সুখময় যন্ত্রণা তুমি পর্ব ১৫০+১৫১
neelarahman
শপিং শেষ করে বাসায় পৌঁছতে পৌঁছতে সময় হয়ে গেল রাত আটটা ।আজকে কেউ রান্নাবান্না করবে না ।বাহিরে থেকে খাবার অর্ডার করেছে সবাই আজকে বাহিরের খাবার খাবে ।এরই মধ্যে বাসায় পৌঁছে গিয়েছেন ফজলুর রহমান এবং হুমায়ুন রহমান তাদের সবার মন অনেক খুশি।
এই প্রথম বাড়িতে ধুমধাম করে বাড়ির বড় ছেলের বিয়ে হবে আর ছোট মেয়ের ভাবতে পারছে না।
নুরের বিয়ে হলে হয়তো কান্নার রোল পড়ে যেত মেয়েটা বাড়ি থেকে চলে যাবে ভেবে কিন্তু এখন খুশীর যেন কোন সীমা নেই ।ছেলেও এই বাড়ির মেয়েও এবারের বিদায়ের কোন ফাংশন নেই শুধু আনন্দ আর আনন্দ ।রিমা এবং নূর সোফায় বসে গল্প করছে ।রিমা সিলেক্ট করছে হলুদের দিন ওরা কিভাবে কি করবে সবকিছু।
নুরের বন্ধু বান্ধবী কেউ রিমা ফোন করে দাওয়াত দিয়েছে ।নুরু কথা বলেছিল এর মধ্যে সাদাফ ও ওর ফ্রেন্ড সার্কেল সবাইকে তিন দিন আগে থেকে ইনভাইট করেছে ।সবাই এই বাড়িতেই থাকবে তিন দিন আগে থেকে।
সাবার হাসবেন্ড চলে এসেছে তবে অনেক কষ্ট করে রাজি করানো হয়েছে সাবাও দুইদিন আগে এই বাড়িতে চলে আসবে ।হলুদের দিন এবং বিয়ের দিন।
এর মধ্যে সাইমনেরও ফ্রেন্ড সার্কেল কিছু ইনভাইট করেছে খুব ধুমধাম হবে ।দুইদিন আগে থেকে বাড়িতে থাকার প্রিপারেশনের জন্য সব রুম সুন্দর করে গোছগাছ করানোর কাজে আগামীকাল থেকে লাগানো হবে লোক।
সাতটি রুম যা বিভিন্ন কারনে ব্যবহার হতো কিছু গেস্টরুম কিছু এমনি পড়ে থাকত সেগুলো সব পরিষ্কার করে ঢালাও বিছানা করে বন্ধু-বান্ধবদের জন্য রাখা হচ্ছে।
আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন
ফজলুর রহমান সাইমনের দিকে তাকিয়ে বললেন ,”এই যে লিস্ট শুধু এই কয়েকজন লোককে তুই যেয়ে পার্সোনালি দাওয়াত দিয়ে আসবি ।সাইমন লিস্ট চেক করল ।বাবার দিকে তাকালো ।দেখল মাত্র এই কয়জন কম করে হলেও ৫০ জন। ঢাকা শহরে ৫০ লোকের বাড়িতে পার্সোনালি যেয়ে দাওয়াত দেওয়া তারপরও আবার সেই লোকেরা একেক জন একেক জায়গায় থাকে এটা যে কি ঝুককির কাজ কে বলবে?বাবা বুঝে শুনে কাজটা ওকে দিয়েছে।
সাইমন ঠিক করে ফেলল,” এই দুই দিনের মধ্যে এ দাওয়াতের কাজটা শেষ করবে ।বাইক নিয়ে বের হবে রিমা কে সাথে নিয়ে যাবে ।একা একা ও কখনো যাবে না। শুধু কি ওর বোনের বিয়ে নাকি ওর তো ভাইয়ের বিয়ে ওর ওতো কিছু দায়িত্ব পালন করতে হবে।”
রাতের বেলা সবাই একসাথে ডিনারে বসেছে ।রাত ৯ টা ।সাদাফ নূরের প্লেটে কাঁটা বেছে বেছে মাছ দিচ্ছে ।নুর লজ্জা পেয়ে গেলো।সবার সামনে কি শুরু করেছে এই লোক?মুগ্ধ দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে ফজলুর রহমান ও সামিহা বেগম ।সামিহা বেগমের তো এমনি সাদাফতে জামাই হিসেবে ভীষণ পছন্দ ছেলে তো লক্ষী ছেলেই।
এত কিছু জানার পরও নূরের প্রতি সাদাফের ভালোবাসা মুগ্ধতা ও যত্ন দেখে সামিহা বেগমের চোখে পানি চলে আসলো ।সামিহা বেগম এক মুহূর্ত আর এখানে দাঁড়ালো না ।চোখের পানি মুছতে মুছতে কাউকে না দেখিয়েই রান্না ঘরে চলে গেল ।নওরেন আফরোজ খেয়াল করল। তরকারি আনার বাহানায় একটি বাটি নিয়ে নরিন আফরোজ পিছনে পিছনে রান্না ঘরে গেল ।দেখলো সামিহা বেগম রান্নাঘরে কোনায় বসে মুখ চেপে কান্না করছে।
নওরিন আফরোজ সাথে সাথে গিয়ে ধরল সামিহা বেগম কে।বলল কি হয়েছে পা*গলামি করছিস কেন ?তুই এরকম কান্না করছিস চিন্তা করত যদি নূরের কানে কোনভাবে যায় ওর কি হবে ?সবকিছু ভুলার চেষ্টা করছে তোর কি মনে হয় নুর ভুলে গিয়েছে সব ?নূর অভিনয় করছে।
তাহলে আমরা যদি ওর কাছে ধরা খেয়ে যাই ও কোন ভাবে বুঝতে পারে আমাদের খারাপ লাগছে বাকি তাহলে ও কি মনে করবে বল ?ওর কষ্টটা যে আরো বেড়ে যাবে ।পা*গলামি করিস না সামিহা চোখে পানি মোছ তাড়াতাড়ি বাইরে চল ।সামিহা বলল ,”আমি কি করবো ভাবি আমার যে ক*লিজাটা ফেটে যাচ্ছে মেয়ের দিকে তাকালে।”
কি করবি মানে ?শক্ত হবি ।আমরা সবাই সবকিছু হাসিমুখে মেনে নিয়েছি তুইও মেনে নে ।ভাগ্যের উপরে কারো জোর নাই ।ওর বাবা ওর স্বামী সর্বোচ্চ দিয়ে চেষ্টা করবে নুরের এই সমস্যাটা যেন দূর হয়ে যায় ।আল্লাহর উপর ভরসা রাখ ।চল ।”বললেন নওরিন আফরোজ।
সামিহা বেগম ও উঠে দাঁড়ালেন।চোখের পানি মুছে মুচকি হেসে বললেন,” ঠিক আছে চলো।আর কাঁদবো না।”
রাত এগারোটা ।শপিংমলে সেই যে নূর কে খ্যাপানোর জন্য কথাগুলো বলেছিল তারপর আর নূর সাদাফের সাথে সরাসরি কোন কথা বলেনি ।সাদাফের এখন ভালো লাগছে না ।রাত হয়েছে এখন যে নুর কে চাই একটু বুকে নিয়ে ঘুমাবে নুরকে ।কিন্তু এই পা*গলি মেয়েকে কে বুঝাবে ?পা*গলি মেয়ে আজকে নিশ্চয়ই আসবে না ।লজ্জায় ঘরে বসে থাকবে।
রিমা দরজা নক করার শব্দ পেয়ে জিজ্ঞেস করলো ,”কে?”
সাইমন বললো ,”আমি দরজা খোল ।”
রিমা উঠে এসে দরজা খুলে দিল ।সায়মন বাহিরে দাঁড়িয়ে রইল তারপর জিজ্ঞেস করল ,”আমি কি ভিতরে আসতে পারি?”
রিমা এবার অবাক হল ।সাইমনের দিকে তাকিয়ে জানতে চাইলো ,”অনুমতি কবে থেকে নেয়া শুরু করলে ?আগে তো ধুপ ধাপ রুমে চলে আসতে ।”
সাইমন বললো ,”আজকে থেকে অনুমতি নেওয়া শুরু করলাম ।আগের মত আর করা যাবে না।”
রিমা বলল ,”ঠিক আছে ভিতরে এসো ।”
সাইমন ভিতরে এসেই হাত বাড়িয়ে দিল রিমার দিকে ।রিমা অবাক হয়ে তাকালো হাতের দিকে । বললো,” কি ?সাইমন হাতের মুঠো খুলে দেখালো একটি আংটি।রিমা অবাক হয়ে তাকালো আংটির দিকে ।এটাতো দোকানে পছন্দ করেছিল রিমা কিন্তু কাউকে কিছু বলিনি।
সায়মন বুঝলো কি করে ?ভাবলো রিমা।তারপর রিমা সাথে সাথে আংটি টি হাতে নিয়ে বললো,” এই আংটি তুমি কি করে পেলে ?এটা তো অনেক দাম ছিল তুমি টাকা কোত্থেকে পেলে?”
সাইমন রিমা চোখে মুখে খুশির ঝলক দেখে বললো,” টাকা পেয়েছি এক জায়গা থেকে তবে অনুভূতিটা আমার ।টাকাটা পরে চাকরি পেয়ে দিয়ে দিব বলেছি তবে এই যে অনুভূতিটা এই যে খুশি তোর চোখে আজকে দেখতে পারলাম এটা তো পড়ে দেখতে পেতাম না ।তাই সাথে সাথে নিয়ে নিয়েছি।”
রিমা হাতের আঙুল বাড়িয়ে দিয়ে বললো,” পরিয়ে দাও ।”
সাইমন রিমার দিকে একবার তাকালো ।তারপর হাতে আংটি পরিয়ে দিয়ে বললো,” নে আমাদের এনগেজমেন্ট হয়ে গেল।”
রিমার সাথে সাথে খুশি হয়ে সাইমনকে জড়িয়ে ধরল ।সায়মন যেন এক কদম পিছিয়ে গেল হঠাৎ রিমা ধাক্কা খেয়ে ।পরে বললো,” ছাড় বলছি না হলে আমিও ধরে ফেলব তখন কিন্তু ছাড়া পাবি না।”
এদিকে নুর ঘুমানোর প্রিপারেশন নিচ্ছে আবার বারবার আড় চোখে মোবাইলের দিকে তাকাচ্ছে ।”আজকে কি হলো লোকটা এখনো ফোন করছে না কেন ?এমনি সামনে পেলে তো আবোল-তাবোল কথা বলে মাথা খেয়ে ফেলে ।কিন্তু আজকে এখনো ফোন করছে না ।কোন গার্লফ্রেন্ডকে ফোন করেছে নাকি ?”
ভাবতেই আড় চোখে আর একটু ঝুঁকে এসে তাকালো মোবাইলের দিকে।
হঠাৎ মোবাইলের শব্দ পেল ।একটি মেসেজ। ওপেন করে দেখলো একটি থ্রেড ।”২ মিনিটের মধ্যে রুমে আয় নাহলে তৃতীয় মিনিটে আমি তোর রুমে চলে আসব।”
মেসেজ দেখে থমকে গেল নূরেরই হৃদয় জানে সাদা যা বলেছে তাই করবে দুই মিনিটের মধ্যে রুমে না গেলে সাদা ভাই রুমে চলে আসবে ।নুর সাদাফের রুমে চলে গেলে আরো লজ্জা জনক হবে ব্যাপারটি।
নুর বসে রইল জেদ ধরে।যাবে না আজকে ও ঘরে ।বারবার কেন ও সবার সামনে লজ্জিত হবে নুর।যদি আসতেই হয় তাহলে সাদাফ ভাই আসবে ।সকালে দরজা খুলে সাদাফ ভাই বের হবে ।সবাই সাদাফ ভাইকে দেখবে ।অধৈর্য হবে উনি অথচ সবার কাছে লজ্জিত হবে নূর। মোটেও না।
তাই মেসেজ দেখে কোন রিপ্লাইও করলো না ।চুপচাপ গো ধরে বিছানায় বসে রইল নূর।
বারবার মোবাইলের দিকে তাকাচ্ছে সাদাফ।সাহস দেখে অবাক হচ্ছে সাদাস নূরের। মেসেজের রিপ্লাই ই করল না আসা তো দূর ।সাদাফ মোবাইল হাতে নিয়ে চিন্তা করলো আরেকটি মেসেজ দিবে ।তারপর ভাবলো না আজকে নুর ত্যারামি করবে বুঝতেই পেরেছে তাই চুপচাপ বিছানা থেকে উঠে দাঁড়ালো ।বাইরে বের হবে নুরের রুমে যাবে।
যেই ভাবা সেই কাজ নূরের রুমের বাইরে এসে দরজা নক করলো সাদাফ।নুর জানতো সাদাফ ভাই আসবে তাই ঘুমিয়ে পড়েনি ।অপেক্ষা করছিল ।কিন্তু এখন নূরের একটু ভয় হচ্ছে ।ত্যারামি করে গেল না না জানি এখন সাদাফ ভাই রুমে ঢুকে কি বলবে।
পরে ভাবলো যা খুশি তা ভাবুক নুরের অধিকার আছে যাবে কি যাবে না এটা ডিসাইড করার ।তাই বিছানা থেকে নামলো ।নেমে চুপচাপ দরজা খুলে দিল নূর।
দরজা খুলে নূর দেখল সাদাফ এক হাতে দরযায় দিয়ে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে ছিল ।নুরকে দেখেই সাদাফ ভ্রু কুচকে ইশারা করল ।নূর চুপচাপ হয়ে রইলো।
সাদাফ ভিতর ঢুকে দরজা লাগিয়ে দিল ।তারপর এক পা দু পা করে এগোতে লাগলো ।নুর এক পা দু পা করে পিছোতে পিছোতে ঠাস করে বিছানায় বসে পড়ল।
“আমার রুমে আসতে বলেছিলাম ।আসিস নি কেন ?”বললো সাদাফ।
নুর ভিতরে সাহস সঞ্চয় করল ।কোনমতে আমতা আমতা করে বললো,” বারবার আমি কেন যাব ?আপনারও পা আছে আপনিও হেঁটে হেঁটে আসতে পারেন ।”
সাদাফ অবাক হয়ে তাকালো নূরের দিকে।
মনে মনে ভাবল ,”আসলেই সত্যি ।এটাই হচ্ছে কবুলের পাওয়ার ।যে মেয়ে দুটো কথা বলতে সাহস পেতো না সেই মেয়ে এখন ওকে টক্কর দেয় সমানে সমানে উত্তর দেয়।”
সাদা দীর্ঘশ্বাস ছাড়লো। মনে মনে বললো,”ছোট হোক আর বড় হোক বউ তো ।একদিন না একদিন তো নিজের রূপ দেখাবেই। যেমন সা*প ছোট হোক আর বড় হোক ফণা তুলবেই। বিষ থাকুক আর না থাকুক ।সেরকম তবে বউদের বিষ সব সময় থাকে ।”তাই সাদা মনে মনে হার মেনে নিল ।
চুপচাপ হেটে বিছানার কাছে গিয়েই শুয়ে পড়ল । বললো,” তেল নিয়া একটু চুলটা টেনে মাথা মালিশ করে দে ।”
নূর হাফ ছেড়ে বাঁচল ।আপাতত এখন কার জন্য তো বাঁচল সাদাফ ভাইয়ের হাত থেকে ।সকালেরটা সকালে বুঝা যাবে।
নূর তেল নিয়ে বিছানার কাছে যেতেই সাদাফ তাকালো নূরের দিকে ।তেলের বাটিটা সাইডে রেখে নুরের হাত ধরে ঠাস করে টান দিয়ে নূরকে সাদাফ নিজের বুকে নিয়ে নিল ।তারপর বলল,” সাহস তোর বড্ড বেশি বেড়েছে আজকাল তাই না? আয় পরিক্ষা কতোটা বেড়েছে।”
নূর ভেবেছিল বেঁচে গিয়েছে কিন্তু না। সাদাফের মনে এইটাই ছিল তেল মালিশ তো শুধু বাহানা ।নুর বললো,” দেখুন ?”
সাদাফ বললো,” জি ম্যাডাম দেখতে এসেছি।
পার হয়ে গেল দুদিন ।বাড়ি ভর্তি মেহমানে সমাগম ।সাদাফের বন্ধুরা নূরের একটি বান্ধবী ও দুইটি বন্ধু এবং রিমার বন্ধু বান্ধবী ।সাইমনের বন্ধু-বান্ধবী সবাই বাড়ি ভর্তি এছাড়া আরো গেস্ট রয়েছে।
নুরের বান্ধবী নুরেরর রুমে রিমার বান্ধবী রিমার রুমে।বাকি সব ছেলেদের জন্য দুটো রুম ছেড়ে দেওয়া হল বাকি সব মেয়েদের জন্য একটি রুম ছেড়ে দেওয়া হল। বাকি রুমগুলোতে অন্যান্য আত্মীয়-স্বজনের জন্য ।পুরো বাড়ি ভর্তি মানুষ দেখে বুঝা যাচ্ছে হুলস্থুল লেগে গিয়েছে।
বিকাল পাঁচটা ।সন্ধ্যা সাতটা থেকে হলুদের প্রোগ্রাম শুরু হবে ।নুরকে রেডি করা হচ্ছে নিজের রুমে।
সবাই পার্পল কালারের পাঞ্জাবি পড়বে মেয়েরা গোল্ডেন কালারের শাড়ি।
সন্ধ্যা সাতটা সাদাফ আগে থেকেই ছাদে বন্ধুদের সাথে অবস্থান করছিল ।পার্পল কালারের পাঞ্জাবি সবাই পড়লেও সাদাফ নুরের সাথে ম্যাচিং করে হলুদ কালারের একটি পাঞ্জাবি পড়েছে ।নুর হলুদ কালারের শাড়ি । সাদাফ নিচে যেতে চেয়েছিল ।তবে সবাই বললো না নুরকে নিয়ে আসা হচ্ছে ।একেবারে ছাদে ওকে স্টেজে দেখবি আলাদা করে দেখার কোন সুযোগ নেই ।বন্ধুরা আটকে দিয়েছে তাই সাদাফ যেতে পারেনি।তবে সাদাফের মনটা আনচান আনচান করছে নুরকে এক নজর দেখার জন্য।
হঠাৎ করে হইচই শোনা গেল ।সবাই ছাদে দরজার দিকে তাকালো ।সাদাফ দেখল কয়েকটা মেয়ে সুন্দর ফুলের ওড়না দিয়ে ঢেকে নূরকে নিয়ে আসছে ।সাদাফ এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল নূরের দিকে ।চেহারা দেখা যাচ্ছে না কিন্তু পুরো শরীরে ফুলের বাসন ।
সাদাফ কে যেন এই মুহূর্তে নূর খুব টানছে চুম্বকের মতো টানছে। ঠিক যেন আকাশের পরীর মত লাগছে নুরকে ।নূর ধীরে ধীরে স্টেজের কাছে এসে হাতের পান দুটো সরিয়ে সবাইকে আসসালামুয়ালাইকুম বলে সোফায় বসলো। বসেই সাথে সাথে সামনের দিকে তাকালো নুর ।চোখাচোখি হল সাদাফের সাথে ।দুজন যেন হারিয়ে গেল দুজনের মধ্যে ।হঠাৎ করে সাদাফ বলে উঠলো ,”আমার পরীটা কত বড় হয়ে গেল ।”
সোহান বলল ,”হ্যাঁ দেখতে দেখতে কত বড় হয়ে গেল ।”
সাদাফ বললো ,”না দেখতে দেখতে বড় হয়নি ।দিনরাত পরিশ্রম করে বড় করেছি ।”
সোহান বললো দিনেও রাতেও কেমনে কি দোস্ত।”
সুখময় যন্ত্রণা তুমি পর্ব ১৮৮+১৪৯
সাদাফ ঘার না ঘুরিয়ে বললো ,”দিনে রাতে বলতে কোলে পিঠে করে মানুষ করেছি ।অনেক পরিশ্রম করেছি ।”
সোহান আবার আরেকটু টিপ্পনি কাট*ল ।বললো,”কোলে করে বুঝলাম কিন্তু পিঠে করে কিভাবে কি করে সেটা তো বুঝলাম না।”
এবার তাকালো সোহানের দিকে । বললো,” বাজে কথা রাখ। ওকে আমি ছোটবেলা থেকে নিজের কোলে করে মানুষ করেছি ।”
সোহান বললো,” এজন্যই তো তুই ভাগ্যবান নিজের বউকে নিজের কোলে করে মানুষ করেছিস ।মানুষ তো বড় হলে বাসর রাতে একবারে বউকে দেখে তুই তো জন্মের পর থেকে দেখে আসছিস।”
