আনহেলদি অবসেশন পর্ব ৩১
কায়নাত খান কবিতা
অন্ধকারে আচ্ছন্ন ঘরটিতে ফ্লোরের ওপর এলোমেলোভাবে নিজেকে গুটিয়ে বসে থাকে অরিন।
নিস্তব্ধতার ভেতর তার নিঃশ্বাসগুলো যেন ভারী হয়ে ওঠে, আর চারপাশের অন্ধকার তার একাকিত্বকে আরও গভীর করে তোলে।
থেকে থেকে তার মুখ থেকে বেরিয়ে আসে শুধু দীর্ঘ নিঃশ্বাস।চোখের কোণ বেয়ে নীরবে গড়িয়ে পড়ে অশ্রুধারা।
হাত তুলে চোখের পানি মুছতে যাবে ঠিক তখনই তার দৃষ্টি আটকে যায় নিজের হাতের ওপর,
চামড়ার গায়ে স্পষ্ট হয়ে থাকা দাগগুলোর দিকে তাকিয়ে অরিন মুহূর্তের জন্য থমকে যায়।
পরক্ষণেই সে পাশ ফিরে তাকায় খাটের দিকে,
কতটা নির্ভার ভঙ্গিতে উল্টো হয়ে শুয়ে আছে কিংশুক।
খাটের ওপর ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা দুটো মানব দেহির পোশাক এবং কিংশুকের উদোম পিঠ ছাড়া আর তেমন কিছুই চোখে পড়লো না অরিনের।
অচিরেই তার বুকটা ভারি হয়ে আসে অরিনের ।
চোখের সামনে একের পর এক ভেসে উঠতে থাকে তার সঙ্গে ঘটে যাওয়া কিছু ভয়াবহ বাস্তবতার ছায়া।
‘’কিছু ক্ষণ পূর্বে’’
কিংশুকের মাদকাময় কন্ঠস্বর বলে দিচ্ছে আজকে আর তাকে আটকাতে পারবে না অরিন। তার সাধ্যি নেই কিংশুককে আটকানোর। এতো দিন ধরে পালিয়ে, এখানে সেখানে বেড়িয়ে গিয়ে ও শেষ রক্ষা হলো না তার।
অচিরেই চোখে ঝাপসা দেখতে থাকে অরিন। কিংশুকের রাশ ভারি নিঃশ্বাস উপচে পড়ে অরিনের সমস্ত মুখে।
—- দিস ইজ মাই ফার্স্ট টাইম কিং।’’
— এন্ড আই ওয়োন্ট বি জেন্টাল, সরি!’’
—-কিং।’’
—– ডোন্ট ডিস্টার্ব বেবি গার্ল। ড্যাডি অন মুড।’’
এক হাতে অরিনের ধনুকের ন্যায় কটিদেশ
টেনে নিজের কটিদেশের সঙ্গে মিশিয়ে নেয় কিংশুক। তীর তীর করে কেঁপে ওঠে অরিনের ঠোঁট।
—– কিং…!’’
—- ডোন্ট…!’’
এক হাতে টান মেরে অরিনের গলা হতে ওড়নাটি ফেলে দিয়ে নিজের মুখ গুঁজে দেয় অরিনের উন্মুক্ত গলার ভাঁজে , টুকরো টুকরো চু’মুতে ভরিয়ে ফেলতে থাকে তাকে। কিংশুকের দাঁতের তীব্র দংশনে অরিনের পাতলা চামড়া প্রায় ভেদ করে যাচ্ছিল। মুখ থেকে অস্পষ্ট আর্তনাদ বেরিয়ে আসতে থাকে অরিনের। খামচে ধরে কিংশুকের চুল গুলো। এ পযার্য়ে কিংশুক আরো গভীর ভাবে স্পর্শ করতে থাকে অরিনকে।
দু-হাতে ভর দিয়ে ও কিংশুককে সরাতে পারে না অরিন। এক পর্যায়ে কিংশুক তাকে ছেড়ে দিয়ে বিছানায় ফেলে দেয়। তারপর একটা একটা করে শার্টের বোতাম খুলতে থাকে।
অরিন একটু করে পিছিয়ে যেতেই তার পায়ে টান দিয়ে নিজের আয়ত্তে সর্বাঙ্গ নিয়ে ফেলে কিংশুক।
যত সময় বাড়তে থাকে কিংশুকের বাসনা ও তত তীব্র থেকে তীব্র হতে থাকে। অরিনের ও আর কিছুই করার মতো থাকে। সয়ে নেয় সে কিংশুকের সমস্ত বাসনাকে। চোখ বেয়ে পানি গড়িয়ে পড়তে থাকে তার।মাঝে মাঝে তীব্র যন্ত্রণায় ফুফিয়ে কেঁদে উঠলে ও কিংশুক নিজের কাজে অনড়। অরিনের কান্নার আওয়াজ তাকে আরো মত্ত করে তুলে।
প্রায় শেষ রাতের দিকে অরিনকে বুকে জড়িয়ে আরাম করে গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে কিংশুক। কিন্তু ঘুম আসে না শুধু অরিনের চোখে। তার চোখে এখন ও ভেসে বেড়াতে থাকে কিংশুকের হিংস্র রূপ।
‘’বর্তমান’’
শরীরে অসহ্য ব্যাথা নিয়ে বেডে ভর দিয়ে একটু একটু করে উঠতে থাকে অরিন। পা দু-টো যেন জড়বস্তুর ন্যায় ভারি হয়ে গেছিলো তার। তাও কষ্ট করে পা টিপে টিপে ওয়াশরুমে চলে যায় অরিন।
চুপচাপ ঝর্নার পানিতে দাড়িয়ে থাকে। হঠাৎ করেই তার চোখ চলে যায় সামনে থাকা বিশাল আয়নার পানে। নিজের প্রতিবিম্ব দেখে আঁতকে ওঠে সে। কী হাল হয়েছে তার। সারা শরীরে অসংখ্য কাম’ড়ের, লাল লাল আভা ধারণ করেছে। কিছু জায়গা তো ফুলে ও গেছে । এটাকে কী ভালোবাসার চিহ্ন বলে?
লাভ ইজ পেইন,কিন্তু তাই বলে এতোটা? এটা কোন ভালোবাসার কাতারে পড়ে জানা নেই অরিনের।
আনহেলদি অবসেশন পর্ব ৩০
—- কতই না ভালো হতো, যদি পানির সাথে সাথে শরীরে অপবিত্রতা মুছে যেতো।’’
নিজেই নিজেকে শান্তনা দিতে থাকে অরিন। এটাকে চরম দূরভাগ্য বলে মেনে নেয় সে। কিংশুকের মতো স্বামী রূপি একটি জানো’য়ারকে মেনে না নেওয়া ছাড়া আর কোনো উপায় নেই অরিনে। এটাই তার ভাগ্য।
