুপ করে তাকিয়ে রইল। তার চোখ দুটো বড় বড় হয়ে গেল, যেন বিশ্বাস করতে পারছে না যে এই কাগজের টুকরোটা আসলে তাদের দুজনের ভবিষ্যতের একটা অংশ।
হঠাৎ ঠোঁট কেঁপে উঠল চোখের কোণে আবার জল চিকচিক করে উঠল এবার আনন্দ আর অভিভূত হওয়ার জল। সে দলিলটা বুকে জড়িয়ে ধরল, যেন সেটা আরিয়ানের হৃদয়ের একটা ছোট্ট টুকরো।ইলা কাঁপা গলায় ফিসফিস করে বলল

ইলাঃ- এটা সত্যি?আমরা সত্যিই একটা বাড়ি বানাবো? পাহাড়ের কোলে? শুধু আমাদের দুজনের জন্য?
ইলা মাথা তুলে আরিয়ানের চোখে চোখ রাখল।তার চোখে এখন শুধু ভালোবাসা নয়, একটা গভীর কৃতজ্ঞতা আর স্বপ্ন দেখার উত্তেজনা মিশে গেছে।ইলার হাসতে হাসতে গলা ভেঙে যাচ্ছে
ইলাঃ- আমি সবসময় চাইতাম আমার একটা স্বপ্নের বাড়ি হবে এমন জায়গায় যেখানে সকালে পাখির ডাক আর সন্ধ্যায় ঝিঁঝিঁর গান ছাড়া আর কোনো শব্দ থাকবে না। আর যত দূর পর্যন্ত চোখ যাবে শুধু ফুল দেখা যাবে আর আজ আপনি ঠিক সেই জায়গাটাই আমার জন্য কিনে এনেছেন।
ইলা হঠাৎ আরিয়ানের গলা জড়িয়ে ধরল, মুখটা তার কাঁধে লুকিয়ে ফেলল তার শরীরটা হালকা কাঁপছে আনন্দের, ভালোবাসার আর একটু ভয়েরও। ভয় যে এত সুন্দর স্বপ্ন যেন কখনো ভেঙে না যায় ইলা ফিসফিস করে আরিয়ানের কানের কাছে বলল

ইলাঃ- আমি আপনাকে কীভাবে ধন্যবাদ দেবো? এটা শুধু জমি না এটা আমাদের সবকিছু। আমাদের সকাল আমাদের সন্ধ্যা আমাদের ঝগড়া আমাদের হাসি সবকিছু।
ইলা একটু পিছিয়ে এসে আরিয়ানের দুই গালে হাত রাখল চোখে চোখ রেখে বলল,
ইলাঃ- আমি চাই আমরা একসাথে সেই বাড়িটা বানাই। প্রতিটা কাঠে আমাদের ভালোবাসা লিখে রাখি। আর প্রতিদিন সকালে জেগে উঠে শুধু আপনাকে দেখতে চাই
ইলা এবার আর কথা বলল না শুধু আরিয়ানকে আরও জোরে জড়িয়ে ধরল, যেন এই মুহূর্তটা চিরকালের জন্য বুকে আটকে রাখতে চায়। তার চোখ বন্ধ, ঠোঁটে একটা নরম, অসীম খুশির হাসি।
আরিয়ান ইলার কপালে গভীর এক চুমু দিয়ে ওকে কোলে তুলে নিল।ঠিক সেই মুহূর্তে আকাশজুড়ে ফায়ারওয়ার্কস শুরু হলো। রঙিন আলোয় মালদ্বীপের আকাশ যেন আরিয়ান-ইলার ভালোবাসার স্বীকৃতি দিচ্ছিল।নিচে দাঁড়িয়ে রায়েদ চিৎকার করে বলছে,

রায়েদঃ- আরিয়ান ভাই প্রপোজাল তো হয়ে গেল,এখন কি ডিনারে একটু এক্সট্রা কাবাব পাওয়া যাবে?ভালোবাসার গন্ধে আমার খিদে আরও বেড়ে গেছে।
আরিয়ান আর ইলা একে অপরের চোখের দিকে তাকিয়ে হেসে উঠল। ভালোবাসা আর খুনসুটিতে ভরা মালদ্বীপের এই রাতটি তাদের জীবনের শ্রেষ্ঠ রাত হয়ে খোদাই হয়ে রইল।
ডিনার শেষে নীল জলরাশির ওপর দাঁড়িয়ে থাকা রিসোর্টের ডেক্স থেকে সবাই যে যার রুমে বিদায় নিল। আরিয়ান আর ইলা তাদের রুমে ঢোকার আগে রায়েদকে একবার আড়চোখে দেখে নিল রায়েদ এখন অস্বাভাবিক শান্ত। হালিমা মাথা নিচু করে নিজের ভিলার দিকে এগোচ্ছে।
রায়েদ আর হালিমা তাদের রুমে ঢুকল রুমে ডুকেই অবাক হয়ে গেলো পুরো রুম ফুলে সাজানো। রুমটা আরিয়ান আর আদিব মিলে চমৎকার করে সাজিয়েছে এটা রায়েদ আর হালিমার জন্য সারপ্রাইজ ছিলো চারদিকে ফুল ছড়ানো সাদা অর্কিড আর হালকা নীল আলোর মোমবাতি জ্বলছে। সমুদ্রের ঢেউয়ের শব্দে পরিবেশটা একদম থমথমে।
হালিমা বেডের দিকে তাকিয়ে দেখে কিছুটা লজ্জা পেয়ে গেলো রায়েদ কোটটা খুলে সোফায় রাখল। তারপর দীর্ঘক্ষণ কোনো কথা না বলে জানালার পাশে গিয়ে দাঁড়িয়ে রইল। হালিমা আড়চোখে তাকিয়ে ভাবছে “এই লোকটা কি রাগ করল এই সব দেখে নাকি হাঙ্গরের ভয়ে এখনো ট্রমাটাইজড?”

হালিমাঃ- আপনি কি সারা রাত ওভাবেই দাঁড়িয়ে থাকবেন কোনো সমস্যা?
রায়েদ ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়াল ওর চোখে আজ সেই দুষ্টুমি নেই, বরং গভীর এক আবেগ খেলা করছে। সে এগিয়ে গিয়ে হালিমার সামনে মেঝেতে হাঁটু গেড়ে বসল। হালিমার হাত দুটো নিজের হাতের মুঠোয় নিল।
রায়েদঃ- হালিমা সবাই মনে করে আমি শুধু হাসতে জানি। আরিয়ান ভাই বা আদিব ভাইয়ের মতো হয়তো আমি অতটা রোমান্টিক ডায়ালগ দিতে পারি না। কিন্তু সত্যি বলতে, এই যে সারাদিন আমি পাগলামি করি, তার একমাত্র কারণ হলো আমি সবার মুখে ওই মিষ্টি হাসিটা দেখতে চাই
হালিমা অবাক হয়ে রায়েদের দিকে তাকিয়ে রইল।
রায়েদঃ- আমি জানি আমাদের বিয়েটা একটু তাড়াহুড়ো করে হয়েছে। কিন্তু আমি চাই না তুমি আমাকে শুধু একজন ‘পাগল স্বামী’ হিসেবে দেখো। আমি চাই তোমার সবটুকু জুড়ে থাকতে তুমি কি আমাকে সেই জায়গাটা দেবে?
হালিমার চোখে জল টলমল করে উঠল সে রায়েদের হাতের ওপর নিজের মাথাটা রাখল।
হালিমাঃ- আপনি যেমন আমি আপনাকে ঠিক তেমনই ভালোবাসি।আপনার ওই পাগলামিগুলোই তো আমার ঘরটা ভরিয়ে রাখে আপনাকে পাল্টাতে হবে না।

রায়েদ মুচকি হাসল তারপর আলতো করে হালিমার কপালে একটা দীর্ঘ চুমু খেল হালিমা শিউরে উঠে চোখ বন্ধ করল। রায়েদ হালিমার চিবুকটা ধরে মুখটা উঁচিয়ে ধরল।
রায়েদঃ- আর একটা কথা হালিমা বেগম… আমি কিন্তু সত্যি সত্যি তোমাকে কোলে তুলে নিতে পারি। ওই হাঙ্গরের ড্রামাটা তো জাস্ট তোমাকে একটু কাছে পাওয়ার বাহানা ছিল।
হালিমা হেসে ফেলল
হালিমঃ- আপনি একটা আস্ত বজ্জাত!”
রায়েদ আর দেরি করল না হালিমাকে এক ঝটকায় কোলে তুলে নিয়ে বিছানায় শুইয়ে দিল।বাতির নীল আলোয় তাদের ছায়াগুলো দেওয়ালে এক হয়ে মিশে গেল।বাইরে সমুদ্রের গর্জন বাড়ছিল আর ভেতরে দুই হৃদয়ের নতুন এক গল্পের সূচনা হলো।
রায়েদ হালিমার ঠোঁটে ঠোঁট রেখে গভির চুমু দিল তার পরে হালিমার চোখে চোখ রেখে
রায়েদঃ- ফাস্ট টাইম একটু ব্যথা লাগবেই হালিমা বেগম তাই বলে আবার তুমি কান্না করে দিও না

Time skip….
পরদিন সকালে সূর্য ওঠার আগেই আরিয়ান আর ইলা ডেক-এ বসে কফি খাচ্ছিল। হঠাৎ পাশের রুম থেকে রায়েদের গান শোনা গেল
~ “ম্যায় জো ভি হু… সব তেরা হে…” ~
আরিয়ান মুচকি হেসে ইলার দিকে তাকাল।
আরিয়ানঃ- দেখ ইলাফুল আমাদের ‘রেডিও’ রায়েদ আজ ফ্রিকোয়েন্সি বদলে ফেলেছে ওর গলাতেও আজ অন্যরকম সুর।
ইলা আরিয়ানের কাঁধে মাথা রেখে বলল,
ইলাঃ- ভালোবাসা এমনই ভয়েজ কিং সবাইকে বদলে দেয় এমনকি এই পাগলটাকেও দিলো
সকালটা অন্যরকম স্নিগ্ধ আরিয়ান আর রায়েদ তখনো রিসোর্টের ডাইনিং এরিয়ায় ব্রেকফাস্টের তদারকি করছিল। ইলা ভাবল এই ফাঁকে সমুদ্রের পাড় দিয়ে একটু একা হেঁটে আসবে। নোনা বাতাস আর বালুচরে আছড়ে পড়া ঢেউয়ের শব্দে সে এক অদ্ভুত প্রশান্তি অনুভব করছিল।

ইলা আপনমনে হাঁটছিল হঠাৎ তার মনে হলো কেউ তাকে অনুসরণ করছে। সে থমকে দাঁড়িয়ে পেছনে ফিরতেই তার শরীরের রক্ত হিম হয়ে গেল। তার সামনে দাঁড়িয়ে আছে লিয়ান! সেই লিয়ান, যে ইলার জীবনে এক সময় বিষাক্ত এক অধ্যায় হয়ে এসেছিল। লিয়ানের চোখেমুখে সেই পরিচিত ধূর্ত হাসি।
লিয়ানঃ- কী ব্যাপার তুমি মালদ্বীপে তাও একা একা সমুদ্র বিলাস করছো নাকি? আমাকে চিনতে পারছো তো? নাকি ভয়েজ কিং এর মায়াজালে পড়ে পুরনো বন্ধুদের একদম ভুলেই গেছো?
ইলা ভয়ে কয়েক পা পিছিয়ে গেল তার গলা শুকিয়ে কাঠ হয়ে গেছে।
ইলাঃ- লিয়ান তুমি এখানে কীভাবে? তুমি না চিকিৎসার জন্য গেছিলে? তাহলে আমাদের পিছু কেন নিয়েছ তুমি?
লিয়ান এগিয়ে আসতে আসতে বলল,

লিয়ানঃ- জেল থেকে বেরিয়ে সব থেকে বড় কষ্ট পেয়েছি যখন জেনেছি তুমি ঐ মেলেটারির প্রেমে পড়ে গেছো আর পিছু কেন নিয়েছি, সেটা তো তুমি ভালো করেই জানো। তোমাকে আমার থেকে কেউ কেড়ে নেবে সেটা আমি সহ্য করতে পারি না। আজ এখানে তোমাকে বাঁচানোর মতো কেউ নেই।
লিয়ান ইলার হাত ধরতে যেতেই ইলা চিৎকার করে উঠল “আরিয়ান!” ঠিক সেই মুহূর্তে বাতাসের বেগে আরিয়ান সেখানে এসে হাজির হলো। ইলার চিৎকার শুনেই সে পাগলের মতো ছুটে এসেছে। ইলার সামনে লিয়ানকে দেখে আরিয়ানের চোখের মণি দুটো রাগে লাল হয়ে উঠল। সে কোনো কথা বলার সুযোগ না দিয়ে বাঘের মতো লিয়ানের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ল।
আরিয়ান এক হাতে লিয়ানের শার্টের কলার শক্ত করে চেপে ধরল এবং অন্য হাতে সজোরে লিয়ানের গালে দুটো থাপ্পড় বসিয়ে দিল।লিয়ান তাল সামলাতে না পেরে বালুর ওপর পড়ে গেল।
আরিয়ানঃ- কুত্তার বাচ্চা তোর সাহস কীভাবে হলো আবার ইলার সামনে দাঁড়ানোর? জেল থেকে বেরিয়ে ভালো হওয়ার চেষ্টা না করে আবার আমার বউয়ের ওপর নজর দিয়েছিস? আজ তোকে আমি জ্যান্ত এই সমুদ্রে পুঁতে ফেলব!

আরিয়ান আবার লিয়ানকে মারতে উদ্যত হতেই দূর থেকে একটা মেয়ে চিৎকার করতে করতে দৌড়ে এল। মেয়েটির পরনে সাদা শার্ট আর নীল জিনস, চোখে চশমা। সে এসে আরিয়ানের হাত ধরে ফেলল।
মেয়েটিঃ- থামুন কী করছেন আপনি? কে আপনি আর ওকে এভাবে অমানুষের মতো মারছেন কেন? ও তো আমার সাথে এসেছে!
আরিয়ান রাগে ফুঁসতে ফুঁসতে মেয়েটির দিকে তাকাল।
আরিয়ানঃ- আপনি কে আর এই পশুর পক্ষ নিচ্ছেন কেন? জানেন ও কে? ও একটা ক্রিমিনাল।
মেয়েটি শান্ত অথচ দৃঢ় কণ্ঠে বলল,

মেয়েটিঃ- আমি কে সেটা বড় কথা নয়, বড় কথা হলো আপনি একজন মানুষকে এভাবে মারতে পারেন না।
আরিয়ান নিজের মানিবেগ থেকে নিজের আইডি কার্ড বের করে দেখাতেই মেয়েটি বলল
মেয়েটিঃ- আমি হিয়ালা ইবনাত নাদিয়া পেশায় একজন গাইনো-অবস্টেট্রিক্স বিশেষজ্ঞ। লিয়ান এখন আমার সাথে ট্রাভেলে এসেছে আপনি নিশ্চয়ই কোনো ভুল করছেন।
ইলা তখনো আরিয়ানের পেছনে ভয়ে কাঁপছিল আরিয়ান নাদিয়ার দিকে তাকিয়ে তীক্ষ্ণ স্বরে বলল,
আরিয়ানঃ- আমি ভুল করছি না ডক্টর নাদিয়া এই ছেলেটা একটা বিষাক্ত সাপ। আপনি হয়তো ওর আসল চেহারা জানেন না কিন্তু মনে রাখবেন ও যদি আবার আমার ইলার ত্রিসীমানায় আসার চেষ্টা করে, তবে ডক্টর হিসেবে আপনিও ওর হাড়গোড় জোড়া লাগাতে পারবেন না।
নাদিয়া লিয়ানকে টেনে তুলল লিয়ান তখনো রাগে আর অপমানে ফুঁসছে কিন্তু আরিয়ানের শক্তির সামনে সে অসহায়। নাদিয়া আরিয়ানের দিকে তাকিয়ে বলল,
নাদিয়াঃ- পরিস্থিতি যাই হোক আমি ওর দায়ভার নিচ্ছি। তবে আপনাদের সাথে ওর কী ঝামেলা, সেটা আমি পরে শুনে নেব। লিয়ান চলো এখান থেকে।
নাদিয়া লিয়ানকে নিয়ে অন্যদিকে চলে গেল ইলা তখনো স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।আরিয়ান দ্রুত গিয়ে ইলাকে জড়িয়ে ধরল।

ভয়েজের মায়াজাল পর্ব ৫৪

আরিয়ানঃ- শান্ত হও ইলাফুল আমি থাকতে কেউ তোমার ক্ষতি করতে পারবে না লিয়ান কেন এখানে আর ওই মেয়েটির সাথেই বা ও কী করছে সব আমি বের করছি।
ইলা আরিয়ানের বুকে মুখ লুকিয়ে হাপুস নয়নে কাঁদতে লাগল। মালদ্বীপের শান্ত সকালটা মুহূর্তের মধ্যে এক অজানা ঝড়ের সংকেত দিয়ে গেল। কে এই নাদিয়া? আর লিয়ান কি সত্যিই বদলে গেছে নাকি নাদিয়াও লিয়ানের কোনো নতুন চালের অংশ?
(Happy Valentine’s Day)

ভয়েজের মায়াজাল পর্ব ৫৬