সুখময় যন্ত্রণা তুমি পর্ব ১৪৮+১৪৯
neelarahman
সাদাফ ঘোর লাগা দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে নূরের দিকে ।নুরের কেমন যেন অনুভূতি হচ্ছে ।আজকে নিজের বাড়িতে এভাবে সাদাফের ঘরে বসে সাদাফের চুল টেনে দিচ্ছে নুর।কিছুক্ষণ পর আমতা আমতা করে বললো,” চুলে তেল দিয়ে এখন আমি রুমে যাই ।”
সাদাফ বললো,” না যেতে হবে না।”
বলেই নূরের কোমর পেঁচিয়ে ধরে পেটে মুখ গুঁজে দিল সাদাব ।নূর যেন থ হয়ে গেল ।ঠিক এই জিনিসটা কে ভয় পাচ্ছিল নুর ।এখন কি করে যাবে রুমে।ভালো করে জানে নুর সাদাফ ওকে মোটেও যেতে দিবে না।
সাদাফের স্পর্শ ধীরে ধীরে গভীর হতে লাগলো ।সাদাফ মুখ তুলে তাকাল নুরের দিকে ।নূর তাকিয়ে আছে ঘোর লাগা দৃষ্টিতে সাদাফের দিকে ।কেমন যেন লাগছে সংকোচ বোধ হচ্ছে নূরের অনেক ।সবচাইতে বড় সংকোচ এটাই যে আজকে এই বাড়িতে সবাই আছে সাদাফের রুমে লজ্জা কাটাতে পারছে না নূর।
নুর আবার আমতা আমতা করে বললো,” প্লিজ যাই না আর তো মাত্র কয়েকটা দিন ।”
আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন
সাদাফ বললো ,”না আর কয়েকটা দিন কেন একটা দিন ও একটা মুহূর্ত আমি তোকে ছাড়া থাকবো না ।”
বলেই নূরকে ধীরে ধীরে বিছানায় শুইয়ে দিল সাদাফ।
সারাদিন আমাকে অনেক জ্বালা যন্ত্রণা দিয়েছিস অনেক প্যারায় রেখেছিস এখন তোর পালা শোধ বোধ করব ।”
বলেই নূরের ঠোঁট আঁকড়ে ধরল সাদাফ।
সকাল ৯ টা।দরজা নক করা শব্দে সাদাফের ঘুম ভেঙে গেল। নূরের দিকে তাকালো ।দেখলো নূরের মাত্র ঘুম ভে*ঙেছে ।চোখ পিটপিট করে তাকালো সাদাফের দিকে তাকিয়ে ঘুমো ঘুমো অবস্থায় বললো,” নূর যাকে যেন নক করছে যেয়ে দরজা খোল।
নুর অবাক হয়ে গেল ।সারারাত সাদাফের রুমে ছিল এখন বাহিরে কেউ নক করছে তার মানে এখন যেই হোক দেখে ফেলবে নূর এই রুমে ।নূর চেয়েছিল সকাল ভোরবেলা ঘুম থেকে উঠে চুপিচুপি চলে যাবে দেখবে না।
নুরের নিজের চুল নিজের ছিড়ে ফেলতে ইচ্ছে হচ্ছে ।নুর সাদাফের দিকে তাকিয়ে স্পষ্টভাবে না করে দিল । বললো,” আমি পারবো না আপনি যেয়ে দরজা খুলেন ।বারবার বলেছিলাম আমি রাতেই চলে যাই আপনি আমাকে যেতে দিলেন না।”
সাদাফ বললো,” তো কি হয়েছে নিজের স্বামীর ঘরে আছিস ।অন্য কারো ঘরে না ।যা তো যেয়ে দরজাটা খোল ।পা*গলামি করিস না ।যা প্লিজ।সারারাত আমি অনেক ক্লান্ত পরিশ্রম করেছি অনেক খাটিয়েছিস আমাকে ।এবার একটু ঘুমাতে দে প্লিজ যেয়ে দরজাটা খোল।”
নুর বললো,”আমি খাটিয়েছি মানে?
অসম্ভব আমি খুলতে পারবো না ।”
বলে ঘুম থেকে উঠে ওয়াশরুমের দিকে দৌড় দিল নুর ।সাদাফ অবাক হয়ে গেল ।কি আর করবে নিজেই উঠল ।উঠে ধীরে ধীরে দরজার দিকে এগিয়ে এগিয়ে দরজা খুলতেই নওরিন আফরোজ বললো ,”ঘুম থেকে উঠেছিস ?ও সরি ডিস্টার্ব করলাম তুই তো এত বেলা পর্যন্ত ঘুমাস না ।তাই আর কি ভাবলাম বলে …….এদিক ওদিক তাকাতে লাগলো ।”
সাদাফ বললো ,”কি হয়েছে কি দেখছো ?”
নওরিন আফরোজ বললেন,” নূর কোথায়? সবাই নিচে আছে নুরকে ওর রুমে পাঠা ।কেউ দেখবে না ।”
বলেই নওরিন আফরোজ চুপচাপ চলে গেল ।সাদাফ হাত দিয়ে মাথা চুলকাচ্ছে এই প্রথম মায়ের সামনে একটু লজ্জা পেল সাদাফ।এবার বুঝতে পারল নুর কেন ওয়াশরুমে দৌড় দিয়েছে।
সাদাফ দরজা লাগিয়ে ঘুরেই ওয়াশরুম পর্যন্ত গেল। দরজা নক করে বললো,” এবার বের হ চলে গিয়েছে ।”
ধীরে ধীরে ওয়াশরুমের দরজা খুললো নুর। বললো,” এখন কি হবে সবাই জেনে যাবে আমি এ রুমে ছিলাম ।সবকিছু আপনার জন্য।”
সাদাফ নূরের দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসলো ।হেসে নূরকে আরেকটু খ্যাপানোর জন্য বললো,” হ্যাঁ মা এসেছিল মা অলরেডি জেনে গিয়েছে তুই এখানে ।আর এখন সবাই সবকিছু জানবে এটাও জানবে তোর সাথে আমার রাতের বেলা সবকিছু হয়েছে।”
নূর সাদাফের দিকে তাকিয়ে বললো,” ছিঃ। আপনি এত বাজে লোক ।”
বলেই সাদাবকে হাত দিয়ে ধাক্কা দিয়ে ধীরে ধীরে দরজার দিকে এগিয়ে গেল বের হবার উদ্দেশ্যে ।সাদাফ বললো,” এক মিনিট দাঁড়া।”
নুর দাঁড়ালো ।ঘাড় ঘুরিয়ে পিছনে দিকে তাকাতেই দেখলো সাদাফ প্রায় ওর কাছাকাছি চলে এসেছে ।নুর অবাক হলো ।সাদাফ দুহাতের আঁজলে নুরের মুখ টি ধরে কপালে একটি চু*মু খেলো ।তারপর বলল ,”আমার এমন লজ্জাবতী লাজুক লতা নূর খুব পছন্দ।”
নিজের রুমে যেতে যেতে হঠাৎ করে সামনে পড়লো রিমা ।নূর কাচুমাচু হয়ে দাঁড়িয়ে রইল ।রিমা নুরকে দেখে মিষ্টি মিষ্টি হেসে নুরের দিকে চোখ দিয়ে ইশারা করে জিজ্ঞেস করল ,”কি ব্যাপার কোথায় ছিলি?”
নুর বলল ,”কোথায় থাকবো রুমে ছিলাম।”
রিমা বলল ,”রুমে তো ছিলি জানি কিন্তু কার রুমে ?তোর রুম থেকে মাত্র এলাম তুই রুমে ছিলিনা।”
নুর বললো,”একটু আগে ছিলাম ।আমি একটু বাহিরে গিয়েছিলাম ।”
রিমা বলল ,”আমি সকাল আটটা থেকে তোর রুমে শুয়ে ছিলাম ।দেখতে চাচ্ছিলাম তুই কখন আসিস ।”
নুর আর কিছুই বলতে পারলো না ।চুপচাপ মাথা নিচু করে ফেলল ।রিমার কাছে এসে বললো,”পাগলি লজ্জা পাচ্ছিস কেন ?ভাইয়া তোর বিয়ে করা স্বামী হয় থাকতেই পারিস ।আর তাছাড়া দুইদিন তো তার বাড়িতে থেকেও এসেছিলি ।তখন লজ্জা লাগেনি ?এখন লজ্জা লাগছে কেন? আর সম্পর্কে আমি তোর ননদ হই ননদ ।হ্যাঁ বয়সে বড় সম্পর্কে বোন ।মাত্র এক বছর বড় তাতে কি ?তুই আমাকে ননদ হিসেবে ট্রিট করবি। আমি তোকে ভাবি বলে ডাকবো কেমন?”
নুর লজ্জায় মুচকি হাসলো । বললো,” ঠিক আছে ।”
বলে দৌড়ে নিজের রুমে গিয়ে দরজা লাগিয়ে দিল ।রিমা নূরের যাওয়ার দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসলো।
এদিকে খাবার টেবিলে বসে বিয়ের সমস্ত আয়োজন নিয়ে কথা বলছে ফজলুর রহমান ও হুমায়ুন রহমান। সাদাফ গোসল করে একটি ট্রাউজার ও টি-শার্ট পরে নিচে নামছে ।নূর এখনো নিচে নামেনি ।সাদাফ বুঝতে পারছে নুরের লজ্জা লাগছে তাই একটু সময় দিলো নূরকে নিজে থেকে নিচে নামার।
সাদাফকে দেখে ফজলুর রহমান বললেন,” হ্যাঁ বস আমরা এভাবে প্লান করেছি এগুলো একটু দেখ।”
বাড়িতে নূরের শারীরিক অবস্থা নিয়ে কথা বলে একদমই নিষেধ ।তাই চিকিৎসা বিষয়ে যত কথা অফিসে গিয়ে বলবে সাদাফ এভাবেই জানিয়ে দিয়েছে সবাইকে।
বিয়ের প্ল্যান নিয়ে আলোচনা মাঝখানেই হঠাৎ খেয়াল করলো নূর ধীরে ধীরে চো*রের মত সিঁড়ি দিয়ে নামছে ।না জানি রাতভর কি চু*রি করেছে ধরা খাওয়ার ভয়ে নামছে ।সাদাফের হাসি পেল খুব হাসি পেলো।কিন্তু বাবাদের সামনে বা পরিবারে কারো সামনে হাসতে চাইলো না ।তাই দাঁত দিয়ে ঠোট কামড়ে চুপচাপ দেখতে লাগলো।
নুর সবার সামনে এসে মাথা নিচু করে চেয়ার টেনে বসলো ।সাদাফ কাজের মাঝখানে খাবারের প্লেট নিয়ে নূরের প্লেটে সার্ভ করতে লাগলো ।ফজলুর রহমান তাকিয়ে রইলেন সাদাফের দিকে ।কতটা যত্ন নিচ্ছে নূরের ।দেখে উনি অভিভূত হলেন ।মনে মনে নিজেকে গালি দিলেন কত শত ।কয়েকটা দিন শুধু শুধু ছেলেটাকে কষ্ট দিয়েছে মেনে নেয়নি।
অথচ সাদাফ সবসময় নুরকে এভাবেই পাগলের মতো ভালোবাসতো ।জানতো তারপরও মনে কোথাও একটা সন্দেহ ছিল ।যাক সন্দেহটা দূর হয়েছে এখন আর কখনোই নুরকে সাদাফের কাছ থেকে দূরে রাখবে না ফজলুর রহমান।
আজ বিকালে যাবে নুর রিমা নওরিন আফরোজ সামিহা বেগম সায়মন ও সাদাফ শপিং এ।পুরো বাড়ির যাবতীয় শপিং ও অন্যান্য কাপড়-চোপড় নূরের শাড়ি লেহেঙ্গা বাকি যা যা প্রয়োজনীয় শপিং করবে ।সাইমনের যা যা প্রয়োজন কিনে নিবে।সাথে রিমার ।
প্রথমে শুরু হল নূরের শপিং দিয়ে। লাল টুকটুকে একটি বেনারসি পছন্দ করলো ।সেটিও নেওয়া হলো। তবে সাদাফের পছন্দ হলো সিঁদুর রঙা বা অরেনজিস রেড টেইপের একটি শাড়ী।সাদাফের মন যেনো পরে আছে সেই শাড়ীর উপরে।তাই সবাই শাড়ীর দোকান থেকে একটু সরতেই সেই শাড়ীটিও সাদাফ চুপিচুপি নিয়ে নিল নূরের জন্য।
এরপর নূরের জন্য নেয়া হলো লেহেঙ্গা গোল্ডেন কালার।
একে একে ম্যাচিং করে সবকিছুই নেওয়া হল ।জুয়েলারি থেকে শুরু করে জুতা অর্নামেন্টস আরো অনেক কিছুই নেওয়া হলো নূরের ।সব কিছু নূরের পছন্দ এবং সবার পছন্দ অনুযায়ী।
এরপর শুরু হলো রিমার শপিং ।শপিং করতে করতে শপিং করা শেষ হয়ে গেলে রিমার একটি ছোট্ট আংটি খুব পছন্দ হলো ।সায়মন দুর থেকে খেয়াল করল। নিজের কাছে অনেক ছোট লাগছে সাইমনের কারণ সায়মনের কাছে টাকা নেই রিমার পছন্দ হয়েছে জেনেও জিনিসটা কিনে দিতে পারবে না ।এদিকে রিমা অনেক কিছু শপিং করার কারণে মুখ ফুটে আর আংটির কথাটি কাউকে বলল না।
সাদাফ সাইমনের দিকে তাকিয়ে বললো,” মন খারাপ কেন? কি হয়েছে ?কিছু লাগবে ?কিছু পছন্দ হয়েছে তোর টাকা লাগবে?
সায়মন আমতা আমতা করলো। সব সময় সাদাফের কাছ থেকে টাকা নেয় আজকে কেন যেন টাকা নিতে খুব লজ্জা লাগছিল ।সাইমন বললো ,”না ভাইয়া লাগবেনা ।”সাদাফ বুঝতে পেরেছিল সায়মনের কিছু একটা হয়তো পছন্দ হয়েছিল কারণ একটা আংটির দিকে তাকিয়ে থাকতে দেখেছে সাইমনকে।
ক্রেডিট কার্ডটি বের করে সাদাফ সায়মনের দিকে এগিয়ে দিয়ে বললো,” আমার বিয়ে উপলক্ষে এটা তোর গিফট যা ইচ্ছা হয় শপিং কর কোন হেজিটেড করবি না আমার টাকা কি তোর টাকা না?”
সাইমন সাদাফ কে জড়িয়ে ধরে বললো,” ধন্যবাদ ভাইয়া ।অসংখ্য ধন্যবাদ ।আমি চাকরি পেয়ে প্রথম বেতন দিয়ে তোমাকে টাকাটা ফেরত দিয়ে দিব ।তবে এর আগে পরে যেগুলো নিয়েছি সেগুলো কিন্তু দিব না। আজকে যা খরচ করব সেই টাকাটাই তোমাকে ফেরত দিয়ে দিব।”
সাদাফ সায়মনকে ছেড়ে সাইমনের দিকে তাকিয়ে বললো,” ঠিক আছে দিস যা ইচ্ছা হয় দিস ।সমস্যা নেই ।কার্ড দিয়ে দিলাম যা ইচ্ছা হয় শপিং কর ।”
সাইমন চলে গেল দোকানের ভিতর ।সাদাফ জানে সায়মন একটি আংটি দেখেছিল কার জন্য দেখেছিল হয়তো সেটাও মনে মনে জানে কিছুটা আন্দাজ করতে পারে সাদাফ কিন্তু মুখ ফুটে কিছু বলল না।
এদিকে নূর একটি শপিং ব্যাগ হাতে নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিল সামিহা বেগম ও নওরিন আফরোজ দোকানের ভিতর কিছু একটা দেখছে।সাদাফ এগিয়ে গেল নূরের কাছে ।গিয়ে বললো,” কি হয়েছে কিছু পছন্দ হয়েছে আর কিছু কিনবি?”
নুর বললো,” না আর কত শপিং করব ?অনেক শপিং করা হয়েছে ।”
সাদাফ বললো ,”তারপরও দেখ তোর বিয়ে যা যা ইচ্ছে হয় যা যা ভালো লাগে সব কিছু কিনে নে।
নুর বললো,” লাগবে না যদি মনে হয় কিছু প্রয়োজন তখন আপনাকে বলব নিয়ে যাবেন ।”
সাদাফ দাঁড়িয়ে রইলো।তারপর বললো,” দাড়া দুটো কফি নিয়ে আসি কফি খাই। আম্মুরা শপিং করুক।”
সাদাফ কফি নিয়ে চলে আসলো ।নূরের হাতে একটি দিয়ে কফি বললো,” আচ্ছা নুর হানিমুনে কোথায় যাবি?”
নুর অনেকক্ষণ ভাবলো ।ভেবে বললো ,”কক্সবাজার ।”
সাদাফ বললো ,”একটু বড়লোক হ ।স্বামীর টাকা হানিমুনে যাবি কক্সবাজার যাবি কেন ?দেশের বাইরে কোথায় যাবি ?আমেরিকা যাবি ?আমি যেখানে ৬ বছর ছিলাম কোথায় ছিলাম কিভাবে ছিলাম সব দেখিয়ে আনব।”
নূরের হাসিটা বন্ধ হয়ে গেল। মনে মনে ভাবল আমেরিকা কেন ?তারপর ঠাস করে বলে ফেললো,” ও আপনার গার্লফ্রেন্ডের কথা মনে পড়েছে ?আমেরিকা তাকে দেখতে যাবেন ?এত যখন মিস করছেন তাহলে নিয়ে আসলেন না কেন ?আর আপনি বা ফেরত আসলেন কেন?”
সাদাফ নুরের কথা শুনে ভাবাচ্যাকা খেয়ে গেল ।কি বলে এই মেয়ে ?সাদাফ শুধু বলেছে আমেরিকা হানিমুনে নিয়ে যাবে ।সেখানে গার্লফ্রেন্ড হলো কোত্থেকে ?গার্লফ্রেন্ডকে মিস করবে কোত্থেকে ?আর গার্লফ্রেন্ডকে নিয়ে আসবে কোত্থেকে ?কোন জায়গা থেকে কোন জায়গায় চলে গিয়েছে নূর ?এজন্যই বলে মেয়ে মানুষের কানে বেশি কথা দিতে নেই। ভুলে শুধু বলেছিল একটা মেয়ে ওকে পছন্দ করে।
সাদাফ চুপ করে রইল কিছুক্ষণ তারপর বললো,” এতগুলো কথা আমি কখন বললাম নূর?”
নুর বললো,” বলেন নি কিন্তু আপনার চেহারা দেখে মনে হচ্ছে আপনি এগুলো বলতে চাচ্ছেন ।”
সাদাফ বললো,” ১৭ বছর বয়সে তুই এত পাকা পেকে গিয়েছিস তুই আমার চেহারা দেখে বলে দিতে পারিস আমি গার্লফ্রেন্ডকে মিস করছি যে গার্লফ্রেন্ড নেই?”
“ভুলেও ১৭ বছর বলে আমাকে ছোট হিসেবে ট্রিট করবেন না ।মনে রাখবেন আমি আপনার বউ হই। আর বউরা সবকিছু এমনি বুঝতে পারে ।আপনার চেহারা মধ্যে লেখা আছে আপনি মেয়েটাকে মিস করছেন।”বললো নুর।
সাদাফের মুখের ভাষা হারিয়ে গেল ।কি বলবে নূরকে ?বুঝে উঠতে পারছে না ।এজন্যই বলে বয়সে বেশি ছোট হলে বউ যা হয় আর কি ! না কিছু বলা যায় না তাদের পাকা কথা সহ্য করা যায়।
সাদাফ একটি দীর্ঘশ্বাস ফেলল ।তারপর নূরকে উচিৎ জবাব দেওয়ার জন্য বললো,” তুই ভুল বুঝেছিস ।আমি অন্য কিছু একটা মিস করছি ।”
নূর জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে তাকিয়ে বললো,” কি মিস করছেন ?”
সুখময় যন্ত্রণা তুমি পর্ব ১৪৬+১৪৭
“গতকাল শুধু একবার হয়েছিল ।আমি মিনিমাম ৩-৪ বার মিস করছিলাম ।নিজের বাড়িতে বুঝতে পারছিস একটু এনার্জি বেশি ছিল।”বললো সাদাফ।
নূর সাদাফের দিকে তাকিয়ে কাঁদো কাঁদো কন্ঠে বললো,” ছিঃ আপনি এত নোংরা কথা বলেন? দাঁড়াবো না আপনার সাথে আর ।”
বলেই দোকানের ভিতরে চলে গেল ।সাদাফ মুচকি হেসে দাঁড়িয়ে রইলো ।যাক উচিত জবাব দিতে পেরেছে ছোট্ট কাঁচামরিচ নূরকে।
