Home আনহেলদি অবসেশন আনহেলদি অবসেশন পর্ব ৪৭

আনহেলদি অবসেশন পর্ব ৪৭

আনহেলদি অবসেশন পর্ব ৪৭
কায়নাত খান কবিতা

–এই সবাই সাইটে…আমার বউ পালাচ্ছে!”
রাতের নিস্তব্ধ রাস্তায় তার কণ্ঠ ছড়িয়ে পড়ে।গার্ডরা অবাক হয়ে তাকায়।
কিংশুক হাসতে হাসতে বলে—
— কাম অন বউ! আরো জোরে দৌড়াও!না হলে লোকে বলবে আমি তোমাকে খেতে দেই না!
আরো জোরে দৌড়াও! কাম অন”
কিংশুকের কণ্ঠে যেন উৎসাহ।কিন্তু সেই উৎসাহের ভেতর লুকিয়ে আছে ভয়ংকর পাগলামি।
তার সামনে অরিন প্রাণপনে দৌড়াতে থাকে।প্রাণ বাঁচানোর জন্য।
আর পিছনে কিংশুক,যে তাকে ধরার জন্য তাড়া করছে না।বরং শিকারের সাথে খেলা করার পরম তৃপ্তি নিচ্ছে সে।হাতে ধরা মাইক দিয়ে সে জোরে চিৎকার করে বলে ওঠে…

–দৌড়াতে থাক অরিন! আমি ধরলে কিন্তু আর রেহাই পাবি না তুই!”
অরিনের চুল এলোমেলো, শ্বাস দ্রুত, আর চোখে ভয় জমাট বেঁধে আছে। মনে হচ্ছে প্রতিটা নিঃশ্বাস নিতে তার বুক ফেটে যাচ্ছে। তবুও থামছে না সে।
কারণ অরিন খুব ভালো করেই জানে। আজ যদি সে থামে, যদি কিংশুকের হাতে ধরা পড়ে তাহলে তার জীবনের শেষ রাত আজই।তাই অরিন প্রাণ পনে দৌড়াতে থাকে।
পেছনে গাড়ির শব্দ, মাইকের হুংকার, আর সামনে অন্ধকার রাস্তা। সব মিলিয়ে নিরুপায় অরিন পাগলের মতো এদিক-ওদিক দৌড়াতে থাকে।
অনেকক্ষণ ধরে দৌড়ানোর ফলে অরিনের পা ধীরে ধীরে অবশ হয়ে আসতে থাকে। হাঁটু কাঁপতে থাকে তার। শরীর ও ভারী হয়ে আসে ধীরে ধীরে। একসময় আর পারে না সে দৌড়াতে।ধপ করে মাটিতে পড়ে যায় অরিন।কিংশুকের গলা আবার বজ্রের মতো গর্জে ওঠে,

— কাম বউ! থামলে চলবে না। নিজের শক্তি দেখাও। আমি আসলে জ্যান্ত পুতে ফেলবো সোনা।”
সেই হুংকারে অরিনের শরীর কেঁপে ওঠে।
মনে হয় যেন মৃত্যুই তাকে তাড়া করছে।
নিজের ভেতরে থাকা শেষ শক্তিটুকু জড়ো করে আবার উঠে দাঁড়ায় সে। শরীরে একফোঁটা শক্তি নেই, তবুও দৌড়াতে থাকে এদিক-ওদিক।
দৌড়াতে দৌড়াতে একসময় সে থানার মোড়ে এসে পৌঁছায়।হঠাৎ তার মাথায় একটা চিন্তা আসে।
না… আর পালিয়ে লাভ নেই।
এইবার সে সরাসরি থানায় যাবে। অভিযোগ করবে কিংশুকের বিরুদ্ধে।এক দৌড়ে থানার ভেতরে ঢুকে পড়ে অরিন।রাত গভীর হওয়ায় থানাটা প্রায় ফাঁকা। কয়েকজন লেডি কনস্টেবল, কয়েকজন পুরুষ কনস্টেবল আর রাতের ডিউটিতে থাকা ওসি।অরিন সোজা ওসির রুমে ঢুকে পড়ে।
প্রচন্ড রকমের হাঁপাতে থাকে অরিন। এতটাই যে কথা বের হতে চায় না মুখ দিয়ে।

–স্যার! আমাকে প্লিজ সাহায্য করুন! উনি আমাকে মেরে ফেলবে!”
ওসি অবাক হয়ে তাকায় তার দিকে।
–কে আপনাকে মারবে ম্যাডাম? আগে শান্ত হয়ে বসুন।”
অরিন চেয়ারটায় বসে পড়ে। তার গলা শুকিয়ে কাঠ হয়ে গেছে। একজন লেডি কনস্টেবল এগিয়ে এসে তাকে এক গ্লাস পানি ঢেলে দেয়।
অরিন এক নিঃশ্বাসে পুরো গ্লাসের পানি শেষ করে ফেলে। তবুও তার হাঁপানি কমে না।
কিছুক্ষণ পর একটু শান্ত হলে ওসি আবার বলে
–এবার বলুন, কে আপনাকে মারতে চায়?”
অরিন কাঁপা চোখে তাকায় ওসির দিকে। তার ঠোঁট কাঁপতে থাকে। কেউ কী আদোও বিশ্বাস করবে তার কথা? বিশ্বের দ্বিতীয় রিচ পার্সন। তার এক মাত্র স্বামী তার জীবন নেওয়ার জন্য কুকুরের মতো দৌড় করিয়ে মারছে। ওসি বেশ কিছু ক্ষণ অরিনের দিকে তাকিয়ে থাকে। তার কুঁচকানো ভ্রু দেখে অরিন আর বেশি ক্ষণ সময় নেয় না। সাহস জুগিয়ে বলতে যায়..

–আমার…”
কথাটা শেষ করার আগেই পেছন থেকে কেউ একজন গুন গুন করে গান গাইতে গাইতে আসতে থাকে… আজ পাশা খেলবো রে শ্যামম..!”
গলাটা শোনামাত্র অরিনের শরীর জমে যায়। এটা তো কিংশুকের সিগনেচার গান। সে যখনই অরিনের পাগলামিতে পরে। এই গান গুন গুন করতে থাকে। যার অর্থ হলো, অরিনের জন্য ভয়ংকর শাস্তি, কিংশুকের জন্য পরম শান্তি।
ভয়ে ভয়ে পিছনে ফিরে তাকায় অরিন। তাকাতেই কিংশুকের চোখে চোখ পরে যায় তার।
–কী বউ? স্বামীর নামে কমপ্লেইন করতে এসেছো থানায়?”
দরজার কাছে দু-হাত ভাজ করে দাঁড়িয়ে থাকে কিংশুক। দরজায় হেলান দিয়ে খুব শান্ত দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে অরিনের দিকে।
কিন্তু অরিন জানে এই শান্ত দৃষ্টির পেছনে লুকিয়ে আছে ভয়ংকর কিছু।কিংশুককে দেখামাত্র অরিনের মনে হয়, তার আত্মা যেন এই বুঝি শরীর ছেড়ে বের হয়ে যাবে।
অরিন কাঁদতে কাঁদতে ওসিকে বলে ওঠে

“স্যার! স্যার প্লিজ আমাকে বাঁচান!”
অরিন পুলিশের সামনে হাত জোড় করে আকুতি মিনতি করতে থাকে।
কিংশুক ঠাণ্ডা হাসি দিয়ে বলে—
–কে বাঁচাবে তোকে বউ? এই ইন্সপেক্টর… তুমি আমার বউকে বাঁচাবে?”
ওসি সঙ্গে সঙ্গে উঠে দাঁড়ায়। সোজা গিয়ে কিংশুককে সালাম দেয়।
–স্যার! ভাবি মনে হয় অনেক ক্লান্ত। বাসায় নিয়ে যান।”
এই কথা শুনে অরিনের শেষ আশাটুকুও ভেঙে যায়।
সে অবাক চোখে তাকিয়ে থাকে ওসির দিকে।
কিংশুক ধীরে ধীরে এক পা এক পা করে তার দিকে এগিয়ে আসতে থাকে। অরিনের হৃদস্পন্দন দ্রুত হয়ে ওঠে।
কিংশুক খুব কাছে আসতেই অরিন তড়িঘড়ি উঠে লেডি কনস্টেবলদের কাছে দৌড়ে যায়।
–প্লিজ কেউ আমাকে বাঁচান! আপু প্লিজ সাহায্য করুন!”

সে এক এক করে প্রায় সব লেডি কনস্টেবলের হাত-পা ধরে অনুরোধ করতে থাকে অরিন।কিন্তু সকলে যেন মন ব্রত রেখেছে। কেউ কথা ও বলে না। নড়েচড়ে ও না।
–আপনি আমাকে বাঁচান না প্লিজ…এই যে আপু… আপনি তো সাহায্য করুন!”
কিন্তু কেউ এগিয়ে আসে না।তাদের চোখে ভয় আর নীরবতা।অরিন বুঝতে পারে না এখন সে কী করবে।হঠাৎ সে দরজার দিকে দৌড় দেয়।
কিন্তু ভাগ্য যেন আজ তার পক্ষে নেই।
দরজার কাছে পৌঁছানোর আগেই কিংশুক তাকে ধরে ফেলে।
এক ঝটকায় তার কোমর শক্ত করে ধরে নিজের দিকে ঘুরিয়ে নেয়।
কিংশুক ঠাণ্ডা গলায় বলে—
–তো বউ… দৌড়াদৌড়ির খেলা শেষ হলে এবার বাড়ি যাওয়া যাক।”
অরিন মাথা নাড়ে। হঠাৎ করেই থু থু ফেলে কিংশুকের মুখে।
—একটা জানো’য়ারের সাথে কখনো মানুষ থাকতে পারে নাহ।”
অরিনের হাত দিয়ে নিজের মুখে পড়া থু থু গুলো মুছতে থাকে কিংশুক। ঘৃণায় গা গুলিয়ে আসতে থাকে অরিনের।
–Tonight in bed, I’ll show you the animal inside me.”

কিংশুকের ঠান্ডা মস্তিষ্কের ভয়ংকর হুমকি শুনে গা শিউরে ওঠে অরিনের। কিংশুক যতবার তার কাছে এসেছে। ইন্টিমেট হয়েছে ততবার অরিনের অবস্থা সূচনীয় পর্যায় অব্দি চলে গেছে।
অরিনকে আর সুযোগ না দিয়ে কিংশুক কোলে তুলে নেয়। এবং বড় বড় পা ফেলে বাইরে যেতে থাকে। অরিন কিংশুককে চ’ড় থাপ্প’ড় দিতে থাকে। কিন্তু কোনো লাভ হয় না। কিংশুকের শরীরে যেন কোনো কিছুর আঘাতই লাগছে না।
কিংশুক অরিনকে নিয়ে সোজা গাড়িতে বসে। গাড়ির মধ্যে বসতেই অরিনের চোখ কপালে ওঠে যায়। কিংশুকের বিশাল গাড়ির এক পাশে কাজি বসা। তার হাতে কিছু পেপারস। পাশে কিংশুকের লোকেরা। সে এবং কিংশুক। অরিন বুঝে যায়। এই লোক বাড়ি যাওয়া অব্দি অপেক্ষা করবে না। তাই আরেক ইতিহাস তৈরি করতে যাচ্ছে। কয়েক কিলোমিটার বউকে দৌড়িয়ে শেষ মেষ গাড়িতে বিয়ে।
কিংশুক নিজের কোলে শক্ত করে চেপে ধরে অরিনকে। যেন ছেড়ে দিলেই সে পালিয়ে যাবে৷ কাজি কিছু কাগজ ধরিয়ে দেয় কিং এর বডিগার্ডদের হাতে। প্রথমে কিংশুককে দিয়ে সাইন করা করানো হয়। তারপর অরিনের সামনে ধরে কাগজ গুলো। অরিন নিজের হাত শক্ত করে মুষ্টি বদ্ধ করে রাখে। পরক্ষণেই কিংশুক একটি ধারালো ছুড়ি বের করে ধরে অরিনের সামনে।

আনহেলদি অবসেশন পর্ব ৪৬

–জান? এটাতে ধার কত হবে বলতো? wanna try?”
অরিন বুঝে যায় কিংশুক কী বোঝাতে চাচ্ছে। সে চুপচাপ কাগজ নিয়ে এক এক করে সাইন করতে থাকে। তাকে কত মহরআনা দেওয়া হলো সোটা সে জানে না। সুন্দর মতো সাইন শেষে কিংশুক সহ উপস্থিত সবাই মিলে আমিন বলে। শুধু মাত্র অরিন বলে ইন্না লিল্লা। কারণ তার জীবনের আরো একটা নতুন অধ্যায় শুরু। যার ট্রেলার লন্ডনে থাকতে সে দেখে এসেছে।
–টাইগার?”
–ইয়েস বস?”
– বিছানা ডেকোরেট করা হয়েছে?”

আনহেলদি অবসেশন পর্ব ৪৮