রুপুর বিয়ে পর্ব ১৬
Bobita Ray
বীথি রানী অয়নের ঘরে এসে লাইট জ্বেলে দিয়ে বলল,
“অবেলায় ঘর অন্ধকার করে শুয়ে আছিস কেন?”
“মা আগে লাইট বন্ধ করো। চোখে লাগছে।”
“কী হয়েছে তোর?”
“যাই হোক না কেন! সব কথা তোমাকে বলতে হবে নাকি।”
বীথি রানী ছলছল চোখে ছোট ছেলের দিকে তাকাল। ভেজা কণ্ঠে বলল,
“আমার সাথে এভাবে কথা বলছিস কেন? কী করেছি আমি?”
অয়ন উত্তর দিল না। চোখদুটো বন্ধ করে চুপটি করে শুয়ে রইল। বীথি রানী বলল,
“তুই তো আগে এমন ছিলি না। তুই অনেক পাল্টে যাচ্ছিস অয়ন।”
“আমি মোটেও পাল্টাচ্ছি না মা। বরং তুমিই সেই আগের মতো আছো।”
“ময়নার মা বলল, গতকাল তোরা নাকি অনেক রাত জেগে ছাদে বসেছিলি।”
“হ্যাঁ ছিলাম। তো কী হয়েছে?”
“এত রাত জাগা ঠিক না বাবা।”
“মা প্লিজ সবাইকে দাদার মতো ভাববে না।”
“রুপু রুপুর বোনও নাকি তোর সাথে ছিল। এতরাতে তোরা ছাদে কী করছিলি?”
“সেই কৈফিয়ত তো আমি তোমাকে দেব না মা।”
“আজ সকালে কথায় কথায় বিনয় বলছিল। তোরা নাকি আজ কোথাও ঘুরতে যাবি। ওদের সাথে ঘুরতে যাবার কোন দরকার নেই।”
“ও আচ্ছা। এ-ই কথা বলতেই তাহলে আমার ঘরে এসেছ। ওদের সাথে ঘুরতে গেলে কী হবে মা?”
বীথি রানী ভ্রু কুঁচকে বলল,
“কী হবে মানে! ওই মেয়ে দুটোকে তো তুই চিনিস না। বড়টা হাড়ে বজ্জাত। ছোটোটা আর কত ভাল হবে। ওদের সাথে ঘুরতে গেলে তোর একগাদা টাকা খরচ হয়ে যাবে। ওদের পেছনে অযথা একটা টাকাও ভাঙার দরকার নেই।”
“তোমার এই ছোটলোকি মনোভাব জীবনেও পরিবর্তন হবে না মা। আমার টাকা আমি কোথায় খরচ করব না করব। সেই ব্যাপারে তোমাকে কেন মাথা ঘামাতে হবে?”
বীথি রানী আহত চোখে অয়নের দিকে তাকাল। অস্ফুট স্বরে বলল,
“তুই আমার সাথে এভাবে কথা বলতে পারলি?”
অয়ন বিরক্ত হয়ে বলল,
“মা প্লিজ তুমি এখন যাও তো।”
“তুই সত্যিই অনেক পাল্টে গেছিস অয়ন।”
“আমি মোটেও পাল্টাইনি মা। আগে যেমন ছিলাম এখনো তেমনই আছি। শুধু একটু পরিবর্তন হয়েছে। আগে তুমি যখন আমার উপরে খবরদারি করতে তখন মনে মনে তোমাকে কড়া জবাব দিতাম। এখন মুখের উপরে বলে দিচ্ছি। এই যা…
“বিনয় হলে জীবনেও আমার কথা ফেলতে পারতো না।”
“আমাকে দাদা ভেবে ভুল করো না মা। অতিরিক্ত মাতৃভক্তির জন্য আমি আমার বর্তমান, ভবিষ্যত মোটেও নষ্ট করতে পারব না। মা তোমাকে একটা অনুরোধ করব, রাখবে?”
“কী অনুরোধ?”
অয়ন বড় করে নিঃশ্বাস ফেলে বলল,
“জানি রাখবে না। তারপরও বলি, মা প্লিজ দাদাকে এবার একটু ছাড় দাও। ওদের নতুন বিয়ে হয়েছে। শুধুমাত্র তোমার জন্য ওরা বিবাহিত জীবনে সুখী হতে পারছে না।”
বীথি রানী চোখ-মুখ শক্ত করে বলল,
“এই ব্যাপারে আমি তোর সাথে কোন কথা বলতে চাই না।”
“পরে কিন্তু আফসোস করো না মা।”
বীথি রানী উঠে দাঁড়াল। অয়নের সাথে এখন আর তর্ক করতে ইচ্ছে করছে না। বরং রুপুর কাছে যাওয়া যাক। রুপুকে কড়া করে দুটো কথা শুনালে যদি ওদের ঘুরতে যাওয়াটা বন্ধ হয়। অসুখী মানুষগুলো কারো জীবনে সুখ সহ্য করতে পারে না। মানব জীবন বড়োই বিচিত্রময়।
রুপু রেডি হচ্ছে। শাশুড়ী মাকে ঘরে আসতে দেখে গুনগুন করে গান ধরল। এসো হে কালবৈশাখ এসো এসো…
“এতো সেজেগুজে কোথায় যাওয়া হচ্ছে?”
“আমার কিছু বই কিনতে হবে। নীলক্ষেতের দিকে যাব।”
“তুমি অলক্ষ্মী নাকি? এই অবেলায় বাড়ির বাইরে যেতে চাচ্ছ।”
রুপু চমৎকার কণ্ঠে বলল,
“খুব কম মেয়েই শ্বশুরবাড়ির মানুষের কাছে লক্ষ্মীমন্ত বউ হয় মা। তাই আপনার অলক্ষ্মী বলায় আমার খুব একটা খারাপ লাগছে না। এই যেমন আপনি বউকালে আপনার শাশুড়ীর কাছে অলক্ষ্মী বউ ছিলেন। আমিও তেমন আমার শাশুড়ী মানে আপনার চোখে অলক্ষ্মী। এক অলক্ষ্মী আরেক অলক্ষ্মীকে অলক্ষ্মী বলছে। বিষয়টা ভেরী ইন্টারেস্টিং তো মা।”
বীথি রানী তেলেবেগুনে জ্বলে উঠল। বাপরে চোপার জোর। কথায় পারা যায় না। বীথি রানী রাগে কাঁপতে কাঁপতে বলল,
“আমার একছেলেকে দিয়ে তোমার পোষাচ্ছে না। তাই আমার আরেক ছেলেকে ধরেছ, তাই না?”
রুপু চমকে উঠে শাশুড়ী মায়ের মুখের দিকে তাকাল। এই মহিলার কুৎসিত কথায় রুপুর গা গুলাচ্ছে। অয়নের সাথে রুপুকে জড়িয়ে কী খারাপ একটা ইঙ্গিত দিল ছিঃ…রুপুর মুখে চট করে কোন কথা জোগাল না।
কথাটা বলতে পেরে বীথি রানী পৈশাচিক আনন্দ পেল। রুপু মুখে মুখে তর্ক করছে না। তারমানে বেশ জব্দ হয়েছে।
“যদি লজ্জা থাকে আমার ছোট ছেলের সাথে কোথাও যাবে না।”
উত্তরে রুপু কিছু বলল না। এই মহিলার সাথে এখন আর তর্ক করতে ইচ্ছে করছে না। এই মহিলার কথার জের রুপু যে করেই হোক উঠাবে। খুব ভালো ভাবেই উঠাবে।
রুপুকে ভাবলেশহীন ভাবে চুপচাপ দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে বীথি রানী আর কিছু বলল না। এই মেয়ের যদি বিন্দুমাত্র লজ্জাবোধ থাকে। জীবনেও অয়নের সাথে কোথাও যাবে না।
বীথি রানী রুপুর ঘর ছেড়ে চলে যাবার কিছুক্ষণ পর অয়ন এসে তাড়া দিয়ে বলল,
“রেডি হয়েছ? চলো শিগগিরই.. দেরি হয়ে যাচ্ছে।”
“আমি এখন কোথাও যাব না অয়ন।”
“যাবে না মানে? চলো তো।”
“আমার মাথাটা প্রচণ্ড ধরেছে। এখন যেতে ইচ্ছে করছে না।”
“ঘুরতে গেলেই মাথা ধরা সেরে যাবে। তুমি চলো তো বউদি।”
“বললাম তো যাব না।”
কথাটা রুপু একটু জোরেই বলে ফেলল। অয়ন চমকে উঠে রুপুর মুখের দিকে তাকাল। বলল,
“কী হয়েছে তোমার?”
রুপুর খুব খারাপ লাগছে। নিজেকে সামলে নিয়ে বলল,
“সরি।”
“সত্যি করে বলো বউদি কী হয়েছে তোমার? নিশ্চয়ই মা কিছু বলেছে। আমি.. আমি এখুনি মাকে জিজ্ঞেস করে আসছি।”
“অয়ন শোন, আমি একটু শান্তিতে থাকতে চাই। এখন মায়ের ঘরে গিয়ে দয়া করে আমার অশান্তি বাড়িও না।”
অয়ন বিরস মুখে চলে গেল। রুপুর সত্যিই খুব খারাপ লাগছে। তবে খারাপ লাগাকে রুপু বেশিক্ষণ প্রশ্রয় দিল না। হাত বাড়িয়ে ফোনটা টেনে নিল। বিনয়কে ফোন দিয়ে এখুনি বাড়িতে আসতে বলল রুপু। বিনয় কাজ আছে বলে এড়িয়ে যেতে চাইল। রুপু এড়াতে দিল না। এত নিখুঁত ভাবে পেটে ব্যথার অভিনয় করল। বিনয় ভয় পেয়ে বাড়ির পথে রওনা হলো।
অসময়ে বড়ছেলেকে বাড়িতে আসতে দেখে বীথি রানীর চোখ-মুখ শুকিয়ে গেল। ডাইনিটা নিশ্চয়ই বিনয়কে কিছু বলেছে। সে বলুক। বীথি রানীর বড়ছেলে লাখে না কোটিতে একটা। মায়ের বিরুদ্ধে বউয়ের কোন কথা সে বিশ্বাস করবে না। বীথি রানী বলল,
“কী হয়েছে বাবা। এত তাড়াতাড়ি চলে এলি যে?”
বিনয় শুকনো মুখে বলল,
“রুপু.. রুপুর শরীর খারাপ মা।”
“কী বলছিস আমি না একটু আগেও তোর বউকে সুস্থ দেখে এলাম।”
“তুমি চলো আমার সাথে দেখলেই বুঝতে পারবে।”
বিনয় মাকে নিয়ে ঘরে গিয়ে হতভম্ব হয়ে গেল। রুপুর চোখ-মুখ অস্বাভাবিক। অসহ্য পেটে ব্যথায় কাড়তাচ্ছ, গোঙাচ্ছে। বীথি রানীর সব যেন মাথার উপর দিয়ে গেল। এই একটু আগেও না রুপুকে সুস্থ সবল দেখে গেল। বিনয় ছুটে গিয়ে রুপুকে ধরে ফেলল। রুপুর গায়ে মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে ভীতু কণ্ঠে বলল,
“কী কী হয়েছে তোমার?”
রুপু কোন কথা বলতে পারছে না।
বিনয় হতবিহ্বল হয়ে পড়ল। কী বলবে কী করবে বুঝে উঠতে পারছে না। জড়ানো কণ্ঠে বলল,
“মা মা একটু অয়নকে ডাকো। রুপুকে এখুনি হাসপাতালে নিতে হবে।”
বীথি রানী বলল,
“তোর বউ তো সেজেগুজে আছে। কোথাও হয়তো যেতে চেয়েছিল। এত সেজেগুজে হাসপাতালে গেলে ডাক্তার কী ভাববে।”
“এখন কিছু ভাবাভাবির সময় নেই মা।”
“আমি কী ওর শাড়ি পাল্টে দেব।”
“কোন দরকার নেই। যেভাবে আছে সেভাবেই থাকুক। ময়নার মা…ময়নার মা। তুমি একটু অথৈকে ডেকে দাও তো। ও রুপুর সঙ্গে যাক।”
“আমিও যাব তোদের সাথে।”
“না মা। তুমি বাড়িতেই থাকো। হাসপাতালের ফিনাইলের গন্ধ তোমার সহ্য হয় না।”
বিনয় পাজকোলা করে অসচেতন রুপুকে কোলে তুলে নিল। ততক্ষণে অথৈ চলে এসেছে। আশ্চর্য তো এই মেয়েটাও দেখছি সেজেগুজে এসেছে। এভাবে কেউ রোগীর সাথে হাসপাতালে যায় নাকি। পোশাকটা পাল্টে এলে কী এমন ক্ষতি হতো।
ওদের গাড়িটা বীথি রানীর চোখের আড়াল হতেই রুপু শোয়া থেকে উঠে বসল। শাড়ির কুঁচি ঠিক করতে করতে স্বাভাবিক কণ্ঠে বলল,
“এসিটা বাড়িয়ে দাও। গরম লাগছে।”
“তুমি এখন ঠিক আছো রুপু?”
“হুঁ।”
“হঠাৎ কী হয়েছিল তোমার?”
রুপুর মুখে হাসি ফুটে উঠল। বলল,
“কী আর হবে। তোমার সাথে কোথাও খুব ঘুরতে যেতে ইচ্ছে করছিল। তাই একটা বাহানা তৈরি করে তোমাকে তোমার মায়ের নাকের ডগা দিয়ে নিয়ে এলাম। মানব জীবন বড়োই ছোটো গো। কোন ইচ্ছে অপূর্ণ রাখতে নেই। কখন বাঁচি, কখন মরি বলা তো যায় না।”
“এভাবে আসাটা একদম ঠিক হয়নি রুপু। আমাকে বললেই তো আমি নিয়ে আসতাম।”
রুপু নিচু কণ্ঠে বলল,
“নিয়ে আসা পর্যন্তই। বেড়ানো আর হতো না। তবে তোমার যদি খুব বেঠিক লাগে। তুমি এখন গাড়ি থেকে নেমে যেতে পারো।”
বিনয়ের ফোন বাজছে। মা ফোন করেছে। বিনয় রুপুর দিকে তাকাতেই রুপু বলল,
“কোনভাবেই বলবে না আমরা ঘুরতে যাচ্ছি।”
“মিথ্যা বলব মাকে?”
রুপু উদাস হয়ে বলল,
“এছাড়া আর উপায় কী।”
“অসম্ভব।”
রুপু চাপা কণ্ঠে ফিসফিস করে বলল,
“মায়ের কাছে বেশি সত্যিবাদী সাজতে গেলে এখন তোমাকে গাড়ি থেকে ধাক্কা মেরে ফেলে দেব। হাসপাতালে খুব যাওয়ার শখ হয়েছে না তোমার। সত্যি সত্যিই হাসপাতালে যাবার ব্যবস্থা করে দেব।”
বিনয় ভয়ে আরকিছু বলল না। এই মেয়েকে বিশ্বাস নেই। রেগে গেলে সত্যি সত্যি গাড়ি থেকে ফেলে দিতেও পারে।
মায়ের ফোন রিসিভ করে একসাথে অনেকগুলো মিথ্যা কথা বানিয়ে বানিয়ে বলতে হলো বিনয়কে। শেষ কবে মাকে মিথ্যা কথা বলেছিল বিনয়ের সঠিক মনে পড়ে না। আশ্চর্যের বিষয় হলো মাকে আজ কতগুলো মিথ্যা কথা বলতে পেরে বিনয়ের খুব আনন্দ লাগছে। সবচেয়ে বেশি ভালো লাগছে রুপুর সাথে ঘুরতে যাবার সুখে। বিনয় রুপুর কাঁধ জড়িয়ে ধরতেই রুপু চোখ রাঙাল। রুপুর চোখ রাঙানি বিনয় মোটেও পাত্তা দিল না। বিনয়ের হাতের স্পর্শ আরও গাঢ় হলো। রুপু চোখ-মুখ শক্ত করে বসে থাকার আপ্রাণ চেষ্টা করেও পারল না। ভেতরে ভেতরে ছটফটিয়ে উঠল। ভাগ্যিস সামনের সিটে অথৈ বসেছে। তারপরও রুপুর ভীষণ লজ্জা লাগছে। রুপু শাড়ির আঁচলটা আলতো করে তুলে দিল। যেন রুপুর গায়ে বিনয়ের হাতের বিচরণ কোনভাবেই দেখা না যায়। আবেশে চোখদুটো বন্ধ করে ঘনঘন নিঃশ্বাস ফেলল রুপু। বিনয় প্রশ্রয় পেয়ে আর একটু রুপুর কাছে সরে বসল। অনেক আগেই বাইরে সন্ধ্যা মিলিয়েছে। বিনয়ের মনে অন্যরকম ভাবনা। কাছের কোন ফাইভ স্টার হোটেলে আজকের রাতটা কাটালে কেমন হয়? রুপু নিশ্চয়ই আপত্তি করবে না। আর করলেও বিনয় শুনবে কেন! বাড়িতে তো কোনভাবেই রুপুকে কাছে পাওয়া যায় না। যতবারই বিনয় রুপুর কাছে যেতে চায়। ততবারই এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়। রুপুকে কাছে পাওয়া তো দূরের কথা। রুপুর কাছে যেতেও ভয় লাগে।
বীথি রানী আবারও ফোন দিল। বলল,
“তোরা কী হাসপাতালে পৌঁছে গেছিস বাবা?”
“হুঁ।”
“কোন হাসপাতালে নামটা বল। আমি এখুনি আসছি।”
বিনয় বেকায়দায় পড়ে গেল। শুকনো ঢোক গিলে বলল,
“তোমাকে আসতে হবে না মা।”
“আসতে হবে না মানে কী! তুই না খেয়ে আছিস। তোর টাইম মতো খাওয়া প্রয়োজন। শেষে রোগী টেনে তুই নিজেই অসুস্থ হয়ে যাবি।”
মা-ছেলের সব কথাই রুপুর কানে আসছে। ওরা একটা কাচ্চি ডাইননে বসেছে। রুপু আরাম করে কাচ্চি খাচ্ছে আর বিনয়ের শুকনো মুখের দিকে তাকিয়ে মিটিমিটি হাসছে।
রুপু ইশারায় মায়ের সাথে কথা বলতে চাইল। বিনয় রুপুর কাছে ফোন দিতে সাহস পেল না। রুপু বিনয়ের হাত থেকে ফোনটা একপ্রকার জোর করেই কেড়ে নিল। পা নাচাতে নাচাতে মিষ্টি কণ্ঠে শাশুড়ীমাকে বলল,
“আপনার ছেলে মোটেও না খেয়ে নেই মা। আমরা দুজনে বসে বসে আরাম করে কাচ্চি খাচ্ছি। খেতে যে কী ভালো হয়েছে মা। উমম.. স্বাদ একদম মুখে লেগে যাচ্ছে। আপনি কী খাবেন? তাহলে আসার সময় আপনার জন্য পার্সেল করে নিয়ে আসব।”
বীথি রানী হতভম্ব হয়ে গেল। বলল,
“কাচ্চি খাচ্ছ মানে কী? তুমি না হাসপাতালে। হাসপাতালে আবার কবে থেকে কাচ্চি খাওয়ায় রোগীকে।”
রুপুর মুখের হাসি চওড়া হলো। ফিসফিস করে বলল,
“আমরা কাচ্চি ডাইননে মা।”
বীথি রানী অবিশ্বাস্য কণ্ঠে বলল,
“এসব কী বলছ তুমি?”
“আমি ঠিকই বলছি মা।”
“তোমার না অসুখ?”
“অসুখ ছিল তো। মনের অসুখ। অর্ধেক রাস্তায় এসেই আশ্চর্য হয়ে দেখলাম, অসুখ অটোমেটিক ভালো হয়ে গেছে। তখন আমিই আপনার ছেলেকে বললাম, আমার অসুখের পেছনে তো তোমার জলের মতো টাকা খরচ হতো। টাকা যখন বেঁচেই গেল। চলো কাচ্চি খেয়ে বাড়ি যাই। ও আর আপত্তি করল না। হাজার হলেও আমি ওর একটামাত্র বউ।”
“বিনয় যে আমাকে বলল, তোমরা হাসপাতালে।”
রুপুর বিয়ে পর্ব ১৫
“আপনার ছেলেটা কী যে-না মা। আপনি শুনে যদি রাগ করেন। অকারণে আপনার শরীর খারাপ হলে যদি আমাদের বাড়ি যাওয়ার জন্য তাড়া দেন। সেই ভয়ে আপনাকে বলতে সাহস পেল না।”
বিনয়ের মুখটা চুপসে গেল। আজ বাড়ি গেলে বিনয়ের কপালে দুঃখ আছে। বেশ বুঝতে পারছে বিনয়। মা হয়তো স্বপ্নেও ভাবতে পারেনি। বিনয় কখনো মাকে মিথ্যা বলে বউকে নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে।
