রাজনীতির রংমহল ৩ পর্ব ৪০
সিমরান মিমি
ঘড়ির কাঁটা নয়টাকে ছাড়িয়ে গেছে। সকালের নাস্তা শেষ করে প্রত্যেকেই বসার ঘরে বসেছে। শামসুল সরদারের শরীর পূর্বের তুলনায় ঢের ভালো। বলা বাহুল্য তিনি অত্যন্ত শক্তিশালী মনোবলের। তবে মাঝেমধ্যে অসহনীয় কিছু দুশ্চিন্তা এবং ঘটনা শরীরকে কাবু করে ফেলে নিমিষেই। তার পাশে বসে আছেন খলিলুর সরদার ও রোহান। সাংসদ নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে তাদের কোনো মাথা ব্যথা নেই। পরাজয়ের যন্ত্রণাটুকু অতি দ্রুতই মুছে ফেলেছেন মন থেকে। ড্রয়িংরুমে মৃদু আলোচনা চলছে রাজনীতি নিয়ে। যার খানিকটা ডাইনিং টেবিল থেকেও শোনা যাচ্ছে।
স্পর্শীয়া আজ অনেকটা ঘুমিয়েছে। সে কারনেই সবার সঙ্গে বসে নাস্তা করতে পারে নি। সোনালী ব্যস্ত হাতে তাকে পরোটা, ডিম, ভাজি দিয়ে চলে গেছেন রান্না ঘরে। স্পর্শীয়া আলসেমি করে ধীরে ধীরে মুখে তুলছে খাবার। এই শক্ত পরোটা চিবুতে ইচ্ছে করছে না। মন চাইছে নুডুলস খেতে। অথচ এই মুহুর্তে রান্নাঘরে ঢুকতেও মন সায় দিচ্ছে না। মা থাকলে হয়তো অনায়াসেই আবদার করে ফেলতো। কিন্তু তা তো আর সম্ভব নয়। এমন নয় যে সোনালী তার আবদার পূরণ করবেন না। বরং সকল কাজ ফেলে চুলায় নুডুলস বসাবেন। মানুষটার বয়স হয়েছে। এমনিতেই পুরো বাড়ি সামলায়। স্পর্শীয়া কি করে তাকে আবার নুডুলস বানিয়ে দেওয়ার কথা জানাবে?
রিহান চাচার কথায় অত্যন্ত মনোযোগী হলো। যা গেছে, তা যাক। সে নিয়ে আফসোস নেই। কিন্তু আর হেরে যাওয়া যাবে না। খুব শীঘ্রই উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচন। ইতোমধ্যেই শামসুল সরদার একটা গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছেন। তাদের উপজেলা থেকে চেয়ারম্যান নির্বাচনের প্রার্থী হবেন খলিলুর সরদার। কার্যক্রম শুরু করতে হবে অতি শীঘ্রই। শুধু এই উপজেলা নয়, এই আসনের প্রত্যেকটা উপজেলা চেয়ারম্যান হবে তার দলীয় নেতারা। আসনের কেন্দ্রীয় ক্ষমতা পরশের হাতে থাকলেও স্থানীয় পর্যায়ে তার দলের নেতাকর্মীরা ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকবে।
ড্রয়িংরুমে রাজনৈতিক আলোচনা চলার মাঝখানেই ছুটে এলো বাহাদুর। তার চোখেমুখে অবিশ্বাসের ছাঁপ। বড় বড় নিঃশ্বাস নিয়ে শামসুল সরদারের উদ্দেশ্যে বললো,
— স্যার, পরশ শিকদারের গাড়ি…. গেটের সামনে। উনি ভিত্রে আইবেন। আমারে গেট খুলতে কয়। হাতে আবার মিষ্টির প্যাকেটও আছে।
এতোক্ষণ ধরে গালের মধ্যে চিবিয়ে রাখা পরোটা টুকু গিলতে পারলো না স্পর্শী। কাশি উঠে গেলো মুহুর্তেই। ব্যস্ত হাতে পানি গিলে চোখ গোলগোল করে সদর দরজার দিকে তাকালো। মনে পড়লো কাল রাতের শাসানো কথা গুলো। দ্রুত কন্ঠে বাহাদুরের দিকে তাকিয়ে বলে উঠলো,
— গেট খুলো না কাকা। অপেক্ষা করে ঠিক চলে যাবে।
শামসুল বাঁধা দিলেন। আলগোছে শরীর এলিয়ে দিয়ে বললেন,
— গেট খুলে দাও বাহাদুর। ও মনে হয় আমায় উঁসকে দিতে এসেছে। বেশ, পাঠিয়ে দাও।
বাহাদুর আর অপেক্ষা করলো না। বেরিয়ে গেলো বাইরে। স্পর্শীয়া ধীরে ধীরে গুটিয়ে উঠলো। হাতে প্লেট নিয়ে পা টিপে টিপে দোতলায় উঠতে লাগলো। শামসুল গম্ভীর কন্ঠে শুধালো,
– তুমি কোথায় যাচ্ছো?
– রুমে যাচ্ছি আব্বু। তোমাদের এসব রাজনৈতিক আলাপে আমি থাকতে চাই না।
পরশ শিকদার বুক ফুলিয়ে পাহাড়ের ন্যায় সরদার বাড়ির ড্রয়িং এ ঢুকলো। তার পেছনে গম্ভীর মুখে আলতাফ শিকদার ও আছেন। সবার শেষে দুহাতে মিষ্টির প্যাকেট নিয়ে গোমড়ামুখে ভেতরে ঢুকলো পাভেল। সে আসতে চায় নি। তবুও জোর করেছে ভাই। বিরক্ত মুখে মুখ ফুলিয়ে দাঁড়িয়ে রইলো। পরশ বসার জন্য অনুমতির অপেক্ষা করলো না। ফাঁকা সোফায় বেশ দাম্ভিকতার সাথে বসে পড়লো। শামসুল সরদার আলতাফ শিকদারের দিকে তাকিয়ে তাচ্ছিল্য নিয়ে হাসলেন। বললেন,
– বসুন, বসুন মিস্টার আলতাফ শিকদার।
আলতাফ টু শব্দ করলেন না। রাগে শরীরের রক্ত টগবগ টগবগ করছে। এই নিষ্ঠুর বাড়িতে তার পা রাখতেও ঘৃণা হয়। যে বাড়ির প্রতিটা কোনায় কোনায় তার আদরের ছোটো বোনের হাহাকার মিশে আছে, সে বাড়িতে আগুন জ্বালিয়ে দিতে ইচ্ছে হয়। তবুও আজ আত্মসম্মান ক্ষুন্ন করে এ বাড়িতে এসেছে। শুধুমাত্র ভাইয়ের কথায়, বোনের স্মৃতি রক্ষার্থে।
পরশ আশেপাশে চোখ বুলিয়ে কাউকে না দেখতে পেয়ে সরাসরি দোতলায় দৃষ্টিপাত করলো। স্পর্শীয়া রুমে ঢুকলো ঠিকই, তবে আর কিছু খেলো না। হাত মুছে দরজা ফাঁক করে তাকালো ড্রয়িংরুমের দিকে। মুহুর্তেই চোখাচোখি হয়ে যায় দুজনের। দাঁতে দাঁত চেপে চোখে-মুখে তীব্র রাগ এনে শাসায় স্পর্শীয়া। ইশারায় বলে ওঠে, খবরদার! উল্টোপাল্টা কিছু করলে ভালো হবে না কিন্তু? আমি এক চুল ও ছাড়বো না আপনাকে।
পরশ কাঁশি দেওয়ার ন্যায় মুখের উপর হাত রাখে। এরপর সকলের অগোচরে হেঁসে ওঠে। দৃষ্টি এড়ালো না শামসুলের। পরশকে লক্ষ্য করে সরাসরি দোতলায় স্পর্শীয়ার রুমের দিকে তাকালো। মুহুর্তেই দরজা টা বন্ধ হয়ে যায়। শামসুল কিছু একটা ভেবে গম্ভীর হয়ে ওঠে। দাঁতে দাঁত চেপে শুধায়,
_ হঠাৎ আমার বাড়িতে! কি মনে করে?
– আর্শিয়া কোথায়? আমি আমার বোনকে দেখতে এসেছি।
ঝরঝরে কন্ঠে উত্তর দেয় পরশ। শামসুল ভ্রুঁ কুঁচকায়। ভেবেছিলেন ব্যাপারটা রাজনৈতিক। সে জন্যই ঢুকতে দিয়েছিলেন ভেতরে। তবে এখন তা মনে হচ্ছে না।
শামসুলের থেকে কোনো উত্তর না পেয়ে পরশ পুণরায় বললো,
– আর্শিকে ডেকে দিন আংকেল। ভয়ের কোনো কারন নেই। নিয়ে যেতে আসি নি, শুধু কথা বলবো। আপনাদের সামনেই।
শামসুল আর্শিকে ডাকার জন্য রোহানকে ইশারা দিলো। চাচার নির্দেশ পেয়ে সঙ্গে সঙ্গেই সে হাঁক ছাড়লো।
– আর্শি, নিচে আয়।
প্রায় দু মিনিট পর আর্শিকে দেখা গেলো। সে নিজ মনে ধীর পায়ে হেঁটে সিঁড়ির কাছে এলো। হঠাৎ ড্রয়িংরুমের দিকে নজর পড়তে পা থেমে গেলো। থমকে গিয়ে বাবার দিকে ফ্যালফ্যাল করে তাকালো। দুশ্চিন্তা দেখা দিলো মনের মধ্যে। এইতো বাবার সাথে সবটা ঠিক হলো। এর মধ্যেই ও বাড়ি থেকে লোক আসলো কেনো? এখন যদি বাবা ভাবে, এদের কে আর্শি ডেকেছে, তবে? আবারো কি সম্পর্ক টা আগের মতো অভিমানের মধ্যেই চাপা পড়ে থাকবে?
থেমে থেমে, আস্তে ধীরে পা চালিয়ে বাবার পাশে দাঁড়ালো। আলতাফ আদুরে কন্ঠে একহাতে আর্শির হাত ধরলেন। পাশে বসাতে বসাতে বললেন,
— মামুনি, এদিকে এসো। বসো।
আর্শি বসলো ঠিকই। তবে তার চিন্তিত দৃষ্টি বাবার মুখের দিকে। সে কি রেগে গেলো? পর পর কয়েকবার চোখ তুলে বাবাকে দেখতে ব্যস্ত হলো মেয়েটা। নজর এড়ালো না পরশের। সে তেজী কন্ঠে জানতে চাইলো,
– ভয় পাচ্ছো কেনো? তোমার বাবা কি তোমায় শাসিয়েছে?
– না না। এমন কিছু না ভাইয়া।
আর্শি দ্রুত দুপাশে মাথা নাড়িয়ে পরশের ভাবনা অস্বীকার করলো। শামসুল চুপচাপ সবটা দেখছেন। পরশের এ বাড়িতে আসার মূল উদ্দেশ্যটা এখনো বুঝে উঠতে পারেননি। আর্শির সাথে দেখা তো বাড়ির বাইরেও করা যেতো। আবার রাজনৈতিক কোনো বিষয়ে খোটা দেওয়ার হলেও এতোক্ষণে তা দিয়ে ফেলতো। কিন্তু এমন কোনো মোটিভ শিকদারদের মধ্যে দেখা যাচ্ছে না। তবে কেনো এলো? স্পর্শীয়াকে নিয়ে কিছু বলবে না তো আবার! শামসুল বাইরে শান্ত থাকলেও ভেতরে ভেতরে ছটফট করে উঠলো।
পরশ আর অপেক্ষা করালো না। গম্ভীর কন্ঠে শান্ত ভঙ্গিতে বলে উঠলো,
– দেখুন আংকেল, রাজনৈতিক – পারিবারিক বিরোধীতা যাই’ই থাকুক ; তবে সেসবে আমি খুব একটা গুরুত্ব দিচ্ছি না। কে সঠিক, কে ভুল, সেসব নিয়েও গবেষণা করার ইচ্ছে নেই।
আমার প্রধান চাওয়া আমার বোনের ভালো থাকা। আমি চাই না অতীতের নিকৃষ্ট ঘটনাগুলো পুণরায় ঘটুক।
– কি বলতে চাইছো তুমি?
শামসুলের কন্ঠে হুশিয়ারি। সেসবে পাত্তা না দিয়ে পরশ পুণরায় বললো,
– আপনি বুঝতে পারবেন না, এমন কিছু আমি বলিনি। আমি আর্শিয়ার ভবিষ্যতের কথা বলছি। আপনার আর আর্শিয়ার মধ্যকার তিক্ত সম্পর্ক আমার অজানা নয়। ওর আহামরি বয়স না হলেও, বোঝার বয়স হয়েছে। আমি চাই না পুরোনো সব ঘটনাগুলো ভেবে আমার বোন মানসিক ভাবে ভেঙে পড়ুক। অনেক হয়েছে, আর নয়। ভাই হিসেবে আমি আমার বোনকে একটা সুস্থ পরিবেশ দিতে চাই। ও প্রাণ খুলে হাসুক, নিঃসংকোচে আবদার করুক। ব্যাস, এতোটুকুই।
শামসুল গর্জে উঠলো। বললো,
– আর্শিয়ার ভালোমন্দ দেখার জন্য ওর বাবা বেঁচে আছে।
– নাহ, বেঁচে নেই। আর্শিয়ার কোনো বাবা নেই। আছে এমপি শামসুল সরদার। যার কাছে ও নিঃসংকোচে কখনো একটা আবদার জানাতে পারেনি। শুনুন আংকেল, আর্শিয়া আর পাভেল দুজন দুজনকে পছন্দ করে। আমি আমার বোনের পছন্দকে মূল্যায়ন করতে চাই। যেহেতু আইন মোতাবেক আপনি ওর বাবা। তাই আপনার কাছে প্রস্তাব রাখলাম। আশা করছি মেয়ের পছন্দের মূল্যায়ন করবেন।
পাভেল স্তব্ধ চোখে পরশের দিকে তাকালো। সে আর্শিকে পছন্দ করে এর মানে কি? এসব কি হচ্ছে। এখানে আসার আগে তো তাকে একবারও এ ব্যাপারে জানায় নি। শুধু বলেছে, ও বাড়ি যাবো। সঙ্গে থাকবি। ” তবে এখন এসব কি হচ্ছে? পাভেল ক্রমশ গুমরে উঠলো। এই মুহুর্তে ভাইয়ের মুখের উপর বলাও সম্ভব নয় যে সে আর্শিয়াকে পছন্দ করেনা। বিয়ে তো দূরে থাক। অবশেষে আর বসে থাকতে পারলো না। ধীর পায়ে সোফা থেকে উঠে দাঁড়িয়ে ভাইয়ের উদ্দেশ্যে বললো,
– আমি বাইরে অপেক্ষা করছি।
আর্শি এখনো মাথা নিচু করে আছে। বুকের ভেতরটা ঢিপঢিপ করছে। বিশ্বাসই হচ্ছে এতোসব। সত্যিই কি পাভেলের সাথে তার বিয়ে হবে? একদিকে বাবার ভয়, অন্যদিকে ভালোলাগা – সবটা জড়িয়ে যাচ্ছে। সে জড়তায় আড়ষ্ট হয়ে নিচু কন্ঠে বললো,
– আমি রুমে যাবো মামা। আপনারা কথা বলুন।
আলতাফ বুঝতে পারলো আর্শিয়া লজ্জা পাচ্ছে। সে সায় জানালো। দু পা সিঁড়ির দিকে এগোতেই এতোক্ষণে নিস্তব্ধ হয়ে থাকা শামসুল গর্জে উঠলো। বললো,
– নাহ, ও কোথায়ও যাবেনা। আর্শিয়া, ওদেরকে বলে দাও তুমি ওই ছেলেকে পছন্দ করো না।
ঘাবড়ে গেলো আর্শি। বাবা ভীষণ রেগে আছে। এখন অস্বীকার না করলে আরো রেগে যাবেন। হয়তো কখনো কথাই বলবেন না। অন্যদিকে একবার না বললে ও বাড়ির সবাই আর এ সম্পর্ক নিয়ে ভাববে না। কিন্তু আর্শি তো খুব করে চায় পাভেলের সাথে তার বিয়ে হোক। সে মাথা নিচু করে কাঁপতে লাগলো। পরশ কপাল কুঁচকে ফেললো বিরক্তিতে। শামসুলের উদ্দেশ্যে বললো,
– আপনি ওকে শাসাচ্ছেন কেনো? ওর অধিকার আছে পছন্দ অনুযায়ী ভবিষ্যত নির্বাচন করা।
– তুমি চুপ করো। আমাদের বাড়ির মেয়ে, আমরা বুঝে নেবো।
খলিলুর সরদার ধমক মারলেন। সাথে সাথেই রোহান চিবিয়ে চিবিয়ে বলে উঠলো,
– ওহহ! ওকে ফাঁসানোর জন্যই বুঝি ও বাড়িতে নেওয়া হয়েছিলো। এবার বুঝলাম আসল উদ্দেশ্য।
পরশ স্মিত হাসলো। তাচ্ছিল্য করে বললো,
– ভেবেছিলাম বিয়ের ব্যাপারটা আলোচনার মাধ্যমে সারবো। কিন্তু আপনারা শুধরানোর নয়। প্রতিটা ব্যাপার কোর্ট অবধি টেনেই ছাড়বেন। বেশ! আর তো মাত্র দেড় মাস। আর্শির আঠারো বছর হওয়ার পর দেখবো আপনাদের সিদ্ধান্তগুলো কিভাবে ওর উপর চাপিয়ে দেন।
শামসুল আর সহ্য করতে পারলেন না। ক্ষিপ্ত কন্ঠে বললেন,
– আমিও শান্ত ভাবেই বলছি। রাজনৈতিক বিষয়ে আমি যথেষ্ট ছাড় দিতে জানি। কিন্তু ব্যক্তিগত বিষয়ে একদম নয়। অনেক কথা বলেছো, এবার আসতে পারো।
আর এক মুহুর্ত দাঁড়ালো না পরশ। একবার দোতলার দিকে তাকিয়ে ক্ষিপ্ত পায়ে বেরিয়ে গেলো। সেদিকে ছলছল চোখে তাকিয়ে রইলো আর্শিয়া। অভিমান জড়িত কন্ঠে ভাঙা গলায় বললো,
– তুমি কখনোই আমার ইচ্ছেগুলোর মূল্য দিলে না।
বিস্ফোরিত দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলো শামসুল। কিছু বলার পূর্বেই স্পর্শী নেমে এলো। পরিস্থিতি শান্ত করার উদ্দেশ্যে বলে উঠলো,
– আব্বু, রাগারাগি করো না, আমি দেখছি। আর্শিয়া, আমার সাথে এসো।
এই বলে একপ্রকার টেনে নিজের সাথে নিয়ে গেলো। শামসুল বিভ্রান্ত হয়ে বসে পড়লেন সোফায়। আর্শিয়া তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছে। শিকদাররা অল্প কদিনেই তার মেয়েকে বশ করে ফেলেছে। এটা হতে দেওয়া যাবে না।
– কাকা, আর্শি ছোটো, বুঝ কম। নিশ্চয়ই ওরা ফাঁদে ফেলেছে। বিরাট কিছু করতে চাইছে আমাদের বিরুদ্ধে। আপনি মিলিয়ে নিয়েন।
রিহানের বলা কথাটা আরো ভাবিয়ে তুললো শামসুলকে। সে দিশাহীন হয়ে পড়লো। এরইমধ্যে খলিলুর সরদার বলে উঠলেন,
– ভাইজান, এমন কিছুই হতে দেওয়া যাবে না। আর আর্শি যে ওই ছেলেকে পছন্দ করে এসব রিহানকে জানতে দেওয়া যাবে না। ছেলেটা বাড়ি ঘর ভেঙেচুরে ফেলবে।
চমকে ভাইয়ের দিকে তাকালো শামসুল। অবিশ্বাস্য দৃষ্টিতে জিজ্ঞেস করলো,
– এসবের মানে কি?
খলিলুর আজ আর চুপ রইলেন না। বহুদিন ধরে ভাইকে জানাতে চাইলেও সক্ষম হন নি। আজ এই ফাকে বলেই ফেললেন।
– ভাইজান, আপনার ছোটো মেয়েটাকে রিহান অনেকদিন ধরে পছন্দ করে। আমি জানাই নি এ বিষয়ে। দুজনেই বড় হোক। তারপর না হয় সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে। কিন্তু এটা আমার আবদার ভাইজান, মেয়েটা আমাদের বাড়িতেই থাকুক, আপনার চোখের সামনে। আমার ছেলের চেয়ে ওই পাভেল শিকদার কি বেশি যোগ্য?
আজ শামসুলের অবাক হওয়ার দিন। নিজের ভাইয়ের থেকে এমন প্রস্তাব পাবেন, তা কখনোই ভাবেন নি। তীব্র তেজ নিয়ে হুঙ্কার ছুড়লেন। বললেন,
– অসম্ভব। তোমার ছেলে কি করে বেড়ায়, তা কি আমি জানি না। সারাদিন নেশা, মারামারি এসবের মধ্যে থাকে। এরকম গুন্ডার সাথে আমি আমার মেয়ে দিবো? অসম্ভব।
আশ্চর্য হয়ে গেলো খলিলুর। স্তব্ধ হয়ে বলেই ফেললো,
রাজনীতির রংমহল ৩ পর্ব ৩৯
— বাহ! আপনার রাজনীতির স্বার্থে আমার ছেলেদের গুন্ডা বানালেন। অথচ নিজের ছেলে আদর্শ শিক্ষক। কখনো টু শব্দ করিনি। আপনার গায়ে আঁচড় লাগার আগে আমার ছেলেরা সামনে দাঁড়ায়। অথচ শেষ সময়ে ওদেরকেই গুন্ডা, অযোগ্য বলে পায়ে ঠেলে দিলেন? কি করে এটা বলতে পারলেন, ভাইজান?
