অসমাপ্ত তুমি পর্ব ১৫+১৬
sanara
আজ সামিরা খুব খুশি। কারণ তার নিজের একজন ব্যক্তিগত জামাই আছে, যে তাকে নিজের চেয়েও বেশি ভালোবাসে এবং ভালোভাবে বোঝে।
— “আচ্ছা… আমি তো এতো সুন্দর না। চোখও বিশেষ না। আর আমার হাসি দিলে পরীর মতোও লাগে না। আমি হাসলে মনে হয় যেন গাড়ীর ইঞ্জিন স্টার্ট হয়েছে। আপনি কীভাবে আমার প্রেমে পড়লেন?”
— “আমার চোখে তুমি বিশ্ব সুন্দরী। আমি তোমার শরীর বা সুন্দরতা দেখে প্রেমে পরিনি। আমি তোমার ব্যক্তিত্বের প্রেমে পরেছি—তোমার মন দেখে, আচরণ দেখে, মানুষকে সম্মান করতে দেখেছি, সবাইকে মিনিটে মিনিটে হাসাতে দেখেছি।”
সামিরা অপলক দৃষ্টিতে রিদ্রকে তাকিয়ে আছে।
রিদ্র সামিরার হাত ধরে অফিসের সবাইকে পরিচয় করাল—
— “Hello, attention everyone!” সবাই তাকাল। “আজকে আপনাদের সাথে আমার ওয়াইফের পরিচয় করাতে এসেছি। সবাই অবাক হয়ে থাকুন। আমার ওয়াইফ, বা আপনাদের ম্যাম, এবং আমাদের বিয়েতে আপনাদের সবাইকে ইনভাইট করা হলো। সবাই আসবেন। Thanks।”
রিদ্র সামিরাকে নিয়ে অফিসের বাইরে বের হলো। সামিরা গাড়ীতে বসল। রিদ্র ড্রাইভিং সিটে বসল।
সামিরা হঠাৎ বলল,
— “আচ্ছা… আপনাকে ক্যামেরায় দেখা যায় নি কেন? আপনি তো বাংলাদেশের টপ বিজনেসম্যান?”
রিদ্র বলল,
– “হুম, আমি ইচ্ছেকৃতভাবে ক্যামেরার সামনে আসিনি। আমাকে অনেক ইন্টারভিউতে ডাকা হতো, কিন্তু আমি যেতাম না। আমি আমার ফেস হাইড করে রাখতাম। তবে আগামীকাল একটা ইন্টারভিউ আছে। সেখানে তোমাকে সাথে নিয়ে যাব, কারণ তুমি আমার বউ।”
সামিরা বলল,
— “কীভাবে? কাল তো আমাদের এনগেজমেন্ট।” রিদ্র বলল,
— “সমস্যা নেই। এনগেজমেন্ট শেষ হলেই যাবো।”
সামিরা মুচকি হেসে বলল,
– “আচ্ছা।”
গাড়ি সামিরার বাসার সামনে এলো।
— “আচ্ছা, আমি আসি। কাল দেখা হবে, আর আপনি সাবধানে যাবেন। আল্লাহ হাফেজ।”বলেই সামিরা চলে গেল।
সামিরা বাসায় এসে তার মাকে জিজ্ঞেস করল—
— “তুমি জানতে রিদ্রর আসল পরিচয়, তাহলে কেন আমার কাছে লুকিয়ে রাখলে?”
আলেয়া বেগম বললেন,
– “আরে, রিদ্রন্ম বলেছিল তোকে না বলতে, তাই বলিনি।”
সামিরা আর কিছু বলল না। ফ্রেশ হয়ে ঘুমিয়ে পড়ল। রিদ্রও বাসায় এসে ফ্রেশ হয়ে ঘুমিয়ে পড়ল।
সকালে…
সামিরাদের বাসায় আজ অনেক খাবারের আয়োজন করা হচ্ছে। সামিরা ঘুম থেকে উঠে দেখলো…
সামিরা ঘুম থেকে উঠে দেখলো রিদ্র তার ফোনে কল দিয়েছেন। কল ধরতে যাওয়ার আগেই কল কেটে গেল। দেখলো, রিদ্র বরাবর ১২টা কল দিয়েছেন। সামিরা দ্রুত ঘুম থেকে উঠে রিদ্রকে কল দিলো।
কল ধরার সাথে সাথে রিদ্র বলল—
— “এই মেয়ে, সমস্যা কি তোমার হ্যা? নাকে কি সরিষার তেল দিয়ে ঘুমাও নাকি?”
— *“আসলে…”
রিদ্র বলল,
– “আসলে নাকি নকলে সেটা শুনতে চাইনি?”
সামিরা এবার বাচ্চাদের মতো করে বলে উঠলো,
— “সরি, জামাইজান…”
রিদ্র বলল,
— “আচ্ছা ঠিক আছে, কি করছো?”
সামিরা বলল,
– “ আপনি তো আমার ঘুমের ১২টা বাজিয়েছেন, তাই ঘুম থেকে উঠলাম।”
রিদ্র ভ্রু কুচকে বলল,
— “আজ আমাদের এনগেজমেন্ট, তা কি ভুলে গিয়েছো?”
সামিরা বলল,
– “না, ভুলবো কেনো!”
রিদ্র বলল,
— “আচ্ছা, ঘুম থেকে উঠে ফ্রেশ হয়ে নাও। দেখা হবে আজ।”
সামিরা ঘুম থেকে উঠে ফ্রেশ হয়ে নিলো। আজ তার মা তাকে কোনো কাজ করতে দিচ্ছে না, তাই সামিরা খুশি। মা বলেছে, তাকে রেডি হতে হবে।
সামিরা রুমে গিয়ে দেখলো, তার এনগেজমেন্টের শাড়ীটা খুব সুন্দর। সামিরা শাড়ীটি পরলো, কোমর সমান চুলগুলো ছেড়ে দিলো। আজ এনগেজমেন্টের জন্য মেকাপও করলো। সামিরা যেন পুতুলের চেয়েও সুন্দর লাগছে।
নিজের একটি ছবি তুলে সামিরা রিদ্রকে পাঠালো। কিছুক্ষণ পর রিদ্র রিপ্লাই দিল—
— “তোমার এই সুন্দর্য আমাকে মোহে ফেলছে। এতো স্নিগ্ধ কেনো লাগে তোমাকে? তোমার দিকে যতবার তাকাই, ততবারই কেনো আমি তোমার মায়ায় পড়ে যাই? তোমার মধ্যে কি আছে এমন?”
সামিরা লজ্জায় মুচকি হেসে রিপ্লাই দিল—
— “আপনার ভালোবাসা আছে।”
রিদ্র বলল,
— “হুম।”
সামিরা আর কোনো রিপ্লাই দিলো না। একটু পর রিদ্র এবং তার বাবা এসে পৌঁছালেন।
সামিরাকে রিদ্রের পাশে বসানো হলো। সামিরার চোখে আজ যেন ঝিলিক, আর রিদ্র হালকা গোলাপি ব্লেজার, ভেতরে সাদা শার্ট, দুটো বোতাম হালকা খোলা, চুল স্পাইট করা, ব্র্যান্ডেড ওয়াচ হাতে।রিদ্রকে দেখে সামিরার যেন মিনি হার্ট অ্যাটাক হলো।
রিদ্রের বাবা বললেন—
— “তা, আংটি পড়ানো যাক এখন?”
হ্যা বলেই রিদ্র পকেট থেকে একটি ডায়মন্ডের রিং বের করল। সামিরার হাত রিদ্রের হাতে রাখলো। রিদ্র মুচকি হাসে সামিরার অনামিকা আঙ্গুলে রিং পরিয়ে দিলো। এরপর সামিরা রিদ্রের হাতে সিম্পল ডায়মন্ডের রিং পরিয়ে দিল। সবাই একসাথে বললো— “আলহামদুলিল্লাহ।”
খাবার খেয়ে কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিল সবাই। রিদ্রর ইন্টারভিউয়ের কথা মনে পড়লো, তাই রিদ্র বলল—
— “আমি একটু সামিরাকে নিয়ে বাইরে যাচ্ছি।”
সবার সম্মতি পেল। রিদ্র সামিরার হাত ধরে গাড়ীতে বসাল, নিজে পাশের সিটে বসল। সামিরা আর কথা বাড়ালো না।
কিছুক্ষণের মধ্যে গাড়ি একটি বড় রেস্টুরেন্টে পৌঁছালো। রিদ্র গাড়ি থেকে নামলো, সামিরাও নামলো। রেস্টুরেন্টে প্রবেশের সাথে সাথেই ক্যামেরা ও লাইভ শ্যুট শুরু হলো। রিদ্রের বডিগার্ডরা ভিড় থেকে রিদ্র এবং সামিরাকে নিরাপদে ইন্টারভিউ রুমে নিয়ে গেল।
রিদ্র ও সামিরা বসলো। হোস্ট প্রশ্ন করল—
— “স্যার, আপনার ভক্তরা আজ আপনার ক্যামেরায় দেখবে। অনুভূতি কী?”
রিদ্র বলল,
— “আমার কোনো অনুভূতি নেই।”
হোশট বলল,
— “স্যার, আপনার পাশে বসা মেয়েটা আপনার কী?”
রিদ্র বলল,
— “আমার ওয়াইফ।” (সামিরার হাত ধরে রিদ্র)
হোস্ট প্রশ্ন করলো,
অসমাপ্ত তুমি পর্ব ১৩+১৪
— “স্যার, আপনি বিয়ে করেছেন?”
রিদ্র তার হাত তুলে রিং দেখাল।
হোস্ট আবার বলল,
-“স্যার, কিছু মনে না করলে আমি ম্যামকে কিছু জিজ্ঞেস করতে পারি?”
