সঙ্গীন হৃদয়ানুভুতি ২য় খন্ড পর্ব ৪৩
Jannatul Firdaus Mithila
রৌদ্রের এহেন কথায় গলায় শুষ্কতা নেমে এলো অরিনের। বেচারি পরপর কয়েকটা ফাঁকা ঢোক গিললো।নাহ! তবুও বুঝি গলাটা ভিজলোনা একটুও। রৌদ্র ধীরে ধীরে ঝুকেঁ আসে অরিনের মুখের ওপর। তার ঠোঁট যখন অরিনের ঠোঁটে প্রায় ছুঁই ছুঁই তখনি চোখ কুচঁকে মুখটা অন্যদিকে ঘুরিয়ে ফেলে অরিন।ব্যস্ত গলায় বলে ওঠে,
“ আমি… পানি খাবো!”
এমন একটা মুহুর্তে অরিনের এহেন কান্ডে মেজাজ খারাপ হলো রৌদ্রের।কই সে একটা রোমান্টিক মুডে ছিলো,আর তার বউটা কি করলো? মুডটার একেবারে ১২ টা বাজিয়ে ছাড়লো।এজন্যই মানুষ হয়তো বলে, — পিচ্চি পোলাপান বিয়ে করা ঠিক না।এরা সময়-সুযোগ বুঝেনা। রৌদ্র ফোঁস করে নিশ্বাস ফেললো খানিকটা।মেজাজটা তার এমন খারাপ হচ্ছে না… হয়তো বলে বোঝানো মুশকিল। তবুও ছেলেটা বিরাট ধৈর্য্যশীলদের মতো দাঁতে দাঁত চেপে ওঠে বসে অরিনের ওপর থেকে। তারপর শক্ত মুখেই অরিনকে ধীরে ধীরে শোয়া ছেড়ে উঠে বসায়।হাত বাড়িয়ে বেডসাইডের টেবিলের ওপর থেকে একগ্লাস পানি এগিয়ে দেয় অরিনের দিকে। অরিনও ছো মেরে রৌদ্রের হাত থেকে গ্লাসটা নিয়েই ঢকঢক করে পুরো পানিটা শেষ করে ফেলে।রৌদ্র সরু চোখে তাকিয়ে রইলো অরিনের দিকে। মেয়েটার অবস্থা দেখে মনে হলো — এ মুহুর্তে পানিটা বুঝি বেশ দরকার ছিলো তার! অরিন পানিটা খেয়ে মাথানিচু করে রাখলো।চোখ তুলে উপরে তাকাতে পারছেনা মেয়েটা।না জানি তার ডাক্তার সাহেব কি না কি মনে করলো তাকে! রৌদ্র এবার অরিনের হাত থেকে পানির গ্লাসটা সরিয়ে রাখে টেবিলের ওপর। তারপর মেয়েটার চোয়ালে আলতো করে চেপে ধরে, মুখটা সামান্য উঁচিয়ে তুলে। ভরাট কন্ঠে বলে ওঠে,
আরও গল্প পড়তে আমাদের গ্রুপে জয়েন করুন
“ তৃষ্ণা মিটেছে?”
অরিন অবুঝের ন্যায় মাথা ঝাকায়। রৌদ্র তখন ঠোঁট কামড়ে হাসলো।অরিনের গোলাপি অধরজোড়ায় এক আঙুল স্লাইড করতে করতে হাস্কি স্বরে বললো,
“ তোরটা তো মিটলো,এবার নাহয় আমার তৃষ্ণা মিটানো যাক!”
কথাটা শেষ করে মেয়েটাকে আর কিছু বলার সুযোগ দিলোনা পাগল ছেলেটা। এর আগেই সে নিজ উদ্যেগে দখল করে নিলো অরিনের ওষ্ঠপুট। প্রথমদিকে অরিনের উপরের ঠোঁটে হালকা ছোঁয়া দিলো, তারপর নিচের ঠোঁটটা গভীর করে টেনে নিলো নিজের ঠোঁটের মধ্যে।ছেলেটা বেপরোয়াভাবে শুষে নিতে লাগলো অরিনের ঠোঁটটা।মাঝে মাঝে নিজের ওষ্ঠপুটের কার্য থামিয়ে দিয়ে শুধু অনুভব করে নিচ্ছে মেয়েটার নরম অধরযুগলের গড়ন, তার শরীরের মৃদুমন্দ কাঁপুনি, মেয়েটার জোরালো নিঃশ্বাসের গতি। রৌদ্র থমকায়।মেয়েটার বন্ধ নেত্রযুগলের পানে তাকিয়ে রইলো নেশালো চোখে।
এদিকে অরিনটাও যে সেই কখন চোখজোড়া বন্ধ করে ফেলেছে! এখনও খোলার নামগন্ধটিও নেই।ভাব এমন— কেও বুঝি তাকে কঠোর হুকুম দিয়ে রেখেছে,চোখজোড়া বন্ধ করে রাখার! অরিন চোখ বন্ধ রেখেই অনুভব করছে রৌদ্রের শরীরের উষ্ণ স্পর্শ। যা ইতোমধ্যে আষ্টেপৃষ্ঠে নিজের সম্গে লেপ্টে রেখেছে তাকে।তার ওষ্ঠপুট আর হৃদয়, দুটোই জড়িয়ে আছে রৌদ্রের ছোঁয়ায়। তার বুকটাতেও কেমন অনিয়ন্ত্রিত তান্ডব চলছে।যার ফলস্বরূপ নিশ্বাস জড়িয়ে আসছে তার।বক্ষ ওঠানামা করছে ধীরে ধীরে।অরিনের মুখ বরাবর আছড়ে পড়ছে রৌদ্রের গরম নিশ্বাস। মেয়েটার আর বুঝতে বাকি নেই — রৌদ্র তার মুখের ওপরেই ঝুঁকে আছে।
প্রায় অনেক্ক্ষণ হয়ে যাবার পরও একই অবস্থা পেয়ে অরিন ধীরে ধীরে চোখ মেলে তাকায়। দেখতে পায় — ছেলেটা কেমন মুগ্ধ দৃষ্টিতে তার দিকেই তাকিয়ে আছে। অরিনের তখন কি হলো কে জানে! সে মন্ত্রমুগ্ধের ন্যায় ধীরে ধীরে রৌদ্রের গালে নিজের হাত ছোঁয়ায়।রৌদ্র একহাতে চেপে ধরে সেই হাত।তারপর হাতটায় অসংখ্য ছোট ছোট চুমু বসিয়ে দেয় সযত্নে। অরিন একদৃষ্টিতে তাকিয়ে দেখলো ছেলেটার এহেন পাগলামি। রৌদ্র তখন অরিনের হাতটা ছেড়ে দিয়ে আরেকটু ঝুঁকে আসে মেয়েটার মুখের ওপর। পরক্ষণেই অরিনের সরু নাকটায় আলতো করে কামড় বসিয়ে দেয়।অরিন মুচকি হাসলো। মৃদু ব্যাথায় গুঙিয়ে ওঠলো খানিকটা। রৌদ্র থামলোনা।সে ঠোঁট নামিয়ে আনে অরিনের থুতনির কাছে।সেখানেও আলতো করে বসিয়ে দেয় মৃদু কামড়। অরিন আর সইতে না পেরে, রৌদ্রের শার্টের কলার আঁকড়ে ধরে। রৌদ্র মিহি হাসলো।অরিনের থুতনিতে ঠোঁট রেখেই বললো,
“ শার্টটা খুলে ফেললে সমস্যা হবে তোর?”
অরিন চুপ করে পড়ে রইলো বিছানায়। রৌদ্রের শার্ট খোলার কথা শুনতেই বুকটায় কেমন দ্রিমদ্রিম শব্দ হচ্ছে
তার।মনে হচ্ছে কেউ একটু কান পাতলেই স্পষ্ট শুনতে পারবে সে আওয়াজ! রৌদ্র মেয়েটার অবস্থা দেখে বাঁকা হাসলো। অরিনের ওপর থেকে উঠে এসে, অরিনকেও ধীরে ধীরে শোয়া ছেড়ে উঠিয়ে বসায়। অরিন এখনো নতমুখে বসে আছে। মাথাটা বুঝি আজ আর তুলবেই না! রৌদ্র ফের দুষ্ট হাসলো। অরিনের দিকে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকিয়ে বললো,
“ বেইব! শার্টটা একটু খুলে দে তো!”
ভড়কায় অরিন।চট করে চোখ তুলে রৌদ্রের দিকে তাকায় সে।কি শুনলো ও? ডাক্তার সাহেব তাকে শার্ট খুলে দিতে বলছে? এরচেয়ে ভালো হতোনা — যদি সে বলতো দম আঁটকে মরে যেতে। অরিনের এহেন অবাক দৃষ্টিকে একপ্রকার বুড়ো আঙুল দেখিয়ে রৌদ্র আবারও তাড়া দেখিয়ে বলে,
“ কি হলো? এভাবে ড্যাবড্যাব করে তাকিয়ে থেকে চোখ দিয়ে গিলে খাওয়া বন্ধ কর! তারাতাড়ি শার্টটা খুলে দে!”
অরিন তৎক্ষনাৎ নিজের দৃষ্টি সরিয়ে আনে রৌদ্রের ওপর থেকে। মিনমিনে স্বরে বলতে থাকে,
“ ইয়ে… মানে.. আমি..”
“ আবার ইয়ে মানে! ওসব ইয়ে,মানে সাইডে রেখে তারাতাড়ি শার্টটা খুলে দে!”
রৌদ্রের এরূপ কথায় এবার বুঝি সত্যি সত্যি দম আঁটকে আসছে অরিনের। এমনিতেই লোকটাকে শার্ট ছাড়া দেখলে বুকের মাঝে তোলপাড় উঠে তার, এখন আবার লোকটা বলছে— তাকেই শার্টটা খুলে দিতে? অরিন নির্বিকার হয়ে বসে রইলো নিজ জায়গায়। তা দেখে রৌদ্র ঠোঁট কামড়ে হাসে নিঃশব্দে। মেয়েটাকে জ্বালাতন করবার বেশ ভালোই একটা সুযোগ পেয়েছে সে।এ সুযোগ কি আর ওতো সহজে হাতছাড়া করা যায়?
রৌদ্র এবার কিছুটা এগিয়ে আসে অরিনের কাছে। মেয়েটার উরুতে ইচ্ছে করে হাত বুলাতে লাগলো সে।
অরিন যতো চাইছে দূরে সরতে, ছেলেটা বুঝি ততই আঁটকে রাখছে তাকে।রৌদ্র এবার হাস্কি স্বরে বলে ওঠে,
“ শার্ট খুলবি না-কি অন্য কিছু করবো বউজান?”
অরিন তৎক্ষনাৎ মাথা উঠায়। মাথা নাড়িয়ে বলে ওঠে,
“ এই না, না! আমি খুলে দিচ্ছি!”
বলেই সে খানিকটা এগিয়ে আসে রৌদ্রের দিকে।কাঁপা কাঁপা হাতটা দিয়ে ধীরে ধীরে রৌদ্রের শার্টের বোতামগুলো খুলতে থাকে। প্রতিটা বোতাম খুলতে গিয়ে মেয়েটার বুঝি কাহিল অবস্থা! রৌদ্র একদৃষ্টিতে তাকিয়ে দেখলো মেয়েটার অস্থিরতা।শার্টের সবগুলো বোতাম খুলে দিয়ে, অরিন সরতে নিলে তার কোমর চেপে বাঁধ সাধলো রৌদ্র। অরিন ভ্রু কুঁচকে তাকায়। ইশারার জিজ্ঞেস করে — কি হয়েছে?
রৌদ্র মুচকি হাসে। মেয়েটার কানের লতিতে হালকা কামড় দিয়ে ফিসফিস করে বলে,
“ শুধু বোতাম খুললেই হবে? শার্টটা গা থেকে কে খুলে দিবে বউজান?”
অরিনের মাথাটা বুঝি তৎক্ষনাৎ ভনভন করে ওঠে এহেন কথায়। মেয়েটা কোনমতে নিজেকে সামলে নিয়ে বলে,
“ আমি…পারবোনা!দেখুন আমি অসুস্থ.. আপনি প্লিজ এরমটা করবেন না!”
রৌদ্র মৃদু হেসে অরিনের থুতনিতে ঠোঁট ছোঁয়ায়।অরিন আবেশে চোখদুটো বন্ধ করে নেয় নিজের। রৌদ্র এটুকুতেই থামলোনা।সে অরিনের থুতনি বেয়ে নিজের ঠোঁট নামিয়ে আনে মেয়েটার কন্ঠদেশে। সেথায় একের পর এক গভীর স্পর্শে মাতিয়ে তুলে ছেলেটা।অরিনের নিশ্বাস ঘন হয়ে আসে।সেই সাথে শরীরটাও কেমন অবশ হয়ে আসছে ক্রমাগত। রৌদ্র এবার কন্ঠদেশে কামড় বসায়।আর সঙ্গে সঙ্গে তার ঘাড় চেপে ধরে অরিন। রৌদ্র হালকা হেসে কামড় বসানো জায়গাটা আলতো করে শুষে নেয়। অরিনের মুখ থেকে তখন অস্ফুটে বেরিয়ে আসে মৃদু শীৎকার। রৌদ্র নিজের অবস্থানে থেকে বলে,
“ সত্যি এমনটা করা বন্ধ করে দেবো সানশাইন? ”
অরিনের একবার ইচ্ছে হলো সে চট করে না বলে দিবে রৌদ্রকে।কিন্তু কথাটা বুঝি গলাতেই আঁটকে আছে কোথাও। কিছুতেই বেরোচ্ছে না যেনো! মেয়েটা পরপর কয়েকটা ফাঁকা ঢোক গিললো।থেমে থেমে বললো,
“ আপনি উঠে বসুন।আমি আপনার শার্ট খুলে দিচ্ছি!”
রৌদ্র উঠলো না। সে নিজের জায়গায় থেকেই হাস্কি স্বরে বললো,
“ উহু এটুকুতে হবে না আমার! আমার… আরও কিছু চাই সানশাইন!”
অরিন থমকায়।ভ্রু কুঁচকে তাকায় রৌদ্রের পানে।সন্দিহান গলায় বলে ওঠে,
“ আরও কিছু মানে?”
রৌদ্র এবার অরিনের কন্ঠদেশ হতে মুখ উঠায়। মেয়েটার দিকে গভীর চাহনি দিয়ে বলে,
“ আমার তোকে লাগবে সানশাইন! খুব কাছ থেকে… খুব গভীরভাবে। এতটুকু কাছ থেকে চাই — যতটুকু কাছে এলে তোর প্রতিটা নিশ্বাসের উঠানামার শব্দ স্পষ্ট কানে আসবে আমার, তোর হৃৎস্পন্দনের প্রতিটি আন্দোলন যেন গভীরভাবে হৃদয়ে ঝড় তোলবে আমার। তোর সর্বাঙ্গ জুড়ে থাকবে আমারই বিচরণ — এতটুকু কাছে চাই।তোর আর মাঝে কোনো অদৃশ্য দেয়াল থাকবে না — এতটুকু কাছে চাই। বল না, তুই আসবি আমার কাছে? দিবি— তোকে একটুখানি গভীরভাবে স্পর্শ করার অনুমতি? ও সানশাইন! বলনা বউজান!”
অরিন গভীর চোখে তাকিয়ে রইলো রৌদ্রের দিকে। ছেলেটার মুখনিঃসৃত প্রতিটি বাক্যই যেন তার ছোট্ট হৃদয়খানায় ঝড় তোলবার জন্য যথেষ্ট। রৌদ্র এখনো অপেক্ষায় আছে অরিনের জবাব শোনার জন্য। ছেলেটার চোখেমুখে স্পষ্ট অস্থিরতার ছাপ। কিয়তক্ষন বাদেই অরিন নিজের দু’হাত আলতো করে রাখলো রৌদ্রের দুগালে।নিজের মুখটা সামান্য এগিয়ে এনে রৌদ্রের ঠোঁটের কোণে ঠোঁট ছোঁয়ায় আলতো করে। রৌদ্র আবেশে চোখদুটো বন্ধ করে নেয়। তার হাতদুটো ইতোমধ্যেই চলে গিয়েছে অরিনের কোমরের ওপর। অরিন এবার আস্তে আস্তে রৌদ্রের সারা মুখে মিষ্টি স্পর্শ একেঁ দেয়। রৌদ্র চোখ বন্ধ করে অনুভব করছে মেয়েটার এহেন স্পর্শ। অরিন থামলো কিছু মুহুর্তের জন্য। তারপর হুট করেই রৌদ্রকে জড়িয়ে ধরলো গভীরভাবে।রৌদ্রও মেয়েটাকে মিশিয়ে নিলো নিজের সঙ্গে। অরিন তখন ধীরে ধীরে মুখ খোলে,
“ দিলাম তোমায় রৌদ্র… আজকে থেকে এই আমিটাকে সম্পূর্ণরুপে তোমার করে দিলাম।তোমার বউজান আজকে থেকে তোমার হলো! ”
রৌদ্র একমুহূর্তের জন্য থমকায়।তার সম্পূর্ণ শরীরটায় কেমন যেন একটা শিরশিরানি বয়ে গেলো ইতোমধ্যে।অরিন তাকে ছেড়ে দিয়ে ছেলেটার মুখের দিকে তাকায়। দেখতে পায় — রৌদ্র কেমন নেশালো চোখে তার দিকেই তাকিয়ে আছে। অরিন লজ্জালু হাসলো খানিকটা। তারপর নিজ থেকেই রৌদ্রের শার্টটা ধীরে ধীরে কাঁধ হতে নামিয়ে দিলো সযত্নে। রৌদ্র তখনো একই ভঙ্গিতে বসে, তাকিয়ে আছে মেয়েটার দিকে। অরিন বেশ কিছুক্ষণ মনোযোগ দিয়ে তাকিয়ে রইলো রৌদ্রের দিকে।রৌদ্রের উম্মুক্ত পেটানো দেহখানা বরাবরই তার হৃদয়ে কঠিন তোলপাড় তোলে।আজও যে এর ব্যাতিক্রম ঘটলোনা। ছেলেটার শক্তপোক্ত বাইসেপসগুলো কেমন ফুলে ফেঁপে আছে।লম্বাচওড়া কাঁধটাও বুঝি সগৌরবে বুঝিয়ে দিচ্ছে — মানুষটা হয়তো ভিষণ যত্ন নেয় তার শরীরের। অরিন নিজের খেই হারালো।তৎক্ষনাৎ চোখদুটো সরিয়ে নিলো অন্যদিকে।নিশ্বাস নিতেও কষ্ট হচ্ছে তার। রৌদ্র মেয়েটার চুলগুলো চেপে ধরে আলতো হাতে। অরিনের মাথাটা খানিকটা এগিয়ে এনে হাস্কি স্বরে বলে,
“ এম আই নট সেক্সি হানি?”
অরিন চোখবুঁজে ঠোঁট কামড়ে ধরে নিজের। তা দেখে রৌদ্রও বুঝি আরেকদফা খেই হারালো। ছেলেটা আবারও ঝাপিয়ে পড়লো অরিনের নরম অধরযুগলের ওপর।রৌদ্র একটু একটু করে তার ওষ্ঠপুটের কার্যক্রম গাঢ় করছে। তার জিভ আলতো করে ছুঁয়ে যাচ্ছে অরিনের ঠোঁটের কিনারা—একবার থামছে, তারপর আবার গভীরে ঢুকছে, মিশে যাচ্ছে ওদের ভেতরের অনুভবে।
রৌদ্রের একহাত তখন অরিনের ঘাড়ের পেছনে,অন্যহাত মেয়েটার কোমরের বাঁকে। বেশকিছুক্ষন পর রৌদ্র ছেড়ে দেয় অরিনের ঠোঁট।ছাড়া পেয়ে চোখবুঁজে হাঁপিয়ে যাচ্ছে মেয়েটা।রৌদ্র আবারও তার চোয়াল চেপে ধরে নরম হাতে।মেয়েটার চোখে চোখ রেখে বলে,
“ বল না সানশাইন!”
অরিন ধীরে ধীরে ব্যাপক অস্থির হচ্ছে। সে ঘনঘন নিশ্বাস ফেলে বলে ওঠে,
“ পাগল করছেন আমায় ডাক্তার সাহেব!”
“ কতটুকু?”
“ দেখবেন?” — অরিন মৃদু হেসে জিজ্ঞেস করে।
রৌদ্রও তার চোয়াল ছেড়ে দিয়ে বিছানায় দু’হাত হেলান দিয়ে বসে।দৃঢ় কন্ঠে বলে,
“ দেখা!”
অরিন ঠোঁট কামড়ে হাসে। ধীরে ধীরে রৌদ্রের একেবারে কাছাকাছি এসে রৌদ্রকে ধাক্কা মেরে খাটে শুইয়ে দেয়। রৌদ্র বেশ অবাক হলো এতে।হয়তো মেয়েটা এমন কিছু করবে তার বিন্দুমাত্র ধারণাও ছিলোনা তার।অরিন মুচকি হেসে রৌদ্রের কোমরের ওপর বসে পড়ে।রৌদ্র তৎক্ষনাৎ বিছানায় মাথা এলিয়ে চোখদুটো বন্ধ করে ঠোঁট কামড়ে ধরে নিজের। অরিন মুখ টিপে হাসে। ধীরে ধীরে রৌদ্রের কানের কাছে মুখ এনে দুষ্ট কন্ঠে বলে,
“ কথা দিচ্ছি ডাক্তার সাহেব! আপনি আজ নিজেই আমায় থেমে যেতে বলবেন!”
রৌদ্র চোখদুটো মেলে।অরিনের দিকে বাঁকা চোখে তাকিয়ে বলে,
“ আমার পেইশেন্সের পরিক্ষা নিতে চাচ্ছিস সানশাইন? তাহলে শুনে রাখ! তোর ডাক্তার সাহেবের ধৈর্য্যের মাপকাঠি অতোটাও নড়বড়ে নয়!”
অরিন বাঁকা হাসে।রৌদ্রের বুকের ওপর হাত স্লাইড করতে করতে চোখ মেরে বলে,
“ সবার সামনে নড়বড়ে না হলেও, আমার সামনে কিন্তু বরাবরই নড়বড়ে!”
এই বলে মেয়েটা ধীরে ধীরে ঝুঁকে আসে রৌদ্রের মুখের ওপর। ছেলেটার ঠোঁটের সঙ্গে নিজে থেকেই ঠোঁট মিলিয়ে দিলো অরিন।রৌদ্র এবার ভিষণ অবাক হলো। মেয়েটার কাছ থেকে যে এতোটাও আশা করেনি সে। মেয়েটার নিজ থেকে করা এহেন স্পর্শে বুকটায় কেমন যেন একটা মৃদু তোলপাড় হচ্ছে তার।অরিন নিজ থেকেই রৌদ্রের ঠোঁট কামড়ে ধরে। রৌদ্র মৃদু ককিয়ে উঠে। অরিন তখন দুষ্ট হেসে নিজের নাক ঘষে দেয় রৌদ্রের গালে।রৌদ্র চোখ বন্ধ করে অনুভব করছে মেয়েটার প্রতিটা স্পর্শ। অরিন এবার ধীরে ধীরে নিজের ঠোঁট নামিয়ে আনে রৌদ্রের কন্ঠদেশে। সেথায় প্রথমে নাক ঘষে দেয় আলতো করে। রৌদ্র তৎক্ষনাৎ চেপে ধরে মেয়েটার কোমর।অরিন থামলো না। আজ বুঝি সে পন নিয়েছে ছেলেটাকে পাগল করার।অরিন আস্তেধীরে ঠোঁট ছোঁয়ায় রৌদ্রের কন্ঠদেশে। রৌদ্রের নিশ্বাস ঘন হয়ে আসে। সে ঠোঁট কামড়ে ধরে নিজের। অরিন এবার বেশ কয়েকবার মৃদু কামড় বসায় রৌদ্রের কন্ঠদেশে। রৌদ্রের মুখ থেকে অস্ফুটে বেরিয়ে আসে,
“ উফফ!”
অরিন মুচকি হাসে। সে ধীরে ধীরে উঠে আসে রৌদ্রের বুকের কাছে। তারপর রৌদ্রের বুক বরাবর ঠোঁট ছুঁইয়ে দেয় সে।রৌদ্র এবারেও খানিকটা নড়েচড়ে উঠে। অথচ সেদিকে কোনোরুপ পাত্তা নেই মেয়েটার। সে রৌদ্রের সম্পূর্ণ উম্মুক্ত বক্ষে নিজের ঠোঁট ছুঁইয়ে দেয়।এরইমধ্যে রৌদ্র বেশ কয়েকবার অস্ফুট স্বরে কি যেন বলেছে। অরিন এবার রৌদ্রের দিকে তাকায় নেশালো চোখে। রৌদ্রের চোখ খুলে রাখাও দায় হয়ে পড়েছে যেন।সে দেখলো— মেয়েটা তাকে ইশারায় ঠোঁট গোল করে চুমু দেখাচ্ছে। রৌদ্র কিছু না বলে ঠোঁট কামড়ে ধরে নিজের।
অরিন রৌদ্রের দিকে তাকিয়ে থেকেই ধীরে ধীরে রৌদ্রের সম্পূর্ণ বক্ষে আঙুল দিয়ে স্লাইড করতে থাকে।রৌদ্রের নিশ্বাস ক্রমাগত জুড়িয়ে আসছে।ছেলেটার বুকের উঠানামার ঢেউ বেড়ে গিয়েছে কয়েকগুণ। অরিন এবার নিজের আঙুল নিয়ে আসে রৌদ্রের পেট বরাবর। তারপর নাভি ছুঁইয়ে যেইনা আরেকটু নিচে নামবে ওমনি রৌদ্র ফট করে বলে ওঠে,
“ হেই স্টপ,স্টপ সানশাইন! স্টপ! আর নিচে নামিস না প্লিজ…আমি হার মানছি।উফ!থেমে যা প্লিজ!”
বলেই সে সঙ্গে সঙ্গে শোয়া ছেড়ে উঠে বসে,পাশ থেকে একটা বালিশ উঠিয়ে চেপে ধরে নিজের কোলে।অরিন ছেলেটার এহেন অবস্থা দেখে খিলখিল করে হেসে ওঠে। হাসতে হাসতে বেচারি বিছানায় হেলে পড়েছে। হাসির মাঝেই সে টিপ্পনী কেটে বলতে থাকে,
সঙ্গীন হৃদয়ানুভুতি ২য় খন্ড পর্ব ৪২
“ এইটুকুতেই এই হাল ডাক্তার সাহেব? এই আপনার পেইশেন্স?”
রৌদ্র তখন অরিনের দিকে তাকায় তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে।ভারিক্কি গলায় বলে ওঠে,
“ অসুস্থ বলে বেঁচে গেছো মেয়ে! নাহলে ঘুমন্ত বাঘকে জাগিয়ে তোলায় আজকে তোমার কপালে ঠিক কি পরিমাণে শনি লাগতো সেটা তুমি স্বপ্নেও ভেবে কুল পেতে না!”
