Home আকাশপ্রিয়া আকাশপ্রিয়া পর্ব ৪৩

আকাশপ্রিয়া পর্ব ৪৩

আকাশপ্রিয়া পর্ব ৪৩
দুর এ দিলশাদ্ দুআা

বিয়ে বাড়ির গমগমে পরিবেশ। বাড়ি ভর্তি মানুষজন। ছোট বাচ্চারা ছোটাছুটি করছে। বড়রা যথারীতি নানা দিক সামলাতে ব্যাস্ত। চৌধুরী বাড়ির সকলেই তৈরি। আধঘন্টার মধ্যে রওনা দেবে বরযাত্রী নিয়ে। চার ঘন্টার পথ। সকাল গড়িয়ে খানিকটা বেলা হতেই বের হতে হচ্ছে। বাড়িতে অয়ন ঘর সাজানোর লোকজন চলে এসেছে সকাল সকালই।
আকাশ ব্যাস্ত পায়ে সবার আগে নামলো নিচে। বাবা, চাচাদের সাথে সব আয়োজন এর তদারকি করছে সে। আগামীকাল বউ ভাতের আয়োজন এ ঘর বাড়ির সুন্দর মতো প্যান্ডেল হচ্ছে। শুরুতে কমিউনিটি সেন্টার এর কথা ভাবলেও আকাশের দাদা দাদির কথায় শেষ পর্যন্ত বাড়িতেই আয়োজন করা হচ্ছে সবকিছুর।
আকাশ বাবার সাথে কথা বলে ছুটলো আরাফ কে খুজতে। ছেলেটাকে আরও কিছু ফুলের অর্ডার করতে বলেছিলো। করেছে কি না বুঝতে পারছে না। ফুল গুলো এখনো এসে পৌছায়নি। দরজার দিকে পা বাড়াতেই পিছন থেকে ডাক পরলো। অপু এসে দাড়ালো পিছনে। আকাশ বিরক্ত মুখে ঘুরে তাকালো। তাড়া দিলো কি বলতে চায় বলে ফেলতে।

____”জলদি বলো। কাজ আছে।”
অপুর হাতে একটা লিস্ট। কাঁপা হাতে বাড়িয়ে দিলো আকাশের দিকে। আকাশ হাতে নিলো সেটা। ফুলেরই লিস্ট। কি কি ফুল আনতে হবে আরও সেসব। এসবের অর্ডার তো আগেই দেওয়া হয়েছে। বেশকিছুক্ষন আগেই আরশি এসে দিয়েছিলো তাকে। তখনই আরাফকে বলেছে অর্ডার করতে। নতুন করে আবার দরাকর নাকি! চোখমুখ কুচকে বললো,
____”আরও লাগবে! আরশি তো তখন একটা লিস্ট দিলো। এটা সেটা না?”
অপু কাচুমাচু করলো মুখটা। মিনমিনে গলায় বললো,
____”ওহ্ দিয়েছে আরশি? তাহলে তো ঠিকই আছে। জলদি লাগতো। ভাবলাম জানিয়েছে কি না। বাসর ঘরের জন্য আরও এনে দিতে।বলছেন ওনারা।”
____”খোঁজ নিচ্ছি এসে যাবে।”

আকাশ পা বাড়ালো দরজার দিকে। সদর দরজা অবধি যেতেই চোখে পরলো মিনি ট্রাকে করে ফুল নিয়ে আসছে আরাফ। মূলত ফুলের অর্ডার এর দিকটা আরাফ কে দেওয়া হয়েছিলো। বাচ্চা ছেলে, পুরো বাড়ি, বাসর ঘর সব সাজাতে কত ফুল দরকার হিসেব বুঝে উঠতে পারেনি। ডেকোরেশন এর লোকেরা সাজাবোর সময় কম পরায় এখন আবার নতুন করে আনা আরকি। আরাফ নেমে এলো। ডেকোরেশন এর লোকজন সহ সব নামালো ধীরে সুস্থে। আকাশ দাড়িয়ে ইশারা করলো ভিতরে নিয়ে যেতে। আরাফ কাচুমাচু করে এসে দাড়ালো ভাইয়ের সমানে।
____”সরি ছোটদাভাই। আমার জন্য… “
আকাশ হাসলো। চাপড়ে দিলো ভাইয়ের বাহুতে। প্যান্ডেল এর দিকে হাঁটতে ধরতে ইশারা করে বললো,

____”দায়িত্ব নিতে শিখছিস সবে সবে। টুকটাক ভুল হতেই পারে। ইটস ওকে।”
আরাফ খুশি হলো। বড় ভাইয়ের বিয়ে। সে এখন যথেষ্ট বড় হয়েছে। ভার্সিটি শুরু করলো। এসব ছোটখাটো দায়িত্ব না নিলে চলবে নাকি!
এদিককার সব দিক গুছিয়ে একেএকে তৈরি হয়ে গেলো দ্রুত। বের হওয়া হবে এখই। ওদিকে শিয়া দের বাড়িতে কল করে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে বরযাত্রী বের হচ্ছে। অয়ন শেরওয়ানি পরে ফিটফাট হয়ে নামলো নিচে। গুরুজন দের সালাম করে মা,চাচিদের থেকে বিদায় নিয়ো এসে বসলো গাড়িতে। বর এর গাড়ি আকাশ ড্রাইভ করবে। সাথে রাতুল,রাকিব,আরাফ,আরশি,এরিন,আয়াত আর অপু। বাকিরা আর বাদবাকি গাড়িগুলো তে।
গাড়ি চলতেই হাফ ছাড়লো সকলে। আজ বেশ গরম পরেছে। আকাশ ভাইয়ের দিকে তাকালো। সামনে থেকে পানির বোতল হাতে দিয়ে সামনে মনোযোগী দৃষ্টি রাখলো।

____ “সমস্যা হচ্ছে কোনো?”
____”অল গুড।”
____”হলেই ভালো। যাচ্ছো বিয়ে করতে। নড়বড়ে শরীর নিয়ে গেলে বোনটা আমার কি কষ্টই না পাবে।”
____”আমাকে এতো উইক মনে করে লাভ নেই আকাশ চৌধুরী।”
পিছন থেকে রাতুল ফিচেল গলায় বললো,
____”ভাই নার্ভাস হবেন না। প্রথম বার এতটুকু কাঁপা কাপি নরমাল। কিন্তু বেশি কাঁপবেন না কিন্তু। মানে চোখে পড়ে এমন জোরেশোরে কাঁপা চলবে না। এসব মেয়েদের কারবার। কাঁপবে আপনার বউ। সেই জায়গায় উল্টো তা হলে মানসম্মান এর বিষয় আসয়।”
শব্দ করে হাসলো পিছনে বসা সকলে। এরিন এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে রাতুলের দিকে। মিটিমিটি হাসছে। বুকের বা পাশটা ধুকপুক ধুকপুক শব্দ করেছে। এটা আর নতুন কি! রাতুল ভাইকে দেখলে বরাবরই এমন হয় তার। মিষ্টি হেসে মাথা রাখলো আরশির কাধে।
অয়ন সামনে থেকে মোটেই রাগলো না রাতুল এর কথায়। সে তো আর আকাশ নয়। যে কথা কথায় ধমকে উঠবেন। বরাবরই ভাইয়ের বন্ধু দের সাথে কুল সে। রাতুলের গলায় তালে তাল মিলিয়ে বললো,

____”সেটাই। পাশে থাকিস তোরা। কাঁপাকাপির মাত্রা ভুল বশত বেরে গেলে চেপে ধরে থাকবি।”
আকাশ অদেখা হাসলো সবার কথার ধরনে। শব্দ করে বেজে উঠলো ফোন টা। এক হাতে স্টিয়ারিং ধরে অন্য হাত পকেটে গেলো। বের করলো ফোনটা। হাসি ফুটলো মুখে। প্রিয়া!
মেয়েটা অস্থির হয়ে আছে। কলের ওপর কল করেই যাচ্ছে। সেও কি অস্থির হয়ে নেই! আছে তো। সেই পাচদিন আগে দেখা হয়েছে। ছুঁয়ে আদর করতে পেরেছিলো। এই পাঁচদিন হলো মেয়েটাকে জড়িয়ে ধরতে পারছে না। ইশশশ কি যে অসহ্যকর অনূভুতি মেয়েটাকো কাছে না পাওয়া। ফোনটা রিসিভ করলো। তবে মনের ভাব প্রকাশ হতে দিলো না। গম্ভীর রাখলো কন্ঠ।
____”ড্রাইভিং করছি। বলে ফেলো।”
প্রিয়া আহত হলো। এ আবার কি কথা টোন। কেমন রুক্ষ রুক্ষ। নরম গলায় বললো,
____”কতদূর?”
____”আসছি তো গাড়িতে। একটু সময় লাগবে। হেলিকপ্টার আনতেই পারতাম। তোমার বাবার ল্যান্ডিং স্পেস থাকলে।”

____”খালি ক্যাটক্যাটে কথা। এতোদিন পর আসছেন। নরম সরম হয়েও তো কথা বলতে পারেন।”
আকাশ মনে মনে হাসলো। যত দূরে দূরে রেখে কাছে টানবে ততই না পাওয়ার শান্তি মেলে। এই যেমন এখন আকাশ ফোন কেটে দেবে। মেয়েটা কয়েকটা ঘন্টা চাতক পাখির মতো অপেক্ষা করবে। আকাশ কাছে যাওয়া মাত্র অভিমানী কথাগুলে ঠেলে দিয়ে তীব্র অধিকারবোধ দেখাবে। এই জিনিসটা ভীষন এনজয় করে আকাশ। তাছাড়া লজ্জায় মরি মরি অবস্থা। একমাত্র রেগে গেলেই আগ বাড়িয়ে বড় মানুষ এর মতো করে মেয়েটা। আজকাল রাগাতে তাই বেশ ভাল্লাগে। আকাশ কন্ঠ নরম করলো না মোটেই। বরং আরও একটু কঠিন করে বললো,
____”ড্রাইভিং করছি বললাম তো। এখন এতো গল্প করা যায়। আসছি তো। ততক্ষণ ধৈর্য হয়না?”
প্রিয়া বেশ আহত হলো আকাশের এবারের কথায়। খট করে কেটে দিলো ফোনটা। আকাশ ফোন স্ক্রিন এ তাকিয়ে বাঁকা হাসলো। গিয়ে সর্ব প্রথম দেখবে মেয়েটা তাকে দারুণ ইগনোর করছে। আকাশও একই কাজ করবে। তার নিজ থেকে এসে রাগ দেখিয়ে আকাশকে বকাঝকা করবে। কেমন বিবাহিত বিবাহিত ফিল হয় তখন। আকাশের হাসি হাসি মুখের দিকে তাকিয়ে চোখ বাঁকায় অয়ন।

____”কে?”
____”তোমার বোন।”
____”ধমকালি কেনো!”
____”ভালো লাগে।”
____”কষ্ট দিতে ভালো লাগে।”
____”একটু আধতু কষ্ট দিয়ে তারপর যদি পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর মূহুর্ত তৈরি করা যায়। ক্ষতি কি?”
ভাইয়ের দিকে তাকিয়ে চোখ টিপলো আকাশ। অয়ন হাসলো নিজেও।

সৌমি আকাশ দের কটেজে এসে পৌছেছে কাল রাত সাড়ে তিনটের সময়। কটেজে তখন রিয়ান একদম একা। বলা যায় আশেপাশের কটেজগুলোর মধ্যেও তাই। অয়নের বিয়ে উপলক্ষে বন্ধ রাখা হয়েছে কাজ।
বেলা বারোটা। জানালার ভেদ করে আলো এসে লাগছে চোখেমুখে। চোখমুখ কুচকে উঠলো সৌমি। বাড়ির অভ্যাসবশত রিমোট খুজলো পর্দা গুলো টেনে দিতে। পেলো না। হুশ হতেই আবিষ্কার করলো অন্য একটা জায়গায়। মনে পরেছে। কাল রাতে এসেছে চট্টগ্রাম এ। নগ্ন শরীরে চাদর টা টেনে নিলো খানিকটা। পাশ ফিরে খুজলো রিয়ান কে। বিছানা শূন্য। বাথরুম থেকে শাওয়ার নিয়ে বের হলো রিয়ান। বিছানার দিকে তাকালো না। আলমারি থেকে শার্ট যরাচ্ছে গায়ে। বিছানার হেলবোর্ডে হেলান দিয়ে তাকিয়ে রইলো সেদিকে।

মরিচীকার পিছনে ছোটা একটা নেশা কি? হতেই পারে। আমরা যে জিনিস পাইনা জীবনে সে জিনিস এর প্রতি আকাশচুম্বী ইচ্ছে থাকে। জেদ কাজ করে। অয়ন কে সে ভালোবাসেনি কখনো এটা সে নিজেও জানতো। তবে বাবা চাইতো অয়ন আর তার বিয়ে। ব্যাচমেট ছিলো সে আকাশের। আকাশের প্রতি টান টা শুরুর দিন থেকেই। তবে বিদেশে বড় হওয়া,পাশ্চাত্য সংস্কৃতির সংস্পর্শে থেকে বাঙালি আর দশটা নারীর মতো হওয়া হয়ে ওঠেনি তার। মা মারা যায় একদম ছোট বয়সে। বাবা কে ছোটবেলা থেকে দেখতো উগ্র ভাবে চলাফেরা করতে। সৌমির মা মারা যাওয়ার পর তার বাবা বিয়ে করেননি। তবে বাড়িতে অঢেল মহিলার যাতায়াত দেখে অভ্যস্ত সে। বলতে গেলে সে বড় হওয়ার পরও একই ধরনের জীবন যাপনে বাধা দেয়নি তার বাবাও। ক্লাব,পার্টি,মদ এসবে জীবন পূর্ণ ছিলো।
তবে আকাশকে দেখার পর মনে হয়েছিলো বাঙালি মেয়ে হয়ে এদেশে বড় হলে,ধর্মকর্ম মানলে আর পাঁচটা সাধারণ মেয়ের মতো চললে ছেলেটা মানলেও মানতে পারে। তবে সেটা হয়নি। সময়ের যাতাকলে নিজেকে বিলিয়েছে বাজে সঙ্গে।

চোখ বুঝলো সৌমি। রিয়ান এর দিক থেকে চোখ সরাতে। ছেলেটার দিকে কখনো তাকয়নি ভালো করে। শরীরের চাহিদা মেটাতো কাছে আসা বরাবর তাদের। শুরুতে বিষয়টা অ্যাক্সিডেন্ট হলেও পরবর্তী তে কেমন অভ্যাস এ রুপ নিয়েছে।
রিয়ান তৈরি হয়ে ফেন, মানিব্যাগ পকেটে গুজলো। বিছানায় এলোমেলো হয়ে সৌমির দিকে সেভাবে তাকালো না।
____”আমি শিয়া দের বাড়ি যাচ্ছি। বরযাত্রী রওনা হয়েছে। তোমার যাওয়ার দরকার নেই। অযথা ঝামেলা।”
সৌমির মাথা নাড়লো। দু হাতে ইশারা করলো রিয়ান কে পাশে এসে বসতে। রিয়ান বসলে না। আবেদনময়ী ডাক উপেক্ষা করে গম্ভীর গলায় বললো,
____”আমি অন্য সব নারী সঙ্গ থেকে নিজেকে দূরে রাখতে চাই সৌমি। আমার ধৈর্যের বাধ প্রতিবার ভাঙবে না দয়া করে।”
সৌমি শব্দ করে হেসে ফেললো। হাত দিয়ে চেপে ধরে রাখা চাদর টা খানিক আলগা করলো। রিয়ান এর চোখের সমানে ভেসে উঠলো নারী শরিরের ভাজ। কাঁপলো পুরুষ সত্ত্বা। সৌমি ঠোঁট উল্টে ব্যাঙ্গ করলো রিয়ান কে।

____”কেমন পুরুষ তুমি। নারী দেখলেই শরীর নড়েচড়ে ওঠে। এতটুকুন নিয়ন্ত্রণ নেই! শুনেছি সত্যিকারের পুরুষ মানুষ নিজের নারীর ছাড়া অন্য কারোর সমানে টলে না। তোমার বিষয় আসয় অন্য রকম কিন্তু “
রিয়ান বিরক্ত হলো। গত রাতে হুট করেই সৌমি এসে হাজির। দরজা খুলে দিতেই সোজা এসেছে তারই রুমে। সম্ভবত হালকা ড্রিংক ও করা ছিলো। অবশ্য সজ্ঞানে থাকলেও একই রকম সিডিউস এর চেষ্টাায় মগ্ন হয়ে যায়। মেয়েটা আগুন এর মতো। কাছে এলেই ঝলসাতে তৈরি। গতরাতেও সেটার ব্যাতিক্রম হয়নি। তবে এই মূহুর্তে সৌমির কথায় অসহ্য লাগলো তার। প্রিয়ার মুখটা ভাসলো চোখের সামনে। মেয়েটা সমুদ্রের মতো। শীতল করে তাকে। শান্তি দেয়। ওর কথা মনে করলেই উথালপাতাল মন নিমিষেই ঘরে বসে।

____”একটা মেয়ে হয়ে তুমি যখন নিজেকে বিলিয়ে দিতে দু বার ভাবো না। তেমন মেয়ের ফায়দা লুটাই যায়।”
____”ডু ইউ ওয়ান্ট টু এনজয় ইট এগেইন?”
সৌমির উন্মুক্ত বক্ষজোড়ার দিকে তাকিয়ে দীর্ঘশ্বাস ফেললো রিয়ান। দ্রুত পায়ে ঘর থেকে বের হতে হতে বললো,
____”নিজের মতো এনজয় করো দিনটা। ডু ইট ইও্যরসেল্ফ। “
সৌমির বাঁকা হাসলো নিজেও। আরাম করে শুয়ে পরলো বিছানায়। শরীর টা ক্লান্ত লাগছ। অতো জার্নি করে এসে ঘুমিয়েছে ঘন্টাখানেক আগে। লম্বা ঘুম দরকার। ততক্ষণে অয়ন শিয়ার বিয়েটা হতে থাক। আকাশ প্রিয়ার টা না হয় ঘুম থেকে উঠে দেখবে!

বরযাত্তী রওনা দিয়েছে শোনার পর থেকেই বাস্ততার মাত্রা বেরেছে শিয়াদের বাড়িতে। যদিও আনিসুল সাহেব এর কোনো চিন্তাই করতে হচ্ছে না। আকাশ এদিকটায় সব লোকজন ঠিকঠাক করে দিয়ে গিয়েছে আগেই। তাছাড়া গতকাল রেদোয়ান এসেছে,অয়নের ম্যানেজার হাসান তো আছেই। বাড়িতেও রিমির মা বাবা, রাকা, তুষি শিয়ার অফিসের আরও কিছু স্টাফ সবাই মিলে ভিতরের দিক সামলাচ্ছে। বাগানে আয়োজন করা হয়েছে সবার জন্য। শিয়া কে পার্লার থেকে লোক এসেছে সাজাতে। সাজানো শুরু হয়ে গিয়েছে এরই মধ্যে। রাকা, তুষি নিচে রেণুকা রহমানের সাথে কাজ করে সবেই ওপরে গিয়েছে। রেণুকাই পাঠিয়েছে। মেয়েগুলোরও তো শখ আহ্লাদ হয় নাকি! সারাক্ষণ তাকে কাজে হেল্প করতে ব্যাস্ত। শিয়ার ঘরে ভিড় কমেছে।

কনে সাজানো হচ্ছে বিধায় সবাই নিচে যেতে বলা হয়েছে। প্রিয়া, রিমি কে সাজছে পাশাপাশি। রাকা,তুষি এক এক করে শাওয়ার নিয়ে এসে সাজতে বসবে।
বরযাত্রী বাড়িতে এসে পৌছালো তখন ঘড়ির কাটা বিকেল সাড়ে চারটে তে। রাস্তায় জ্যাম কাটিয়ে আসতে আসতে বেশ সময় লেগে গেছে। তাদের আসন দিতে ব্যাস্ত হয়ে আছেন আনিসুল সাহেব। গেট অবধি অয়ন রা আসতেই হৈ হৈ করে গেট আটকানো হলো। বড়দের পাশ দিয়ে নিয়ে ভিতরে গেলেন রিমির বাবা। ছোটদের মজা আনন্দ ওরা করুক। ভির ঠেলে সামনে আসার জায়গা করে দেওয়া হলো প্রিয়া কে। পিছন পিছন দেখা গেলো রিমিকেও। রাকা, তুষিও আছে। আরও অনেক মেয়েরা। সবাই শিয়া,প্রিয়া ফ্রেন্ড, প্রতিবেশী রা।
আকাশ পলকহীন তাকিয়ে রইলো।প্রিয়া হালকা পিংকিশ একটা লেহেঙ্গা পরা। লম্বা চুল গুলো মাঝে সিঁথি করে খুলে রাখা। ছোট্ট একটা টিকলি ঝুলানো সেখানে। পাতলা ঠোঁটে ফুটে উঠেছে পিংক লিপস্টিক টা। আকাশ চোখের সানগ্লাস টা ঠিক করলো। বুকটা ধকধক করে উঠলো। প্রিয়া কিন্তু যথারিতি আকাশকে দেখেও দেখলো না। সোজা এসে দাড়ালো অয়নের সামনে। বর কে মিষ্টিমুখ করিয়ে মুখ ভার করে বললো।

____”টাকা না দিলে নট অ্যালাউ দুলাআআভাইই।”
অয়ন হাসলো। পিছন থেকে তীব্র প্রতিবাদ করে উঠলো রাতুল,রাকিব সহ বাকিরা। আরশি, এরিন রা অয়ন আকাশের পাশ ঘেষে দাড়িয়ে। হাসি হাসি মুখ সবার। এরকম আনন্দ বিয়েতে হয় জানা ছিলো না তাদের। পরিবার এর প্রথম বিয়ে। তাছাড়া এতো ক্লোজ কারোর বিয়ে এর আগে পরিবার এ হয়নি। হলেও পরে নরমাল দাওয়াতে অ্যাটেন্ড করা হয়েছে। সুতরাং এ ধরনের মজা আনন্দ তাদের জন্য বেশ নতুন।
রাতুল রিমিকে এক নজর দেখলো। মেয়েটা সুন্দর সেজেছে। তবে তার দিকে তাকাচ্ছে না।সম্ভবত লজ্জায়। প্রিয়াকে উদ্দেশ্য করে বললো,
____”কিসের টাকা! ভাই বিয়ে করাতে এসেছি। বিয়ে করিয়ে নিয়ে যাবো। মাঝখানে দান খয়রাত করতে হতো তা তো জানা ছিলো না!”

____”সেটা আপনারা যা ইচ্ছে বলতেই পারেন। ঢুকতে দিচ্ছি না ব্যাস। চৌধুরি দের মন বড় না হলে এ বাড়ির মেয়ে দেবো না। কিপটার সংসার থোরাই করবে আমার বোন। এ লোক নিজের একমাত্র শালির খুশির জন্য পকেট থেকে কিছু খসাতে পারে না। দরকার নেই তেমন দুলাআআভাই এর।”
অয়ন এবারে লম্বা হাসি দিলো। ফিচেল গলায় বললো,
____”শালি কে খুশি করতে আমার ছোট ভাইটাকে তোহফা হিসেবে দিলে চলবে?”
আকাশ ভাইয়ের দিকে তাকিয়ে চোখ রাঙ্গালো। আশেপাশে প্রচুর মানুষ জন। অযথা কথা বাড়বে। যেহেতু বিয়ে টা এখনি হচ্ছে না। কি দরকার কথা বাড়িয়ে। ভালোবাসা গোপনে সুন্দর।
প্রিয়া মুখ ভেঙ্গালো আকাশের দিকে এক পলক তাকিয়ে। বাকা গলায় বললো,
____”চলবে না। রসকষহীন মানুষ প্রিয়ার জন্য নয়।”
আকাশ তপ্ত চোখে তাকালো প্রিয়ার দিকে। প্রিয়া দৃষ্টি সুন্দরমতো এড়িয়ে গিয়ে হাত নাড়িয়ে বললো,

____”অন্য অপশন?”
একনজর ভাইয়ের দিকে তাকিয়ে পিছনে নিজের বন্ধু দের দিকে তাকাতেই আকাশ কটমট করে তাকালো ভাইয়ের দিকে। মেজাজ খারাপ হচ্ছে এখন তার। এতো এতো ছেলে মানুষ সকলে হা করে তাকিয়ে আছে প্রিয়ার দিকে। মেয়েটাও বে আক্কেল। এতো সেজেগুজে এসে এতো এতো ছেলের মধ্যে আহ্লাদ করছে। অয়নের বন্ধু সৌরভ এগিয়ে আসতেই হাত টেনে ধরলো রাতুল। গলা নামিয়ে বললো,
____”ভাই মরতে চান নাকি! আজব। অন্যের বউ অন্যের থাকুক। আমাদের মাথাও মাথার জায়গায় থাকুক। তাই নয় কি! বন্ধুর বিয়ে খেতে এসে মাথা হারিয়ে বসে থাকলে চলবে!”
সৌরভ ভ্রু কুচকে দাড়ায় রাতুলের কথা শুনে। চোখের ইশারা করে বোঝায় আদতে বোঝেনি রাতুলের কথা। রাতুল মুখে চ সূচক শব্দ করে হাত এগিয়ে দেখায় আকাশকে। দু হাত এক সাথে করে বোঝা আকাশ প্রিয়ার সম্পর্ক কিছু একটা।

এদিকে চুপচাপ আকাশের পাশ ঘেষে দাড়িয়ে আছে অপু। অয়নের তখনকার কথাটা তার মোটেই ভালো লাগেনি। প্রিয়ার উত্তর তো আরও ভালো লাগলো না। আকাশ কোন দিক দিয়ে কম! মেয়েটার সাহস হয় কি করে এটা বলার। ভিতর থেকে মুরুব্বি রা তাড়া দিলো বরকে দ্রুত ভিতরে ঢুকতে দিতে। এদিকটায় আরও কিছুক্ষণ হৈ চৈ করে অয়নের কাছ থেকে আপাতত পঞ্চাশ হাজার টাকা নিয়ে তবে সরলো প্রিয়া, রিমি রা…
শিয়া নিজের রুমে জানালার পর্দা সরিয়ে তাকিয়ে আছে নিচে। বাড়ির গেটে হৈ হল্লা হচ্ছে বর কে নিয়ে। এতক্ষণ সবই দেখলো সে। প্রিয়ার কান্ডকলাপ এর ধরন জানা আছে তার। সামনে অয়ন বা আকাশের পকেটের অবস্থা যে বেহাল হবে তা বোঝার বাকি থাকে না। তাকে একদম তৈরি করা হয়েছে। মেরুন কালার একটা বেনারসি, গা ভর্তি গহনা। পার্লার এর লোকজন বেরিয়ে গেছে আধঘন্টা হলো। তাকে ঘরে রেখে বাইরে থেকে দরজা আটকে সবাই গেছে নিচে বরের কাছে।

অয়ন কে নিয়ে এসে বসানো হলো বরের জন্য সাজানো মঞ্চে। প্রিয়া ছোটাছুটি করছে। আকাশ দের বাড়ির সকলের সাথে কথা বলছে। অয়নের বন্ধু বান্ধব, আত্মীয় সকলের সাথে মাখোমাখো অবস্থা। কিন্তু এক নজর আকাশের দিকে ফিরছে না। আকাশ সবার সাথে দেখা সাক্ষাৎ করে এসে দাড়িয়েছে ভাইয়ের কাছে। রাতুল, রাকিব এসেই গিয়েছে রেদোয়ান এর সাথে কাজে হাত লাগাতে। রাইসুল দেওয়ান এর মানা তার াকেউ শুনছে না। খাওয়াদাওয়ার পর্ব শুরু করে দেওয়া হ’য়েছে।এ দিকে জলদিই বিয়ের কাজ শুরু হয়ে যাবে। কাজি সাহেব চলে এসেছেন।
প্রিয়া এক হাতে লেহেঙ্গা অন্য হাতে একটা শরবত এর গ্লাস নিয়ে ছুটে এলো অয়ন এর কাছে।

____”খেয়ে নাও ভাইয়া। তোমার কোনো ওষুধ আছে এ সময়? তাহলে হালকা খাবার আনি?”
অয়ন হাসলো প্রিয়ার দায়িত্বশীলতা দেখে। শরবতে চুমুক দিয়ে নরম গলায় বললো,
____”নেই। চিন্তার কারণ নেই। তুমি এনজয় করো।”
____”তা বললে হয়! কনের ছোট বোন আমি। কত দায়িত্ব বলেন। “
____”তা তো ঠিক।”
____”ভেবে বলছেন খিদে পায়নি? খেতে খেতে একটু দেরি হবে কিন্তু আপনাদের। আংকেল বললো গেস্ট রা খেয়ে নিক আপনারা একদম বিয়ের পর একসাথে বসবেন। শরীর খারাপ লাগবে না তো এতো দেরি হলে? অল্প কিছু নিয়ে আসি?”
নাথা নাড়লো অয়ন। গানবাজনা হচ্ছে। প্রিয়ার নিচু হয়ে বলতে হলো কথাগুলো। অয়ন মাথায় হাত রাখলো প্রিয়ার।
____”আমার বোনটা বড্ড দায়িত্বশীল দেখছি! এক কাজ করতে পারো বরের ছোট ভাইয়ের দিকে একটু নজর দিতে পারো। বেয়াইন বলে কথা। ভাইটার আমার মন টা খারাপ একটু।”
অদূরে কড়া চোখে তার দিকেই তাকিয়ে থাকা আকাশকে দেখলো সে। মুখ ভেঙ্গালো আরেকদফা। অয়নের হাত থেকে ফাঁকা গ্লাসটা নিতে নিতে বললো,

____”যার তার সাথে কথা বলতে ইচ্ছে হচ্ছে না।”
কথাটা জোরেই বললো প্রিয়া। আকাশের শুনতে মোটেই কষ্ট হলো না। যার তার মানে! কথার ধরন দেখলে তুলে আছাড় মারতে মন চাচ্ছে। একে-তো এতো এতো মানুষ এর মনে ছোটাছুটি করছে ক্রমাগত। ছেলেগুলো চোখ দিয়ে গিলে খাচ্ছে। সবাই অবশ্যি তাদের দিকেরই আত্মীয় সজন,বন্ধু বান্ধব। ইচ্ছে হচ্ছে মাইকে ঘোষনা করে দিতে,এই মেয়ের দিকে যেনো কেউ না তাকায়।
প্রিয়া গটগট করতে করতে চলে গেলো সেখান থেকে। খানিকবাদেই বর কে নিতে আসা হলো। বিয়ের পড়ানো হবে। শিয়া কে এনে বসানো হয়েছে ফুল দিয়ে বানানো সুন্দর পর্দার আড়ালে। সময় নিয়ে দোয়া,খুতবা পরে বিয়ের কাজ সম্পন্ন হলো। কবুল বলার সময় থেকে ক্রমাগত কাদছে শিয়া। অয়ন উঠে দাড়ালো। ফুলের দেয়াল দু’হাতে ঠেলে সরিয়ে ছলছল চোখে এসে দু হাটু ভেঙে বসলো শিয়ার সমানে। মেহেদী রাঙ্গা হাত জোড়া নিজের হাতের মুঠোয় নিলো। ঠেকালো নিজের চোখে। শিয়া থমকালো পানির স্পর্শ পেয়ে। অয়ন কাঁদছে। শিয়া স্থান কাল ভুল দু হাতে জড়িয়ে ধরলো স্বামীকে। এতো শান্তির মূহুর্ত তাদের জীবনে আগে আসেনি কখনো। সবার চোখে জল এই মূহুর্তে। শিয়া নাক টানলো। কান্না আটকে বললো,

____” বহু আগেই কবুল করে নিয়েছিলাম আমি তোমাকে। আজ পূর্নতা দিয়ে বৈধ করলে আমাকে। কৃতজ্ঞ তোমার প্রতি।”
অয়ন তাকালো রক্তিম চেখে শিয়ার দিকে। দুজনের চোখেই পানি। উঠে দাড়িয়ে নিচু হয়ে চুমু খেলো স্ত্রীর কাপলে।
____”আমার ছিলে, আমার আছো, সামনে হাজার হাজার বছর তুমি আমারই। খোদার কাছে গলা উচিয়ে দাবি জানাবো আমি তোমার। আজীবন…আজীবন…”
শিয়া মাথা নাড়লো। হাসলো কান্না মাখা মুখে। দু হাতে পাশ থেকে চোখ মুছলো প্রিয়া। বোনের এই হাসিটা দেখা তার জনম জনমের শখ ছিলো।

সবাই মিষ্টি মুখ করছে। তাদের বিয়ের এদিক কার কাজ শেষ হওয়া মাত্র কোমড়ে টান পরলো প্রিয়ার। চোখের পলকে ভিড়ের মধ্যে থেকে টেনে ফাঁকা করিডরে দেয়ালে চেপে ধরলো আকাশ। সবাই বিয়ের ওখানটায়। এই মূহুর্তে এদিকে কারোর আসার সম্ভাবনা একদমই কম। কোনো ধরনের ইঙ্গিত না দিয়েই মুখ ডুবালো প্রিয়ার গলায়। প্রিয়া ছটফট করে উঠলো। হুট করে ঘটে গেছে সবটা। সোজা হয়ে মুখটাও দেখে উঠতে পারেনি। আকাশের মাথার চুল খামচে সরাতে চাইলো। আকাশ সরলে না। প্রিয়া প্রথমটা হতভম্ব হলেও অতি চেনা ঘ্রান টা নাকে আসতেই স্থির হলে। আকাশ উন্মাদ এর মতো নাক ঘষলো প্রিয়ার কন্ঠদেশে। এতক্ষন মেয়েটা তাকে ইগনোর করেছে, আকাশ এহনাজ ব্যাক্তিগত নারীর ওপর অন্য রা চোখ দিয়েছে। সব রাগ উগড়ে দিলো মেয়েটার কন্ঠদেশ,গ্রীবায়।
প্রিয়ার শরীর কেপে উঠছে। এক হাতে শার্ট খামচে অন্য হাত গলিয়ে দিলো আকাশের চুলে। চোখ বুঝে রইলো। ঠোঁট কামড়ে অনূভব করলো আকাশের ছোয়া। অবশ হয়ে আসা শরীর নিয়ে আকাশকে ঠেলে সরাতেও পারলো না। আকাশ মুখ তুললো না। গলায় মুখ ডুবিয়েই হাস্কিস্বরে বললো,

_____”ছেলেগুলোর সামনে এতো ছোটাছুটি করছিলেন কেনো!”
_____”জেলাস?”
_____”খুউউউব। তুমি আমার। পুরোটা আমার। তোমাকে দেখা,ছোয়া,অনূভব করা সব কিছুর অধিকার একমাত্র আমার।”
_____”বললেই হলো মুখে মুখে। কে দিলো অধিকার?”
____”বিয়ে করে ফেলি আমরা। চলো পাখি…আই কান্ট রেসিস্ট মাইসেল্ফ এনিমোর। আর ধৈর্যে কুলাবে না আমার।”
নেশাক্ত কথার ভার সামলানো বড্ড দায় প্রিয়ার জন্য। কেমন দিনদুনিয়া এলোমেলো হয়ে আসে তার। আকাশের চুল খামচে রেখে কোনোমতে বললো,

____”দু টো বছরই তো। দেখতে দেখতে কেটে যাবে।”
আকাশ কামড় দিলে এতক্ষণ ধরে শুষে নেওয়া জায়গাটায়। রক্ত জমে গেছে দু জায়গায় একদম। দ্রুতই কালশিটে পরে যাবে। ঠোঁট ছুয়িয়ে চুমু একে মুখ তুললো প্রিয়ার দিকে। মেয়েটা ঠোঁট কামড়ে মাথা ঠেকিয়ে রেখেছে দেয়ালে।বৃদ্ধাঙ্গুলিয়ে স্লাইড করলো প্রিয়ার গোলাপি ঠোঁট। লিপস্টিক উঠলো না। তিরতির করে কাঁপতে থাকা মুখটা অবলোকন করে হাস্কিস্বরে বললো,
_____”আমার কাটবে না। এক মূহুর্ত কাটবে না। বিয়ে হবে আমাদের। জানিয়ে হোক বা না জানিয়ে। এই সপ্তাহেই হবে। দু বছর পর তোমার বাবা মা ফিরলে না হয় সকলকে জানিয়ে যা হওয়ার হবে। কিন্তু আমি তার আগেই তোমাকে হালাল করে ছাড়বো।”
খানিকটা দম নিলো আকাশ। কপালে কপাল ঠেকালো। ফিসফিস করে বললো,

_____”এখনই তোমাকে নিজের করতে ইচ্ছে হচ্ছে। তোমাকে গভীরে ছুঁতে না পারার আফসোস এ ভস্ম হচ্ছি আমি। কি করবো আমি বলোতো? ভুল করে ফেলার আগেই বৈধ স্বীকৃতি দিতে চাই আমি তোমাকে। আগে পরে বিয়েটা তো পরিবার দেবেই। হালাল সম্পর্ক ঝুলিয়ে রেখে পাপ বাড়ানোর থেকে গোপনে পূর্নতা দিয়ে রাখা দোষের?”
প্রিয়া চোখ বুজে এতক্ষণ মন দিয়ে শুনছিলো সব কথাগুলো। চোখ খুললো এবারে। আকাশের বাচ্চাদের মতো আবদার করা কন্ঠে পাগল হয় বরাবরই সে। এক হাত আলতো ভাবে ছোয়ালো আকাশের গালে। চোখে চোখ রাখলো খুব কষ্টে। বুকের তোলপার থামিয়ে নরম গলায় আচমকা বললো,
____”সামনে শুক্রবার চলবে?”
প্রিয়ার কথা বুঝতে পারলো আকাশ। প্রিয়া বিয়ে করতে চাইছে। নাকে নাক ঘষলো আকাশ। হাস্কিস্বরে বললো,
____”দেরি হয়ে যায় । তবুও খুব চলবে…”
প্রিয়া এবারে দু হাতে ঠেললো আকাশকে। সতর্ক গলায় বললো,
____”সরুন। বাড়ি ভর্তি মানুষ কেউ চলে এলে কেলেঙ্কারি ঘটবে।”
____”তাও যদি কট দিয়ে বিয়ে দিয়ে দেয়। বাঁচি আমি।”
শব্দ করে হেসে ফেললো প্রিয়া। দু হাতে জড়িয়ে ধরলো আকাশকে। মাথা রাখলো আকাশের বুকের বা পাশে। স্পষ্ট শুনতে পেলো হৃদপিণ্ডের বিদ্রোহ।

বর কনে সহ সকলের খাওয়া দাওয়ার পর্ব চুকেছে। পরিচয় পর্ব শেষে ছেলেমেয়েদের মজা করতে দিয়ে বড়রা গেলো অন্য দিকে। নিজেদের মধ্যে কথাবার্তা বলতে। একেরপর এক গান বাজানা হচ্ছে। নাচ গানে মত্ত সকলেই। অয়ন শিয়া পাশাপাশি হাত ধরে বসে আছে। প্রিয়া আকাশও এসেছে খানিকক্ষণ হলো। ওরাও বসেছে অয়ন শিয়ার পাশে। হাসিমুখে দেখছে ভাইবোন, বন্ধু বান্ধব দের আনন্দ। আচমকা আরশি এসে হাত ধরে টানলো অয়ন শিয়া কে। শিয়া মাথা নাড়লো লজ্জায়। নাচগান বরাবরই তাকে দিয়ে হয়না। লজ্জায় মরেই যাবে। বিয়ের কনে হয়ে নাচছে! ভাবা যায়। তবে অয়ন মানা করলো না সে নিজে উঠে গেলো। শিয়া মানা করেও সারতে পারলো না। অয়ন হাত বাড়িয়ে এ যাত্রায় টেনে নিয়ে গেলো শিয়া কে। উচ্চস্বরে গান বাজছে এখন আরও।
হৈ হৈ করে উঠলো উপস্থিত সবাই। লজ্জায় রাঙা হলো শিয়ার মুখ। সবাই হাসতালি, শিষ বাজিয়ে চিয়ার আপ করছে তাদের। প্রিয়া খিলখিলিয়ে হেসে তাকালো আকাশের দিকে। মৃদু হাসলো আকাশও।
অয়ন সবার দিকে চোখ বুলিয়ে মুচকি হেসে পেঁচিয়ে ধরলো শিয়ার লতানো কোমড়। কানের কাছে মুখ নামিয়ে আনলো। গানের তালে তালে মৃূদু নাচের ছন্দ তুলছে সে অয়নের সাথে। অয়ন ফিসফিস করে বললেো,

আকাশপ্রিয়া পর্ব ৪২

____”শত অপেক্ষার পর তোমাকে নিজের নামে হালাল স্বীকৃতি দিলাম জান। খোদার কাছে এক জীবনে তোমাকে নিজের করে পাওয়া ছাড়া আর কিচ্ছু চাইনি বোধহয়। তবে এবার আরেকটু লোভি হবো। তোমার সাথে এক জনম, একসাথে একটা সংসার আরও অনেককিছু চাইবো খোদার কাছে। বিচ্ছেদ আমাদের আর স্পর্শ না করুক।”
অয়নের কথায় কি ছিলো জানা নেই শিয়ার। আচমকা কেঁদে ফেললো সে। লজ্জা শরমের মাথা খেয়ে দু হাতে জড়িয়ে নিলো অয়নকে। ফুঁপিয়ে উঠলো ঘাড়ে মুখ গুঁজে। কান্না আটকে কোনোমতে আউড়ালো,
____”স্পর্শ না করুক, বিচ্ছেদ আমাদের আর স্পর্শ না করুক…”

আকাশপ্রিয়া পর্ব ৪৪