Home সাঁঝের মায়া সাঁঝের মায়া পর্ব ৫

সাঁঝের মায়া পর্ব ৫

সাঁঝের মায়া পর্ব ৫
দুর এ দিলশাদ্ দুআা

ভোর ৫ টা বেজে ১৩।
কমলাপুর রেলস্টেশনে দাড়িয়ে আছে তিতির আর রাহাত।৫ টা বেজে ৩০ এ তার ট্রেন।বেশ কিছুক্ষণ আগেই পৌছেছে দুজন।
রাহাত বারবার বলছে সে পৌছে দিয়ে আসতে চায় তিতির কে।তিতির এর সাথে এতো জিনিসপত্র। মেয়েটা একা সব ম্যানেজ করতে পারবে বলে রাহাত এর মনে হচ্ছে না।
“আমি তোমাদের স্টেশন অবধি যাই কেমন।এতো জিনিসপত্র তুমি নামাতে পারবে না।”
তিতির হাসিমুখে তাকায় রাহাতের দিকে।

“রাহাত ভাই,আপনি অযথা এতো চিন্তা করছেন।জিনিসপত্র তো তুলেই দিয়ে যাচ্ছেন। তুলতে তো আর আমার সমস্যা হলো না।আর রইলো বাকি নামানোর কথা।সেটাও সমস্যা হবে না।আমার ফ্যামিলি মেম্বাররা অপেক্ষা করবে স্টেশনে।তারা নামিয়ে নেবে।আপনি এতো টেনশন করবে না না তো।”
তিতির এর কথায় রাহাত মোটেও ভরসা পাচ্ছে না।টানা ১৪-১৫ ঘন্টার ট্রেন জার্নি,নিশ্চয়ই পৌছুতে সন্ধ্যা হবে।আরও রাতও হওয়ার দারুণ সম্ভাবনা রয়েছে।একা একটা মেয়েকে এভাবে সে কি করে একা ছেড়ে দেবে।
রাহাত আবার ব্যাস্ত হয়ে বোঝাতে যায় তিতির কে।
“সেটা তো বুঝলাম তিতির।কিন্তু তোমার তো পৌছুতে অনেক রাত হয়ে যাবে।একা একা… ”
রাহাত কথাটা শেষ করতে পারেনা।তার আগেই তিতির আবার বলে ওঠে।

“আপনি অযথা এতো টেনশন করছেন রাহাত ভাই,একবার ট্রেনে উঠে পরলে আর কিসের সমস্যা। আপনি প্লিজ টেনশন করবেন না।তাছাড়া আজকে কাল আপনার চাকরির ইন্টারভিউ আছে।আর আপনি আমার সাথে সময় নষ্ট করছেন!এটা কিন্তু ঠিক নয়।ভালো চাকরি না করলে কিন্তু আমাকে বিয়ে দেবে।হুম্ বলে রাখলাম কিন্তু। ”
রাহাত মাথার পিছনে হেসে হাত দেয়।শব্দ করে হেসে ফেলে তিতির এর কথায়।
“তা ঠিল তা ঠিক।ম্যাডাম কে ঘরে তুলতে অবশ্যই আমাকে আগে যৌগ্য হতে হবে।বেশ গেলাম না আজ।তবে আমাকে কিন্তু সময় মতো আপডেট দিতে হবো কতদূর পৌছুলে…”
তিতির একগাল হেসে মাথা নাড়লো,
“দেবো ”

কথার মাঝেই ট্রেনের শব্দ শুনতে পাওয়া গেলো।ট্রেন চলে এসেছে।কুলি ঠিক করাই ছিলো দুজন।রাহাত আর দুজন কুলি মিলে তিতির এর সব মালপত্র সঠিক কামড়ায় পৌছে দিলো।তিতির কে সঠিক সিটে বসিয়ে রাহাত বেড়িয়ে এলো।দাড়ালো তিতির এর জানালার কাছে।
চোখ ছলছল করছে মানুষ টার।তিতির এর দারুণ মায়া হলো এবার।এখানে আসার পর সেই প্রথম দিনেই পরিচয় হয়েছিলো রাহাত এর সাথে তার।তখন তিতির হাই স্কুলে আর রাহাত ভার্সিটি তে।তারপর থেকে সবসময় আলাদা কেয়ার করতো সে।কখনো কোনো সমস্যায় পরতে হয়নি।রাহাতই সামলে নিয়েছে সবটা।
রাহাত এর বুকের ভিতর দুমড়েমুচড়ে যেতে চাচ্ছে।এমন তো নয় তিতির এর আগে এতোদিনের জন্য বাড়ি যায় নি।গিয়েছে।বেশ কয়েকবারই গিয়েছে।তিতির কে সে ভালোবাসে ৬ বছর প্রায়।তিতির যখন এ শহরে আসে মেয়েটা তারই ভার্সিটির লাগোয়া স্কুলে ক্লাস নাইন এ ভর্তি হয়।প্রথম দিনেই ভালো লাগে মেয়েটাকে।
পরীর মতো একটা মেয়ে। মায়াবী,থমকে তাকিয়ে থাকতে মন চায়।তারপর থেকে অনেক বছর কেটে গেছে,তার মেয়েটার প্রতি ভালোবাসা বেড়েছে,মেয়েটা বড় হয়েছে এখন,সে তার ভালোবাসা প্রকাশও করলো।সব কিছু ঠিক থাকলে ইনশাআল্লাহ এর পরের বার যখন সে এ শহরে ফিরবে তার বউ হয়ে আসবে।তাহলে এতো জ্বলছে কেনো বুকের ভিতর টায়।মনে হচ্ছে কি যেনো একটা নেই,হারিয়ে যাচ্ছে।ইশশশ খুব করে ইচ্ছে করছে মেয়েটাকে একবার জড়িয়ে ধরতে,কেনো মনে হচ্ছে এ বুকটা শান্ত হবে না কোনোদিন, ওই মাথাটা এ বুকের ওপর আশ্রয় নেবে না কখনো।প্রিয়তমাকে একবার বুকের ওপর জাপটে ধরতে মন চাচ্ছে খুব,মনটা কেনো বলছে আলোকবর্ষ দুরত্বে চলেমযাচ্ছেৃতার প্রেয়সী!ছিহ্ কিসব উল্টাপাল্টা ভাবছি।রাহাত কয়েকদফা নিজেকে ধমক লাগায়।তিতির তার দিকেই তাকিয়ে ছিলো।

জানালার গ্রিলে রাহাতের হাতের ওপর হাত রাখলো সে।ধীর গলায় বললো,
“রাহাত ভাই,চিন্তা করবেন না।আমি সাবধানে যাবো। ”
রাহাত মৃদু হাসে।হাতের ওপর নিজের আরেক হাত রাখে।
“সাবধানে যাবে,ইনশাআল্লাহ আমি আসবো আমার মা কে নিয়ে, অপেক্ষা করবে কেমন?”
তিতির মাথা ঝাকিয়ে সম্মতি দেয়…ট্রেন ছেড়ে দিয়েছে।রাহাত হাত ছেড়ে দূরে সরে দাড়ায়।রাহাত অসহায় ছলছল চোখে তাকিয়ে রয়,তিতির হাত নেড়ে বিদায় নেয়।
রাহাত চলন্ত ট্রেনের সাথে কয়েক কদম জোর পায়ে হেটে আসে।কোনো এক অচেনা বাতাস তার কানেকানে আজ তিতির কে বিদায় জানাতে নিষেধ করছে।কিন্তু কেনো!

নিচ থেকে মা চাচিদের উচ্চস্বরে চিৎকার চেচামেচির শব্দ কানে এসে বিরক্ত লাগছো।
অসময়ে অস্বাভাবিক হাঁক ডাকের কারণ বুঝলো না ইশান।ঘুম টা ছুটে গেলো।।কপাল কুঁচকিয়ে সিলিং এর দিকে তাকিয়ে রইলো কিছুক্ষণ
বাড়ির সবাই একসাথে মেতেছে টা কি নিয়ে। আজ শুক্রবার, সবাই বাড়িতে।এর জন্য কি!নাহ্ তাও তো এতো সকালেই এতো শোরগোল হবা রকথা না।বেড সাইট টেবিল থেকে ফোন হাত নিো।সকাল ৯ টা।এ বাড়ির ব্রেকফাস্ট এর টাইম এটা।ছোটবড় সবাই একসাথে ব্রেকফাস্ট করে।তার ক্ষেত্রে বিষয়টা যদিও আলাদা।সে বাড়ি আসার পর একদিনও সময় মতো কারোর সাথে ব্রেকফাস্ট করে উঠতে পারেনি।তাছাড়া চন্দ্রা দেওয়ান এ কয়দিনে একদিনও খাবার টেবিল এ আসেননি।কারণ টা কেউ জানেনা।প্রশ্ন করলেও আগের মতোই কিছু হয়নি বলে কাটিয়ে দিয়েছেন।ইশান উঠে বসলো বিছানায়।উদাম শরীরে ঘাম জমেছে।এসির টা আবার কখন বন্ধ করেছে সে।হাত বাড়িয়ে এসি অন করলো।দু হাতে মাথা ভর্তি চুল গুলো পিছনে ব্যাকব্রাশ করলো কয়েকবার।গায়ের চাদর সরিয়ে উঠে দাড়ালো।ফ্রেশ হয়ে নিচে গিয়ে দেখবে সকাল সকালই এতো কিসের হৈ হুল্লোড়।
আধ ঘন্টায় ফ্রেশ হয়ে, টি শার্ট পড়ে একদম ফিটফাট হয়ে নিচে নামার জন্য পা বাড়ালো।দরজা খোলার আগেই দরজায় জোরে জোরে করাঘাত পরতে শুরু করলো।শব্দ শুনেই বোঝা যাচ্ছে,বাচ্চাগুলোর কাজ।এগিয়ে এসে দরজা খুলে দিলো।ঠিকই ধরেছে সে।রোশনি,রিশা আর রাফি দাড়িয়ে আছে।তাকে দরজা খুলতে দেখেই একেকটা ঝাঁপিয়ে পরলো তার ওপর।ইশান দু হাত আগলে নিলো ভাইবোন গুলোকে।
নরম গলায় জিজ্ঞেস করলো,

“বাড়িতে মাছের বাজারের তোরাই নিশ্চয়ই বিক্রেতা”
তিনজনের কেউ বুঝতে পারলো না।ফ্যালফ্যাল চোখে তাকিয়ে রইলো।
“আজ তো মাছ রান্না হবে না বড় ভাইয়া,মাংস রান্না হচ্ছে, বিরিয়ানিও হচ্ছে। তিতির ছোট আপুর আবার মাংস পছন্দ কিনা।”
রোশনির কথায় চোখ কুচকে তাকালো ইশান।কিছু জিজ্ঞেস করার আগেই বাড়ির বড় বিচ্ছু দুটোকে ছুটে আসতে দেখা গেলো।নূরি আর নিশি একসাথে এসে দাড়ালো তিনজনের পিছনে।মুখে একগাল হাসি।
তাদের দুজনকে হাসতে দেখে ইশানও ভ্রু উঁচু করে প্রশ্নাত্মক ভঙ্গি করলো।
“তিতির আসছে ভাইয়া,ওরা তিতির এর কথাই বলছে।”

নূরির কথায় বিস্মিত হলো ইশান।তিতির এর কথাটা ভুলেই গেছিলো সে।তার যে আরেকটা বোন আছে এটা মাথা থেকেই বেরিয়ে গেছিলো।মনে থাকতই বা কিভাবে।একই বাড়িতে থাকলেও বিগত ৮-১০ বছরের তাদের ৮-১০ বার ও দেখা হয়েছে কি না মনে পরে না।তার আগেও বাড়িতে যখন থাকতো তারা,ছোট ছিলো অনেকটা মেয়েটা বাকিগুলোর মতো চঞ্চল ছিলো না কোনো কালেই।সে নিজেও হৈ হুল্লোড় করতো না।যে ভাইবোন গুলো তার কাছে আসতো তাদেরই সময় দিতো,বাকিদের কাছে নিজে গিয়ে কথা বলা হতো না।বাড়িভর্তি সব ভাইবোন গুলোই ইশানের দারুণ ভক্ত,পিছুন পিছন ঘুরতো সবসময়। শুধু মাত্র তিতির বাদে।তারপর ইশান কলেজে ওঠার পর হোস্টেল এ চলে গেলে বছরে ২-৩ বার যা বাড়ি আসতো দু একদিনের জন্য তিতির এর সাথে দেখা হতো না বলা চলে।এবারও একইরকম ভাবে এসে না দেখে ওর মাথা থেকে বেড়িয়েই গিয়েছে তিতির এর ব্যাপার টা।
ঈশানের চুপ করে থাকা দেখে নিশি এসে হাত ধরে টানলো নিচে যাওয়ার জন্য।

“ভাইয়া চলো।ব্রেকফাস্ট করবো।”
পাশ থেকে নূরি এসে আবদারের গলায় বললো
“ভাইয়া আমরা কিন্তু বার্বি কে আনতে স্টেশনে যাবো বলে দিলাম,বড় বাবা নিষেধ করেছে,কিন্তু আমরা যাবোই।তুমি রাজি করাবে।”
তিতির টা দেখতে পুতুল এর মতো।বাড়ির সবাই কমবেশি আলাদা আলাদা আদরের নামেই ডাকে।কেউ বার্বি,কেউ পুতুল,কেউ মণি… সবার ভিষন আদরের।
ইশানও মাথা নাড়লো।
“উহু,সবার এতো যাওয়ার দরকার কি!কেউ একজন গিয়ে নিয়ে আসুক।তাছাড়া বাড়িতেই তো আসছে।স্টেশন এ গিয়ে বসে থাকতে হবো কেনো।”
ইশানের কথা একজনেরও পছন্দ হলো না।
রিশা মুখ ফুলিয়ে জবাব দিলো।
“বাড়ে কাল ছোটপুর জন্মদিন কীনা।বড় বাবা বলেছে রাস্তায় কি একটা প্রবলেম। ছোটপুর ট্রেন আসতে আসতে অনেক রাত হবে।আমরা তো চাচ্ছি রাত ১২ টা বেজে যাক।আমরা স্টেশনে গিয়ে সারপ্রাইজ দিবো।”
ইশান বিচ্ছুগুলোর প্ল্যান শুনে হতাশায় মাথা নাড়ে।মাথা না আর কিছু।সামান্য সারপ্রাইজ দিতে এরা নাকি চাইছে রাত বারোটা বাজুক রাস্তাাতেই।ভাবা যায়!
নিশি পাশ থেকে গাট্টা মারে মাথায় রিশার।ধমক দিয়ে বলে,

“গাধা,রাত বারোটা মানে বুঝিস?ও একা একট মেয়ে,ট্রেনে উঠেছে ভোরে,যদি এতো ডিলে কোরে পৌঁছয় ভয় পাবে না ও?ও কতটা ক্লান্ত হয়ে যাবে বুঝিস!”
রিশা বিষয়টা বুঝতে পেরে মাথা ঝাঁকালো।সত্যি তো।ছোটপুর জন্য কষ্টই হচ্ছে।
ইশান শিড়ি বেয়ে নামতে থাকে।দু পকেটে হাত গুজে।দু হাত দুপাশ থেকে নিশি আর নূরি ধরে আছে।বারবার ঝাকাচ্ছে যেনো নিচে গিয়ো বড়দের রাজি করায় রাতে তিতির কে আনতে যাওয়ার জন্য।
ছোট তিনটাও পিছন পিছন শার্টের অংশ ধরে ধরে আসছে।
ওদের ওভাবে ইশানকে পাকড়াও করে আনতে দেখে বাড়ির বড়রা হো হো করে হেসে উঠলো।
রাহেলা দেওয়ান টেবিলে প্লেট সাজাতে সাজাতে ওদের দিকে তাকিয়ে বললেন।
“হ্যা রে ইশান।নিশ্চয়ই বড়সড় কোনো আবদার জুটিয়েছে।”
ইশান মাথা নাড়ে।এসে বসে ডায়নিং টেবিলএ।
ভাইবোন দের দিকে তাকিয়ে বলে

“এখন বস।যখন কার বিষয় তখন দেখা যাবে।”
সবগুলো হাততালি দিয়ে উঠলো।এসে বসলো যার যার আসনে।বড় ভাইয়া যখন বলেছে তার মানে নিয়ে যাবেই…
ইশান আশেপাশে নয়ন কে খুঁজলো। সবাইকে দেখতে পেলেও নয়ন নেই।মেজো মার দিকে তাকিয়ে প্রশ্ন করলো,
“মেজো মা,নয়ন কই।”
মেজা গিন্নি তখন গ্লাসে পানি ঢেলে দিচ্ছিলেন। মিটিমিটি হাসলো। ছেলের মন তিনি স্পষ্ট বোঝেন।আজ নয়ন যে দারুণ ব্যাস্ত থাকবেন এটা তার থেকে ভালো আর কেজানে।
পানির গ্লাস টা ইশান এর দিকে এগিয়ে দিতে দিতে।বললেন,
“আজ কি ওকে আর দেখা যাবে বড় আব্বা।ও তো আজ দুনিয়ার সবথেকে ব্যাস্ত মানুষ হয়ে যাবে।”
বাকি দু জা বিষয়টা বুঝলো।তারাও মিটিমিটি হাসতে লাগলো।
ইশান বুঝলো না সবার এমন রহস্যময় মিটিমিটি হাসির কারণ।প্রশ্ন চোখে তাকিয়ে রইলো।
ইশাণের কৌতুহল টের পেয়ে মেজো গিন্নি নিজেই উত্তর টা দিলেন,

“আজ তো নয়নের মণি আসছে রে।আজ তার কতো দায়িত্ব। এই দেখনা সকাল সকাল গিয়েছে তার পছন্দের জিনিস আনতে।ভোরে উঠে গিয়েছিলো ইলেকট্রনিক এর দোকানে।তিতির এর রুমের এসি টা নষ্ট হয়ে আছে।ওটা ঠিক করতে আসার লোক বলে এসেছে।এসেই আবার গেলো খাসির মাংস আনতে,তিতির টা আবার খাসির রেজালা পছন্দ করে কীনা…”

সাঁঝের মায়া পর্ব ৪

ইশান এতক্ষণ এ বিষয়টা বুঝতে পারলো।কিছু বললো না নিজে।সে ছাড়া বাকি সবার সাথেই তিতির এর দারুণ সম্পর্ক দেখা যাচ্ছে।মেয়েটা নিশ্চয়ই অনেিকটা বড় হয়ে গেছে।বাচ্চা বাচ্চা চেহারা ভেসে উঠলো চোখের সামনে।নূরি,নিশি যে বার্বি ডাকে ছোট বেলায় সত্যিই বার্বিই লাগতো।এখন কেমন হয়েছে মেয়েটা!আরও সুন্দর বুঝি!
খাওয়ায় মন দিলো সে।খাওয়ার পর একটু বের হবে।আসার পর বন্ধুদের সাথে দেখা করা হয়নি।

সাঁঝের মায়া পর্ব ৬