Home আকাশপ্রিয়া আকাশপ্রিয়া পর্ব ৫৫ (২)

আকাশপ্রিয়া পর্ব ৫৫ (২)

আকাশপ্রিয়া পর্ব ৫৫ (২)
দুর এ দিলশাদ্ দুআা

খানিক পরপর আকাশের আশেপাশে ঘুরঘুর করছে প্রিয়া। আকাশ ভুলেও তাকাচ্ছে না তার দিকে। প্রিয়া দিব্যি বুঝতে পারছে না করা সত্ত্বেও কটেজের বাইরে যাওয়ায় রাগ করেছে মানুষ টা। শিয়া ফিরে একদফা ধমকেছে তাকে। এইটুকু সময়ের মধ্যে তাকে না দেখতে পেয়ে, আকাশ যে কি পরিমাণ ঘাবড়ে গিয়েছিলো তা টের পাচ্ছে হাড়ে হাড়ে।
বিকেলে লেকের পার থেকে নিয়ে আসা সেই আহত পাখিটা এই মূহুর্তে আকাশ প্রিয়ার রুমের বারান্দায় রাখা। প্রিয়া ভীষন যত্নের সাথে আঘাতের স্থানে ওষুধ লাগিয়ে দিয়েছে। যদিও কোনো ভাবেই বাচ্চা পাখিটার উড়ে যাওয়ার শক্তি নেই।
আজকের আবহাওয়া ভীষন সুন্দর। পাহাড়ের আনাচেকানাচে ঘোরার জন্য একদম মোক্ষম ওয়েদার যাকে বলে। তবে সে সব আশায় পানি তো সে নিজ হাতে ঢেলেছে। রাত বাড়ছে ধীরে ধীরে। কিন্তু আকাশ ভুলেও একটা শব্দও উচ্চারণ করেনি প্রিয়ার সাথে। বরং মুখ গুঁজে আছে ফাইলপত্ররে।

—’ পাখির ছানাটা উঁচু গাছ থেকে পরে একটা ডানা ভেঙে ফেলেছে। একদম নড়াচড়া করতে পারছিলো না। আমি তার জন্যই…’
প্রিয়ার কথা শেষ হয়না। আকাশ আলগোছে উঠে ওয়াশরুমে ঢুকে দরজা বন্ধ করলো। প্রায় মিনিটের মাথায় শোনা গেলো শাওয়ারের শব্দ। ঠোঁট উল্টালো প্রিয়া। কথা না বললে বিষয়টা মিটমাট হবে! অযথা রেগে থাকার কি মানে!
আকাশ বের হলো প্রায় আধঘন্টার মাথায়। প্রিয়া তখন ওয়াশরুমের সামনে চেয়ারে বসে ঝিমুচ্ছে।
—’ পাখির ছানার ডানা ভেঙেছে। এখন ঝিমুতে ঝিমুতে তুমি উপুড় হয়ে পরে নিজের মুখ ভাঙো।’
আকাশের গমগমে কন্ঠের ধমকে ধ্যান ভাঙলো প্রিয়ার। ঝটপট উঠে দাড়িয়ে আকাশের সামনে চলে এলো।
—’বিয়ের একদিন যেতে না যেতেই আসল রুপ দোখাতে শুরু করে দিয়েছেন বুঝি? বাকি সব স্বামীর মতো ঝগড়া,ধমকাধমকি?’
—’কফি নিয়ে এসো। হাঁটতে পারবে?’
দেখছেই দিব্যি হাটা চলা করছে। তাও কথায় কথায় একই প্রশ্ন! আবার সেই উল্টাপাল্টা প্রশ্ন! প্রিয়া নাকমুখ কুঁচকে নিচে ছুটলো কফি আনতে।
প্রিয়া চোখের আড়াল হতেই আকাশ হাসলো মিটমিটি। একটু আধতু রাগ না দেখালে এ মেয়ের জীবনেও মনে থাকবে না কথা শোনার কথা। আজ পাখির ছানা আনতে ছুটেছে, কাল দেখা যাবে জঙ্গল থেকে শেয়াল টেনে নিয়ে আসবে। তাছাড়া তাদের আসেপাশে মানুষরুপি শেয়ালেরও তো অভাব নেই। সতর্ক না থাকলে চলবো কেনো!

—’ আপনি এখানে কেনো? এতো রাতে! আমাকে জোর করে বের করলেন। কত কাহিনি করে বের হয়েছি জানেন?’
—’দেখতে মন চাইলো তোমাকে। তাই।’
রিমি অস্থির ভঙ্গিতে এদিকসেদিক তাকালো। বাড়ির কেউ-ই এখনো ঘুমায়নি হয়তো । ক্ষুনাক্ষরেও যদি টের পেয়ে যায় কেলেঙ্কারি ঘটবে একটা। রাতুল আলগোছে রিমির হাত টেনে গাড়ির ওপাশে এসে নিজেদের আড়াল করলো। রিমির বাড়ির সদর দরজা তো দূর। ওদিকে দোতলায় বারান্দায় দাঁড়ালেও শুধু গাড়িই চোখে পরবে। তার এপাশে মানুষ দু’জনকে নয়। বাতাসে উড়তে থাকা রিমি চুলগুলো গুঁজে দিলো কানের পাশে।
—’ খেয়েছো?’
—’হুমম। আপনি?’.
—’খেতে এলাম।’
—’ খাননি এখনো?’
—’সেটাই তো বললাম। খেতে এলাম।’
রিমির মুখটা শুঁকিয়ে গেলো। মলিন মুখে বললো,
—’ সবার তো ডিনার শেষ। ভাত বা রুটি কিছুই তো নেই এখন। অন্য কিছু খাবেন? ‘
রাতুল ঠোঁট টিপে হাসলো। মুখটা দুখি বানিয়ে অসহায় গলায় বললো,
—’ ভীষন খিদে পেয়েছে। অন্য কিছুই চাই এখন।’
—’ টোস্ট খাবেন? সাথে অমলেট?’
—’বাজে কম্বিনেশন। ‘
—’তাহলে? ‘
—’অন্য কিছু।’
—’ নুডলস? ‘
—‘উহু।’
—“ফ্রিজে মাংশ আছে। মুড়ি দিয়ে দেবো?’
মাথা নড়লো রাতুল। শুকনো ঠোঁট জিবে ভিজিয়ে বললো,
—’অন্য কিছু। ‘
রিমির মেজাজ এবার চটে গেলো। তেতে উঠলো একপ্রকার।

—’ কত রিস্ক নিয়ে বের হয়েছি জানেন? অবিবাহিত মেয়ে একেতো। অন্যের সাথে বিয়ে ঠিক হয়ে আছে। এসেছি প্রেমিক এর সাথে রাত দুপুরে দেখা করতে। কেউ দেখে ফেললে মুখে চুনকালি পরবে। খিদে পেয়েছে কিছু একটা খেয়ে নিলেই হয়, যা দিতে চাইছি। তা নয়। হাজার একটা বায়না। আমি আপনার বিয়ে করা বউ? যেগুলো বললাম এর মধ্যে কোনোটা হলে আনছি, না হলে কটেজে ফিরে যান। ‘
হড়বড়িয়ে কথাগুলো বলে থামলো রিমি। মুখে বিরক্তির ছাপ। বারবার তাকাচ্ছে বাড়ির দিকে। রাতুল অদেখা হেসে যাচ্ছে ক্রমাগত। এইতো সেই তেজ। যে তেজ নিয়ে তাদের প্রথমদিন সাক্ষাৎ হয়েছিলো।
—’ যেটা চাইবো দেবে?’
—’দেওয়ার হলে দেবো না?’
—’ চুমু।’
চক্ষু কপালে উঠলো রিমির। ওদিকে রাতুল বড্ড সিরিয়াস মুখে আবদার করে তাকিয়ে আছে। রিমি দু কদম পিছিয়ে দাড়ালো। কাটকাট কন্ঠে বললো,
—’ ফাজিল কোথাকার। আমি আরও ভাবলাম সত্যিই খিদে পেয়েছে। ‘
—’পেয়েছে তো। সত্যিই খিদে পেয়েছে। ‘
—’ বাবা কে রাজি করান। খিদেও মেটাবো।’
রিমি বাঁকা হাসি দিয়ে মাথার ওড়না টেনে ছুটে গেলো বাড়ির ভিতর। সদর দরজা বন্ধ করার সময় চোখ টিপলো রাতুলকে লক্ষ্য করে। শব্দ করে হেসে ফেললো রাতুল।

আকাশ এখন বিছানায় বসা। বিছানার হেলবোর্ডে পিঠ ঠেকিয়ে এখন মনোযোগ ফোন স্ক্রিনে।
প্রিয়া মুখোমুখি বসে আছে। সবেই শাওয়ার নিয়ে এসেছে। গায়ে আকাশের একটা শার্ট পরা। উদ্দেশ্য অবশ্যই আছে এটার পেছনে। সিডিউস করে হলেও যদি রাগ ভাঙানো যায়! এটা অবশ্য রাকা,তুশির বুদ্ধিতে করা। তবে আকাশ তাকায় নি অবধি এখনো।
প্রিয়া ক্রমাগত বকে যাচ্ছে এটা সেটা। তবে আকাশ সে-সব শুনছে বলে মনে হচ্ছে না। তাতে প্রিয়া হার মানার পাত্রী একদম নয়। আকাশের হাঁটুতে ধাক্কা দিয়ে গদগদ গলায় বললো,
—’জানেন পাখির ছানাটার নাম রেখেছি কি?’
আকাশ নিশ্চুপ। কফিতে চুমুক দিতে দিতে আড়চোখে একবার দেখলো প্রিয়াকে। সে বারান্দায় রাখা পাখির খাঁচা টার দিকে এক নজর দিয়ে পুনরায় বললো,

—’আপনি জানবেন কি করে। নাম তো আমি রেখেছি। ওর নাম রেখেছি পিংকি। সুন্দর নাম না?’
গরম কফিতে ঠোঁট পুড়লো মনে হয় আকাশের। চোখ বুজে শ্বাস নিলো জোরে জোরে। পাখির নাম পিংকি রাখে কে! কমনসেন্সের কতটা অভাব হলে একটা পাখির নাম কেউ পিংকি রাখতে পারে। আকাশ গম্ভীর কন্ঠে বললো,
—’ দু’দিন পর আরেকটা পাখি পাকড়াও করে সেটার নাম কি বান্টি দেবে? পিংকির প্রেমিক বান্টি?’
প্রিয়া বোধহয় আকাশের হেয়ালি পছন্দ করলো না। কত শখ করে নাম দিলো পাখিটার। এরকম মজা করার মানে হয়! তবে এতক্ষণ পর আকাশকে কথা বলতে দেখে মনে মনে খুশিই হলো। চাইলো আকাশের মন রাখতে। উৎসাহের সাথে জবাব দিলো,
—’ বান্টি নাম আপনার পছন্দের? তাহলে রাখবো আরেকটা পেলে।’
দীর্ঘশ্বাস ফেলে আকাশ। কাকে কি বলছে সে। আকাশের আর কোনো কথা না শুনতে না পেরে প্রিয়া একপ্রকার ঘেষে আসলো আকাশের কাছে। আকাশের ভাজ করা উরুর ওপর হাত রেখে আদুরে কন্ঠে বললো,

—’ আর ভুল হবে না। আমাকে নিয়ে টেনশন করেন জানিতো আমি সেটা। আজ যা হয়েছে,আর হবে না।’
—’দূরে সরে বসো।’
—’কেনো? যাবোনা।’
—’ বাচ্চা বিয়ে করেছি। ছুঁয়ে দিলে ফোস্কা পরে। অথচ গা ঘেঁষে আমাকে মাতাল করতে ওস্তাদ।’
—’ক্যাটক্যাট করবেন না তো। বিয়ে হলো সবে পরশু। অথচ মনে হচ্ছে বিশ বছর সংসার করে হালিখানেক বাচ্চা হয়ে গিয়েছে। বউ এখন আর পছন্দ হচ্ছে না। তাই এমন ব্যাবহার। করেছি না হয় ভুল। কথা কথায় বাচ্চা বলেন। বাচ্চারাই তো এমন ভুল করে। আমাকে নিয়েই এতো বিরক্ত হন। আমাদের বাচ্চা আসলে তখন কি করবেন? হ্যা? ‘
আকাশ তাকায় একঝলক প্রিয়ার দিকে। সদ্য শাওয়ার নিয়ে এসেছে। পরনে আকাশেরই একটা শার্ট। কোমড়ে একটা স্কার্ট জড়ানো। বড্ড আবেদনময়ী রুপে রংঢং করছে। আকাশের কেমন মস্তিষ্ক শূন্য শূন্য লাগছে। আর কিছুক্ষণ রাগের অভিনয় করে থাকাই যায়। মেয়েটার এমন পাগলের মতো প্রলাপ শুনতে বেশ লাগছে। কি সুন্দর অবলীলায় তাদের বাচ্চার কথাও বলে দিলো! স্বাভাবিক সময় হলে কি বলতো?
এতগুলো কথা বলার পরও আকাশের রেসপন্স না পেয়ে প্রিয়া উঠে দাড়ালো বিছানা থেকে। কোমড়ে হাত রেখে ঝুকলো আকাশের দিকে। এক হাত রাখলো আকাশের কাঁধে। কেমন একটা কন্ঠে বললো,

—’ এক রাতে বউয়ের ওপর থেকে আগ্রহ হারিয়ে ফেললেন বুঝি!’
—’ স্টুপিড কোথাকার।’
আকাশের ধমকে প্রিয়াও চোখ রাঙালো একই সাথে। সামনে আসা ভেজা চুলগুলো ঠেলো পিছনে দিলো। নিজের শার্টের একটা বোতাম আলগা করে ঠোঁট কামড়ে দুষ্টু ভঙ্গি করে বললো,
—’’ ধমকানোর কিছু নেই। আপনাকে বশে আনতে আমার এই শার্টের একটা বোতাম খুলে দেওয়াই যথেষ্ট। ‘
প্রিয়ার এহেন কথায় বাকহারা হলো আকাশ। সবেই কফি মুখে তুলেছিলো। গরম কফি নাকে মুখে উঠে গেলো তার। চোখমুখ কুঁচকে এলো বিরক্তিতে। প্রিয়া খিলখিল করে হেসে উঠলো আকাশের দূর্দশা দেখে। দ্রুত হাতে লাগিয়ে ফেললো সদ্য খোলা বোতাম টা। আকাশ খানিকক্ষণ স্থির হয়ে থেকে আচমকাই ঠোঁট টিপে দুষ্টু হাসলো। বসা থেকে উঠে এক ধাক্কায় প্রিয়াকে ফেলো দিলো বিছানায়। বড্ড সিরিয়াস কন্ঠে বলে উঠলো,
—’শুধু একটা বোতাম? খোলাখুলির ব্যাপার যেহেতু! পরিমাণ আরেকটু বাড়ানো যায় হয়তো।
মিসেস চৌধুরী! প্লিজ, আপনার বশে আসতে চাই। আমাকে বশে আনতে কি করতে হবে জলদি করে ফেলুন। ‘
প্রিয়া শ্বাস আটকে পরে আছে। আকাশ যে এত সহজে এরকম করে বসবে তা কে জানতো। আকাশের দু হাতের চিপায় নড়েচড়ে উঠলো মেয়েটা। মিনমিন করে বললো,

—’ আ- আমি তো…’
—’মজা করছিলেন? নাকি আমাকে বিরক্ত করছিলেন? ওহ্ আপনি বুঝি আমাকো সিডিউস করছিলেন। মিসেস চৌধুরী, আমি সিডিউস হয়ে গিয়েছি। পুরোপুরি। ‘
কোন যাতাকলে পরলো সে ভেবে পেলো না। প্রথম রাতেই আকাশের যে দানবীয় রুপ দেখেছে। সেটা মনে করতেই হাড় হীম হয়ে এলো। কেঁপে উঠলো সর্বাঙ্গ। আকাশ অনুমতির অপেক্ষায় নেই। তার ব্যাস্ত হাত এক-একে খুলে ফেলেছো প্রিয়ার গায়ে জড়ানো তারই শার্টের সবগুলো বোতাম। চোখের সমানে উন্মুক্ত হয়েছে নারী দেহের সবচেয়ে সুন্দর অংশ। হা করে জোরে জোরে শ্বাস নিলো আকাশ। বিনাবাক্যে মুখ ডুবিয়ে দিলো সে বক্ষ বিভাজনের ভাজে। নাক ঘষলো উন্মাদের মতো। প্রিয়ার দু হাত খামচে ধরে আছে বিছানার চাদরের অংশ।
আকাশের খসখসে হাতের দখল প্রিয়ার তুলতুলে উদরে। মেরুদন্ড বেয়ে নেমে গেলো শীতল স্রোত। জ্বলে উঠলো সর্বাঙ্গ। দুজনেরই শরীরে উত্তাপ ছড়ালো অগ্নি স্ফূলিঙ্গ। প্রিয়া এলোমেলো হয়ে গেলো এক নিমিষেই। দু হাতে আকাশের কাধ খামচে ধরে অসহায় কন্ঠে বললো,

—’ ইট স্টিল হার্টিং। আ-আজ…না..আমার ভয়..’
আকাশের বাদামি অধর দখল করে নিলো মেয়েটার গোলাপি, পাতলা ওষ্ঠজোড়া। বন্ধ করে দিলো কথা বলা। গভীর আশ্লেষে শুষে নিলো অধর সুধা। কয়েক সেকেন্ডের জন্য ঠোঁট সরিয়ে হাঁপাতে হাঁপাতে প্রশ্ন ছুড়লো,
—’ কিসের ভয়? ফার্স্ট টাইম এটা? ‘
—’আ-আপনি…আপনি কথা রাখেন না। ভয় করে আমার।’
আকাশ ঠোঁট টিপে অশ্লীল হাসলো। নাক ঘষলো প্রিয়ার কন্ঠদেশে। মৃদু কামড় বসিয়ে হাস্কিস্বরে বললো,
—’ ভয়! কিসের! আমি ভার্জিন ছেলে। আমারও অভিজ্ঞতা নেই তো। ‘
কি আশ্চর্য! লোকটা বলে কি। এখনো ভার্জিন৷ প্রিয়ার বলতে ইচ্ছে হলো বিয়ের প্রথম রাতে ওসব কি ছিলো! তবে লজ্জায় বলা হয়ে উঠলো না। আকাশ অভিনয়ে সেরাহ। মুখটা ভীষন দয়ালু বানিয়ে প্রিয়াকে উদ্দেশ্য করে বললো,

আকাশপ্রিয়া পর্ব ৫৫

—‘আজ রাতের জন্য কি একটু বেশিই চিন্তা হচ্ছে মিসেস চৌধুরী? থাক এতো চিন্তা করে শরীরটা দূর্বল করবেন না আমি মানুষই, বাঘ ভাল্লুক না। আপনার সদ্য বিয়ে করা স্বামী। ভয় পাবেন না। আমিও তো সদ্য প্রথম বার বিয়ে করলাম। আমি কি ভয় পাচ্ছি? আপনিও পাবেন না।’
প্রিয়াকে আর কিছু বলার সুযোগই দেওয়া হলো না। মিনিটের মাথায় ঘটে গেলো যা ঘটার। ঘন নিঃশ্বাস আর গোঙানো ছাড়া নিরব হলো সবকিছু। দু হাতে আকাশকে খামচে ধরে নিজেকে সমর্পণ করতে হলো প্রিয়াকে। আজ রাতটা দীর্ঘ হতে চলেছে, এটা বুঝতে বাকি থাকার কথা নয় তার।

আকাশপ্রিয়া পর্ব ৫৬