সাঁঝের মায়া পর্ব ৪৯
দুর এ দিলশাদ্ দুআা
বর্ষা শুরু হয়ে গিয়েছে সম্ভবত। নাকি শুরু হওয়ার পথে সে হিসেব ক’জন রাখে। ইংরেজি মাস-বছরের হিসেব থাকলেও বাংলা বর্ষপঞ্জিকায় নজর খুব কম মানুষেরই। সুতরাং আজকে বাংলা মাসের ঠিক কত তারিখ সেটা জানা গেলো না। তবে বিগত কয়েকদিনের আবহাওয়া স্পষ্ট জানান দিচ্ছে সম্ভবত বর্ষা এসেই গিয়েছে। সময় অসময়ের বৃষ্টির মাত্রা বেড়েছে আগের থেকেও দ্বিগুণ হারে। এ বেলা গরমে জনজীবন অতিষ্ঠ হলে, পরের বেলার বর্ষনে ভিজিয়ে দেয় প্রকৃতি।
জঙ্গলের এবরো -থেবড়ো, দূর্গম রাস্তা পার হয়ে ঈশান আর তিতির যখন নদীর ধারের খোলা আকাশের দেখা পেলো –বৃষ্টি তখন আরও জোড়ালো হয়ে নেমেছে। সামনেই নদীর পানিতে শব্দ করে আছড়ে পরছে একেকটা বারিকণা । শোঁ শোঁ বাতাস বইছে এলোমেলোভাবে । এদিককার লম্বা লম্বা গাছপালাগুলো হেলে পরেছে একে অপরের ওপর। ঘনঘন বিদ্যুৎ চমকানোতে দেখা যাচ্ছে টলটলে নদীর জলের ওপর নৃত্য তোলা বৃষ্টির ফোঁটাগুলোকে।
ঘুটঘুটে অন্ধকার চারপাশে। আকাশে ঘনকালো মেঘের ঘনঘটা। আজকের দিনটা সম্ভবত পূর্নিমার আশেপাশের কোনো দিন। বলা যায়না –পূর্নিমাও হতে পারে। তবে মেঘের আড়ালে ঢাকা পরে গিয়েছে চাঁদ আর তার আলো ।
জঙ্গলের ওই বিপদের রাস্তাটুকু পেরিয়ে যেনো হাফ ছেড়ে বাঁচলো দুজনে। ঈশান গভীর ভাবে তিতিরকে অবলোকন করতে ব্যাস্ত। নিজের সেলফোনের আলো পা থেকে মাথা অবধি ধরে ধরে খেয়াল করার চেষ্টা করলো অন্ধকারে কোথাও আঘাত পেয়েছে কি-না মেয়েটা। তিতিরকে জিজ্ঞেসও করলো কয়েকবার। তিতির বা ঈশান দুজনের কেউ-ই কোনো ধরনের আঘাত পায়নি। সাবধানেই সহি সালামতে পার হয়ে আসতে পেরেছে।
খানিক দূরেই ওদের তাঁবু খানা টাঙানো। সেটায় আলো জ্বেলে রেখে যায়নি যাওয়ার সময়। সুতরাং ধীর পায়েই এগোতে হলো সেদিকটায়। আকাশ ভেঙে বৃষ্টি নেমেছে ধরনীর বুকে। নিস্তব্ধতা ঘেরা আশপাশ এই মূহুর্তে মুখর হয়ে আছে সেই বর্ষনের ধ্বনিতে।
তাঁবুর ভিতরটা দেখে মনে হবে কোনো সাজানো গোছানো বেডরুমে ঢুকেছে তারা । যে-কোনো ধরনের ক্যাম্পিং এ সাধারণ টুরিস্টরা যে ধরনের তাঁবু টাঙিয়ে ক্যাম্পিং করে, এটা সেরকম মোটেই নয়। চন্দ্রা দেওয়ানের ম্যানেজার নিজের সাথে আরও কিছু সাঙ্গোপাঙ্গ নিয়ে এসে ভিতরটা পুরো ভিন্টেজ লুকে সাজিয়ে দিয়ে গিয়েছে। এককোনায় সুন্দরমতো একটা ফ্লোর বেড পাতা। পাশের ছোট্ট একটা বেড সাইট টেবিল। সেটার ওপর সাজিয়ে রাখা আগের সময়ের হ্যারিকেন। ঘরের দু কোণায় একই রকমের জিনিস আরও তিনটে সাজিয়ে রাখা। তারমধ্যে একটিমাত্র হ্যারিকেন জ্বেলে রাখা। টিমটিমে আলো দিচ্ছে সেটা। যদিও এটা সম্ভবত সাজানোর জন্যই। কারণে তাঁবুর ওপরে কৃত্রিম সাদা আলোরও ব্যাবস্থা করে রাখা। ছোট ছোট ফেইরি লাইটগুলো গোটা তাঁবু জুড়ে ঝুলছে৷ ঈশান -তিতির ভিতরে ঢুকে দম আটকে দাড়িয়ে রইলো কিয়ৎক্ষন। বৃদ্ধা যে পরিকল্পনা সাজিয়ে ওদের মধুচন্দ্রিমার ব্যাবস্থা করে দিয়েছেন খানিকটা, সেটা তিতির সেভাবে টের না পেলেও ঈশানের বুঝতে বাকি নেই একদমই।
ঈশান আড়চোখে দেখলো তিতিরকে। তাঁরা যখন আশেপাশে ঘুরতে বের হয়েছিলো তখন এতসব কিচ্ছু ছিলো না। স্বাভাবিকই ছিলো সব। এরইমধ্যে এতোকিছু কিভাবে করলো মাথায় এলো না তার। ঈশান হাতের ছাতাখানার পানি ঝরিয়ে বন্ধ করে ঝুলালো একপাশে। তিতিরকে ইশারা করলো ভিতরে যেতে। বাহিরে বৃষ্টির বেগের দিক পরিবর্তন হয়েছে। দমকা বাতাস এখন পশ্চিম থেকে দিক পাল্টে দক্ষিন দিকে বইছে। শীতল পানির ঝাপটা এসে ভিজিয়ে দিচ্ছে প্রায়। এ থেকে বাঁচার উপায় একটাই–তাঁবুর অংশ নামিয়ে দিয়ে আটকে দিতে হবে।
ঈশান ভিতরে ঢুকেই পরখ করে নিলো। ঠিকঠাকই সব। বেশ শক্তপেক্ত করে সেট করা তাঁবুটা । খুব এলোপাতাড়ি ঝড় না হলে তাঁবুর কিছু হওয়ার কথা নয়।
ঈশান নিজের ভেজা শার্টের বোতামে হাত চালাতে চালাতে বললো,
—’ বাল্বটা জ্বেলে দে। ওসব আগুন-টাগুন নিভিয়ে ফেল। অসহ্য লাগছে।’
তিতিরের কাছে কিন্তু বিষয়টা মোটেই অসহ্য লাগছে না। বরং বেশ ভালো লাগছে। ফেইরি লাইটগুলো জ্বেলে দিতেই কৃত্রিম হলুদ আলোয় ভরে উঠলো তাঁবুর একপাশটা। অন্যপাশে থাকা হ্যারিকেনের আলোও বেশ খানিকটা বাড়িয়ে দিলো তিতির। এরকম পরিবেশে হলুদ আলোর থেকে সৌন্দর্য আর কিছুতে হয়না। বাইরে বৃষ্টি আর এরকম তাঁবুর ভিতরে আগের দিনের মতো হ্যারিকেনে আগুন জ্বেলে রাত্রীযাপন! তিতিরের ড্রিম ছিলো তো এটা! তিতিরের কর্মকাণ্ড আড়চোখের নিবদ্ধ দৃষ্টিতে দেখে যাচ্ছে ঈশান। আগুনের হলদেটে শিখায় ভেজা শরীরে, কালো শাড়ি পরিহিতা নারীটিকে দেখে হৃদয় থমকে বসে আছে তার। তিতির হাটু ভেঙে বসে দু হাত আগলে টেবিলের এক কোনে রাখা ছোট্ট একটা মোমবাতির আগুন আগলাতে ব্যাস্ত।
ঈশান হাসফাঁস করে উঠলো। এরকম রোমান্টিক মহল ক্রিয়েট করার মানে কি! অবাধ্য বেবি হেয়ারগুলো কানের ভাজে গুজঁতে গুজতে তিতির পিছু না ফিরেই বললো,
—’ওই আলো থাক…এমন ওয়েদারে হলদেটে আলোই মানায় ভালো। তাছাড়া এগুলো জ্বালা থাকলে ঠান্ডা কম লাগবে।’
ঈশান জবাব দেয় না। তিতির যদি সঙ্গে সঙ্গে পিছু ফিরতো। ঈশানের থমকে থাকা মুখপানে একবার তাকাতো, এই চোখের অব্যাক্ত কথাগুলো হয়তো আজকে এক নিমেষে পড়ে ফেলতো। নিজে থেকে ছুটে এসে মাথা রাখতো এই উন্মাদ পুরুষটার বুকে। তিতির নিজের ভেজা চুলগুলো আলতো হাতে ঢিলেঢালা খোঁপা করে উঠে দাঁড়ালো। প্রায় ব্যাকলেস ব্লাউজের অবহেলায় ঢাকা না পরা নারীদেহের ধবধবে ফর্শা অংশ উন্মুক্ত ঈশানের সামনে। তিতির উঠে দাড়াতেই ঝটপট চোখ সরিয়ে নিলো ঈশান। শীতল কন্ঠে হড়বড়িয়ে বললো,
—’ শাড়ি পাল্টে ফ্রেশ হয়ে নে জলদি। বৃষ্টির পানি মাথায় পরেছে খানিকটা। ঠান্ডা লেগে যাবে।’
তিতির মাথা ঝাঁকিয়ে নিজেদের ব্যাগের দিকে এগিয়ে গেলো ঠিকই, কিন্তু আচমকাই কেমন একটা শিরশির করছে গোটা শরীর। শীতে নয়। অন্য কারণ। কারণটা অবশ্যই ঈশান। এতটুকুন একটা জায়গা। এখানে কাপড় পাল্টাবে কি করে! তাছাড়া ঈশানকে বাইরে যেতেও বলা যায়না। তাঁবুর ওপরে আছড়ে পরছে বৃষ্টি
। শব্দ কানে আসছে বেশ করে। মানুষটাকে এখন বাইরে যেতে বলা চরম হটকারিতার বিষয় হয়ে দাড়াবে। মানুষ টা তার স্বামী। হতে পারে এখনো সে সম্পর্ক পূর্ণতা দেওয়া হয়নি৷ লজ্জাটা হয়তো সে কারনেই।
তিতির জড়তার সাথে নিজের সহ ঈশানেরও জামাকাপড় বের করে ফেললো। ঈশানের দিকে বাড়িয়ে দিতে দিতে বললো,
—’আপনি আগে চেঞ্জ করে নিন।’
হাত বাড়িয়ে কাপড়গুলো হাতে নিলো ঈশান। তিতির যে আন-কমফেরটেবল ফিল করছে সেটা বুঝতে বাকি নেই তার। বিরক্ত হলো খানিকটা সে। এই অনূভুতি টাই যন্ত্রনা দেয় ঈশানকে। মেয়েটা এভাবে কুঁকড়ে থাকলে সে নিজেও কাছে যেতে ইতস্তত করে। তার স্পর্শ কোনো ভাবে মেয়েটার অযাচিত মনে না হয়। সেই কথা ভাবতে ভাবতে এতগুলো দিন পেরিয়ে গেলো তাদের মধ্যে। ঈশান ঠান্ডা স্বরে বললো,
—’ আমাদের এখান থেকে মিনিট পাঁচেক পশ্চিমে গেলে একটা বাড়ি আছে। দিদার আশ্রমের নাইটগার্ডের বাড়ি। তোর কোনো সমস্যা হলে বা ওয়াশরুমের প্রয়োজন হলে ওখানে যেতে পারি। যেতে হবে?’
তিতির মাথা নেড়ে ‘না’ করলো। প্রয়োজন নেই এখন তার ওয়াশরুমের। আর রইলো বাকি অন্য কিছুর দরকার! সেটারও প্রয়োজন নেই বললেই চলে। খাওয়া বা হাতমুখ ধোয়ার জন্য পর্যাপ্ত পানি এখানে রাখাই আছে। খাবার-দাবার থেকে শুরু করে একটা ঘরের আসবাবপত্র বাদে প্রয়োজনীয় বাকিসব জিনিসই যেনো বৃদ্ধা এখানে এনে দিয়েছেন।
তাঁবুর ভিতরে দু’জন দাঁড়িয়ে আছে দু প্রান্তে। দুজনই নিজেদের জামাকাপড় হাতে থ মেরে দাঁড়িয়ে। তিতিরের কালো শাড়িটা ভিজে একাকার অনেক আগেই। মখমলের মতো শরীরে সেটা আষ্টেপৃষ্টে জড়িয়ে আছে। দেহের প্রতিটা ভাজ চোখে পরছে ঈশানের। শ্বাসপ্রশ্বাস দ্রুত চলছে সে তো সেই শাড়ি পড়া অবস্থায় দেখার পর থেকেই । তবে কি এক অজানা কারণে ঈশান নিজ থেকে এগোচ্ছে না।
তিতির দু হাতে খামচে ধরে আছে নিজের হাতের অন্য একটা শাড়ি। সেটা নিয়ে কি করা উচিত সেটাই যেনো খেয়াল হচ্ছে না তার। বাইরে বৃষ্টির শব্দের সাথে সাথে আন্দোলিত হচ্ছে তার মনের ভিতরেও। ঈশান কাছে আসছে না তার। অথচ কথা দেওয়া ছিলো আজ কাছে আসলে বাঁধা দেবে না সে।
কিন্তু সেরকম কিছু হচ্ছে না। ঈশান কি আজও তার অনুমতির অপেক্ষায়! তাহলে কি করে হয়। সে মেয়ে হয়ে কিভাবে এগোবে? লজ্জায় মরে যায় তো সে, এই পুরুষটার সামনে আসলেই।
ঈশান নিজের শার্টের তিন তিনটে বোতাম এরইমাঝে খুলে ফেলেছে। তিতিরের কাচুমাচু মুখটা দেখতে তার বেশ লাগছে। একরাশ ভেজা চুল পিঠের ওপর পরে আছে মেয়েটার। কপাল গড়িয়ে ভেজা চুলের পানি গড়িয়ে পরছে। কোনোটা বিলীন হচ্ছে তিতিরের গোলাপি ঠোঁটের ওপর আর কোনোটা বা আরও একটু বাড়াবাড়ি করে তিতিরের বক্ষভাজে হারিয়ে যাচ্ছে। ঈশান শুকনো ঢোক গেলে। আজকে, এই মূহুর্তে তিতিরের কাছে এগোলে কি মেয়েটার সাথে কিছু ভুল করা হবে? ভুল কেনো হবে। মেয়েটা কয়েকবার অনুমতি দিয়েছে, আর কত অপেক্ষা! সম্ভব নয় এই অপেক্ষার প্রহর গোনা। ঈশান মুখ খুলে কিছু বলতে যাবে তখনই টুংটাং করে বেশ কয়েকটা মেসেজ আসলো বোধহয়। ধ্যান ভড়কালো ঈশানের। তিতিরের দিক থেকে নিজের এলোমেলো দৃষ্টি সরিয়ে ফোন হাতে নিতেই মাথা দপদপ করে উঠলো। আবার ইয়াজ! এরকম একটা মূহুর্তে। অসহ্যকর সবকিছু। চোখ বুঁজে শ্বাস ফেললো জোরে জোরে।
তিতির ঈশানের দিকেই ফিরে ছিলো। ঈশানের মুখের গাম্ভীর্য দেখে প্রশ্ন করলো,
—’কে? কিছু হয়েছে?’
মুখে কোনো জবাব দিলো না ঈশান। তিতিরের দিকে কেমন একটা অচেনা দৃষ্টি দিয়ে ছাতা ফেলেই তাঁবু খুলে বের হয়ে গেলো বাইরে। তিতির পিছু ডাকলো, ছুটে এলো। তবে সে যুবক ততক্ষণে হাঁটা ধরেছে। লম্বা পায়ের কদম ফেলে এগিয়েও গিয়েছে বেশ খানিকটা।
তিতির হতভম্ব হয়ে গেলো একপ্রকারে। এই বৈরি আবহাওয়ায় এরকম বাইরে ছোটার মানে কি? কি ছিলো সদ্য আসা টেক্সটে। সে-সব আপাতত অজানাই রয়ে গেলো মেয়েটার।
রাত্রি সবে সাড়ে আটটা। চন্দ্রা দেওয়ান সবেই এশার নামাজ পরে উঠেছেন। এতক্ষণ জায়নামাজে বসে থাকলেও রাতের খাবার নিয়ে তার আয়া পৌছাতেই উঠে এসে বসলেন বিছানার এক কোনায়। আশ্রমের সবাই জেগে। এতো জলদি কে ঘুমায়! এদিকে তীব্র বৃষ্টিতে সামনের রাস্তার পাশের সরু ড্রেনে পানি জমেছে বেশ রকম। আশ্রমের কর্মচারীরা হাঁকডাক করে সে-সব পরিষ্কার করতে ব্যাস্ত। বৃদ্ধা খানিক পরপর বারান্দায় গিয়ে গলা উঁচিয়ে নির্দেশ দিচ্ছিলেন। এখন শব্দ বেড়েছে, বাতাসের তীব্রতায় বৃদ্ধার ভাঙা গলার আওয়াজ অতদূর আর পৌছাচ্ছিলো না। বাধ্য হয়ে নামাজ টা শেষ করে নিলেন আগে। ট্রে থেকে স্যুপের বাটি হাতে তুলে নিয়ে, সেখান থেকে এক চামচ স্যুপ মুখে তুলতে তুলতে গম্ভীর গলায় বললেন,
—’আয়শা?’
—’জ্বী আম্মা। ‘
—’ যা যা দিয়ে আসতে বলেছিলাম, যেভাবে সাজাতে বলেছিলাম। সব হয়েছে? ‘
চন্দ্রা দেওয়ানের ব্যাক্তিগত খেয়াল রাখে আয়শা। মালকিনের কথায় মাথা ঝাঁকিয়ে মুচকি মুচকি হাসলো সে। দাঁত বের করে হাসতে হাসতে বললো,
—’ সব ব্যাবস্থা কইরা দিয়া আসছি, আম্মা। আমি নিজে দাড়ায় থাইকা তদারকি করছি। আপনের কথামতো হইছে সব। চিন্তা কইরেন না।’
বৃদ্ধা চোখের চশমা টা ঠেলে ঠিকঠাক করলেন। ভ্রু উচিয়ে বললেন,
—’ কাজ হবে মনে হয়?’
আয়েশা দাঁত বের করে প্রাণখোলা হাসি উপহার দিলো। উচ্ছ্ব্যসিত কন্ঠে ভীষন আত্মবিশ্বাসের সাথে বললো,
—’ হইবেনা মানে! দৌড়াইবে আম্মা। ভিতরে যা ঝলকানি দেওয়া হইছে না, আপনের নাতি-নাতনী তাতেই দেওয়ানা হইয়া যাইবে। কি যে সোহাগ করবো একে অপররে…’
বৃদ্ধা সন্তুষ্ট হলেন যেনো। আয়েশ করে স্যুপে চুমুক দিলেন আরও কয়েকটা। আদতে এসবের কথা মাথায় আসেনি তার। বুড়ো মানুষ সে। নাতি-নাতনীদের এতো ব্যাক্তিগত বিষয়ে নাক গলালে তার চলবে ক্যানো! একে তো জোর করে বিয়ে দিয়েছিলো। এখন যদি জোর করে মধুচন্দ্রিমাটাও করিয়ে দিতে হয় তাহলে ওদের মধ্যে ভালোবাসা তৈরির সুযোগই দেওয়া হবে না। তবে সে চিন্তাভাবনা ঝেড়ে মুছে ফেলে এরকম একটা বুদ্ধি না খাটালেই চলছিলো না। আজ দুপুরে বাড়ি থেকে নূরির ফোন পেয়ে বৃদ্ধা রীতিমতো নড়েচড়ে বসেছেন। বিয়ে দেওয়া হয়েছে প্রায় দু -আড়াই মাস হবে। ওপরে ওপরে এতো যত্ন, ভালোবাসা। তাহলে এখনো স্বামী স্ত্রীর সম্পর্ক তৈরি হবে না ক্যানো? ভালো না বাসলে সেটা আলাদা কথা। ছেলেটা সবার সামনে বুক ফুলিয়ে বউ নিয়ে সংসার করতে চাইবে, তার পুতুলটাকে বউ হিসেবে যত্নে রাখার বয়ান দেবে। অথচ কাছে টানবে না, সত্যিকারের বউয়ের মর্যাদা এখনো দেবে না তাই হয়!
তার দাদুভাইয়ের বিষয়টাও তো দুঃখজনক। পুরুষমানুষ। বিয়ে করেছে,অথচ বউ কাছে পায়নি এখনো। এটা মানার মতো! আহারে, নাতি টা তার কি-ই না কষ্টে আছে!
অগত্যা একটু কলকাঠি না নাড়লে চলে? যদিও তিতিরের বায়নার জন্য সব সহজ হয়েছে, তার ওপর আজকের আবহাওয়াও যেনো তাদের সহায়। সে শুধু একটু ভিতরের পরিবেশ টা ঠিকঠাকমতো গুছিয়েছে। এই যা। আর তিতিরকে ধরেবেধে তখন বের হওয়ার সময় শাড়ি পরানোর বুদ্ধিও তারই ছিলো। তার দৃঢ় বিশ্বাস আজ কাছাকাছি আসতে বাধ্য ওরা দু’জন। তারপরেও কাজ না হলে বুড়ো বয়সে এই লম্বা নাক, আর একটু না হয় গলাবে। সমস্যা কি! কোনো সমস্যা নেই।
—’ আমি এখন একটা সিগারেট খাবো। অনুমতি দিবি কি?’
তিতির ভেজা শরীরেই বসে ছিলো এতক্ষণ । ঈশান ওভাবে হুট করে বের হয়ে যাওয়ায় ভয়, চিন্তার মিশ্রনে কুঁকড়ে ছিলো মেয়েটা। তবে ঈশান সময় নেয়নি বাইরে গিয়ে। ভিজে কাক হয়ে মিনিট দশেকের মাথায় এসে আবার হাজির হয়েছে তাঁবুতে। তিতিরকে ওভাবে ঠায় বসে থাকতে দেখে ধমক দেওয়া হলো না তার। আজ ধমকি-ধামকির মুড নেই। মন অন্য কিছুতে মজে আছে। ডুবতে চাইছে, ক্ষেত্র বিশেষে পুড়ে ছাঁই হতে চাইছে।
তিতিরের নিষেধের পর ঈশান অনেকদিন যাবৎ সিগারেট ছেড়েছে। তিতিরের সেটা জানা। আজ হুট করেই এমন কথায় অবাক চোখে তাকালো। প্রশ্ন করলো,
—’ সিগারেট? ‘
—’হুমমম।’
—’বাদ দিয়েছেন যতদূর জানতাম। কাছে আছে মানে খান নিশ্চয়? ‘
ঈশান পকেটে থাকা সিগারেটের প্যাকেটটা শক্ত করে চেপে রাখে। এটা সবেই কিনে নিয়ে আসলো। কারণও আছে তার অবশ্য। ডিসটার্ব সে এই মূহুর্তে। তাকে শান্ত করতে পারে দুটো জিনিস। এক সিগারেট আর দ্বিতীয় তিতির। তবে তিতির এই মূহুর্তে তাকে বিনাশকারী রুপে আছে। ওই নারীর কাছে গেলে দু’জনেই আজ ধ্বংস হবে। কিছু সময়ের জন্য শান্ত হতে কাছে টানলেও আজ নিজেকে আটকানো সম্ভব নয় তার পক্ষে। ঈশান শান্ত স্বরে জবাব দিলো,
—’কিনে আনলাম।’
—’এখন?’
—’হু।’
—’এই বৃষ্টির মধ্যে! খুব দরকার ছিলো কি?’
—’হুম…দরকারই মনে হচ্ছে, ক্রেভিং হচ্ছে ভীষন। ‘
‘ক্রেভিং হচ্ছে ‘ কথাটা শুনেই তিতিরের শরীরে শিহরন বয়ে গেলো। ঈশান তার সামনে যতবার এই কথাটা উচ্চারন করেছে, ততবার তিতিরকে বুঝে নিতে হয়েছে এই কথাটার আক্ষরিক অর্থ। ক্রেভিং টা আদতে সিগারেটের জন্য নয়। অন্য কিছুর।
তিতিরের বুকের ওঠানামা এই মূহুর্তে চোখের পরার মতো। ঈশান নজর সংযত করলো। শান্ত স্বরে বললো,
—’ এখনো চেন্জ করিসনি কেনো? বাইরে ছিলাম। সেই সুযোগে চেন্জ করে নিলে পারতি না? আমি ঘুরে দাড়াচ্ছি। শাড়ি টা পাল্টে নে।’
কথাটা বলেই ঘুরে দাঁড়ালো ঈশান। তিতির হতভম্ব। লোকটার হলো কি আজকে! এরকম ব্যবহার কেনো! সাতপাঁচ ভাবার মাঝেই তোয়ালে টা হাতে তুলে নিলো। জবজবে ভেজা মাথা টা আগে মোছা উচিত।
ঈশানেরও তাই, তিতির আগে এগিয়ে গেলো তার দিকেই। হাত বাড়িয়ে তোয়ালে টা ঈশানের দিকে তাক করে মিহি কন্ঠে বললো,
—’মাথাটা মুছে নিন। আমার সময় লাগবে। ততক্ষণে আবার আপনার ঠান্ডা বসে যাবে।’
ঈশান ঘুরে দাড়ালো তিতিরের রিনরিনে কন্ঠস্বরে। ঝনঝন চুড়ির শব্দ হচ্ছিলো। হাতে একগোছ কালো কাচের চুড়ি! ঝনঝন শব্দ করছে সে-সব! এতক্ষন খেয়াল করেনি কেনো সে! নিজের ঘোলা দৃষ্টি সরিয়ে রেখে তোয়ালেতে মুছে নিলো নিজের চুল। তারপর বিনাবাক্য হাত বাড়ালো তিতিরের চুলের দিকে।
তিতির থমকালো খানিকটা। অতপর নিজেকে সামলে ধীর গলায় বললো,
—’ আ-আমি পারবো। আপনি ফ্রেশ হয়ে নিন। ‘
তিতিরের কথায় ঈশানের মধ্যে কোনো ভাবান্তর হলো না। মুখটা ভাবলেশহীন হয়ে আছে। তিতিরের উচ্চতা ঈশানের বুক অবধি। তিনটে বেতাম খোলা সে বুকের কাছটায়। উন্মুক্ত হয়ে আছে তেলতেলে বুকটা। জিম করা পেটানো শরীর। ফুলো ফুলো পেশল অংশ গোটা শরীরজুড়ে। তিতির চোখ বুজে ফেললো। ঈশানের শরীরের কড়া পারফিউম যেনো আষ্টেপৃষ্ঠে ঘিরে ফেলেছে তাকে। তিতিরের চুলগুলো আলতো হাতে মুছতে মুছতে শীতল গলায় বললো,
—’আমরা এখনো স্বামী স্ত্রীর মতো জীবনযাপন করিনা এটা বাইরের মানুষ কি করে জানলো?’
তিতির চমকায়, বেশ চমকায়। এই সময় হুট করেই এই প্রশ্নে মাথা তুলে তাকায় ঈশানের দিকে। কাজলরঙা আঁখি জোড়ায় একরাশ জিজ্ঞাসা। আমতা আমতা করে বলে,
— ‘ম-মানে? কে জানবে? এ-সব কি বলে বেড়ানোর কথা?’
ঈশান আচমকা এক কাজ করে বসলো। তিতিরের শাড়ির আচঁল ভেদ করে উন্মুক্ত কোমড় দুহাতে চেপে ধপ করে হাঁটু ভেঙে বসে পরলো তিতিরের সামনে ।
—’ আমি আর সহ্য করতে পারছি না। হাঁপিয়ে যাচ্ছি তোর থেকে দূরে সরে থাকতে থাকতে…’
ভীষন ব্যাকুল শোনালো ঈশানের কন্ঠস্বর। কেমন জড়িয়ে আসছে যেনো প্রতিটা শব্দ। ঈশানের খসখসে শীতল হাতের থাবা তার কোমড়ে। জ্বলছে যেনো গোটা অঙ্গ। পাথর হয়ে দাড়িয়ে আছে মেয়েটা । পেটের ওপর থেকে ভেজা শাড়িটার আঁচলের অংশটুকু সরিয়ে কপাল ঠেকালো সেখানটায়। নিজের উষ্ণ উদরে ঈশানের জবজবে সিক্ত চুলের ছোঁয়ায় ঝংকার তুললো গোটা শরীর। নারীসত্ত্বা জেগে উঠলো যেনো। তিতিরের দাঁতের নিষ্ঠুর দংশনের কবলে পরলো তার নিম্ন ওষ্ঠপুট। দু হাতে খামচে ধরা শাড়ির অংশ। ঈশান স্ত্রীর তুলতুলে উদরে কপাল ঠেকিয়েই ব্যাকুল কন্ঠে বললো,
—’ তোর- তোর কি এখনো সময় লাগবে তিতির? আমার কত পরীক্ষা নিবি আর তুই? তুই আমাকে শান্ত না করলে, আমি, আমি জ্বলেপুড়ে অঙ্গার হয়ে যাবো আজ রাতে।’
তিতিরের মাথা ঝুঁকে এলো। খিঁচে বন্ধ করে রাখা চোখের পাপড়িজোড়ায় কম্পন হচ্ছে অস্বাভাবিক ভাবে। দংশনের তীব্রতায় গোলাপি, পাতলা অধরোষ্ঠ চিড়ে রক্ত বের হয়ে এলো বলে। তিতির ঘাড় ঘুরিয়ে নিজের লাজুক মুখটা লুকাতে চাইলো যেনো। মেয়েটার কেনো জবাবই নেই। বাইরে ঝড়বৃষ্টির তান্ডব ছাড়া বাকিসব নিস্তব্ধ লাগছে তাঁবুর ভিতরটায়। তিতিরের সাড়াশব্দ না পেয়ে মেয়েটার কোমড় ছেড়ে উঠে দাঁড়ালো মুখোমুখি। গম্ভীর কন্ঠে প্রশ্ন ছুড়লো,
—’ আর ইউ নট রেডি ইয়েট?’
এবারও জবাব পাওয়া যায়না তিতিরের। মুখে কুলুপ এঁটেছে যেনো। ফর্শা মুখটা লাল টকটক করছে। নাকের ডগায় মুক্তোদানার মতো পানি জমেছে। অস্বাভাবিক ওঠানামা করেছে সুডৌল বুকটা। ঈশান তবুও তিতিরের অনুমতির অপেক্ষা করে। মেয়েটা মুখে ওকে সম্মতি দেয়নি এখনো। কি করা উচিত। ঈশান হাতের তোয়ালেটা নিয়ে উঠে যেতে উদ্ব্যৎ হতেই কবজিতে টান পরলো একটা নরম হাতের। উষ্ণ একটা হাত তার কবজি আষ্টেপৃষ্টে জড়িয়ে ধরেছে। সে হাতের কম্পন টের পাচ্ছে ঈশানও। তিতির দুরত্ব ঘোচালো। একেবারে মিশে দাঁড়ালো ঈশানের পিঠের সাথে। নারীদেহের গভীর স্পর্শ অনূভব করলো ঈশান। তিতিরের নরম-কোমল অঙ্গের ছোঁয়া পেতেই শ্বাসপ্রশ্বাস আরও বেরে গেলো তার। তিতির পিছনে থেকে নিজের মাথা ঈশানের পিঠে ঠেকালো। অন্য হাত গলিয়ে দিলো ঈশানের লম্বাচওড়া আঙুলের ফাঁকে। ফিসফিসিয়ে বললো,
—’ কোথায় যাচ্ছেন? কাছে চাই না নিজের স্ত্রীকে? হুম? আ-আমি প্রস্তুত তো। চাই আপনাকে। আজই, এক্ষুনি। বাঁধা দেবো না আজ রাতে, বলিনি তখন?’
একমুহূর্তের জন্য যেনো জমে গেলো ঈশানের উন্মাদ হৃদয়। নিঃশ্বাস ফেলতেও ভুলে গেলো। ঝড়ের গতিতে ঘুরে তিতিরকে জড়িয়ে নিলো নিজের দু’হাতের বন্ধনে। আঙুলের ডগায় চিবুক উঁচিয়ে ধরে হিসহিসিয়ে প্রশ্ন ছুড়লো,
—’শুনি নি, বুঝিও নি…কি বললি এই মাত্র? আবার বল। say it again!’
তিতির নিভু নিভু দৃষ্টিতে তাকায়। ঠোঁটজোড়া ফাঁক করে কিছু বলতে যাবে, তার আগেই ওষ্ঠপুট আঁকড়ে ধরলো ঈশান। ঘটনাটা ঘটে গেলো একবারে আকষ্মিক ভাবেই বলা যায়। তিতিরের বুঝতে এক মূহুর্ত সময় লাগলো যেনো। ঈশান নিজের পুরুষালি হাতে ততক্ষণে তিতিরের কোমড় চেপে শূন্যে তুলে দাড় করিয়েছে নিজের পায়ের ওপরে। তিতির দু হাতে খামচে ধরলো ঈশানের ভেজা শার্টের কলার। ছেলেটার অবাধ্য হাতের অশালীন স্পর্শ অবশ করে দিচ্ছে মেয়েটার গোটা শরীর। নগ্ন উদরের ওপর ঈশানের হাতের কারসাজিতে পাগলপ্রায় অবস্থা তিতিরের। ঈশান কয়েক সেকেন্ডের ব্যবধানে ছেড়ে দিলো ওষ্ঠপুট। উন্মাদের মতো নিঃশ্বাস ফেলছে দু’জনেই। কোমড় অবধি খোলা চুলগুলো নিজের হাতের মুঠোয় নিয়ে নিলো ছেলেটা। শক্ত করে চেপে, হেঁচকা টানে মেয়েটার মুখ নিয়ে আসলো একেবারে কাছে। একে অপরের নিঃশ্বাস বারি খাচ্ছে দু’জনের ওপর। জিবে ঠোঁট ভিজিয়ে ঈশান ব্যাকুল কন্ঠে বললো,
—’ নাউ উই গো ফর আ ফ্রেঞ্চ কিস। ডোন্ট প্যানিক। অ্যান্ড ডোন্ট ট্রাই টু স্টপ মি৷ ওকেই?’
তিতিরের প্রতিত্তোর শোনার জন্য প্রশ্নটা করলে তবে তো ঈশান পুনরায় আবার অপেক্ষা করবে! মেয়েটা হা করে শ্বাস নেওয়ার মাঝেই বন্ধ হলো আবার অধরোষ্ঠ। আগ্রাসী আক্রমণে নিজের শরীরের বল হারালো মেয়েটা। গোটা শরীরের ভর ছেড়ে দিলো নিজের ব্যাক্তিগত পুরুষের বলিষ্ঠ বুকে। ঈশানও আগলে রাখা হাত আরেকটু দৃঢ় করলো।
তিতিরের শ্বাস ফুরিয়ে আসছে। একটু খানি শ্বাস টানতে ছটফট করে ওঠে। বারংবার চেষ্টা করে মুখটা ঘুরিয়ে নেওয়ার। সম্ভবপর হয়না। ঈশান আজকে ছেড়ে দেওয়ার মতো অবস্থাতেই নেই। তিতিরের ছটফটানিতেও কোনো ধরনের বোধহয় হলো না তার। উল্টো নড়াচড়া বন্ধ করতে ইশারা করলো, কোমড়ে নিজের থাবা দৃঢ় করে।
এক হাতে তিতিরের কোমড়ের নিম্নাংশের আপত্তিকর জায়গায় আলতো আঘাত বসিয়ে, হাতটা উঠে এলো তিতিরের গালে। চেপে ধরলো গালটা। মৃদু কামড়ও বসালো ঠোঁটে।
ঈশানের এমন নির্লজ্জ কাজে তিতিরের শরীরে কত ভোল্টের কারেন্ট শক দিলো বোঝা গেলো না। থরথরিয়ে কেঁপে উঠলো গোটা শরীর। হাতটা পুনরায় সেই জায়গায় ছুয়িঁয়ে এক সেকেন্ডের জন্য ঠোঁট ছেড়ে বাঁকা হাসলো ঈশান। হিসহিসিয়ে বললো,
—’ডু ইউ লাইক ইট?’
পাতলা, নরম কোমল ঠোঁটজোড়া ক্রমাগত দলিতমথিত হচ্ছে ঈশানের আদরে। তিতিরকে স্তব্ধ করে দিয়েছে আজকে সে। মেয়েটা বোধহয় কথা বলার শক্তিও পাচ্ছে না আর। ঈশানকে সরিয়ে আজ সে দেবে না, অথচ এই পাগল লোকটার সাথে তাল তাল মেলাতে হিমশিম খাচ্ছে সে। ক্ষনে ক্ষনেই কামড়ে ধরছে তিতিরের ওষ্ঠপুট। আবার সঙ্গে সঙ্গেই সেই কামড়ের স্থান টেনে নিচ্ছে নিজের ওষ্ঠপুটের মাঝে। শুষে নিচ্ছে নিজের দেওয়া ব্যাথা টুকু।
আরও বেশ খানিকটা সময় নিয়ে চললো ঈশানের এই আগ্রাসন। ঈশান ছেড়ে দিতেই গলাকাটা মুরগীর মতো ছটফট করতে করতে শ্বাস টানলো মেয়েটা। কোমড়,।ঠোঁট দুটোই জ্বলেপুড়ে যাচ্ছে। লোকটা নরম ছোঁয়ায় অভ্যস্ত না নাকি! যেখানে, যেভাবে স্পর্শ করে সেখানেই ক্ষত বানিয়ে ছাড়ে। হৃদপিণ্ড ঝড় তুলেছে একপ্রকার, এতো জোরে জোরে লাফাচ্ছে, মনে হচ্ছে খাঁচা ছেড়ে বের হয়ে আসবে বোধহয়! তিতির এই লাজেরাঙা মুখটা এখন ঠিক কোথায় লুকাবে বুঝে উঠতে পারছে না।
ঈশান এক নজর তাকালো সাজানো গোছানো বেডের দিকে। তিতিরের দিকে তাকিয়ে হাস্কিস্বরে বললো,
—’ ইউ আর ড্রাইভিং মি ক্রেজি। ইট’স মাই টাইম নাউ। আজ পাগল করবো তোকে। ট্রাস্ট মি। এতটা পাগল করে ফেলবো যে– তুই নিজ থেকে পাগলের মতো কাছে চাইবি আমাকে। আমার স্পর্শের জন্য ছটফট করবি৷ দু’হাত বাড়িয়ে কাছে টানবি। আমার আদরের জন্য কাঁদবি। অ্যান্ড আই ডেফিনিটলি মেক দিস শিট হ্যাপেন টু’নাইট।’
তিতির লজ্জায় মুখ ঘুরিয়ে ফেললো অন্যদিকে। ঈশানের এই ঘোলা দৃষ্টিতে দৃষ্টি মেলানোর মতো শক্তি এই মূহুর্তে তার অবশিষ্ট নেই। তিতিরের গাল নিজের হাতের আজলায় নিয়ে টুপ করে চুমু আঁকলো বদ্ধ চোখের পাতার। চট করে তুলো নিলো কোলে। হাটু ভেঙে নিচে পাতা বিছানায় আলতো হাতে শুয়িয়ে দিলো তিতিরকে।
দু হাটুর ওপর ভর রেখে ঝুঁকে আছে তিতিরের ওপর। তিতিরের দু-হাত নিজের বুকের ওপর আগলে রাখা। ক্রমাগত শ্বাস ফেলছে এলোমেলো ভাবে। ঈশান বাঁকা হাসলো আবারও। গম্ভীর কন্ঠে আদেশ ছুড়লো,
—’তিতির, লুক অ্যাট মাই আইস।’
তিতির প্রায় বেশ সময় নিয়ে আখিজোড়া উন্মুক্ত করতেই দেখলো–নিজের ওপর ঝুঁকে থাকা বলিষ্ঠ দেহের পুরুষটাকে। ঘোরলাগা চোখে তার দিকেই তাকিয়ে। একবারও পলক ফেলছে না। ঈশানের কপাল থেকে কয়েক ফোটা পানি টুপটাপ এসে পরলো তিতিরের বুকের উন্মুক্ত অংশে। ছেলেটা হাতে ভর দিয়ে আধশোয়া হলো তিতিরের ওপর। বৃদ্ধাঙ্গুলি চেপে ধরলো তিতিরের ঠোঁটে। মেয়েটার ঠোঁটে রেড লিপস্টিক স্টেইন ছিলো। এতক্ষণ ধরে চলা ঈশানের আগ্রাসনে সেটা ছড়িয়ে গিয়েছে ফর্শা চিবুকের আশেপাশে। ঈশান হিসহিসিয়ে বললো,
—’ তারপর? শ্বাস ফেলছিস কেনো এতো জোরে জোরে? হুম? কিছু ফিল হচ্ছে? হোয়াট ডু ইউ ওয়ান্ট নাউ? ‘
কি আশ্চর্য! তিতির এখন মুখে কি করে বলবে তারপর কি! তাকে বলার সুযোগ এতক্ষণ দেওয়া হচ্ছিলো কোথায়৷ উল্টো প্রশ্নগুলো করে বারংবার চেপে ধরে থামিয়ে দেওয়া হচ্ছিলো। ঠোঁটজোড়া কেটেছিড়ে ফেলেছে, শ্বাস নেওয়ার সময়টুকু অবধি দেওয়া হচ্ছিলো না। কতক্ষণ ওভাবে ছিলো কে জানে! আর এরকম উন্মাদের মতো অশালীন স্পর্শ! এতকিছুর পরও তার শ্বাস স্বাভাবিক থাকবে? এটা কোনো প্রশ্ন হলো কি? ঈশানের মুখজুড়ে দুষ্টুমির হাসি। মেয়েটার বুকের ভিতর হাতুড়ি পিটছে কেউ।
ঈশান নিচু হয়ে নিজের ভেজা অধর ছোঁয়ালো তিতিরের কন্ঠদেশে। মেয়েটার শরীরে বোধহয় আফিম জাতীয় কিছু আছে। তা না হলে এরকম লাগে কেনো এই শ্বাস টানলে। দুনিয়া ভুলে বসে থাকে সে। এর থেকে বড় নেশা বোধহয় ঈশান এ জীবনে আর দ্বিতীয় কিছুতে অনূভব করেনি। শাড়ির পিন টা একটানে খুলে ফেলে আচঁল আলগা করে ফেললো সে। নেশাগ্রস্ত মানুষ তার নেশার সময় যেমন শ্বাস টানে ঈশানের ঠিক সেই একই অবস্থা। ধীরে ধীরে মুখটা নামলো তিতিরের বিউটি বোনের ওপরে। উঁচু হয়ে থাকা অংশটায় তার আগের আদরের সামান্য চিহ্ন এখনো রয়ে গিয়েছে। অস্পষ্ট কালসিটে দাগ এখনো দেখা দিচ্ছে। ঈশান আর কোনো দিকে ভ্রুক্ষেপ করলো না। এক এক করে টুকরো টুকরো চুমু আঁকলো গোটা কন্ঠদেশ, কাঁধসহ বক্ষভাজের ওপরের উন্মুক্ত অংশে। একেকটা চুমুর তীব্রতায় জ্বলেপুড়ে যাচ্ছে গোটা অঙ্গ। তিতিরের মনে হলো কোনো এক রক্তচোষার খপ্পরে পরেছে বুঝি সে । শুষে নিচ্ছে তার দেহের সবটুকুন রক্ত । মেয়েটার দু হাত অজান্তেই উঠে এলো ঈশানের ভেজা চুলের ভাজে। ছেলেটার মুখ তখনও ডুবিয়ে রাখা নারীদেহের লুকায়িত ভাজের মধ্যে। কামড়ে কামড়ে জর্জরিত সবকিছু। নিজের কাজ অব্যহত রেখেই তিতিরের কোমড়ে চেপে উঠিয়ে বসালো তাকে
কামুক চোখে দেখলো তিতিরের বুকের অগ্রভাগে সদ্য এঁকে দেওয়া ছোপ ছোপ রক্তাভ দাগগুলো । রক্ত জমে গিয়েছে এরইমধ্যে। তিতির চোখ খিচে বন্ধ করে হেলে আছে। ঈশান সরিয়ে ফেললো শাড়ির আঁচলটুকু। আঁচল টুকু সরাতেই তিতির হামলে পরলো ঈশানের বুকে মুখ লুকাতে। গোটা শরীর মৃগী রুগীর মতো কম্পিত হচ্ছে মেয়েটার। ঈশান আলতো হাতে সোজা করলো তাকে। আদুরে গলায় বললো,
—’লজ্জা ভাঙতে এতো তোরজোর করছি। এই বুকটা তো তোরই। যখন ইচ্ছে মুখ লাুকাবি। কিন্তু সেটা এখন নয়। লেট মি লাভ ইউ টুডেই। প্লিইজ।’
লজ্জায় হাস ফাঁস করছে তিতির। ঈশানের মাতাল কন্ঠস্বরের ভার ভীষন। সে বরাবরের মতোই এলোমেলো হয়ে যায়। ঈশানের অবাধ্য সত্ত্বা এরই মধ্যে আরও একটু লজ্জা ভাঙার কাজে নেমে পরেছে। তিতিরকে ঘুরিয়ে মেয়েটার শরীরের উপরিভাগে সেটে থাকা ব্লাউজের পিছনের ফিতে টায় ঠোঁট ছুঁয়িয়ে দাঁত দিয়ে একটানে খুলে ফেললো সেটা। টান দিতেই আলগা হলো গোটাটা কাপড়। ধীর হাতে সম্মুখভাগের ওপরের বোতাম আলগা করেও ফেললো একে একে। একটানে খুলে ফেললো সেটা।
দাঁতে ঠোঁট কামড়ে ধরে আছে মেয়েটা । কপালে অসংখ্য ভাজ। মুখ রক্তজবার মতো রক্তিম। টোকা দিলো বুঝি রক্ত গড়িয়ে পরবে। ঈশান আবার এক মূহুর্তের জন্য নিজের হার্টবিট মিস করলো। ধক করে উঠলো সেথায়। চোখ ধাঁধিয়ে উঠলো। আঁধার রাতে আকাশের চাঁদ, তাঁরা মেঘে ঢাকা। কিন্তু সত্যিই কি তাই? এইতো চাঁদ, তাঁরা সবকিছুর আলো জমিনে নেমে এসেছে। ঝলমল করছে ঈশানের ঘরটা। ওই চাঁদ, তাঁরার থেকে হাজার গুন সুন্দরী এক রমনী তো তার ঘর করে। সেই রমনীকে এক টুকরো চাঁদের আলোই মনে হলো এই মূহুর্তে। ভেজা শরীরে বৃষ্টির পানি ঝলক দিচ্ছে হলুদ আলোতে । তার চোখ আঁটকে আছে নারীদেহের সবথেকে আকর্ষণীয় অঙ্গ আড়াল করে রাখা ছোট্ট একটুকরো কাপড়ের অংশের দিকে। ফর্শা শরীরের ওপর কালো ইনার টা লেপটে আছে। এক নজরেই সব মাপঝোঁক যেনো আরও একবার করা হয়ে গেলো ঈশানের। নির্মেদ গোটাটা শরীর। ঈশান আরেকটু কাছে ঘেষে দুরত্ব ঘোচালো। তিতিরের কাঁধের ওপর আঙুলের উল্টো পিঠ ছুয়িয়ে স্লাইড করতে করতে বললো,
—’আজকের পর থেকে অনেক কিছুরই উন্নতি হবে, বেইব ৷ বাট ইউ স্যুড কোওপারেট উইথ মি। ‘
—’আ-আপনি…’
—’আমি কি? চোখে চোখ রেখে প্রশ্ন কর। জবাব দিচ্ছি।’
—’আ-আ-আমি…’
ঈশান বাকিটা শোনার প্রয়োজনও বোধ করে না। অন্যদিকে তিতিরও দৃষ্টি মেলতে পারে না। ঈশানের শীতল হাত তার কাঁধ, কন্ঠদেশ থেকে নামতে নামতে বেশ নিচে নেমে এসেছে। ঈশান স্পর্শ গিয়ে ঠেকলো দেহের সেই লুকায়িত ভাজে। শ্বাস নিতে ভুলে বসলো তিতির। কয়েক সেকেন্ডের মাথায় ঈশান চোখমুখ কুচকে বড্ড সিরিয়াস কন্ঠে বললো,
—’ It’s bothering me so badly… সফটনেস ফিল করতে পারছি না । খুলে ফেলি হ্যা ? ‘
তিতিরের গোটা শরীর বরফের মতো হীম হয়ে গেলো । বর্ষনের শব্দ ভেদ করে হৃদপিন্ডের দ্রিমদ্রিম কানে এসে বাজলো । ঝাঁকি দিয়ে উঠলো তনুদেহ…
হা করে শ্বাস নিতে হচ্ছে তার, গলায় আটকে থাকা
শব্দ লজ্জায় জড়িয়ে গেলো । ঈশানও অনুমতির পরোয়া আর করলো না… আঙুলের ডগায় মখমলের মতো তুলতুলে গায়ে লেপটে থাকা একটুকরো কাপড়ের অতি সরু ফিতে নামিয়ে ফেললো কাঁধের ওপর থেকে… ভেজা ঠোঁট নামিয়ে গভীর চুমু খেলো কাঁধের ওপর। হাস্কিস্বরে বললো,
—’ বাকি কাপড় গুলোরও দরকার নেই আজ রাতে । ধরা-ছোঁয়ার আগে চোখ ভরে তোকে দেখতে চাই আজকে…কোনো কিছুতে বাঁধা দিবিনা, কেমন ? আজ আমার কথা চলবে আজ গোটাটা রাত। বাট ইউ ক্যান স্ক্রিম… কাঁদাবো আজ তোকে, তবে আজকের কান্নায় আক্ষেপ কম, আবেশ বেশি থাকবে । But, at first call my name… Say ‘ঈশান’।
ঈশানের একটানে বলা কথাগুলোর পরিপ্রেক্ষিতে চোখজোড়া খুললো তিতির। ঈশান খেয়াল করলো মেয়েটার চোখজোড়াও ঘোলা হয়ে এসেছে। নিয়ন্ত্রণের বাইরে গিয়েছে সে নিজেও। বুঝতে পারছে কি নিজে সেটা! তিতির আচমকা কেমন যেনো বদলে গেলো বুঝি। এতক্ষণ খামচে ধরে রাখা বিছানার চাদর ছেড়ে এক হাতে ঈশানের কলার টেনে আরও ঝুকিয়ে আনলো নিজের দিকে। ঘন নিঃশ্বাস দু’জনের।
—’ যদি না বলি? কি করবেন? কাছে টানবেন না?’
ঈশান ফিচেল হেসে একটানে তিতিরকে কোলে তুলে বসালো । দ্রুত হাতে গায়ে জড়িয়ে থাকা অবশিষ্ট শাড়ির অংশও টেনে খুলে ফেলতে ফেলতে বললো,
—’আমি কাছে টানবো? বল যে – তুই কাছে টানতে বলবি। কতবার বলবো আমার আদর চেয়ে কাঁদবি তুই। আর কয়েক মিনিট বাকি সেই মূহুর্তের। দেখতে চাস?’
ঈশানের হাত অবাধ্যতা শুরু করতেই আবার কুকঁড়ে উঠলো মেয়েটার তনু শরীর। ঈশান নিজের ঠোঁট তিতিরের ঠোঁটের এককোণে চেপে হিসহিসিয়ে আদেশ ছুড়লো,
—’Say it… তোর ভাগ্য ভালো নাম ধরে ডাকতে বলেছি। “ড্যাডি” ডাকাই নি। বাধ্য করিস না। ওটা ডাকাতেও না হলে বাধ্য করবো। বল এখন। Say your husband name babe. ‘
এক মূহুর্ত ইতস্তত করলেও ঈশানের মাতাল চাহনিতে বোধহয় হিপটোনাইজ হয়ে বসলো তিতির, শুকনো ঢোক গিলে বললো,
—’ ঈ-ঈ-ঈশাআন…’
ঈশান সন্তুষ্ট হলো বড্ড। শব্দ করে তিতিরের কানের লতিতে চুমু খেয়ে শীতল গলায় বললো,
—’ That’s like a good girl… বলেছিলাম না আমার নামের তসবি পরাবো । তার আগে নামটা মুখে নিতে হবে তো…Say it again। যদিও একটু পর
আমার আর জোর করতে হবে না । আমার নামের চিৎকার খুশি মনেই করবি তুই। আর একবার ডাক নাম ধরে।’
তিতির বাধ্য মেয়ে। ব্যাকুল স্বরে ডাকলো ঈশানের নাম। তিতিরের মুখে এই প্রথম বুঝি নিজের নাম শুনলো! হিসহিসিয়ে বললো,
—’আজ রাতে ভাই ডাকলে –কাল সকালে জ্ঞান ফেরাবো আরেক দফা আদর দিয়ে। ওয়ার্নিং দিলাম কিন্তু। জাস্ট স্ক্রিম উইথ মাই নেইম। ওনলি ‘ঈশান। গট ইট?’
জড়তার সাথে মাথা ওপর নিচ করলো তিতির। প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই ঈশানের হাত মেয়েটার চোয়াল ছেড়ে নেমে এলো কন্ঠদেশের নিম্নাশের কোমল অঙ্গে। দেহের উপরিভাগের সম্ভ্রম সব সরিয়ে ফেলা হয়েছে অনেক আগেই। বাকিসবও সরে গেলো খানিক সময়ের মধ্যে।
ঈশানের হাতের অবাধ্যতায় আবেশে, যন্ত্রনায় মাথা হেলে গেলো পিছনে দিকে। অস্ফুটস্বরে বললো,
—’ম-মেরে ফেলবেন আপনি আজ আমাকে…’
ঈশানের হাসলো। হাতের কাজ অব্যহত রেখে ফিসফিস করে বললো,
—’ মরবো, মারবো দু’টোই…আজ রাতে আমাদের দু’জনেরই মরণ হবে।’
সময় গড়িয়ে গিয়েছে অনেকক্ষণ। না তো বাইরের বৃষ্টির বেগ একফোঁটা কমছে, আর না তো এদিকে ঈশানের উন্মাদনা। গোটা শরীরে কেউ যেনো আগুন ধরিয়ে দিচ্ছে মেয়েটার। কিশোরির বক্ষবিভাজন থেকে তৃপ্ত ওষ্ঠজোড়া তুলে মুখ আর একটু নামতে যাবে তার আগেই নড়েচড়ে উঠলো তিতির। ঈশান তিতিরের হাত টা তুলে নিয়ে ছোঁয়ালো নিজের শার্টের বোতামে।
—’খোল এগুলো।’
তিতির কাঁপা হাতে খুলে ফেললো সবকটা বোতাম। ঈশান একটানে নিজের শরীর উন্মুক্ত করে ফেললো। গোটা শরীরের ভেইনগুলো ফুলেফেঁপে আছে। জিম করা পেটানো শরীর পুরো। নিজের দিকে ওভাবে চোখ বড় করে ঘোলা চোখে তাকিয়ে থাকা তিতিরকে উদ্দেশ্য করে বললো,
—’আর ইউ স্কেয়ার্ড! হু? এই শরীরের ভার আজ পুরোটা নিতে হবে তোকে। গোটাটা রাত। ‘
ধুকপুক, ধুকপুক, ধুকপুক। এতক্ষণে তীক্ষ্ণ শব্দে বজ্র পাত হচ্ছে বাইরে। তাঁবুর ভিতরে এক কোনায় শুধু একটিমাত্র হ্যারিকেন জ্বেলে রাখা। হলুদ আলো দু’দুটো নগ্ন শরীরে আভা ফেলছে। একে অপরের ওপর মাতাল হচ্ছে দুই মানব মানবি। তিতিরের তুলতুলে উদরের ওপর ভেজা ঠোঁটের স্পর্শ পেতেই দু পা খামচে ধরলো বিছানার চাদর। ঈশান ধীরে ধীরে নেমে এলো একদম পায়ের কাছে। তিতিরের পা জোড়ায় মুখ নামিয়ে চুমু আঁকলো। বিনাবাক্য ব্যায়ে মোমের মতো পা থেকে তার পরানো সেই নূপুর জোড়া খুলে ফেললো। হাস্কিস্বরে বললো,
—’ আজ তোর গোটাদেহজুড়ে আমার বিচরণ থাকবে। আর কিছু না। শুধু আমার। ঈশান আরশাদ দেওয়ানের। প্রতিটা ভাজে আমার ঠোঁটের সিলমোহর বসাবো। তোর নারীত্ব আজ আমার নামে লিখে দিবি তুই। আমার আদরে, আমার কাজে ঝামেলা করবে এমন কোনো কৃত্রিম প্রসাধনী, অলংকার কিচ্ছু থাকবে না এই দেহে। এই নারীর মন, দেহ সব আমার,শুধু আমার। ‘
আবেশিত হচ্ছে বারবার তিতির। অন্যরকম ঈশানকে আজকাল নিয়মিত দেখে সে। সারাজীবন যে মানুষটাকে দেখে এসেছে, যে ঈশান ভাইকে চিনে এসেছে। এমনকি বিয়ের শুরুর দিনগুলো যে মানুষটার সাথে সংসার করেছে –সেই এই মানুষটা নয়। হতেই পারে না। সেই খিটখিটে, দয়ামায়াহীন পুরুষটার মনটা যে আদতে কেমন। সেটা বুঝি তিতিরই প্রথম আবিষ্কার করলো?
তিতিরের সর্বাঙ্গ জুড়ে তার অসভ্য পুরুষের অসভ্য ছোঁয়া। মেয়েটা রীতিমতো কাতরাচ্ছে এখন। গুঙিয়ে উঠছে বারংবার। নারীত্ব জাগ্রত হয়ে অস্থির করছে তাকে। তার এমন আবেদনময়ী কন্ঠস্বরের শিৎকারে বাঁধ ভাঙছে ঈশানের। তিতির এই মূহুর্তে ঈশানের গভীর ছোঁয়া পেতে মরিয়া ম। ঈশান গভীরে টানছে না তাকে। অথচ নারী হয়েও আজ সে নিজেই ক্লান্ত, উন্মাদ। ঈশানের উন্মাদ স্পর্শগুলো অনূভব করে হুশ খুয়িয়েছে। ডাঙ্গায় ওঠা মাছ যেমন পানির স্পর্শ পেতে ছটফট করে, তিতিরের অবস্থাও তাই। ধনুকের মতো বাঁকানো কোমড় ঈশানের হাতের চাপে বিছানায় লেপটে আছে। দুই পা ভাজ করে খামচে ধরা চাদর। নখ সেই কখন ঈশানের পিঠে গেঁথে আছে তার হিসেব দু’জনে কেই বা রেখেছে।
আচমকা তিতিরকে ছেড়ে উঠে বসলো ঈশান। হাতের উল্টো পিঠে ঠোঁট মুছতে মুছতে বড্ড স্বাভাবিক গলায় বললো,
—’অনেক রাত হয়েছে। এই ঝড়বৃষ্টির রাতে আর রাত জাগা উচিত নয়। উই স্যুড স্লিপ।’
ঈশানের কথাটা শেষ হওয়ার সাথে সাথে আকাশ ভেঙে আরও একটা বজ্রপাত হলে। পরপর কয়েকটা। একই রকম বজ্রপাত এদিকে তাঁবুর ভিতরে তিতিরের মাথায় পরলো যেনো। সে রীতিমতো হাপাচ্ছে। ঘেমে-নেয়ে একাকার শরীরের ওপর ঈশান পাশ থেকে একটা শুকনো শাড়ি এনে ঢেকে দিলো। তিতিরকে কিছু বলার সুযোগ না দিয়ে অদূরে পরে থাকা নিজের প্যান্ট টা টানতে যাবে তার আগেই শোনা গেলো তিতিরের কন্ঠস্বর। শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে মেয়েটার এখনো। কোনোমতে বললো,
—’ক-কি হলো?’
ছেলেটা নিজেও হাপাচ্ছিলোই তবে কেনোমতো নিজেকে সামলে নিয়ে নির্বিকার কন্ঠে বললো,
—’কি হবে?’
—’এভাবে সরে গেলেন কেনো?’
—’ঘুমাবি না?’
কি অবাক করা কথাবার্তা। ঘুম! এখানে এই মূহুর্তে ঘুম এলো কোথা থেকে। তিতির নিজের শরীরের দিকে তাকালো। একটা সুতোর নেই। হাতে থাকা শাড়িটা কোলের ওপর নিয়ে শরীর সামান্য ঢাকতে ঢাকতে জোরে জোরে শ্বাস নিয়ে বললো,
—’এতক্ষণ কি এগুলো ঘুমের প্রস্তুতি চলছিলো আমাদের? ‘
—’নয়? তাহলে? কিসের প্রস্তুতি এগুলো?’
—’কি হয়ছে আপনার?’
—’নাথিং! শরীর ঠিক আছে তোর?’
—’শরীর? ‘
—’হু।’
—’পিরিয়ড? ‘
—’নেই।’
—’ওহ্। আচ্ছা। ফ্রেশ হবি কি? নিয়ে যাবো?’
ঈশান পাগল হয়ে গেলো কিনা মাথায় খেললো না তিতিরের। মুখ অন্ধকার হয়ে এলো মেয়েটার । আশ্চর্যতার চূড়ান্তে সে। শরীর ঝিমঝিম করছে, কাঁপছে এখনো। শ্বাস নিতে পারছে না। চোখ নিভু নিভু হয়ে আসছে। ঈশানকে কাছে পেতে মরিয়া। নিজের সবটুকু সপে দিতে মরিয়া। অথচ লোকটার এহেন কি ধরনের ব্যবহার!
হুট করে মাথায় এলো কিছু একটা। ঈশানের এমন করার কারণ হতে পারে একটাই। বাঁকা হাসলো তিতির। কেনো ভুল নেই তার ধারনায়। ঈশান কি চাইছে, কেনো দূরে সরালো বুঝে গেলো তিতির।
ঈশান সামনে বসা এখনো। নিজের গায়েও কাপড় জড়াচ্ছে না। তিতির শাড়িটা আলগা করে নিজের গায়ে ভালেমতো জড়িয়ে বললো,
—’ আপনার টি শার্ট ওইতো টেবিলের ওপরে রাখা। ওগুলো শুকনো। পরে নিন। আমি শুয়ে পরলাম। ডিনার ওখানেই আছে। খেয়ে নেবেন। ফ্রেশ হতে হবে না আমার। যেটা হলে ফ্রেশ হতে হয়,সেরকম কিছু তো আর হয়নি। তাইনা?’’
ঈশানের ভ্রুজোড়া কুচকে এলো। কি ভাবলো আর কি হলে। মেয়েটা বড্ড সেয়ানা। নাকি গাধা? টের পেলো না ঈশান। তবে আঁধার হয়ে থাকা মুখে একমিনিটও স্থায়ী হতে হলো না তাকে। পেশল উদরের ছয়খন্ডের কারুকার্যে কে একটা হাত ছুঁয়িয়ে দিলো। ঈশান ফট করে মাথা নোয়াতেই চোখে পরলো তার পেটের ওপর রাখা কোমল হাতটা। ফর্শা হাতটা আঁকিবুঁকি করছে সেখানে। তার উত্তপ্ত নগ্ন পিঠের সাথে লেপটে গেছে আরও একটা নগ্ন বক্ষজোড়া। চোখ বন্ধ করে ফেললো ঈশান, অস্ফুটস্বরে কি যেনো বললো একটা। তিতির নাক ঘষলো ঈশানের পিঠে। আবেদনময়ী গলায় বললো,
—’কি চাইছেন? আমি চেয়ে নেই আপনার আদর? এতদিন আমি দূরে সরিয়েছি। সেই প্রতিশোধ বুঝি এটা? ‘
যাক, মেয়েটা টের পেয়েছে তাহলে। ঈশান হাস্কিস্বরে বললো,
—’তিতির… ‘
—’হু।’
—’কিভাবে জড়িয়ে ধরেছিস বুঝতে পারছিস?’
—’না পারার কি আছে? ইচ্ছে করেই ধরেছি…’
—’উফফফ্। তিতির…’
তিতিরের হাতের স্পর্শ এলেমেলো জায়গায় এগিয়ে যাচ্ছে। তিতির আচমকাই ঘুরে এসে ঈশানের কোলের ওপর বসলো। ঈশানের গলা চিড়ে বিরবির করে এলেমেলো কিছু শব্দ বের হলো মেয়েটার এহেন কাজে। দাঁতে ঠোঁট কামড়ে চেপে ধরলো তিতিরের নগ্ন কোমড়।তিতিরের হাত বিচরণ করছে ঈশানের উন্মুক্ত বুক, পেট, কাধ সবেতে। ফিচেল গলায় বললো,
—’কেমন লাগছে আগুনের স্পর্শ? হু? আমাকে উন্মাদ করে নিজে থেকে চেয়ে নিতে বলেছিলেন না? চাইছি এখন। আদর করুন আমাকে। যতটা কাছে এসে আদর করলে দুনিয়ার সব ভুলে যাবো ওই মূহুর্তে। ঠিক ততটা আদর। আই নিড ইউ, ঈশান। জ্বলে যাচ্ছি, পুড়ে যাচ্ছি। লাভ মি । প্লিইজ।’
ঈশানের ধৈর্য্য আর হলো না। এই অভিনয়টা চালিয়ে নেওয়া তার পক্ষে সম্ভব নয়। এই মূহুর্তে তো একদমই নয়। ঈশানের শরীরে ঘাম ছেড়ে দিয়েছে। তিতিরের চোখজোড়ার অন্তর্ভেদী দৃষ্টি আজকে সর্বনাশের ইঙ্গিত দিচ্ছে। হোক সর্বনাশ! এটা তো হওয়ারই ছিলো। আরও বহু আগেই। এতোদিন ধৈর্য ধরে ছিলো মেয়েটার নিজ মুখে ওই কথাটা শুনতে। ঈশানের নিজের দু’হাতে চেপে রাখা তিতিরের কোমড়ের নিচের অংশ। কোমড় উঁচিয়ে একই জায়গায় আবার বসিয়ে হাস্কিস্বরে বললো,
—’ আর ইউ কমফোর্টেবল ইন দিস পজিশন. ওর ওয়ানা স্টে বিলো মি? ফর আওয়ার ফার্স্ট টাইম, হুইচ ওয়ান উড ইউ প্রেফার?’
কথাটা বলেই তিতিরের কোমড়ের নিচের আপত্তিকর অংশে আলতো আঘাত করতেই, ঈশানের গ্রীবাদেশে মুখ লুকালো তিতির। ঈশান আর সময় নষ্ট করলো না, সম্ভবই নয়। এক হাতে তিতিরকে বিছানায় ফেলে নিজেই ঝুঁকে এলো ওপরে। পুনরায় অধরসুধা পানে মত্ত হলো নিগুঢ় ভাবে। এবারে ঈশানের সাথে তাল তাল মেলাতে মরিয়া তিতির। দু’জনের কেউ-ই বোধহয় বাদবাকি কোনো হিসেব করার মনমানসিকতায়ই নেই। তিতিরের বক্ষ জোড়ার ভাজে শব্দ করে চুমু খেয়ে এক হাতে আকড়ে ধরলো তিতিরের গ্রীবাদেশ। অন্য হাতে বিছানার সাথে কোমড় চেপে ধরে হাপাতে হাপাতে কামুক গলায় বললো,
—’ বুঝে অনুমতি দিস কিন্তু। এতোদিনের তৃষ্ণার্ত মানবকে জলের সন্ধান দিয়েছিস। ডুববো,ডুবাবো। পুড়বো, সাথে তোকেও পুড়িয়ে অঙ্গার করবো।’
তিতির ফিসফিসিয়ে বললো,
—’চাই, আপনাকে চাই। আমার সব আপনার নামে করে দিতে চাই। পূর্ণ করুন আমার নারীত্ব। স্বামীর অধিকার আজ পুরোটা আপনার।’
—’ কিছু একটা করে ফেলবো এখন। ইফ ইউ কান্ট টেক দিস পেইন, বাইট মাই সোলডার। ওকেই?’
ঈশানের দৃষ্টিতে দৃষ্টি মেলানো মেয়েটার। মন্ত্রমুগ্ধের মতো ঠোঁট জোড়া খুলে জোরে জোরে শ্বাস ফেললো। মাথা নাড়লো আলতো করে। আবেশে উঁচু হয়ে আসা ধনুকের মতো কোমড়টা পুনরায় চেপে ধরতে ধরতে হাস্কি গলায় যেনো আদেশ ছুড়লো ঈশান,
—’ বেইব, জাস্ট হোল্ড ইও্যর ব্রেথ। অ্যান্ড লেট মি লাভ ইউ অ্যান্ড…’
মুখে একরাশ অশালীন হাসি এসে বিরাজ করলো ঈশানের। জিবে ঠোঁট ভিজিয়ে অ্যানেসথেশিয়ার মতো কাজটা করতে করতে বললো,
—’ অ্যান্ড লেট মি… কথাটা কি মুখে বলতে হবে? উফফ্ ইগনোর ইট। জাস্ট হোল্ট ইও্যর ব্রেথ ফর আ সিংগেল মোমেন্ট,বেইব । ইট’স টাইম টু টেক মি ইনসাইড ইউ। হোল্ড অন… ‘
সিলেটের মাটিতে বিগত কয়েক বছরেরও সম্ভবত আজকের মতো বৃষ্টি একবারও হয়নি। কয়েক বছরের বর্ষন বোধহয় আজ এই একদিনে হচ্ছে। ঝড়ো হাওয়া, সঙ্গে আকাশ-পাতাল এক করে একের পর এক বজ্রপাত। তাঁবুর ওপরে আছড়ে পরা তীব্র শব্দগুলোকে ছাপিয়ে একটা চিৎকারই উচ্চারণ হলো বোধহয়।
—’ঈ-ঈশাআন।’
মেয়েটার শুকনো নেত্রপল্লব অশ্রুসিক্ত হলো মূহুর্তেই। বাঁধ ভেঙে গড়িয়ে পরলো নোনাজল। সেদিকে একনজর তাকিয়ে একদম ঝুঁকে, মিশে এলো তিতিরের বুকের সাথে। আদতে নিজের হাতটা এগিয়ে দিলো তিতিরকে। দমকা হাওয়ার নড়াচড়া করছে তাঁবু। নদীর পানি ভয়ানকভাবে আন্দোলিত হচ্ছে স্পষ্ট শোনা যাচ্ছে সে শব্দ। দু হাতের নখ ঈশানের পিঠে গেথে গিয়েছে একদম।
উন্মাদনার তালে নিজের হাত ইশারা করে একটা কথাই বলতে পারলো তিতিরকে,
—’ পেইন হচ্ছে? দ্যান জাস্ট বাইট মি, বেইব।’
শ্বাস আটকে এলো তিতিরের। ঈশানের ঠোঁট তার কাঁধ স্পর্শ করতেই ব্যাথার ভুলতে, নিজেকে সামলাতে সেও কামড়ে ধরলো ঈশানের হাতের অংশ। এতো তীব্র দংশনেরও কোনো ভাবাবেগ হলো না ঈশানের। উল্টো উন্মাদনার গতি বাড়লো বোধহয়। পিঠে গেথে থাকা তিতিরের দু হাত নিজের হাতের মুঠোয় নিয়ে মাথার ওপর চেপে ধরলো। আলতে হাতে মেয়েটার মোমের মতো পা টা নিজের কোমড়ে তুলে দিতে দিতে বললো,
—’ ইজ দ্যাট পজিশন ওকেই? অর ওয়ানা কাম ওভার মি? হাহ্? ক্যান ইউ ফিল ইট?’
নারী দেহ ঝংকার তুলে দোদুল্যমান হয়ে আছে। বাইরের শব্দ ছাপিয়ে উচ্চস্বরে বলা ঈশানের কথা জবাব দিতে পারলো না তিতির। তার গলা চিড়ে এই মূহুর্তে গোঙানি ছাড়া কিচ্ছু শোনা গেলো না। রক্তাভ মুখটা এখন কেমন নীল হয়ে আসছে। ঈশান শান্ত হলো খানিকটা, ব্যাস্ত গলায় বললো,
—’থেমে যাবো, তিতির? ইজ ইট হার্টিং মোর?’
চোখের পানি বাঁধ মানলো না তিতিরের। নিজের অবশ হয়ে আসা হাতটা ঈশানের হাত থেকে ছাড়া পেতেই আকড়ে ধরলো ঈশানের গ্রীবাদেশ। ভাঙা গলায় কোনোমতে বললো,
সাঁঝের মায়া আকাশপ্রিয়া ক্রসওভার পর্ব
—’ নাহ্…আ-আমি ঠিক আছি। নেশা চড়িয়ে এখন দূরে সরছেন ক্যানো? আপনি… আপনাকে চাই আমি। লাভ মি মোর।’
ঈশান সন্তুষ্ট হলো ভীষন। এক ঝটকায় তিতিরের মাথা থেকে বালিশটা সরিয়ে হিসহিসিয়ে বললো,
—’বেড হাইট ডিসটার্ব করছে। বালিশটা আরও। নাউ ওকেই আই থিং। রেসপন্স কর, বেইব। প্লিইজ। জাস্ট রেসপন্স! ‘
