Home আনহেলদি অবসেশন আনহেলদি অবসেশন পর্ব ৩৭

আনহেলদি অবসেশন পর্ব ৩৭

আনহেলদি অবসেশন পর্ব ৩৭
কায়নাত খান কবিতা

_নিড মাই হেল্প জান?”
ভয়ার্ত দৃষ্টিতে অরিন তাকিয়ে থাকে কিংশুকের দিকে। চোখে জমে ওঠে শঙ্কা আর অজানা ভয়। কিংশুক ধীর হাতে ডর পিনটি খুলে দেয় এবং নীরবে দাঁড়িয়ে পড়ে অরিনের সামনে।
ডোর অপেন হতেই বাইরে বেরোনোর উদ্দেশ্যে পা বাড়াতেই মুহূর্তের মধ্যে কিংশুক অরিনের কবজি শক্ত করে চেপে ধরে।

—প্লিজ… আমাকে যেতে দিন। আমি আপনার সাথে থাকব না…”
নিজের হাতটি কিংশুকের মুঠো থেকে ছাড়াতে ছাড়াতে ভাঙা কণ্ঠে মিনতি করতে থাকে অরিন। কিন্তু তার প্রতিটি আকুতিই যেন পাথরের গায়ে ছুঁড়ে মারা শব্দ প্রতিধ্বনি হয়ে, ফিরে আসে, ভাঙে না। কিংশুক তার বলিষ্ঠ হাত দিয়ে অরিনের বাহু এমন শক্ত করে চেপে ধরে যে ব্যথায় অরিনের চোখ দিয়ে আপনাআপনি পানি গড়িয়ে পড়তে থাকে । আপ্রাণ চেষ্টা করেও সে নিজেকে মুক্ত করতে পারে না।
এক হাত পকেটে ঢুকিয়ে নির্বিকার ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে থাকে কিংশুক, আর অন্য হাতে বন্দি করে রাখে অরিনকে।যেন সে কোনো মানুষ নয়, কিংশুকের তৈরি করে রাখা কোনো শো-পিচ
হঠাৎ করেই অরিন ভেঙে পড়ে। কিংশুকের পা জাপ্টে ধরে। তবু তাতেও বিন্দুমাত্র নড়েচড়ে বসে না কিংশুক। অরিনের কান্না, তার বুকফাটা আর্তনাদ।সব মিলিয়ে যেন বাতাসেই মিলিয়ে যায়, কিংশুকের কানে পৌঁছায় না।
প্লিজ… যেতে দিন…”

হুট করে কিংশুক ছেড়ে দেয় অরিনের হাত।
বাঁধন খুলতেই প্রাণপণে দৌড়ে সিঁড়ির দিকে ছুটে বেরিয়ে অরিন।।
এক দৌড়ে বাড়ির সদর দরজার সামনে এসে থামে অরিন। কাঁপা আঙুলে বারবার পিন চেপেও লক খুলে না।লাল আলো জ্বলে ওঠে বারবার। বুকের ভেতর অজানা শঙ্কা জমে ওঠে। সে ব্যাকুল দৃষ্টিতে চারপাশে তাকিয়ে পালানোর কোনো পথ খোঁজে। হঠাৎ চোখে পড়ে বিপরীত পাশে আরেকটি দরজা। ক্ষীণ আশার আলো নিয়ে সেদিকে এগোতে যাবেই,ঠিক তখনই তার সামনে নীরবে এসে দাঁড়ায় কয়েকজন সার্ভেন্ট। মুহূর্তেই সব পথ যেন বন্ধ হয়ে যায়।
সার্ভেন্টরা মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে থাকে অরিনের সামনে। একদম পাথরের মূর্তির মতো। অরিন বহুবার তাদের পাশ কাটিয়ে যেতে চায়, কিন্তু কেউ নড়ে না।

উপর থেকে নিথর, অনুভূতিহীন চোখে এই পাগলের মতো ছোটাছুটি দেখতে থাকে কিংশুক। মুখে কোনো ভাব নেই, চোখে কঠোরতা। যেন দু’ভাত ভাজ করে সে উপভোগ করছে অরিনের এই করুন দশা।
আর কোনো উপায় না পেয়ে আবার দরজার সামনে আসে অরিন। আবার পাসওয়ার্ড দেয়। আবার ব্যর্থতা।
হঠাৎ কী মনে হয়, দৌড়ে ল্যান্ডলাইনের দিকে ছুটে যায় সে। কাঁপা হাতে নম্বর ডায়াল করতে থাকে।
ঠিক তখনই একটি শক্ত হাত এসে তার কবজি চেপে ধরে। মুহূর্তের মধ্যে তাকে নিজের দিকে ঘুরিয়ে নেয় কিংশুক।
—- আর কত এর্নাজি নষ্ট করবে জান? কিছু তো বাঁচিয়ে রাখো।”
—- আমি বেরবো কিং। আমার মুক্তি চাইইইই”

কিংশুক এক হাতে অরিনের কোমর জাপ্টে ধরে আরেক হাত দিয়ে তার কানের পিঠে চুল গুঁজে দিয়ে বলে।
—– আমার মৃত্যুর আগে তো সেটা সম্ভব নয় জান।’’
প্রচন্ড ঘৃণায় কিংশুকের মুখে থু থু ছুড়ে মারে অরিন। চোখ বন্ধ করে ফেলে কিংশুক।
— আপনার মতো একটা জা’নোয়ার , নারী নি’র্যাতন কারির সাথে কোনো সুস্থ মানুষ থাকতে পারে না।”
—- নির্যা’তন তো এখনো ও করিনি জান। চলো ডেমো দেখায়।”
— কিং আমার হাত ছাড়ুন…. কিংং… হাত ছাড়তে বলেছি।”
—- তুমি বললেই আমার শুনতে হবে?”
— শুনতে হবে। আমি কোনো পুতুল নই। মানুষ আমি। হাত ছাড়তে বলেছি।”
হঠাৎ করেই গলা ফাটিয়ে আর্তচিৎকার শুরু করে অরিন। আতঙ্কে নিজের উপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে সে। হাত-পা ছুড়তে ছুড়তে ছটফট করতে থাকে, যেন এই দমবন্ধ করা পরিস্থিতি থেকে কোনোভাবে মুক্তি পেতে পারে।
কিংশুক অরিনকে ধরে প্রায় টেনে হিঁচড়ে উপরের দিকে নিয়ে যেতে থাকে। কিংশুক যতই উপরে যেতে থাকে, অরিন ততই নিজের শরীর শক্ত করে ফেলে।

—- পাগলামি করে না।”
—- তুই আমাকে ছাড় কিং”
—- কুল ডাউন জাননন।”
—- লিভ মি কিং।”
এক পর্যায়ে আর অরিনের সাথে তেমন পেরে উঠে না কিংশুক।সাথে কিংশুক অরিনকে কোলে তুলে নেয়, তারপর নির্দয়ভাবে ছুড়ে ফেলে দেয় বিছানার ওপর।
অরিন আবার ও দৌড়ে চলে আসতে চায়। কিংশুক আবার ও তাকে আঁটকে ফেলে।
—- আমাকে রাগতে বাধ্য করো না জান। লক্ষী বউ না তুমি।”
—- আমাকে ছাড়তে বলছি। তুই আমাকে ছাড় কিং।”
অরিনকে ঘুড়িয়ে নিজের সামনে ফিরিয়ে নেয় কিংশুক। তারপর ঠোঁটে কি’স করতে থাকে। অরিন যতবার তাকে দূর সরায়, সে ততবার কি’স করতে থাকে। এভাবে বেশ কিছু ক্ষণ অশান্ত ভাবে পাগলামি করার পর কিংশুকের বুকেই মাথা রেখে ফুফিয়ে ফুফিয়ে কাদতে থাকে অরিন। কিংশুক ও সুন্দর মতো অরিনের মাথায় হাত বুলাতে থাকে। যেন সে এটাই চেয়েছিলো। অরিন একদম নিস্তেজ ভাবে তার বুকেই আশ্রয় খুঁজে নিক।

—- বাইরের জগৎটা খুবই খারাপ জান। আমি ছাড়া কেউ তোমাকে এতো ভালো বাসে না।”
কাঁদতে কাঁদতে এক পর্যায়ে শান্ত হয়ে পড়ে অরিন। চোখ বন্ধ করে নেয় সে। কিংশুক ও অরিনকে নিজের বাহুডোরে আবদ্ধ করে মেঝেতেই বসে থাকে।

আনহেলদি অবসেশন পর্ব ৩৬

— ঘুমাও জান। আমি আছি তো তোমার প্রটেক্ট করার জন্য।”
এভাবে প্রায় রাতের অর্ধেক অব্দি কিংশুক অরিনকে ধরে বসে থাকে। শেষ রাতে শুইয়ে দেয় বিছানায় অরিনকে। তারপর একটি হ্যান্ডকাফ দিয়ে নিজের হাতের সাথে অরিনের হাত লক করে কিংশুক ও চুপচাপ শুয়ে থাকে।
— আমি ছাড়া বাইরের জগৎ টা নিষিদ্ধ তোমার জন্য জান।”

আনহেলদি অবসেশন পর্ব ৩৮