হামিংবার্ড পর্ব ৩১
তাসমিয়া তাসনিন প্রিয়া
ঘড়িতে সময় রাত বারোটা বেজে এগারো মিনিট। আকাশে মেঘ করেছে, ঠান্ডা হাওয়া বইছে। গ্রীষ্মকালের সময়টা এমনি হয়। যখন তখন কালবৈশাখীর আনাগোনা লেগে থাকে।
দরজার বাইরে ভেজা শরীরে দাঁড়িয়ে আছে আরিশ। ভেতরে তামান্না অরাকে জামাকাপড় চেঞ্জ করিয়ে দিচ্ছে। সাবিহা পা টিপে টিপে এদিকেই আসছে। আরিশের সাথে অরার সম্পর্কটা ঠিক কেমন সেটা সুস্পষ্ট জানা না স্বত্বে শান্তি নেই তার।
“ হয়েছে? “
তামান্না ঘরের দরজা খুলতেই আরিশ প্রশ্ন ছুঁড়ে দিলো।
“ হ্যাঁ। আমি যাচ্ছি ভাইয়া। কিছু দরকার হলে ডাক দিবেন। “
তামান্না ঘর থেকে বেরিয়ে দরজার বাইরে দাঁড়িয়েছে। আরিশ ঘরে ঢুকে দরজা আঁটকে দিতে দিতেই বলল,
“ এখন কিছু লাগবে না। তুই গিয়ে ঘুমা। “
“ ঠিক আছে। “
তামান্নাকে এগিয়ে আসতে দেখে সাবিহা চুপচাপ সিঁড়িতে দাঁড়িয়ে রইলো। দেখা হলো দুজনের।
“ কিছু লাগবে আপনার? “
“ না। “
“ আচ্ছা। “
“ তামান্না শোন!”
তামান্না চলে যেতে পা বাড়াতেই সাবিহা দাঁড় করিয়ে দিলো তাকে। তামান্না শুধায়,
আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন
“ কিছু বলবেন? “
“ অরা ভাবিকে তুই চেঞ্জ করিয়ে দিলে কেনো?”
সাবিহার প্রশ্নে থতমত খেয়ে গেল তামান্না। সত্যি বলতে এই প্রশ্নের উত্তর সে নিজেও জানে না। আরিশ কেমন তামান্নাও একটু-আধটু জানে৷ সবকিছুই তার কানে আসে। কিন্তু সেই মানুষ তার বউয়ের জামাকাপড় অন্য একটা মেয়েকে দিয়ে কেনো করালো সেটাই বুঝতে পারছে না বেচারি তামান্না।
“ আমি নিজেও জানি না। “
“ ওহ। “
তামান্না কথা বাড়ালো না। নিজের কাজে চলে গেলো।
সারারাতের ঝড়ের আঘাতে প্রকৃতির স্বাভাবিক রূপ ব্যহত হয়েছে। রাতে ভালো ঘুম হয়নি আরিশের। অরার পাশে বসে থেকেছে, আবার একদৃষ্টিতে তাকিয়ে থেকেছে অনেকক্ষণ। মাঝে মধ্যে বুকের ভেতর জড়িয়ে ধরেও রেখেছে। কিন্তু নাহ! কিছুতেই ঘুম আর আসেনি আরিশের। তার মতো কন্ট্রোললেস পুরুষের জন্য বউয়ের থেকে এভাবে দূরত্ব বজায় রাখা আর যুদ্ধ করা সমান। কিন্তু কী আর করার! বাচ্চা বউ তার। অরা আরিশের থেকে গুণে গুনে চৌদ্দ বছরের ছোটো। তার ওপর নিজের খালার মেয়ে। যতই রাগারাগি করুক, জোরাজোরি করুক সেসব কেবল মানসিক অস্থিরতা থেকে। কিন্তু আরিশের প্রকৃত আচরণ এমন না৷ মনে মনে সে-ও একজন ভালো মানুষ।
“ আমি কোথায়?
চোখ মেলে তাকাতেই আরিশকে সামনে বসে থাকতে দেখল অরা। উন্মুক্ত শরীরে, হাফপ্যান্ট পরে বসে আছে সে। চোখেমুখে ক্লান্তির ছাপ স্পষ্ট। অরার কণ্ঠস্বর শুনে নড়েচড়ে উঠল আরিশ।
“ স্মৃতিশক্তি কি গেছে? “
অরা ধীরে ধীরে উঠে বসলো। আশেপাশে নজর বুলাতে লাগলো। মাথাটা এখনও কেমন ঝিমিয়ে আছে তার। চোখ বন্ধ করে সবকিছু মনে করতে গেলে, গতকালের রাতের ঘটনাগুলো আবছা আবছা মনে পড়ছে।
“ না, ঠিক আছি আমি। আমার ওরকম কেন হয়েছিল? “
আরিশ অরার কপালে এলোমেলো চুলগুলো কানের পাশে গুঁজে দিলো। অরাকে ধরে কোলে বসালো। তপ্ত নিঃশ্বাস ছাড়ল অরা। সব সময় এমন ঘেঁষাঘেঁষি করতে হবে কেন?
“ সেটা তো আমি জানি না হামিংবার্ড। তবে শীঘ্রই জেনে যাবো। “
“ কীভাবে? “
“ জানতে পারবে অবশ্যই । এখন চলো ব্রেকফাস্ট করে নিবে। “
আজকের আরিশের ব্যবহারে অবাক হয় অরা। এই আরিশই কি সেই মানুষটি, যে বিয়ের রাত থেকে তাকে মানসিক, শারীরিক নির্যাতন করত? কেমন রাগী রাগী চোখে তাকাত সবসময়, একটু হলেই জোরাজোরি করতো! মানুষ একজনই আছে তবে বদল ঘটেছে অনেক । ভালোবাসার অভাব একটা মানুষকে তিলে তিলে শেষ করে দেয়। একটা সময় সে নিজেকে এমনভাবে গড়ে নেয় যে, তাকে দেখলেও ভয় লাগে। অরার অন্যমনস্ক হয়ে থাকা বেশ খেয়াল করছে আরিশ।
“ কী হয়েছে , হামিংবার্ড?”
“ নাথিং। চলুন। “
“ হ্যাঁ, চলো। “
বিছানায় অসুস্থ হয়ে পড়ে আছেন সোলাইমান মল্লিক। গতকাল থেকে ধুম জ্বর। এজন্য অরার শ্বশুর বাড়ির পার্টিতেও যেতে পারেনি কেউ। নয়নাকে অবশ্য একাই যেতে বলেছিলেন তিনি, কিন্তু নয়না একা যায়নি। আরিশ উনাদেরও পার্টিতে নিমন্ত্রণ জানিয়েছিল।
“ বাবা ঔষধ খেয়েছ, সকালে? “
চুল বিনুনি করতে করতে বাবার ঘরে এলো নয়না। দু’দিন হলো নিয়মিত স্কুলে যাওয়া শুরু করেছে সে। এর আগে মাঝে মধ্যে যেতো। কারণ সহপাঠী, পাড়াপ্রতিবেশিদের অদ্ভুত দৃষ্টি আর কথাবার্তা বিষের মতো লাগে নয়নার। কিন্তু এখন নিজেকে শক্ত করে নিয়েছে মেয়েটা। জীবন মানেই যুদ্ধ। বাঁচতে হলে লড়াই করে বাঁচতে হবে। এখানে পিছুপা হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। কে কী বলল এসব গায়ে না মেখে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে। জীবনে সবার কথা শুনতে নেই। কিছু লোকজনের কথা এক কান দিয়ে শুনে অন্য কান দিয়ে বের করে দিতে হয়৷ নিজেকে ভালোবাসতে পারলেই জীবন সুন্দর।
“ হ্যাঁ। স্কুলে যাচ্ছিস?”
“ জি, বাবা। “
“ ঠিক আছে। সাবধানে যাস। আর হ্যাঁ তোর মায়ের কাছে টাকা দিয়েছি, কীসব কিনবি বললি গতকাল। ওই আইলিন না মশকরা। “
বাবার কথায় হো হো করে হেসে উঠল নয়না।
“ আইলিন না বাবা, আইলাইনার। আর মশকরা না মাশকারা হবে। “
“ ওই হলো, একই কথা। তোর মা তো সাজগোছ করতেন না তেমন। সেজন্য আমিও এসব চিনি না। লিপস্টিক আর ক্রিম পর্যন্তই চিনি। “
“ আচ্ছা, আচ্ছা। বুঝতে পেরেছি। আমি যাচ্ছি। তুমি দুপুরে ঔষধ খেয়ে নিও। “
সোলাইমান মল্লিক মুচকি হেসে, মাথা নাড়লেন। নয়না হন্তদন্ত হয়ে ঘর থেকে বেরিয়ে গেলো। এমনিতেই দেরি হয়ে গেছে। দ্রুত পা না চালালে আরো দেরি হয়ে যাবে।
বাইরে সন্ধ্যার অন্ধকার নামতে শুরু করেছে। কাঁচের জানালা জুড়ে শহরের ঝিকিমিকি আলো। অফিসের আলো-আঁধারি ঘরে কম্পিউটারের স্ক্রিনে ভেসে থাকা ফাইলের ছায়া দুজনের মুখে পড়ে আছে। ঘড়ির কাঁটা ছয়টা পেরিয়ে গেছে।
ম্যানেজার তাইমুম ডেক্সের উপর রাখা ফোনটা রেখে গম্ভীর ভঙ্গিতে আরিশের দিকে তাকাল।
“স্যার, মিলান থেকে কল এসেছিল। “
তার কণ্ঠে চিন্তার ছাপ স্পষ্ট।
“লিগ্যাল অডিট ইস্য, সিগনেচার জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে। আর… কয়েকটা গুরুত্বপূর্ণ ডিল ঝুলে গেছে। আপনাকেই যেতে হবে।”
আরিশ নীরবে কিছুক্ষণ তাকিয়ে রইল জানালার বাইরে। ঝলমলে শহরের মাঝেও তার চোখে ঘনীভূত অন্ধকার। ইতালিতেও অফিস আছে তার। কিন্তু সেখানে বছরে দুই কিংবা তিনবারের বেশি যাওয়া হয় না তার৷ বিশ্বস্ত কর্মচারী সব। তারাই সবকিছু সামলে রাখে। আরিশের বাবার স্বপ্ন ছিলো ইতালিতে ব্যবসা করা৷ আর সেই স্বপ্ন পূর্ণ করতেই বছর পাঁচেক আগে ইতালিতে নিজেদের অবস্থান তৈরি করতে শুরু করেছিল তেজরিন খান আরিশ।
“কেউ আমার নামে সাইন করেছে?”
আরিশের গলা নরম, কিন্তু তীক্ষ্ণ।
“হ্যাঁ স্যার, ওদের ধারণা এটা অভ্যন্তরীণ কাজ। তদন্তে আপনার উপস্থিতি জরুরি। পরিস্থিতি দ্রুত খারাপ হচ্ছে।”
আরিশ চেয়ার থেকে উঠে দাঁড়াল। ব্লেজারের কলার ঠিক করে নিল। চোখে যেন আগুন আর বরফ একসঙ্গে খেলা করছে। মানুষ বরাবরই বিশ্বাসের মর্যাদা রাখতে পারে না। তারাও পারেনি৷ অভ্যন্তরীণ কাজ মানে অফিসের কেউ না কেউ করেছে।
“আমি যাচ্ছি। আগামীকাল সকালের ফ্লাইট ঠিক করো। আর হ্যাঁ কাউকে কিছু জানানোর দরকার নেই। গট ইট?”
তাইমুম ইসলাম বললেন, “ ঠিক আছে, স্যার। “
আরিশ নিঃশব্দে নিজের কেবিন থেকে বেরিয়ে গেলো। তাইমুম ইসলাম মধ্যবয়সী, যৌবনের শুরু থেকেই খান ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করছেন তিনি।
ড্রইং রুমে বসে আছে তালহা। তামান্না রাতের খাবারগুলো গরম করছে৷ মাঝে মধ্যে তালহা গিয়ে রান্নাঘরে উঁকি দিচ্ছে। কিন্তু তামান্না বিশেষ পাত্তা দিচ্ছে না তাতে। হঠাৎ কলিংবেলের শব্দে নড়েচড়ে উঠল তামান্না। এই সময় কে আসতে পারে সেটা ভালো করেই জানে সে।
অরা নিজের ঘরে। গতকাল রাতে কী কী হয়েছিল সেসব মনে করতে চেয়েও মনে করতে না পারায় বেশ বিরক্ত। বিরক্তিতে বসা থেকে উঠে দাঁড়াচ্ছে, আবার দাঁড়ানো থেকে বসে পড়ছে।
“ এমন ছটফট করছ কেনো? “
আরিশ! অরা গলা খাঁকারি দিয়ে সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে নিজের জামাকাপড় টেনেটুনে ঠিক করার চেষ্টা করে বলল,
“ কই! না তো, মানে ছটফট করছি না তো। “
আরিশ ব্লেজার খুলে বিছানায় ছুড়ে ফেলল। শার্টের বোতামগুলো আলগা করতে করতে অরার দিকে এগোচ্ছে।
“ চেহারা দেখেই বোঝা যাচ্ছে সেটা। “
“ কী… কী বোঝা যাচ্ছে? “
আরিশ অরার একেবারে কাছাকাছি এসে দাঁড়াল। এতটা কাছাকাছি যে দু’জন দু’জনার নিশ্বাস অবধি শুনতে পাচ্ছে। কালো শার্টে এই লোকটাকে এত্ত দারুণ লাগে যে, অরা চাইলেও একপলক না তাকিয়ে পারে না। তার এখন শার্টের বোতামগুলো সব খোলা! অরা শুকনো ঢোক গিলল।
“ তুমি আমাকে কিস করেছ, হামিংবার্ড। “
ফিসফিস করে বলল আরিশ। অরার চোখগুলো বড়ো বড়ো হয়ে গেছে। তোতলানো ভঙ্গিতে শুধালো সে,
“ না মানে আসলে… আমি করিনি। আমি কিছু করিনি হয়তো। “
“ করেছ এবং আমি চাই এটা তুমি প্রতিদিন করো, প্রতিরাতে করো। “
আরিশ অরার কোমড়ে হাত রেখে নিজের সাথে মিশিয়ে ফেলল। ঘনঘন চোখের পলক ফেলে তাকাচ্ছে অরা।
“ আমি কখন করেছি?”
“ গতকাল রাতে। “
লজ্জায় চোখমুখ কুঁচকে ফেলল অরা৷ ইশ! নেশার ঘোরে কী কী যে করেছে সেসব ভেবেই রাগ লাগছে।
“ আমি কি… না মানে আমি কি আরকিছু?”
“ না। আমার থেকে হাজার গুণ ভদ্র তুমি। আমি মাতাল হলে তো গেলো সব….”
অরা কিছু বলল না। মাথা নিচু করে রইলো। আরিশ অরার কপালে ঠোঁট ছুঁইয়ে দিলো, পরপর দুই গালেও কিস করলো। তারপর ঠোঁটে! সময় নিয়ে, বেশ আগ্রাসী থাবা বসাল সে। অরা জানে আরিশের স্পর্শ এমনই। একপ্রকার সয়ে গেছে এখন৷
“ আপনি কি জানতে পেরেছেন, আমি কীভাবে…. “
“ সেসব নিয়ে তোমাকে ভাবতে হবে না, হামিংবার্ড। সে ব্যবস্থা হয়ে গেছে। যে এই কাজ করেছে, তার জন্য তার যোগ্য জায়গা নির্ধারণ করা হয়েছে। “
অরা কিছু বুঝতে পারলো না। তবে মাথা নাড়ল কেবল।
“ শোনো। “
“ জি বলুন। “
“ আগামীকাল সকালে ইতালি যাচ্ছি আমি। “
“ কেনো?”
হুট করে প্রশ্ন করাতে নিজেই অবাক হলো অরা। এভাবে রিয়াক্ট কেন করলো সে? আরিশ মুচকি হেসে বলল,
“ ওখানে অফিসে ঝামেলা হয়েছে। আমাকে যেতেই হবে, পাখি। দুদিনের ব্যাপার। আমি সবসময় তোমার সাথে যোগাযোগ রাখবো। তামান্না থাকবে তোমার সাথে, চব্বিশ ঘণ্টা। “
“ আমি কি ভয় পাই নাকি?”
আরিশ অরাকে কোলে তুলে নিলো। কোলে করে নিয়েই বিছানার দিকে এগোল। ধীরে ধীরে শুইয়ে দিলো তাকে।
“ মোটেও না। তুমি কত সাহসী, সেটা আমার থেকে ভালো আর কে জানে! “
“ মানে… কী বলতে চাচ্ছেন? আমি ভীতু? “
“ তাহলে সাহস দেখাও। কিস মি এগেইন!”
অরা দমে গেলো। ফ্যালফ্যাল দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলো কেবল। অরার এমন অবস্থা দেখে জোরে হেসে উঠল আরিশ।
“ থাক। আপাতত ডিনার করতে চলো। সকালে ফ্লাইট আছে, গোছগাছ করতেও হবে। আমি ফ্রেশ হয়ে আসছি। “
আরিশ বসা থেকে উঠে শার্ট খুলে রেখে ওয়াশরুমের দিকে এগোতে এগোতে বলল। অরাও উঠে বসেছে।
“ ঠিক আছে। “
পোরতা নুয়োভা এলাকার স্কাইস্ক্র্যাপার বিল্ডিংয়ে অবস্থিত অফিসটি দেখে মনে হয় সিনেমার কোনো দৃশ্য। কাঁচে ঢাকা আঠারো তলা বিল্ডিংয়ের করিডোরে হাঁটছে আরিশ। চোখে কালো সানগ্লাস, কালো রঙের কোর্ট।
রিসেপশনে দাঁড়িয়ে এক তরুণী ইতালিয়ান উচ্চারণে বললো,
“স্যার , দ্য বোর্ড ইজ ওয়েটিং ফর ইউ।”
আরিশ সামান্য মাথা নেড়ে ভেতরে ঢুকল।
হামিংবার্ড পর্ব ৩০
কনফারেন্স রুমে ভেতরে যেন টানটান উত্তেজনা। সিএফও, লিগ্যাল হেড এবং একজন নতুন মুখ—লিনা রিচ্চি, কোম্পানির নিউলি অ্যাপয়েন্টেড ক্রাইসিস অ্যাডভাইজর।
তিনি এক তরুণী,চোখে ক্যাট-আই গ্লাস, মাথায় খোলা চুল, ঠোঁটে গাঢ় লাল লিপস্টিক। চমৎকার ইতালিয়ান-ইংরেজি মিশ্রণে কথা বলেন।
