Home রাজনীতির রংমহল ৩ রাজনীতির রংমহল ৩ পর্ব ৪৯

রাজনীতির রংমহল ৩ পর্ব ৪৯

রাজনীতির রংমহল ৩ পর্ব ৪৯
সিমরান মিমি

সে রাতে পরশ আর বের হলো না। এমনিতেই বাড়ির সবাই গম্ভীর, এর মধ্যে স্পর্শীয়াকে একা রেখে যেতে মন সায় দিচ্ছে না। আসার পর প্রায় ঘন্টাখানেক প্রেমা তার সঙ্গে ছিলো। কিন্তু তার পরপর’ই অনলাইন ক্লাসের জন্য রুমে ছুটেছে।
এতোক্ষণ ড্রয়িংরুমে বসে থাকলে এখন রুমে যেতে হবে। স্পর্শীর কাছে ফোনও নেই। একাকী সময় কিভাবে কাটাবে। পরশ কফির মগ ছেড়ে সিঁড়িতে পা রাখতেই পিয়াশা ফুঁসে উঠলেন। বললেন,
– হ্যাঁ হ্যাঁ, যাও। যেনো অল্পতেই গলাটা টিপে ধরতে পারে। আইসিইউ পর্যন্ত গিয়েও তো শান্তি হয়নি।
পরশ ফের মায়ের দিকে তাকালো। হতাশ হয়ে বললো,
– মা প্লিজ! এভাবে বাচ্চামি করো না। আমার খিদে পেয়েছে। ভাত দেও।
পিয়াশা আর কিচ্ছু বললেন না৷ মুখ ঘুরিয়ে চলে গেলো। পরশ ও চলে এলো উপরে। দরজা ঠেলে ভেতরে ঢুকতেই অবাক হলো। স্পর্শীয়া সারাঘরে অস্থির হয়ে পায়েচারি করছে। স্বামীকে দেখতেই ক্ষিপ্ত পায়ে এগিয়ে এলো। চোখ দুটো বড় বড় করে শাসিয়ে বললো,

– ক’টা প্রেম করেছেন এর আগে? আমি তো ভুলেই গেছিলাম আপনার গার্লফ্রেন্ড দের কথা।
পরশ হতভম্ব হয়ে গেলো। বললো,
– এসব কি বলছো তুমি? আমার কোনো গার্লফ্রেন্ড নেই। কখনো প্রেম-ট্রেম করিনি।
– মিথ্যে। এখন বউয়ের কাছে মিথ্যা বলছেন। অথচ সেদিন সোনা দিঘির পার্কে তো ঠিকই স্বীকার করেছিলেন।
পরশ স্পর্শীর দুহাত ধরলো। আলতো হাতে সামলে বিছানার দিকে নিয়ে গেলো। খাটে বসিয়ে শান্ত কন্ঠে বুঝিয়ে বললো,
– মজা করেছিলাম। তোমায় রাগানোর উদ্দেশ্যে বলেছিলাম। এগুলো ফাও কথা। বিশ্বাস না হলে পাভেলকে জিজ্ঞেস করো।
স্পর্শীয়া পাভেলের নাম শুনে গম্ভীর হয়ে গেলো। ছেলেটা সেই সকালে গেছে, অথচ এখন অবধি সামনে আসেনি। এমনকি বাড়িতেও নেই।
– বেশ! তবে আপনার ফোনের লক খুলে দিন। আমি চেক করবো।
অবলার মতো ফ্যালফ্যাল করে পরশ তাকিয়ে রইলো। শেষে কি-না তার ফোন চেক করবে স্পর্শী। এই মুহুর্তে না দিলেও গতি নেই। না জানি কি না কি ভেবে বসে। সে ফোনের লক খুলে স্পর্শীর হাতে দিলো। সাথে সাবধানী বার্তা ছুড়ে বললো,

– কোনো ডকুমেন্টস ডিলিট করবে না। এগুলো ইম্পর্ট্যান্ট।
উত্তর দিলো না স্পর্শী। মনোযোগ দিয়ে হোয়াটসঅ্যাপ, ইন্সটাগ্রাম, মেসেঞ্জার চেক করতে লাগলো। কিন্তু সন্দেহজনক কিছুই পাওয়া যাচ্ছে না। পরশ হঠাৎ পাভেলের কথা ভেবে চিন্তিত হলো। সারাদিনে একবারও দেখা মেলেনি। এমনকি কলও করেনি। পরশ হঠাৎ স্পর্শীয়ার হাত থেকে ফোনটা নিয়ে নিলো। পাভেলের নাম্বারে কল করে স্পর্শীয়াকে থামার ইশারা দিলো।
ঘড়ির কাঁটায় বাজে সাড়ে নয়টা। অত্যধিক মদ খেয়েছে পাভেল। তারপরেও বুকের যন্ত্রণা কমছে না। একাধারে সিগারেট ফুঁকতে ফুঁকতে কল রিসিভড করলো। ওপাশ থেকে পরশ বললো,
– কোথায় আছিস তুই? এখনো বাড়ি কেনো আসিস নি?
পাভেল সামলালো নিজেকে। বললো,
– আজ আসবো না। বন্ধুরা পিকনিক করছে, সেখানেই আছি।
– বাহ! ভাইয়ের বিয়ে রেখে বন্ধুদের সঙ্গে পিকনিক?
পাভেল নিজের উপর হাসলো। পরশ যেনো বুঝতে না পারে তাই দুষ্টুমি করে বললো,

– তোর আর বিয়ে! যা রণক্ষেত্র হবে, তার আন্দাজ কিছুটা হলেও করতে পারছি। বিয়ের জোগাড়যন্ত আমি করেছি শুনলে তোর সাথে না পারলেও আমাকে বের করে দিবে বাড়ি থেকে। তাই আগেভাগেই ভেগেছি।
পাভেল কেটে দিলো ফোন। তার কষ্ট হচ্ছে। ভীষণ কষ্ট হচ্ছে। হুমায়ুন আহমেদ বলেছিলেন, একটা ছেলে এবং একটা মেয়ের মধ্যে কখনো বন্ধুত্ব হয় না। যেকোনো একজন প্রেমে পড়বেই।
সেরকমটাই হলো পাভেলের সাথে। তবে তা খুব বাজেভাবে। এতোটাই বাজে পরিস্থিতি হয়েছে যে স্পর্শীয়ার সাথে বন্ধুত্ব টাও আর নেই। এখন হয়তো বড় ভাইয়ের বউ সম্পর্কটাই মূল থাকবে। আগের সেই হাসাহাসি, খুনসুটি সব বিলীন হয়ে যাবে। দেখলে হয়তো মন খুলে কথাও বলবে না তার চড়ুই। পাভেলের আজকাল ভীষণ মন খারাপ হয়। আফসোস হয়। কেনো যে বলতে গেলো ভালোবাসার কথা! একতরফা অনুভূতি নিজের মধ্যে রাখাই হয়তো উচিত ছিলো। একা একা জ্বলতো। অন্তত বর্তমান পরিস্থিতির ন্যায় চক্ষুলজ্জায় পড়তে হতো না। স্পর্শীর সাথে আর আগের সম্পর্ক নেই, দেখলেই সে চোখ ফিরিয়ে নেয়। না হয় করুণা করে দুটো কথা বলে। পরিচিত, কাছের মানুষ গুলোর থেকে এমন আচরণ কি আদৌ সহ্য করা যায়?

অবশ্য দোষ তো পাভেলেরই। স্পর্শীর অসস্তি তো হবেই। বড় ভাইয়ের বউ হয়ে সে যখন জানবে তার দেবর তাকে পছন্দ করে, অন্য নজরে দেখে, — তখন তো এড়িয়ে চলবেই।
সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে যত রাত বাড়ছে। স্পর্শী তততাই অনুতাপের দহনে পুড়ছে। আফসোস কুড়ে কুড়ে খাচ্ছে তার ভেতরটাকে। বাবার করুন চাহনি, ভাইয়ের বিষাদে ভরা মুখ, মায়ের অসহায়ত্ব — এসব দেখেও জেদ নিয়ে এ বাড়িতে এসেছে। সবাইকে না জানি কতটা কষ্ট দিয়েছে! এসব ভাবতে ভাবতে হঠাৎই ফুপিয়ে উঠলো স্পর্শী। নাহ, এই বিয়েটা করে যে ভুল করেছে, সেটা একবারও তার মনে হচ্ছে না। শুধু মন কাঁদছে পরিবারের কথা ভেবে। সবাইকে অপমান করে পরশের হাত ধরেছে সে। ইশশ! বাবা হয়তো ভেবেছিলো ঘরের দরজা বন্ধ করে দিলে স্পর্শীয়া অভিমান ভাঙাতে আসবে। কিন্তু তা হয়নি। স্পর্শী বাবার অভিমান ভাঙাতে যায়নি। সোভাম হয়তো ভেবেছিলো নতুন ফোন কিনে দিলে বোনের মন ভালো হবে। কিন্তু সে জানতো না, তার স্বার্থপর বোন ফোনের পরোয়া না করেই বাড়ি ছেড়েছে স্বামীর হাত ধরে।

রাত যত গভীর হচ্ছে, আফসোসের পাল্লা আরো দ্বিগুণ ভারী হচ্ছে। এক পর্যায়ে হু হু করে কেঁদে উঠলো স্পর্শীয়া। পরশ বারান্দা থেকে তখনই ছুটে এলো। একটা ইম্পর্ট্যান্ট কলে কথা বলতে বারান্দায় গিয়েছিলো। সে স্পর্শীকে ওভাবে কাঁদতে থেকে হতবাক হলো। কাছে এসে হাত ধরতে আরো শব্দ করে কেঁদে উঠলো মেয়েটা। বাচ্চাদের মতো বায়না করে বলে উঠলো,
– আমি বাড়ি যাবো। এক্ষুনি বাড়ি যাবো। সবাই কতটা কষ্ট পেয়েছে। আব্বু, ভাইয়া — ওরা নিশ্চয়ই কেঁদেছে। আমায় দিয়ে আসুন না এক্ষুণি ।
পরশের মুখশ্রী ফ্যাকাসে হয়ে গেলো। সে ঢোক গিলে হতবাক হয়ে বললো,
– এসব কি বলছো তুমি স্পর্শীয়া! তুমি স্বেচ্ছায় আমার সাথে এসেছো।
– ভুল করেছি। রাগের মাথায় জেদ ধরে এসব করে ফেলেছি।
হাত ছেড়ে দিলো পরশ। চোয়াল শক্ত করে বললো,

– ওহহ! তাহলে বাবা-ভাইয়ের সাথে জেদ করে আমায় বিয়ে করেছো? এখন অনুশোচনা হচ্ছে, তাই আবার চলে যাবে!
স্পর্শী কিছুক্ষণের জন্য কান্না ভুলে গেলো। ভেজা পাপড়িওয়ালা চোখ দুটোতে কয়েকবার পলক ফেললো। আহাম্মক হয়ে বললো,
– এসব কি বলছেন আপনি? জেদ করে বিয়ে করতে কেনো যাবো? আমি সম্পুর্ন হুশেই আপনাকে বিয়ে করেছি। আর ছেড়ে যাওয়ার প্রশ্ন আসছে কোত্থেকে? আমি তো শুধু বলেছি বাড়িতে যাবো। সবাইকে বুঝিয়ে দু-তিন দিনের মধ্যে ফিরবো।
অভিমান বাড়লো পরশের। অন্যদিকে তাকিয়ে গোমড় দেখিয়ে বললো,
– আর যদি তারা না বোঝে, তবে কি ফিরবে না?
– আমি সেটা বলিনি। শুধু পরিস্থিতি টা স্বাভাবিক করার জন্য ও বাড়ি যাবো। আপনি কি নিয়ে যাবেন, নাকি আমি চলে যাবো?
পরশ দাঁতে দাঁত পিষে অন্যদিকে তাকালো। রাত প্রায় সাড়ে বারোটা। সদ্য বিবাহিত দম্পতির বাসর রাত আজ। আর স্পর্শীয়া এই মুহুর্তে এসে সবকিছু ছেড়ে টেড়ে বাপের বাড়ি যাবে পরিবারকে মানাতে। বিষয়টা মোটেই হজম হচ্ছে না। সে বাধ সাধলো। বললো,

– সোভাম তোমায় টেনে হিচড়ে বের করে দিয়েছে!
– তো? ও আমার ভাই হয়! আমরা সেদিনও মারামারি করেছি একসাথে।
পরশ কথা বললো না। গো ধরে চলে গেলো বারান্দায়। স্পর্শী চোখমুখ শক্ত করে বসে রইলো। শেষবারের মতো সাবধান করে বললো,
– আপনি নিয়ে যাবেন, নাকি আমি যাবো?
মিনিট খানেক পর গম্ভীর মুখে ফিরে এলো পরশ। ড্রয়ার থেকে গাড়ির চাবি নিয়ে চুপচাপ বেরিয়ে গেলো। স্পর্শীও তার পিছু পিছু ছুটলো। গাড়িতে বসার পর ছোট্ট করে পরশ বললো,
– যা খুশি করো! আমি আর কিচ্ছু বলবো না।
মিশ্র অনুভূতিতে দগ্ধ হচ্ছে আর্শিয়া সরদার। বাবা সহ বাড়ির বাকিদের চোখে-মুখের বিষাদ তাকে নিমিষেই ছুঁয়ে ফেলেছে। মন খারাপ করে রাতে খেতেও নিচে আসেনি। স্পর্শীয়া ভুল করেছে। তার এমন হঠকারী সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত হয়নি। গোটা দিন এমন মনোভাব মনে পুষলেও এখন তা পরিবর্তন হচ্ছে। অদ্ভুত এক ভালোলাগা, সুখ, আনন্দ অনুভব আচ্ছে। সত্যিই তো, যাকে ভালোলাগে তাকে পরিবারের বিরুদ্ধে নিজের করে নিয়েছে। খুব বেশি দুঃসাহস না থাকলে কি এমনটা করা যায়? ঠিক তখনই আরো একটা সহজ প্রশ্ন মাথায় ঘুরপাক খেলো। পাভেল ভাইতো তাকে ভালোবাসে। তবে কেনো সে বা পাভেল এমন দুঃসাহস দেখালো না। উলটো সেবার প্রস্তাব ফিরিয়ে দেওয়ার দ্বিতীয়বার আর যোগাযোগও করেনি। অবশ্য করবেই বা কিভাবে? এখান থেকে যাওয়ার দুদিন পরেই তো গুরুতর এক্সিডেন্ট। পরিস্থিতি বদলে যাওয়ায় এ বিষয় নিয়ে টু শব্দটাও করা হয় নি। আর্শিয়ার উত্তেজনা বাড়লো। মনটা বেশ ফুরফুরে হয়ে গেছে। সে তখনই কল করলো পাভেলের নম্বরে। রাতের গভীরতার দিকে ফিরেও তাকালো না।

আজ দুচোখের পাতা বড্ড হালকা। সারারাতে ঘুম আসবে না পাভেলের। সে নেশায় ডুবে রইলো। হঠাৎ কল আসায় নাম্বার না দেখেই নেশার ঘোরে ‘ হ্যালো ‘ বলে উঠলো। আর্শিয়া কন্ঠের অস্বাভাবিকতা খুব একটা বুঝতে পারলো না। মনে হলো এটা ঘুম ঘুম আওয়াজ। সে মিষ্টি করে হাসলো। উত্তেজিত হয়ে বললো,
– দেখেছেন পাভেল ভাই, ভালো আপনি আগে বাসলেও বিয়েটা ঠিক পরশ ভাইয়া করে নিলো। আপনি তো হেরে গেলেন।
পাভেল চমকালো। আর্শিয়ার কন্ঠস্বর সে চিনতে পারলো। কিন্তু কথার মর্মার্থ বুঝলো না। তবে কি স্পর্শী ওকেও বলে দিয়েছে এই একতরফা ভালোবাসার কথা? নাহলে ও কি করে জানলো পাভেল আগে ভালো বেসেছিলো! সে না বোঝার ভান ধরে বললো,
– এসব কি বলছো তুমি? মানে কি এর!
আর্শি খানিক ভড়কে গেলো। পাভেলের কন্ঠস্বরে কিঞ্চিৎ বিরক্তির আভাস বোঝা যাচ্ছে। তবে কি সে ভুল বুঝেছে। আকাঙ্ক্ষিত কথা বুঝতে পারেনি। আর্শি ফের মুখ খুললো। ভেঙে ভেঙে বললো,
– আরে, আমি তেমন কিছু বলিনি। শুধু বোঝাতে চেয়েছি আমাদের কথা। আপনি তো আমায় ভালোবাসেন, এমনকি বিয়ের প্রস্তাবও আগে নিয়ে এসেছিলেন। অথচ দেখুন মাঝখান থেকে ভাইয়া আর স্পর্শীয়া আপু বিয়ে করে নিলো। আমরা তো হেরে গেলাম। অথচ আমাদের উচিত ছিলো তাদের আগে বিয়ে করা। আচ্ছা, শুনুন না — আমরাও ওদের মতো বিয়ে করে নেই?

পাভেল চোখ দুটো বন্ধ করে নিজেকে সামলানোর চেষ্টা করলো। নাহ, এই মেয়েটা ক্রমশ ভুল ধারণার মধ্যে ঢুকে যাচ্ছে। একে দ্রুত সামলানো উচিত। নাহয় পরবর্তীতে হিতে বিপরীত হবে। এই একতরফা অনুভূতি অত্যন্ত ভয়ংকর। সে চায় না এই বিষাক্ত যন্ত্রণা অন্যকেউ অনুভব করুক! এমনিতেই যন্ত্রণায় হৃদয়টা কালো হয়ে গেছে। এরমধ্যে আর্শির কথাবার্তা বড্ড বিরক্তিকর লাগছে। পাভেল স্বজোরে ধমক দিলো। বিরক্তি নিয়ে বললো,
– শাট আপ! কি সব আবোল – তাবোল কথা বলছো! কে ভালোবাসে তোমায়? আমি! আমি কখনো বলেছি তোমায় ভালোবাসি? এসব আজগুবি কথা কই পাও! শোনো আর্শি। আব্বু- আম্মু তোমায় শিকদার বাড়িতে নিয়ে আসতে চায়। তোমার প্রতি তাদের টান অনুভব হয়, তাই। সেজন্যই আমার সঙ্গে বিয়ে দিতে চেয়েছে।

রাজনীতির রংমহল ৩ পর্ব ৪৮

কিন্তু আমি তোমাকে পছন্দ – টছন্দ কিচ্ছু করিনা। তাই কোনো বিয়েও হবে না। আমাকে আর কখনো বিরক্ত করবে না। নিজের মতো থাকো।
আর্শি দ্রুত কল কেটে দিলো। এই কথাগুলো সে হজম করতে পারবে না। এতোটা অপমান, কটু কথা নেওয়ার ক্ষমতা নেই তার। সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে চুপটি করে বসে রইলো ফ্লোরে। চোখ দুটো অশ্রুতে টইটম্বুর। তবে তা গড়িয়ে পড়ার আগেই সে মুছে নিলো। ক্রমশ নিজেকে বুঝ দিতে দিতে বললো,
– কোনো ভালোবাসা নেই। তোকে কেউ ভালোবাসে না আর্শি। ভুলে যাহ, প্লিজ ভুলে যাহ!

রাজনীতির রংমহল ৩ পর্ব ৫০